বণিক বার্তায় প্রকাশিত
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে প্রথম প্রাণহানী

সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে প্রথম প্রাণহানী হলো মিয়ানমারে। গত সপ্তাহে রাজধানী নেপিদোতে বিক্ষোভের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আজ মারা গেলেন মিয়া থুই থুই খায়েং নামে এক বিক্ষোভকারী। বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশের লাঠিচার্জ, গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ার কারণে মারাত্মক আহত হয়েছিলেন ওই ২০ বছর বয়সী ছাত্রী। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভে সরাসরি গুলি ছুড়েছে। ওই গুলিতেই মারাত্মক আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন মিয়া খায়েং। খবর বিবিসি ও ব্লুমবার্গ।

এক চিকিৎসকরে বরাতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানায়, ডান কানের পেছন দিয়ে একটি ধাতব বুলেট তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে।

নিহতের ভাই ইয়ে তুত অং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, আমি সত্যিই বিধ্বস্ত! কিছু বলার নেই। দুয়েকদিন হলো সে ২০ বছর বয়সে পা দিয়েছিল।

সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরুর পর এটা প্রথম মৃত্যু। এছাড়া এতে অন্তত ২০ বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। তরুণদের নেতৃত্বে প্রধান শহরগুলোতে যে তিন দাবিতে বিক্ষোভ চলছে সেগুলো হচ্ছে; অং সান সু চিসহ বেসামরিক নেতৃবৃন্দের মুক্তি দেয়া, ২০২০ সালের নির্বাচন এবং তাতে এনএলডির জয়কে স্বীকৃতি দেয়া এবং রাজনীতি থেকে সেনাবাহিনীর সরে আসা।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত
চীনে ফাইভজি ফোন সরবরাহ রেকর্ড সর্বোচ্চে

গত জানুয়ারিতে চীনে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি সমর্থিত ফোন সরবরাহ ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৮ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে, যা দেশটিতে এযাবতকালের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ মাসিক সরবরাহের চিত্র। চায়না একাডেমি অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (সিএআইসিটি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। খবর ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগ খাতে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ফাইভজি নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি। একই সঙ্গে ফাইভজি সমর্থিত স্মার্টফোন ডিভাইসের চাহিদা বাড়ছে। টেলিযোগাযোগ খাতের গুরুত্বপূর্ণ বাজার চীন একযোগে বৃহৎ শহরগুলোতে ফাইভজি চালু করেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশটিতে ফাইভজি ফোনের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

সিএআইসিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন ডিভাইস ব্র্যান্ড চলতি বছরের শুরুতেই চীনে কয়েক ডজন নতুন ফাইভজি সমর্থিত স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে। এছাড়া চীনা ব্র্যান্ডগুলো আরো কয়েক ডজন নতুন ফাইভজি স্মার্টফোন উন্মোচনের জন্য তালিকাভুক্ত করেছে। গত জানুয়ারিতে চীনে সরবরাহকৃত মোট মোবাইল ফোনের ৬৮ শতাংশই ছিল ফাইভজি সমর্থিত। বিভিন্ন ডিভাইস ব্র্যান্ড গত মাসে চীনে ২৩টি মডেলের নতুন ফাইভজি ফোন উন্মোচন করেছে, যা দেশটিতে গত মাসে মোট উন্মোচন করা ফোনের ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিভিন্ন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরও বৈশ্বিক ফাইভজি স্মার্টফোন বাজারে নেতৃত্ব দেবে চীনভিত্তিক ডিভাইস ব্র্যান্ডগুলো। ক্রমবর্ধমান বাজারটিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকবে যথাক্রমে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল ও দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক স্যামসাং।

সিএআইসিটির প্রতিবেদনে চীনে পাওয়া যাচ্ছে এমন ফাইভজি স্মার্টফোন সিরিজের একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো জিটিই অ্যাক্সন ১০ প্রো ফাইভজি, হুয়াওয়ে মেট ২০এক্স ফাইভজি, হুয়াওয়ে মেট ৩০ সিরিজ, হুয়াওয়ে মেট এক্স (ফোল্ডিং), অনার ভি৩০ সিরিজ, চায়না মোবাইল পাইওনিয়ার এক্স১, ভিভো আইকিউওও প্রো ফাইভজি, ভিভো নেক্স৩ ফাইভজি, স্যামসাং নোট ১০ প্লাস ফাইভজি, শাওমি মি৯ প্রো ফাইভজি, হুয়াওয়ে নোভা ৬, অপো রেনো৩ প্রো, অ্যাপলের আইফোন ১২ সিরিজের চার ডিভাইস ইত্যাদি।

চীন চলতি বছর ছয় লাখ ফাইভজি বেস স্টেশন নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সরকার ফাইভজি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশজুড়ে প্রধান শহরগুলোকে দ্রুত ফাইভজির আওতায় আনতে এমন আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি) এর আগে জানিয়েছিল, চলতি বছর চীনের স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর ফাইভজি ডিভাইস সরবরাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে, যা গত বছরের চেয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেশি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছর চীনের ফাইভজি স্মার্টফোন বাজারের আকার ৩০ কোটি ইউনিট ছাড়াতে পারে। আগের তুলনায় ফাইভজি ফোনের দাম অনেক কমেছে। এছাড়া নিয়মিত নতুন নতুন ব্র্যান্ডের ফাইভজি ফোন বাজারে আসছে। ফাইভজি নেটওয়ার্ক অবকাঠামো বিস্তারের পাশাপাশি ডিভাইসের দাম কমায় বাজারটির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ বাজারগুলোয় ফাইভজির বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিক থেকে ফোরজির চেয়ে ফাইভজির বিস্তার দ্রুত হচ্ছে। উন্নত ও দ্রুতগতির এ নেটওয়ার্ক সেবা ব্যবহারে ফাইভজি সমর্থিত স্মার্টফোন প্রয়োজন। যে কারণে ফাইভজি সমর্থিত স্মার্টফোনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে ফাইভজি ফোনের চাহিদা বৃদ্ধি সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজারের মন্দা ভাব কাটিয়ে উঠতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বজুড়ে ফাইভজির পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরুর লক্ষ্যে কার্যক্রম জোরদার করেছে সেলফোন অপারেটরগুলো। এ মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকেও ফোরজির চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

কালের কন্ঠে প্রকাশিত
পথের বাধা টপকে বিএনপির সমাবেশ

বরিশাল সরকারি জিলা স্কুল মাঠ। এক কোনায় মঞ্চ, চারদিকে বিএনপির উজ্জীবিত নেতাকর্মী। সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে বারবার গর্জে উঠছিল নেতাদের তেজি কণ্ঠ। বিএনপি নেতারা যখন সমাবেশে আসার পথে বাধার ফিরিস্তি দিচ্ছিলেন, তখন মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে মঞ্চের সামনে হাজির হন এক কর্মী। নাম তাঁর এনায়েত হোসেন। মেঘনাতীরের হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী তিনি। এনায়েত বলছিলেন, তাঁদের বহন করা ট্রলারটি যখন বরিশাল স্টিমারঘাটে পৌঁছে, তখন একদল লোক তাঁদের ওপর হামলা চালায়। ওই হামলায় তিনিসহ বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।

তবে এই সমাবেশ ঘিরে বাধার শুরুটা হয়েছিল সেই পদ্মাপারে। বরিশালে সমাবেশে অংশ নিতে আসা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের গাড়িবহর পদ্মায় আটকে দেওয়া হয়। ফেরি পারাপার বন্ধ থাকার কারণে তাঁদের গাড়িবহর আর বরিশালে আসতে পারেনি। তাতেও দমে যাননি ইশরাক। তিনি লঞ্চযোগে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু বরিশাল নগরীতে প্রবেশপথে তাঁকে আবারও আটকে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন ইশরাক। পরে পুলিশ পাহারায় তাঁকে সভাস্থলে নিয়ে আসা হয়।

বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আলম রাজু স্কুল মাঠের মঞ্চের পাশেই বক্তব্য শুনছিলেন। ঘটনার সময় তিনি স্টিমারঘাটে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, সমাবেশে যোগ দিতে অর্ধশত নেতাকর্মী ট্রলারযোগে দুপুর পৌনে ২টার দিকে বরিশাল স্টিমারঘাটে পৌঁছেন। ট্রলার থেকে তীরে উঠতে যাবেন ঠিক সেই সময় ২০-২৫ জনের একটি দল ট্রলারে ইটপাটকেল ছোড়ে। ইটের আঘাতে আহত হন অনেকেই।

বাধার আরো অভিযোগ : বরিশাল নৌবন্দর এলাকায় দুপুর পৌনে ২টার দিকে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ থেকে ট্রলারযোগে আসা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এতে পাঁচ নেতাকর্মী আহত হন। পটুয়াখালীর বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, সমাবেশে আসার পথে পথে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। ফলে তাঁরা আলাদাভাবে বরিশাল নগরীতে একত্র হয়ে সমাবেশে যোগ দেন।

বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী লীগের কর্মী এবং পুলিশ বাহিনী হামলা ও হয়রানি করেছে। আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় আমাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান মনির বলেন, বিএনপি জনসম্পৃক্ত কোনো বিষয় নিয়ে মাঠে আসতে পারেনি। যা করছে তা খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে খুশি করতে। খুনি খালেদা আর দুর্নীতিবাজ তারেক জিয়াকে সাধারণ জনগণ বয়কট করেছে।

ছাত্রদলের চেয়ার ছোড়াছুড়ি : সমাবেশে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা একে অপরের দিকে চেয়ার নিক্ষেপ করেন। বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন অনুসারী নেতাকর্মীরা চেয়ারে বসা নিয়ে এই হট্টগোল করে। বিকেলে বরিশাল জিলা স্কুল মাঠে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে সমাবেশস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে কেন্দ্রীয় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নেতাকর্মীরা জানান, বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে মঞ্চের সামনে থাকা বরিশাল জেলা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম রনি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের অনুসারীরা চেয়ারে বসা নিয়ে কথা-কাটাকাটি করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় নেতাকর্মীরা একে অপরের দিকে চেয়ার নিক্ষেপ করলে সমাবেশস্থলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এতে সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বক্তব্য বন্ধ করে দেন প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।

পরে বিএনপির বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা মঞ্চ থেকে নেমে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সমাবেশের ধকল নগরীজুড়ে : সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে দেশের সব মহানগরে বিএনপির ধারাবাহিক সমাবেশের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমটি ছিল বরিশালে। দুপুরের আগে থেকেই সমাবেশস্থল জিলা স্কুল মাঠে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। সকালে যায় পুলিশ ভ্যান, জলকামান। ফলে প্রধান প্রধান সড়ক প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। গণপরিবহনের দেখা মেলেনি। এই দুয়ের কারণে শহরের বেশির ভাগ বিপণিবিতানগুলো দুপুরের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে সন্ধ্যার দিকে আস্তে আস্তে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সমাবেশের কারণে আগেভাগেই মানুষ শহর ছেড়েছে। তা ছাড়া তিন দিনের বন্ধ থাকায় অনেকেই সকাল সকাল শহর ছেড়েছে। হামলা প্রসঙ্গে বলেন, সভাস্থলে দলীয় কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন। এর বাইরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের জানা নেই।

শিমুলিয়া ঘাটে বিড়ম্বনায় বিএনপি নেতা ইসরাক ও তাবিথ : এদিকে মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল দুপুরে বরিশালে প্রথম বিভাগীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে সকাল ৭টায় প্রায় ৫০টি গাড়িবহর নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসেন ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের বিএনপির পরাজিত মেয়র প্রার্থী ইসরাক হোসেন ও তাবিথ আউয়াল। তাঁদের বহর ঘাটে আসামাত্রই ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে পারাপার হতে আসা হাজারো যাত্রী ও যানবাহন চালককে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে তাবিথ আউয়াল ও ইসরাক হোসেন লঞ্চে করে নেতাকর্মীদের নিয়ে বরিশালের দিকে রওনা দেন।

বঙ্গভ্যাক্স টিকার দ্রুতই ট্রায়ালের অনুমোদন

দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের প্রস্তাবিত টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই মানবদেহে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের (ট্রায়াল) জন্য অনুমোদন পেতে পারে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল—বিএমআরসিতে এগিয়ে চলছে ওই টিকার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার কাজ। এরই মধ্যে ওই টিকার ট্রায়ালের জন্য নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সিআরও প্রতিষ্ঠানের কাছে আরো কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়ে নিয়েছে বিএমআরসির অনুমোদন কমিটি। এ ক্ষেত্রে এই টিকার এখন পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে ইতিবাচক ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএমআরসি অনুমোদন কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী। সেই সঙ্গে গ্লোব বায়োটেক ও সিআরও গ্রুপের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের পরামর্শকরাও টিকাটির তথ্য-উপাত্তকে এ পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া অনেক টিকার চেয়ে ভালো ফলদায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন। সেদিকে নজর রেখে যে প্রতিষ্ঠানে ট্রায়াল হবে, সেখানে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিএমআরসি থেকে পরামর্শক হিসেবে আমাদের কাছে নতুন করে কিছু তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে। সেগুলো আমরা গত বুধবার বিএমআরসিতে জমা দিয়েছি। আমি এবং সিআরও গ্রুপের অন্য পরামর্শক ও বিজ্ঞানীরা এই টিকার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এটিকে অনেক টিকার চেয়ে ভালো কিছু দিক দেখতে পাচ্ছি, যা ভালো ফলদায়ক হতে পারে।’

ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘টিকাটি দেশে মানবদেহে ট্রায়ালের জন্য প্রয়োজনীয় সব শর্তই পূরণ করার মতো উপযুক্ত অবস্থায় আছে। সে হিসাবে আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিএমআরসি হয়তো ট্রায়ালের জন্য অনাপত্তি দিয়ে দেবে।’

গ্লোব বায়োটেকের গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. আসিফ মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এখন বিএমআরসির দিকে চেয়ে আছি। আমাদের বিশ্বাস, যেকোনো সময় বিএমআরসি থেকে ট্রায়ালের জন্য অনাপত্তি দিয়ে দিতে পারে।’

বিএমআরসির একাধিক সূত্র জানায়, অনেক খুঁটিনাটি তথ্য-উপাত্ত সময় নিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যাতে করে কোনো ভুলত্রুটির সুযোগ না থাকে। আর এই টিকার ট্রায়ালের অনুমোদন পেলে সেটা শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছেও আগ্রহ তৈরি করবে। এ ছাড়া এই টিকার যে সিআরও গ্রুপ রয়েছে তা এর আগে আরো কয়েকটি ট্রায়াল পরিচালনা করেছে।

গ্লোব বায়োটেক সূত্র জানায়, গত ২৮ ডিসেম্বর সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে তাদের ট্রায়ালের কাজে ব্যবহারের জন্য নমুনা টিকা তৈরির অনুমতি দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও এই অনুমতি দিয়েছে। এর আগে প্রথম গত বছর ২ জুলাই নিজেদের উদ্যোগে করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কথা জানান দেয় গ্লোব বায়োটেক। তাদের দাবি, গত বছর মার্চ মাস থেকেই তারা উদ্ভাবনের কাজ শুরু করেছিল। একপর্যায়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবনের আবেদনকারী তালিকায় নাম উঠেছে এই গ্লোব বায়োটেকের তিনটি প্রস্তাবিত টিকার। গত বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গ্লোব বায়োটেকের ডি৬১৪জি ভেরিয়েন্ট এমআরএনএ, ডিএনএ প্লাসমিড এবং এডিনোভাইরাস টাইপ৫ ভেক্টর নামের তিনটি ভ্যাকসিনের নাম প্রার্থী তালিকায় তুলেছে। এ ক্ষেত্রে জানানো হয়, গ্লোব বায়োটেকই বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা এককভাবে তিনটি টিকার নাম তালিকাভুক্ত করতে পেরেছে। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবিত টিকা প্রথমে ‘ব্যানকভিড’ নামে পরিচিতি পায়, যা প্রাণীর দেহে প্রয়োগে সাফল্য পাওয়ার তথ্য জানানো হয়। পরে ওই টিকার ট্রায়াল করার জন্য গ্লোব বায়োটেক ও আইসিডিডিআরবির মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তিও হয়েছিল, কিন্তু আইসিডিডিআরবি চুক্তির পরও তেমন কোনো অগ্রগতি দেখাতে না পারায় গ্লোব ওই চুক্তি বাতিল করে।

গ্লোব বায়োটেক সূত্র জানায়, পুরো প্রক্রিয়া একসময় অনিশ্চিত হয়েছিল আইসিডিডিআরবির ধীরগতির কারণে। একপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব গত ডিসেম্বর মাসে গ্লোব বায়োটেকের ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। তখন তিনি এই টিকার নাম ‘ব্যানকভিড’ পরিবর্তে ‘বঙ্গভ্যাক্স’ রাখার পরামর্শ দেন। সে অনুসারে পরে বঙ্গভ্যাক্স নামকরণ হয়।

ড. আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা প্রাণিদেহে পরীক্ষা চালিয়ে এক ডোজেই বেশ ভালো ফল পেয়েছি। কিন্তু মানবদেহে সেটা হেরফের হতে পারে আবার না-ও হতে পারে। যদি মানবদেহেও প্রাণিদেহের মতো কার্যকারিতা পাওয়া যায়, তবে এক ডোজেই কার্যকর হবে তা না হলে হয়তো দুই ডোজ লাগবে, যা নির্ধারিত হবে মানবদেহে ট্রায়ালের ভিত্তিতে।’

তিনি জানান, প্রস্তাবিত বঙ্গভ্যাক্সে এক মাস পর্যন্ত ২-৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখা যাবে এবং মাইনাস ২০ ডিগ্রিতে ছয় মাস পর্যন্ত রাখা যাবে।

কালের কন্ঠে প্রকাশিত
বাংলাদেশ এখন সত্যিকার অর্থেই মাফিয়া রাষ্ট্র : আমীর খসরু

বাংলাদেশ এখন সত্যিকার অর্থেই মাফিয়া রাষ্ট্র দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আদালত সবাইকে সম্পৃক্ত করে বেআইনিভাবে দেশের জনগণকে জেলে রাখা হচ্ছে। দেশে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। একটি রেজিম ক্ষমতায় থাকার জন্য রাষ্ট্রের সকল ইউনিটকে ব্যবহার করছে।’

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে দলের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যৌথ উদ্যোগে বিএনপির কারাবন্দি যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আসলাম চৌধুরীর মুক্তি দাবি করে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনের শাসনের নামে যে অপশাসন চলছে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আসলাম চৌধুরী। তাকে নিয়ে যে অন্যায় চলছে, সেটা একদিন আল-জাজিরার মতো বিশ্বের সব সংবাদমাধ্যমে খবর হয়ে উঠে আসবে। এজন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আসলাম চৌধুরীকে ২০১৬ সালের ১৫ মে কুড়িল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। যেসব অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সেগুলোতে ছয় মাসে জামিন হওয়ার কথা। কিন্তু তাকে মুক্তি না দিয়ে শতাধিক মামলার আসামি করা হয়েছে।’

পরিকল্পিতভাবে আসলাম চৌধুরীকে জামিন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘আসলাম চৌধুরীর জামিন আবেদন করা হলেই সরকারের তরফ থেকে শুনানির জন্য সময় চাওয়া হয়। এরপরেও হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্ট সব জায়গা থেকে তার জামিন হয়েছে। সর্বশেষ মামলায় জামিন হওয়ার পর শাহবাগ থানার ৮ বছর আগের এক মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে একদিন রিমান্ড শেষে বাকি দুই দিনের জন্য আরো এক মাস সময় চেয়েছে পুলিশ। এভাবেই তাকে গত ৫ বছর কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।’

আমীর খসরু আরো বলেন, ‘এখন যদি আসলাম চৌধুরীর কোনো মামলায় জেলও হয়, তিনি তার চাইতেও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়ে দিয়েছেন। আমরা চাই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার হোক। এখন বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, বিচার চাওয়াই দুষ্কর হয়ে গেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আসলাম চৌধুরী। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘বাংলাদেশের সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্র করার’ অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

চীনের টিকার অনুমোদন দিল হংকং

হংকং সরকার জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য চীনের তৈরি সিনোভ্যাক করোনাভাইরাস টিকার অনুমোদন দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সুপারিশের পর তুলনামূলকভাবে কম কার্যকারিতার এ টিকার অনুমোদন দেওয়া হয়।

হংকং সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম দফায় সিনোভ্যাক টিকার ১০ লাখ টিকা দ্রুত হংকংয়ে পৌঁছানো হবে। এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রথম দফার এসব টিকা শুক্রবার হংকংয়ে পৌঁছানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার সরকারের উপদেষ্টা প্যানেল সর্বসম্মতভাবে সিনোভ্যাক টিকার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, ঝুঁকি এড়াতে এ টিকা ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ লাভবান হবে। প্যানেল জানায়, উপাত্ত অনুযায়ী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় এ টিকার কার্যকারিতার হার ৬২.৩ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।

সূত্র : বাসস।

শেষ হল ইরান-রাশিয়া ও ভারতের যৌথ নৌমহড়া

ভারত মহাসাগরের উত্তরে ইরান, রাশিয়া ও ভারতের যৌথ নৌমহড়া শেষ হয়েছে। মেরিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট হাইব্রিড শীর্ষক এই মহড়ায় সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ক নানা ধরণের অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে। মহড়ায় ইরানের ‘জামারান’ ও ‘নাকদি’ ডেস্ট্রয়ার ছাড়াও বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিয়েছে। এতে রাশিয়া ও ভারতের কয়েকটি নৌ ইউনিটও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। দুই দিনব্যাপী মহড়ার শেষ দিনে গতকাল বুধবার জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযানের মহড়া সম্পন্ন করা হয়।

মহড়ার মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম রেজা তাহানি কল্পিত জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান সম্পর্কে বলেছেন, জলদস্যুদের কবলে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজ দু’টি চবাহার বন্দরের মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টারে সিগন্যাল পাঠায়। এরপর ইরানের নৌবাহিনীর একটি সিকোরস্কি এসডি-৩ডি সী কিং হেলিকপ্টার উড়ে যায় এবং পরিস্থিতি সরেজমিন দেখে আসে।

এরপর ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি জামারান ডেস্ট্রয়ারকে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয় এবং মহড়ায় অংশ নেওয়া যুদ্ধজাহাজকে ইরানি ও রুশ ইউনিট- দুই ভাগে বিভক্ত করে অভিযান শুরু হয়।

সূত্র: আনাদেলু এজেন্সি।

গালওয়ানে পাঁচজন নিহত, অবশেষে মেনে নিল চীন

গালওয়ান সীমান্তে সংঘর্ষে চীনের পাঁচজন কর্মকর্তা ও সৈনিকের প্রাণ গেছে। অবশেষে বিষয়টি স্বীকার করলো চীন। গত বছর গালওয়ানে ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র পাঁচজন প্রাণ হারান বলে স্বীকার করেছে বেইজিং।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সংখ্যার হিসাব ভারত কিংবা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সঙ্গে না মিললেও এই প্রথম চীন যে প্রাণহানির কথা মেনে নিল, তা কূটনৈতিক সাফল্যে বলেই মনে করছে দিল্লি।

দীর্ঘ টানাপড়েনের পর সম্প্রতি লাদাখে প্যাংগং হ্রদের তীর থেকে সেনা সরাতে শুরু করেছে চীন। এর মধ্যেই চীনা ‘পিএলএ ডেইলি’র একটি প্রতিবেদন সামনে নিয়ে এসেছে চীন সরকারের মুখপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’।

তাতে বলা হয়েছে, কারাকোরাম পর্বতে মোতায়েন ফ্রন্টিয়ার অফিসার এবং জওয়ান মিলিয়ে পাঁচজনের কথা উল্লেখ করে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (সিএমসি) জানিয়েছে, ২০২০ সালের জুনে গালওয়ানে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে তাদের পাঁচজনের।

নিহতদের মধ্যে শিনজিয়াং মিলিটারি কম্যান্ডের রেজিমেন্টাল কমান্ডার কুই ফাবাওয়ের নাম সামনে এনেছে ‘গ্লোবাল টাইমস’।

অন্যদের চেং হংজুন, চেন শিয়াংরং, শিয়াও সিউয়ান এবং ওয়াং ঝুরাং নামে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চেং হংজুনকে সীমান্ত সুরক্ষায় অবদানের জন্য বিশেষ মরণোত্তর সম্মান প্রদান করা হয়েছে। বাকিদের প্রথম শ্রেণির জওয়ান হিসেবে মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয়।

সূত্র: এনডিটিভি, ইকোনমিকস টাইমস

পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যেতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

পরমাণু চুক্তির ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা চার দেশের এক যৌথ বিবৃতির বরাত দিয়ে বলেছে, ইরান কঠোরভাবে পরমাণু চুক্তি মেনে চললে, যুক্তরাষ্ট্র একই কাজ করবে। চুক্তির ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বলেও জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, বারাক ওবামা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইরানের পরমাণু বিষয়ক চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি মোতাবেক, পরমাণু সমৃদ্ধ করা কমিয়ে আনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের পরমাণু প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করতে দেবে ইরান। এ চুক্তির ফলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সেই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় প্রচারণা চালাতে গিয়ে জো বাইডেন বলেছিলেন, ক্ষমতায় এসে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে ফিরে আসবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন তার দেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন চুক্তিতে পুনরায় ফিরবে, যদি ইরান তা মেনে চলে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

সূত্র: রয়টার্স