মোদির ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে লাখ লাখ তথ্য ফাঁস!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট narendramodi.in থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের তথ্য চুরি হয়েছে। ‘সাইবেল’ নামে এক মার্কিন সাইবার সুরক্ষা সংস্থার পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।

চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নানা তহবিলে অনুদান দেওয়া দু’লাখের বেশি মানুষের ফোন নম্বর, ইমেল আইডির মতো নানা ব্যক্তিগত তথ্য। যার মধ্যে করোনা ত্রাণে অনুদান জমা দেওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও। এই সব তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে ওই সংস্থার দাবি।

শুক্রবার এক ব্লগ পোস্টে ওই সংস্থার পক্ষে দাবি করা হয়, চুরি যাওয়া ৫ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিগত তথ্য কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, নাম, ফোন নম্বর, ইমেল আইডি প্রভৃতি।
গত ৩ সেপ্টেম্বর হ্যাক করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্টটিও। এরপর ১০ অক্টোবর সাইবেল গোপনে জানতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটের তথ্য ডার্ক ওয়েবে চলে গিয়েছে। খবর পেয়ে ফাঁস হওয়া তথ্য ও তার বিশ্লেষণ করতে শুরু করে।

ওই মার্কিন সংস্থা আরও জানিয়েছে, সাইবার অপরাধীরা সম্প্রতি ওই ওয়েবসাইটের তথ্য চুরি করে। তার সাহায্যেই তারা ওই ওয়েবসাইটের টুইটার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করেছিল। তবে এখনও তথ্য ফাঁসের ব্যাপারে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

মার্কিন সংস্থার দাবি, দেশের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণে রাখার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা CERT-India-কে এবিষয়ে জানানো হলে তারা তাৎক্ষণিক কোনও সাড়া দেয়নি।

প্রসঙ্গত, ডার্ক ওয়েব হল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের এমন একটি উপাদান যা এক ধরনের গোপন নেটওয়ার্ক। ডার্ক ওয়েব মূলত ডিপ ওয়েবের একটি অংশ। সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন এখানে প্রবেশ করতে পারে না।

রৌমারী সীমান্তে বিজিবির হাতে ভারতীয় ৩ নাগরিক আটক

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে তিন ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি জওয়ানরা। আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের সামন থেকে দাঁতভাঙ্গা ক্যাম্পের বিজিবি জওয়ানরা তাদের আটক করে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করার অপরাধে থানায় মামলা করা হবে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

বিজিবির হাতে আটক হওয়া ভারতীয় নাগরিকরা হলেন, সেলিম মিয়া (২০), জাহাঙ্গীর আলম (১৯) ও মাহালম শেখ (২০)। ভারতের আসাম রাজ্যের মানকারচর জেলার দক্ষিণ সালমারা থানার কানিমারা ইউনিয়নের হাটশিঙ্গীমারী গ্রামে তাদের বাড়ি।

দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার মিজানুর রহমান জানান, আটককৃত ওই তিন ভারতীয় নাগরিক চোরাচালানের অবৈধ উদ্দেশ্য নিয়ে সীমান্ত অনুপ্রবেশ করে। আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ১০৫২ এর কাছ দিয়ে সাহেবের আলগা সীমান্ত অতিক্রম করে। সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে অবৈধ ভাবে প্রবেশের দায়ে তাদেরকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। সুত্র: কালের কন্ঠ

প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি আসছে

চলতি সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে প্রাথমিকে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি। ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করে সেটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে যেটি ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশ হতে পারে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, সারাদেশে ২৫ হাজার ৬৩০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক এবং ৬ হাজার ৯৪৭ শূন্যপদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে ওয়েবসাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, এবার প্রার্থীর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারী নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (পাস) বা সমমান ডিগ্রি করা হয়েছে।

গত বছর অনলাইন আবেদন ফি ১৬৬ টাকা হলেও এবার কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে। বুয়েট ও টেলিটক মোবাইল কোম্পানির সহায়তায় আবেদন গ্রহণ, কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো, খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ করা হবে। সুত্র: বাংলা

মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ

বলিউড সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলে মহাক্ষয় ওরফে মিমোর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা ও জোর করে গর্ভপাতের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নির্যাতিতার লিখিত বয়ানে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে সম্পর্কে ছিলেন তিনি মিমোর সঙ্গে। এই সময়েই মিমো নির্যাতিতাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। পুলিশের কাছে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ২০১৫ সালে মিমো তাকে বাড়িতে ডেকে পানীয়তে মাদক মিশিয়ে অনুমতি ছাড়াই তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছিলেন। এরপরই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৪ বছর লাগাতার ধর্ষণ করেছেন। যা মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত করেছে নির্যাতিতাকে। লাগাতার শারীরিক সম্পর্কের ফলে গর্ভবতী হয়ে যান ওই নারী। মিমো বাধ্য করেছিলেন তাকে গর্ভপাত করতে। এজন্য বেশ কিছু ওষুধও খাইয়েছিলেন এমনই গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে ৷
নির্যাতিতা আরও অভিযোগ করেছেন যে, মিমো ও তার মা যোগিতাবালি ভয় দেখিয়েছিলেন, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন। নির্যাতিতা এই মামলায় এর আগেই এফআইআর করার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কোনও কাজই হয়নি। এরই মাঝে নির্যাতিতা দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়ে যান।

দিল্লির রোহিণী আদালতে এফআইআর দায়েরের আবেদন জানিয়েছিলেন। প্রাথমিক প্রমাণাদির পরে আদালত এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে। এরপরই মুম্বাইয়ের এক থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ফেনীতে ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চে হামলা, আহত ৮

নোয়াখালীর একলাশপুর যাওয়ার পথে ফেনীর কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ফেনী শহরের কুমিল্লা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলায় লংমার্চকারীদের ৮ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে লংমার্চকারীরা তাদের নির্ধারিত সমাবেশ করেন। দেশব্যাপী ধর্ষণ, নারী নিপীড়ন ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে শাহবাগ থেকে শুরু হয়েছে এ লংমার্চ।

লংমার্চ কারীরা বলেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে সমাবেশ ও প্রচারাভিযান করে ফেনী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের দিকে লংমার্চ যাওয়ার সময় কুমিল্লা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গেলে কয়েকজন সন্ত্রাসী হামলা করে। এসময় লং মার্চ কারীদের মধ্যে হৃদয়, শাহাদাত, অনিক, যাওয়াদসহ ৮ জন আহত হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ফেনী শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ফেনীতে সমাবেশের পরিচালক পংকজ দেবনাথ সূর্য বলেন, এ হামলা ন্যাক্কারজনক। আমাদের কর্মীদের হামলা করে দমিয়ে দিতে চায় সন্ত্রাসীরা।

এর আগে শহরের শহীদ মিনারের পাশে দোয়েল চত্ত্বরে সমাবেশ চলাকালে স্থানীয় সংসদের ছবির উপর লাল রং লাগিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য লেখাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে লং মার্চকারীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এসময় ফেনী সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান ও ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

লংমার্চকারীদের নেতৃত্বস্থানীয়রা বলেন, সমাবেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে বহিরাগত কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছে।

বিডি প্রতিদিন

এক রশিতে ঝুলছিল পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকার লাশ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরকীয়া প্রেমিক-প্রেমিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের রাজাফৈর গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন ওই গ্রামের শাজাহান (৪২) এবং একই গ্রামের দানেজের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৩৯)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলেয়া তার স্বামী দানেজের সঙ্গে বসবাস করতেন। দানেজের বাড়িতে প্রায়ই যাতায়াত করতেন শাজাহান। একপর্যায়ের তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেড় মাস আগে আলেয়া ও শাহাজাহন এলাকা থেকে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন উধাও থেকে গত বুধবার শাজাহান ও আলেয়া গ্রামে ফিরে আসেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওই গ্রামের আমজাদ ও কাশেমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিসে সমাধান হওয়ার কথা ছিল। তবে গতকাল রাতে ওই গ্রামের কয়েকজন যুবক তাদের গালিগালাজ ও চড়-থাপ্পড় মারেন। আজ শুক্রবার সকালে আলেয়ার  স্বামী দানেজের গোয়াল ঘর থেকে তাদের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শাজাহানের দুই সন্তান ও আলেয়ার ১১ বছরের এক সন্তান রয়েছে।

আলেয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়ের আত্মহত্যা করার কথা নয়। আত্মহত্যা করলে আগেই করত, বাড়িতে এসে করত না। তদন্ত সাপেক্ষে আমি সঠিক বিচার দাবি করছি।’ স্থানীয় ইউপি সদস্য হামিদ মিয়া বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা নয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছোহরাব আলী দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিষয়টি রহস্যজনক। তাদের পা মাটিতে ঠেকানো ছিল। মাটিতে রক্তও পড়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত দাবি করছি।’

পুলিশ কর্মকর্তা রাহেদুল ইসলাম দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘আজ শুক্রবার সকালে লাশ উদ্ধার করে বেলা ১২টায় ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষয়টি আত্মহত্যা। তবে মাটিতে একটু রক্ত পড়েছিল। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।  ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

গোপন কক্ষে আটকে রেখে কিশোরীকে ধর্ষণ করতেন মাদ্রাসাশিক্ষক!

মাদ্রাসায় ভর্তির করানোর কথা বলে দরিদ্র এক কিশোরীকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে তিন মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরে ভুক্তভোগীর বাবার দেওয়া অভিযোগ পেয়ে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব গাজীপুরের সালনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রসাশিক্ষক আসাদুজ্জামানকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে একটি গেপান কক্ষ থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।

যাব জানায়, বাবা ও মায়ের সঙ্গে গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ সালনা এলাকায় থাকত হতদরিদ্র পরিবারের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী। বাবার আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় লেখাপড়ার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছিল ওই কিশোরী। এমন অবস্থায় এই পরিবারটির অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ওই কিশোরীকে কম খরচে লেখাপড়ার প্রস্তাব দেন এক মাদ্রাসাশিক্ষক। শিক্ষকের এমন প্রস্তারে রাজি হন তার বাবা।

জীবন গড়ে তোলার নিশ্চয়তা পেয়ে ওই শিক্ষকের হাতে গত ২ আগস্ট মেয়েকে তুলে দেন বাবা। পরে কিশোরীকে একই জেলার শ্রীপুরের ধলাদিয়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় ভর্তির কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান অভিযুক্ত শিক্ষক। কিন্তু সেখানে নিয়ে মাদ্রাসায় ভর্তি না করে ওই কিশোরীকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এরপর থেকেই কিশোরীকে যৌন নিপিড়ন শুরু করেন এই শিক্ষক। কিশোরী ও তার বাবাকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করতে থাকেন গত তিন মাস ধরে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে ওই কিশোরীকে জিম্মি করেন তিনি।

এরই মাঝে একাধিকবার মেয়ের খবর জানতে ওই শিক্ষকের মুঠোফোনে কল করেন ভুক্তভোগীর বাবা। কিন্তু শিক্ষক জানাতেন তার মেয়ে ভালোভাবে লেখাপড়া করছে। এভাবে তিন মাস যাওয়ার পর কিশোরীর বাবার সন্দেহ হলে তিনি খোঁজ নিতে ধলাদিয়া এলাকায় শিক্ষকের দেওয়া তথ্যমতে মাদ্রাসায় এসে তার মেয়ের দেখা পাননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার কিশোরী মেয়েকে গোপন একটি স্থানে আটকে রেখেছেন এই শিক্ষক। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মেয়েকে উদ্ধার করতে স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন ওই কিশোরীর বাবা। পরে তিনি এ ঘটনায় র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দেন। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব গাজীপুরের সালনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রসাশিক্ষক আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান খুলনা জেলার কসবা উপজেলার উত্তর বেতকাশি এলাকার বাসিন্দা। আর শ্রীপুরের ধলাদিয়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির ভাড়াটিয়া। পরে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যমতে, ধলাদিয়া এলাকার একটি গোপন কক্ষ থেকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আটকের পর অভিযুক্ত জানায়, তিনি পেশায় একজন মাদ্রাসাশিক্ষক এবং তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। ওই ছাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

প্রাইভেট কারকে ২০০ মিটার ঠেলে নিয়ে গেল ট্রেন, নিহত ৪

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ট্রেনের ধাক্কায় শিশুসহ প্রাইভেটকারের চার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রাইভেটকারের অপর দুই যাত্রী মারাত্মক আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ভাঙ্গাগেটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনাগামী মহানন্দা ট্রেন ভাঙ্গাগেট পার হওয়ার সময় ভৈরব ব্রিজের সংযোগ সড়ক দিয়ে আসা একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রেনটি প্রাইভেট কারটিকে ঠেলে প্রায় ২০০ মিটার দূরে নিয়ে গিয়ে থেমে যায়। এতে কারটি দুমড়ে মুচড়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে কারটি বের করে আনলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই হিরোক ভূঁইয়া (৪৫), শিল্পি বেগম (৪০) ও সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়। আর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে খুলনা নেওয়ার পথে একযাত্রী মারা যান। পরে আহত দুজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সবার বাড়ি নড়াইল জেলায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ট্রেনের সাথে প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয় এবং খুলনা হাসপাতালে নেওয়ার সময় অজ্ঞাত একজন মারা গেছে। অপর দুই যাত্রী আহত হয়েছে। নিহতদের দুজন বাদে অন্যদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।’

রোববার থেকে প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা বন্ধ ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভিসেবা

বিকল্প ব্যবস্থা ও আগাম কোনো খবর বা সময় না দিয়ে অব্যাহতভাবে ক্যাবল কাটার প্রতিবাদে আগামী রোববার থেকে দেশের ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভিসেবা আংশিকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে, দেশের লাখো গ্রাহকের প্রতিদিন তিন ঘণ্টা এই সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ঝুলন্ত তার অপসারণ অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিম আজ শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যদি আমাদের দাবি পূরণ না হয় এবং ডিএসসিসি আগামীকালের মধ্যে ঝুলন্ত তার অপসারণ থেকে না সরে আসে, তাহলে আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে সব ইন্টারনেট ও কেবল টিভি সংযোগ প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা তাদের সেবা বন্ধ রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ডিএসসিসির সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা হয়নি। তাই বিষয়টির মিমাংসাও হয়নি।’

এর আগে গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবি ও ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিওএবি) ১৭ তারিখের মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করতে আল্টিমেটাম দিয়েছিল।

করোনা মহামারির কারণে অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, অফিস, ভার্চুয়াল সভা, কেনাকাটাসহ অনেকভাবে মানুষ এখন উচ্চ গতির ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। আগামীকালের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান না হলে এই দুই সেবা সরবরাহকারীদের সঙ্গে ডিএসসিসির বিরোধের কারণে কোটি মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে বলে মনে করছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ইশারায় খুন

চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করেই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গত ৩ অক্টোবর খুন হয় কথিত ঠিকাদার শিরু মিয়া। দেশের বাইরে পলাতক মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে তিনি বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করতেন। কখনো কখনো চাঁদাবাজির এই টাকা সেই বসকে না দিয়ে আত্মসাৎ করতেন। সর্বশেষ ওই শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা নেন শিরু। এই খবরও বসকে জানাননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বস বিদেশে বসেই অনলাইনে শিরুকে হত্যার নির্দেশ দেন। সেই বসের নির্দেশে ৮ শিষ্য শিরুকে বাসা থেকে ডেকে এনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এমনকি শিরুর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলাও কেটে ফেলা হয়। এই হত্যার পুরো দৃশ্য ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বন্দি হয়ে যায়।

গত ৬ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানী ও পিরোজপুর থেকে শিরু হত্যায় সরাসরি জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে এই খুনের রহস্য। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে চারজন হত্যার দায় স্বীকার করে এরই মধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের এডিসি মৃত্যুঞ্জয় দে সজল আমাদের সময়কে বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচ আসামি শিরু হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা কীভাবে হত্যা করেছেন সেই কথাও বলেছেন তারা। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি এখনো তদন্তানাধীন। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।

পুলিশ জানায়, গত ৩ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একতা হাউজিংয়ের ৮ নম্বর গলিতে খুন হন শিরু মিয়া। এই ঘটনার তদন্ত শুরুর পর ঘটনাস্থলের পাশের একটি বাসার ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। সেখানে দেখা যায় কিলিং মিশনে থাকা ৮ সন্ত্রাসী শিরু মিয়াকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করছে। তবে ফুটেজে কারও চেহারা স্পষ্ট ছিল না। এই ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৬ অক্টোবর শ্যামলী এলাকা থেকে প্রথমে অহিদুর রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একদিন পর ৭ অক্টোবর মোহাম্মদপুরের বছিলা থেকে সুজন মিয়া এবং মো. সজীব ওরফে রুবেল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ৯ অক্টোবর পিরোজপুর থেকে সুমন শেখ ওরফে বাকেট সুমন এবং তানভীর নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। হত্যায় অংশ নেওয়া তিন খুনি এখনো পলাতক। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে ১৩ অক্টোবর অহিদুর, ১৪ অক্টোবর সুজন মিয়া ও সজীব ওরফে রুবেল এবং ১৫ অক্টোবর তানভীর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, হত্যায় অংশ নেওয়া ৮ জনই শিরুর পরিচিত। তারা এক সঙ্গে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে চাঁদাবাজি করে আসছিল। সেই সন্ত্রাসী কখনো থাইল্যান্ড আবার কখনো মালয়েশিয়ায় অবস্থান করেন। ঘটনার দিন হত্যাকারীদের একজন ‘ফিটিং আছে’ বলে মোবাইল ফোনে শিরুকে বাসা থেকে ডেকে আনেন। তারপর একতা হাউজিংয়ের ৮ নম্বর গলিতে কুপিয়ে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা শিরুর গলা কেটে দেন। ঘটনার ১০-১২ দিন আগে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যা করতে নতুন চাপাতিও কেনে ঘাতকরা।

পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার রওশানুল হক সৈকত আমাদের সময়কে বলেন, খুনিরা শিরুকে মোবাইলে কল করে বাসা থেকে ডেকে আনেন। পরে তাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিরু ও খুনিরা একসঙ্গে চাঁদাবাজি করতেন। চাঁদাবাজির টাকার ভাগ-ভাটোয়ারা এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।

ভিন্ন ভিন্ন পেশার আড়ালে চাঁদাবাজি : পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের দ্বন্দ্বের জেরে শিরু মিয়া খুন হন। শিরু মিয়া সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম হাসুর সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে। শিরু নিজেকে ঠিকাদার পরিচয় দিলেও মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামে বিভিন্ন এলাকায় তিনি চাঁদাবাজি করতেন। যারা তাকে হত্যা করেছে তাদের সঙ্গে নিয়েও তিনি চাঁদাবাজি করতেন এই কাজকে তারা ‘ফিটিং’ বলতেন।

এদিকে শিরু খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচর আসামির মধ্যে অহিদুর মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করতেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। সুজন অটোরিকশাচালক, সজীব টাইলস মিস্ত্রি, বাকেট সুমন স্যানেটারি দোকানের কর্মচারী এবং তানভীর গাড়ি চালান। এসব পেশার আড়ালে তারা আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হয়ে মোহাম্মদপুর ও আদাবরে চাঁদাবাজি করতেন।  সূত্র: আমাদের সময়