দুবাই এক্সপোয় ৬৫ কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তি উগান্ডার

৬৫ কোটি ডলারের বেশকিছু নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের কথা জানিয়েছে উগান্ডা। এক্সপো ২০২০ দুবাইয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশটি। চুক্তিগুলোর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন, কৃষি, খনিজ প্রক্রিয়াকরণ ও মেডিকেল কিট তৈরির মতো ক্ষেত্রগুলোয় বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

উগান্ডা ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির (ইউআইএ) মহাপরিচালক রবার্ট মুকিজা বলেন, মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য ৪০০ কোটি ডলার নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রত্যাশা করছে উগান্ডা। আমরা অংশীদারদের সামনে বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ প্রকল্প উপস্থাপন করেছি।

দেশটি অর্থনীতির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৭৯টি প্রকল্প প্রচার করছে, যেগুলো বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। এ প্রকল্পগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, জয়েন্ট ভেঞ্চার ও বেসরকারি কিংবা সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন হতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি গ্রিনফিল্ড, ব্রাউনফিল্ড ও সম্প্রসারণ প্রকল্প রয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি কানেক্টের সঙ্গে একটি চিঠি স্বাক্ষর করেছে ইউআইএ। এ চুক্তির আওতায় কানেক্ট দেশটিতে ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। সংস্থাটি উগান্ডায় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগ, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং জ্বালানি সঞ্চয়ে কাজ করবে।

চীনের গুয়াংজুর ওয়ান্ডফো বায়োটেক উগান্ডার একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানায় ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে এইচআইভি/এইডস, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মার ডায়াগনস্টিক কিট তৈরি এবং অন্যান্য পয়েন্ট অব কেয়ার ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি বিকাশে কাজ করা হবে।

ইউআইএ দুবাইভিত্তিক শিল্প, উৎপাদন, শিপিং ও পণ্য বাণিজ্য সংস্থা ওয়ার্ল্ডেরা করপোরেশনের সঙ্গেও একত্র হয়েছে। সংস্থাটি উগান্ডার খনিজ প্রক্রিয়াকরণ, কৃষি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

ইউআইএ জানিয়েছে, তারা থাইল্যান্ডে বহুজাতিক ব্যবসায়িক সংগঠন মডার্ন গ্রুপের সঙ্গেও একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। সংস্থাটি উগান্ডার শিল্প উৎপাদন, কৃষি ও খনিতে ৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এক্সপো এলাকায় উগান্ডার প্যাভিলিয়নটি ‘সুযোগ’ অংশে রয়েছে। দেশকে বাণিজ্য, পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে প্রচারের উদ্দেশ্যে এমন জায়গায় দেশটির প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে।

বৈশ্বিক এয়ারলাইনস খাতের লোকসান ২০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াবে

কভিড-১৯ মহামারীর শুরুতেই বন্ধ করে দেয়া হয় আন্তর্জাতিক সীমান্ত। বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে। চাহিদা তলানিতে নামায় কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার কার্যক্রম। লোকসান কমাতে কর্মী ছাঁটাই, বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো এবং সরকারি সহায়তারও দারস্থ হয় সংস্থাগুলো। তবুও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে লোকসানের বোঝা। আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) মতে, ২০২০-২২ সাল পর্যন্ত এয়ারলাইনস শিল্পের লোকসান ২০ হাজার ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কভিড-১৯ টিকাদান বিস্তৃতির মাধ্যমে বর্তমানে শিথিল করা হচ্ছে বিধিনিষেধ। এতে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে উড়োজাহাজ পরিবহন খাত। চাহিদার সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে ফ্লাইট সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে ২০২২ সালেও কিছুটা লোকসানের মুখোমুখি হবে পুরো খাত।

এয়ারলাইনস শিল্পের আর্থিক কর্মক্ষমতার সর্বশেষ প্রতিবেদনে আইএটিএ বলেছে, ২০২২ সালে এয়ারলাইনস খাতের নিট লোকসান দাঁড়াবে ১ হাজার ১৬০ কোটি ডলারে। আর চলতি বছরে সংস্থাগুলোর লোকসান হবে ৫ হাজার ১৮০ কোটি ডলার। কভিড-১৯ সংকট দীর্ঘায়িত হলেও উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের পুনরুদ্ধার নিয়ে আশাবাদী আইএটিএ।

২০২১ সালে এয়ারলাইনস খাতের চাহিদা ২০১৯ সালের স্তরের ৭ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরের বছর ২০২২ সালে এ চাহিদা ২০১৯ সালের স্তরের ১৩ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হবে। আইএটিএ জানিয়েছে, এ সময় এয়ার কার্গো ভালো ব্যবসা করছে এবং অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ২০২২ সালে প্রাক-কভিড স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

এদিকে আইএটিএ সতর্ক করেছে, বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজ চলাচল পরিষেবা প্রদানকারীর (এএনএসপি) চার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা উড়োজাহাজ চলাচলের পুনরুদ্ধার বন্ধ করে দেবে এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এরই মধ্যে নিশ্চিত হওয়া বিমানবন্দর ও এএনএসপি চার্জ বৃদ্ধি ২৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বিমানবন্দর ও এএনএসপির প্রস্তাবিত দাবিগুলো মঞ্জুর করা হলে এ অংক আরো দশগুণ বাড়তে পারে।

আইএটিএ মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেন, এমন সংকটের সময়ে ১৩০ কোটি ডলার চার্জ বেড়ে যাওয়া নিষ্ঠুরতা ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা সবাই কভিড-১৯ মহামারীর প্রভাবকে পেছনে ফেলতে চাই। কিন্তু এভাবে গ্রাহকের ওপর আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেয়ার বাণিজ্যিক কৌশল কখনই ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। চার্জ না বাড়িয়ে বরং প্রতিটি বিমানবন্দর ও এএনএসপির এজেন্ডার শীর্ষে থাকতে হবে ব্যয় কমানো। তিনি বলেন, মহামারীর আগে স্থিতিশীল আয় থেকে সরকারি কিংবা বেসরকারি অবকাঠামো শেয়ারহোল্ডাররা উপকৃত হয়েছেন। এখন এয়ারলাইনস খাতের পুনরুদ্ধারে তাদের মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভালো সময়ে আপনার গ্রাহকদের কাছে থেকে উপকৃত হওয়া এবং খারাপ সময়ে তাদের পাশে না দাঁড়ানো অগ্রহণযোগ্য আচরণ।

গতকাল শেষ হওয়া আইএটিএর ৭৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বৈশ্বিক উড়োজাহাজ পরিবহন শিল্পকে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামানোর জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এ প্রতিশ্রুতি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সীমাবদ্ধ করতে নেয়া প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ওয়ালস বলেন, বিশ্বের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর ফ্লাইট টেকসই কিনা তা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মহামারী-পরবর্তী ফ্লাইট পুনরুদ্ধার নিঃসরণ শূন্যে নামানোর একটি পরিবেশবান্ধব পথে থাকবে। সমগ্র ভ্যালু চেইন ও সহায়ক সরকারি নীতির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এভিয়েশন খাত ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য নিঃসরণ অর্জন করবে।

মেড ইন বাংলাদেশ লিখতে মূল্য সংযোজন হতে হবে ৫০%

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় জাতিসংঘের সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রস্তুতিকাল হিসেবে পাঁচ বছর সময় পাওয়া গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ কার্যকর হবে। তবে উত্তরণের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য বেশকিছু সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা থাকছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো পণ্যে মেড ইন বাংলাদেশ লেখার জন্য অর্থাৎ পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধা পেতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হতে হবে। বর্তমানে মূল্য সংযোজন ৩০ শতাংশ হলেই এ সুবিধা পাওয়া যায়। সুতরাং এ সময়ের মধ্যে মূল্য সংযোজন বাড়াতে না পারলে দেশের শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গঠিত ইন্টারন্যাল রিসোর্স মোবিলাইজেশন অ্যান্ড ট্যারিফ রেশনালাইজেশন সংক্রান্ত উপকমিটির সভাপতি ও অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে সম্প্রতি এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এ চ্যালেঞ্জের বিষয়টি আলোচিত হয়। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চামড়া ও জাহাজ শিল্পসহ স্থানীয় মূল্য সংযোজন বেশি এমন অন্যান্য শিল্পের দিকে বিশেষ নজর দেয়ার সুপারিশও এসেছে। বৈঠকের কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কাঁচামাল আমদানি করে কোনো পণ্য উত্পাদনের পর তা রফতানি করা হলে কাঁচামাল আমদানি থেকে রফতানি মূল্য বাদ দিলে যা থাকে তা-ই স্থানীয় মূল্য সংযোজন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মাধ্যমে শুধু এলডিসির দেশগুলো ২৬ ধরনের সুবিধা পায়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্থানীয় মূল্য সংযোজন কমপক্ষে ৩০ শতাংশ হলেই পণ্য রফতানি বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণ হয়ে গেলে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী পণ্য রফতানি বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কমপক্ষে স্থানীয় মূল্য সংযোজন ৫০ শতাংশ হতে হবে।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে রুলস অব অরিজিনের শর্ত অনুসারে এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে ২০২৬ সালের পর থেকে মেড ইন বাংলাদেশ লেখার জন্য স্থানীয় মূল্য সংযোজন কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হতে হবে। তাই স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়াতে না পারলে স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়। তবে বৈঠকের আলোচনায় চামড়া ও জাহাজ শিল্পে শতভাগ স্থানীয় মূল্য সংযোজন করা সম্ভবের কথাও উঠে আসে। তাই এসব শিল্পসহ যেসব দেশীয় শিল্পে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বেশি করা সম্ভব, সেসব শিল্পের দিকে বিশেষভাবে নজর দেয়ার সুপারিশ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বণিক বার্তাকে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ হয়ে গেলে সব দেশের জন্যই শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে হলে স্থানীয় মূল্য সংযোজন কমপক্ষে ৫০ শতাংশ হতে হয়। উত্তরণের পর এ ধরনের যতগুলো চ্যালেঞ্জ আসার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো মোকাবেলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারের অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে। আমরা এখন সার্বিক বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছি। এ পরিকল্পনার আওতায় এখন থেকে কোন কোন জায়গায় সুযোগ ও সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করছি। সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত হয়ে গেলে সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি, পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও তদারকির (মনিটরিং) জন্য এরই মধ্যে কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসকে সভাপতি করে গত ২৬ এপ্রিল সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের নিয়ে ২২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে টেকসই উত্তরণের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে তা পর্যালোচনা করবে। কমিটির অধীনে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে খাত ও বিষয়ভিত্তিক ছয়টি উপকমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ইন্টারনাল রিসোর্স মোবিলাইজেশন অ্যান্ড ট্যারিফ রেশনালাইজেশন সংক্রান্ত উপকমিটি।

এ কমিটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে শুল্ক, করসংক্রান্ত যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো সমাধানে কাজ করছে। এজন্য আমদানি শুল্ক বা অন্যান্য যে ট্যাক্স আরোপ রয়েছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তনেও কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিদ্যমান ট্যাক্স আইন ও বিধি ডব্লিউটিওর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা এ উপকমিটির অন্যতম প্রধান কাজ।

উপকমিটির সদস্য বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বৈঠকে বলেন, ২০২৬ সালের পর এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে দেশের রফতানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার উত্তরণের পর শুল্কহার যৌক্তিকীকরণের কারণে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করার বিষয়টি চিন্তায় রাখতে হবে। আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ও প্রত্যক্ষ করজাল বাড়াতে হবে। রফতানিমুখী সব শিল্পে জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য রফতানিমুখী শিল্পকেও বিশেষ বন্ডেড ওয়্যারহাউজিং সুবিধা দিতে হবে। তাছাড়া আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

এদিকে বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা ও বাণিজ্য চুক্তিসংক্রান্ত একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণ ও ট্রানজিশন পিরিয়ড বাড়িয়ে ১২ বছর করার যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল নির্ধারণমূলক কাজ করছে এ উপকমিটি। উত্তরণের পরও যেন অন্যান্য এলডিসি দেশের মতো বাংলাদেশও ১২ বছর ডব্লিউটিওর ২৬ ধরনের সুবিধা পায় তা বহাল রাখতে আবেদন জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে ২০২৯ সালের পরে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার জন্যও কাজ চলছে। বর্তমানে যেসব দেশে শুল্কমুক্ত, কোটামুক্ত সুবিধা রয়েছে, এসব সুবিধা আগামীতে অব্যাহত রাখতে কাজ করছে এ উপকমিটি। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) করাসহ সাত ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ শুরু করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় দেশে ভারী শিল্পের বিকাশে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছর মেয়াদে কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এবারের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, দেশে মেগা শিল্পের বিকাশ ও আমদানি বিকল্প শিল্পোত্পাদনকে ত্বরান্বিত করার স্বার্থে মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে অটোমোবাইল-থ্রি হুইলার ও ফোর হুইলার উত্পাদনকারী কোম্পানিকে শর্তসাপেক্ষে ১০ বছর মেয়াদে কর অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া আলাদা কিছু শর্ত সাপেক্ষে আরা ১০ বছর কর অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মোটরগাড়ি উত্পাদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরো পাঁচ বছরের জন্য বাড়ানো হয়। পাশাপাশি গৃহস্থালি পণ্য ও হালকা প্রকৌশল শিল্পের পণ্য উত্পাদনকারী কোম্পানিকেও শর্তসাপেক্ষে ১০ বছর মেয়াদি কর অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া কিছু আইটি হার্ডওয়্যার বাংলাদেশে উত্পাদন করলে শর্ত সাপেক্ষে ১০ বছরের কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

রাশিয়া সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বড় ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের আশায় রাশিয়া সফরে গিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আব্দুলাহিয়ান। আজ বুধবার তিনি মস্কো পৌঁছান। সফরে তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাথে বৈঠক করবেন। সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, রাশিয়ার আমন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট রাইসির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়ে গেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মস্কো পৌঁছে আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, রাশিয়া ও চীনের উপর ইরান নির্ভরশীল তা নয়। তবে কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে দুদেশের সহযোগিতার দরকার রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রেস টিভির খবরে বলা হয়, দু’পক্ষের আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, মাদক পাচার রোধ এবং আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। বলা হচ্ছে, উত্তেজনাপূর্ণ আফগানিস্তানসহ ককেশাস অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হচ্ছে।

কিছুদিন আগে আজারবাইজান সীমান্তে ইরানের সেনাবাহিনী ও রেভ্যুলুশনারি গার্ড ব্যাপক সামরিক মহড়া দুদেশের মধে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। তার আগে গতবছর আর্মেনিয়া নিয়ে ৪৪ দিনের যুদ্ধে জড়ায় আজারবাইজান। ১৫ আগস্ট তালেবানরা কাবুল দখলের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও নানা ধরণের উদ্বেগ ছড়ায়।

প্রিয়াঙ্কা গ্রেপ্তার

সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের পুলিশ। রাজ্যের লখিমপুর খেরি জেলায় চার কৃষকসহ কমপক্ষে আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে রবিবার রাত থেকে আটক ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত গতকাল মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সরকারি নিয়ম ভাঙার অভিযোগে গতকাল মামলা করা হয়েছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে। প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতা দীপেন্দ্র হুদা, অজয় কুমার লাল্লুসহ মোট ১১ জনকে আসামি করেছে রাজ্যের হরগাঁও থানার পুলিশ।

এদিকে দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। এতে দাবি করা হয়, তাঁকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হচ্ছে না। কোন ধারায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাও জানাচ্ছে না পুলিশ। এমনকি আইনজীবীর সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত রবিবার। উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রকাশ মোর্য ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় কুমার মিশ্র ওই দিন উত্তর প্রদেশের একটি গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে লখিমপুর খেরিতে কৃষক বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। বহরের সঙ্গে থাকা অজয় মিশ্রের ছেলে গাড়িচাপা দিয়ে চার কৃষককে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত নভেম্বর থেকে দিল্লির আশপাশে অবস্থান নিয়ে রয়েছেন সারা দেশের কৃষক। ওই বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কৃষকরা ওই জায়গায় জমায়েত হয়েছিলেন। রবিবারের ঘটনার জেরে এক সাংবাদিক ও চার কৃষকসহ কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন।

প্রিয়াঙ্কা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন ওই দিনই। ওই দিন রাত থেকে রাজ্যের সীতাপুরে একটি গেস্ট হাউসে গতকাল সারা দিন তাঁকে আটক রাখে পুলিশ। হরগাঁও থানার পুলিশ জানিয়েছে, শিগগিরই আসামিদের আদালতে তোলা হবে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ভারতের রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী প্রধান বিচারপতি এন ভি রমানার কাছে চিঠি লিখেছেন। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে চিঠিতে। এ ছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাজ্য পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা ভুপেশ বাঘেলকে উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের বিমানবন্দরে গতকাল প্রায় অর্ধদিন আটকে রাখে রাজ্যপুলিশ। প্রিয়াঙ্কার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও বিক্ষোভে যোগ দিতে লখনউয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উত্তর প্রদেশে ঢুকতে না পেরে ছত্তিশগড়ে ফিরে গেছেন তিনি।

তবে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির নেতা ও রাজ্যর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবসহ অন্যান্য দলের প্রতিনিধিদের ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সুস্মিতা দেব কৃষক পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন।

এদিকে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সরকারের নীরবতা নিয়ে লাগাতার প্রশ্ন তুলছে বিজেপিবিরোধী দলগুলো। কংগ্রেসের মুখপাত্র রনদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ ট্র্যাজেডির জেনারেল ডায়ার’।

এদিকে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রউত গতকাল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের বিরুদ্ধে সব বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপিবিরোধী আঞ্চলিক দল, বামপন্থী দলগুলো এবং বিজেপিবিরোধী সব সংগঠন গতকাল সারা দেশেই প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। অভিযুক্ত মন্ত্রীর পদত্যাগ, তাঁর ছেলের গ্রেপ্তার ও ঘটনাস্থলে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, দ্য হিন্দু।

 

তাইওয়ান চুক্তি মেনে নিতে সম্মত চীন-যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ানের চুক্তি মেনে নিতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একমত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাইওয়ান এবং বেইজিংয়ের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা এসেছে। এর ফলে তাইওয়ানের সাথে অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক রাখতে পারবে ওয়াশিংটন।

সম্প্রতি তাইওয়ানের আকাশে চীনের রেকর্ড সংখ্যক সামরিক বিমান অনুপ্রবেশ করেছে। এতে তীব্র উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর তাদের মধ্যে এই আলোচনার কথা সামনে এসেছে। ৪০ বছরের মধ্যে চীনের সঙ্গে খুব খারাপ সম্পর্ক যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন তাইওয়ানের কর্মকর্তারা।

তাইওয়ানের ওপর চীনের উসকানিমূলক আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাইডেন বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাইওয়ান চুক্তির সঙ্গে আমরা একমত। আমার বিশ্বাস তিনি চুক্তির বাইরে কিছুই করবেন না।

সোমবারের ওই মহড়ার ফলে চলতি মাসে টানা চতুর্থ দিনের মতো চীনা যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। এই সময়ে প্রায় ১৫০টি যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। আর এতে দু’দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা শুরু হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ড। কিন্তু বরাবরের মত তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে আসছে।তাইওয়ানের অভিযোগ, গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে অসংখ্য চীনা যুদ্ধবিমান।

 

বিশ্বের দুর্বল পাসপোর্টের তালিকায় বাংলাদেশ নবম

বিশ্বের শক্তিশালী ১১৬ পাসপোর্টের তালিকায় ১০৮তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। তালিকায় ১১৩তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। ভারত আছে ৯০তম স্থানে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বে পাসপোর্টের মান নির্ধারণকারী সূচক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স-২০২১ প্রকাশিত হয়। কোন দেশের পাসপোর্টে কতটি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণ করা যায়— এর ওপর ভিত্তি করে এ সূচকটিতে বাংলাদেশের অবস্থান উঠে এসেছে।

প্রকাশিত সূচকে বলা হয়, ভিসা ছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিশ্বের ২২৭টি দেশের ভেতর কেবল ৪০টি দেশ ভ্রমণ করা সম্ভব। এরমধ্যে আফ্রিকার ১৫টি দেশ, ওশেনিয়ার (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যতীত) ৫টি দেশ, এশিয়া মহাদেশের ৬টি দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশে যাওয়া যায়। তবে ইউরোপের কোনো দেশেই আগে থেকে ভিসা না করে যেতে পারবে না বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা।

অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার ভেতর সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপ। ৬৬তম শক্তিশালী অবস্থানে থাকা দেশটি ভিসা ছাড়াই ৮৭টি দেশ ভ্রমণের সুবিধা পায়। এরপর রয়েছে যথাক্রমে প্রতিবেশী দেশ ভারত ৯০ তম, ভুটান ৯৬ তম, শ্রীলংকা ১০৭তম। এছাড়া নেপাল ও পাকিস্তানও ১১০ ও ১১৩ তম স্থানে অবস্থান করছে।

শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার দুইদেশ জাপান ও সিঙ্গাপুর। এ দুই দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই যেতে পারবেন বিশ্বের ১৯২টি দেশে। জার্মানির সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এশিয়ার আরেক দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। দেশ দুটির পাসপোর্টধারীরা ১৯০টি দেশে বিনা ভিসায় যাতায়াত করতে পারে। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ আফগানিস্তান।

সূত্র: সিএনএন।

শিশুদের সামনে কী করবেন, কী করবেন না

এ ক্ষেত্রে ভারতের লাইফস্টাইল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম বোল্ডস্কাই অবলম্বনে জেনে নিন শিশুদের সামনে আপনার কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়-

ফোন ও টিভি কম ব্যবহার করুন

বাসায় ফোন ও টিভি কম ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। যদি সন্তান আপনাকে সারাদিন টিভি বা ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখে, তাহলে সেও আপনার মতোই একইভাবে সময় কাটাতে চাইবে। তাই যতটা সম্ভব টিভি ও ফোনের পিছনে কম সময় ব্যয় করুন।

কাউকে অপমান করবেন না

জীবনে চলার পথে যে কারও সঙ্গে আপনার মতপার্থক্য থাকতেই পারে বা আপনি কাউকে অপছন্দ করতেই পারেন।  আপনি যদি আপনার সন্তানের সামনে প্রতিবেশী, বন্ধু বা পরিবারের কোনো সদস্যকে অপমান করেন, তাহলে তা তার উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাদের সামনে আপনার ক্ষোভ প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন। মোথায় রাখবেন, আপনি এ রকম করলে আপনার সন্তানও সেই ব্যক্তিকে যে কোনো সময় অপমান করতে পারে। কেননা আপনি যা করবেন, তারাও সেটাই শিখবে।

খাবার নষ্ট করবেন না

আপনার সন্তানকে খাওয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করুন। জীবনে খাওয়ার গুরুত্ব কতটা তা তাদের বোঝান। আপনি নিজেও খাদ্য অপচয় করবেন না। তাদের এটা বলুন যে, খাবার নষ্ট করা খুব খারাপ অভ্যাস।

ভদ্রতা বজায় রাখুন

সন্তান আশেপাশে থাকলে স্বামী-স্ত্রী ভদ্রতা বজায় রাখুন। সন্তানের সামনে এমন কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকুন, যা তাদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। সর্বদা শৃঙ্খলা বজায় রাখুন এবং ভালো আচরণ করুন। তাহলে ছোটবেলা থেকে শিশুরা সেভাবেই শিক্ষা নিয়ে বড় হবে।

কখনো চিৎকার করবেন না

খুব বিরক্ত হলে বা রেগে গেলেও সন্তানের সামনে কখনোই চিৎকার করবেন না। বরং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। আপনি যদি আপনার সন্তানের সামনে এমনটা করেন, তবে তার মনে হতে পারে যে এটি করা ঠিক।।

গায়ের রং বা শরীর নিয়ে খারাপ মন্তব্য করবেন না

কখনোই কারও গায়ের রং বা শরীর নিয়ে খারাপ মন্তব্য করবেন না। আপনি যদি এমন আচরণ করেন, তবে আপনার সন্তানও এই পথ অনুসরণ করবে।

জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে বিসিবি নির্বাচন বেশি কঠিন লাগে দুর্জয়ের

নাইমুর রহমান দুর্জয়, একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক। ক্রিকেট ছাড়ার পর রাজনীতি ও ক্রিকেট উন্নয়নে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিসিবিতে বেশ সফলতার সঙ্গেও কাজ করে গেছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। এবার বিসিবির আরও একটি নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি।

ক্যাটাগরি-১ এর ঢাকা বিভাগের প্রার্থী হওয়ায় দুর্জয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন চারজন। সেখানে ১৭ কাউন্সিলরের ভোটে পরিচালক হবেন দুজন। যেহেতু ঢাকা বিভাগ সেহেতু চাপ তো থাকছেই। দুই ধরনের নির্বাচনে অভ্যস্ত দুর্জয়ের কাছে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে বিসিবি নির্বাচনটা কিছুটা কঠিনই লাগে।

চার হেভিয়েট প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচন।-ফলে কোন টেনশন কাজ করে কি, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় তো কিছু টেনশন কাজ করেই। ইলেকশন করলে আসলে রেজাল্ট না আসা পর্যন্ত তো কিছুটা টেনশন কাজ করেই।’

 

রাজনীতির মাঠে যেহেতু আছেন, মূলধারার রাজনীতি করেন, বিসিবিতেও নির্বাচন করেছেন, নির্বাচনে দুটা আভিজ্ঞতা আছে, আপনার কাছে কোনটা বেশি শক্ত বলে মনে হয় এমন প্রশ্নে দুর্জয় বলেন, ‘আসলে আমার কাছে যা মনে হয় যত কম ভোটের নির্বাচন তত বেশি শক্তি। কারণ আমি যেটা ফিল করি যে, আমি দুটা ইলেকশন করি একটা প্রায় চার লাখ ভোটের, আরেকটা ১৭ ভোটের। আমার মনে হয় যে এটা (১৭ ভোটের) একটু টাফ।’

‘দুটাই মানুষের রিয়েকশন, বা নিজে কি কাজ করলাম, মানুষের জন্য কতটা করলাম, সেটার ফলাফল জানতে চাইলে আসলে নিজের মূল্যায়নের জন্যই ইলেকশন করা’, যোগ করেন সাবেক এই ক্রিকেটার।

একসময় জাতীয় দলের নিয়মতি খেলোয়াড় ছিলেন। খেলার আগের দিন আর নির্বাচনের আগের দিনের নার্ভের অবস্থা কেমন থাকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক্সাইটমেন্ট তো কাজ করেই। আর ভোট আসলে এমন একটা জিনিস যে মানুষ লাস্ট মোমেন্ট পর্যন্ত চিন্তা করে, আর খেলার মাঠের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। সেখানে আগে থেকে প্রিপারেশনের একটা ব্যাপার থাকে, প্রি প্ল্যান থাকে, খেলা নিয়ে মোটামুটি একটা ধারণা থাকে। তবে নির্বাচনে আপনার ধারণার উপর কিছু নির্ভর করে না। এটা নির্ভর করছে ভোটাররা কি ভাবছে, তারা কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চিন্তাভাবনা করে। বুথের ভেতরে গিয়েও অনেক সময় সিদ্ধান্ত বদলায়। একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে তো থাকতেই হয়।’

আমির খানের জন্য সামান্থা-নাগার ডিভোর্স?

সম্প্রতি দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনেছেন ভারতে দক্ষিণী চলচ্চিত্রের তারকা নাগা চৈতন্য ও সামান্থা প্রভু। এই বিচ্ছেদকে ঘিরে নেট দুনিয়ায় বইছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। সেই ঝড়ে ঘি ঢাললেন কুইন খ্যাত কঙ্গনা রানাউত। এই বিচ্ছেদের জন্য বলিউড সুপারস্টার আমির খানকেই দুষলেন তিনি।

চার বছর আগে ধুমধাম করে অভিনেত্রী সামান্থার সঙ্গে ছেলের বিয়ের দিয়েছিলেন নাগার্জুন। কিন্তু চতুর্থ বিবাহবার্ষিকীর ঠিক পাঁচ দিন আগে গত ২ অক্টোবর সামান্থা ও নাগা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়ে দেন, তারা সম্পর্কে ইতি টানছেন। দম্পতির এমন সিদ্ধান্তে রীতিমতো তাজ্জব তাদের অনুরাগীরা।

দিও বেশ কয়েক মাস ধরে শোনা যাচ্ছিল, তাদের সম্পর্কে চিড় ধরেছে। তবে তা যে এত দ্রুত ডিভোর্সের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে, এমনটা অনেকেই যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। এই চর্চার মধ্যেই নতুন করে আগুন ধরিয়ে দিলেন বলিউডের ‘বিতর্কের রানী’ কঙ্গনা। তার দাবি, এই বিচ্ছেদের নেপথ্যে আছেন ‘ডিভোর্স বিশেষজ্ঞ’ আমির খান!

সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেছেন কঙ্গনা লেখেন, ‘কোনো সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটলে দোষ দেওয়া হয় পুরুষকেই। কিন্তু বাস্তবেও এটাই সত্যি। অনেক পুরুষই মহিলাদের বদলানোর চেষ্টা করে। সেই সব পুরুষদের শক্ত হাতে আটকানো উচিত। সাধারণত একশোর মধ্যে একটি মেয়ের ক্ষেত্রে ডিভোর্স হয়।’

সম্প্রতি বি-টাউনের মিস্টার পারফেকশনিস্টের সঙ্গে ‘লাল সিং চড্ডা’ ছবির শুটিং করেছেন নাগা চৈতন্য। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনেই কঙ্গনা লেখেন, ‘সামান্থার সঙ্গে হঠাৎ করে চার বছরের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করল নাগা। অথচ বিয়ের বহু বছর আগে থেকেই ওদের সম্পর্ক ছিল। আসলে সম্প্রতি বলিউড সুপারস্টারের সংস্পর্শে এসেছিল নাগা, যে ডিভোর্স বিশেষজ্ঞ হিসেবেই পরিচিত।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্ত্রী কিরণের সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছে আমিরের। আর সেই কারণেই তাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন কঙ্গনা। তার দাবি, বহু নারীরই জীবন নষ্ট করেছেন আমির! এবার নাগাকেও উসকেছেন সামান্থাকে ডিভোর্স দিতে।

এদিকে, স্বামীর থেকে খোরপোষের কোনো অর্থ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সামান্থা। শোনা যাচ্ছে বিচ্ছেদের জন্য খোরপোষ হিসেবে তাকে ২০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সামান্থা তা নিতে রাজি হননি।