নতুন গন্তব্য তুরস্ক ও দুবাই
চিকিৎসার জন্য আবারো বিদেশমুখী উচ্চবিত্তরা

নতুন গন্তব্য তুরস্ক ও দুবাইচিকিৎসার জন্য আবারো বিদেশমুখী উচ্চবিত্তরা

চিকিৎসা নিতে উচ্চবিত্তদের গন্তব্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এমনকি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রও। আর মধ্যবিত্তরা যায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে। কয়েক বছর ধরেই বিদেশগামী রোগীদের মধ্যে এ প্রবণতা চলে আসছে। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে হঠাৎ করে এ ধারায় সাময়িক ছেদ ঘটে। বিশ্বব্যাপী লকডাউনে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ায় ধনী-গরিব সবাইকেই চিকিৎসা নিতে হয়েছে দেশেই। তবে ফ্লাইট চলাচল শুরু হওয়ায় আবারো চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে শুরু করেছে সামর্থ্যবানরা।

উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের সামর্থ্যবান নাগরিকদের প্রথম পছন্দ সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে ব্যাংককের ভিসা। মালয়েশিয়াতেও বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশীদের ভিসা। সিঙ্গাপুর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশীদের ভিসা দিলেও রয়েছে কঠিন নিয়মের বেড়াজাল। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সিঙ্গাপুরে পৌঁছার পর হোটেল কক্ষেই ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এর পরই শুরু হয় চিকিৎসা প্রদান। এ কারণে বাংলাদেশীরা এখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য উচ্চবিত্তের কাছে নতুন গন্তব্য তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই।

ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সংশ্লিষ্টরা জানান, আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে তুরস্ক ও দুবাইয়ে চিকিৎসা সেবাগ্রহীতাদের যাতায়াত। দেশ দুটিতে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন বাংলাদেশী চিকিৎসা নিতে গিয়েছে। সে হিসেবে গত তিন মাসে চিকিৎসার জন্য তুরস্ক ও দুবাই গিয়েছে আড়াই হাজারের বেশি সামর্থ্যবান বাংলাদেশী।

নিয়মিত বিদেশে চিকিৎসা সেবা নেয়া এমনই একজন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। স্বাভাবিক সময়ে মেডিকেল চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে যেতেন তিনি। কিন্তু করোনার কারণে সিঙ্গাপুরের ভিসা বন্ধ থাকায় চলতি মাসের মাঝামাঝি দুবাই যান এ ব্যবসায়ী। মেডিকেল চেকআপ শেষে ২৩ অক্টোবর দেশে ফিরে আসেন তিনি।

জসিম উদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী শহীদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, স্যার নিয়মিত সিঙ্গাপুরে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে থাকেন। কিন্তু করোনার কারণে সেখানকার ভিসা বন্ধ থাকায় দুবাইয়ে গিয়ে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে এসেছেন। তিনি দুবাইয়ের আমেরিকান হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়েছেন। স্যার ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।

করোনার কারণে মার্চের মাঝামাঝি থেকেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আকাশপথে নিয়মিত যোগাযোগ। সেই সঙ্গে বন্ধ থাকে মেডিকেল ট্যুরিজমও। তবে গত জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এয়ারলাইনস এবং জুলাই থেকে তুরস্কের এয়ারলাইনস বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করে। প্রথমদিকে ট্রানজিট যাত্রী পরিবহন করলেও পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ ও চিকিৎসা ভিসায় বাংলাদেশীদের প্রবেশাধিকার দিতে শুরু করে দুবাই ও ইস্তাম্বুল। এরপর থেকেই চিকিৎসা নিতে উচ্চবিত্তরা দেশ দুটিতে যেতে শুরু করে।

মেডিকেল ট্যুরিজম খাতের সঙ্গে যুক্তদের দেয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশীদের দুবাইয়ের চিকিৎসা নিতে যাওয়া হাসপাতালের মধ্যে প্রথম পছন্দ হলো এস্টার হাসপাতাল। মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে প্রতিষ্ঠানটির ২৫টি হাসপাতাল ও ১১৬টি ক্লিনিক রয়েছে। এ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বেশির ভাগই ভারতীয়। তাদের আবার ভারতেও হাসপাতাল রয়েছে। তবে দুবাই সার্জারি খুবই ব্যয়বহুল। ডিএনএ বা এইচএলএ টাইপিং টেস্টের খরচ বাংলাদেশ ও ভারতে হয় ১৫-২০ হাজার টাকায়। কিন্তু সেই টেস্ট দুবাইয়ে করতে হয় ২৮ হাজার দিরহাম বা ৪ লাখ টাকায়। বিশেষ করে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ টেস্ট করাতে হয়। উচ্চবিত্তদের জন্য দুবাইয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো থাকলেও বড় বড় সার্জারি করার সক্ষমতা তাদের তেমন নেই। সেখানে ভারতীয় চিকিৎসকরা গিয়েই সার্জারি করেন।

তুরস্ক আগে থেকেই মেডিকেল ট্যুরিজমে উন্নত। কিন্তু আগে বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের বিমান ভাড়া অনেক বেশি ছিল। তাই দেশটিতে চিকিৎসা নিতে আগ্রহীর সংখ্যা কম ছিল। আর মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের ভিসা বন্ধ থাকায় উচ্চবিত্তরা দুবাই ও তুরস্কে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা চালু হলে রোগীরা এ দুই দেশে তেমনটা যাবে না বলে মনে করেন এ খাতে কাজ করা ব্যক্তিরা।

ভ্রমণ ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান নিউ ডিসকভারি ট্যুরস অ্যান্ড লজিস্টিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আলম ভূইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশী উচ্চবিত্তরা নিয়মিত যেসব দেশে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে, করোনার কারণে এবার সেখানে প্রবেশাধিকার নেই তাদের। এ কারণে বিকল্প হিসেবে তুরস্ক এবং দুবাইয়ে যাচ্ছে তারা। তবে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার তুলনায় এ দুটি গন্তব্যে চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। তাই ফ্লাইট স্বাভাবিক হলে উচ্চবিত্তরা আবারো চিকিৎসায় ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরমুখী হবে বলে ধারণা করা যায়।

স্বাভাবিক সময়ে ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশী রোগী চিকিৎসার জন্য ছুটে যায়। হূদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি ও চোখের সমস্যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী যায় ভারতে। এক্ষেত্রে ক্যান্সারের জন্য দিল্লি, চেন্নাই, চোখের জন্য চেন্নাই ও কলকাতাকে বেছে নেয় তারা। ২০১৭ সালেই মেডিকেল ভিসায় ভারতে চিকিৎসা নিয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৭৫১ জন বাংলাদেশী।

বিশ্বস্ত, সৎ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং তুলনামূলক কম সময়ে অস্ত্রোপচার ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা থাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী থাইল্যান্ডে চিকিৎসা সেবা নেয়। সরকারি হিসাবে ২০১৭ সালে ৬৫ হাজার বাংলাদেশী রোগী দেশটিতে সেবা নিয়েছে। যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। গন্তব্য হিসেবে থাইল্যান্ডের পরই বাংলাদেশী রোগীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরো দুই দেশ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। সিঙ্গাপুরে গত বছর চিকিৎসা নিয়েছে ২৫ হাজার বাংলাদেশী। সুত্র: বণিক বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published.

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

Related Posts

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪৫৯,২৭২
সুস্থ
৩৭৩,৯২৪
মৃত্যু
৬,৫৫২
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬১,৬৩৬,৬০৯
সুস্থ
৩৯,৪৪৫,৬১১
মৃত্যু
১,৪৪২,৫৭২

সর্বশেষ