কারা কলা খেতে পারবেন না?

যেকোনো উৎসবেই খাওয়া দাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। সাথে থাকে নানা ধরনের ফলমূল। তবে এমন কিছু ফল আছে যা খেলে বিশেষ কয়েকটি রোগের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর। তাই সেসব ফলমূল খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত।

কিডনির সমস্যা থাকলে খেয়াল রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন অতিরিক্ত পটাশিয়াম বা ফসফরাস শরীরে না যায়। তার জন্য যে ফলটি খাওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সাবধান হতে হবে, তা হল কলা।

কলায় ভিটামিন ও মিনারেল প্রচুর পরিমাণে থাকলেও তাতে অনেকটা পটাশিয়ামও থাকে। যদি রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তবে কিডনির অসুখে আক্রান্তদের শারীরিক সমস্যা হতে পারে। ফলে যে কোনো উৎসবে কলা খাওয়ার সময়ে খেয়াল রাখা জরুরি, অন্য সব ফল খেলেও কলা না খাওয়া ভালো। আর এই ফলটি খেয়ে ফেললেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

এদিকে মানবদেহের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। শরীর থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল অপসারণ করতে সহায়তা করে এই অঙ্গটি। কিডনি মানুষের শরীরের লবণ এবং খনিজের ভারসাম্যতা বজায় রাখে। শরীর থেকে অ্যাসিড অপসারণ করে। শরীরকে সুস্থ রাখতেও অত্যন্ত সহায়ক। তাই কিডনির যথাযথ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই এখন থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করুন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, দৈনন্দিন কোন কোন অভ্যাস কিডনির ক্ষতি হওয়ার মূল কারণ।

১) ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার বাজারে ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস খুব সহজেই কিনতে পাওয়া যায়। এগুলো হলো ব্যথানাশক ওষুধ। তবে এই ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার কিডনির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে যাদের ইতোমধ্যেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২) উচ্চ লবণযুক্ত খাবার রক্তচাপ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। ফলে কিডনির বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই খাবারের স্বাদ বাড়াতে কেবল লবণ ব্যবহারের পরিবর্তে, বিভিন্ন ভেষজ এবং মশলার ব্যবহার করুন।

৩) প্রক্রিয়াজাত খাবারে সোডিয়াম এবং ফসফরাসের মাত্রা বেশি থাকে। তাই কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের, প্যাকেজড খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। উচ্চ ফসফরাসযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের সেবন, কিডনি এবং হাড়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর।

৪) সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে, পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান, শরীর থেকে সোডিয়াম এবং টক্সিন বের করে দিতে সহায়তা করে। তাছাড়া এটি কিডনি স্টোন হওয়ার ঝুঁকিও হ্রাস করে। যারা ইতোমধ্যেই কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের কম তরল পান করা প্রয়োজন। তবে সুস্থ কিডনিযুক্ত ব্যক্তিদের, প্রতিদিন ৩-৪ লিটার পানি পান করা উচিত।

৫) রাতের ভালো ঘুম, শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিডনির কার্যকারিতা অনেকটাই রাতের ঘুমের ওপর নিয়ন্ত্রিত হয়।

অবশেষে নতুন ঠিকানা পেলেন আর্জেন্টিনার রোমেরো

আর্জেন্টিনার সেরা গোলরক্ষকদের একজন সার্জিও রোমেরো। গোলবার সামলানো রোমেরো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর কোনো ক্লাব পাচ্ছিলেন না। অবশেষে পেলেন নতুন ঠিকানা। ফ্রি এজেন্ট হিসেবে সেরি আর ক্লাব ভেনেৎসিয়ায় যোগ দিয়েছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার ইতালিয়ান লিগের নবাগত ক্লাবটি এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে। ২০২০-২১ মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয় এই আর্জেন্টাইনের। এরপর থেকেই নতুন ক্লাবের সন্ধান করছিলেন তিনি।

২০১৫ সালে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছিলেন সার্জিও রোমেরো। তখন থেকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬১টি ম্যাচ খেলেন তিনি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে একটি করে এফএ কাপ, ইংলিশ লিগ কাপ, ইংলিশ সুপার কাপ ও ইউরোপা লিগ জয়ের স্বাদ পান এই গোলরক্ষক।

উল্লেখ্য, আর্জেন্টিনার ইতিহাসে গোলরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ ৯৬টি ম্যাচ খেলেন রোমেরো। সর্বশেষ ২০১৮ সালে জাতীয় দলের হয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

সৌম্যের ব্যাটে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে লড়াকু পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারের ৩৪ রানের ইনিংসে ভর করে লঙ্কানদের বিপক্ষে ১৪৭ রান তুলেছে টাইগাররা। আজ মঙ্গলবার রাতে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক লিটন দাস।

আগে ব্যাট করতে আসেন দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও লিটন দাস। দুইজনের ৩১ রানের জুটি ভাঙেন দুশমন্থ চামিরা। ১৬ করে সাজঘরে ফেরেন লিটন। তিনে এসে ৩৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন সৌম্য সরকার। অবশ্য তার আগেই ১১ রান করে ফেরেন নাঈম।

গত ম্যাচের মতো এই দিনও তেমন সুবিধা করতে পারেননি মুশফিকুর রহিম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। মুশফিক ১৩ এবং আফিফ ১১ করে ফেরেন। শেষের দিকে নুরুল হাসান সোহানের ১৫ ও শেখ মেহেদী হাসানের অপরাজিত ১৬ রান ছাড়া কেউই দুই অংক ছুঁতে পারেনি। নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান তোলে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার দারুণ প্রস্তুতি

বিশ্বকাপের লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে অফিসিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। আভিস্কা ফার্নান্দোর ঝড়ো ফিফটিতে টাইগারদের দেওয়া ১৪৮ রানের টার্গেট সহজেই উতরে গেছে লঙ্কানরা। নির্ধারিত ওভারের ৬ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে তারা।

আজ মঙ্গলবার টসে জিতে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান তোলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের দেওয়া মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে এসে শুরুটা ভালো হয়নি লঙ্কান ওপেনার কুশল পেরেরার। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে তাসকিন আহমেদের শিকার হন তিনি। ৮ বলে মাত্র ৪ রান করে নাঈমের তালুবন্দি হন তিনি।

পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে আরেক ওপেনার পাথুম নিশানকাকে সাজঘরে ফেরান শেখ মেহেদী। ১২ বলে ১৫ করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। অষ্টম ওভারে বল করতে এসে দীনেশ চান্দিমালকে সাজঘরে ফেরান সৌম্য। ১৫ বলে ১৩ করে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান।

 

নিয়মিত বিরতিতে ১২ ওভারে ৭৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারায় লঙ্কানরা। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সৌম্য বল হাতেও শিকার করেন দুই উইকেট। শেষের দিকে আভিস্কা ফার্নান্দো এবং চামিকা করুনারত্নের ব্যাটে ভর করে ৬ বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে লঙ্কানরা।

এর আগে, ব্যাট করতে আসেন দুই ওপেনার নাঈম শেখ ও লিটন দাস। দুইজনের ৩১ রানের জুটি ভাঙেন দুশমন্থ চামিরা। ১৬ করে সাজঘরে ফেরেন লিটন। তিনে এসে ৩৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন সৌম্য সরকার। অবশ্য তার আগেই ১১ রান করে ফেরেন নাঈম।

গত ম্যাচের মতো এই দিনও তেমন সুবিধা করতে পারেননি মুশফিকুর রহিম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। মুশফিক ১৩ এবং আফিফ ১১ করে ফেরেন। শেষের দিকে নুরুল হাসান সোহানের ১৫ ও শেখ মেহেদী হাসানের অপরাজিত ১৬ রান ছাড়া কেউই দুই অংক ছুঁতে পারেনি। নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৭ রান তোলে বাংলাদেশ।

বন্ধুকে হারিয়ে অঝোরে কাঁদছেন আবুল হায়াত

বর্ষীয়ান অভিনেতা ড. ইনামুল হকের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু কিংবদন্তি অভিনেতা আবুল হায়াত। ড. ইনামুল হকের সঙ্গে তার ৫৫ বছরের বন্ধুত্ব। হুট করে বন্ধুর চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। আজ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বন্ধুর মরদেহ দেখে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন আবুল হায়াত।

বিদায় মঞ্চের ওপরে রাখা শ্রদ্ধাঞ্জলি খাতাটি আনমনে উল্টাচ্ছেন আবুল হায়াত। এরপর বিমর্ষ চোখে কিছুক্ষণ ঘাসের দিকে তাকিয়ে থাকেন। চোখ ঝাপসা হয়ে উঠলেও নিজেকে সামলে নেওয়া চেষ্টা করেন তিনি। তবে বেশিক্ষণ নয়। কোনো রকমে হাতের ফুলগুলো সপে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন তিনি।

মেয়ে নাতাশা হায়াত বাবার পাশে এসে দাঁড়িয়ে কিছুটা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু হলো না। গণমাধ্যমকর্মীরা কাছে যেতেই বললেন, ‘আর পারছি না। কিছুই বলার নেই।’ এরপর শ্রদ্ধাঞ্জলি মঞ্চের পেছনে এসে মিনিট দশেক বসলেন। যতক্ষণ ছিলেন ততক্ষণই তার চোখ দিয়ে ঝরলো বন্ধু হারানোর অশ্রু।

 

এদিকে, আজ বেলা ১১টায় নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হকের মরদেহ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আনা হয়। সেখানেই সর্বস্তরের জনগণ তাকে শ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত হন- তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডাক্তার জাফরুল্লাহ, অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি, তানজিকা, নাতাশা হায়াত, মোমেনা চৌধুরী, বৃন্দাবন দাস মীর সাব্বির সহ অনেকে। শ্রদ্ধা নিবেদন আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। উপস্থিত ছিলেন ড. ইনামুল হকের দুই জামাতা লিটু আনাম, সাজু খাদেম এবং দুই মেয়ে প্রৈতি হক ও হৃদি হক।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শহীদ মিনারের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে এই নাট্যজনকে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার ড. ইনামুল হক গতকাল দুপুরে বেইলি রোডের নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। জানা যায়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন।

উল্লেখ্য, ড. ইনামুল হকের অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৬৮ সালে। তার প্রথম অভিনীত টেলিভিশন নাটক ‘মুখরা রমণী বশীকরণ’। এটি প্রযোজনা করেন মুস্তাফা মনোয়ার। নাট্যকার হিসেবে তার পথচলা শুরু ওই বছরই। তার প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘অনেকদিনের একদিন’। আবদুল্লাহ আল মামুন নাটকটি প্রযোজনা করেছিলেন টেলিভিশনের জন্য।

এ পর্যন্ত টেলিভিশনের জন্য ৬০টি নাটক লিখেছেন তিনি। তার লেখা আলোচিত টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘সেইসব দিনগুলি’ (মুক্তিযুদ্ধের নাটক), ‘নির্জন সৈকতে’ ও ‘কে বা আপন কে বা পর’। মঞ্চের জন্য প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘বিবাহ উৎসব’। এটি লিখেছিলেন উদীচীর জন্যে। তার নিজ দল নাগরিক নাট্যাঙ্গনের জন্য প্রথম লেখা নাটকের নাম ‘গৃহবাসী’। ১৯৮৩ সালে লেখা হয় নাটকটি। ঢাকার মঞ্চে বেশ আলোচিত নাটক এটি।

গুণী এই অভিনেতার পুরো পরিবারই নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার স্ত্রী লাকী ইনামও কিংবদন্তি অভিনেত্রী। মেয়ে হৃদি হকও নির্দেশক এবং অভিনেত্রী। তার জামাই অভিনেতা লিটু আনাম। ড. ইনামুলের অপর মেয়ে প্রৈতি হকের স্বামী সাজু খাদেম।

নাটক-আত্মজীবনী লেখা, বই পড়া ছাড়াও বাসায় নাতি-নাতনিদের সঙ্গে গল্প করেও সময় পার করতেন ড. ইনামুল হক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘পড়ার জন্য কতো বই রয়েছে! লেখার কতো কী বাকি! অনেক কিছুই বাকি রয়ে গেল!’ সূত্র: আমাদের সময়

জ্বর কমছে না খালেদা জিয়ার, আজ পরীক্ষার রিপোর্ট

শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করলেও বেশ কিছুদিন ধরে জ্বর কমছে না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যের একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাকে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনকে। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার সিটিস্ক্যান ও ইকো টেস্ট করানো হয়েছে। বুধবার রেজাল্ট আসবে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি টেস্ট করোনোর কথা রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার শরীরে জ্বর আছে। জ্বরের মাত্রা ১০২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করেছে। জ্বর না কমার কারণ খুঁজছে মেডিকেল বোর্ড।

ওই চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর গাড়ি থেকে হুইল চেয়ারে করে বিএনপি চেয়ারপারসনকে নির্দিষ্ট কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তার সঙ্গে কথা বলেন। তার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে এক দফা বৈঠকও করেছে বোর্ড। তবে খালেদা জিয়া হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে নারাজ। তাকে কয়েকটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে হাসপাতালে রাখার চেষ্টা করছেন চিকিৎসকেরা। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও হাসপাতাল চিকিৎসক মিলে একটি টিম তার চিকিৎসায় নিয়োজিত আছে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার। তার সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত আছেন ব্যক্তিগত স্টাফ রূপা ও গৃহপরিচারিকা ফাতেমা।

খালেদা জিয়ার একজন চিকিৎসক বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা সাময়িক ভালো কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী স্বস্তি বলা যাবে না। কয়েক দিন পর পর জ্বরও আসে একাধিক কারণে। এরমধ্যে লিভার ও কিডনির ফাংশন সঠিকভাবে কাজ না করাও অন্যতম। এগুলো আসলে জটিল বিষয়। মাল্টিপল ডিজিস।

এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে গুলশানে খালেদা জিয়া নিজ বাসভবন ফিরোজা থেকে নিজের গাড়িতে চড়ে হাসপাতালে যান। এ সময় ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ডা. আল মামুন ও তার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতাসহ গ্রেপ্তার ৮

মুদি দোকানদার থেকে ওভারসিজ প্রতিষ্ঠানের মালিক বনে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা টুটুল ও তার সহযোগীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। আজ বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান।

তিনি বলেন, রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা টুটুল ও তার সহযোগী তৈয়বসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪। মানবপাচার করে টুটুল মুদি দোকানদার থেকে ওভারসিজ প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন।

এ ব্যাপারে আজ দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক। সূত্র: আমাদের সময়

পরীমনিসহ ৩ জনের মাদক মামলা মহানগর দায়রা জজ আদালতে

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার মামলাটি গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখা থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। মহানগর আদালতের সেরেস্তা থেকে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

গত রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত সিকদারের আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারের জন্য মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন -আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেন।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত পরীমনিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। ওইদিন আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানি শেষে অভিনেত্রীর জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ২২ আগস্ট কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতেই পরীমনির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী মজিবুর রহমান। তখন আদালত শুনানির জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছিলেন। এতদিন পর শুনানির দিন ধার্য করায় পরীমনির আইনজীবীরা হাইকোর্টে যান। তারা দ্রুত জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ জামিন শুনানির দিন এগিয়ে এনে ১৩ সেপ্টেম্বরের বদলে ৩১ আগস্ট ধার্য করেন।

গত ৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক কাজী মোস্তফা কামাল পরীমনি, আশরাফুল ইসলাম দিপু ও কবির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট রাতে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযান শেষে বনানীর বাসা থেকে পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় অভিনেত্রীর বাসায় বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া গেছে বলে জানায় র‍্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট র‍্যাব-১ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পরীমনি ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে বনানী থানায় মামলা করে।

সাবেক মন্ত্রীর এপিএস ফুয়াদ গ্রেপ্তার

দুই হাজার কোটি টাকার পাচার মামলার আসামি ও সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এপিএস (বহিষ্কৃত) এইচ এম ফুয়াদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বুধবার সকালে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো.আলিমুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে এইচ এম ফুয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। এর আগে তাকে গ্রেপ্তার করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের এই কর্মকর্তা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের দুই ভাই রুবেল ও বরকতের দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলায় ফুয়াদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন এইচ এম ফুয়াদ। তাকে গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন সময় পুলিশের অভিযান ব্যর্থ হয়েছে বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, ফুয়াদের বিরুদ্ধে ফরিদপুরে প্রায় ১৩টির মতো মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত মামলা দুই হাজার কোটি টাকা পাচার ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনার মামলা। সূত্র: আমাদের সময়

‘আমিও প্রতারিত’

রহস্যজনক চরিত্র ‘ধনকুবের’ মুসা বিন শমসের (প্রিন্স মুসা) এবং প্রতারক আবদুল কাদের চৌধুরীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ডিবির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তাকে ফোন করেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দেহরক্ষী ও গাড়িবহর নিয়ে ‘শোডাউন’ দিলেও এবার মুসা বিন শমসের ডিবি কার্যালয়ে আসেন অনেকটাই নীরবে।

গতকাল বিকাল তিনটা ২৫ মিনিটে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছান তিনি। মেরুন রঙের একটি প্রিমিও প্রাইভেটকারে মুসা বিন শমসের, তার স্ত্রী ও সন্তান ডিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ডিবি কার্যালয়ের ফটক থেকে একজন উপকমিশনার (ডিসি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা তাদের ভেতরে নিয়ে যান।

অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দিয়ে বহুমাত্রিক প্রতারণার অভিযোগে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল কাদের চৌধুরী সঙ্গে ধনকুবের মুসা বিন শমসেরের (প্রিন্স মুসা) ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ পায় ডিবি পুলিশ। তদন্ত সূত্র জানায়, মুসা বিন শমসেরকে বাবা বলে ডাকতেন কাদের। নিজের সন্তানদের মুসার সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দিত। গুলশানে মুসার একটি অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট কিনতে ১০ কোটি টাকার চেক দিলেও সেটি ডিজঅনার হয়। আবদুল কাদের মুসাকে টাকা ধার দিয়েছে এমন চুক্তিপত্রেরও সন্ধান পায় ডিবি। তাদের এমন বিভিন্ন চুক্তির কাগজ এবং মোবাইল ফোনের কথোপকথনের রেকর্ডসহ তাদের দুজনের সম্পর্কসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জানতে মুসাকে তলব করে ডিবি পুলিশ।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর দুপুরে মুসা বিন শমসেরের ছেলে জুবি মুসাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে তলব করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ।

গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ের প্রধান ফটকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুসা বিন শমসের। তিনি বলেন, ‘আমাকে ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ ডেকেছিলেন। একটা ফ্রড (প্রতারক) লোক আবদুল কাদের সে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি (অতিরিক্ত সচিব) বইলা কার্ড ছাপিয়ে আমার অফিসে গিয়েছে। আমার সঙ্গে বিভিন্ন সময় ছবি তুলেছে এবং সে মাঝে মাঝে আমার সামনে বসে বড় বড় লোকদের সঙ্গে কথা বলত। যেমন আইজিপি, আর্মি জেনারেল আরও মানুষজনের সঙ্গে কথা বলত। আমার বিশ্বাস হলো যে সে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি। পরে প্রমাণিত হলো সে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি নয়। সে একজন ফ্রড। পরে তাকে বের করে দিলাম আমি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কাদেরের ব্যাপারেই আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমি যা বলার ছিল স্পষ্ট বলে দিয়েছি। তারা সন্তুষ্ট। সে জন্মগতভাবেই একটা মিথ্যাবাদী। আমিও প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমি ভিক্টিম (ভুক্তভোগী) হিসেবে কাদেরের বিরুদ্ধে মামলা করব।’

কাদেরের সঙ্গে ছবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কাছে কেউ গেলে ধর তোমাদের অনেক সিনিয়ররা, অনেক এডিটর বা নিউজ এডিটর এরা আমার সঙ্গে ছবি তোলে। এখন ছবি তুলতে চাইলে তো আমি না করতে পারি না। এখন আমার ছবি নিয়ে যদি কেউ প্রতারণা করে, সেটার দায় দায়িত্ব তো আমি নিতে পারি না।’

কাদের কী ধরনের ক্ষতি করেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সব স্টেটমেন্ট ডিবির হারুন অর রশিদের কাছে দিয়েছি। উনারা ধৈর্য নিয়ে আমার সব কথা শুনেছেন। আমরা বিস্তারিত আলাপ করেছি। পরে এ ডিসিশন (সিদ্ধান্ত) হয়েছে, ওর বিরুদ্ধে ডিবি তো করবেই, আমরাও একটা মামলা করব।’ কাদেরের সঙ্গে ২০ কোটি টাকা লেনদেনের চেক পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফেরত দিয়ে দিছি।’

মুসা বিন শমসেরের পরই সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, মুসা বিন শমসের প্রতারণার শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে ডিবির কী মনে হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েক ঘণ্টা কথা বলেছি। উনাকে আমার কাছে রহস্যময় মানুষ মনে হয়েছে। উনাকে বারবার জিজ্ঞেস করেছি, আবদুল কাদের একটি নাইন পাশ লোক। তাকে আপনি এত বড় কোম্পানির উপদেষ্টা বানালেন! সে আপনাকে ১০ কোটি টাকার চেক দিল, আপনি তাকে ২০ কোটি টাকার চেক দিলেন! তিনি বলেন লাভসহ দিয়েছি। এক মাসে কেউ কি ১০ কোটি টাকায় ১০ কোটি টাকা লাভ দেয়? উনি দেখেছেন কাদের মাঝি অনেক বড় বড় লোকের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখলাম তার (কাদের) সঙ্গে অজস্র কথোপকথন আছে। উনি তাকে বাবা সোনা ডাকেন এবং তার ছেলের চেয়েও তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।’

মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি উনাকে (মুসা বিন শমসের) বললাম, আপনার সুইস ব্যাংকে ৮২ বিলিয়ন টাকা; এর কাগজ কাদেরের ওখানে থাকে কেন? উনি (মুসা বিন শমসের) বলেন, তার নাকি ৮২ বিলিয়ন ডলার আছে। তার একটি কলমের দাম ১০ কোটি টাকা। ঘড়ির দাম ৮ কোটি টাকা। জুতার দাম ১০ কোটি। তিনি টাঙ্গাইলে তিন লাখ একর জমির মালিক। গাজীপুরে এক হাজার একর জমির মালিক। উনি আমাদের সামনে বললেন। তিনি আমাদের বলেন, তিনি যদি ৮২ বিলিয়ন ডলার সুইস ব্যাংক থেকে পান, উনি আমাদের পুলিশকে দেবেন ৫০০ কোটি টাকা, দুদকের বিল্ডিং করতে দেবেন ২০০ কোটি টাকা। পাবনার মেন্টাল হাসপাতালে দেবেন ৫০০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করে দেবেন উনি। আমাদের সামনে এগুলো বলেছেন। আসলে উনি কী টাইপের মানুষ। কী রহস্যের মানুষ আমরা বুঝিনি। তবে উনি দায় এড়াতে পারেন না। উনার সঙ্গে ভুয়া অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি কাদের মাঝির যে সম্পর্ক, এ সম্পর্কের দায় উনি এড়াতে পারবেন না। কারণ উনার সঙ্গে কাদেরের একটি হৃদ্য সম্পর্ক ছিল। যে সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে কাদের মাঝি বিভিন্ন মানুষকে ঠকিয়েছেন।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কাদের মাঝি যে বলেছে তার সঙ্গে আইজির সম্পর্ক আছে, অনেক বড় বড় মানুষের সম্পর্ক আছে, উনার (মুসা বিন শমসের) উচিত ছিল আমাদের ইন্সপেক্টর জেনারেল পুলিশকে জিজ্ঞেস করা বা অন্যান্য যে ভিআইপিদের নাম বলেছে, তাদের জিজ্ঞেস করা। উনি এটি জিজ্ঞেস করেননি। অতএব, আমি মনে করি কাদের মাঝির সঙ্গে তার একটি যোগসূত্র রয়েছে এবং উনি নিজে বলেছেন উনি প্রতারিত হয়েছেন। উনি একটি মামলা করবেন। আমরা সবকিছু তদন্ত করছি। তদন্ত করে যেটা করা দরকার, সেটাই করব। আর উনি যদি মামলা করেন সেটিও আমরা তদন্ত করব।’

মুসা বিন শমসের দাবি করেছেন উনি অনেক সম্পদের মালিক, আপনাদের কাছে কী মনে হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে উনি অন্তঃসারশূন্য। উনাকে একটি ভুয়া লোক মনে হয়েছে। তার কিচ্ছু নাই। গুলশানে ৮৪ নম্বর রোডে তার স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি রয়েছে। বাংলাদেশে তার নামে আমরা কিছু পাইনি। উনি বলেছেন, এ দেশে যা উন্নয়ন হয়েছে, সবটাই উনি করেছেন। উনি খামখেয়ালির বশে যে কথা বলেছেন, সেটি কাদের মাঝি সবখানে বিক্রি করেছে।’

এর আগে, অসংখ্য ভুক্তভোগীর কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানী থেকে তিন সহযোগীসহ আবদুল কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন আবদুল কাদেরের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, অফিস ব্যবস্থাপক শহিদুল আলম ও আনিসুর রহমান। ২০১৫ সালেও প্রতারণার অভিযোগে কাদেরকে আটক করেছিল র‌্যাব। জামিনে বেরিয়ে ফের প্রতারণায় নেমে পড়েন কাদের। কাদেরের চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ গতকাল শেষ হয়। জিজ্ঞাসাবদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

ডিবি সূত্র জানায়, আবদুল কাদের চৌধুরীর চাকচিক্য সবই ভুয়া। তার দুটি কার্যালয় থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত কয়েক বস্তা কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লায়েন্ট ম্যানেজে তার হাতিয়ার ছিল উঠতি তরুণী। এমন ৮-১০ মডেল ও অসংখ্য তরুণীর সঙ্গে কাদেরের সখ্যতার তথ্য পাওয়া গেছে। স্বার্থ হাসিলে এ তরুণীদের বিদেশি ‘ক্লায়েন্টদের’ কাছেও পাঠাত সে। প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থে আবদুল কাদের কিনত জমি, ফ্ল্যাট। ৫ থেকে ৬ লাখ টাকায় জমির দলিলের কপি বাগিয়ে নিত। পরে জমির মালিককে টাকা পরিশোধ না করলেও দলিল দেখিয়ে অন্যদের থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিত। এখন পর্যন্ত তার তিন স্ত্রীর সন্ধান পেয়েছে ডিবি।

তদন্ত সূত্র জানায়, ক্যাসিনোকাণ্ডে কারাগারে থাকা বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জিকে শামীমের জামিন করানোর জন্যও তার ঘনিষ্ঠ এক লোকের সঙ্গে চুক্তি করে আবদুল কাদের। এ ছাড়া জন্মের সাল ও নামে কিছুটা পরিবর্তন এনে দুটি পাসপোর্ট করেছে সে। গ্রেপ্তারের পর কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে অনেক ভুক্তভোগী ডিবি কার্যালয়ে হাজির হচ্ছেন। একটি গোয়েন্দা সংস্থাও কাদেরের প্রতারণার পুরো বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। কাদেরের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ১২টি। সূত্র: আমাদের সময়