আপনি কি জানেন
করোনাকালে অনেক কিছু কেন হঠাৎ ভুলে যাই

আপনি কি জানেনকরোনাকালে অনেক কিছু কেন হঠাৎ ভুলে যাই

কেন এ রকম হচ্ছে

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটা করোনা অতিমারির কারণে হয়ে থাকতে পারে। বলা যায় সাময়িক একটা ব্যাপার। স্থায়ী কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রের টিভি সিএনএনের বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদক ম্যাডেলিন হলকম্ব তাঁদের অনলাইনে গত ৩ ফেব্রুয়ারি লেখেন, এটা মনে রাখার চেষ্টার ব্যর্থতা নয় বা এমন নয় যে আগে যত চৌকস ছিলেন, এখন তেমন আর নেই। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের কগনিটিভ সাইকোলজি অ্যান্ড কগনিটিভ নিউরোলজির জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আমির হোমান জাভেদি বলেন, দুই বছর ধরে বিশ্বব্যাপী অতিমারির কারণে মস্তিষ্কের পক্ষে স্মৃতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।

করোনাকালে অনেক কিছু কেন হঠাৎ ভুলে যাই

ফাইল ছবি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে কারও কারও পক্ষে স্মৃতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে। কগনিটিভ ড্যামেজ বা মনে রাখার ব্যাপারটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, দিনের পর দিন কোনো কাজ নেই, ঘটনা নেই, কোন কাজের পর কোন কাজটি করেছি, সেটা মনে রাখার মতো কোনো উল্লেখযোগ্য তৎপরতা নেই। কাজকর্মের মধ্যে থাকলে অনেক সময় বিশেষ ঘটনাগুলো মনে রাখা সহজ হয়। কিন্তু অতিমারির সময় অনেকের ক্ষেত্রে প্রায় নিশ্চল জীবন মস্তিষ্কের স্মৃতিবিভ্রম ঘটাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের রুডি তানজি মনে করেন, অতিমারির মনোদৈহিক ও সামাজিক বিভিন্ন উপাদান স্মৃতি ধারণের ব্যবস্থার ওপর চাপ ফেলতে পারে।

কী করতে হবে

প্রথমে মনে রাখতে হবে এটা সাময়িক। জোর করে মনে রাখার চেষ্টা বৃথা। এতে বরং হতাশা বাড়বে। কারণ, যেটা স্মৃতিতে সংরক্ষণ করা হয়নি, সেটা ফিরিয়ে আনা যাবে কীভাবে? দ্বিতীয়ত, একসঙ্গে একাধিক কাজে মনোনিবেশ না করাই ভালো। বরং একটা বই পড়ি। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলি। হাসিখুশি থাকি। স্মৃতিবিভ্রাট কোনো স্থায়ী ব্যাপার নয়। এ সময়ে হালকা ব্যায়াম খুব উপকারে আসে। একটু হাঁটি। শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করি। এতে মস্তিষ্কে রক্তসরবরাহ বাড়ে। তা ছাড়া মনোযোগ দিয়ে কোনো আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এর ফলে আলোচিত বিষয়গুলো সহজে মনে রাখা যাবে।

কারও কোভিডের সংক্রমণ তীব্রতর হয়ে থাকলে হয়তো মনে হতে পারে মস্তিষ্ক ধোঁয়াচ্ছন্ন (ব্রেইন ফগ) হয়ে পড়েছে। কিন্তু এটা সাধারণত সাময়িক সমস্যা। মস্তিষ্ক নিজেই এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। অবশ্য বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসাসেবা নিতে হতে পারে।

আমাদের দেশে

এ ধরনের সমস্যা বাংলাদেশে খুব বেশি নেই। অন্তত তেমন আলোচিত ঘটনা নয়। এর কারণ একটা হতে পারে, অমিক্রন ধরনের পর থেকে করোনায় তীব্রতা কমে গেছে।এখন তো সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। ১ শতাংশেরও কম। বেশির ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। পরিস্থিতির আর অবনতি না ঘটলে তো চিন্তাই নেই।

আব্দুল কাইয়ুম, বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক ও প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক, quayum.abdul@prothomalo.com

প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Related Posts

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
২,০৩৭,৫৪৩
সুস্থ
১,৯৯১,১৭০
মৃত্যু
২৯,৪৪২
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

সর্বশেষ