আফগানিস্তানে জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলা, নিহত ৫

কাবুলে জাতিসংঘের একটি গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় অন্তত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।নিহতরা সবাই জাতিসংঘের ওই গাড়িবহরের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) কাবুল থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পূর্বে সুরোবি জেলার তাং-এ-হাব্রেশিম এলাকায় জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় এক গাড়িচালক নিহত হলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এতে প্রাণ হারান গাড়ির আরও চার আরোহী।

আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, এ হামলায় তালেবান জড়িত। তবে তার অভিযোগ অস্বীকার করেছে সশস্ত্র সংগঠনটি। হামলায় জাতিসংঘের কোনও কর্মকর্তা হতাহত হননি বলেও নিশ্চিত করেছে ইউএনএএমএ।

প্রায় এক বছর আগে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের চুক্তির পর থেকে আফগানিস্তানে বিদেশি বাহিনী ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। তবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে আবারো হামলা-সহিংসতা বেড়ে গেছে।

যাযাদি

ভুয়া তথ্য দিয়ে নেপালে নিষিদ্ধ ভারতের দুই পর্বতারোহী

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের চূড়ায় ওঠা নিয়ে ভুয়া তথ্য দেওয়ায় ভারতের দুই পর্বতারোহী এবং তাদের দলনেতা নবকুমার পুকনকে ৬ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে নেপাল। এসব পর্বতারোহী এই সময়ের মধ্যে নেপালের আর কোনো পর্বতে আরোহণ করতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা ২০১৬ সালের মে মাস থেকে কার্যকর হবে।
ভারতের নরেন্দ্র সিং যাদব ও সীমা রানী গোস্বামী জানিয়েছেন, তারা ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে এভারেস্টে উঠেছেন। সেই সময় নেপালের পর্যটন দপ্তরও এ বিষয়ে তাদের প্রত্যয়ন দেয়। ৮ হাজার ৮৪৮ দশমিক ৮৬ মিটার উচ্চতায় উঠতে পারলেই এভারেস্টের চূড়ায় ওঠা হয়েছে বলে গণ্য করা হয়।

কিন্তু গত বছর যাদব মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তেনজিং নরগে অ্যাডভেঞ্চার অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হওয়ার পর ভারতের পর্বতারোহীদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নেপাল কর্তৃপক্ষ।

নেপালের পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তারানাধ অধিকারী এএফপিকে তাদের তদন্ত প্রসঙ্গে বলেন, ‘অন্য পর্বতারোহীদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন এই দুজন কখনো চূড়ায় পৌঁছাতে পারেননি। তারা চূড়ায় গেছেন এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি…এমনকি তারা চূড়ায় ওঠা অবস্থায় তাদের কোনো ছবিও দেখাতে পারেননি।’

একই সঙ্গে এই অভিযানের আয়োজন প্রতিষ্ঠানকেও ৫০ হাজার রুপি (৪৫০ মার্কিন ডলার) ও তাদের সহায়তাকারী শেরপাকে ১০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়।

২০১৬ সালেও এভারেস্টজয়ী একজনের ছবির মুখের জায়গায় নিজেদের ছবি বসিয়ে দিয়ে এভারেস্ট জয়ের প্রত্যয়ন আদায় করে প্রতারণার দায়ে ভারতীয় এক দম্পতিকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

বর্তমানে এভারেস্ট জয়ের দাবি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোনো নিখুঁত পদ্ধতি নেই। পুরো ব্যবস্থাটিই দাঁড়িয়ে আছে আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর। এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার পর নেমে এসে পর্বতারোহীরা প্রমাণ হিসেবে নেপাল বা চীনের কর্তৃপক্ষের কাছে চূড়ায় তোলা ছবি জমা দিতে হয়। যে দলের সঙ্গে ওই পর্বতারোহী এভারেস্ট অভিযানে গিয়েছিলেন, সেই দলের প্রধানের একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। এর সঙ্গে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে থাকা সরকারি লিয়াজোঁ কর্মকর্তার কাছ থেকেও সমর্থনসূচক একটি প্রতিবেদন আনতে হয়। আর এসব কাগজ জমা দিলেই পাওয়া যায়, এভারেস্ট জয়ের আনুষ্ঠানিক সনদ।

যাযাদি

কাশ্মীর ইস্যুতে মার্কিন অবস্থানে হতাশ পাকিস্তান

কাশ্মীর ইস্যুতে জো বাইডেন প্রশাসনের অবস্থানকে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। ১৮ মাস বন্ধ রাখার পর ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা চালু করায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি টুইট করে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
টুইট বার্তায় বলা হয়, ‘ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর’ এলাকায় দেড় বছর পর আবারও ৪জি ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার উদ্যোগকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক এ টুইটবার্তায় হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে উল্লেখ করায় জো বাইডেন প্রশাসনের অবস্থানকে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’। এতে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার পদক্ষেপকে মার্কিন প্রশাসন এক অর্থে অনুমোদন দিয়ে দিল।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে ভারতের দখলদারিত্বকে স্বীকৃত দিল বাইডেন প্রশাসন।

খবর আনাদোলুর

সঙ্গীতশিল্পী মিলাকে খুঁজছে পুলিশ

রকস্টার মিলাকে পুলিশ খুঁজছে। অ্যাসিড নিক্ষেপের মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। মিলার সহযোগী কিম জন পিটার হালদারকেও গ্রেফতারের আদেশ দিয়েছে। ওই মামলায় জামিনে ছিলেন তারা। মামলায় হাজিরা না দেওয়ায় ঢাকার অ্যাসিড দমন ট্রাইবুনালের জেলা জজ এই গ্রেফতারির আদেশ দেন।

গ্রেফতার আদেশের বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, মিলা ও তার সহযোগী কিমকে গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি চলছে। বৃহস্পতিবার রাতেও মিলার মিরপুরের বাসায় তল্লাশি চালাই, কিন্তু এখনও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে। আশা করি, শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করে আদালতে সমর্পণ করতে পারব।

২০১৯ সালের ২ জুন সাবেক স্বামীর ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপের মামলায় সিআইডির তদন্তে অভিযুক্ত হন সংগীত শিল্পী মিলা ও তার সহযোগী কিম। এরপর ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর সিআইডি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরে ২৮ জানুয়ারি ঢাকার অ্যাসিড দমন ট্রাইব্যুনাল ওই চার্জশিট আমলে নিয়ে উভয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও পলাতক থাকায় ক্রোকি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতের জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা পল্লবী থানায় পৌঁছায়। এরপর থেকেই পল্লবী থানা পুলিশ অভিযুক্ত মিলা ও তার সহযোগী কিমকে খুঁজছে। তাদের আবাসস্থল ও সম্ভাব্য অবস্থানে কয়েক দফা তল্লাশি চালিয়েও তাদেরকে গ্রেফতার করা যায়নি। পরিবারের দাবি, তারা কোথায় আছে এ সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই।

মিলার সহযোগী কিম ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান। পরবর্তীতে জামিন নিয়ে আর আদালতে হাজিরা দেননি। অপরদিকে মিলা এই মামলার ১নং আসামি। তিনি এখন পর্যন্ত কখনওই আদালতের মুখোমুখি হননি।

যাযাদি

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে আজ দেশে ফিরছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। মার্কিন সেনাবাহিনী প্রধানের আমন্ত্রণে গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান তিনি। সফরকালে পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান।

আইএসপিআর জানায়, গত মঙ্গলবার মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল ম্যাককনভিলের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান। মার্কিন সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। পরে দুই দেশের সেনাপ্রধানের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতামূলক বিভিন্ন বিষয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান দুই দেশের মধ্যে সমর বিশেষজ্ঞ বিনিময়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী মোতায়েন এবং কাউন্টার টেরোরিজম ও সাইবার ওয়ারফেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে মার্কিন সেনাবাহিনীর সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

সফরে যেসব সামরিক স্থাপনা জেনারেল আজিজ পরিদর্শন করেন তার মধ্যে রয়েছে ইউএস আর্মি সাইবার কমান্ড, ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কমান্ড, ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জর্জিয়ার ম্যানুভার সেন্টার অব এক্সিলেন্স ও লুইজিয়ানার জয়েন্ট রেডিনেস ট্রেনিং সেন্টার।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত
আদালতে নেয়া হচ্ছে রন হক সিকদারকে

এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি, সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদারকে আদালতে নেয়া হচ্ছে।

আজ শুক্রবার সকালে হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরই তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

সিকদার গ্রুপের মালিক জয়নুল হক সিকদারের ছেলে এবং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন এক্সিম ব্যাংকের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সিরাজুল ইসলাম। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ঋণের জন্য বন্ধকি সম্পত্তির মূল্য বেশি দেখাতে রাজি না হওয়ায় এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেন সিকদার গ্রুপের দুই পরিচালক। শুধু তাই নয়, তারা দুই কর্মকর্তাকে বনানীর বাসায় জোর করে আটকে রেখে নির্যাতন এবং সাদা কাগজে সই নেন।

পরে ২৫ মে দুই ভাই আরঅ্যান্ডআর এভিয়েশনের একটি উড়োজাহাজকে তারা রোগীবাহী হিসেবে উল্লেখ করেন। আরঅ্যান্ডআর এভিয়েশন সিকদার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের দুটি উড়োজাহাজ ও সাতটি হেলিকপ্টার রয়েছে, যেগুলো ভাড়ায় চালানো হয়। উড়োজাহাজ দুটির একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান হকার বিচক্র্যাফটের তৈরি হকার-৮০০ মডেলের ও অন্যটি ইতালির তৈরি পিয়াজিও। করপোরেট জেট হিসেবে পরিচিত এসব উড়োজাহাজে রোগী বহন করার সময় আসন খুলে রোগীর জন্য বিশেষভাবে নির্মিত বিছানা যুক্ত করা হয়।

এদিকে বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার গত বুধবার দুপুরে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ বাদ জুমা তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

জয়নুল হক সিকদারের ছেলেদের মধ্যে রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার এ গ্রুপের পরিচালক। আর মেয়ে পারভীন হক সিকদার সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের গড়া সিকদার গ্রুপের ব্যবসা ছড়িয়ে আছে ব্যাংক ও বীমা, বিদ্যুৎ, ইকনোমিক জোন, এভিয়েশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মত নানা খাতে।

এর সহযোগী কোম্পানির মধ্যে রয়েছে পাওয়ার প্যাক পোর্টস, পাওয়ার প্যাক ইকনোমিক জোন, সিকদার ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পাওয়ার প্যাক হোল্ডিংস, সিকদার রিয়েল এস্টেট ও মাল্টিপ্লেক্স হোল্ডিংস।

কয়েকটি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠান করেছেন জয়নুল হক সিকদার। ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ পোস্ট সিকদার গ্রুপেরই একটি প্রকাশনা।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত
২০১৯-২০ অর্থবছর বিনিয়োগ আগ্রহের শীর্ষে ইউনাইটেড গ্রুপ

গত অর্থবছরের শেষার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বকেই স্থবির করে দিয়েছিল কভিড-১৯ মহামারী। তবে এর মধ্যেও আগ্রাসী বিনিয়োগ প্রবণতা বজায় রেখেছেন অনেক উদ্যোক্তা। বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থবির অর্থনীতিতেও জ্বালানির সঞ্চার করেছে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) বার্ষিক প্রতিবেদনেও। সংস্থাটির প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেসরকারি খাতের প্রস্তাবিত শীর্ষ ১০ প্রকল্পেই বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে প্রায় ১১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকার। এর মধ্যে শীর্ষ তিন বিনিয়োগ প্রস্তাবের মধ্যে দুটিই ছিল ইউনাইটেড গ্রুপের।

মহামারীকালে অদম্য বিনিয়োগ মেজাজে ছিল ইউনাইটেড গ্রুপ। ইউনাইটেড চট্টগ্রাম পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি নিবন্ধন করেছে গ্রুপটি। গত অর্থবছরে কোম্পানিটির বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে ৪ হাজার ২৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার।

শুধু ইউনাইটেড চট্টগ্রাম পাওয়ার লিমিটেডেই থমকে ছিল না ইউনাইটেড গ্রুপের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব। ২০১৮-১৯ সালে নিবন্ধিত ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ার লিমিটেডের বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য গত অর্থবছরে বড় একটি প্রস্তাব দিয়েছে গ্রুপটি। এ সময় ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ার লিমিটেডে গ্রুপটির আরো ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন দিয়েছে বিডা।

এ বিষয়ে ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দীন হাসান রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ইউনাইটেড চট্টগ্রাম পাওয়ার লিমিটেডের কোম্পানি গঠন করে রেখেছি আমরা। নিবন্ধিত প্রকল্পটি চুক্তি সই হওয়ার পর বাস্তবায়নে তিন বছর লাগতে পারে। কভিডকালে আমরা বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকিনি। একের পর এক প্রকল্পের কাজ আমরা করে যাচ্ছি। বিনিয়োগ শ্লথ করার কোনো কারণ আছে বলে আমরা মনে করিনি। এটা ঠিক যে এ পরিস্থিতিতে নতুন কোনো ঋণের দিকে আমরা ঝুঁকিনি। কিন্তু আমাদের বিনিয়োগ ক্ষুধাও কমেনি। কভিডের মধ্যেও আমরা এমন কোনো সূচক দেখিনি, যাতে অর্থনীতি খারাপ হচ্ছে। বরং তা শক্তিশালী হচ্ছে। সরকারও কিছু সঠিক নীতিসহায়তা দিয়েছে। এর প্রভাবে যে ভয় পাওয়ার মতো পরিস্থিতি এসেছিল, পরে সেটার কোনো কার্যকারিতা আর দেখা যায়নি।

কভিডকালে ইউনাইটেড গ্রুপের মতো বড় বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে এসেছে আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বিডায় নিবন্ধিত দেশী বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে অনন্ত হোটেল অ্যান্ড পাওয়ার রিসোর্ট লিমিটেড, ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ার লিমিটেড, সেখ আকিজউদ্দিন লিমিটেড, মেঘনা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড, এনপিএম পায়রা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড, জেএএল এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সালাম স্টিল কনকাস্ট রি-রোলিং মিলস, দ্য ক্রাউন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট ও যমুনা পেপার মিলস লিমিটেড।

ঢাকায় একটি বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প নিবন্ধন করেছে অনন্ত হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৩০০ রুমবিশিষ্ট একটি বিজনেস হোটেল, ১৫ অফিস ফ্লোরবিশিষ্ট একটি কমার্শিয়াল বিল্ডিং এবং তিন-চার রুমের ৭১টি ইউনিটবিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন নির্মাণ। বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যাংকের পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনও (আইএফসি) এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বলে জানা গিয়েছে।

গত অর্থবছরে সেখ আকিজ উদ্দিন লিমিটেডের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন হয়েছে ৯৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার। একই সময়ে মেঘনা গ্রুপের মেঘনা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেডের বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন হয়েছে ৯৩১ কোটি ৫১ লাখ টাকার।

যমুনা পেপার মিলস লিমিটেডে বিনিয়োগের জন্য এ সময় যমুনা গ্রুপের প্রস্তাব এসেছে ৪১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার। এ প্রসঙ্গে যমুনা গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, মহামারী এখনো চলছে। কিন্তু সবকিছু তো থেমে থাকবে না, থাকেওনি। একটা প্রকল্প সচল করতে ন্যূনতম দুই বছর সময় লাগে। কারণ জমি উন্নয়ন থেকে শুরু করে ভবন অবকাঠামো উন্নয়নসহ অনেক কাজ থাকে। এরই মধ্যে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে যন্ত্রপাতি স্থাপন চলছে। উৎপাদনে আসতে আরো তিন-চার মাস লাগবে। কভিডের কারণে লোকবল কাজে লাগানো যায়নি। ফলে কিছুটা পিছিয়েছে। সরকারের নীতিসহায়তা আমাদের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়তা করেছে।

এছাড়া গত অর্থবছরে এনপিএম পায়রা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেডে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন হয়েছে ৮৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার। এর বাইরেও এ সময় বেসরকারি খাতে বিডার নিবন্ধনকৃত উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে জেএএল এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে ৫৭৯ কোটি ২৬ লাখ টাকার, সালাম স্টিল কনকাস্ট রি-রোলিং মিলসে ৪৮৪ কোটি ৩৮ লাখ ও দ্য ক্রাউন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ৪৩৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব।

বিডার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, করোনার মধ্যেও গত অর্থবছরে দেশে স্থানীয় ও বিদেশী মিলিয়ে ৯০৫টি প্রকল্পে মোট ১ হাজার ৩৭৯ কোটি ডলারের (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা) বিনিয়োগ নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৯টি প্রকল্পে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ নিবন্ধিত হয়েছে ৭৪ হাজার ৬২৪ কোটি টাকার। ১৬৬টি প্রকল্পে বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাবে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছে ৪২ হাজার ৩১৫ কোটি ২০ লাখ টাকার। গত অর্থবছরের প্রস্তাবিত দেশী-বিদেশী এসব বিনিয়োগ প্রকল্পে মোট কর্মসংস্থান হবে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৭ জনের।

দেশে বিনিয়োগ সম্পৃক্ত খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেক কিছুই নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। গত অর্থবছরে চ্যালেঞ্জ বলতে ছিল মূলত কভিড-১৯, যা নানাভাবে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে রফতানিমুখী শিল্পে এর প্রভাব পড়েছে বেশি। দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগেও স্থবিরতা ছিল। তবে এ স্থবিরতা ছিল অন্যান্য দেশের তুলনায় স্বল্প সময়ের জন্য। এ স্বল্প সময়ে বিনিয়োগ পরিবেশে নাজুক পরিস্থিতির লক্ষণ দেখা দিলেও অর্থনীতি সচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত কাটতে শুরু করে। সরকারের নীতিসহায়তাও এক্ষেত্রে কার্যকর প্রভাবকের ভূমিকা রেখেছে। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক স্থবিরতা যাতে দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়েও ব্যবসায়ীরা সচেষ্ট ছিলেন। এর প্রতিফলন হিসেবেই স্থানীয় অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই বিনিয়োগ প্রবণতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এ বিষয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, গত বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে আমরা দেখেছি, বিনিয়োগ নিবন্ধন একেবারেই কম। কিন্তু জুলাইয়ের পর থেকে এটা বাড়তে থাকে। অর্থাৎ ব্যবসায়ীদের বসে থাকার কথা না। তারা বসেও থাকেননি। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্যাকেজটি অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে খুব দ্রুত। এর ফলে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ মেজাজও ধরে রাখা গিয়েছে। আরেকটি দিক হলো মহামারী একসময় চলে যাবে, এমন মানসিকতা সবার মধ্যেই ছিল। সভ্যতার বিকাশে যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে তার প্রভাবে টিকা আবিষ্কারেও আগের চেয়ে সময় কম লেগেছে। এটাও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে সাহস জুগিয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীরা এটাও ভেবে দেখেছেন, মহামারী যাওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকলে তারা সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ হারাবেন। কারণ করোনাকালে অনেক বড় সম্ভাবনারও দেখা মিলেছে।

খবর ব্লুমবার্গ।
ভয়াবহ সংকোচনে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে ক্ষত আরো গভীর হচ্ছে। নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশটির অর্থনৈতিক সংকোচন বেড়েছে। সব মিলিয়ে ১৯৯৮ সালে এশিয়ায় তৈরি হওয়া আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে বাজে অবস্থার দিকে এগোচ্ছে দেশটির অর্থনীতি।

শেষ প্রান্তিকে মালয়েশিয়ার জিডিপি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, যা পূর্বানুমানের চেয়ে কিছুটা বেশি। বিশ্লেষকরা আলোচ্য সময়ের জন্য ৩ দশমিক ১ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। চতুর্থ প্রান্তিকের এই নেতিবাচক ফল দেশটির পুরো অর্থবছরের দুর্দশা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সার্বিকভাবে গত অর্থবছরে দেশটির অর্থনীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ সংকোচনের প্রাক্কলন করা হয়েছিল। মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালের পর জিডিপিতে এত বড় পতন আর কখনো দেখা যায়নি।

সংকোচনের এই মাত্রা দেশটির অর্থনীতির জন্য আরো বেশি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ওভারসি-চাইনিজ ব্যাংকিং করপোরেশনের অর্থনীতিবিদ উইলিয়ান উইরান্টো বলেন, বছর শেষে এসেও দেশটির অর্থনীতিতে এই নেতিবাচক ধারা নিঃসন্দেহে একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।

ব্যাংক নেগারা মালয়েশিয়ার গভর্নর নুর শামসিয়াহ বিনতে মোহাম্মদ ইউনুস অবশ্য প্রয়োজন হলে নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে যে অবস্থানে রয়েছে, তাতে প্রয়োজন দেখা দিলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে আরো বেশি সহায়তা দেয়া সম্ভব।’

অবশ্য সামনের দিনগুলোয় মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক দুর্দশা কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশটির জিডিপির বড় একটি উৎস হলো রিটেইল খাত। এক মাস ধরে লকডাউনের কারণে এ খাতে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। এ সময়ে রিটেইল খাতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন ৭০ কোটি রিঙ্গিত (১৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার) রাজস্ব হারিয়েছে দেশটির অর্থনীতি। আশার কথা হলো, বুধবার এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন রিটেইল খাতে চাঙ্গা ভাব ফিরে এলে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে হাঁটতে শুরু করবে।

চীনের সিনোফার্ম করোনা টিকা ষাটোর্ধ্বদের জন্য কার্যকর নয়, দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তান গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, চীনের রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের তৈরি করোনাভাইরাসের টিকা ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়। চীনের তৈরি টিকা দিয়ে দেশব্যাপী টিকাদান শুরু করার একদিন পর এ দাবি করলো ইসলামাবাদ।

জানা গেছে, পাকিস্তানে পাঁচ লাখ ডোজ সিনোফার্ম করোনা টিকা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে চীন। গত সোমবার বিশেষ বিমানে করে সেই টিকা পাকিস্তানে পৌঁছায়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. ফয়সাল সুলতান সাংবাদিকদের বলেছেন, পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞদের একটি দল টিকা প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষণের তথ্য বিবেচনা করে কেবল ১৮-৬০ বছর বয়সীদের জন্য এই টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

তিনি আরো বলেন, ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সিনোফার্ম-এর তৈরি টিকা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে আরো তথ্য পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, টিকাটি ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের দেওয়ার ব্যাপারে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইসলামাবাদে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের একদিন পর গত বুধবার দেশব্যাপী টিকা দেওয়া শুরু হয়।

ইমরান খান বলেছিলেন, প্রথমে সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হবে। এরপর বয়স্কদের টিকা দেওয়া হবে। অন্যরা টিকা পাবেন তারপর।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য সে দেশের ষাটোর্ধ্ব মানুষদের অন্য কোনো টিকা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে চীনের দাবি, বর্তমানে ১৬টি টিকা পরীক্ষা করছে তারা। যদিও দেশটি বর্তমানে সিনোফার্ম-এর তৈরি টিকা শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দিয়েছে। পাকিস্তানসহ স্বল্প সংখ্যক দেশে এই টিকা সরবরাহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান করোনাভাইরাসের তিনটি টিকা অনুমোদন দিয়েছে। সেগুলো হলো- চীনের সিনোফার্ম, রাশিয়ার স্পুটনিক ভি এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আসাদ উমার বলেছেন, ২০২১ সালের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক কোভ্যাক্স উদ্যোগের আওতায় পাকিস্তানকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক কোটি ৭০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার কথা। সে দেশের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ওই টিকা বয়স্কদের দেওয়া হতে পারে।

করোনাভাইরাসের টিকা সারাবিশ্বের জনগণকে দেওয়ার বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্স। বিশেষ করে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে করোনা টিকা নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

এদিকে পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার তিনশ ৬৩ জন এবং মারা গেছে ১২ হাজার দু’শ ১৮ জন। বর্তমানে ২৯ হাজার নয়শ ৮১ জন আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে। যাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রয়েছে এক হাজার সাতশ ৪৩ জন।

সূত্র: ইকোনমিকস টাইমস

করোনার বিধিনিষেধ মেনে স্কুল খুলছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে

করোনা আতঙ্ক কিছুটা দূর হতেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই চালু হয়েছে স্কুল। প্রায় ১১ মাস পর ঘর ছেড়ে ফের স্কুলের পথে শিক্ষার্থীরা। আজ থেকেই সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেশ কিছু বেসরকারি স্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চালু।

করোনার কথা মাথায় রেখে প্রথমে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যযন্ত ক্লাস চালু হয়েছে। বাকিগুলা শুরু করা নিয়ে পরবর্তীতে চিন্তাভাবনা করা হবে। আপাতত এই চারটি শ্রেণি নিয়ে ক্লাস শুরু হবে। তবে করোনা এড়াতে অনেক নিয়ম জারি করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। ছাত্র ছাত্রীদের অবশ্যই মাস্ক পরে স্কুলে যেতে হবে সেই সাথে দূরত্ব মেনে চলতে হবে। সেই সাথে সবার কাছে স্যানিটাইজার থাকা বাধ্যতামূলক।

স্কুল চত্বরের কোথাও কোনও জমায়েত করা চলবে না। একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করাও যাবে না। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি কেভিড প্রোটোকল মেনে চলতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সব শিক্ষাকর্মীদেরও। অভিভাবকদের স্কুলে প্রবেশের ক্ষেত্রে এখনই অনমুতি মিলবে না।

এরই পাশাপাশি স্কুলে আসা কোনও শিক্ষার্থীর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুলকে করোনামুক্ত রাখতে নিয়মিতভাবে স্যানিটাইজ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।

এরইমধ্যে ভারতের রাজধানী দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা-সহ একাধিক রাজ্যে করোনাবিধি মেনে চালু হয়ে গিয়েছে স্কুল। ওই রাজ্যগুলিতেও আপাতত উঁচু ক্লাসের শিক্ষার্থীদের নিয়েই স্কুল শুরু হয়েছে। এর পর ধাপে ধাপে সেখানেও সব ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর স্কুল চালু হওয়ায় আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে সেই সাথে আছে করোনা মোকাবেলার কড়া চ্যালেঞ্জ।

সুত্র: কালের কন্ঠ