প্রকৃতি-প্রতিবেশ
জীবনের সার্থকতাকে শুধু চাহিদা পূরণের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা চলে না

প্রকৃতি-প্রতিবেশজীবনের সার্থকতাকে শুধু চাহিদা পূরণের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা চলে না

আমরা সবাই স্বীকার করব যে এখনকার সময়ে পরিবেশ খুব সহজেই নষ্ট করা হচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত ওজোন স্তরের ক্ষতি করছি, পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়িয়েই চলেছি, নদী ও বায়ু যাচ্ছেতাইভাবে দূষিত করছি, বন-জঙ্গল ধ্বংস করেই চলেছি, ব্যাপকভাবে খনিজ সম্পদ উত্তোলন করছি, অনেক প্রজাতিকে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছি এবং একই ধরনের আরো অনেক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছি। এ ধরনের অবস্থার কারণেই ‘সুস্থায়িত্ব’ (সাসটেইনেবিলিটি) ধারণার প্রতি এখন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথম শক্তিশালী কাজ ‘আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যৎ’ (‘আওয়ার কমন ফিউচার’) শীর্ষক ইশতেহার ১৯৮৭ সালে ‘বিশ্ব পরিবেশ ও উন্নয়ন কমিশন’ (দি ওয়ার্ল্ড কমিশন অন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) থেকে প্রকাশিত হয়—যার নেতৃত্ব দেন গ্রো ব্রান্টল্যান্ড। ব্রান্টল্যান্ডের রিপোর্ট সুস্থায়ী (সাসটেইনেবল) উন্নয়নের সংজ্ঞা দেয় এভাবে—‘এমন ধরনের উন্নয়ন, যেখানে আজকের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের ক্ষমতাকে জলাঞ্জলি দেয়া হবে না।’ অন্যভাবে কথাটি হলো, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা নিঃশেষ না করে আজকের চাহিদা মেটানো।’

পরিবেশবিষয়ক লেখালেখিতে সুস্থায়ী উন্নয়ন একটি পথপ্রদর্শক ভাবনা। এটি সমন্বিত উদ্যোগকে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে উৎসাহিত করে। উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন উৎস থেকে পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকর কার্বন ও অন্যান্য গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস করতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। ওজোন স্তরের ক্ষতি রোধে ১৯৮৭ সালে ১৮৬টি দেশের স্বাক্ষরিত মন্ট্রিল প্রোটোকলকে লেস্টার ব্রাউন বলেছেন, ‘জাতিসংঘের অধিবেশনে সবচেয়ে সুন্দরতম মুহূর্ত।’ সুস্থায়ী উন্নয়নের ধারণা আন্তর্জাতিক অনেক সম্মেলনকে উৎসাহিত করেছে। এটি শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালে রিও ডি জেনেরিওতে বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলন থেকে এবং তার ব্যাপ্তি ছিল এর ১০ বছর পর ২০০২ সালে জোহানেসবার্গে সুস্থায়ী উন্নয়নবিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন পর্যন্ত। এসব সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও তারা সুস্থায়ী উন্নয়নের সাধারণ উদ্বেগ প্রকাশ করে।

বিশেষ এ নতুন চিন্তার কাছে পৃথিবীর কৃতজ্ঞ হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। কিন্তু তবুও প্রশ্ন রয়ে যায়, মানবজাতির ধারণার কাছে এ চিন্তার গূঢ় তাত্পর্য ধরা পড়েছে কিনা। কিন্তু তা সত্ত্বেও এর মধ্যে মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ প্রতিফলিত হচ্ছে কিনা, সেটা আমাদের বিচার করতে হবে। নিশ্চয়ই মানুষের অনেক চাহিদা রয়েছে এবং তাদের নিজস্ব মূল্যবোধও রয়েছে। মানুষ যুক্তি প্রয়োগ করতে পারে, মূল্যায়ন করতে পারে, বাছাই করতে পারে এবং কর্মসম্পাদন করতে পারে। এ ক্ষমতাগুলোকে তারা মূল্য দেয়। আমরা যদি শুধুই মানুষের চাহিদাগুলোকে দেখি, তাহলে মানবতাকে সংকীর্ণ করে দেখা হবে।

একটা মধ্যযুগীয় তুলনা অনুসরণ করে বলতে পারি, আমরা কেবল ‘রোগী’ (Patient) নই, যাদের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর দরকার; আমরা একই সঙ্গে ‘কারক’ও (Agent), যারা কোন বিষয়কে মূল্যবান বলে মনে করবে এবং তার জন্য কীভাবে কাজ করবে, তা বেছে নেয়ার স্বক্ষমতা তাদের রয়েছে। আমাদের জীবনের সার্থকতাকে শুধু জীবনধারণের মান বা চাহিদা পূরণের ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে আবদ্ধ করে রাখা চলে না। রোগীর বহু চাহিদা অবশ্যই বিবেচনার যোগ্য, কিন্তু কারক হিসেবে আমার বিচারসংগত মূল্যবোধ যেন সেই চাহিদাগুলোর নিচে চাপা পড়ে না যায়। কারক হিসেবে কোনো জিনিসকে মূল্যবান মনে করা এবং তা অর্জনের পেছনে কীভাবে কাজ করা হবে—এটি স্রেফ চাহিদা পূরণের চেয়েও বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। অতএব, এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উত্থাপন করা সংগত হবে যে আমাদের স্বক্ষমতা (ফ্রিডম) সুরক্ষার জন্য পরিবেশের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর পরও কি পরিবেশ সুরক্ষায় আমরা উদ্যোগী হব না? এবং যতদূর সম্ভব সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারণ করব না? যেখানে আজকের মানুষের স্বক্ষমতা (ফ্রিডম) বাড়াতে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বক্ষমতাকে জলাঞ্জলি দেয়া হবে না—যেন তারা কমপক্ষে আমাদের সমান বা তারও বেশি স্বক্ষমতা (ফ্রিডম) ভোগ করতে পারে। ‘সুস্থায়ী স্বক্ষমতা’র (সাসটেইনেবল ফ্রিডমস) দিকে মনোযোগ দিলে বিষয়গুলো কেবল ধারণাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তা নয় (আমার ‘উন্নয়ন ও স্ব-ক্ষমতা’ গ্রন্থে যে সাধারণ দৃষ্টিকোণ নেয়া হয়েছে), বরং এর বস্তুগত নগদ প্রভাব রয়েছে।

পরিবেশের কর্মনীতির ক্ষেত্রে প্রায়ই মনোযোগ দেয়া হয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিষ্ঠান তৈরিতে। প্রতিষ্ঠান তৈরির যৌক্তিক ভিত্তি যথেষ্ট পরিষ্কার। ‘সহস্রাব্দ বাস্তুতন্ত্র মূল্যায়ন’ (মিলেনিয়াম ইকোসিস্টেম অ্যাসেসমেন্ট) নামে একটি বৈশ্বিক দল ২০০৩ সালে একটি রিপোর্ট পেশ করে, যার শিরোনাম ‘বাস্তুতন্ত্র ও মানবজাতির কল্যাণ’ (ইকোসিস্টেমস অ্যান্ড হিউম্যান ওয়েলবিয়িং)। এ রিপোর্টে বলা হয়, ‘পৃথিবীর সম্পদ সুস্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্য কার্যকরী এবং দক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা অর্জনের জন্য কতগুলো ধারণা অত্যন্ত জরুরি। সেগুলো হলো স্বক্ষমতা (ফ্রিডম), নীতি ও ন্যায্যতা, সমদর্শিতা, মৌলিক সক্ষমতা এবং সুশাসন পাওয়ার সমানাধিকার ও বাস্তুতন্ত্রের সেবার সমব্যবহার।’ কিন্তু আমি মনে করি, উল্লিখিত ধারণার সঙ্গে আরো একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হলো, সুস্থায়ী উন্নয়নের জন্য নাগরিকদের ভূমিকা শক্তিশালী করার বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যেমন কার্যকরী বিধিবিধানের প্রয়োজন রয়েছে এবং সেখানে আর্থিক প্রোৎসাহের (ইনসেনটিভ) ব্যবস্থা রয়েছে, ঠিক তেমনি নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশের যত্নের বিষয়ে শক্তিশালী অঙ্গীকার ও কর্তব্যদায় সৃষ্টি করা যায়, সেটিও এ উদ্যোগকে সহায়তা করতে পারে।

এন্ড্রু ডবসন রচিত ‘নাগরিকত্ব ও পরিবেশ’ (সিটিজেনশিপ অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট) গ্রন্থে লেখক পরিবেশের প্রতি নাগরিকের দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে শুধু আলোচনাই করেননি, বরং ‘প্রতিবেশবান্ধব নাগরিক’ (ইকোলজিক্যাল সিটিজেন) ধারণার রূপরেখাও তিনি এঁকেছেন। প্রতিবেশবান্ধব নাগরিক তিনিই হবেন, যিনি পরিবেশের বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেবেন। আমি এ প্রশ্ন তুলব না যে একটি সমন্বিত নাগরিকত্বের ধারণা পরিবেশের ক্রিয়াকলাপের জন্য সর্বোত্কৃষ্ট পদ্ধতি কিনা। কিন্তু ডবসন পরিবেশের সমস্যা মোকাবেলায় নাগরিক দায়িত্ব-কর্তব্যের বিষয়ে নিশ্চিতভাবেই সমীচীন তার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ডবসন চিন্তিত ছিলেন নাগরিকদের শুধু আর্থিক প্রোৎসাহের জ্ঞান ও পরিবেশ চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কী ধরনের ভূমিকা নিতে পারে—এ ব্যাপারে তার যথেষ্ট সংশয় ছিল। ডবসনের ভাষায়, ‘একজন-দুজন করে পরিবেশ চিন্তা বিস্তৃতি লাভ করছে, সচেতনতার চিহ্ন থেকে সুস্থায়ী নীতিমালা—সবই ধীরে ধীরে ঋজুভাবে দাঁড়াচ্ছে এবং প্রতিবেশবান্ধব নাগরিকত্বের ধারণাটি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে বাড়তি শক্তি জোগাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

নতুন ধারার এ চিন্তাভাবনার একটি অংশ হলো তত্ত্ব ও চর্চাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশের প্রতি মানুষের কর্তব্যদায়ের সংবেদনশীলতা সৃষ্টি করা। যেমন শূন্য দশকের (২০০০ সাল) শেষ দিকে ব্রিটিশ সরকার তার গৃহীত নীতিমালা নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় তা থেকে সরে আসে। জোরদার আন্দোলনের কারণে জ্বালানি তেল পেট্রলের ওপর কর বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাতিল করে। সরকার তখন পরিবেশ নিয়ে জনপরিসরে গভীর আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি। ‘গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক উষ্ণতা’ (ডেমোক্রেসি অ্যান্ড গ্লোবাল ওয়ার্মিং) গ্রন্থে বেরি হোল্ডেন বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে পরিবেশের প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দিনের আলোচনায় সর্বোচ্চ স্থান দখল করবে, বরং আমি বলতে চাইছি যে সত্যিকার অর্থেই বিষয়টি অনেকখানি মনোযোগ দাবি রাখে।’ জনসাধারণের মধ্যে সামাজিক কর্তব্যবোধ জাগ্রত করার জন্য সরকার পরিবেশসংক্রান্ত যেসব সংশয়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেগুলো জনগণের পরিবেশ নিয়ে সচেতনতায় হয় নিজস্ব দুর্বলতা নয়তো-বা তার পুরো অনুপস্থিতি—পরিবেশসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে নাগরিকদের ইতিবাচক উদ্যোগকে ক্রমে হতাশাজনক করে তুলছে।

এই হতাশা সহজেই বোধগম্য। কিন্তু নাগরিক উদ্যোগ ও তত্পরতার পরিসর বাড়াতে হলে আমাদের জানতে হবে সুস্থায়ী ধারণাটিকে নাগরিক কর্তব্যবোধের আলোকে কীভাবে আরো বিস্তৃত করা যাবে। নাগরিক ধারণাটি পুরোপুরি ক্রীড়াকলাপনির্ভর কিনা, এটি আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে (বিষয়টি শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় ও পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ) অথবা এটি এসবের চেয়েও বেশি কিছু। বিশেষত আমরা যেসব জিনিসকে সুস্থায়ী করতে চাই, তার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো একটি কার্যকর নাগরিক ধারণা প্রণয়ন।

ব্রান্টল্যান্ডের সুস্থায়ী উন্নয়ন সম্পর্কিত ধারণাকে আরো পরিমার্জিত করে তার ‘অ্যান অলমোস্ট প্র্যাকটিক্যাল স্টেপ টুওয়ার্ড সাসটেইনেবিলিটি’ পুস্তিকায় চমত্কারভাবে উপস্থিত করেছেন প্রসিদ্ধ অর্থনীতিবিদ রবার্ট সলো। এটি প্রকাশিত হয় এক দশকেরও বেশি সময় আগে। সলোর সূত্র অনুসারে, সুস্থায়ী উন্নয়ন হবে এমন, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম ‘জীবনধারণের অন্তত সেই মান অর্জন করতে পারে, যা বর্তমান প্রজন্ম ভোগ করছে, অনুরূপভাবে পরবর্তী প্রজন্মগুলোর ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য।’ তার সূত্র নির্ধারণের কতগুলো আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, জীবনধারণের মানকে টিকিয়ে রাখার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তিনি পরিবেশ রক্ষাকে একটা দিশা দিয়েছেন এবং ব্রান্টল্যান্ড যে চাহিদা পূরণের কথা বলেছিলেন, তাকে আরো বিস্তৃত করেছেন। দ্বিতীয়ত, সলোর সূত্রে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা পূরণের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে এবং প্রত্যেক প্রজন্ম তার পরবর্তী প্রজন্মের প্রতি লক্ষ রাখবে। সব প্রজন্মকে বিবেচনায় আনার মধ্য দিয়ে সলো পরিবেশের ধারাবাহিকতার সমস্যাটিকে প্রশংসনীয়ভাবে সূত্রায়িত করেছেন।

কিন্তু সলোর সূত্রায়ণও কি সুস্থায়ী উন্নয়নের পক্ষে যথেষ্ট? জীবনধারণের মান বজায় রাখার বিষয়ে তার সূত্র প্রশংসনীয় (বিশেষত ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মগুলো যেন জীবনধারণের মান বজায় রাখতে পারে’, এ শর্তটি)। তা হলেও এই জীবনধারণের মান সব প্রাসঙ্গিক দিককে অন্তর্ভুক্ত করে কিনা, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষত জীবনধারণের মান বজায় রাখা আর মানুষের সক্ষমতা (ক্যাপাবিলিটিস) ও স্বক্ষমতা (ফ্রিডম) রক্ষা করা—এ দুটি এক জিনিস নয়। কিছু বিশেষ সুযোগকে গুরুত্ব দেয়ার অর্থ এই নয় যে তা সর্বদা জীবনধারণের মান বা ব্যক্তিস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হবে।

উদাহরণস্বরূপ, যেসব প্রজাতির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব বিবেচনা করা যাক। তাদের রক্ষা করার ব্যাপারে আমাদের দুশ্চিন্তা শুধু এ কারণেই নয় যে তাদের অস্তিত্ব আমাদের জীবনধারণের পক্ষে সহায়ক। যেমন কেউ বলতে পারেন, কোনো একটা বিপন্ন প্রজাতি—ধরা যাক লক্ষ্মী প্যাঁচা—বাঁচুক বা না বাঁচুক, তাতে আমার জীবনধারণ কোনোভাবে প্রভাবিত হবে না। কিন্তু তাহলেও আমি চাই যে লক্ষ্মী প্যাঁচা যেন বেঁচে থাকে—তা তাকে আমি এখনো চোখে না দেখলেও। আমার এ কথাটিতে কোনো স্ববিরোধ নেই।

গৌতম বুদ্ধ সুত্ত-নিপাত-এ ক্ষমতার কর্তব্যদায়ের পরিপ্রেক্ষিতটিকে জোরালোভাবে উপস্থাপিত করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, মানবেতর জীবদের প্রতি আমাদের কর্তব্য, সেটা তাদের সঙ্গে আমাদের ক্ষমতার অসমানতার জন্যই—তাদের সঙ্গে আমাদের প্রতিসাম্যের (Symmetry) কারণে নয়। তার বক্তব্য ছিল, যেহেতু আমরা জীবজগতের অন্যান্য প্রজাতির চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাবান, সেহেতু তাদের প্রতি আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে, যা ক্ষমতার অসমানতার সঙ্গে যুক্ত। বুদ্ধ শিশুসন্তানের প্রতি মায়ের দায়িত্বের উপমা দিয়ে বক্তব্যটিকে ব্যাখ্যা করেছেন: শিশুর প্রতি মায়ের যে দায়িত্ব, সেটা এজন্য নয় যে তিনি তাকে জন্ম দিয়েছেন (এই বিশেষ যুক্তির মধ্যে সেই সংযোগের কথা আনা হয়নি—অন্যত্র এ বিষয়ে আলোচনার অবকাশ আছে); দায়িত্বটা এজন্য যে, মা এমন কাজ করে শিশুর জীবনকে প্রভাবিত করতে পারেন, শিশু নিজে যা করে উঠতে পারে না। এখানে এমন যুক্তি ভাবা হচ্ছে না যে পারস্পরিক সহযোগিতা থেকে সুবিধা পাওয়া যায় বলে মা শিশুকে সাহায্য করবেন। এখানে যে ভাবনা কাজ করছে তা হলো, এই স্বীকৃতি যে ক্ষমতার অসমানতার কারণে মা এমন কিছু করতে পারেন, যা শিশুর জীবনে বিরাট পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু শিশু নিজে নিজে সেই কাজ করতে পারে না। এক্ষেত্রে মাকে তার কর্তব্যদায় (বাস্তব বা কল্পিত) বোঝার জন্য কোনো পারস্পরিক সুবিধা চাইতে হয় না বা কোনো কল্পিত চুক্তির অন্বেষণ করতে হয় না। গৌতম বুদ্ধ এ কথাটিই বলতে চেয়েছিলেন। এখানে সেই যুক্তি প্রত্যক্ষভাবে প্রাসঙ্গিক। আমরা যেহেতু অন্যান্য প্রজাতি অপেক্ষা অনেক বেশি শক্তিশালী, তাই তাদের প্রতি আমাদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণের বহু ধরনের যুক্তি থাকতে পারে। তার সবগুলো আমাদের জীবনধারণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয় এবং কতগুলো অন্যদের বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বের মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তাহলে পরিবেশ নীতি প্রণয়নে নাগরিকদের ভূমিকা কী হতে পারে? প্রথমত, নাগরিকদের চিন্তা করার ক্ষমতা, মূল্যবিচার ও কাজে পরিণত করার সক্ষমতা থাকতে হবে। আর এটি সম্ভব হবে কেবল তখনই, যখন মানুষকে আমরা রোগী হিসেবে না দেখে কারক (এজেন্ট) হিসেবে দেখব। পরিবেশসংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিন্তায় এর অনেক ধরনের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। যেমন রয়্যাল সোসাইটির ২০০০ সালে প্রকাশিত রিপোর্ট ‘সুস্থায়ী ভোগের দিকে’ (টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল কনজামশন)। রিপোর্টে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এটিও উল্লেখ করা হয় যে চলমান ভোগের ধারাবাহিকতা সুস্থায়ী হওয়া সম্ভব নয়। ফলে চলমান ধারার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস উভয়ই প্রয়োজন, তবে তা শুরু করতে হবে ধনী দেশগুলো থেকে। প্রতিবেদনটির মুখবন্ধে অ্যারন ক্লুগ অত্যন্ত জোর দিয়ে জরুরি পরিবর্তন আনতে বলেছেন: ‘উন্নত দেশগুলোর নাগরিকদের জীবনধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে এবং এই বদল আমাদের কারোর জন্যই সহজ হবে না।’ নিশ্চিতভাবেই এটি কঠিন কাজ। কিন্তু মানুষ যদি নিজেদের সে ফ প্রয়োজন পূরণের রোগী হিসেবে না দেখে যুক্তিচর্চার কারক (রিজনিং এজেন্ট) হিসেবে দেখে, তাহলে এগোনোর সাম্ভাব্য পদ্ধতি হতে পারে সামাজিক যুক্তিতর্ক প্রয়োগ এবং সেখান থেকে সুস্থায়ী পরিবেশবান্ধব অগ্রাধিকারগুলো সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এর থেকে মানুষের পরিবেশের দুর্দশা বোঝার ক্ষমতাও বাড়তে পারে। জ্ঞান বৃদ্ধি মানুষের নিজের কর্মকাণ্ড বিচার-বিশ্লেষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এ সক্ষমতা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং আগামী প্রজন্মের স্বাধীনতা ও স্বক্ষমতা (ফ্রিডম) সংরক্ষণের জন্যও আমাদের তা করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন ধরনের সুযোগের মধ্যে অংশগ্রহণের স্বক্ষমতাকে (ফ্রিডম) বেশি মূল্য দেয়ার কারণ রয়েছে। যদি অংশগ্রহণের সুযোগকে বাধা দেয়া কিংবা দুর্বল করা হয়, তবে তার দামটাই কমে যাবে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনে সম্প্রতি যেসব অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে, তার ফলে সামাজিক যুক্তিতর্কে অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করে ফেলা হয়েছে। ফলে তা ভবিষ্যেকই শুধু হুমকিতে ফেলছে না, বরং সেটি মার্কিন নাগরিকদের অধিকারকে সংকুচিত করে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। শুধু এবারই নয়, আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। যেমন ২০০১ সালের গোড়ার দিকে প্রেসিডেন্ট বুশ পরিবেশ সুরক্ষার চুক্তি—কিয়েটো চুক্তি (তথাকথিত কিয়েটো প্রোটোকল) থেকে আকস্মিকভাবে সরে আসেন। সিএনএন ও টাইম গণমাধ্যমের মতামত জরিপে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার নাগরিকদের বড় অংশের মত বুশের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একেবারেই আলাদা। তা সত্ত্বেও পরিবেশ সংরক্ষণের নীতিনির্ধারণে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের মতামত জানতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এ বিষয়ে সামাজিক যুক্তিতর্কের পরিসর বাড়ানোর বদলে কয়েক বছর ধরে বরং পিছু হটছে। এক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির বহুল আলোচিত গোপনীয় ‘জ্বালানিবিষয়ক টাস্কফোর্স’ (এনার্জি টাস্কফোর্স)-এর উদাহরণ দেয়া যায়। এটি গঠন করা হয়েছিল শিল্প-কারখানার পরিবেশসংক্রান্ত নীতিগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য। কিন্তু এ টাস্কফোর্স জনগণের মতামতের খুব একটা তোয়াক্কা করত না। এমনকি টাস্কফোর্সের সদস্য কারা, সেটি জানতেও চেনি অনাগ্রহী ছিলেন। এসব গোপনীয়তা ও জনগণের সঙ্গে দূরত্বের আরো অন্যান্য ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সামাজিক অংশগ্রহণের পরিসর থেকে সরকার নিজেদের প্রত্যাহার করার ফলে ভীষণ রকমভাবে তা সংকুুচিত হয়েছে। বিদ্যাবেত্তারা যে ভয় পেয়েছিলেন, তাই সত্য হতে যাচ্ছে। তারা বলেছিলেন, ভবিষ্যতে এগুলো খুব খারাপ পরিণতি ডেকে আনবে। কিন্তু আমাদের একথা স্বীকার করতেই হবে যে মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধির সুযোগ রুদ্ধ করার অর্থ হলো তার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। এটিই এখন বাস্তবে ঘটছে। ফলে বর্তমানে এটি সুস্থায়ী হতে ব্যর্থ হয়েছে।

তৃতীয়ত, যদি পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যকে এমনভাবে এগিয়ে নেয়া হয় যে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনযাপনে তা অনধিকার প্রবেশ করবে, এর ফলে স্বক্ষমতা সংকুচিত হবে, তাতে নগদ ক্ষতি হবে। যেমন চীনে এক সন্তান নীতির বাধাধরা নিয়মটির কথা বলা যায়; সেখানে পরিবার পরিকল্পনায় জন্মনিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেয়া হয়। এটিকে যদি সুস্থায়ী জীবনমানের সহায়ক হিসেবে ভাবা হয়, তবে এটিও তখন গ্রহণ করতে হবে যে এ নীতির মধ্য দিয়ে সুস্থায়িত্বতার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছুকে আমরা বলি দিলাম।

একথা সত্য, জন্মহার হ্রাসে বলপ্রয়োগ বড় ভূমিকা রাখে—এমন কথায় সংশয়ের যথেষ্ট প্রমাণ আছে। এমনকি এক্ষেত্রে চীনের অর্জনও আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলে যায়। কারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জন্মহার কমানোর ক্ষেত্রে অন্যান্য সামাজিক চলকের (ফ্যাক্টরস) প্রভাব রয়েছে। যেমন মেয়েদের শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং নারীবান্ধব কর্মসংস্থানের ব্যাপ্তির মতো সামাজিক সূচকের কার্যকারিতা রয়েছে। সত্যি বলতে কি, অন্যান্য সমাজ—যারা সামাজিক সূচকে ভালো করেছে—যেমন ভারতের কেরালা—তারা বলপ্রয়োগের রাস্তায় না হেঁটেও জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পেরেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি দেখানো হয় যে অংশগ্রহণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়াই জন্মহার কমানো সম্ভব, তবে সেক্ষেত্রে তা কী ধরনের বলপ্রয়োগের ফলে কতটুকু স্বক্ষমতা (ফ্রিডম) খোয়া গেল, তার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করবে।

চতুর্থত, সার্বিকভাবে জীবনমানের ওপর মনোনিবেশ করার গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গিটি সুনির্দিষ্ট স্বক্ষমতার গুরুত্ব বুঝতে যথেষ্ট রকম মনোযোগী নয়। এমনকি যখন সার্বিকভাবে জীবনমানের অবনমন ঘটছে না, তখনও মানুষের স্বক্ষমতার ক্ষতি হতে পারে (এবং সংশ্লিষ্ট মানবাধিকারগুলোর)। একটি সোজাসাপ্টা উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা যাক। সামাজিক চয়নে সাধারণ নীতিশীলতার প্রশ্নটি ব্যাপকভাবে প্রাসঙ্গিক হওয়া সত্ত্বেও কিছু পার্থক্যের জায়গাও রয়েছে। যদি আমরা এটি মেনে নিই যে একজন ধূমপায়ী—সে ধনী বা যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন—সে অন্য কোনো মানুষের মুখের সামনে সিগারেটের ধোয়া ফুঁকতে পারবেন না। আর যদি তা করা হয়, তবে আক্রান্ত ব্যক্তিটি যদি অবস্থাপন্নও হয় কিংবা উঁচু স্তরের জীবনমানের অধিকারী হলেও তার এই নৈতিক অধিকার আছে যে অধিকার ভঙ্গের অভিযোগ সে তুলতে পারবে।

উদাহরণটি আমরা প্রতিবেশ রক্ষার প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করে দেখতে পারি। আমরা এমন একটি অবস্থার কথা চিন্তা করতে পারি, যেখানে দূষণের জন্য পরিবেশের অবনতি ঘটার ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আর বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণ করার সুযোগ পাবে না (বিশেষ করে এ কারণে যে দূষণের জন্য বাতাসের মান অত্যন্ত বাজে পর্যায়ে নেমে গেছে)। ভবিষ্যতের সেসব প্রজন্ম যদি খুব ধনীও হয় এবং জীবনের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যথেষ্ট রকমের পেয়েও থাকে, অর্থাৎ সার্বিকভাবে তাদের জীবনমান সুস্থায়ী হওয়া সত্ত্বেও, এই দূষিত বায়ুর কারণে তাদের প্রকৃত জীবনমানের অবনমন ঘটবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ন্যূনতম বর্তমান প্রজন্মের সমান জীবনমান পেতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য দূষণের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদের মাধ্যমে সুস্থায়ী উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গিটি গ্রহণ করা যেতে পারে। ব্রান্টল্যান্ড-সলো মডেলে দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মূল্য দেখতে অস্বীকার করা হয়েছে। এ অস্বীকৃতি দূষণবিরোধী নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে। প্রতিবাদের ফলে যদি সেই নীতিমালা প্রয়োগ করা যেত তাহলে আগামী প্রজন্মের তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের মতো বিশুদ্ধ বাতাস উপভোগ করার স্বক্ষমতা থাকত।

  1. নাগরিক দায়িত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সম্পর্ক কোনো যান্ত্রিক বিষয় নয়। পরিবেশ সংরক্ষণে যেসব যুক্তি রয়েছে, তার বাস্তবায়নে তারা একে অন্যের অঙ্গীভূত অংশ। মানবজীবনের পরিপূর্ণতা যদি শুধু জীবনধারণের মান ও চাহিদা পূরণের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে সুস্থায়ী উন্নয়নের ধারণাকে সেই অনুসারে নতুন করে সূত্রবদ্ধ করতে হবে। শুধু আমাদের চাহিদা পূরণের ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখলে হবে না, বরং আমাদের স্বক্ষমতাকে রক্ষা ও তাকে প্রসারিত করার প্রশ্ন নিয়ে ভাবতে হবে। তাহলে ব্রান্টল্যন্ড ও সলোর সূত্রকে নতুন করে সূত্রবদ্ধ করে আমরা মানুষের সক্ষমতা ও স্বক্ষমতাকে এমনভাবে রক্ষা করতে চাইব এবং যেখানে সম্ভব সেখানেই তা সম্প্রসারিত করতে যত্নবান হব, যাতে ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এমন—বা আরো বেশি—স্বক্ষমতা অর্জনের উপযোগী সক্ষমতা কমে না যায়।’ সুস্থায়ী ধারণার মৌলিক বিষয়গুলোর সঙ্গে ব্রান্টল্যান্ড, সলো ও অন্যদের চিন্তার সঠিক সমন্বয় করে মানবজাতির বৃহৎ দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণ করতে হবে—যেখানে মানুষ নিজেকে কারক (এজেন্ট) হিসেবে দেখবে, যার স্বক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ জীবনমানের একজন ভোক্তার চেয়ে বেশি কিছু নয়—নিজেকে এমন ‘রোগী’ হিসেবে শনাক্তের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Related Posts

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
২৪০,৯৪০,৩৮১
সুস্থ
মৃত্যু
৪,৯০৪,২৯৮

সর্বশেষ