মঙ্গল অভিযানের অন্যতম ‘কারিগর’ ভারতীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন বিজ্ঞানী!

মঙ্গল অভিযানের অন্যতম ‘কারিগর’ ভারতীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন বিজ্ঞানী!

প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজতে লালগ্রহ মঙ্গলে পা রেখেছে নাসার পার্সিভিয়ারেন্স রোভার। আর এই ‘মিশন মঙ্গল’র অন্যতম পুরোধা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী স্বাতী মোহন। নাসার রোভার যে সফলভাবে মঙ্গলের মাটি ছুঁয়েছে এ খবর প্রথম ঘোষণা করেছিলেন স্বাতীই।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, নাসার এই স্বপ্নের মিশনের দায়িত্ব থাকা স্বাতীর জন্ম বেঙ্গালুরুতে। তাঁর ১ বছর বয়সে পরিবার চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রে। এই ভারতীয় কন্যা জানিয়েছেন, ৯ বছর বয়সে ‘স্টার ট্রেক’ শো দেখা পর থেকেই মহাকাশ সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ জন্মায়। কিন্তু এরপরেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন চোখে নিয়েই তাঁর বড় হওয়া। পরে অবশ্য স্বপ্নের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করে দিয়েছিল পদার্থবিদ্যার একটি ক্লাস। ১৬ বছর বয়সে স্বাতী সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তার নয়, ইঞ্জিনিয়র হতে চান তিনি। এরপরেই কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়রিং-এ স্নাতক হন তিনি। পরে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেড ডিগ্রি লাভ করেন।

পার্সিভিয়ারেন্সের আগে ‘ক্যাসিনি’, ‘গ্রেল’ – এ দুটি মিশনে কাজ করেছেন স্বাতী। ২০১৩ সাল থেকে এই মঙ্গল অভিযানের অংশ হন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী। পার্সিভিয়ারেন্স-এর ফ্লাইট কন্ট্রোলের দায়িত্বের পুরোভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পাসাডেনার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরিতে মিশন অপারেশনস সেন্টারে টানা তিরিশ ঘণ্টা নিজের সিটে বসেছিলেন স্বাতী।

লাল গ্রহের রুক্ষ মাটিতে পারসিভিয়ারেন্স রোভার নামার পর নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখেননি স্বাতী। তাৎক্ষণিক এক টুইটবার্তায় তিনি জানান, পারসিভিয়ারেন্স সফলভাবে মঙ্গলের মাটিতে নেমেছে। এখন এটি প্রাণের সন্ধান করতে প্রস্তুত। স্বাতী বলেন,‘স্কুলের থেকে বেশি সময় আমি পার্সিভিয়ারেন্সে কাটিয়েছি। আমার ছোট মেয়ের বয়সের থেকেও বেশি সময় এই মিশনকে আমি দিয়েছি। জীবনের একটা বড় অধ্যায়জুড়ে রয়েছে এই মিশন।’

২০৩ দিন আগে ৪৭ কোটি কিলোমিটারের দূরে লাল গ্রহের পথে রওনা দিয়েছিল নাসার পার্সিভিয়ারেন্স রোভার। এ যাবৎ তাদের তৈরি সর্বাধুনিক রোভার বলে যাকে দাবি করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। ১৮,০০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা বেগে ছুটছিল পার্সিভিয়ারেন্স, যে গতি ক্যালিবার ৫.৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে ছোড়া বুলেটের গতির ছ’গুণের সমান। মঙ্গলের মাটিতে কন্ট্রোলড কলিশনের আগে সেই গতিকে সাত মিনিটে প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা (পরিভাষায় ‘সেভেন মিনিটস অব টেরর’ বা আতঙ্কের ৭ মিনিট) ছিল প্রথম চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: গল্ফ টুডে, এই সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Related Posts

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৫৮,০৮৯,৯৩৫
সুস্থ
৯৪,৩৪০,০০৯
মৃত্যু
৩,২৯০,৪৬৬

সর্বশেষ