আল জাজিরার প্রতিবেদন মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স মেন’ শীর্ষক ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনটি রাজনৈতিকভাবে প্রভান্বিত হয়ে কতিপয় ব্যক্তি কট্টর জামায়াতে ইসলামী গ্রুপের সাথে মিলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে, এটি তারই একটি অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন জাতি হিসেবে জন্ম লাভের পর থেকেই বাংলাদেশ ধারণ করে আসছে।

আল-জাজিরার ওই প্রতিবেদনে দেশের ঐতিহাসিক বিবরণে ১৯৭১ সালের জামায়েতের সহযোগিতায় হওয়া ভয়াবহ গণহত্যার কথাও তুলে ধরতে পারেনি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লাখো বাঙালিকে তারা হত্যা করেছিল এবং দুই লাখেরও বেশি বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করেছিল। এই প্রতিবেদন আল জাজিরার সম্প্রচার ও তাদের ভাষ্যকার ডেভিড বার্গম্যানের রাজনৈতিক পক্ষপাতের একটি প্রতিচ্ছবি মাত্র। ১৯৭১ সালে নিহতের সংখ্যা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করায় বার্গম্যান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দ্বারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, প্রতিবেদনের অভিযোগের মূল সূত্র একজন অভিযুক্ত আন্তর্জাতিক অপরাধী, যাকে আল জাজিরা নিজেই ‘সাইকোপ্যাথ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এতে এই নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থাকার এক বিন্দু প্রমাণও হাজির করা হয়নি। মানসিকভাবে অস্থির প্রকৃতির একজন মানুষের কথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া একটি আন্তর্জাতিক নিউজ চ্যানেলের জন্য বড় ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠী এবং লন্ডনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কাজ করা তাদের মিত্রদের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এই বেপরোয়া ভিত্তিহীন ও বানোয়াট প্রচারণাকে প্রত্যাখ্যান করছে বাংলাদেশ সরকার।

কাস্টমার কেয়ার ও কলসেন্টার শতভাগ সৌদিকরণের নির্দেশ

কাস্টমার কেয়ার এবং কলসেন্টারগুলোর জন্য আর বিদেশ থেকে আউটসোর্স করতে পারবে না সৌদি প্রতিষ্ঠানগুলো। এই সেবাগুলো এখন শতভাগ সৌদিআরব ভিত্তিক হতে হবে- এমন নির্দেশ দিয়েছে সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়।

গতকাল সোমবার মন্ত্রী আহমেদ বিন সুলায়মান আল রাজি এ নির্দেশ দেন।

সৌদি আরবের কোম্পানিগুলো সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান বা অন্য কোনো প্রতিবেশী আরব দেশের মতো বিদেশে অবস্থিত কল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা আউটসোর্স করে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ফোন কল, ইমেল, অনলাইন চ্যাট এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টারঅ্যাকশনসহ দূরবর্তী এসব পরিষেবা আর আউটসোর্স করা যাবে না। এসব কাস্টমার কেয়ার পরিষেবা এখন সৌদি আরবভিত্তিক হতে হবে। সৌদিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এই নির্দেশনার লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।

সূত্র: আরব নিউজ

মতবিরোধ থাকলেও পাকিস্তানে বিরোধীজোট ঐক্যবদ্ধ: পিডিএম প্রধান রেহমান

পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান গত শনিবার বলেছেন, মতবিরোধ থাকলেও বিরোধীজোট ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়ে পরামর্শ দেয় পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। এরপর পিডিএম প্রধান এই বিবৃতি দিলেন। যদিও এ পরামর্শ পছন্দ করেনি পিএমএল-এন।

পেশোয়ারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিডিএম প্রধান বলেন, ইমরান খানের নের্তৃত্বাধীন সরকারের উদযাপন করার মতো কোনো উপলক্ষ নেই। পিডিএম ঐক্যবদ্ধ আছে এবং নিজেদের সুবিধা অনুসারে আমাদের কার্ড দেখাবো।

তিনি আরো বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং একটি কার্যকর কৌশলে এগোচ্ছি। তিনি মনে করেন, ক্ষমতাসীনরা বোকা এবং তারা নিজেরা আরো বোকা হতে থাকবে।

রেহমান বলেছেন, সিন্ধু বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার পরেও ইলেক্টরাল কলেজ অক্ষত রয়েছে। সে কারণে বিরোধী দলগুলো উপ-নির্বাচন এবং সিনেট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে গেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যেক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। রেহমান আরো যোগ করে বলেন, ঐতিহাসিকভাবে উপ-নির্বাচনে প্রকৃত জনমত সবসময় উঠে এসেছে।

যদিও জিও নিউজ পিডিএম-এর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে উপ-নির্বাচনের ফল বদলে গিয়েছিল। এজন্য তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে ব্যক্তিদের ক্ষমতার বসার অধিকার নেই, তারা কেন সুযোগ পেল? এদিকে দেশব্যাপী নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন রেহমান।

চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডির লিয়াকত বাগে প্রথম সমাবেশের কথা জানিয়েছেন রেহমান। এরপর সমাবেশ হবে হায়দরাবাদে; সেটা ৯ ফেব্রুয়ারি। তারপর ১৩ ফেব্রুয়ারি সিয়ালকোটে সমাবেশ হবে।

সূত্র: এএনআই, ডেইলি হান্ট

ইসরায়েল-কসোভোর কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু

ইসরায়েল ও কসোভোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলিজা হারাদিনাজ স্টুবলা এবং ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল অ্যাশকেনাজি সোমবার একটি ভার্চুয়াল সম্মলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠনিকভাবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করলেন। দুই নেতাই এ বিষয়ে নথিতে সই করলেন।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আজ আমরা ইতিহাস তৈরি করলাম। আমরা কসোভো ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু করলাম।’ আর কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি অধ্যায় লেখার কাজ শুরু হলো।’

এর আগে আমিরাত ও কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু করেছে। আমিরাতে এখন ইসরায়েলের পর্যটকদের ঢল নেমেছে। কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর দেশ এবং ইসরায়েল রাষ্ট্র হওয়ার জন্য দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং পথ পাড়ি দিয়েছে।

২০০৮ সালে কসোভো সার্বিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কিন্তু অনেক ইউরোপীয় দেশ তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। ইসরায়েল স্বাধীনতা পেয়েছে ১৯৪৮ সালে। কিন্তু তারপর থেকে আরব ও মুসলিম দুনিয়া তাদের বয়কট করেছে। তবে এখন সেই অবস্থার বদল হচ্ছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম দেশের সম্পর্ক

কসোভো ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক শুরুর সিদ্ধান্ত হয় গত সেপ্টেম্বরে। ট্রাম্পের আমন্ত্রণে কসোভোর প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ হোতি যখন হোয়াইট হাউসে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মিলিত হন। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম প্রধান অনেক দেশের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। তাঁর শাসনকালের শেষের দিকে এই আব্রাহাম অ্যাকর্ড রূপায়ণ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন ট্রাম্প। এখনো পর্যন্ত আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে ইসরায়েলের। এবার হলো কসোভোর সঙ্গেও।

বাইডেন কী করবেন

নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি তাঁর পূর্বসূরীর করা এই চুক্তিগুলোকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন। নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, ‘আমরা মনে করি, ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিবেশী ও ওই অঞ্চলের অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক যে স্বাভাবিক হচ্ছে, তা ইতিবাচক ঘটনা। আমরা তা সমর্থন করি। আগামী মাস ও বছরগুলিতে সেই সম্পর্ক আরো ভালোভাবে গড়ে তোলার দিকে আমরা নজর দেব।’

সর্বাধুনিক প্রযুক্তির রকেট উৎক্ষেপণ করল ইরান

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত কৃত্রিম উপগ্রহ বহনে সক্ষম ‘জুলজানাহ’ নামের একটি রকেট উন্মোচন করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রকেটটি ২২০ কেজি ওজনের যেকোনো স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহকে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্থাপন করতে সক্ষম।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাকাশ বিভাগের মুখপাত্র আহমাদ হোসেইনি জানান, রকেটটিতে সর্বাধিক শক্তিশালী কঠিন জ্বালানী ইঞ্জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ইরানি বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কঠিন জ্বালানী ব্যবহার করে মহাকাশে রকেট পাঠাতে সক্ষম হলেন। তিনি বলেন, “এ যাবৎকালের মধ্যে আবিষ্কৃত সর্বাধিক শক্তিশালী কঠিন জ্বালানী ইঞ্জিন প্রযুক্তি আয়ত্বে আনার পর ইরানি বিশেষজ্ঞরা এই প্রথমবারের মতো কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপক বাহন বা রকেটের পরীক্ষা চালালেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে তিন ধাপের এই রকেট বিশ্বের যেকোনো আধুনিক রকেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। হোসেইনি বলেন, পরীক্ষামূলক কয়েকটি পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর রকেটটির সাহায্যে কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করা হবে। তিনি জানান, কঠিন জ্বালানী ইঞ্জিন প্রযুক্তি আয়ত্ব করার ফলে এখন মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাতে ব্যয় কমবে এবং রকেটের গতি বাড়বে।

ইরান এতদিন তরল জ্বালানীচালিত বেশ কয়েক ধরনের রকেট ব্যবহার করে ভূপৃষ্ঠের কক্ষপথে একাধিক কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপন করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমবারের মতো একটি সামরিক স্যাটেলাইট ভূপৃষ্ঠের কক্ষপথে স্থাপন করে।

সূত্র: আরব নিউজ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

র‌্যাব ও পুলিশ পরিচয়ে তিনি হাতিয়ে নেন টাকা!

রাজধানীর বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের আজিম উদ্দিন (৫১) নামের একজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেকার যুবকদের চাকরি দেওয়ার নামের টাকা হাতিয়ে আসছে এই চক্তটি। আজ মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানার উত্তরা ১ নম্বর সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারকচক্রের প্রতারণা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতারক দলের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার যুবকদের চাকরি দেওয়ার নামে অভিনব কায়দায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছে। এসব প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাদের প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছে। র‌্যাব-১-এর একটি দল দীর্ঘদিন ধরে ওই চক্রকে গ্রেপ্তারের গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ র‌্যাব-১-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. আজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

 

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের সময় আসামির কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি ভুয়া জ্যাকেট, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, তিনটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত কাগজপত্রসহ দুটি ফাইল, দুটি মোবাইল ফোন, একটি ব্যাগ, একটি চাবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে সিল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, আজিম উদ্দিন নিজেকে র‌্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয়ে গ্রামের বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের পাসপোর্ট আটক রেখে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লোক নিয়োগসহ প্রতারণা সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন তিনি।

পিকে হালদারের সহযোগী রাশেদুলের দোষ স্বীকার

৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগের মামলায় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকেহালদার) সহযোগী রাশেদুল হক আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আজ মঙ্গলবার এ আসামি ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রাশেদুল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। গত ২৫ জানুয়ারি রাশেদসহ ২ জনের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। অপরজন হলেন, পিপলস লিজিংয়ের (পিএলএফএসএল) চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী। এরও আগে গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি টিম তাদের গ্রেপ্তার করেন।

মামলায় বলা হয়, উজ্জ্বল কুমার নন্দী ২০১০ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসির কোম্পানি সচিব ছিলেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে তাকে এফএএস ফিন্যান্সের পরিচালক করেন পি কে হালদার। এরপর তাকে আনন কেমিক্যাল ও পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান করা হয়। একই সঙ্গে উজ্জ্বল নন্দীকে নর্দান জুট, রহমান কেমিক্যাল ও ক্লিউইস্টন ফুডের চেয়ারম্যানের পদ দেন পি কে হালদার। অন্যদিকে রাশেদুল হক মূলত পি কে হালদারের ডান হাত হিসেবে পরিচিত।

 

২০১০ সালে পি কে হালদার যখন রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি ছিলেন, তখন রাশেদুল হক ওই প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি ছিলেন। ২০১৫ সালে রাশেদুল ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি পদে যোগ দেন। এই পদে থাকা অবস্থায় তিনি যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছেন, যেগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো মর্টগেজ ছিল না। মামলাটিতে এ দুই আসামি ও পিকে হালদারসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে ৭০ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর সম্পদের একটি মামলা রাজধানীর ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাটসহ পি কে হালদারের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন আদালত। এরও আগে গত ২ ডিসেম্বর পিকে হালদারকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারির আদেশ দেন একই আদালত।

পি কে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে বছরের শুরুতেই পি কে হালদারের বিদেশ পালান। গত বছর ৮ জানুয়ারি ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন কমিশনের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।

টেকনাফে অস্ত্রসহ দুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আটক

টেকনাফে অস্ত্রসহ দুই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করেছে র‌্যাব। আটককৃতরা শালবাগান ২৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত আমির হোসেনের পুত্র সৈয়দ হোসেন (৫৫) এবং মোচনী রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আজিজুল হকের পুত্র বদি আলম (২০)।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে অপরাধ সংঘটিত করার জন্য বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দমদমিয়া ওমরখাল ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাব-১৫ এর একটি দল ওই এলাকায় অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় দুইজনকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি ৯টি এসবিবিএল অস্ত্র,১টি ওয়ানশুটার গান উদ্ধার করে র‌্যাব।

 

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে র‌্যাব-১৫ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানান, আটক সন্ত্রাসীরা জানিয়েছে তারা দীর্ঘ দিন ধরে অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় করার পাশাপাশি ডাকাতি, অপহরণ ও বিভিন্ন প্রকার অপরাধ কর্মকাণ্ড করে আসছিল।

তিনি আরও বলেন,আটক দুই সন্ত্রাসী শীর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত জকির গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

দেশে এখন ‘দশটা হোন্ডা বিশটা গুণ্ডা নির্বাচন ঠান্ডা’ পদ্ধতি নেই : প্রধানমন্ত্রী

দেশে এখন আর ‘দশটা হোন্ডা বিশটা গুণ্ডা নির্বাচন ঠান্ডা’ পদ্ধতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের মানুষ এখন আন্তরিকভাবে ভোট দিচ্ছে এবং ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই বলেও আজ মঙ্গলবার মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের সমাপ্তি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিএনপিতে নেতৃত্বের অভাব বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন আন্তরিকভাবে ভোট দিচ্ছে। আমরা ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছি। সেখানে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই। যার যার ভুল সে নিজে দিতে পারে। এখন আর সেই ‘দশটা হোন্ডা বিশটা গুণ্ডা নির্বাচন ঠান্ডা’ সেই পদ্ধতি নেই। কিংবা ভোট দিতে গিয়ে দেখল ভোট বন্ধ সেটা করা হয় না। তবে মেয়র ইলেকশনেও আমাদের কিছু কিছু জায়গায় কমিশনারদের মধ্যে গোলমাল হয়েছে সেগুলো আলাদা।

 

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের এখন নেতৃত্বের অভাব। আমাকে হত্যা চেষ্টার মামলায় যারা সাজাপ্রাপ্ত, তারা যখন কোনো দলের নেতৃত্বে থাকে সেই দল জনগণের কাজ করবে কীভাবে? বিএনপির তো আজকে সেই দশা। বিএনপি যতই বক্তব্য দেক, যত কথাই বলুক, এই ধরনের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি যখন একটা দলের নেতৃত্বে তাদের ওপর মানুষের আস্থা থাকে না, বিশ্বাস থাকে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, সেই বিশ্বাস ও আস্থা যাদের (বিএনপি) নাই ধীরে ধীরে জনগণ এখন তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যেহেতু আওয়ামী লীগের কাছ থেকে তারা আস্থা ও বিশ্বাস পেয়েছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, দেশের মানুষের কল্যাণ হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আস্থা বিশ্বাস আওয়ামী লীগ অর্জন করেছে। যার প্রতিফলন আমরা দেখলাম আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।

জাতীয় সংসদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারেও কথা বলেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, দেশে করোনাভাইরাস একটু সহনীয় অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরেকটু ভালো হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।

অধিবেশনে ‘ষড়যন্ত্র চলছে, শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে দেশ এগিয়ে যাবে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনা। সূত্র: আমাদের সময়

বিষাক্ত মদপানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১

বগুড়ায় বিষাক্ত মদপানে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১১ জনে।

আজ হাসপাতালে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- চিকীবগুড়া শহরের পুরান বগুড়া ঋষি পল্লীর প্রেমনাথ রবিদাস (৬০), শহরতলীর ফাঁপোড়ের রিকশা চালক জুলফিকার (৫২) ও নিশিন্দারা ধমকপাড়ার আলমগীর (৪০)। তবে আরেকজনের নাম জানা যায়নি।

এর আগে গতকাল সোমবার ৭ জনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- রাজমিস্ত্রী রমজান আলী, সুমন, চা বিক্রেতা সাজু, বাবুর্চি মোজাহার আলী, পলাশ, আলমগীর ও অটোচালক আব্দুল কালাম। গত ৩১ জানুয়ারি রাতে পুরান বগুড়া, ভবের বাজার, কাহালু, ফুলবাড়ি ও কাটনারপাড়া এলাকায় আলাদাভাবে মদপানের ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়।

 

স্থানীয়রা জানান, পুরান বগুড়ার দিয়াবাড়িতে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিষাক্ত মদ পান করেন কয়েকজন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অন্যদিকে শহরের কালিতলা, ফুলবাড়ি ও কাটনারপাড়া এলাকায় মদপান করেন আরও কয়েকজন। তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতজনের মৃত্যু হয়।