আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনের কিছু প্রচলিত মজার ঘটনা

আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনের কিছু প্রচলিত মজার ঘটনা

১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেছিলেন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। ৬৬ বছর আগে যিনি বিদায় নিয়েছেন, তাঁর গবেষণা আজও পৃথিবীকে পথ দেখায়। তাঁর উদ্ভাবিত থিওরি অব রিলেটিভিটি এখনো বহুল আলোচিত।

আমার ড্রাইভারও উত্তর দিতে পারবে

১৯ শতকের প্রথমভাগে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আইনস্টাইনের উদ্ভাবিত ‘থিওরি অব রিলেটিভিটি’। এই জটিল তত্ত্ব বোঝাতে তাঁকে তখন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে ছুটতে হয়েছিল। ছোটাছুটিতে সঙ্গী ছিলেন তাঁর গাড়িচালক। সভার পেছনের সারিতে বসে প্রতিবারই গাড়িচালক আইনস্টাইনের কথা মন দিয়ে শুনতেন। একদিন এমনই একটি সেমিনারে যোগ দিতে রওনা হলেন আইনস্টাইন। গাড়িতে তাঁর ড্রাইভার বললেন, ‘স্যার, আপনার এই থিওরি অব রিলেটিভিটি তো খুব সহজ। আমি এটা এতবার শুনেছি যে সেমিনারে এখন আমিও এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।’

আইনস্টাইন বিরক্ত না হয়ে বরং দুষ্টু বুদ্ধি আঁটেন। সেই সময়ে গণমাধ্যমে তেমন প্রচার না থাকায় কেউ জানত না আসল আইনস্টাইন দেখতে কেমন। তাই সেমিনারে পৌঁছেই তিনি আর তাঁর গাড়িচালক পোশাক অদলবদল করে ফেলেন। আইনস্টাইন তাঁর গাড়িচালকের পোশাক পরে সেমিনারের পেছনে বসেন, আর গাড়িচালক বসেন আইনস্টাইনের জায়গায়। আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বেও গাড়িচালক বেশ ভালোই উতরে যাচ্ছিলেন। কারণ, বেশির ভাগ প্রশ্ন আগের সেমিনারগুলোর মতোই ছিল।

তবে একেবারে শেষ প্রশ্নে আটকে যান তিনি। তখন গাড়িচালক বুদ্ধি করে প্রশ্নকর্তাকে বলেন, ‘আপনার প্রশ্নটি এতটাই সহজ যে আমার ড্রাইভারও এর উত্তর দিতে পারে।’ বলে তিনি দর্শকের আসনে বসা আইনস্টাইনকে দেখিয়ে দেন। সে যাত্রায় আইনস্টাইন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন।

 

পজিটিভ-নেগেটিভ একসঙ্গে

বিশ্ববিদ্যালয়জীবন পেরিয়ে আইনস্টাইন বিয়ে করেছিলেন মিলেভা ম্যারিককে। মিলেভা ছিলেন তাঁরই সহপাঠী, ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী। দুজনই পদার্থবিজ্ঞানী হওয়ার কারণে বাস্তব জীবনেও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে তাঁদের বিপুল আগ্রহ ছিল। তাই তাঁরা নিজেদের দুই ছেলের ডাকনাম রেখেছিলেন পজিটিভ ও নেগেটিভ। কারণ, পদার্থবিজ্ঞানে বিপরীতধর্মী কণা একে অপরকে আকর্ষণ করে একসঙ্গে থাকে। দুই ভাইকে এক রাখতেই এমন বুদ্ধি করেছিলেন আইনস্টাইন-মিলেভা দম্পতি।

তুমি আগে

প্রায় ১৭ বছরের প্রথম সংসারজীবন ছেড়ে আইনস্টাইন বিয়ে করেন মামাতো বোন এলসাকে। এলসা খুব সাধারণ ঘরের মেয়ে। পদার্থবিজ্ঞানের কিছু নিয়েই তাঁর তেমন ধারণা ছিল না। এলসা ভাবতেন, ‘জেনারেল রিলেটিভিটি’ জার্মান আর্মির কোনো অফিসার পদ হবে! তো আইনস্টাইন একদিন ভাবলেন, তিনি এলসাকে থিওরি অব রিলেটিভিটি বোঝাবেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে শুরু করলেন, ‘যদি কোনো সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানো শুরু করি, তাহলে এক ঘণ্টা কাটালেও মনে হবে এক মিনিট থেকেছি। কিন্তু রান্নাঘরের চুলার আগুনে যদি এক মিনিট হাত রাখি, সেটা এক ঘণ্টা মনে হবে।’ আইনস্টাইন এলসাকে বাস্তব উদাহরণ দিতে রান্না ঘরে নিয়ে গেলেন। বুদ্ধিমতী এলসা শুরুতেই বললেন, ‘তুমি আগে হাত দাও।’

তোমাকে কেউ চেনে না

পোশাক, খাবার আর বাড়ির ঠিকানা ভোলার অভ্যাস তো আইনস্টাইনের ছিলই। অফিসে যাওয়ার সময় তাঁকে মার্জিত পোশাক পরার জন্য জোর করতেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু আইনস্টাইন বলতেন, ‘কেন? ওখানে সবাই তো আমাকে চেনে।’ জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের দিন আইনস্টাইন যখন রওনা হচ্ছেন, সেদিনও স্ত্রী তাঁকে ভালো পোশাক পরতে বলছিলেন। বরাবরের মতো প্রশ্ন করে বসলেন আইনস্টাইন, ‘কেন? কী প্রয়োজন সেটার?’ স্ত্রী ঠান্ডা গলায় উত্তর দিয়েছিলেন, ‘কারণ, সেখানে তোমাকে কেউ চেনে না’।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্কার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Related Posts

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

সর্বশেষ