খবর মাইনিচি।
জাপানে নতুন গাড়ি বিক্রি বেড়েছে ৬.৮%

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে জাপানের বড় বড় মেট্রো অঞ্চলে জরুরি অবস্থা চলছে। তার পরও স্থানীয় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিদে সুগা আরো এক মাস এই জরুরি অবস্থা দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনা করছেন। এ পরিস্থিতির মধ্যেই গত মাসে জাপানে নতুন গাড়ি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৪২ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। জাপান অটোমোবাইল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া এ তথ্য ইঙ্গিত করে টোকিওসহ ১১টি অঞ্চলজুড়ে জারি থাকা জরুরি অবস্থার প্রভাব গাড়ি শিল্পে সীমিত ছিল।

তথ্য অনুযায়ী, মিনি কারগুলো বাদে গাড়ি বিক্রি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯২ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নতুন বছরের প্রথম মাসে জাপানি টয়োটা মোটর করপোরেশন বিক্রিতে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির গাড়ি বিক্রি ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০৪ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এ সময়ে নিশান মোটর করপোরেশনের বিক্রি ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৪৩৮ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে।

জানুয়ারিতে টোকিও ও অন্যান্য শহরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান স্থানীয় সংক্রমণ এবং দ্বিতীয় জরুরি অবস্থা জারির মধ্যে অর্থনীতিতে বিপর্যয় সত্ত্বেও উৎপাদন ও রফতানি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে এ তথ্য প্রকাশিত হলো।

জাপান লাইট মোটর ভেহিকল অ্যান্ড মোটরসাইকেল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, জানুয়ারিতে ৬৬০ সিসির নিচের ইঞ্জিনবিশিষ্ট মিনি ভেহিকলের বিক্রি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫০ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, জরুরি অবস্থা কখন ওঠানো হবে এবং এটি বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, আমরা সে বিষয়ে নজর রাখছি।

এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সরকার আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে যাওয়া আগে ঘোষিত জরুরি অবস্থা আরো এক মাস বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া অবস্থার উন্নতি হওয়ায় জরুরি অবস্থার তালিকা থেকে তোচিগি প্রদেশের নাম বাদ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত
চীন বিদ্বেষের আগুনে খাঁটি হবে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক?

প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে অন্যের সঙ্গে আঁতাত করা কয়েক সহস্র বছরের পুরনো ও বহুল আশ্রিত একটি কৌশল। মেসোপটেমিয়া সভ্যতার মূল সৌর্যে পরিণত হওয়ার অভিলাষে এই কৌশলের সফল ব্যবহার করেছিলেন ব্যাবিলন সম্রাজ্যের সম্রাট হাম্মুরাবি।

মেসোপটেমিয়া সভ্যতার পত্তন হয় শ্রেণিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার উদ্ভবের পরপরই। সেই সভ্যতার অধীনে প্রায় প্রতিটি শহরই ছিল একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র। এসব নগররাষ্ট্রের রাজারা একে অন্যের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে মত্ত থাকত। যুদ্ধে জয়ী হলে বিজিত নগরী দখল অথবা ধ্বংস করে দেয়ার চর্চাও ছিল সে সময়।

সেই আমলে ব্যাবিলন বেশ জনপ্রিয় একটি জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আর এই জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল দজলা ও ফোরাত নদীর (টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস) সহাবস্থানে নগরীটির অবস্থান। ব্যাবিলন মূলত এর ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে ফায়দা লুটেছিল। ধীরে ধীরে ব্যাবিলন পরিণত হয়েছিল মেসোপটেমিয়ার বাণিজ্যিক নগরীতে। পরিণত হয়েছিল একটি শক্তিশালী নগররাষ্ট্রে।

মেসোপটেমিয়ার শাসনব্যবস্থায় যে নামটি নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে, তা হলো ব্যাবিলনের সম্রাট হাম্মুরাবি। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১৭৯২-১৭৫০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। ব্যাবিলনের ধন-সম্পদের প্রাচুর্য কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন বিশাল এক সৈন্যবাহিনী। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের রাজাদের মধ্যে বিদ্যমান কলহ তিনি সুকৌশলে নিজ স্বার্থে কাজে লাগিয়েছিলেন। কূটবুদ্ধিতে হাম্মুরাবির জুড়ি মেলা ছিল ভার। কলহপূর্ণ বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্য থেকে শক্তিশালী রাষ্ট্র বেছে নিয়ে তার সঙ্গে জোট বেঁধে অন্যান্য নগররাষ্ট্র দখল করতেন তিনি। তারপর সুযোগ বুঝে নিজের মিত্রপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বস্ব লুটে নিতেন। এরপর বিরোধিতা করার মতো আর কেউ থাকত না। এভাবে সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও নিপাট কৌশলের আশ্রয়ে পুরো মেসোপটেমিয়াকে পদানত করেন সম্রাট হাম্মুরাবি। বিস্তৃত করেন নিজের সম্রাজ্য ও অনুশাসন।

ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রী গড়ে তুলে নিজ স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ দেশকে পদদলিত করে রাখার এ কৌশল আজও গ্রহণ করতে দেখা যায় কিছু দেশকে। পরাক্রমশালী দেশগুলোর এ শীতল যুদ্ধের ছায়া আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বজুড়ে। এক্ষেত্রে সবার আগে যে দেশের নাম উঠে আসে, সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আর হালের রাশিয়া থেকে শুরু করে চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান, ভেনিজুয়েলা, কিউবার মতো দেশগুলোর সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক রীতিমতো সাপে-নেউলে। অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক কূটকৌশলের কারণে ইসরায়েল, জাপান, সৌদি আরব, ব্রিটেনসহ আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে মার্কিন প্রশাসন।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র খেলা অনেকদিন ধরেই চলছে। এ অঞ্চলে তাদের কূটনৈতিক তত্পরতা এতই প্রভাব বিস্তারকারী যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, সুদান ও মরোক্কোর মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে অভাবনীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উষ্ণতাও কিছুটা বেড়েছে। মূলত নিজেদের শীর্ষ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে ভারতের শিথিল সম্পর্ককে কাজে লাগাতেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে ওয়াশিংটন।

চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেকটা একই। তাইওয়ান ও হংকং ইস্যু, উইঘুরের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন, দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দখলদারিত্ব, নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারণ করার দায়, চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ, বাণিজ্যযুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় ঘিরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিবাদ এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে গত বছরের মাঝামাঝিতে সীমান্ত বিরোধের জেরে ভারত ও চীন একে অপরের ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তের সেই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে কেন্দ্রেও এবং তা এতটাই প্রকট যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাণিজ্যিকভাবেও চীনকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কোন্নয়নে আরেকটি বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও গত কয়েক বছরে এ বন্ধন কিছুটা শিথিল হয়েছে। মূলত ইসলামাবাদের বেইজিং-ঘেঁষা অবস্থানই এর কারণ। ওয়ান বেল্ট উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাকিস্তানকে ব্যবহার করছে চীন, যার প্রতিদান হিসেবে ইসলামাবাদকে অর্থনৈতিক ও সামরিক বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে তারা। চিরশত্রু প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে চীনের এই দহরম-মহরম একেবারেই ভালোভাবে দেখছে না ভারত। আবার চীনকে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেয়ায় পাকিস্তানের ওপরও কিছুটা নাখোশ যুক্তরাষ্ট্র। তাই তাদের শিক্ষা দিতে ভারতের সঙ্গে হাত মেলাতেই পারে মার্কিন প্রশাসন।

মোট কথা, চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অবস্থান এখন একই সরলরেখায় অবস্থান করছে। ফলে এই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একে অন্যকে পাশে পেতে চাইবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কৌশলগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার সম্পর্ক আরো উষ্ণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনও সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রেখেছেন। এশিয়াকে ঘিরে নতুন মার্কিন প্রশাসনের কৌশলগত নীতি কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, চীনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে বেইজিং ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান কঠোরই থাকবে। একই সময় ব্লিংকেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরো উষ্ণ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি বলেন, নয়াদিল্লির সঙ্গে মিত্রতা ওয়াশিংটনের জন্য সবসময়ই লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক অরুণ সিং ২০১৫-১৬ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতে, চীনের তরফ থেকে ভারতকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে, এবং অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক উত্থানের কারণে চীনকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে, তাতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে দুই দেশের জোটবদ্ধভাবে কাজ করার সম্ভাবনাই বেশি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও থিংক ট্যাংক গেটওয়ে হাউজের সম্মানীয় ফেলো রাজীব ভাটিয়ার মতে, প্রকৃত অর্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা দৃশ্যমান হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ চীন ও এশিয়ার বাকি দেশগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্য মার্কিন নীতি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে এখনও। তবে এ কথা বলে দেয়া যায় যে, ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি কৌশলগত সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রভাব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বিস্তৃত হবে। আর গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে চীনের সামরিক প্রভাব দৃশ্যমানভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

রাজীব ভাটিয়া যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ার পেছনে একটি ভালো যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ভারত এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, এ মুহুর্তে চীনই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিকে দমিয়ে রাখতে দিল্লিকে অবশ্যই পাশে চাইবে শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে এশিয়ায় বর্তমানে যে ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে, তাতে প্রভাব বিস্তারের জন্য ভারতেরও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দরকার।

বারাক ওবামার প্রশাসন ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সে সময়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের উদ্যোগও দেখা গিয়েছিল। পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ভারতকে ‘স্ট্র্যাটেজিক ট্রেড অথরাইজেশন’ ক্যাটাগরিতে রাখার মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ক্যাটাগরিতে কোনো দেশের ঠাঁই হওয়ার অর্থ হলো সেটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ট সহযোগী। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দেশ দুটির মধ্যে এই ঘনিষ্ঠতা আরো বাড়বে বলে আশা করাই যায়।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও বলেছেন, যতদূর বোঝা যাচ্ছে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতা কয়েক দশক এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনি সবসময়ই ভারতের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। যখন তিনি সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন থেকেই তিনি ভারতের পাশে ছিলেন।

ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ও ডেপুটি ডিরেক্টর মাইকেল কুগেলম্যানও একই কথা বলেছেন। তিনিও মনে করেন, বাইডেন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধু হিসেবেই আবির্ভূত হবেন। তিনি বলেন, বাইডেন ভারতকে বেশ ভালোভাবেই জানেন। তাকে দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কের সমর্থক হিসেবেই দেখা হয়।

লেখক: শরিফুল আলম শিমুল

সংবাদকর্মী

ইরানের চাবাহার বন্দরে স্থানান্তরযোগ্য ক্রেন পাঠিয়েছে ভারত

ইরানের চাবাহারের শাহিদ বেহেস্তি বন্দরের ‍উন্নয়নের জন্য ইরানকে ১৪০ টনের দুটি স্থানান্তরযোগ্য ক্রেন পাঠিয়েছে ভারত। ইরানকে উদ্দেশ করে লেখা এক টুইট বার্তায় ভারত জানায়, শাহিদ বেহেস্তি বন্দরের প্রথম ধাপের উন্নয়নের জন্য জেপি সিং, জেএস (পিএআই) এমইএ ইন্ডিয়া দুটি ক্রেন পাঠিয়েছে।

বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, ভারত ছয় এমএইচসি সরবরাহের চুক্তির আওতায় মোট ২৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি ক্রেন সরবরাহ করেছে। ২০১৬ সালের মে মাসের ২৩ তারিখ ইরান ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যেখানে চাবাহার বন্দরের সজ্জা, যন্ত্রপাতির খরচ ও কার্যক্রম শুরু করার জন্য ৮৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, ওমান উপসাগর উপকূলে এই বন্দরটি অবস্থিত, যা ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যের বিকল্প পথ তৈরি করে।

ইরান ত্যাগের অনুমতি পেল আটককৃত দক্ষিণ কোরিয়ান নাবিকরা

এক মাস আগে পারস্য উপসাগর থেকে আটক করা হয় দক্ষিণ কোরিয়ার একটি তেল ট্যাংকার। এ ট্যাংকারের নাবিকদেরও আটকে রাখা হয়েছিল। তবে গতকাল মঙ্গলবার তাদের ইরান ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাঈদ খাতিবজাদে গতকাল মঙ্গলবার তেহরানে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের বিচার বিভাগ এসব নাবিককে ইরান ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে। এ বিষয়টিকে তিনি ইরানের পক্ষ থেকে একটি মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তেল ট্যাংকারটির আইন লঙ্ঘনকারী পদক্ষেপের বিষয়টি এখনো ইরানের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং এটির ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধেও আদালতে মামলা চলবে বলে তিনি জানান।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র নৌবাহিনী গত ৪ জানুয়ারি পারস্য উপসাগরের পানি দূষিত করার অভিযোগে ২০ ক্রু সহ দক্ষিণ কোরিয়ার একটি তেল ট্যাংকার আটক করে। জাহাজটি আটকের কয়েক দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফরে এসে উচ্চ পদস্থ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে পড়া কয়েক শ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানায় ইরান। কিন্তু তখন বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো সমাধান হয়নি।

ইরান বলেছে, ওই দেশের তেল বিক্রির প্রায় ৭০০ কোটি ডলার দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে রয়েছে। অন্যদিকে সিউল দাবি করছে, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে এই অর্থ ইরানে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

এ সময় খাতিবজাদে আরো বলেছেন, ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করে আরেকবার তার দেশের আটকে পড়া অর্থ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় সিউলের পক্ষ থেকে ইরানের অর্থ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হওয়া মাত্র তারা ইরানের অর্থ ফেরত দেবেন।

সূত্র: বিজনেস স্টান্ডার্ড।

ফ্লোরিডায় গোলাগুলিতে এফবিআইয়ের ২ গোয়েন্দা নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় শিশু পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি ধরতে গিয়ে গোলাগুলিতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। ফ্লোরিডায় স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ওই আসামিকে ধরতে গেলে এফবিআই সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ওই ব্যক্তি। আসামির গুলিবর্ষণের একপর্যায়ে পাল্টা গুলি ছোড়ে এফবিআই। গোলাগুলির এ ঘটনায় এফবিআইয়ের আরো তিন সদস্য আহত হয়েছেন। গোলাগুলিতে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন।

এফবিআই এক বিবৃতিতে বলেছে, মঙ্গলবার ৬টায় শিশু নির্যাতনের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েছিলেন পাঁচ কর্মকর্তা। এ সময় তারা হামলার শিকার হন। গোলাগুলিতে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন বলে জানায় সংস্থাটি। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে প্রচুর গোলাগুলি হয়েছে।

এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস্টোফার জানান, এ ঘটনায় দু’জন নিহত এজেন্ট হলেন, লরা শোয়ার্টজেনবার্গার এবং ড্যানিয়েল আলফিন। তারা দু’জনই শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তে বিশেষ পারদর্শি ছিলেন। এ হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরো তিন কর্মকর্তা। সন্দেহভাজনও নিহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

এফবিআইয়ের ওয়েবসাইট অনুসারে, এই হত্যা দক্ষিণ ফ্লোরিডার এফবিআই ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন এবং জাতীয়ভাবে মারাত্মকতম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস্, সিবিএস নিউজ।

‘আল জাজিরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন বলেছেন, আল জাজিরার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা সরকার ভেবে দেখবে। আজ বুধবার বিকালে গণমাধ্যমকে এই কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আল জাজিরার ক্ষমা চাওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনোই বডিগার্ড নিয়োগ করেননি। তার দলের লোকেরাই তার বডিগার্ড।

ড. মোমেন জানান, মিয়ানমারের সামরিক শাসন থাকলেও আমরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবো। আমরা এখনো রোহিঙ্গা সংকটে চীনের উপর আস্থা রাখছি। সূত্র: কালের কন্ঠ

কালো টাকা সাদা করার পলিসি পরিবর্তন দরকার : তাবিথ আউয়াল

কালো টাকা সাদা করার পলিসি পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। আজ মঙ্গলবার সিপিডি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখি আমাদের করপোরেট বা ব্যক্তিগত ইনকাম টেক্স মাঝে মধ্যে বাড়ে আবার কমে। কিন্তু কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে কিন্তু পলিসি একই থাকে। ১০ শতাংশের নিচে তাদের কর দিতে হয়, রিয়েল এস্টেট বা পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ করলে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারবে না। বছর বছর এই দুর্নীতি, কালো টাকা সাা করার ক্ষেত্রে কিন্তু কর একই থাকে। এটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমরা যারা কর দিয়ে ব্যবসা করি, পণ্য উৎপাদন করে তাদের আসল আয়ের ক্ষেত্রে কর বিভিন্ন ভাবে দিতে হয়। সেটি যেন কালো টাকা সাদা করার থেকে কম হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতির একটা বিশাল নীতি ঘাটতি আমাদের মধ্যে আছে। দিন শেষে যে পলিসি আমাদের করা হয়, সংসদে যে আইনগুলো পাস করা হয়, অনেক সময় যে বিষয়গুলো চাপিয়ে দেওয়া হয়, এগুলো কিন্তু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাধ্যমেই আসে।’

তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর চেষ্টা করি একটা ভালো বাজেট পেশ করার জন্য। কিন্তু অবৈধ টাকাকে কম কর দিয়ে রিয়েলষ্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগের যে সিন্ডিকেট রয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ মেয়াদী পলিসির দিকে যেতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা এক ধরনের কর দেওয়ার জন্য বেধে দিলাম। সেটা লং টার্ম থাকতে হবে।’

আজ থেকে সৌদি ঢুকতে পারবে না ২০ দেশের নাগরিক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নিজ দেশের নাগরিক, কূটনীতিক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং তাদের পরিবার ব্যতীত এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ ২০টি দেশ থেকে অভিবাসী নাগরিকদের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব।

আজ বুধবার সৌদির স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে কার্যকর হবে এই নিষেধাজ্ঞা। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে যে দেশগুলো প্রবেশ করতে পারবে না তাদের তালিকায় রয়েছে- ভারত, পাকিস্তান, জাপান, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, ব্রাজিল, পর্তুগাল, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, লেবানন ও মিশর। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি সৌদি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সব ধরনের ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছিল দেশটি।

 

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় গত ২১ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সৌদি আরব। পরবর্তীতে এর মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়ানো হয়। এর ১৫ দিন পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত বছরের মার্চের শুরুতে বিদেশি নাগরিকদের জন্য মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ পালন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল সৌদি আরব। সাত মাস পর প্রথমবারের মতো গত বছরের ২ নভেম্বর বিদেশিদের কাবায় প্রবেশের সুযোগ দেয়।

‘দেশে-বিদেশে নানাভাবে অপপ্রচার চালানোর প্রচেষ্টা চলছে’

সরকারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে নানাভাবে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দেশে-বিদেশে নানাভাবে নানা অপপ্রচার চালানোর প্রচেষ্টা চলছে। তবে যে যাই বলুক, শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে একাদশ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বাস করি সততা নিয়ে কাজ করলে, আর সেই কাজের সুফল জনগণ পেলে সেটাই তৃপ্তি। কেউ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে অবশ্যই দেশের উন্নতি করা যায়। আমরা সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। যার সুফল এ দেশের মানুষ পাবে।’

তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের পর আমরা জনগণের ভোটে বারবার নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের জন্য কাজ করছি। টানা সরকার গঠন করার কারণে উন্নয়ন কাজগুলো দৃশ্যমান হয়েছে। জনগণ ভোট দিয়েছে। সেই ভোটের মর্যাদা রক্ষা করা, তাদের সেবা করা আমাদের কাজ। উন্নয়ন করার ইচ্ছা থাকলে তা করা যায়। আমরা তা প্রমাণ করেছি।’

 

সরকার প্রধান বলেন, ‘দেশের মানুষের উন্নয়ন হচ্ছে। কল্যাণ হচ্ছে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগ মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে মানুষ এখন আন্তরিকভাবে ভোট দিচ্ছে।’

পঁচাত্তর পরবর্তী শাসনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওই সময় নির্বাচনে কি জনগণের আদৌ ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল? ছিল না। মিলিটারি শাসকেরা যেটা ঠিক করে দিতো সেটাই হতো। না হলে পরিবর্তন করা হতো। রেজাল্টও পরিবর্তন হয়েছে। অনেককে কিন্তু পদত্যাগ করতেও হয়েছে। আমরা আন্দোলন করেছি। জনগণ আন্দোলন করেছে। যার কারণে তাদের পদত্যাগ করতে হয়েছে। পরবর্তীরা এতিমের অর্থ আত্মসাতের জন্য সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের রাষ্ট্রপতির পুরো ভাষণটি পড়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘এতে সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে তা জানা যাবে। জানা যাবে সরকার ভবিষ্যতে কী করতে চায় সেটাও।’

মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি অর্ধেক হচ্ছে

মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জনস্বার্থে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি পুনঃর্নিধারণ করার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসি বা এর কম হলে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যমান শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি পূর্বের চার হাজার ২০০ টাকার জায়গায় দুই হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসির ঊর্ধ্বে হলে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যমান শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি পূর্বে পাঁচ হাজার ৬০০ টাকার জায়গায় তিন হাজার টাকা হবে।

এর আগে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রস্তাবে সম্মতি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

 

গত বছরের ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জাপান যৌথ সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক সংলাপ’ শীর্ষক বৈঠকে মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি বাজারমূল্যের ১০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে জাপানি রাষ্ট্রদূত শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মোটরসাইকেল নিবন্ধন খরচ কমানোর প্রস্তাব করেন।

সম্প্রতি অর্থ বিভাগের ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের (এনটিআর-২) উপসচিব শাব্বির আহমেদ স্বাক্ষরিত সম্মতি সংক্রান্ত চিঠি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকে পাঠানো হয়। চিঠিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানোর সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসি বা এর কম হলে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যমান শুধু নিবন্ধন ফি চার হাজার ২০০ টাকার স্থলে দুই হাজার টাকা হবে। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্যাপাসিটি ১০০ সিসির ঊর্ধ্বে হলে পূর্বনির্ধারিত বিদ্যমান শুধু নিবন্ধন ফি পাঁচ হাজার ৬০০ টাকার স্থলে তিন হাজার টাকা হবে।

বাংলাদেশ মোটরসাইকেল সংযোজনকারী ও উৎপাদক সমিতি (বিএমএএমএ) জানিয়েছে, ১১০ সিসির একটি মোটরসাইকেলের মাশুল বাংলাদেশে ২২ হাজার ২৮৪ টাকা। ভারতে তা তিন হাজার ৮৭৯, শ্রীলঙ্কায় চার হাজার, পাকিস্তানে দুই হাজার ৬৮, মিয়ানমারে তিন হাজার ৩২০ এবং মালয়েশিয়ায় এক হাজার ১৩২ টাকা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, করোনার কারণে চলাচল সীমিত থাকলেও গত বছর সারা দেশে তিন লাখ ১১ হাজার ১৬টি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন করেন গ্রাহকরা। যেখানে ২০১৯ সালে নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে চার লাখ এক হাজার ৪৫২টির। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে যথাক্রমে এ সংখ্যা ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৮৭৬ এবং তিন লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৫টি।