এই জয় আনন্দের নয়, বরং অনেক বেশি দায়িত্বের, বললেন ফিরহাদ

গণনা শেষ হতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু দুপুর ১২টাতেই ২০০ আসনে এগিয়ে দল। তাতেই জয় সম্পর্কে নিশ্চিত তৃণমূল। তবে দেশের করোনা যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তাতে এটা উচ্ছ্বাস দেখানোর সময় নয় বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই জয়ে কোনও বিজয় মিছিল হবে না। এটা আনন্দ করার সময় নয়। রাজ্যে কত মানুষ মারা যাচ্ছেন। আমার নিজের অনেক আত্মীয় মারা গিয়েছেন। এমনকি যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই নেই। এই অবস্থায় বিজয় মিছিল বা আনন্দ করার মতো মানসিক অবস্থা নেই আমার।’’

নীলবাড়ির লড়াইয়ে ফিরহাদ নিজে কলকাতা বন্দর থেকে প্রার্থী হয়েছেন। সেখানে দুপুর পর্যন্ত বিজেপি-র অওয়ধ কিশোর গুপ্তর সঙ্গে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান ১৭ হাজার। তবে জিতবেন বলে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কোনও দুশ্চিন্তা নেই আমার। টেনশন লেনে কা নহি, দেনে কা হ্যায়। মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি নিজেকে ‘ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, টু দ্য পিপল’ বলে মনে করি। মানুষ বিবেচনা করে মতামত দিয়েছেন।’’

তবে নিজের কেন্দ্রে ফিরহাদ প্রতিপক্ষের থেকে নিরাপদ ব্যবধান বজায় রাখতে সক্ষম হলেও, নন্দীগ্রাম ভাবাচ্ছে তৃণমূলকে। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পিছিয়ে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ফিরহাদের বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। আমরা কাজ করেছি। উত্তরপ্রদেশ, বিহারের মতো ধর্ম, বর্ণ, জাতির ভিত্তিতে ভোট হয় না বাংলায়। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরছে তৃণমূল। তৃতীয় বার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’

তবে নীলবাড়ির দখল হাতে এলেও, কোভিড পরিস্থিতিতে দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছেন ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘‘এটা হইহই করার জয় নয়। এটা দায়িত্বের জয়। দায়িত্ব নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হবে। সামনে কাঁটার রাস্তা। সব কিছু ফের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। শ্মশানে শ্মশানে শবদেহ ভর্তি। হাসপাতালে শয্যা নেই। চারিদিকে হাহাকার। আমি দৌড়ে বেড়াচ্ছি। করোনার বিরুদ্ধে আবার শুরু থেকে লড়াইয়ে নামতে হবে।’’ একই সঙ্গে দলের কর্মীদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ফিরহাদ। মানুষের সাহায্য ঝাঁপিয়ে পড়তে আর্জি জানিয়েছে।

সুত্র: আনন্দ বাজার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আংশিক লকডাউন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেছে। এক আদেশে রাজ্যের সব বিপনি বিতান, রেস্তোঁরা, সৌন্দর্য সেবা কেন্দ্র, শরীর চর্চা কেন্দ্র, স্পা ও সুইমিং পুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, একাডেমিক ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড বা সমাবেশও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া

এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একদিনেই কভিড-১৯ রোগে মারা যান ৮৯ জন। বেড়ে গেছে আক্রান্তের সংখ্যাও। এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে এ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার।

আদেশে বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনের সামগ্রী কিনতে স্থানীয় বাজারগুলো খোলা থাকবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। সকাল ৭টা থেকে ১০টা ও বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা যাবে। ভোট গণনা ও বিজয় মিছিল নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে। ওষুধের দোকান, চিকিত্সা সরঞ্জামের দোকান ও হোম ডেলিভারি সার্ভিস এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।

কেউ যদি এসব নির্দেশ লঙ্ঘণ করে তবে ভারতীয় দণ্ডবিধির দুর্যোগ মোকাবেল আইন, ২০০৫ এর ধারা ১৮৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে স্থানীয় প্রশাসন।

বাজারগুলোতে যথাযথ নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা তা দেখতে আজ শনিবার সকাল থেকেই তত্পর রয়েছে রাজ্য পুলিশ। সকাল ১০টার মধ্যে যেন সবজি ও মাছ বিক্রেতারা তাদের দোকান বন্ধ করে দেন, সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা মাস্ক পরে আছেন কিনা তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।

করোনা ঠেকাতে উড়িষ্যায় ১৪ দিনের লকডাউন ঘোষণা

ভারতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে এক কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫৬ জন এবং মারা গেছে দুই লাখ ১৫ হাজার ৫২৩ জন।

দেশটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে তিন লাখ ৯২ হাজার ৫৬২ জন এবং মারা গেছে তিন হাজার ৬৮৮ জন।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় তরঙ্গে সারা ভারতের মতো বেসামাল অবস্থা তৈরি হয়েছে উড়িষ্যাতেও। সেই সংক্রমণ শৃঙ্খল ভাঙতে ১৪ দিনের লকডাউন জারি করল উড়িষ্যা সরকার। ৫ মে থেকে ওই রাজ্যে শুরু হবে লকডাউনের কড়াকড়ি। আর সেটা চলবে ১৯ মে পর্যন্ত।

এই ১৪ দিন স্বাস্থ্যকর্মী এবং জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের চলাফেরায় কোনো বিধিনিষেধ জারি হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষকে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে থেকে কিনতে হবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

প্রসঙ্গত, উড়িষ্যায় গত কয়েকদিন ধরেই দৈনিক আক্রান্ত হচ্ছিল ৭-৮ হাজারের বেশি মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৪১৩ জন আক্রান্ত হয়েছে সে রাজ্যে। সেখানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৬১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

১৯০ আসনে এগিয়ে তৃণমূল, নন্দীগ্রামে পিছিয়ে মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ২৯২টি আসনে। দুজন প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ার কারণে আসন দুটির নির্বাচন স্থগিত হয়। ভোটের ফল গণনা শুরুর পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯০টি আসনে এগিয়ে আছে মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, তৃণমূল ১৯০টি আসনে এগিয়ে আছে এবং বিজেপির দখলে যাচ্ছে ৯৪টি।

আজ রবিবার শুরু হয়েছে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা। ১০ বছর আগে বাম দুর্গ ভেঙে পশ্চিমবঙ্গে ঘাসফুল ফুটিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি।

২০১৬ সালেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ বুঝিয়ে দেয়, পশ্চিমবঙ্গের একটা বড় অংশের মানুষ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে।

আজ রবিবার ভারতীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ভোট গণনা। এতে দেখা যায়, তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে।

যদিও আনন্দবাজারের হিসাব অনুসারে, নন্দীগ্রামে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং মমতা ব্যানার্জি সেখানে পিছিয়ে পড়েছেন।

তেতুলের পানি খেলে পাওয়া যাবে যেসব উপকার

তেতুল পছন্দ করে না এমন মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। বিশেষ করে তরুণীদের খাবারের তালিকায় উপরের দিকেই পাওয়া যায় এর নাম। তবে ছেলে মেয়ে উভয়ে তেতুল খেতে পারে। গরমে তেতুলের খুব কদর বারে অন্য সময়ের তুলনায়।

কী ভাবে খাবেন এই তেতুল-

কিছুটা খোসা ছাড়ানো তেঁতুলের সঙ্গে পানি মিশিয়ে নিন। মিশ্রনটি ভালোভাবে তৈরি হয়ে গেলে সেটি ছেঁকে নিন। এরপর ছেঁকে নেওয়া পানিতে সামন্য মধু মিশিয়ে সকাল-বিকাল দুই বেলা খান।

তেতুলের পানি খাওয়ার ফলে কী কী উপকার পাওয়া যাবে তা জেনে নিন-

হৃদরোগের যাবতীয় সমস্যা দূর করে এই তেঁতুল পানি।

কোলন ক্যান্সারের মতো রোগ থেকেও রক্ষা করে এই পানি।

তেতুলে থাকা ল্য়াক্সেটিভ কোষ্ঠকাঠ্যিন্যের মতো সমস্যা দূর করে।

তেতুলে  অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি বুড়িয়ে যাওয়া ত্বককে রক্ষা করে।

শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং লিভারে জমা ফ্যাট গলাতে সাহায্য করে।

তেতুল আমাদের শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয় এবং হজম প্রক্রিয়াকে সঠিক রাখে।

খারাপ কোলেস্টেরল ধ্বংস করে।

কিডনি সমস্যা; যেসব উপসর্গ দেখলে সাবধান হওয়া দরকার

বৃক্ক বা কিডনি আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি আক্রান্ত হলে একের পর এক নানা জটিল সমস্যা শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে। কিডনির অসুখ আসলে নিঃশব্দ ঘাতক। কারণ,এর কোনও নির্দিষ্ট উপসর্গ হয় না। তবে কয়েকটি সাধারণ উপসর্গ দেখলে আগে থেকে সাবধান হওয়া দরকার। যেমন-

একাধিকবার প্রস্রাবের সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো অবশ্যই মূত্র পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। কোনও ত্রুটি থাকলে অবশ্যই নেফ্রোলজিস্ট বা কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিডনির সমস্যা থাকলে একাধিকবার প্রস্রাবের সংক্রমণ হতে পারে, প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথাও হতে পারে।

এছাড়াও ক্ষুধা কমে যাওয়া বা সারাক্ষণ বমি বমি ভাবও কিডনির সমস্যার উপসর্গ। অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা, শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট হওয়ার পেছনেও লুকিয়ে থাকতে পারে কিডনির সমস্যা।

রক্তচাপ বৃদ্ধি বা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি চোখ, মুখ, পা ফোলা থাকে তবে তা কিডনির সমস্যার উপসর্গ হতে পারে। তবে আপনার কিডনির সমস্যা আছে কিনা তা জানতে অবশ্যই কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

বিডি প্রতিদিন

ধর্ষণের পর ১০০ শিশু হত্যা : টুকরো টুকরো লাশ গলিয়ে দিতেন অ্যাসিডে!

বিকৃত মস্তিষ্কের জাভেদ ইকবাল, যিনি বিশ্ব ইতিহাসের দুর্ধর্ষ এক সিরিয়াল কিলার। নিজের মায়ের প্রতিশোধ নিতে ১০০ মাকে কাঁদাতে চেয়েছিলেন তিনি। জাভেদের ভাষ্য মতে, তার সব ক্ষোভ ছিল শিশুদের উপর। তাই একের পর এক শিশুকে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে নির্মমভাবে খুন করতে থাকেন।

জানা গেছে, সাদামাটা জীবন ছিল জাভেদের। খুবই ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন তার বাবা। সুখেই জীবন কাটছিল জাভেদের। কিন্তু ধর্ষণের এক মামলায় জেলে যেতে হয় তাকে। এ ঘটনায় কেঁদে কেটে মারা যায় তার মা। এতে খুনের নেশা মাথায় চাপে তার। নিজের মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ‘১০০ মাকে কাঁদাতে’ প্রতিজ্ঞা করেন।

জাভেদ ভয়ানক সেই প্রতিজ্ঞা পূরণে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের টার্গেট করতেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ইকবাল শুধু ছেলে শিশুদেরকে ধর্ষণ করে হত্যা করতেন। তিনি কোনো কন্যাশিশুর ক্ষতি করেননি। তিনি বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ছেলে শিশুদেরকে কাছে ডাকতেন।

বালকদের আকৃষ্ট করতে জাভেদ একটি ভিডিও গেমসের দোকান খুলেছিল। সস্তায় বা বিনামূল্যে গেমস খেলার টোকেন দেয়া হতো সেখান থেকে। এভাবে স্থানীয় বালকদের আখড়া হয়ে ওঠে দোকানটি। সেখানে মাঝে মাঝে মেঝেতে ১০০ রুপির নোট ফেলে রাখতো জাভেদ। এরপর ১০০ রুপি চুরি হয়েছে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে তল্লাশি করতো। এভাবে চোর সাব্যস্ত ধরে পাশের একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করতো।

তবে ভিডিও গেমসের দোকানের ফেলা টোপ থেকে সরে গিয়ে জাভেদ গরিব, রাস্তায় রাত কাটানো বালকদের টার্গেট করা শুরু করে। আবার পত্রিকা মারফত পত্রমিতালি করেও বালকদের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করতো জাভেদ। এরপর নিজের বাসায় নিয়ে ওই বালকদের ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করতো। এরপর মৃতদেহগুলোকে কেটে টুকরো টুকরো করে সেগুলো হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড দিয়ে গলিয়ে দিতো।

এভাবে এক বছরে ১০০ শিশু হত্যার নারকীয় মিশন শেষ করে ১৯৯৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর ধরা দিয়েছিলেন জাভেদ। তবে সরাসরি পুলিশ স্টেশনে না গিয়ে উর্দু সংবাদপত্র ডেইলি জাঙ-এর অফিসে হাজির হন তিনি। সেখানে গিয়ে নির্লিপ্তভাবে তিনি বলেছিলেন, আমি জাভেদ ইকবাল, ১০০টি বাচ্চার হত্যাকারী।

এমন ঘটনা সামনে আসতে পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম হয়। জাভেদকেও শিশুদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেভাবে হত্যার দাবি তুলতে থাকে মানুষজন। পরে ২০০০ সালের ১৬ মার্চ বিচারপতি আল্লাহ বকশের প্রাথমিক রায়ে মানুষজনের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটে।

রায়ে তিনি বলেছিলেন, জাভেদ ইকবাল ১০০ জনকে হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তাকে ১০০ বার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হবে। এরপর তার শরীরকে ১০০ খণ্ড করে সেগুলো অ্যাসিডে দ্রবীভূত করা হবে। ঠিক যেমনটা সে তার শিকারদের সঙ্গে করেছে। তবে রায় বাস্তবায়নের আগেই আত্মহত্যা করেন নৃশংস এই খুনি। সূত্র : ইন্ডিয়া টিভি।

কোন মাস্ক পরে আপনি কতটা সুরক্ষিত?

করোনার গ্রাস থেকে বাঁচতে মাস্ক পরা একেবারে বাধ্যতামূলক। কিন্তু, পরবেন কোনটা? কাপড়ের মাস্ক, সার্জিক্যাল মাস্ক থেকে এন-৯৫। বাজারে মাস্কের ছড়াছড়ি। কিন্তু কোন মাস্ক কতটা নিরাপদ? কত বারই বা ব্যবহার করা যাবে। করোনা-হানার এতদিনেও মাস্ক নিয়ে ধোঁয়াশা যেন কাটছেই না।

মাস্ক পরা নিয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজরের প্রতিবেদনে করা হয়েছে মাস্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। এক নজর দেখে জেনে নিন।

 

ভাল্‌ভ-যুক্ত এন-৯৫ মাস্ক পরা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ভাল্‌ভের ফিল্টার বাইরে থেকে ভাইরাস প্রবেশ আটকে দেয়। এতে মাস্ক পরিহিতের সুবিধা হলেও তা অন্যদের বিপাকে ফেলতে পারে। কারণ, ভাল্‌ভ-যুক্ত এন-৯৫ মাস্ক পরা ব্যক্তিরা করোনাভাইরাসের বাহক হলে, তার নিঃশ্বাসের মধ্যে দিয়ে তা বেরিয়ে অন্যদের সংক্রমিত করতে পারে।

ভাল্‌ভ নেই, এমন এন-৯৫ মাস্ক পরা যেতেই পারে। এই ধরনের মাস্ক করোনাভাইরাসের পাশাপাশি বায়ুবাহিত ধূলিকণা ও সূক্ষ্ম জলকণা থেকে সুরক্ষা দেয়। ভাল্‌ভ নেই এমন এন-৯৫ মাস্কের ভাইরাস প্রতিরোধের কার্যকারিতা তাই অনেক বেশি, প্রায় ৯৫ শতাংশ।

ভাল্‌ভহীন এন-৯৫ মাস্ক ছাড়াও এফএফপি (ফিল্টারিং ফেস পিস)-২, এফএফপি-১ এবং এফএফপি-৩ মাস্কও তুলনামূলক ভাবে বেশ সুরক্ষিত। এফএফপি-২ মাস্কের কার্যকারিতা প্রায় ৯৪ শতাংশ। অন্য দিকে, প্রায় আশি শতাংশ ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে এফএফপি-১ মাস্ক। তবে এফএফপি-৩ মাস্কের কার্যকারিতা এ সবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৯৯ শতাংশ।

এন-৯৫ বা এফএফপি জাতীয় মাস্ক তো পরলেন। কিন্তু, তা ঠিক কত বার ব্যবহার করা যাবে? বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি, জলে ধোয়া হলে এ ধরনের মাস্কের কার্যকারিতা হ্রাস পেয়ে যায়। এবং পাঁচ বারের বেশি তা কখনই ব্যবহার করা উচিত নয়।

এন-৯৫ বা এফএফপি জাতীয় মাস্ক তুলনামূলক ভাবে দামি হওয়ায়, তার বদলে অনেকেই সার্জিক্যাল মাস্ক পরেন। সার্জিক্যাল মাস্কের কার্যকারিতা ৯৫ শতাংশের বেশি হলেও তা এক বারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে চিকিৎসকদের মত। এই ধরনের মাস্ক বড় জলকণা বা দেহ বর্জিত বিপজ্জনক তরলের ছিটে থেকে সুরক্ষা দেয়। সুরক্ষা দেয় করোনাভাইরাসের হাত থেকেও।

এন-৯৫ বা এফএফপি অথবা সার্জিক্যাল মাস্ক ছাড়াও কাপড়ের বিভিন্ন ধরনের মাস্কে বাজার ছেয়ে গিয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কাপড়ের মাস্কে কতটা সুরক্ষিত থাকা যায়, তা শতাংশের হিসেবে বলা সম্ভব নয়। তবে একেবারে কোনো মাস্কের সুরক্ষা না থাকার থেকে বরং কাপড়ের মাস্ক পরা ভালো।

তবে মাস্কের বদলে গামছা, রুমাল বা ওড়না দিয়ে নাক-মুখ ঢাকা একেবারেই সুরক্ষিত নয়। কাপড়ের মাস্কে বায়ুবাহিত ধূলিকণা এবং সূক্ষ্ম জলকণা থেকে আংশিক সুরক্ষা প্রদান করে।

কাপড়ের মাস্ক এক বারের বেশি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রতি বার ব্যবহারের পর তা গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে এবং কাপড়ের মাস্ক ছিঁড়ে গেলে তা ব্যবহার করা উচিত নয়।

নানা ধরনের মাস্ক নিয়ে কথা তো হলো। তবে মাস্ক ব্যবহার করলেই হলো না। তা ব্যবহার করার আগে-পরে কিছু নিয়মও মেনে চলতে হবে।

যেকোনো ধরনের মাস্ক পরার আগে সাবান বা অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। এর পর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হাতে মাস্ক পরতে হবে। সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে মাস্ক পরলেই হবে না। ব্যবহার করার আগে অবশ্যই দেখে নিতে হবে, মাস্ক যেন ছেঁড়া বা ফাটা না হয়।

মাস্ক পরলেও অনেকেই তা নিয়ে সতর্ক নন। ভুলে যাবেন না, মুখ-নাক রক্ষা করার জন্যই মাস্ক পরেছেন। তাই তা দিয়ে যেন সব সময় নাক-মুখ ঢাকা থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকেই মাস্ক পরে তা নাক বা থুতনির নিচে তা ঝুলিয়ে রাখেন। এটা করা একেবারেই উচিত নয়।

বার বার মাস্কে হাত দেওয়া একেবারেই বাঞ্ছনীয় নয়। সেই সঙ্গে মনে রাখবেন, মাস্কের সামনের অংশ স্পর্শ করা যাবে না। নিতান্তই যদি মাস্কের সামনে হাত দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে নিন। মাস্ক স্পর্শ করার পরে ফের হাত পরিষ্কার করুন।

নোংরা বা ভেজা মাস্ক যাতে কোনোভাবেই ব্যবহার করতে না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সেই সঙ্গে অন্যের ব্যবহৃত মাস্কে হাত দেবেন না।

‘নৃত্য শিল্পের কারণে আমি অঞ্জনা’

আজ আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস। নানা উৎসব-আয়োজনের মধ্যদিয়ে সারা বিশ্বে প্রতি বছর দিনটি পালিত হয়ে আসছে। ১৯৯২ সালে দিবসটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ করে। আর ১৯৯৫ সাল থেকে বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব নৃত্য দিবস।

নৃত্যের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নন্দিত নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান। তিনি জানান, নৃত্যে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বজয়া-এটা অসংখ্যবার পরীক্ষিত।

এক ফেসবুক পোস্টে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এই নৃত্য শিল্পের কারণে আমি অঞ্জনা, নৃত্য শিল্পী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হবার কারণেই চলচ্চিত্রে পদার্পণ ছিল আমার সুপ্রসন্ন। বাংলা চলচ্চিত্রের আমি একমাত্র নায়িকা যে প্রথম চলচ্চিত্রে আমার নামের পাশে নবাগতা টাইটেল ব্যবহার করা হয়নি। কারণ সেই ছোট্ট বয়স থেকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশ ও ভারতে সাড়া জাগানোর ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী হিসেবে আমি পরিগণিত হই। তারই সুফল স্বরূপ চলচ্চিত্রে আগমন ছিলো আমার সহজ স্বাধ্য।’

 

মাসুদ পারভেজ সোহেল রানার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অঞ্জনা বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রে আমার পদার্পণের লক্ষে আমি চির কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি বাংলা চলচ্চিত্রের আমার ওস্তাদ কিংবদন্তী চিত্রনায়ক ড্যাসিং হিরো মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা ভাইয়ের প্রতি কারণ নৃত্য আমার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্যই তিনি আমাকে বাংলা চলচ্চিত্রে প্রধান নায়িকা হিসেবে আগমন করান।’

নাচের জগতে নিজের অর্জন উল্লেখ করে অঞ্জনা বলেন, ‘নৃত্যশিল্পে আমি তিনবার জাতীয় পুরস্কার। ১০ বার আন্তর্জাতিক শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পীর পুরস্কার অর্জন করি। তার মধ্য একবার সমগ্র এশিয়া মহাদেশের মধ্য প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্য একমাত্র আমি বাংলাদেশ থেকে চ্যাম্পিয়ন হই যেটা ১৯৭৯ সালে। এ ছাড়া মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ডান্স কম্পিটিশন চ্যাম্পিয়ন হই ১৯৮২ সালে। সার্ক ডান্স ফ্যাস্টিবাল চ্যাম্পিয়ন ১৯৮৬। উপমহাদেশীয় ডান্স কম্পিটিশন ১৯৮৮। ব্রিটিশ ডান্স ফ্যাস্টিবাল ১৯৯১। নিউইয়র্ক লসএঞ্জেলস ক্ল্যাসিকাল ডান্স কম্পিটিশন ১৯৯৪। দক্ষিণ এশিয় ফোক ডান্স ফ্যাস্টিবাল ১৯৯৮ জাপান ত্রিদেশীয় ডান্স কনফারেন্স ২০০৩সহ আরো অসংখ্য পুরস্কার।’

দুশ্চিন্তায় জয়া আহসান

করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ভারতে প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুতে। দেশটিতে রোজ মৃত্যু তিন হাজারেরও বেশি। পশ্চিমবঙ্গেও করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক তারকাও৷

প্রিয় সহকর্মীদের জন্য দুশ্চিন্তায় সময় কাটছে জয়া আহসানের৷ এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এমনটাই জানিয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘মনটাকে জাগিয়ে রাখা কী যে কঠিন মনে হচ্ছে আজকাল। এত ক্ষয়, এত মৃত্যু, এত হাহাকার! চারদিকে যেন শুধু একটাই চিহ্ন- বিয়োগের। আমাদের কত না আপনজন উষ্ণ হাতের মুঠো ছেড়ে বিদায় নিচ্ছেন। যারা আমাদের আনন্দের সময়ের বন্ধু, বেদনার সময়ের আশ্রয়, বিপদের সময়ের ভরসা, তারা চলে যাচ্ছেন একে একে। চলে গেলেন সৌমিত্র কাকুর মতো মেঘ-সমান উঁচু একজন মানুষ, চলে গেলেন আরও কত কত কবি, লেখক, শিল্পী। ঢাকায়, কলকাতায় একই অন্ধকার ছবি। সমস্ত ভারতেই করোনার ভয়ংকর থাবায় মানুষ বড় নিঃসহায়।

মন খারাপ করা নিউজ ফিডের সোশ্যাল মিডিয়া যেন মৃত্যুর প্রান্তর। খবরের কাগজ হাতে নেওয়ার আগেই বুক ধক করে ওঠে, আজ জানি আবার কে! কলকাতায় আমার বন্ধু সহকর্মীদের কথা ভাবি। কতদিন দেখা হয়নি। অসম্ভব কষ্টের একটা সময় পার করছে তারা। একটা করে মন্দ খবর শুনি, আর আমার মনটা নিভে আসে একটু একটু করে। যাদের সঙ্গে এতদিন ধরে কাজ করছি কলকাতায় পরিচালক, শিল্পী, কুশলী, সহযোগী শুনি তাদের কষ্ট, অসুস্থতা আর বিদায়ের খবর। আমার আলো কমে যায়।

 

আমার কেবলই মঙ্গল কামনা। আলো ফিরে আসুক সবার জীবনে। হতাশার এই অন্ধকারে মন যেন পথ না হারায়। তোমার মুক্তি আর আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, এই আঁধারে। বন্ধুরা, মন শক্ত করে বাঁধো। সময় আসছে। আবার আমরা একসঙ্গে, হাতে হাত ধরে, প্রান্তরের শেষ রেখার দিকে ছুটব। ওই রেখাটা পার হতে এখনো যে বাকি।’