কে এফ সির প্রতিষ্ঠাতা
হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স হার না মানা গল্প

বিশ্বব্যাপী কেএফসি বেশ জনপ্রিয়। খুব অল্প সময়ে ফ্রাইড চিকেনের জন্য বেশ পরিচিত পায় এই রেস্তোরাঁটি। অনেকেই নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, এই রেস্তোরাঁয় এবং এর খাবারের প্যাকেটে চশমা পরা সদাহাস্যময় বৃদ্ধের একটি ছবি। তিনিই কিন্তু কর্নেল স্যান্ডার্স, কেএফসির মালিক। এই পর্যন্ত আসতে তাঁর জীবনে ঘটেছে অনেক উড়াই-উৎড়াই।

এই রেসিপিকে জনপ্রিয় করতে ওই বৃদ্ধকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল জীবনের বাষট্টিটি বছর। তার পুরো নাম হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্স। আমেরিকার ইন্ডিয়ানায় জন্ম ১৮৯০-এর ৯ সেপ্টেম্বর। বাবা উইলবার ছিলেন কৃষক। মা, মার্গারেট ছিলেন ঘরসংসার নিয়ে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন হারল্যান্ড।

হারল্যান্ডের বয়স যখন পাঁচ, হঠাৎই মারা যান তাঁর বাবা। সংসার চালানোর জন্য মা মার্গারেটকে বের হতে হলো উপার্জনের জন্য। এ সময় ছোট দুই ভাইবোনকে দেখভালের দায়িত্ব পড়ল হারল্যান্ডের উপর। তাদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে নিজেই মাথা খাটিয়ে বের করলেন মাংস আর পাউরুটি দিয়ে চটজলদি রকমারি পদ।এই শেফগীরী হারল্যান্ডকে বেশ আনন্দ দিত। কিন্তু বেশি দিন এই জীবনে থাকতে পারলেন না হারল্যান্ড। পারিবারিক অর্থকষ্টে পড়ে দশ বছর বয়সে বাধ্য হলো খামারবাড়ির কাজ নিতে। এর দু’বছর পরে মা মার্গারেট আবার বিয়ে করলেন। কিন্তু তার এই স্বামী কিছুতেই মেনে নিতে পারলেন না মার্গারেটের প্রথম পক্ষের তিন সন্তানকে।

সৎ বাবার অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে তেরো বছর বয়সে বাড়ি ছাড়লেন হারল্যান্ড। চলে গেলেন ইন্ডিয়ানার অন্যপ্রান্তে। মায়ের অনুরোধে আশ্রয় জুটল এক আত্মীয়ের বাড়িতে। এখানে জীবিকা নির্বাচনের জন্য হারল্যান্ডকে বিভিন্ন সময় বাসের কন্ডাক্টর, সেনাবাহিনীতে চাকরি, রেল ইঞ্জিনে বেলচা দিয়ে কয়লা ফেলা, কয়লার ইঞ্জিনের ছাই সাফাইয়ের কাজ করতে হয়েছে। সংগ্রামী জীবনের ১৯ বছর বয়সে হরল্যান্ড বিয়ে করলেন জোসেফিনকে। এক এক করে এক ছেলে, দুই মেয়ের বাবা হলেন। যদিও পুত্রসন্তান শৈশবেই মারা যায়।রেলের চাকরির পাশাপাশি করেসপন্ডেন্স কোর্সে আইন পড়তে শুরু করলেন হারল্যান্ড। কিন্তু বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় রেলের চাকরি হারাতে হলো তাকে। এর প্রভাবও পড়ল সংসারে। দুই মেয়েকে নিয়ে স্ত্রী জোসেফিন চলে গেলেন তাঁর বাবা-মায়ের কাছে।

আইন পাস করে শুরু করলেন প্র্যাক্টিস। ভালই জমিয়েছিলেন। কিন্তু বদমেজাজের জন্য ভাটা পড়েছিল মক্কেল-সংখ্যায়। জড়িয়ে পড়েন মক্কেলের সঙ্গে ঝামেলায়। যার ফলে বন্ধ হয়ে গেল আইন প্র্যাক্টিস।এরপর কাজ নিলেন জীবনবীমায়। ক’দিন কাজের পরে শুরু করলেন নিজের ফেরি সংস্থা। সেটাও বন্ধ করে আরম্ভ করলেন অ্যাসিটিলিন বাল্ব তৈরির কাজ। এ সময় বাজারে এসে গেল নতুন ইলেকট্রিক বাল্ব। যার কারণে বন্ধ হয়ে গেল তার বাল্বের কাজ।

কাজের সূত্রেই হারল্যান্ড এলেন কেন্টাকিতে। সেখানেও কিছু দিন এ কাজ, সে কাজের পরে তেল সংস্থায় নিলেন চাকরি। কাজের ফাঁকে শুরু করলেন শৈশবের শখ, রান্না করা। নতুন করে শুরু করলেন ফ্রাইড চিকেনের রেসিপি। আর খাওয়াতে লাগলেন পরিচিতদের। কেন্টাকির যে গ্যাস স্টেশনে কাজ করতেন তার পাশেই সাজিয়ে রাখতে শুরু করলেন নিজের তৈরি ফ্রায়েড চিকেন। এই খাবারের স্বাদ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা। তখন হারল্যান্ড এই ব্যবসাকে গুরুত্ব দিলেন। ধীরে ধীরে ফ্রায়েড চিকেন বিক্রিই হয়ে উঠল তাঁর মূল ব্যবসা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য বন্ধ হয়ে গেল তাঁর এই ব্যবসা। কয়েক বছরের বিরতি। ৬২ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে আমেরিকার উটা-তে সাউথ সল্টলেক এলাকায় নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করল হারল্যান্ডের রেসিপিতে ফ্রাইড চিকেনের দোকান। এর নাম দিলেন ‘কেন্টাকি ফ্রায়েড চিকেন’। যেহেতু কেন্টাকি থেকে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার স্মরণে এই নাম রাখা। এর সংক্ষিপ্ত ‘কেএফসি’ নামে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

তাঁর এই বাউন্ডুলেপনা মেনে নিতে পারেননি স্ত্রী জোসেফিন। ১৯৪৭ সালে জোসেফিনের সঙ্গে বিয়ে ভেঙে যায় হারল্যান্ডের। অবশ্য বিয়ে ভাঙার আগেই প্রেমে জড়িয়ে ছিলেন তিনি। নিজের দোকানের কর্মী ক্লদিয়াই ছিল তাঁর প্রেমিকা।

মূলত ক্লদিয়ার উৎসাহ আর অনুপ্রেরণায় নতুনভাবে পথ চলতে শুরু করে কেএফসি। এই ক্লদিয়াকে ১৯৪৯ সালে বিয়ে করেন হারল্যান্ড। তবে কেএফসি নিয়েও বেশি দিন থাকতে পারেননি হারল্যান্ড। বেশি দিন কোনও কিছুই ভাল লাগত না তাঁর। একঘেয়ে লাগতে শুরু হওয়ায় ১৯৬৪ সালে বিক্রি করে দেন কেএফসি।

মাত্র ২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে হাতছাড়া করেন কেএফসি। বিক্রির সময় দুই পক্ষই একটি চুক্তি করেছিলেন। তাহলো লোগোতে হারল্যান্ডের ছবি থাকবে, আর এর বিনিময়ে মোটা পারিশ্রমিকও পাবেন হারল্যান্ড।কোম্পানির হাতবদলের পরে মনে হয়েছিল তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আরও বেশি অর্থ পাওয়া উচিত ছিল। তাই তিনি মামলায় গেলেন। কিন্তু অনেক দেরি হওয়ায় নতুন মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেও সুবিধে করতে আদায় করতে পারেননি তিনি।

জীবন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মেতে থাকা কর্নেল অব কেন্টাকি বা হারল্যান্ড ডেভিড স্যান্ডার্সের জীবনাবসান ঘটে ১৯৮০ সালের ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু তাঁর রেসিপি এখনও স্বাদ দিয়ে যাচ্ছে সমগ্র বিশ্ববাসীকে।

আজও মিয়ানমারের রাস্তায় শিক্ষার্থীরা, সু চির মুক্তি দাবি

মিয়ানমারের শিক্ষার্থীরা জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আজ রবিবার নবম দিনের মতো বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির নির্বাচিত নেতা অং সান সু চিসহ গণতান্ত্রিক নেতাদের মুক্তি দাবিতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে মিছিল করছেন। তারা সাদা পোশাক পরে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। এদিকে রাজধানী নেপিডোতে মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩৪৪ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তাকারী সংস্থা দ্য অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস জানিয়েছে, আটকদের মধ্যে অধিকাংশদেরই রাতের আঁধারে আটক করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুনের বহু বিক্ষোভকারী কর্তৃপক্ষকে ‘রাতে মানুষকে অপহরণ বন্ধ’ করার আহ্বান জানিয়েছে।

দেশটির জান্তা সরকার হাজার হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেওয়ার পরে শনিবার গভীর রাতে ইয়াঙ্গুন ও দ্বিতীয় বড় শহর মান্ডলের রাস্তায় টহল দেওয়ার জন্য বাসিন্দারা একত্রিত হন। বাসিন্দারা ভয়ে আছেন, তাদের যে কোনো সময় আটক করা হতে পারে। এ জন্য বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অপিরিচিত কোনো ব্যক্তিকে দেখলে বাসনপত্র বাজিয়ে সতর্ক করার জন্য বলা হয়েছে।

ওয়াকি-টকি আমদানির অভিযোগে সু চিকে বন্দি রাখার মেয়াদ আগামীকাল সোমবার শেষ হবে। এর পরে কী হবে তা জানতে তার আইনজীবী খিন মাং জাওয়ের সঙ্গে যোগোযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

সূত্র : রয়টার্স।

চীন-রাশিয়ার সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ইরান

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে ইরান। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপড়েনের মধ্যেই তেহরান ওই দুই দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী পরমাণু কর্মসূচি থেকে ইরান সরে না গেলে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না।

অন্যদিকে ইরানের নেতারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুক। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থেকে তারা পরমাণু কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না।

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবেলা করার জন্য মিত্রদের দ্বারস্থ হচ্ছে ইরান।

এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ভোটের আগে জো বাইডেন বলেছিলেন, ক্ষমতায় এসে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরাবেন। তবে ক্ষমতায় আসার পর তিনিও ইরানের প্রতি কড়া অবস্থান নিয়েছেন।

সূত্র : নিউজ উইক।

অন্ধ্রপ্রদেশে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৪ জনের প্রাণহানি

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে শিশুসহ ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আজ রবিবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুলের জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে বলেছে, দুর্ঘটনায় চারজন শিশু বেঁচে গেলেও তাদের দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

অন্ধ্রপদেশের কুরনুল জেলার ভেলদুর্তি মণ্ডলের মাদারপুর গ্রামের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কুরনুলের পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দুর্ঘটনায় বাসে ১৮ জন যাত্রী ছিলো। কুরনুল থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে রবিবার ভোর ৪টার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

ইরাকে ১৬ আইএস জঙ্গি গ্রেপ্তার

ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী শনিবার ১৬ আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশটির কিরকুক ও মসুল প্রদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ওই আইসএস জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

২০১৪ সালে ইরাকের মসুল, সালাদিন ও আনোয়ার প্রদেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় আইএস। এ ছাড়া ডিয়ালা ও কিরকুক প্রদেশের কিছু অংশও সেই সময় দখলে নেয় জঙ্গি সংগঠনটি। ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর তৎকালীন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি দেশটিকে আইএসমুক্ত ঘোষণা করেন।

তিন বছর পর সম্প্রতি আবারও বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়ে জঙ্গি সংগঠনটি তাদের অস্তিত্বের জানান দিলে নতুন করে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী।

সূত্র : আনাদেলু এজেন্সি।

চতুর্থ দফায় আরও ৩৬০০ রোহিঙ্গা যাচ্ছে ভাসানচরে

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবির থেকে চতুর্থ দফায় নোয়াখালীর ভাসানচর যাচ্ছে আরও অন্তত ৩ হাজার ৬০০ জন রোহিঙ্গা। আজ রোববার দুপুরে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠ থেকে প্রথমে প্রায় ২ হাজার এবং পরের দিন সোমবার আরও ১ হাজার ৬০০ জন রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন পরিবহনে চট্টগ্রাম পাঠানো হবে। সেখান থেকে তাদের (রোহিঙ্গাদের) নৌবাহিনীর জাহাজে করে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে নেওয়া হবে।

স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সরকারি একটি সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক এমন প্রায় ২৩ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্য থেকে চতুর্থ দফায় স্থানান্তরের জন্য প্রায় ৪ হাজার জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এখন তাদের ক্যাম্প থেকে ট্রাকে তুলে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে জড়ো করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি কার্লয়) উপসচিব মোহাম্মদ সামছুদ-দ্দৌজা প্রথম আলোকে বলেন, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি চতুর্থ দফায় কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে সাড়ে তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হবে। ইতিমধ্যে টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে জড়ো করা হচ্ছে।

আরআরআরসি কার্যালয় সূত্র জানায়, এর আগে তিন দফায় কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৮৮ জন রোহিঙ্গাকে। এর মধ্যে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় স্থানান্তর করা হয় ১ হাজার ৬৪২ জন, ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় ১ হাজার ৮০৪ জন, চলতি বছরের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় স্থানান্তর করা হয়েছে ৩ হাজার ২৪২ জনকে। ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে মোট ১ লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুরু হলে পরের কয়েক মাসে অন্তত ৮ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে আসে আরও কয়েক লাখ। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ।

গতকাল টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচটি বাসে করে রোহিঙ্গাদের একটি দলকে উখিয়ায় নেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে টেকনাফের মেরিনড্রাইভ সড়ক থেকে বাসে ওঠার সময় রোহিঙ্গাদের বিদায় জানাতে এসেছিলেন তাঁদের বন্ধু ও স্বজনেরা। বাসে ওঠার আগে রোহিঙ্গা মো. শফিক (৪৫) প্রথম আলোকে বলেন, ভাসানচরে আগে যারা (রোহিঙ্গা) গেছে তারা সবাই ভালো আছে, নিরাপদে আছে—এমন খবর জানার পর তাঁরাও ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা জালাল আহমদ বলেন, আশ্রয়শিবিরগুলো বেশির ভাগ পাহাড়ের ঢালুতে তৈরি। বর্ষার সময় পাহাড়ধসে ঘরবাড়ি বিলীন হয়। আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও বখাটের উৎপাত বেড়েছে। সম্প্রতি দুটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দলের মধ্যে গোলাগুলিতে দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। তাই ঝুঁকি এড়াতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

নদীর পানিতে রহস্যজনক তরল ‌‌‘সোনার স্রোত’!

আমাজনের গভীর বনাঞ্চলের একটি অংশ থেকে ঠিকরে বেরচ্ছে সোনার আলোর ছটা। এমনই চিত্র উঠে এসেছে আমাজনের দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর অংশে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) তোলা ওই রহস্যজনক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আমাজনের বড় বড় নদীগুলোর পানিতে বয়ে যাচ্ছে তরল সোনার স্রোত। জলের ধারার মতো। নদীগুলি যেন হয়ে উঠেছে ‘তরল সোনার নদী’!

ভূপৃষ্ঠের ৩৭০ কিলোমিটার উপরে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করতে করতে সেই তাক লাগানো ছবি প্রকাশিত হয়েছে নাসার ‘আর্থ অবজারভেটরি’র ওয়েবসাইটে।

এর রহস্য নিয়ে নাসার আর্থ অবজারভেটরির তরফে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাস্টিন উইলকিনসন জানান, ওই পানির উপরে পড়ে সূর্যের আলো প্রতিফলিত হওয়ার জন্যই মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা ছবিতে মনে হচ্ছে যেন তরল সোনার স্রোত বয়ে যাচ্ছে পেরুর আমাজন বনাঞ্চলের ওই অংশের নদীগুলোতে।

এদিকে উইলকিনসন জানান, পেরুর মাদ্রে দ্য দিয়স প্রদেশের ওই এলাকায় রয়েছে প্রচুর সোনার খনি। সেই খনিগুলো থেকে চোরাগোপ্তা সোনা তোলার কাজে জড়িত অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। নদীর জলে থিতিয়ে পড়া জিনিসপত্রের মধ্যে খুঁজে খুঁজে স্বর্ণকণিকাগুলোকে আলাদা করতে গিয়ে পারদ ব্যবহার করছেন সোনা-চক্রীরা। তার ফলে নদীর পানিগুলো বিষিয়ে যাচ্ছে। যা স্থানীয় মানুষের পক্ষে হয়ে উঠছে রীতিমতো বিপজ্জনক।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

১১৯ বছর পর আসামে দেখা মিলল মান্দারিন হাঁসের

ধ্বংসের ধূসর ক্যানভাসের মধ্যেই রঙ ছড়ালো মান্দারিন হাঁস। ১১৯ বছর পরে মান্দারিন হাঁসের দেখা মিলল ভারতের আসামে। গত বছর আসামের তিনসুকিয়ায় বাঘজানে গ্যাস কূপে বিস্ফোরণে আশপাশের বাস্তুতন্ত্র-জলভূমিতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল।

দীর্ঘদিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে পুড়ে যায় আশপাশের সব গাছপালা। প্রচুর তেল ও বর্জ্য মিশেছিল আশপাশের বিল ও জলাভূমিতে। অদূরেই ছিল ডিব্রু-শইখোয়া জাতীয় উদ্যান ও পাখিদের পছন্দের চারণভূমি মাগুরি-মতাপুং বিল। তেলে, আগুনে ও গ্যাসে বিলের প্রচুর মাছ মারা যায়। জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর ক্ষতি হয়েছিল।

কিছুদিন আগে ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার সদস্যেরা বিরল প্রজাতির সাদা ডানার উড ডাকের বসতির সন্ধানে উজানি আসাম থেকে অরুণাচল পর্যন্ত সমীক্ষায় নেমেছিলেন।

এ হাঁসের সংখ্যা মাত্র ২০০টি। হঠাৎ ক্যামেরায় ধরা পড়ে মাগুরি বিলে ভাসছে একটি মান্দারিন হাঁস। একটি স্পট বিলড হাঁসের সঙ্গে তাকে দেখা যায়।

সমীক্ষা দলের নেতৃত্বে থাকা আফতাব আহমেদ জানান, ১৯০২ সালে শেষ এই হাঁসের দেখা মিলেছিল রাজ্যে। মান্দারিন হাঁস ভারতে আসে না। কখনও ভুল করে আকাশে দলছুট হয়ে কেউ কেউ অন্য হাঁসেদের দলের সঙ্গে ভিড়ে ভারতে ঢুকে পড়ে। এ বারেও তেমনই এক হাঁস হাসি ফোটালো পাখিপ্রেমীদের মুখে।

সোনায় মোড়া প্রাসাদ-বিমান, হাজারো গাড়ি; এই রাজার সম্পত্তি দেখে চোখ কপালে!

রাজারা সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মাতেন, সোনার থালায় খেতেন-এ সব কথা অনেক শুনেছেন। কিন্তু সোনার প্রাসাদ! এ বিশ্বে এমন এক রাজা রয়েছেন তিনি বসবাসের জন্য আস্ত সোনার প্রাসাদই বানিয়ে ফেলেছেন।

তিনি হলেন ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানল বলকিয়াহ। ১৯৮৪ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্ত হয় ব্রুনেই। সে বছরই সুলতান হাসানল বলকিয়াহ এই প্রাসাদ গড়ে তুলেছিলেন বসবাসের জন্য।

ওই প্রাসাদের নাম ইস্তানা নুরুল ইমান। তবে বলকিয়াহ রাজ পরিবারে আরও একটি প্রাসাদ রয়েছে। তার নাম হাউস অব বালকিয়াহ। ১৪ শতকে এই প্রাসাদ গড়ে উঠেছিল। কিন্তু তখন রাজপ্রাসাদের নাম হাউস অব বলকিয়াহ ছিল না। ঠিক কবে থেকে এমন নামকরণ হয়েছে তা স্পষ্ট নয় ইতিহাসবিদদের কাছে।

অনেকেরই মত, ব্রুনেইয়ের বর্তমান সুলতান হাসানাল বলকিয়াহের নামানুসারে এই প্রাসাদের নামকরণ হয়েছে।

হাসানাল বলকিয়াহ হলেন ব্রুনেইয়ের বর্তমান সুলতান। তিনি ২৯তম সুলতান এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রীও। তবে ইস্তানা নুরুল ইমান প্রাসাদ বানানোর পর হাউস অব বলকিয়াহের জৌলুস কমে গেছে।

সুলতান হাসানাল বিশ্বের সেরা ধনীদের মধ্যে অন্যতম। ২০০৮ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুসারে তার সম্পত্তির পরিমাণ দুই হাজার কোটি ডলার।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের পর তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রাজত্ব করা সুলতান। ২০১৭ সালের ৫ অক্টোবর শাসনকালের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব পালন করেন তিনি।

সুলতানের সম্পত্তির মূল উৎস ব্রুনেইয়ের বিপুল তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস। সুলতানের সোনার প্রাসাদ রয়েছে ব্রুনেই নদীর তীরে। ব্যক্তিগত বসবাসের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাসাদ এটিই। এর নামের অর্থ বিশ্বাসের আলোর প্রাসাদ।

এর নকশা বানিযেছিলেন লিয়ান্ড্রো ভি লকসিন। ইসলাম এবং মালয় দুই রকম ঐতিহ্যের ছাপই রয়েছে এই সোনার প্রাসাদে।

সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রাসাদ ঘুরে দেখার অনুমতি নেই। একমাত্র রমজান মাসের শেষে এক উৎসব উপলক্ষে সাধারণ মানুষ প্রাসাদে ঢুকতে পারেন এবং রমজান মাসে প্রাসাদ মুসলিমদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

৩ দিন ধরে উৎসব চলে। সে সময় প্রতি বছর ১ লাখেরও বেশি দর্শক হয়। নানা রকম সুস্বাদু পদের পাশাপাশি সবুজ কাগজে মোড়া উপহারও দেওয়া হয় দর্শকদের। মূলত পরিবারের ছোটদের জন্য টাকা দেওয়া হয় উপহার হিসেবে।

এই প্রাসাদটি ২০ লাখ বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। তবে প্রাসাদটি আগাগোড়া সোনায় মোড়া নয়। প্রাসাদের চূড়া ২২ ক্যারাট সোনা দিয়ে তৈরি।

অত্যন্ত বিলাসবহুল এই প্রাসাদে সুলতান থাকেন, পাশাপাশি ব্রুনেইয়ের সমস্ত প্রশাসনিক কাজও হয় এখান থেকেই। তার জন্য আলাদা আলাদা ঘর বরাদ্দ রয়েছে। প্রাসাদে অন্তত ১৭০০টি ঘর রয়েছে। ২৫৭টি শৌচালয় এবং ৫টি সুইমিং পুল রয়েছে।

সুলতান ৭ হাজার গাড়ির মালিক। এই ৭ হাজার গাড়িই রাখা থাকে এই প্রাসাদের গ্যারাজে। যার জন্য ১১০টি আলাদা গ্যারাজ রয়েছে। এই গাড়ির মধ্যে রয়েছে ৩৬৫টি ফেরারি, ২৭৫টি ল্যাম্বারগিনি, ২৫৮টি অ্যাস্টন মার্টিন, ১৭২টি বুগাটি, ৬০০ রোলস রয়েস, ৪৪০টি মার্সিডিজ বেনজ, ২৬৫টি অডি, ২৩৭টি বিএমডব্লিউ, ২২৫টি জাগুয়ার, ১৮৩টি ল্যান্ড রোভার।

পোলো খেলা সুলতানের নেশা। তাই ২২০টি পোলো ঘোড়ার জন্য একাধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আস্তাবলও রয়েছে প্রাসাদে। এমনকি সোনার পাত লাগানো ব্যক্তিগত বিমানও রয়েছে সুলতানের। সেই বিমানেরও ঠাঁই এই প্রাসাদেই।

সূত্র: আনন্দবাজার।

অনেক খেলেও ওজন বাড়ায় না যেসব খাবার

t

যারা ওজন কম রাখতে চান, সাধারণত তারা কম খান। তবে কম খাওয়া মানেই ওজন কম রাখা নয় কিংবা বেশি খেলেই ওজন বেড়ে যাবে-এমন কোনো কথা নেই। কিছু খাবার আছে যা প্রচুর পরিমাণে খেলেও আপনার ওজন বাড়বে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু খাবার সম্পর্কে।

পালং শাক : পালং শাক শীতকালের একটি জনপ্রিয় সবজি। এতে আয়রন, জিংক এবং ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ রয়েছে। শাকটিতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।পালং শাকে আয়রন, ফলিত এবং অন্য পুষ্টি উপাদান ত্বক, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক।

গাজর : গাজরে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের সুস্থতা এবং দৃষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালীন এই সবজিতে ক্যালরির পরিমাণ কম, ফাইবার সমৃদ্ধ এবং অন্যান্য পুষ্টিতে ভরপুর। স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে গাজর।

 

পপকর্ন : ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক চমৎকার খাবার পপকর্ন। প্রতি কাপ পপকর্নে মাত্র ৩০ ক্যালরি থাকে এবং এটি পলিফেনলস নামে এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।  এটি হজমক্রিয়া ঠিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

সবুজ ডাল : সবুজ ডালে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী। এ ছাড়া এটি ফলিত, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি১, ফসফরাস, আয়রন কপার, পটাশিয়াম এবং জিংকে ভরপুর। এগুলো ত্বকের স্বাস্থ্য, হজমক্রিয়া এবং অন্যান্য জটিল রোগের জন্য উপকারী।

আপেল : বিদেশি ফল হলেও আপেল খুবই সহজলভ্য। এটি বিভিন্নভাবেই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর গন্ধ ক্ষুধা দমন করে।আপেলে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং পটাশিয়াম রয়েছে, যা দ্রুত হজমে সহায়ক এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।