বণিক বার্তায় প্রকাশিত
মাসে দেড় কোটি ডোজ টিকা উৎপাদন সক্ষমতা তিন প্রতিষ্ঠানের

দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস। আর গুটিকয়েক যে কয়টি প্রতিষ্ঠান দেশেই টিকা উৎপাদন ও সরবরাহ করতে সক্ষম, ইনসেপ্টা সেগুলোর মধ্যেও এগিয়ে। মাসে তিন-চারদিনের উৎপাদন কার্যক্রম দিয়েই চাহিদা পূরণ করতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে তাদের সক্ষমতার ৯০ শতাংশই পড়ে থাকছে অব্যবহূত। অব্যবহূত এ সক্ষমতা কভিড-১৯-এর টিকা উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে করোনার টিকা উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে দেশের আরো দুটি প্রতিষ্ঠানের। ইনসেপ্টা, পপুলার ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস—এ তিন প্রতিষ্ঠান মাসে দেড় কোটি ডোজ কভিডের টিকা উৎপাদনে সক্ষম।

খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে কভিড-পূর্ব পরিস্থিতিতে বছরে টিকার বাজার ছিল ২০০-২৫০ কোটি টাকার। দেশে টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতায় ভিন্নতা রয়েছে। এর একটির প্রক্রিয়া শুরু হয় স্থানীয়ভাবে উৎপাদন পর্যায় থেকে। আর অন্যগুলোর ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভর, যারা ফিলিং ও টেস্টিংয়ের পর টিকা বাজারজাত করতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন করে বাজারজাতের সক্ষমতা রয়েছে শুধু ইনসেপ্টার। পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস টিকা সরবরাহ করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনের ধাপ শুরু হয় ফিলিং থেকে। পরের ধাপে টেস্টিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে তাদের। সর্বশেষ গত বছর টিকা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শেষ করেছে হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

কভিড-১৯ প্রতিরোধে বর্তমানে দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চলছে। ব্রিটিশ কোম্পানির উদ্ভাবিত টিকাটি আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় আমদানি করা হচ্ছে ভারত থেকে। তবে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে বিকল্প উৎস থেকেও টিকা আমদানির চেষ্টা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশেই উৎপাদনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করছে সরকার। এক্ষেত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা আছে বলে জানিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

দেশে চলমান গণটিকাদান কর্মসূচির মধ্যেই টিকার সংকট শুরু হয়। এতে বিকল্প বিভিন্ন উেসর সঙ্গে যোগাযোগ করছে সরকার। দেশে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের জন্য এরই মধ্যে আরো দুটি টিকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেসব দেশ থেকে টিকা কিনে আনার পাশাপাশি নিজ দেশেও উৎপাদনের কথা ভাবছে সরকার।

স্থানীয়ভাবে টিকার পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব কিনা জানতে চাইলে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা সেই চেষ্টা করেছি। সরকারও আমাদের জন্য লিখেছে, আমরাও লিখছি। এখন পর্যন্ত সেটা হয়নি। এখনই দুটি বা তিনটি কোম্পানি তাতে সম্মতি দিলেও সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনে যেতে পারছি না। টিকা উৎপাদন শুরু করতে সময় লাগবে দু-তিন মাস। এরপর টিকা পরীক্ষা করে ছাড় প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম ১৪-১৫ দিন সময় লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০-২১ দিন পর্যন্তও সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন মাস বা চার মাস যদি সময় লাগে, সে পর্যন্ত বসে থাকার কি সময় আছে?

বর্তমানে হেপাটাইটিস-বি, টিটেনাস, অ্যান্টি-রেবিসসহ কয়েকটি টিকা উৎপাদন ও বাজারজাত করছে সক্ষমতা থাকা ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা মাসে দেড় কোটি ডোজ। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতি মাসে ৮০ লাখ ডোজ উপাদন করতে পারবে। হেলথকেয়ার পারবে ৫০ লাখ ডোজ। আর মাসে ২০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করতে পারবে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস।

বর্তমানে উৎপাদন অব্যাহত রাখার পরও প্রতি মাসে ২০ লাখ ডোজ করোনার টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের রয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির উপবিক্রয় ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বিশ্বাস। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে তাতে প্রতি মাসে ২০ লাখ ডোজ উৎপাদন করতে পারব। এর সঙ্গে সরকারের সহযোগিতা পেলে তা ৫০ লাখে নেয়া সম্ভব। এ টিকা উৎপাদনে গেলে চলমান উৎপাদন ব্যাহত হবে না।’ উৎপাদনের পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্নের সক্ষমতা পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি মাসে ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করতে পারবে বলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে জানিয়েছে। ২০২০ সালের শেষ নাগাদ টিকার সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব শুরুর ন্যূনতম দুই বছর আগে টিকা উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। বর্তমানে হেলথকেয়ারের টিটি ও হেপাটাইটিস-বি টিকা বাজারে সরবরাহ হচ্ছে।

হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজের (বাপি) ট্রেজারার মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, টিকার বিষয়টি দেখভাল করছে সরকার। সরকার চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

টিকা উৎপাদনে সক্ষম প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্ণধারদের সঙ্গে আলোচনায় তারা জানিয়েছেন, টিকা নিশ্চিত করতে জোর চেষ্টা করছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে অনুমোদিত টিকার অংশীদার খোঁজ করতে। সেই চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

ঔষধ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ৮ জানুয়ারি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অনুমোদন দেয়া হয়। সেরামের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় গত ২৭ এপ্রিল রাশিয়ার মস্কোর গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি স্পুটনিক-ভি ও ২৯ এপ্রিল চীনের বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রডাক্টের উৎপাদিত সিনোফার্মের টিকাকে জরুরি প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এসব টিকা আমদানির পাশাপাশি সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের বিষয়ে পরিকল্পনা করছে। সরকার স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনে ডেভেলপারদের সহায়তা দিতে অথবা টিকা উদ্ভাবকদের সঙ্গে যৌথ উৎপাদনে যাবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান জানান, দেশে টিকা আমদানি করার পর এর মূল্য কেমন হবে তা সরকার নির্ধারণ করবে। এসব টিকা আমদানি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি হবে। এর মধ্যে কোনো তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণ থাকবে না। আমদানি ছাড়াও স্পুটনিক-ভি ও সিনোফার্মের টিকা দেশে উৎপাদনের জন্য এরই মধ্যে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে অথবা কাঁচামাল নিয়ে এসে বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিতে টিকা উৎপাদন করা যাবে।

বিপদে আদর পুনাওয়ালা

বছরটা শুরু করেছিলেন নায়কোচিত ভাবমূর্তি নিয়ে। শুধু ভারতে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও। তবে বছরের অর্ধেক পেরুনোর আগেই বিপরীত দৃশ্যটাও দেখে ফেলেছেন আদর পুনাওয়ালা। ভারতসহ অনেক স্থানেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সরবরাহ সংকটের জন্য দায়ী করা হচ্ছে তাকে। যদিও পুনাওয়ালার দাবি, এজন্য তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট মোটেও দায়ী নয়। বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ভারত সরকারের নীতিগত ভুলের কারণেই।

বিশ্বের বৃহত্তম টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। চলমান করোনা মহামারী থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ওপর অনেকটাই নির্ভর করেছিল ভারতসহ উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। কয়েকটি দেশের টিকাদান কর্মসূচির ভিত্তিই হয়ে উঠেছিল সেরামের সরবরাহ প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বর্তমানে ভারতের বাইরে কোথাও টিকা সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি ভারতেও প্রয়োজনমাফিক টিকা সরবরাহে ব্যর্থ হচ্ছে সেরাম ইনস্টিটিউট। অন্যদিকে ভারত বর্তমানে হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক করোনা সংক্রমণের ভরকেন্দ্র।

এ অবস্থায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেরাম ইনস্টিটিউটকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে অনেক। সমালোচিত হচ্ছেন আদর পুনাওয়ালাও। সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী পুনাওয়ালা বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। সেখানকার স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি দাবি করেন, টিকার সরবরাহ সংকটের জন্য এখন সেরাম ও তাকে দায়ী করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বলা হচ্ছে, সেরাম এখন টিকার সরবরাহ আটকে রেখেছে। এমনকি তাকে এ নিয়ে রাজনীতিবিদ ও সমালোচকদের কাছ থেকে অনেক কটু কথাও শুনতে হয়েছে।

বর্তমান এ সংকটের পেছনে সেরাম বা তার নিজের কোনো হাত নেই দাবি করে পুনাওয়ালা বলেন, সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা যখন কমে আসছিল, তখনো কর্তৃপক্ষ ভাবতেই পারেনি ভারতে মহামারী প্রাদুর্ভাবের দ্বিতীয় প্রবাহ শুরু হবে। সবাই ভাবছিল ভারত মহামারীর গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই অন্যায় ও ভুল বক্তব্যের শিকার হয়েছি।’

এফটিকে দেয়া ওই সাক্ষাত্কারে পুনাওয়ালার ভাষ্য ছিল, সেরাম ইনস্টিটিউট তার টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায়নি, কারণ ভারত সরকার শুরুতে প্রতিষ্ঠানটিকে টিকা সরবরাহের ক্রয়াদেশও দেয়নি। তিনি বলেন, এ অবস্থায় আমাদেরও মনে হয়নি, আমাদের বছরে ১০০ কোটি ডোজের বেশি টিকা উৎপাদন করতে হবে।

গত ১০ দিন ধরে ভারতে করোনার দৈনিক সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে তিন লাখের বেশি। এর মধ্যে একদিন তা চার লাখও অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে বর্তমানে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের টিকাদান কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায় চালু রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের টিকাদান সম্পন্নের লক্ষ্য রয়েছে নয়াদিল্লির। কিন্তু বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকার জানিয়েছে, স্থানীয়দের দেয়ার মতো পর্যাপ্ত টিকা তাদের হাতে নেই। কোনো কোনো রাজ্যে টিকার অভাবে এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন স্থবির হয়ে পড়েছে।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই ব্রিটিশ আরেকটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাত্কার দেন পুনাওয়ালা। সেখানে তিনি দাবি করেন, টিকা নিয়ে ক্রমাগত হুমকির কারণে নিরাপত্তা শঙ্কায় তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। যদিও গত সপ্তাহ থেকেই পুনাওয়ালাকে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সুবিধা দিচ্ছে ভারত সরকার।

সাক্ষাত্কারে হুমকিগুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলোকে হুমকি বললেও কম বলা হয়। এসব বক্তব্যে যে মাত্রায় প্রত্যাশা ও আগ্রাসন প্রকাশ পেয়েছে, তা সত্যিকার অর্থেই ভাবনার অতীত। সবাই মনে করছে তার টিকা পাওয়া উচিত। কিন্তু কেউ এটা বুঝতে পারছে না, কেন তার আগে অন্য কারো পাওয়া উচিত। তারা বলছে, টিকা না দিলে ভালো হবে না। এমন নয় যে তাদের বলার ভাষাটা খারাপ। খারাপ লাগে তাদের বলার ভঙ্গিমায়। এ থেকেই বোঝা যায়, যদি আমি তাদের দাবিমতো টিকা না দিতে পারি, তাহলে তারা কী করতে পারে।

ওই সময় তিনি আরো বলেন, আমি যুক্তরাজ্যে আরো কিছু সময় থেকে যেতে চাই। কারণ আমি এ পরিস্থিতিতে ফিরতে চাচ্ছি না। সবকিছু এখন আমার ঘাড়ে। কিন্তু আমার পক্ষে তা একা করা সম্ভব না।

তবে এ সাক্ষাত্কার প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরেই বিপরীত বক্তব্য দিয়েছেন পুনাওয়ালা। এক টুইট বার্তায় পুনাওয়ালা জানান, তিনি কিছুদিনের মধ্যেই ভারতে ফিরছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে আমাদের অংশীদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে খুবই চমত্কার একটি বৈঠক হয়েছে। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি পুনেতে এখন পূর্ণ মাত্রায় কোভিশিল্ডের উৎপাদন চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই ফিরে কার্যক্রম তদারকির অপেক্ষায় আছি।

অন্যদিকে এফটিকে দেয়া সাক্ষাত্কারে পুনাওয়ালা বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নয়, তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন সাধারণ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে। এবং আগামী সপ্তাহেই তিনি ভারতে ফিরছেন।

ব্যবসায়িক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টিকা সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশে সেরামের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মার্চে টিকা রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর ভাষ্যমতে, বেশ কয়েকটি ধনী দেশের নেতারা উৎপাদনকারীদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি টিকা সরবরাহের ক্রয়াদেশ দিয়েছিলেন। ফলে টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি হয়েছে উল্টো। নরেন্দ্র মোদির সরকার টিকা সরবরাহের ক্রয়াদেশ বাড়িয়েছে খুবই ধীরগতিতে এবং প্রথম ক্রয়াদেশ দিয়েছে টিকার অনুমোদন দেয়ার পর। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের টিকাদান কর্মসূচির গতি বাড়াতে গিয়ে এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যাতে ভুগতে হচ্ছে অন্যদেরও। উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পৃষ্ঠপোষকতায় কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটিও এখন এ নিয়ে বিপাকে। এ ফ্যাসিলিটিও টিকার জন্য সেরামের ওপরই নির্ভর করেছিল। কিন্তু এখানেও টিকা সরবরাহ বন্ধ রেখেছে সেরাম। ফলে বিপদে পড়েছে কোভ্যাক্সের ওপর নির্ভর করা স্বল্প আয়ের দেশগুলো। অন্যদিকে যেসব দেশ টিকার জন্য আগাম অর্থ পরিশোধ করে রেখেছিল, টিকা পাচ্ছে না তারাও।

পুনাওয়ালার দাবি, যেসব দেশের সরকার আগাম ক্রয়াদেশ দিয়েছিল, তাদের অর্থ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। তবে কোন কোন দেশকে ক্রয়াদেশের অর্থ ফেরত দেয়া হচ্ছে, সেসব দেশের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

তিনি বলেন, যদি কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন না আসে তাহলে আমি মনে করি আরো দুই-তিন মাস আমাদের কিছুটা সমস্যার মধ্যে পার করতে হবে।

এর আগে করোনার টিকার মূল্য নিয়েও সমালোচিত হয়েছেন আদর পুনাওয়ালা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রতি ডোজ টিকা সরবরাহ করছেন ১৫০ রুপি মূল্যে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারগুলোর কাছ থেকে এ বাবদ রাখা হচ্ছিল ৪০০ রুপি করে। হাসপাতালগুলোর কাছে বিক্রি করছিলেন ১ হাজার ২০০ রুপি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে রাজ্য সরকার ও হাসপাতালগুলোয় সরবরাহকৃত টিকার দাম প্রতি ডোজ ৩০০ রুপিতে নিয়ে আসেন তিনি। সে সময় মুনাফা কমিয়ে রাখার বিষয়টিকে নিজের ‘ঔদার্যের অভিব্যক্তি’ বলে দাবি করে আরেক দফা সমালোচনার শিকার হন পুনাওয়ালা।

মডার্নার টিকা আনতে আবেদন রেনাটার

যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার করোনা ভ্যাকসিন আনতে সরকারের কাছে আবেদন করেছে দেশের অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটা লিমিটেড। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মডার্নার করোনা ভ্যাকসিন দেশে আনার অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে রেনাটা। আমরা এ সম্পর্কিত নথিপত্র ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) কাছে পাঠিয়েছি। রেনাটা মডার্নার টিকা আনতে সক্ষম কিনা বিষয়টি ডিজিডিএ পরীক্ষা করে দেখবে। ডিজিডিএর মূল্যায়নের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব আমরা।

ডা. খুরশিদ আলম বলেন, মডার্নার ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আনা হলে তা মাইনাস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। এ কারণে অনুমোদন দেয়া হলে এ টিকা ঢাকায় রাখতে হবে। ঢাকার বাইরে এ টিকা সংরক্ষণ সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রেনাটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এস কায়সার কবির বণিক বার্তাকে বলেন, টিকা আনার বিষয়টিতে এখনো অগ্রগতি নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড—এ সাত দেশে কোনো টিকা বা ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি পেলে বাংলাদেশ সেটার অনুমোদন দেয়।

গত ৮ জানুয়ারি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার অনুমোদন দেয়া হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা প্রয়োগ শুরু করে সরকার। বর্তমানে চল্লিশোর্ধ্ব ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকদের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা দেয়া হচ্ছে। ভারতে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে দেশটিতে টিকার চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে টিকা রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। ফলে বাংলাদেশের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তাই চীন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া থেকে টিকা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করে সরকার।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল রাশিয়ার গামালিয়া ইনস্টিটিউটের তৈরি স্পুটনিক-ভি ও ২৯ এপ্রিল চীনের বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রডাক্টের উৎপাদিত সিনোফার্মের টিকাকে জরুার প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে রাশিয়া নিজেদের আবিষ্কৃত স্পুটনিক টিকা বাংলাদেশেই প্রস্তুত করার প্রস্তাব দেয়। ১০ মে চীন থেকে পাঁচ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।

বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ১৫ কোটি ৪১ লক্ষাধিক, মৃত্যু সোয়া ৩২ লাখ

সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১৫ কোটি ৪১ লাখ ৭৮ হাজার ২৪৪ জন এবং মারা গেছে ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৮৭৫ জন।

বিশ্বে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১৩ কোটি ১৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৮ জন এবং বর্তমানে আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে এক কোটি ৯৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫১১ জন।

বিশ্বে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার ৯৮ শতাংশ এবং মারা যাওয়ার হার দুই শতাংশ। সারাবিশ্বে বর্তমানে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রয়েছে এক লাখ ১১ হাজার ৪৫৩ জন এবং বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল।

বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে তিন কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৫৬১ জন এবং মারা গেছে পাঁচ লাখ ৯১ হাজার ৫১৪ জন।

বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পর যথাক্রমে রয়েছে ভারত, ব্রাজিল, ফ্রান্স, রাশিয়া, তুরস্ক, ব্রিটেন, ইতালি, স্পেন ও জার্মানি।

ভারতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি দুই লাখ ৭৫ হাজার ৫৪৩ জন এবং মারা গেছে দুই লাখ ২২ হাজার ৩৮৩ জন।

দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে তিন লাখ ৫৫ হাজার ৮২৮ জন এবং মারা গেছে তিন হাজার ৪৩৮ জন।

এর আগের দিন দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছিল তিন লাখ ৭০ হাজার ৫৯ জন এবং মারা গেছে তিন হাজার ৪২২ জন।

ভারতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে এক কোটি ৬৬ লাখ ৭০৩ জন এবং আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে ৩৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৫৭ জন।

ভারতের পরের অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে মোট আক্রান্ত হয়েছে এক কোটি ৪৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৪ জন এবং মারা গেছে চার লাখ আট হাজার ৮২৯ জন।
সূত্র : ওয়ার্ল্ডোমিটার

নন্দীগ্রামে ভোট কারচুপি হয়েছে, বললেন মমতা

বিজেপিকে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কিন্তু মমতা ব্যানার্জি কোনভাবেই নন্দীগ্রামে হার মেনে নিতে পারছেন না।

নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরের দিন অর্থাৎ আজ সাংবাদিকদের সাথে কালীঘাটের নিজের বাসায় আলাপ করার সময় নন্দীগ্রামের নির্বাচনের ফল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ করলেন মমতা।

“প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে বলে পুনর্গণনার নির্দেশ দিতে ভয় পাচ্ছেন নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসার। চার ঘন্টা সার্ভার ডাউন করে রাখে। ৪০ মিনিট লোডশেডিং। আমি এতো বড় মাফিয়াগিরি দেখিনি। আমায় রাজ্যপাল জানালেন তারপর সব বদলে গেল? আমি আদালতে যাবো,’’ বলেন মমতা।

নন্দীগ্রামের ফল ঘোষণার সময় অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল কারণ শুরুতে মমতাকে জয়ী ঘোষণা দেওয়ার পরেও চূড়ান্ত ফলে তাকে পরাজিত ঘোষণা দেওয়া হয়। তারপরে তৃণমূলের তরফ থেকে পুনর্গণনার আবেদন জানানো হয় যা নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার বাতিল করে দেন।

এদিন মমতা বলেন, “কেউ রে-কাউন্টিং চাইতেই পারে। সেটা কেন হতে দেওয়া হচ্ছে না?”

তারপরে, মমতা রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তির মেসেজ কথোপকথন তুলে ধরেন। মেসেজে যা লেখা ছিল তার মূল কথা হচ্ছে- ”বন্দুকের নলের মুখে কাজ করতে হচ্ছে। পুনর্গণনার নির্দেশ দিলে প্রাণে মেরে ফেলা হতে পারে আমাকে।”

ঠিক কার সঙ্গে রিটার্নিং অফিসারের ওই কথা হয়েছে, যদিও সেটা স্পষ্ট করে বলেননি মুখ্যমন্ত্রী । তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাব। তত ক্ষণ পর্যন্ত ভিভিপ্যাট, ব্যালট এবং ইভিএম আলাদা আলাদা করে সরিয়ে রাখতে হবে। তদন্ত করে দেখা হবে, সেগুলিতে কোনও বিকৃতি ঘটানো হয়েছে কি না।”

মুখ্যমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করে বলেন, “নন্দীগ্রামে ইভিএম পাল্টে দেওয়া হয়।”

এদিকে নন্দীগ্রামের গণনায় ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতা ও রামনগরের বিধায়ক আখিল গিরি। তিনি বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি বিধানসভার মধ্যে ৯টি তৃণমূল এবং ৭টি বিজেপি পেয়েছে। নন্দীগ্রামেও প্রথমে ঘোষণা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কম ভোট জিতেছেন। শেষে সেই ফল বদলে গেলো! আমি বলছি নন্দীগ্রামের গণনায় ষড়যন্ত্র আছে। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। দেখি দলনেত্রী বৈঠকে কী নির্দেশ দেন। আবার গণনা না হলে আমরা আন্দোলন বন্ধ করব না। আইনি ব্যবস্থা নেব।”

চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য দূর করা কঠিন হচ্ছে: জ্যাসিন্ডা আরডার্ন

চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য দূর করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা আরডার্ন। এছাড়া বিশ্বের একটি ক্রমবর্ধমান শক্তি হিসেবে চীনকে তার দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি চীনে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষ করে উইঘুর মুসলিমদের প্রতি আচরণ নিয়ে দেশের ভেতরে-বাইরে সবদিক দিয়েই বেশ চাপের মুখে রয়েছে জ্যাসিন্ডার সরকার। উইঘুরদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে কি না তা নিয়ে আলোচনার জন্য গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে ডানপন্থী রাজনৈতিক দল অ্যাক্ট পার্টি।

সোমবার চায়না বিজনেস সামিটে রাখা ভাষণে জ্যাসিন্ডা বলেন, সম্পর্ক পরিচালনা সবসময় সহজ হয় না এবং এর কোনো গ্যারান্টিও নেই। আমাদের এটি স্বীকার করতে হবে যে, কিছু বিষয় রয়েছে যার ওপর চীন এবং নিউজিল্যান্ড একমত নয়, হতে পারে না এবং হবেও না। তিনি বিশেষভাবে জিনজিয়াং পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, উইঘুরদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা প্রকাশ্যেই গভীর উদ্বেগের কথা বলেছি। এসময় হংকংবাসীর অধিকার, স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের বিষয়ে নেতিবাচক ঘটনাক্রম নিয়েও নিউজিল্যান্ডের উদ্বেগের কথা জানান এ নেতা।

নিউজিল্যান্ডের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। পরবর্তী চার বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানে গত বছরের নভেম্বর থেকে মোট যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেছে নিউজিল্যান্ড, তারচেয়ে বেশি করেছে এক চীনেই। এ অবস্থায় জ্যাসিন্ডার মুখে চীনা প্রশাসনের সমালোচনায় পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে জ্যাসিন্ডা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রগুলোতে চীন ও নিউজিল্যান্ডের এখনো একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

সূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান।

বিল গেটস ও মেলিন্ডার বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা

বিশ্বখ্যাত মার্কিন ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং তার স্ত্রী মেলিন্ডার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হতে চলেছে। সোমবার (২ মে) রাতে এক যৌথ টুইটার বার্তায় দীর্ঘ ২৭ বছরের সংসারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। খবর সিএনএনের।

টুইটার বার্তায় তারা বলেন, নিজেদের সম্পর্কের ওপর নিরীক্ষা ও চিন্তা-ভাবনার পর আমরা আমাদের সংসারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যুগল হিসেবে আমরা আর থাকতে পারব বলে আমাদের মনে হয় না।

১৯৮৭ সালে মেলিন্ডার সঙ্গে পরিচয় হয় বিল গেটসের। পরে তারা প্রণয়ে জড়ান, সেই প্রণয় গড়ায় পরিণয়ে। এরপর ১৯৯৪ সালে তারা বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে।

এরপর ২০০০ সালে গঠন করেন বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। তখন থেকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য দূরীকরণসহ বিভিন্ন কাজে ৫৩.৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই সংগঠনটি।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া নেতারা ফিরলে স্বাগত জানাবেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে দলে দলে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তাদের অধিকাংশই খালি হাতে ফিরেছেন।

বিপুল সাফল্য পাওয়ার পরেও দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের প্রতি উদারতা দেখালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতারা ফিরতে চাইলে সবাইকে স্বাগত জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত রবিবার ভোটের ফলাফলে তৃণমূলের ধারেকাছেও নেই বিজেপি। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যারা গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী, হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং নিশীথ প্রামাণিককে বাদ দিলে কেউই জয়ী হতে পারেননি। বিরাট ব্যবধানে হেরেছেন রাজীব ব্যানার্জি, সব্যসাচী দত্ত, বৈশালী ডালমিয়ারা।

ভোটে বিজেপির পরাজয়ের পর সে কারণে ওই সব নেতাদের তৃণমূলে ফিরে আসা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে কালীঘাটে যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা, সেখানে ‘দলবদলু’দের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নে মমতা বলেন, আসুক না। কে বারণ করেছে! এলে স্বাগত।

যদিও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া কেউ এখনো প্রকাশ্যে জোড়াফুলে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি। তবে সেই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়েও দেওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, তৃণমূল ছেড়ে যারা এসেছিলেন, তারা অত্যাচারিত এবং অপমানিত হয়ে এসেছিলেন। মনে হয় না তাদের কেউ ফিরে যাবেন।

তবে রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের মতে, নির্বাচনী প্রচারে যাদের লাগাতার ‘বিশ্বাসঘাতক’, ‘গাদ্দার’ এবং ‘আপদ’ বলে আক্রমণ করেছেন মমতা, তাদের আদৌ স্বাগত জানাবেন কি-না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। বিশেষ করে একা এতবড় জয়লাভের পর। নেহাত সৌজন্যের খাতিরেই তিনি ওই কথা বলে থাকতে পারেন।
সূত্র : আনন্দবাজার

শিবচরের ঘটনায় মামলা, আসামি স্পিডবোট মালিক-চালকসহ ৪

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের ধাক্কায় গতকাল সোমবার ২৬ জন নিহত হয়েছে। লকডাউনের মধ্যে ওই স্পিডবোটটি ‘লুকিয়ে’ চলছিল বলে জানিয়েছেন নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক। নৌ চলাচলও বন্ধের মাঝেও স্পিডবোট চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে যে প্রাণহানী হয়েছে, এখন তার দায় নিতে চাচ্ছে না কেউ। তবে, নৌচলাচল তদারককারী কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ বলছে, ঘাট বন্ধের মধ্যে ওই স্পিডবোট চলা আটকানোর দায়িত্ব ছিল নৌ পুলিশের। এদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র ওপর অভিযোগের খড়্গ তুলেছে নৌপুলিশ।

দায় না নেওয়া, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে মাদারীপুরের শিবচরে ঘটে যাওয়ায় দুর্ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিআইডব্লিউটিএ। তদন্তে যাদের গাফিলতি পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এদিকে, গতকাল সোমবার গভীর রাতে বাল্কহেডকে ধাক্কা দিয়ে স্পিডবোট ডুবে ২৬ প্রাণহানির ঘটনায় বোটের মালিক-চালকসহ চারজনের নামে মামলা হয়েছে। শিবচর থানায় মামলাটি করে নৌ-পুলিশ। তাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আহত বোটচালক শাহ আলমকেকে। তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, স্পিডবোট দুর্ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি বোটের মালিক, চালক, ঘাটের ইজারাদারসহ চারজন। তবে, তিনি অন্যান্য আসামিদের পরিচয় জানাননি।

 

গতকাল সোমবার এ দুর্ঘটনা ও ২৬ মৃত্যুর ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানান, শিমুলিয়া ঘাট তালা দেওয়া ছিল। ওই ঘাট দিয়ে কোনো নৌযান চলাচল করছিল না, লঞ্চগুলোও ঘাটে নোঙর করা ছিল। স্পিডবোটটির চালক চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ‘গোপনে’ যাত্রী তুলে পারাপার করছিল। তবে স্পিডবোটটি অবৈধ নয়, এর চলাচলে অনুমতি ছিল বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে শিমুলিয়ার নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক শাহাদাত হোসেন জানান, স্পিডবোটটির কোনো নিবন্ধন ছিল না। এর চালকের ছিল না দক্ষতার সার্টিফিকেট। এই নৌরুটের বেশির ভাগ নৌযানের একই অবস্থা।

সোমবার ভোরে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় থাকা বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের ধাক্কা লাগে। এতে ২৬ যাত্রী নিহত হন। ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও দুজন মারা যান। ঘটনাস্থলে শিবচর ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালান।

শিবচরের বাংলাবাজার ফেরিঘাটের ট্রাফিক পরিদর্শক আশিকুর রহমান জানান, মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া থেকে ৩০-৩৫ জন যাত্রী নিয়ে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজারের দিকে আসছিল স্পিডবোটটি। ঘাটের কাছাকাছি এলে নোঙর করা বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডে ধাক্কা দিয়ে স্পিডবোটটি উল্টে যায়।

এই ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নিহতের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ডা. রহিমা খাতুন। আহতদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন পেরেরা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা। ৩২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ২০০৯ সাল থেকে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছিলেন।

সোমবার ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে পেরেরার অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।