পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিল ইইউ- চীন

ইরানের সাথে ছয় দেশের সই হওয়া পরমাণু চুক্তি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং চীন। গতকাল সোমবার এক ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় তেহরান ও বিশ্বশক্তির মধ্যে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি সংরক্ষণে চীনের “ইতিবাচক ভূমিকার” প্রশংসা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ পর্যায়ের এ প্রতিনিধি।

ইরান সম্প্রতি পরমাণু সমঝোতা-সীমার বাইরে গিয়ে যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেছে সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জোসেফ বোরেল বলেন, দ্রুতগতিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করা দরকার যাতে সব পক্ষ এই সমঝোতা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করে। এ সময় গত ২১ ডিসেম্বর ইরান এবং পরমাণু সমঝোতায় টিকে থাকা বর্তমান পাঁচ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যে অনলাইন বৈঠক করেন তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন জোসেফ বোরেল। ভিডিও কনফারেন্সে দু’পক্ষই বলেছে- ইউরোপ, চীন ও আমেরিকার যৌথ প্রচেষ্টায় ইরানের পরমাণু ইস্যু-সহ আন্তর্জাতিক অনেক চ্যালেঞ্জ সমাধান করা সম্ভব।

কয়েকদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ বলেছিলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল ইরান এবং আমেরিকার মধ্যকার বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। এরপর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বোরেলের ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা হল।

সূত্র: প্রেস টিভি।

বাইডেন-মোদি ফোনালাপ, যে কথা হল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তার সঙ্গে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল সোমবার রাতে টুইট করে মোদি নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা হয়েছে বলে টুইটারে উল্লেখ করেছেন মোদি। তিনি জানিয়েছেন, পরিবেশ থেকে মিয়ানমার, বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

টুইটে মোদি লিখেছেন, ‘আমি তার সাফল্য কামনা করেছি। স্থানীয় বিষয়ে এবং আমাদের যৌথ অংশিদারিত্বের বিষয়ে কথা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ঐক্যমত্য হয়েছি আমরা।’ বাইডেন হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে। আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্টকে এরপর টুইট করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন মোদি। তবে সরাসরি কথা হলো এই প্রথম।

বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক ছিল নরেন্দ্র মোদির। তাই এবার বাইডেন জিতে আসাকে ভারত সরকারের জন্য কিছুটা বিব্রতকরই মনে করছিলেন বিশ্লেষকরা। চীনের বিরোধিতা করতে গিয়ে ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক দূর বিস্তৃত করেছিলেন। ডেমোক্র্যাট বাইডেন চীনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবেন বলে বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা। এ ক্ষেত্রে ভারতকে ট্রাম্প যে গুরুত্ব দিয়েছেন, বাইডেন তা দেবেন না বলেও অনেকে মনে করছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে নিয়ে নরেন্দ্র মোদি স্লোগান দিয়েছিলেন ‘আব কি বার ট্রাম্প সরকার’।

সোমবার মোদি-বাইডেন কথায় অবশ্য বিব্রতকর পরিস্থিতির কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে এ দিন তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের শক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে চীনের শক্তি কমাতে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জোট তৈরি করেছিল আমেরিকা।

এই ফোনালাপে সে বিষয়েও দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গও উঠেছে তাদের দীর্ঘ আলোচনায়। নরেন্দ্র মোদি টুইটে লিখেছেন, ‘রুলবেসড ইন্টারন্যাশনাল অর্ডার’ রক্ষার জন্য দুইটি দেশই সরব হবে। এখানেই মিয়ানমারের প্রসঙ্গ প্রচ্ছন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে মনে করেছেন অনেকে। তবে আমেরিকা জানিয়েছে, মিয়ানমার নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনা হয়েছে।

পরিবেশ এবং জলবায়ু নিয়ে কার্যত উদাসীন ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। বাইডেন এসেই আবার জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে গেছেন। এ দিনের আলোচনায়ও জলবায়ু এবং পরিবেশ নিয়ে দুই নেতার কথা হয়েছে। বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় দুই দেশ একত্রে কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বাইডেন মোদিকে কোনো প্রশ্ন করেছেন কি-না, দুই দেশের দেওয়া বিবৃতি থেকে এখনো তেমন কোনো তথ্য মেলেনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাইডেন ঘনিষ্ঠ কমলা হ্যারিসের ভাইঝি মিনা হ্যারিসকে নিয়ে বিজেপি যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এ প্রশ্ন উঠেছে। মিনা কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। যার জেরে প্রকাশ্যে তার ছবি পুড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা।

সূত্র: আলজাজিরা, ডয়েচে ভেলে।

বিক্ষোভকারীদের ওপর রাবার বুলেট ছুড়েছে মিয়ানমার পুলিশ, আহত ২

মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিষেধাজ্ঞা অস্বীকার করায় মিয়ানমারের পুলিশ তাদের ওপর রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এ সময় অন্তত দু’জন বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি বার্মিজ। সেনাবাহিনীর হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে চতুর্থ দিনের মতো অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে বিক্ষোভকারীরা। এ সময় দেশটিতে অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর জল কামান এবং টিয়ার গ্যাসও ব্যবহার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দেশটিতে দেওয়া নতুন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও টানা চতুর্থ দিনের বিক্ষোভ চলছে। সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইং সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, কেউই এই আইনের উর্ধ্বে নয়। দেশটিতে বড় জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং রাতে কারফিউ জারি করার ঘোষণা দেন তিনি।

তবে তিনি প্রতিবাদকারীদের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি দেননি। যদিও তার বক্তৃতার পরে বার্মিজ রাষ্ট্রীয় টিভিতে একটি সম্প্রচার জানিয়েছে যে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে “ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”।

ঐ অঞ্চলের এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আকাশে দুইবার সতর্কতা হিসেবে গুলি ছোঁড়া হয় এরপর বিক্ষোভে রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ। এর আগে গতকাল দেশটির সেনাবাহিনী হুঁশিয়ারি দেয়, পাঁচ জনের বেশি জমায়েত হওয়া যাবে না এবং সমাবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এসব উপেক্ষা করে চতুর্থ দিনের মতো চলছে আন্দোলন।

আজ মঙ্গলবার মিয়ানমারের প্রধানশহর ইয়াঙ্গনের চাউংয়ে কয়েক ডজন শিক্ষক প্রথমে মার্চ করেন, এ সময় তারা তিন আঙ্গুলে স্যালুট দেখান। আমরা শিক্ষক, আমরা ন্যায় বিচার চাই। সু চিকে মুক্তি দিন বলে শিক্ষকেরা স্লোগান দিতে থাকেন।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানী নেপিডোর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ জলকামান ছুঁড়েছে। নেপিডোয় বেশ কয়েকজন লোককে এ সময় আহত হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে মানদালায় অন্তত ২৭ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। এদিন অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। দেশজুড়ে ঘোষণা করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে যে সব খাবার

হাইপারটেনশন (হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ নামে অধিক পরিচিত) হলো একটি জটিল দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) স্বাস্থ্যগত বিষয়, যার ফলে শরীরের রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। উচ্চ রক্তচাপের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ এবং উপসর্গ নেই, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা, দ্বিধাগ্রস্থতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে। আট থেকে ৮০, যেকোনো বয়সেই হাই ব্লাড প্রেসার হতে পারে।

যাদের হাই ব্লাড প্রেসার আছে নিয়ম করে ওষুধ খেলে ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করলে তা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো নিয়মিত খেলে কমে যেতে পারে উচ্চ রক্তচাপ। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই খাবার।

আঙুর

পটাশিয়াম প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক উপাদান, যা কিডনি থেকে সোডিয়াম নিঃসরণ করে ও রক্তনালী শিথিল করে দেয়। পটাশিয়াম ও ফসফরাসে পরিপূর্ণ আঙুর হাই ব্লাড প্রেসার কমিয়ে দিতে পারে।

কলা

আগেই বলা হয়েছে, হাই ব্লাড প্রেসার কমিয়ে দিতে পারে। একটি কলায় ৪৫০ মিলিগ্লাম পটাশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিন কলা খেলে হাই ব্লাড প্রেসারের সমস্যা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।

পিয়াজ

পিয়াজ রয়েছে অ্যাডেনোসিন। এটি পেশি শিথিল করে। যা হাইপারটেনশনের রোগীদের চিকিৎসায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে পিয়াজ। কাঁচা পিয়াজ রস বানিয়েও খেতে পারেন। রসের স্বাদ ভালো না লাগলে তাতে সামান্য মধু মেশাতে পারেন।

রসুন

ধমনী ও শিরায় জমে থাকা কোলেস্টেরল গলিয়ে দিতে সাহায্য করে রসুন। এটি রক্তের প্রবাহ বাড়ানো ও ব্লাড প্রেসার কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

ডাবের পানি

ডাবের জলে রয়েছে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন সি ও অন্যান্য নিউট্রিয়েন্টস্। এই উপাদানগুলো উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।

তরমুজ

তরমুজে আছে আরজিনাইন। এটি একটি অ্যামিনো অ্যাসিড যা উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে ফেলতে পারে।

ধনেপাতা

প্রচুর পরিমাণে বায়োঅ্যাকটিভ রয়েছে ধনে পাতাতে। যেমন-অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি ও হতাশা কমানোর উপাদান। তাই ধনেপাতা খেলে কমে যেতে পারে ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের সমস্যাও।

পাতিলেবু

ভিটামিন সি’তে ভরপুর পাতিলেবু হৃদযন্ত্রের সূক্ষ্ম নলগুলোর শক্তি বাড়ায়। এতে হাইপারটেনশনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

বিডি প্রতিদিন

হাড়ের ক্ষয়রোধ করে নাশপাতি

নাশপাতি পুষ্টিগুণে ভরপুর এক ফল। বিশ্বজুড়ে কয়েক ধরনের নাশপাতির চাষ হলেও মূলত এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকাতেই এটি বেশি পাওয়া যায়।

নাশপাতিতে প্রচুর পরিামাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এই ফল তাই ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে। ব্রেস্ট, লাং, প্রোস্টেট, কোলন ও রেকটাম ক্যানসার দূর করে নাশপাতি। এতে থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও ফ্ল্যাভোনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে।

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে নাশপাতিতে। ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি থাকার কারণে এই ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তাই ফ্লু অথবা ঠাণ্ডাজনিতে রোগে ভুগলে নাশপাতি খাওয়ার পরামর্শ দেন অনেক ডাক্তার।
নাশপাতিতে প্রচুর আয়রন ও কপার থাকে, যা অ্যানিমিয়ার প্রাকৃতিক চিকিৎসায় ভালো ভূমিকা রাখে। শরীরে আয়রনের পরিমাণ বেড়ে গেলে রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়ে। তাই নাশপাতি খেলে অ্যানিমিয়া, মাংস পেশির দুর্বলতা, ক্লান্তি ও শারীরিক অবসাদ দূর হয়।

অস্টিওপোরোসিসসহ হাড়ের বিভিন্ন সমস্যা যাদের আছে, তাদের জন্য উপকারী ফল নাশপাতি। এতে থাকা কপার, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হাড়ের ক্ষয়রোধ করে হাড় মজবুত রাখে।

বিডি-প্রতিদিন

বিজয়ের নতুন ছবি ‘মাস্টার’র আয় ২৪২.৫ কোটি রুপি

ভারতে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে বিজয়ের নতুন সিনেমা ‘মাস্টার’। এ ছবি মুক্তির পর যেন প্রাণ ফিরেছে প্রেক্ষাগৃহে। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তির পরেও পেয়েছে প্রত্যাশিত সাফল্য। এ সিনেমার বিশ্বব্যাপী সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২৪২.৫ কোটি রুপি। শুধু তামিলনাড়ুতেই আয় ১৩৯ কোটি রুপি এবং দেশের বাইরে থেকে এসেছে ৪২ কোটি রুপি।  কেরালা, কর্ণাটক, উত্তর ভারতেও সাড়া ফেলেছে ছবিটি। ‘মাস্টার’ সিনেমার বাজেট ছিল ১৮০ কোটি রুপি।

গত ১৩ জানুয়ারি ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ১৭৮ মিনিটের এই সিনেমা। আর অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পায় ২৯ জানুয়ারি। লোকেশ কনগরাজ পরিচালিত সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা এক্সবি ক্রিয়েশনস। এ সিনেমায় বিজয় প্রফেসর দুরাইরাজ ওরফে জেডির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। আর গ্যাংস্টার ভবানির ভূমিকায় রয়েছেন বিজয় সেতুপতি। দুজনের মুখোমুখি লড়াইয়ের গল্প এই অ্যাকশন-এন্টারটেইনার।

‘মাস্টার’ সিনেমায় বিজয়ের নায়িকা মালবিকা মোহানন। আরও অভিনয় করেছেন নাসার, শান্তনু ভাগ্যরাজ, শ্রীমান, আন্দ্রে জেরেম, অর্জুন দাস, সঞ্জীব, শ্রীনাথ, ভি জে রাম্য ও আজগাম পেরুমাল। সিনেমার গানের সুর করেছেন অনিরুধ রবিচন্দ্র।

যে কারণে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে একহাত নিলেন মিয়া খলিফা

ভারতে চলমান কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে টুইট করেছিলেন মার্কিন পপ তারকা রিহানা, আলোচিত পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও সাবেক পর্নতারকা মিয়া খলিফা। তাদের নিয়ে ভারতে সমালোচনা হলেও প্রতিবাদ থেকে সরে দাঁড়াননি কেউ। বারবার তাদের প্রতিবাদ উঠে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। খবর জি নিউজের।

এরই মধ্যে এবার টুইট করে বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে একহাত নিলেন মিয়া খলিফা। ভারতে কৃষক আন্দোলন নিয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কেন কথা বলছেন না, কোনও টুইট কেন করছেন না? নিজের মতবাদ প্রকাশ করছেন না? কৃষক আন্দোলন নিয়ে ভারতে যা চলছে, তা নিয়ে কিছু কি বলার নেই প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার?

এভাবেই প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেন মিয়া খলিফা। তিনি বলেন, প্রিয়াঙ্কা কেন কৃষক আন্দোলন নিয়ে কথা বলছেন না, এর কারণ জানতে ইচ্ছে হল বলেই তিনি টুইট করে প্রশ্ন তোলেন। যদিও ‘দ্য হোয়াইট টাইগার’ খ্যাত প্রিয়াঙ্কাকে এখনো মিয়া খলিফার টুইটের পাল্টা কোনও রিটুইট করতে দেখা যায়নি।

সেই অরিত্র এবার বলিউডে

অরিত্র দত্ত বণিক, ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন সঞ্চালনা দিয়ে। এরপর শিশুশিল্পী হিসেবে বহু বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন। বড় হওয়ার পরও অভিনয়কেই বেছে নিয়েছেন তিনি। এবার কমেডির ইমেজ থেকে বের হয়ে বলিউড পাড়ি দিলেন অরিত্র। একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছেন তিনি।

অরিত্র জানান, বলিউডে অভিনেতা হিসেবে এটা আমার ডেবিউ, অভিনয় করছি হিন্দি ওয়েব সিরিজে। এতদিন কমেডিতে দেখেছেন, সেটা থেকে বের হতে চাইছিলাম। এবার সেই সুযোগ পেয়েছি। এখানে আদতে ইয়ুথ স্টারদের গল্প। ফ্যামিলি ড্রামা নয়, ইয়াং স্টারদের গল্প। সিরিজটি চলতি বছরের শেষে অথবা সামনে বছরের শুরুতে মুক্তি পাবে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ‘আবার বছর কুড়ি পরে’ ছবিতে অভিনয় করেছেন অরিত্র। এই ছবিতে আরও রয়েছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়, তনুশ্রী চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, তানিকা বসু, পূষন দাসগুপ্ত, সুমন্ত মুখোপাধ্যায়, স্বাগতা বসু, আর্যা দাসগুপ্ত, দিব্যাশা দাস ও রাজর্ষি নাগ প্রমুখ। সূত্র : টিভি৯।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন ইস্যুতে যা বললেন মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের নায়ক

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর টেলিভিশনের দেওয়া প্রথম ভাষণে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইং বলেছেন, তার সরকার মিয়ানমারের চলমান পররাষ্ট্রনীতিতে কোনও পরিবর্তন আনবে না।

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে যে চুক্তি আছে তাতেও কোনও প্রভাব পড়বে না। যদিও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি তিনি তার ভাষণে উল্লেখ করেননি।

বলেছেন, “দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী যেভাবে গৃহহীন লোকজনকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেওয়ার কথা ছিল সেটা চলতে থাকবে।”

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর সিনিয়র জেনারেল মিন অং লাইং সোমবার প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের জনগণের উদ্দেশে একটি টেলিভিশন ভাষণ দেন তিনি।

এই ভাষণের পুরো কপি ছাপা হয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে’।

ভাষণের বেশিরভাগ অংশজুড়েই অবশ্য নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পক্ষে সাফাই দিয়েছেন জেনারেল অং লাইং।

রোহিঙ্গা পুনর্বাসন ইস্যুতে তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে অস্থায়ী শিবিরে যেসব বাস্তুচ্যুত লোকজন রয়েছে তাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশের সাথে চুক্তি আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তিনি বলেছেন যদি তা দেশের স্বার্থের কোনও ক্ষতি না করে।

বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা গ্রহণযোগ্য, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব অনুযায়ী তাদের ফেরার অনুমোদন দেওয়া হবে।

 

পাথরঘাটায় তক্ষকসহ পাচারকারী আটক

বরগুনার পাথরঘাটায় একটি তক্ষকসহ রঞ্জন বারিক (৪৫) নামের এক পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আটক পাচারকারী চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছহেরাবাদ গ্রামের নকুলেশ্বর বারিকের ছেলে রঞ্জন বারিক (৪৫)।

সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মুন্সিরহাট ব্রিজ এলাকা থেকে আটক করা হয়।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের পাথরঘাটা স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ফাহিম শাহরিয়ার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মুন্সিরহাট এলাকা থেকে তক্ষক পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তক্ষকসহ রঞ্জন বারিককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

বিডি-প্রতিদিন