জাপান-ভারতের বন্দর চুক্তি বাতিল করেছে শ্রীলংকা

জাপান ও ভারতের সঙ্গে গভীর সমুদ্রে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি বাতিল করেছে শ্রীলংকা। প্রকল্পকে এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কলম্বো বন্দরে ইস্ট কনটেইনার টার্মিনালটি বিতর্কিত ৫০ কোটি ডলারের চীন নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার জেটির পাশেই নির্মিত হচ্ছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরে কট্টর জাতীয়তাবাদীদের বিরোধিতার মুখে শ্রীলংকা সরকার এ চুক্তি থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। খবর এএফপি।

যৌথ উদ্যোগ হিসেবে এ টার্মিনালের ৪৯ শতাংশের মালিকানায় ছিল ভারত ও জাপান। তবে ক্ষমতাসীন জোটের কট্টর জাতীয়বাদীরা পর্যন্ত বিদেশীদের কাছে জাতীয় সম্পদ বিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল।

প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস আগে ২০১৯ সালে মে মাসে গভীর সমুদ্রে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যৌথ উদ্যোগের পরিবর্তে ৮০ কোটি ডলারের টার্মিনালটি শ্রীলংকা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন হবে। এ সিদ্ধান্ত দুই সপ্তাহ আগে রাজাপাকসের দেয়া বিবৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ সত্ত্বেও প্রকল্পটি এগিয়ে যাবে।

কলম্বোয় ভারতীয় হাইকমিশন এ চুক্তির বিষয়ে সরকারকে তার দায়বদ্ধতার প্রতি সম্মান জানাতে অনুরোধ করার পরদিনই চুক্তি বাতিলের এ ঘোষণা দেয়া হলো।

২০০৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে গোটাবায়া রাজাপাকসের ভাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা ক্ষমতায় থাকাকালীন কলম্বো চীন থেকে বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিল। অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর জন্য পর্বতসম এ ঋণ কলম্বোর গলার কাঁটায় পরিণত হয়। এ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কলম্বো ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনাল নামের বন্দরটি চীনের কাছে হস্তান্তর করে শ্রীলংকা।

হাম্বানটোটায় অবস্থিত এ গভীর সমুদ্রবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম ভারত মহাসাগরের পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিপিংয়ের পথকে বিস্তৃত করেছে। বন্দরটি চীনের কাছে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশ-বিদেশে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই উদ্বিগ্ন যে হাম্বানটোটায় চীনের পদচিহ্নের মাধ্যমে বেইজিংকে ভারত মহাসাগরে সামরিক সুবিধা দিতে পারে। যদিও শ্রীলংকা বরাবরের মতো অস্বীকার করে আসছে, ইজারার আওতায় এ বন্দরকে সামরিক জেটি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। ২০১৪ সালে যখন চীনা সাবমেরিন কলম্বো টার্মিনালে অঘোষিত সফর করেছিল, তখন ভারত এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এর পর থেকে শ্রীলংকা আর কোনো সাবমেরিন আসার অনুমতি দেয়নি।

৯২ লাখ ইউনিট গাড়ি তৈরির লক্ষ্যমাত্রা টয়োটার

চলতি বছর বিশ্বজুড়ে গাড়ির উৎপাদন প্রায় ৯২ লাখ ইউনিটে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে টয়োটা মোটর করপোরেশন। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব থেকে বিক্রি পুনরুদ্ধার হওয়ায় জাপানি সংস্থাটি এই রেকর্ড পরিমাণ যানবাহন তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। খবর মাইনিচি।

এর আগে সংস্থাটির গাড়ি উৎপাদনের রেকর্ড ছিল মহামারীর আগে ২০১৯ সালে ৯০ লাখ ৫০ হাজার ইউনিট। অন্যান্য গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থার মতো টয়োটাও মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে টয়োটার ক্ষেত্রে প্রভাবটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে কম মারাত্মক ছিল। কিছু দেশে কঠোর লকডাউন ও কার্যক্রম কমে যাওয়ায় গত বছরের এপ্রিলে টয়োটার বৈশ্বিক উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেক কমে গিয়েছিল। তবে বছরের শেষ দিকে চীন ও উত্তর আমেরিকার বাজারগুলোয় সংস্থাটির চাহিদা পুনরুদ্ধার হয়েছিল।

সূত্র অনুযায়ী, টয়োটা জাপানে চলতি বছর ৩২ লাখ ইউনিট গাড়ি উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে, যা ২০২০ সালে ২৯ লাখ ২০ হাজার ইউনিট ছিল।

আরব অর্থনীতিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পালে হাওয়া

কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা সামলে গতিশীল হতে শুরু করেছে আরব বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ব্যবসায়িক কার্যক্রম। গত মাসে এ দুটি দেশের জ্বালানিবহির্ভূত বেসরকারি খাতে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন কার্যাদেশ আসা এই উত্তরণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমে উত্তরণ অথবা সংকোচন নির্দেশ করে পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই। কোনো খাতে এ সূচকের মান ৫০ পয়েন্টের ওপরে থাকার অর্থ হলো সেই খাতটি সম্প্রসারণের পথে রয়েছে। জানুয়ারিতে আইএইচএস সৌদি অ্যারাবিয়া পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্সের মান দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ১ পয়েন্ট। গত ডিসেম্বরে এর মান ছিল ৫৭ পয়েন্ট। ২০১৯ সালের নভেম্বরের পর সৌদি আরবে জ্বালানিবহির্ভূত বেসরকারি খাতে পিএমআইয়ের মান এটাই সর্বোচ্চ।

জানুয়ারিতে সৌদি আরবের শিল্পোৎপাদনে গত ১৫ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ১১ বছর ধরে দেশটির শিল্পোৎপাদনের পরিসংখ্যান রাখছে আইএইচএস মার্কিট। এ সময়ে আলোচ্য খাতে সৌদি আরবের যে হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, জানুয়ারিতে শিল্পোৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার তার সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ কভিড-১৯-এর কারণে যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল, তা কাটিয়ে আবার আগের অবস্থানে ফিরতে শুরু করেছে দেশটির শিল্প খাত।

বেসরকারি খাতের কার্যক্রমে এ উত্থানের প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের শ্রমবাজারেও। এক বছরের বেশি সময় পর গত মাসে দেশটিতে কর্মসংস্থানের হার ধনাত্মক পর্যায়ে অবস্থান করছে। এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে দেশটির বেসরকারি কোম্পানিগুলো এখন ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে আস্থা ফিরে পেতে শুরু করেছে এবং তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

আইএইচএস মার্কিটের উপাত্ত বলছে, জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণে নতুন কার্যাদেশ পেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার আগের মাসের রেকর্ড সর্বোচ্চ থেকে কিছুটা কমেছে। কার্যাদেশের পাশাপাশি গত মাসে সৌদি আরবে বাজার পরিস্থিতিতে উন্নতি হয়েছে এবং অনলাইনে বিক্রি ও রফতানি চাহিদা বেড়েছে।

আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ইউএইতেও গত মাসে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জোয়ার দেখা গেছে। জানুয়ারিতে দেশটির জন্য আইএইচএস মার্কিট পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্সের মান দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ২, যা আগের মাসেও একই ছিল। ২০১৯ সালের আগস্টের পর ইউএইর উৎপাদন খাতে পিএমআইয়ের মান এটাই সর্বোচ্চ।

জানুয়ারিতে দেশটিতে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি বেড়েছে। নির্মাণ প্রকল্পগুলোয়ও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এ সময়ে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধির হার ডিসেম্বরের চেয়ে কিছুটা কমলেও তা কভিড-১৯ মহামারী সময়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

সৌদি আরবের মতো ইউএইর শ্রমবাজারেও উত্থান হয়েছে গত মাসে। জানুয়ারিতে দেশটিতে কর্মসংস্থানের হার এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইতিবাচক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

কভিড-১৯ মহামারীসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পর্যায়ক্রমে শিথিলের মাধ্যমে সৌদি আরব ও ইউএই উভয়েই তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু করেছে। ফলে দেশ দুটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম আবার আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে।

এদিকে মিসরে আইএইচএস মার্কিন ইজিপ্ট পারচেজিং ইনডেক্স আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও তা এখনো ৫০ পয়েন্টের নিচে রয়েছে। জানুয়ারিতে এ সূচকের মান ছিল ৪৮ দশমিক ৭, যা আগের মাসে ছিল ৪৮ দশমিক ২।

আলজাজিরার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের অভিযোগে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল–জাজিরার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, আমরা মামলা করব। আমরা সেটার জন্য কাজ করছি।

আজ শনিবার রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, পাবলিক বুঝেছে যে এটা মিথ্যা তথ্য। সেটা আমরা দেখব।

প্রতিবেদনটির সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিনি। এখন এসএসএফ গার্ড দেয়। ওনার ৪৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কোন দিন কোনো বডিগার্ড ছিল না। ওনার বডিগার্ড ওনারই সব নেতা-কর্মী। মায়া ভাই, সাবের হোসেন চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, আমু ভাই, এরাই বডিগার্ড। কোন দিন আমরা দেখিনি পয়সা দিয়ে বডিগার্ড রাখতে। ওখানে (আলজাজিরার প্রতিবেদন) লিখেছে ওনার দুই বডিগার্ড!’

মিথ্য তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন করে আলজাজিরা বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন ধরেন আমার পেছনে অনেকেই দাঁড়িয়েছেন। আমরা তাঁদের সবাইকে চিনি না। নেত্রী যখন বক্তৃতা দেন, তখন পেছনে অনেকেই দাঁড়ান। আমরা গণতান্ত্রিক দেশ। আমিও যখন বক্তৃতা দিই, আমার পেছনেও অনেকেই দাঁড়ান। আমি তার খুব কম লোককেই চিনি। কিন্তু ওখানে একজনের ছবি দিয়ে বলছে কী, ওটা ওনার বডিগার্ড। এ রকমের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ওরা বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।

ভূ-রাজনৈতিক বৈরিতায় বাণিজ্য নির্ভরতা কমবে না চীন-ভারতের

গত কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে চীন-ভারত বৈরিতা। বিশেষ করে গত বছরের মে মাসে গালওয়ানে ভারতীয় ও চীনা সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। দুই দেশই এখন লাদাখ সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। লাদাখ সীমান্তের দুই পাশেই যেমন মোতায়েনকৃত সৈন্যের সংখ্যা বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে হালকা, মাঝারি ও ভারী যুদ্ধ সরঞ্জাম এবং যুদ্ধবিমানের উপস্থিতিও। সব মিলিয়ে বলা চলে অঞ্চলটিতে এখন এক ধরনের যুদ্ধকালীন আবহ তৈরি হয়েছে।

দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা যখন একে অন্যকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নানা উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে চলেছেন, ঠিক সে মুহূর্তে নয়াদিল্লির শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে দাঁড়িয়েছে বেইজিং। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ভারতের সার্বিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যানও সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। এছাড়া এ সময় চীনও ভারত থেকে পণ্য আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বৈরিতার মাত্রা যেমনই হোক না কেন, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ দুটির পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতার মাত্রা অনেক বেশি। দুই দেশের কোনোটির পক্ষেই এ থেকে বেরিয়ে আসা খুব একটা সহজ নয়। এতদিন পর্যন্ত চীন ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পারস্পরিক বৈরিতা ও সীমান্ত সংঘাতকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, চলতি শতকের শুরু থেকেই দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে।

ক্রমেই দৃঢ় হয়ে ওঠা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের কারণে দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা এখন সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিতে পারছে না বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। গালওয়ানে প্রায় যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও চীন হয়ে উঠেছে ভারতের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার। ভারত সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, চীন-ভারতের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০০ সালেও ছিল মাত্র ৩০০ কোটি ডলার। ২০১৯ সালের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ২৬৮ কোটি ডলারে। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, করোনা মহামারীর কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) ভারতের মোট বৈদেশিক বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে ৩২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে চীনের সঙ্গে দেশটির দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কমেছে মোটে ১৫ শতাংশ। এ সময় ভারতের মোট আমদানি ৪০ শতাংশ কমলেও চীন থেকে আমদানি কমেছে সাড়ে ২৪ শতাংশ। উপরন্তু চীনে এ সময় ভারতের রফতানি বেড়েছে ২৬ শতাংশেরও বেশি।

শিল্প খাতের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে এখন রীতিমতো আধিপত্য চালাচ্ছে চীন। ভারতও নিজ দেশে শিল্প-কারখানার চাকা সচল রাখতে চীনের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, ভোক্তা পণ্য ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে চীনের ওপরই নয়াদিল্লির নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। ভারতীয় এক সরকারি প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, বৈশ্বিক ওষুধ শিল্পে তৃতীয় বৃহত্তম দেশ হচ্ছে ভারত। দেশটির ওষুধ শিল্পের প্রধান কাঁচামালগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই আসে ভারত থেকে।

এ বিষয়ে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সঞ্জয় চাধা সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, চীন যদি আমাদের এখানে পেনিসিলিন বানানোর জন্য এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল) রফতানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমরা তা ভারতে উৎপাদন করতে পারব না।

অন্যদিকে ভারত থেকে চীনে রফতানীকৃত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে খনিজ আকরিক, আকরিক উপজাত, অর্গানিক কেমিক্যাল ইত্যাদি শিল্পপণ্য। গালওয়ান উপত্যকার সংঘাতের পরও দেখা যাচ্ছে গত বছর চীনে ভারতের রফতানি বেড়েছে। যদিও এ সময় নয়াদিল্লির সার্বিক রফতানি ছিল কমতির দিকে। বিশ্ববাজারে ভারত থেকে রফতানীকৃত অর্গানিক কেমিক্যালের ১৫ শতাংশই যায় চীনে, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ১৩৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ। এছাড়া চীনে ভারতের প্লাস্টিক পণ্য রফতানির বাজারও এখন ব্যাপক মাত্রায় সম্প্রসারিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (এপ্রিল-অক্টোবর) ভারতের মোট রফতানিতে চীনের অংশ দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশে। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর হার ছিল ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় অর্থনীতির সঙ্গে চীনের রফতানি বাজারের সম্পৃক্ততা অনেক বেশি। ভারতের মোট অর্ধসমাপ্ত পণ্য, মূলধনি পণ্য ও চূড়ান্ত ভোক্তা পণ্যে চীনের অংশ যথাক্রমে ১২, ৩০ ও ২৬ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান ভারতে তাদের অ্যাসেম্বলি লাইন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য যন্ত্রাংশ আমদানিতে নয়াদিল্লিকে চীনের ওপরই নির্ভরশীল থাকতে হয় অনেক।

সব মিলিয়ে বলা চলে, লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধাবস্থা দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক ফ্রন্টে তা অনেকটাই অনুপস্থিত। বরং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে এর কোনো প্রভাবই দেখতে পাচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, এ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা চীন বা ভারত কারো জন্যই লাভজনক হবে না। সেক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিবেশ আরো অনুকূল করে তোলাটাই দুই দেশের জন্য বেশি লাভজনক হবে।

ইরান ও আমেরিকার ‘সৎ মধ্যস্থতাকারী’ হতে চান ম্যাখোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, তিনি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় ‘সৎ মধ্যস্থতাকারীর’ ভূমিকা পালন করতে চান। তিনি এমন সময় এ প্রতিশ্রুতি দিলেন যখন ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা মেনে চলতে তার সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ম্যাক্রোঁ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আটলান্টিক কাউন্সিল থিংক ট্যাংকে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমেরিকা ইরানের সঙ্গে যেকোনো সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সবকিছু করতে প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি সম্ভাব্য এ সংলাপে নিজেকে ‘প্রতিশ্রুতিশীল ও সৎ মধ্যস্থতাকারী’র ভূমিকায় দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট তার ভাষায় ‘ইরানের সাথে নয়া আলোচনায়’ সৌদি আরব ও ইসরাইলকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমন সময় ইরানকে জড়িয়ে সংলাপের এ আহ্বান জানালেন যখন তেহরান সুস্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছে, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা নিয়ে নতুন করে কোনো আলোচনা হবে না।

২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নানান নিষেধাজ্ঞাও দেয়। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমাবদ্ধ করার জন্যই এ সব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন বলেছেন যে ইরান যদি এই চুক্তিতে ফিরে আসে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও ফিরবে।

সূত্র: রয়টার্স।

মিয়ানমারে বন্ধ ইন্টারনেট সংযোগ

ফেসবুকের, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামের ব্লক করার পর এবার ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। গত সোমবার দেশটির সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর আজ এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেটব্লকস ইন্টারনেট অবজারভেটরি জানিয়েছে, প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সংযোগ সাধারণ অবস্থার চেয়ে ১৬ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। বিবিসি বার্মিজ শাখাও ইন্টারনেট বন্ধের খবর নিশ্চিত করেছে।

মিয়ানমারের টুইটার ও ইনস্টাগ্রামকে ব্লক করার নির্দেশ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থান বহু মানুষ ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার দেখেছে। ফেসবুকে মিয়ানমারে তথ্য ও সংবাদের প্রাথমিক উৎস। কিন্তু তিন দিন পর ইন্টারনেট সেবাদাতাদের নির্দেশ দেওয়া হয় এই সামাজিক মাধ্যমটিকে ব্লক করবার। ওই নিষেধাজ্ঞার পর, হাজার হাজার ব্যবহারকারী টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামে সরব হয়। তারা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধাচারণ করে হ্যাশট্যাগ চালু করে। কিন্তু আজ টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামও বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর এবার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার খবর এলো।

এদিকে, ইয়াঙ্গুনে জনগণ সমবেত হয়ে, ‘সামরিক স্বৈরশাসক পরাজিত, পরাজিত; গণতন্ত্র বিজয়ী বিজয়ী’ স্লোগান দিতে থাকে। শহরের কেন্দ্রে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সূত্র: বিবিসি।

পাকিস্তানে সাংসদদের বিপুল অর্থ দিতে চান ইমরান, নোটিশ পাঠালো সুপ্রিম কোর্ট

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সে দেশের সাংসদদের জন্য পাঁচশ মিলিয়ন রুপির উন্নয়ন তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সিনেটে নির্বাচনের আগে ইমরানের এ ধরনের ঘোষণার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

আল-আরাবিয়্যাহ পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিচারক কাজি ফয়েজ ইসা এবং বিচারক মকবুল বকরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তহবিল বরাদ্দের বিষয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) মেয়াদে প্রদত্ত সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বরের রায়ের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক কাজি ফয়েজ ইসা, সে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল খালিদ জাবেদ খান এবং অন্য আইনজীবীদের কাছে তহবিল বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছেন।

বিচারক কাজি ফয়েজ ইসা বলেন, সাংসদদের জন্য এই তহবিল যদি আমাদের দেশের সংবিধান মেনে করা হয়ে থাকে, তাহলে আমরা এই মামলার ইতি টানবো। তবে, এই সিদ্ধান্ত যদি সংবিধান না মেনে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নেবো।

জানা গেছে, ওই মামলা চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। মুলতবি ঘোষণা করার সময় তিনি বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য এ ধরনের মামলা দেশের প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে, সিনেটে নির্বাচনের আগে এ ধরনের তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়ার জেরে ইমরান খানের সমালোচনায় সরব হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দলগুলো।তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন ইমরান। এতে করে তিনি ফায়দা নেবেন।

এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি সংসদীয় দলের এক বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা দেন, সাংসদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের প্রত্যেককে পাঁচশ মিলিয়ন রুপি দেওয়া হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য তিনি ওই তহবিল দেওয়ার কথা বলেছেন।

সূত্র: এএনআই, আল-আরাবিয়্যাহ

বাংলাদেশ ও ভারত সহযোগিতার অনন্য মডেল হয়ে উঠেছে: শ্রিংলা

ভারত ও বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি, এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তিনি বলেন, দুটি দেশ তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার বজায় রেখেছে যা ভবিষ্যতের শান্তি ও সমৃদ্ধির সেতু হিসেবে বিবেচনা করা যায়। কলকতায় বাংলাদেশের তৃতীয় চলচ্চিত্র উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শ্রিংলা।

শ্রিংলা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সহযোগিতার এক রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনন্য। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নানা পরীক্ষা অতিক্রম করেছে এবং মহামারি-পরবর্তী সময়ে যেমন বিশ্বে ব্যাপক উত্থান হয়েছে, ততই আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব সাম্প্রতিক সময়ে তার দুটি ঢাকা সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, দু’দেশের সহযোগিতা অদম্যভাবে এগিয়ে চলেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও ঢাকা সফরের অপেক্ষায় রয়েছেন। আগামী মার্চেই ঢাকা সফরের কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন গত মাসে ভারত সফরে যেয়ে মোদির সফরের বিষয় চূড়ান্ত করেছেন। সেই সাথে পররাষ্ট্র সচিব তার ভাষণে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে দু’দেশের বন্ধনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত গর্বের সাথে বলছি যে, আমাদের দুই দেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক বন্ধন আমাদের সেনাদের রক্তের সাথে স্বর্ণাক্ষরে রচিত হয়েছে যা আমাদের জনগণের নিবিড় সংকল্পের দ্বারা সুরক্ষিত ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। একাত্তরের চেতনা বাংলাদেশকে মুক্ত করতে সহায়তা করেছিল, একাত্তরের সেই চেতনাই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে উৎসাহিত করেছে এবং সেই একই চেতনা আগামী বছরগুলোকে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মুক্তি বাহিনীর সামনে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সেনা আত্মসমর্পণ করেছিল। এর জের ধরেই ২০২১ সাল স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে দুদেশের সম্পর্ক আরো মজবুত হয়ে উঠেছে। সেই সাথে এ বছর পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।

শ্রিংলা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিকের শুটিং গত মাসে মুম্বাইয়ে শুরু হয়েছে। এই বছর আমাদের দু’দেশের পাশাপাশি তৃতীয় দেশগুলো এবং জাতিসংঘও দেখবে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন করছে।

কানাডায় বন্দুকধারীর গুলিতে চার বাংলাদেশি আহত

কানাডার টরন্টোর রিজেন্ট পার্ক এলাকার একটি পার্কিং লটে চার বাংলাদেশি কানাডিয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রত্যেককে দ্রুত হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবব্রত দেতমাল জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জ ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি আনাই মিয়া, মারহাবা গ্রোসারির মুমিন মিয়া, সুলতান মিয়া ও ছত্তার মিয়া এলোপাতাড়ি গুলিতে আহত হন। তাদের চার জনের মধ্যে আনাই মিয়ার অবস্থা আশংকাজনক। বাকি তিনজন শঙ্কামুক্ত।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত পৌনে বারোটার দিকে রিজেন্ট পার্ক ব্লুভার্ড এবং ডান্ডাস স্ট্রিট সংলগ্ন ওক স্ট্রিটের পার্কিং লটে এলোপাতারি গুলি হয়েছে- এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে অসংখ্য গুলোর দাগসহ হোন্ডা একর্ড গাড়ি দেখতে পায়। পরে তারা তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

পুলিশ জানায় তারা ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। দুই সন্দেহভাজনকে তারা খুঁজছে। সন্দেহভাজনরা ২০১৪ সালের টয়োটা রাভ ফোর গাড়ি ব্যবহার করছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার খবরে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অফ টরন্টো এবং  কানাডায় বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ, নিন্দা এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার ও বিচারের জন্য জোড় দাবি জানানো হচ্ছে।

বিডি প্রতিদিন