পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। ফুটবল প্রথম গ্লোবাল সুপারস্টার পেলে থেকে শুরু করে হালের মেসি-রোনালদোতেও মেতে আছে বিশ্ব। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বিশ্বকাপের সময় এদেশের আকাশেও রঙিন পতাকার আসর বসে। না, সেটি বাংলাদেশের পতাকা নয়, ভিনদেশি ফুটবল পরাশক্তি দলগুলোকে ভালোবেসে সেই ভালোবাসার প্রদর্শন দেখায়। যে ভালোবাসার ব্যপ্তি ছড়িয়ে যায় চা স্টল থেকে শুরু করে ব্যস্ত অফিসের কথামালাতেও।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সফলতা আসলেও সমূহ সম্ভাবনাময় ফুটবলটি নানাবিধ কারণে সেভাবে সাফল্যের মুখ দেখেনি। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীগণ সালাউদ্দিন-প্যাটেলদের থেকে শুরু করে আসলাম, চুন্নু, কায়সার হামিদ পেরিয়ে এই শতকে আলফাজ, মুন্নার দেয়াল ছুঁয়ে জামাল ভুঁইয়াতে এসে ঠেকেছে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে মহিলা ফুটবলে এরকম আইকনিক ব্যক্তি কেউ ছিলই না।

 

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসাইনের বাংলাদেশে মহিলা ফুটবল অনেক পরে এসেছে। প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলেছে ২০১১ সালে। তবে আইকনিক ফুটবলার যে এমন বিষ্ময়কর হবে তা কেইবা ভেবেছিলো। বলছিলাম বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলের প্রথম আন্তর্জাতিক তারকা ও কিংবদন্তি সাবিনা খাতুনের কথা।

১৯৯৩ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলায় পিতা ওয়াজেদ মিয়া এবং মাতা মমতাজ বেগমের কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেন সাবিনা খাতুন। জন্মের সময় ৪র্থ কন্যা সন্তানের আগমণে কতটুকু খুশি হয়েছিলেন তা জানা না গেলেও পরবর্তীতে উনাকে নিয়েই গর্ব করেছিলেন এবং এখনো করেন, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।

সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল দলের কোচ আকবরের মাধ্যমেই সাবিনার ফুটবল যাত্রা শুরু। আন্তঃস্কুল ও আন্তঃজেলা পর্যায়ে নবারুণ উচ্চ বিদ্যালয়ের হয়ে ভালো খেলার মাধ্যমেই বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ও প্রফেশনাল ফুটবল খেলা শুরু। জাতীয় দলে অভিষেক হয় ২০০৯ সালে। মহিলাদের টপ টায়ার লীগ সবসময় চালু না থাকায় প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও ওভাবে খেলার সুযোগ হয় নি।

ঢাকা মেট্টোপলিটন উইমেন্স লিগে মাত্র ১৫ ম্যাচ খেলে ৬৮ টি গোল করেছেন এই গোলমেশিন। বাংলাদেশ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৩৩ ম্যাচে গোল করেছেন ১৩১ গোল। শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রথম মহিলা ফুটবলার হিসেবে দেশের বাইরে লিগ খেলেছেন তিনি। মালদ্বীপের লিগে খেলতে গিয়ে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের হয়ে মাঠে নেমে ৭ ম্যাচে ২২ গোল করেছেন তিনি। বাংলাদেশ উইমেন্স সুপার লিগে ১৯ গোল করতে লেগেছে মাত্র ৫ ম্যাচ। ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগে সেতু এফসির হয়ে ৭ ম্যাচে করেছেন ৬ গোল।

বাংলাদেশ জাতীয় দলে এখন পর্যন্ত ৩৭ ম্যাচ খেলে গোল করেছি ১৯ টি, যা বাংলাদেশ মহিলা ফুটবলে সর্বোচ্চ। এত গোল দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। গর্ব করার মত আমাদের একজন সাবিনা রয়েছেন। সুনীল ছেত্রীর জাতীয় দলের গোলসংখ্যা দেখানো হয় আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যার তালিকায়। কিন্তু পরিসংখ্যান সংগ্রহের উদাসীনতা কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্তদের খামখেয়ালির জন্য সেভাবে সাবিনার রেকর্ডগুলো আমরা দেখি না।

২০১৯ সালে শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সেভ দ্য চিলড্রেন যুব দূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন সাবিনা। ২০২০ এ স্কয়ার ফুড & বেভারিজ লিমিটেড এর সৌজন্যে পেয়েছেন ‘রাঁধুনি কীর্তিমতী – ২০২০’ এর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি।

ফুটবলার হিসেবেই শুধু নন, শিখছেন কোচিং এর হাতেখড়ি। এএফসির ‘সি’ ও ‘বি’ কোর্স সম্পন্ন করে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। বাংলাদেশ নারী অনুর্ধ ১৬ জাতীয় দলের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ মহিলা দলে বর্তমান  প্রজন্মের যারা খেলছেন, তাদের প্রায় সবারই আইডল সাবিনা। খেলাধুলার জন্য পারিবারিক বাধার মুখে পরলে সাবিনার ছবি দেখিয়েও অনেক খেলোয়ার বুঝিয়েছেন যে, মেয়েরাও ফুটবল খেলে।

নারী ফুটবলের শুরুটা খুব বেশিদিনের না হলেও সাবিনার মত এতটা পরিচিতি আগে কেউ পাননি। প্রথম আন্তর্জাতিক সমাদৃত হিরো হিসেবে ব্রাজিলের যেমন পেলে, আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা, পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের তেমনি সাবিনা খাতুন। রাত জেগে ইউরোপীয় ফুটবলের খেলা দেখা ফুটবলপ্রেমিক চেনে জোতা পালিশ করা পেলেকে, কয়লার খনিতে বড় হওয়া ডি মারিয়া, রাস্তায় মায়ের সাথে ঝাড়ু দেওয়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে, তেমনি চেনা উচিত ছিলো আমাদের রত্ন সাবিনাকে।

আমার ভূখণ্ডের প্রতিনিধিত্ব করা তারকাকে আমাদেরই পরিচয় করাতে হবে বিশ্বের কাছে। দেশটা আমাদের, দায়িত্বটাও আমাদেরই। আজ এই গুণী মানুষটি জন্মদিন। শুভ জন্মদিন কিংবদন্তি।

বাঁধাকপির যত পুষ্টিগুণ

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায় প্রাচীন গ্রিক দেশে একাধিক রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগানো হত বাঁধাকপির রসকে। বিশেষত কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমাতে গ্রিক চিকিৎসকেরা এই সবজির উপরই মূলত ভরসা করতেন। একই রকমের চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলতেন মিসরীয় মানুষরাও। তারাও শরীরে টক্সিনের পরিমাণ কমাতে প্রায় প্রতিদিনই বাঁধাকপি খেতেন।

আধুনিক চিকিৎসায় এই সবুজ গোলাকার সবজিটির প্রবেশ ঘটে ইংরেজদের হাত ধরে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে ব্রিটিশরাই সারা বিশ্বে বাঁধাকপির জয়গান গেয়ে বেড়িয়েছে। পুষ্টিগুণে ঠাসা এই সবজিটি খেলে ক্যানসারের মতো মারণ রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। রক্তে সুগাররে মাত্রাকে বেঁধে রেখে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার পথকেও প্রশস্ত করে। কমে আরও অনেক রোগের প্রকোপ। কেন জানেন?

১. রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের বিপুল ক্ষমতা রয়েছে এই সবজিতে

বাঁধাকপিতে উপস্থিত ফোটোনিউট্রিয়েন্টস, যেমন পলিফেনল এবং গ্লকোসিনোলেট শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা করনারি আর্টারি ডিজিজ, অর্থাৎ হার্টের রোগের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি ক্যান্সার, অ্যালঝাইমারস এবং ম্যাকিউলার ডিজেনারেশনের মতো রোগকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে ‘এশিয়ান প্যাসিফিক জার্নাল অব ক্যান্সার প্রিভেনশন’-এ প্রকাশিত একটি স্টাডিতেও একথা প্রমাণিত হয়েছে। তাই বৈজ্ঞানিক দিক থেকে আর কোনও সন্দেহ নেই যে বাঁধাকপি বাস্তবিকই এই সব রোগকে আটকে রাখে।

২. ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমায়

২০০৮ সালে এভিডেন্স বেসড কমপ্লিমেনটারি অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিনে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে টানা ৬০ দিন বাঁধাকপি খেয়ে গেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক লেভেলে চলে আসে। সেই সঙ্গে রেনাল ফাংশনের উন্নতি ঘটে এবং ওজন কমতে শুরু করে। আসেল এই সবজিটিতে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং হাইপার-গ্লাইসেমিক প্রপার্টিজ রয়েছে, যা ডায়াবেটিসের মতো রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, আরও বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বাঁধাকপির এইসব পুষ্টিকর উপাদানের পাশাপাশি ফাইবারও রয়েছে অনেক পরিমাণে। এই উপাদানটি একদিকে যেমন ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে সাহায্য করে, তেমনি নানাবিধ পেটের রোগের প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৩. ভিটামিন সি এবং কে-তে ঠাসা

হাফ কাপ সেদ্ধ বাঁধাকপিতে যে পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে, তা সারা দিনের চাহিদার প্রায় ৪৭ শতাংশ পূরণ করে দেয়। আর ভিটামিন কে-এর চাহিদা পূরণ করে প্রায় ১০০ শতাংশ। তাহলে বুঝতে পারছেন তো এইটুকু বাঁধাকপি যদি এত কাজে আসতে পারে, তাহলে এক বাটি খেলে কত উপকারই না হবে! প্রসঙ্গত, শরীরকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে সংক্রমণকে আটকাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেই সঙ্গে ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। অন্যদিকে, ভিটামিন কে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি শরীরের প্রতিটি অংশে রক্ত প্রবাহ যাতে ঠিক মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখে।

৪. ওজন কমায়

বাঁধাকপিতে কী কী রয়েছে সেদিকে একবার নজর ফেরালেই বুঝতে পারবেন কেন এই সবজিটি ওজন কমাতে এতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ঠিক কী আছে এই সবুজ সবজিটিতে? রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত মেদকে ঝেড়ে ফেলে। অন্যদিকে বাঁধাকপিতে রয়েছে একেবারে কম মাত্রায় ক্যালরি এবং কার্বোহাইড্রেট। ফলে এটি খেলে ওজন বৃদ্ধির কোনও সম্ভাবনাই থাকে না।

৫. বুদ্ধি বাড়ে

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকায় এই সবজিটি নিয়মিত খেলে ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে নার্ভের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। ফলে বুড়ো বয়সে গিয়ে অ্যালঝাইমারস সহ একাধিক ব্রেনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

৬. নিমেষে মাথা যন্ত্রণা কমায়

বাঁধাকপির পাতাগুলি ছিঁড়ে নিয়ে একটা কাপড়ে রেখে কপালে বেঁধে দিন। কিছু সময় পরই দেখবেন মাথা যন্ত্রণা একেবারে গায়েব হয়ে গেছে। আর যদি এমনটা করতে না চান, তাহলে আরেকটি ঘরোয়া পদ্ধতি আছে, যা এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কী সেই পদ্ধতি? পরিমাণ মতো বাঁধাকপি নিয়ে ২৫-৫০ এম এল জুস বানিয়ে পান করুন। এই ঘরোয়া ওষুধটি ক্রনিক মাথা যন্ত্রণা কমাতে দারুন কাজে আসে।

ভুল বোঝাবুঝি থাকলে আলোচনা করা যেত

জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন। সম্প্রতি অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে তিনি দ্বৈতকণ্ঠ দিয়েছেন ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ শিরোনামের একটি গান। পার্থ বড়ুয়ার সংগীত পরিচালনায় যা ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়। গানটির সুবাদে প্রশংসিত হয়েছেন চঞ্চল-শাওন। এরপরই গানটি নিয়ে ওঠে বিতর্ক। এর মেধাস্বত্ব দাবি করে অভিযোগ করেন সরলপুর ব্যান্ডের সদস্যরা। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে গানটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরই তা ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। তারপরও থেমে নেই আলোচনা-সমালোচনা।

গানটি প্রসঙ্গে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘সর্বত মঙ্গল রাধে’ গানটি প্রকাশের পরপরই দারুণ সাড়া ফেলে। কিন্তু হঠাৎ গানটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। পরে জানলাম, এর মেধাস্বত্ব নিয়ে অভিযোগ করেছে সরলপুর ব্যান্ডের সদস্যরা। এটি তাদের গান, শুনে অবাক হয়েছি। শৈশবে অনেকবার এই গান শুনেছি, এর সঙ্গে নেচেছিও। আমি জানি গানটি সংগৃহীত। তাই এতে কণ্ঠ দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘ইউটিউবে গানটির ২৫টির মতো ভার্সন আছে। আমি নিজে দেখেছি। সবখানেই লেখা সংগৃহীত। সরলপুরের গান এটি- কোথাও পাইনি। কোনো জায়গায় গীতিকার-সুরকারের নাম ছিল না। সে কারণে সবাই ভেবে নিয়েছে, এটি প্রচলিত গান। সেই হিসেবে আমরাও এটিতে কণ্ঠ দিয়েছি।’

সরলপুর ব্যান্ডের পক্ষ থেকে কেউ কি যোগাযোগ করেছিলো? জানতে চাইলে শাওন বলেন, না, ‘আইপিডিসি আমাদের গান’র ব্যানারে গানটি প্রকাশের পর ফেসবুকে তারা প্রতিবাদ দিয়েছে। আমরা অফিসিয়ালি কোনো চিঠি পাইনি। আমি একজন শিল্পী। তারাও শিল্পী। সহকর্মীর জায়গা থেকে তারা একটা ফোন করতে পারতেন কিংবা মেসেজ দিয়ে জানাতে পারতেন। ভুল বোঝাবুঝি থাকলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেত। এভাবে অভিযোগ করে ইউটিউব থেকে নামিয়ে দেওয়া দুঃখজনক।

তারা কিন্তু অনেক আগে থেকে গানটির কপিরাইট নিয়ে রেখেছেন প্রসঙ্গে শাওন বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, মৌলিক গানের কপিরাইট হয়। এই গানটি আমি ছোটবেলা বহুবার শুনেছি। এটি একটি লোকজ গান, এর কপিরাইট কীভাবে তাদের; বিষয়টি আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। বাংলার মাটির গান বা বাউল গান কারও একক সম্পত্তি নয়। আমি মনে করি, এগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত। আশা করি, শিগগিরই এর সুষ্ঠু একটি সুরাহা হবে।’

সাভার থানার ওসিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

‘মানবাধিকার খবর’ নামক মাসিক পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মানবাধিকার কর্মী মো. রিয়াজ উদ্দিনের অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করেও মামলা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এফএম শাহেদ হোসেনসহ আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গত ২০ অক্টোবর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম কামরুন্নাহার পিবিআইকে পুনঃতদন্তের এ আদেশ দিয়েছেন। যা আজ রোববার এ মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান জানিয়েছেন।

এর আগে গত গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রিয়াজ উদ্দিন নিজেই বাদী হয়ে এ মামলা করেন। ওইদিন একই আদালত মামলাটি ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

যার তদন্ত শেষে গত ২৬ জুলাই ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাসিম মিয়া আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বাদীকেই তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্টো দোষারোপ করে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে উল্লেখ করেন। ফলে বাদী প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দাখিল করলে গত ২৪ সেপ্টেম্বর শুনানি হয়। এরপর বাদীর নারাজির যৌক্তিকতা থাকায় গত ২০ অক্টোবর আদালত পিবিআইকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন-সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকারিয়া, উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলি এবং সাভার থানাধীন ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. এনামুল হক, অপহরণকারী বৃষ্টি, তার স্বামী শুধাংশ রায়, নয়ন কুমার ও রণিসহ অজ্ঞাতনামা আর ৫/৬ জন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর সঙ্গে গত বছর ডিসেম্বর আসামি বৃষ্টির ফেসবুকে পরিচয়। সেখানে সে বাদীকে একটি ছেলেসহ বিভিন্ন অসহায়ত্বের কথা বলেন। বাদী মানবাধিকর কর্মী হওয়ায় তার কাছে সহায়তা চান এবং সরোজমিনে অসহায়ত্বে দেখে প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ করেন। বাদী সরল বিশ্বাসে আসামির বৃষ্টির কথায় গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাভার বাসস্ট্যান্ড হয়ে হেমায়েতপুরস্থ বালুর মাঠের সোহরাব হোসেনের বৃষ্টির ভাড়া বাড়ির সামনে দুপুর ১টার দিকে যান। সেখানে ৩/৪টি ছিলে তাকে বৃষ্টির ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায় এবং বাড়িতে ঢোকার পর দরজা বন্ধ করে বেঁধে মারধর শুরু করে এবং তার কাছে থাকা নগদ ১১ হাজার ৫০০ টাকা, মোবাইল, ক্যামেরা, এটিএম কার্ড নিয়ে যায়। এরপর নির্যাতন করে এটিএম কার্ড ও বিকাশের পিন নম্বর নিয়ে আরও ৬ হাজার টাকা তুলে নেয়। এরপর বাদীর মোবাইল নম্বর থেকে তার স্ত্রীসহ বিভিন্ন জনকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো মুক্তিপণ না পেয়ে বাদী ও তার স্ত্রী অনুনয় বিনয়ের পর বেলা ৪টার দিকে বাদীকে সাভার নিয়ে ছেড়ে দেয়।

এরপর বাদী সাভার থানায় যান এবং পুলিশ আসামিদের কাছে অপহরণের বিষয়ে অভিযোগ করেন। এরপর আসামি এনামুল হক ওইদিন সন্ধ্যার দিকে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে আসামি বুষ্টি, নয়ন কুমার, রণি ও অজ্ঞাত এক নারীকে গ্রেপ্তার করেন এবং বাদীর সব কিছু উদ্ধার করে তাদেরসহ থানায় নিয়ে আসেন। থানার আসার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতির এক পর্যায়ে পুলিশ আসামিরা বাদীকে আটককৃতদের সঙ্গে সমঝোতা করতে বলেন। না করলে উল্টো ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির মামলায় বাদীকে আদালতে চালান দেওয়া হবে বলে ভয় দেখান এবং বাদীর মোবাইল নিয়ে থানার লকাপে ভরার আদেশ দেন। পরে জোর করে বাদীর কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বাদীকে থানা ছাড়তে বাধ্য করেন। পরে বাদী জানতে পারেন যে, আটককৃরা সংঘবন্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ পাওয়ার চুক্তি করে বাদীকে উল্টো মামলার ভয় দেখায়। সূত্র: আমাদের সময়

চার কোটি টাকা দুর্নীতি মামলা সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আরও এক জনের সাক্ষ্য গ্রহণ

ফারমার্স ব্যাংকের ৪ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আরও একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। সাক্ষীরা হলেন-মামলাটির জব্দ তালিকার সাক্ষী দুদকের ডাটাএন্টি কন্ট্রোল অপারেটর আহসান হাবীব।

আজ রোববার ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর ১২ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন। এ নিয়ে মামলাটিতে চার্জমিটভূক্ত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।

আজ সাক্ষ্যগ্রহণকালে মামলাটিতে জামিনে থাকা আসামি ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম শামীম ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ক্রেডিট প্রধান গাজী সালাহউদ্দিন এবং ব্যাংকটির ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা হাজির হন। আর ফারমার্স ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে থেকে আদালতে আনা হয়।

মামলাটিতে এসকে সিনহাসহ চারজন পলাতক রয়েছেন। অপর তিনজন হলেন-ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা সান্ত্রী রায় ওরফে সিমি ও তার স্বামী রণজিৎ চন্দ্র সাহা।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট একই আদালত এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে ১৮ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেন। গত বছর ১০ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর আগে একই বছর ১০ জুলাই দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফারমার্স ব্যাংকে শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার নামে মঞ্জুরকৃত ঋণের ৪ কোটি টাকা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সুপ্রিমকোর্ট সোনালী ব্যাংক শাখার হিসাবে জমা হয়। সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর : ৪৪৩৫৪৩৪০০৪৪৭৫-এ জমা হওয়ার পর ওই টাকা বিভিন্নভাবে স্থানান্তর করে উত্তোলন করা হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করতে এ ধরনের অপরাধ করেন। তারা অবৈধভাবে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে নগদে উত্তোলন ও বিভিন্ন পে-অর্ডারের মাধ্যমে নিজ আত্মীয়র নামীয় হিসাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। পরে সেই অর্থ নিজেদের ভোগদখলে রেখে তার অবৈধ প্রকৃতি, উৎস অবস্থান গোপন বা এর ছদ্মাবরণে পাঁচার করেছেন মর্মে তদন্তে প্রমাণিত হয়। যা দ-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২)(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রসঙ্গত, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহা। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

শাশুড়ির মামলায় সস্ত্রীক কারাগারে আ. লীগ নেতা

বগুড়ায় শাশুড়ির দায়ের করা ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রানা ও তার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে এ নির্দেশ দেন বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

আনোয়ার হোসেন রানা বগুড়া জেলা পরিষদের সদস্য ও নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। তাকে স্বস্ত্রীক কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম মন্টু। এর আগে ১ অক্টোবর রাতে আওয়ামী লীগ নেতা রানার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন তার শাশুড়ি দেলওয়ারা বেগম।

মামলায় রানার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানাসহ সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট লিমিটেডের তিন ব্যবস্থাপক যথাক্রমে নজরুল ইসলাম, হাফিজার রহমান ও তৌহিদুল ইসলামকে আসামি করা হয়। পরে ৫ অক্টোবর মামলাটি বগুড়া সদর থানায় রেকর্ড করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর নিজেই দায়িত্ব পান। মামলা রেকর্ড হওয়ার পর ১১ অক্টোবর, রানা ও তার স্ত্রী উচ্চ আদালতে জামিন প্রার্থনা করেন। তবে সেখানে শুনানি শেষে আদালত তাদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

জুডিশিয়াল পেশকার আনোয়ার হোসেন জানান, রোববার বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে রানা ও তার স্ত্রী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সুপারের কাছে দাখিল করা লিখিত অভিযোগ এবং থানায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, দেলওয়ারা বেগমের স্বামী সেখ সরিফ উদ্দিন শহরের কাটনাপাড়া এলাকায় সরিফ বিড়ি ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালে তার মৃত্যু হলে দেলওয়ারা বেগম শহরের নওয়াববাড়ি এলাকায় অবস্থিত বহুতল মার্কেট ‘দেলওয়ারা-সরিফ উদ্দিন সুপার মার্কেট’ কিনে নেন। এরপর তিনি সরিফ সিএনজি লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। দেলওয়ারা বেগম এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার পাঁচ মেয়ে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেলওয়ারা বেগমের অপর চার মেয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে আনোয়ার হোসেন রানার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও হুমকি প্রদানের লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

আনোয়ার হোসেন রানাকে সুযোগ সন্ধানী উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়, তিনি দেলওয়ারা বেগমের বড় জামাতা সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন ‘দৈনিক দুর্জয় বাংলা’- পত্রিকায় বিজ্ঞাপন শাখার একজন কর্মী ছিলেন। ২০০৬ সালে সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী (দেলওয়ারা বেগমের বড় মেয়ে) দুই সন্তানের জননী আকিলা সরিফা সুলতানার দিকে চোখ পড়ে আনোয়ার হোসেন রানার। নিজের স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি আকিলা সরিফা সুলতানাকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

মামলার এজাহারে দেলওয়ারা বেগম আরও অভিযোগ করেন, তার বয়স এবং অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে আনোয়ার হোসেন রানা এবং তার স্ত্রী আকিলা সরিফা সুলতানা তার মালিকানাধীন সব প্রতিষ্ঠানের দেখাশোনার দায়িত্ব মৌখিকভাবে গ্রহণ করেন। শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় একই বাড়িতে থাকার কারণে রানা বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কাগজ-পত্রে তার স্বাক্ষরও গ্রহণ করেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে, অনেক আগেই আনোয়ার হোসেন রানা অন্য আসামিদের সহযোগিতায় বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরী করে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংকে রাখা ৫০ কোটি টাকার এফডিআর এবং অন্যান্য ব্যাংকে রাখা আরও ৫০ কোটি টাকাসহ মোট ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগেও মামলার বাদী দেলওয়ারা বেগম ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তার অপর জামাই ও মেয়েদের নামেও মামলা দায়ের করেন। সে মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

সিভিল এভিয়েশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর ১০ বছর কারাদণ্ড

প্রায় তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় সিভিল এভিয়েশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আসির উদ্দিনকে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৭ (১) ধারায় ৮ বছর কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ২৬(২) ধারায় তাকে দুই বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ঢাকার উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে তিন কাঠা জমির ওপর তার মালিকানাধীন ভবনসহ সব স্থাপনা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

জামিনে থাকা আছির উদ্দিন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রায়ের সময় তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

প্রায় তিন কোটি টাকার জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রকৌশলী আসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৪ মে রাজধানীর রমনা থানায় দুদকের উপপরিচালক মাহফুজা খাতুন মামলাটি দায়ের করেন। ২০১৮ সালে মামলাটিতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মনজুর আলম।

এদিকে মামলাটির তদন্ত চলাকালে ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর সিভিল এভিয়েশন কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। সূত্র: আমাদের সময়

গৃহবধূকে ৫ খণ্ড করে হত্যা : ৩ আসামি রিমান্ডে

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামের গৃহবধূ নূরজাহানকে (৫৮) হত্যার ঘটনায় তিন আসামির রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান এ আদেশ দেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো জাকির হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭ আসামির মধ্যে কালাম প্রকাশ মামুন, ইসমাইল ও হামিদকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। তাদের প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। পরে শুনানি শেষে বিচারক তাদের প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ মামলায় নিহত নূরজাহানের ছেলে হুমায়ন কবির ও তার বন্ধু কসাই নূর ইসলামসহ চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ৭ অক্টোবর বুধবার বিকেলে সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের একটি বিলের ক্ষেত থেকে নূর জাহানের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই নারীর ছেলে হুমায়ন কবিরসহ  নীরব, কসাই নূর ইসলাম, কালাম প্রকাশ মামুন, সুমন, হামিদ ও ইসমাঈলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নভেম্বরে দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বৃষ্টিপাতের প্রভাব কমেছে। আজ রবিবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। তবে আগামী মাসে (নভেম্বর) ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে এ কথা জানিয়েছেন অধিদফতরের উপপরিচালক কাওসার পারভীন।
তিনি বলেন, আগামী দিন থেকেই আমরা স্বাভাবিক আবহাওয়া আশা করছি। এই মেঘ-বৃষ্টি কেটে গেলেই শীতের প্রকোপ চলে আসবে। অক্টোবর-নভেম্বর মাস ঘূর্ণিঝড়ের মাস। আগামী মাসে এ রকম দু-একটা ঘূর্ণিঝড় হওয়ার আশঙ্কা আছে।

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রংপুর ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।

বিডি প্রতিদিন

ট্রলি-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ২, আহত এক পরিবারের ৯ সদস্য

 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় মাইক্রোবাস ও ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত পরিবারের আরও ৯ সদস্য। আজ শনিবার বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার শালবাহান রোডের কাছে গ্রিনকেয়ার সংলগ্ন স্থানে এ দূর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই মারা যান মোছা. ইয়াসমিন (৪০) ও মাইক্রোবাসচালক স্বপন চন্দ্র রায় (২২)।

নিহত ইয়াসমিন উপজেলা সদরের কলোনীপাড়া গ্রামের ফার্মেসী রবিউল ইসলামের স্ত্রী ও চালক স্বপন রায় বুড়িমুটকি এলাকার তুলেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে।

 

এ ঘটনায় আহতরা হলেন নিহত ইয়াসমিনের স্বামী রবিউল ইসলাম (৪৫), শ্বশুর ফুল মোহাম্মদ (৭৬), শাশুড়ি রোকেয়া বেগম (৭০), ছেলে ফয়সাল (১৭), মেয়ে রওনক জাহান (১২), রোদসী (১১) ও পরিরারের স্বজন মোমিনপাড়া এলাকার মোকছেদ আলীর স্ত্রী তহমিনা বেগম (৫০), মেয়ে মিথিলা আক্তার (১৫) ও একই এলাকার আকতারুজ্জামানের স্ত্রী রেনু বেগম (৪৫)।

 

হাইওয়ে পুলিশ ও তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ফুল মোহাম্মদ, রেনু বেগম, মিথিলা ও তহসিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

নিহত ইয়াসমিনের পরিবার পঞ্চগড়ে আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াত খেয়ে তেঁতুলিয়ায় বাড়ি ফিরছিলেন। শালবাহান রোডের গ্রিণ কেয়ার পর্যন্ত আসলে দ্রুতগামী একটি ট্রলি হাইওয়ে সড়ক হতে গ্রিন কেয়ারের দিকে যেতে বডির সাথে সংঘর্ষ ঘটলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।