ভারতের বৈদেশিক ঋণ ৫৭ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে

মার্চের শেষ নাগাদ ভারতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৫৭ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কভিড-১৯ মহামারী সত্ত্বেও এ ঋণে খুব কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় ভারতের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ। ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যমতে এমনটা জানা যায়। খবর দ্য প্রিন্ট।

গত ৩১ মার্চ শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারতের জিডিপিতে বৈদেশিক ঋণের অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ১ শতাংশে। ২০২০ অর্থবছর শেষে এ অনুপাত ছিল ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ভারতের বৈদেশিক ঋণের অনুপাতে রিজার্ভের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের মার্চের শেষ নাগাদ এর পরিমাণ ছিল ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

এ সময়ে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১০ হাজার ৭২০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এ সময়ে বর্ধিত বৈদেশিক সহায়তা ২০২০-২১ অর্থবছরে বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর কাছ হতে বৃহৎ বিতরণের চিত্র নির্দেশ করে। অন্যদিকে মার্চের শেষ নাগাদ দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় ১ দশমিক ২ শতাংশ। এ সময়ে রাজ্য সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। রাজ্য সরকারের ঋণের ৯৫ শতাংশই এসেছে বাণিজ্যিক ঋণ, প্রবাসী ভারতীয়দের আমানত এবং স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ক্রেডিট থেকে।

এ সময়ে প্রবাসী ভারতীয়দের আমানত ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ১৯০ কোটি ডলার। বাণিজ্যিক ঋণের পরিমাণ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৭০০ কোটি ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক ক্রেডিট ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার।

মার্চের শেষ নাগাদ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার বেড়ে এ ঋণের পরিমাণ রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে।

মার্চের শেষ নাগাদ ভারতীয় বৈদেশিক ঋণের বড় অংশের দখলে ছিল ইউএস ডলার। ঋণের ৫২ দশমিক ১ শতাংশই নেয়া হয়েছে ডলারের ভিত্তিতে। বাকি অংশের মধ্যে ভারতীয় রুপির পরিমাণ ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ, জাপানি ইয়েন ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ইউরো ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

ভারতীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে বৈদেশিক ঋণসংক্রান্ত নীতিমালা বেসরকারি খাতকে বৈদেশিক ঋণ পেতে সাহায্য করেছে। মার্চের শেষ নাগাদ রাজ্য সরকারের ঋণের পরিমাণ কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণের চারগুণ দাঁড়িয়েছে। ১৯৯১ সালের মার্চের শেষ সময়ের তুলনায় বর্তমানে এ হার অনেক বেশি।

ওষুধ প্রস্তুতকারক সিলামকে অধিগ্রহণ করছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা

প্রায় ৫০ কোটি ডলারের চুক্তিতে সিলাম বায়োসায়েন্সকে সম্পূর্ণভাবে অধিগ্রহণ করছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। অ্যালেক্সিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস অধিগ্রহণের পর বিরল রোগের ওষুধের দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাটি।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলাম অধিগ্রহণের মাধ্যমে আরেকটি সম্ভাব্য বিরল রোগের লাভজনক ওষুধের মালিকানা পেতে যাচ্ছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। ওষুধটি শেষ পর্যায়ের ট্রায়ালে রয়েছে এবং মার্কিন নিয়ন্ত্রকের জরুরি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ চুক্তির মাধ্যমে নিউজার্সিভিত্তিক সিলাম অ্যাস্ট্রাজেনেকার অ্যালেক্সিয়ন বিভাগের অংশ হয়ে উঠবে। এ বছরের শুরুতে ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে অ্যালেক্সিয়ন অধিগ্রহণ করেছিল অ্যাস্ট্রাজেনেকা। সিলামের মালিকানাধীন নয়-এমন অংশ কিনতে অ্যালেক্সিয়ন ১৫ কোটি ডলার প্রদান করবে। এছাড়া অর্জিত মাইলফলকগুলোর ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে ৩৫ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ দেয়া হবে। এর আগে ২০১৯ সালে সিলামের কিছু অংশ কিনে নিয়েছিল অ্যালেক্সিয়ন।

সিলাম আল অ্যামাইলইডোসিস নামের একটি বিরল রোগের ওষুধ তৈরির চেষ্টা করছে। প্রাণঘাতী এ রোগ হার্ট ও কিনডিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ রোগ অঙ্গগুলোতে অ্যামাইলয়েড নামক অস্বাভাবিক একটি প্রোটিন তৈরি করে এবং অঙ্গগুলোর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে। সিলিয়ামের ওষুধটি এক ধরনের মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, যা অ্যামাইলয়েড প্রোটিন কমিয়ে দেয় কিংবা অপসারণ করে এবং অঙ্গের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়তা করে।

অ্যালেক্সিয়নের সিইও মার্ক ডুনোয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, অ্যামাইলইডোসিসে আক্রান্ত রোগীরা গড়ে ১৮ মাসেরও কম সময় বেঁচে থাকেন। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে বিধ্বংসী এ রোগের নতুন চিকিৎসার প্রয়োজন।

দেড় বছর পর সীমান্ত খুলে দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

করোনা মহামারীর কারণে কড়া বিধিনিষেধের আওতায় প্রায় দেড় বছর বন্ধ ছিল অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত। এসময়ে নিজ নাগরিকদেরও ফিরতে কিংবা বেরোতে দেয়া হয়নি। অবশেষে নভেম্বর থেকে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এবিষয়ে দেয়া ঘোষণায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, ধীরে ধীরে অস্ট্রেলিয়ায় সবকিছু খুলে দেয়া হবে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হবে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এটাই উপযুক্ত সময় বলেও মন্তব্য করেছেন স্কট মরিসন।

বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত। বিশ্বের সবচেয়ে কড়া বিধিনিষেধ পালনকারী দেশের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া অন্যতম।

আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের টিকাকরণ অন্তত ৮০ শতাংশ হলে নাগরিকরা বাইরে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। কিন্তু এখনই বিদেশিরা অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের সুযোগ পাবেন না। তবে স্কট মরিসন জানান, শিগগিরই বিদেশিদের জন্যেও খুলে যাবে সীমান্ত। এজন্য কাজ চলছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের নাগরিকরা এই সুবিধার আওতায় প্রথম দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। কারণ এই রাজ্যেই টিকাকরণ ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এরআগে দেশটির সরকার ডিসেম্বরের ১৭ তারিখ পর্যন্ত সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সীমান্ত বন্ধের সময় সীমা একমাস এগিয়ে আনা হলো।

অস্ট্রেলিয়া- ইইউ বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সাবমেরিন চুক্তি ইস্যুতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে। এর ফলে দীর্ঘ পরিকল্পনার এই আলোচনা আগামী নভেম্বরের আগে আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আজ শুক্রবার ইইউর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সম্প্রতি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন কিনতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে চুক্তি করেছে অস্ট্রেলিয়া। এর জের ধরে ইইউয়ের শক্তিশালী অংশীদার ফ্রান্সের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। কারণ নতুন চুক্তির আগে ফ্রান্সের সঙ্গে করা চার হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি বাতিল করেছে দেশটি। এতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে ফ্রান্স।

চুক্তি ভঙ্গের পর ফ্রান্স তীব্র প্রতিক্রিয়ায় জানায়, অস্ট্রেলিয়া সরকারকে তারা মোটেও বিশ্বাস করছে না। এমনকি দেশটির কর্মকর্তাদের মিথ্যা বলার অভিযোগও আনা হয়। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েনের সেই প্রভাব ইইউর সঙ্গে আলোচনার ওপরও পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনা স্থগিতের প্রসঙ্গে ইইউর ওই কর্মকর্তা জানান, ‘সাবমেরিন নিয়ে আমাদের সিদ্ধান্তের জেরে ফ্রান্সের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি মাথায় রয়েছে। তবে সব দেশকে শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের স্বার্থেই কাজ করা উচিত। অস্ট্রেলিয়াও এটাই করেছে।’

এদিকে স্থগিত হওয়া এই আলোচনা নিয়ে কথা বলতে আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার ভালদিস দমব্রোভিস্কিসের সঙ্গে দেখা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ড্যান তেহান। তিনি বলেছেন, ফ্রান্স এই বাণিজ্য আলোচনার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে। ফ্রান্স ও ইইউ—দুই পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে কাজ করা হবে।

সূত্র : রয়টার্স।