চমক হাসান
একজন অঙ্ক ভাইয়ার গল্প!

গণিতে পঞ্চাশ পাওয়ায় এক শিক্ষক তাকে বলেছিলেন, ‘তুই তো অঙ্ক পারিস না, আর্টস বা কমার্স নে, ভালো করবি।’ একটা জেদ চেপে গিয়েছিল ছেলেটার মনের ভেতরে, গণিতের ভয়কে জয় করার জেদ…

অঙ্কে খুব একটা ভালো ছিল না ছেলেটা। ক্লাস এইট থেকে নাইনে ওঠার সময় এক শিক্ষক তাকে বললেন, ‘তুই তো অঙ্কে কাঁচা, তোর সায়েন্স পড়ার দরকার নেই, বরং আর্টস বা কমার্স নে, ভালো করবি।’ ছেলেটার স্বপ্নজুড়ে ছিল সে সায়েন্সে পড়বে, বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানবে। শিক্ষকের এই পরামর্শটা খুব গায়ে লাগলো তার। জেদ চেপে গেল, অঙ্ককে বশে আনতেই হবে। তীর ছোঁড়ার জন্যে ধনুকে তীর গেঁথে যেমন পেছনের দিকে টান দিয়ে ধরতে হয়, সেরকম ছেলেটাও নিজেকে পিছিয়ে নিয়ে গেল। ক্লাস সিক্স-সেভেনের বইগুলো দিয়ে আবার সে শুরু করলো ‘মিশন অঙ্ক’। মাঝে অনেককিছুই ঘটে গেছে, সেই গল্পগুলো একটু পরে বলছি। তার আগে বর্তমান পরিচয়টা জানিয়ে দেই। সেই ছেলেটাকে আমরা এখন চমক হাসান নামে চিনি, অনেকের কাছেই যার আরেক না ‘অঙ্ক ভাইয়া’!

হ্যাঁ, অলরাউন্ডার চমক হাসানের কথাই বলছি, গণিতকে ভয়ের জায়গা থেকে সরিয়ে আনন্দের একটা বিষয়ে পরিণত করার জন্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন যে মানুষটি। অনেকেই তাকে গণিত শিক্ষক হিসেবে চেনে, চমক হাসান কিন্ত এই পরিচয়টা একদমই পছন্দ করেন না। তিনি গনিতের আনন্দ ছড়িয়ে বেড়ান, অঙ্ক জিনিসটা যে মোটেও ভয়ের কিছু নয়, বরং দারুণ মজার জিনিস- সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। আর সেজন্যেই ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে ‘গণিতের রঙ্গ’ বা ‘চটপট গণিত’ নামের সিরিজ বানান, ‘ডিজে পিথাগোরাস’ টাইটেলের র‍্যাপ গান গেয়ে ফেলেন, যেটার কথা ও সুর আবার তারই!

গণিত বিষয়টা চমক হাসানের কাছেও একটা সময়ে ভয়ের নামই ছিল। ক্লাস নাইনের ওই ঘটনার পরে তিনি আদাজল খেয়ে নামলেন সেই ভয়কে জয় করার জন্যে। বুয়েটে ভর্তি হবার পরে গণিত অলিম্পিয়াডের সঙ্গে যুক্ত হলেন, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সংস্পর্শে এলেন। অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা ক্যাম্প করা হয়েছিল যেখানে গণিতের একটা অংশ শেখানোর দায়িত্ব পান তিনি৷ সেই থেকে শুরু৷

বুয়েটের পড়ালেখা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্যে তিনি চলে গেলেন আমেরিকায়। কিন্ত যে কাজটা তাকে আনন্দ দিতো, তাকে উৎফুল্ল রাখতো, সেটাকে ভীষণ মিস করা শুরু করলেন তিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আসার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিলেন ইউটিউবকে। ২০১২ সালের কথা সেটা। ইউটিউবে গণিতের ওপরে ভিডিও বানিয়ে আপলোড দিতে থাকলেন চমক হাসান, শুরু করলেন ‘গণিতের রঙ্গে’ সিরিজটা দিয়ে। আমাদের স্কুল-কলেজগুলোতে যেভাবে গণিতটা পড়ানো হয়, সেটা উপভোগ্য কখনোই হয়ে ওঠে না। বরং গণিতের প্রতি একটা বিবমিষা জন্ম নেয়। একারণেই অসংখ্য শিক্ষার্থী অঙ্ক না বুঝে শুধু ফর্মূলাটা মুখস্ত করারও চেষ্টা করে। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষকও এই জায়গাটায় ভীষণ উদাসীন, গণিতের মধ্যে যে দারুণ মজা লুকিয়ে থাকতে পারে, সেটা তারা আমাদের কখনও জানাননি। কে জানে, হয়তো তারা নিজেরাও জানেন না গণিতের এই রস সম্পর্কে!

চমক হাসান গণিতের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই ‘মজার’ সন্ধান দিতে নামলেন। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লো তার ইউটিউব চ্যানেল, তার বানানো ভিডিওগুলোর ভিউ বাড়তে থাকলো। সেসব ভিডিওতে গল্পের ছলে তিনি অঙ্কভীতি দূর করার চেষ্টা করেছেন, হাতে ধরে সহজ ভাষায় বুঝিয়েছেন জ্যামিতি, ক্যালকুলাস কিংবা শূন্যের ইতিবৃত্ত- সবকিছুই সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি সেসব ভিডিওতে। ছাত্র-ছাত্রীরাও অন্যরকম এক শিক্ষকের দেখা পেয়ে লুফে নিলো তাকে। এই শিক্ষক বকা দেন না, বেতের বাড়ির ভয় দেখান না, একটু অন্য নিয়মে অঙ্ক করলে কেটে ‘জিরো’ বসিয়ে দেন না- তার ওপরে ভীষণ মজা করে কথা বলেন, অঙ্ক নিয়ে গানও শোনান- তাকে ভালো না বেসে উপায় আছে?

গত ছয় বছর ধরে চমক হাসান তার ইউটিউব চ্যানেলে অঙ্ক নিয়ে অজস্র ভিডিও বানিয়েছেন, সেগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সমাদৃতও হয়েছে দারুণভাবে। তবে শুধু অঙ্কই নয়, আরও অনেক অনেক জায়গায় তিনি দারুণ পারদর্শী। তার গানের গলা চমৎকার, বুয়েটে পড়ার সময়ে ‘সুয়া চান পাখি’ গানটা কোন শিল্পী গাইলে কেমন হতো, সেটাই বন্ধুদের দেখিয়েছিলেন মজা করে। কোন এক বন্ধু সেটা ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করে দিয়েছিলেন, সেটাও অনেক আগের কথা। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল, যারাই দেখেছেন, চমকের গায়কী এবং অভিব্যক্তি দেখে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেয়েছেন নিশ্চিত!

গণিত অলিম্পিয়াডের যে থিম সং, সেটা তার লেখা। ‘মন মেলে শোন, শুনতে পাবি…’ শিরোনামের সেই গানটা প্রতিটা গণিত উৎসবেই গাওয়া হয়। এর বাইরেও তিনি নিজের লেখা গানে সুর করে গেয়েছেন। কিছুদিন আগেও ‘সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে’ শিরোনামের একটা গান গেয়েছিলেন, দেশ থেকে অনেক দূরে থাকার কষ্টটা ফুটিয়ে তুলেছিলেন সেই গানে। ডিজে পিথাগোরাস নামের একটা র‍্যাপ গানও বানিয়েছেন কিছুদিন আগে। যে পিথাগোরাসের উপপাদ্য ছিল আমাদের কাছে আতঙ্ক, সেই পিথাগোরাস আর তার উপপাদ্যকেই হাসির ছলে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন চমক হাসান।

গণিতের নাম শুনে যাতে কেউ ভয় না পায়, সেটাই চমক হাসানের মিশন
যে ভালো রাঁধে, সে নাকি চুলও বাঁধে। এত গুণ যে মানুষটার, তিনি আবার দারুণ লেখেনও। বেশ কয়েকটি বই বেরিয়েছে তার, হাসিখুশী গণিত নামের একটা বই আছে তার, ‘গল্পে গল্পে জেনেটিক্স’ নামেও একটা বই লিখেছেন তিনি। সবশেষ বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে চমক হাসানের নতুন বই- ‘নিমিখ পানে: ক্যালকুলাসের পথে পরিভ্রমন’। আমাদের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ক্যালকুলাস কিভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, সেটাই তিনি বলেছেন এই বইতে।

তড়িৎকৌশলের ওপরে পিএইচডি করা চমক হাসান এখন ‘বোস্টন সায়েন্টিফিকে’ কাজ করছেন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকৌশলী হিসেবে। বাংলাদেশেও এখন দারুণ জনপ্রিয় তিনি, ঢাকার রাস্তায় অনেকেই দেখলে চিনতে পারেন তাকে, সেলফি তুলতে চান। দেশে ফিরে কিছু করবেন, সেই ইচ্ছেটা তার অনেকদিনের। চমক হাসান বলছিলেন-

“আমার ইচ্ছে আছে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর, নিজের গবেষণা ক্ষেত্রটাকে এগিয়ে নেওয়ার। এর সাথে গণিত ও বিজ্ঞানের উপর বই লেখা, ভিডিও করা চালিয়ে যাব। গণিত-বিজ্ঞান নিয়ে গণমাধ্যমে অনুষ্ঠান করারও পরিকল্পনা আছে। গণিত আর বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসাকে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলগুলোতে পৌঁছে দিতে চাই। একটা সুস্পষ্ট রূপরেখা দাঁড়া করাতে চাই যেন, ৪৮৮ টি উপজেলায় ৪৮৮ টা গণিত ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা যায়, এরপর সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে মানুষের কাছে গণিত আর বিজ্ঞানের আনন্দ তুলে ধরা যায়।”

অঙ্ক জিনিসটা যে এত মজার হতে পারে, সেটা আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের অনেকেই হয়তো জানতেও পারতেন না, যদি চমক হাসান না থাকতেন। দেশে ফিরে তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ করার যে স্বপ্নটা তিনি দেখছেন, সেটা পূরণ হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অঙ্কভীতি দূর হতে সময় লাগবে না খুব বেশি। সেই ভীতি দূর করার জন্যে একজন ‘অঙ্ক ভাইয়া’ তো আছেন! সুত্র: এগিয়ে চলো

এত কম সময়ে কেন অবনতি ঘটল চীন-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের?

অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। কেউ জানে না এই পরিস্থিতির কোন দিকে যাচ্ছে বা এর শেষ কোথায়। এই দুদেশের সম্পর্ক নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া-চায়না রিলেশন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক জেমস লরেনসেন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া-চীন সম্পর্ক এত জটিল ও এত দ্রুত পাক খেয়েছে যা ছয় মাস আগেও চিন্তা করা যায়নি।‘

শুধু গত কয়েক সপ্তাহে এই সম্পর্কের কতটা অবনতি হয়েছে তার দিকে তাকালে এই পরিস্থিতি কিছুটা আঁচ করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসি’র প্রতিবেদনে।

চীনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে অস্ট্রেলীয় নাগরিক এবং চীনে ইংরেজি ভাষার টিভি চ্যানেল সিজিটিএনের প্রখ্যাত সাংবাদিক চেং লেইকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সন্দেহে আটক করা হয়েছে।

এর কিছুদিন পর, সর্বশেষ যে দুজন সাংবাদিক চীনে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যমের সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করতেন কূটনীতিকদের পরামর্শে তারাও তড়িঘড়ি করে অস্ট্রেলিয়াতে ফিরে গেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে দুটো দেশের সম্পর্কের ওপর।

এবিসি চ্যানেলের রিপোর্টার বিল বার্টলস যখন তড়িঘড়ি করে বেইজিং ছেড়ে অস্ট্রেলিয়াতে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন চীনের সাতজন পুলিশ অফিসার মধ্যরাতে তার বাড়িতে গিয়ে হাজির হয়।

শাংহাই-এ অস্ট্রেলিয়ান ফাইনান্সিয়াল রিভিউর সাংবাদিক মাইকেল স্মিথের বাড়িতেও পুলিশ একই ধরনের অভিযান চালায়।

তারা দুজনেই অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক মিশনে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিন্তু “জাতীয় নিরাপত্তার” বিষয়ে চীনা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাদের চীন ছেড়ে যেতে বাধা দেওয়া হয়।

এরা দুজন অস্ট্রেলিয়াতে ফিরে যাওয়ার পরদিন চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, এই ঘটনার আগে জুন মাসে অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বেশ কয়েকজন চীনা সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তাদের কাছ থেকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন জব্দ করে নিয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে সেদেশে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও পুলিশের তদন্তের অংশ হিসেবে চীনা সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

এর আগে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের একজন এমপি শওকত মুসেলমানের অফিসে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছিল। তিনি চীনের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। পরে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ওই তদন্তের আওতায় ছিলেন না।

সম্প্রতি বেইজিং অস্ট্রেলিয়ার দুজন শিক্ষকের চীনে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া দুজন চীনা শিক্ষকের ভিসা প্রত্যাহার করে নেয়। এসব ঘটনা এতো দ্রুত গতিতে ঘটে যায় যে পর্যবেক্ষকরাও বুঝতে পারছেন যে পরিস্থিতি আসলে কোন দিকে গড়াচ্ছে। এই দুটো দেশের মধ্যে ক্ষোভ ও অবিশ্বাস গত কয়েক বছর ধরেই ভেতরে ভেতরে তৈরি হচ্ছিল।

এর মধ্যে মোড় ঘোরানো ঘটনাটি ঘটে যায় ২০১৭ সালে যখন অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এসিও সতর্ক করে দেয় যে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বেড়ে গেছে।

চীনা ব্যবসায়ীরা অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় রাজনীতিকদের অর্থ দান করেছে এরকম একটি অভিযোগও তখন সামনে চলে আসে। সেবছরেই প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে কিছু আইন করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এর জবাবে চীন অস্ট্রেলিয়ায় তাদের কূটনৈতিক সফর স্থগিত রাখে।

এর পর ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরকারিভাবে তাদের ফাইভ জি নেটওয়ার্কে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অস্ট্রেলিয়াই প্রথম দেশ যারা এমন সিদ্ধান্ত নেয়। এর পর আরও বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন হয়তো অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ হতে পারে, আবার এটাও ঠিক যে চীনের ক্রমবর্ধমান বৃহৎ অর্থনীতির চোখ পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর।

থাই রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ব্যাংককে জরুরি অবস্থা

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি থামাতে সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। নিষেধাজ্ঞা জারি করা বড় সমাবেশে আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা থেকে ব্যাংককে জরুরি অবস্থা কার্যকর হয়েছে। সকালেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান তিন নেতাসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ।

ব্যাংককে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং রাজার ক্ষমতা কমিয়ে আনাই গণতন্ত্রপন্থী এ আন্দোলনকারীদের মূল দাবি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা বিক্ষোভের প্রধান। এদের মধ্যে রয়েছেন- মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী অ্যানন নামপা, ‘পেঙ্গুইন’ নামে সুপরিচিত অ্যাক্টিভিস্ট পারিত চিওয়ারাক এবং পানুসায়া সিথিজিরাওয়াত্তানকুল।

গত আগস্ট মাসে থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে প্রথমবার সমালোচনা করে মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী অ্যানন নামপা। প্রথাগত ধারার সংস্কারের দাবি তুলেও আলোচনায় আসেন তিনি। একই মাসের শেষে রাজতন্ত্রের নিয়ম সংস্কারের ১০ দফা দাবি পেশ করে আলোচনায় আসেন পানুসায়া সিথিজিরাওয়াত্তানকুল।

থাই প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা যে আদেশ পাঠ করেছেন, তাতে ‘আতঙ্ক উদ্রেককারী বা ইচ্ছাকৃত ভাবে তথ্য বিকৃত করে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা অথবা শান্তি-শৃঙ্খলার ওপর প্রভাব ফেলে’- এমন কোনো খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদেশ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ নিজেদের বাছাই করা যেকোনো এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারবে।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং রাজার ক্ষমতা কমিয়ে আনাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে থাকা গণতন্ত্রপন্থীরা। বিক্ষোভকারীরা সাবেক সেনাপ্রধান ও ২০১৪ সালে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করা প্রায়ুথের পদত্যাগ দাবি করছে। এ ছাড়া থাইল্যান্ডের সংবিধান যেন নতুন করে লেখা হয়, সেটি বিক্ষোভকারীদের আরেকটি দাবি।

শসার গুনাগুন

শসা খুব পরিচিত খাবার। প্রায় সারা বছর ধরে এই ফলটি পাওয়া যায়। শসায় ক্যালরি খুব কম। ১০০ গ্রাম শসাতে থাকে ১৩ ক্যালোরি। এবার শসা খাওয়ার উপকারিতা আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে একবার দেখে নেওয়া যাক-

১) কথায় বলে ডায়াবেটিস থেকে ডায়েরিয়া সকলের জন্যই শসা অপরিহার্য। প্রচণ্ড গরমে দেহের ওয়াটার ইলেক্ট্রোলাইটৈর ভারসাম্য বজায় রাখে শসা।

২) বদ হজম, অ্যাসিডিটি, অরুচি, গ্যাস্ট্রাইটিস লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের সমস্যা থাকলে শসা খাওয়া উচিত।
৩) আর্থারাইটিস হার্টের রোগ অস্টিওপোরেসিস এবং কনস্টিপেশন প্রতিরোধে শসা ভালো কাজ করে।

৪) বয়স্কদের মধ্যে অ্যালঝাইমার্স ও অন্যান্য নিউরোলজিক্যাল রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে শসায় থাকা ফিসটিন নামক এক ধরনের আন্টি ইনফ্লামেটরি যৌগ।

৫) এছাড়া কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও অন্যান্য প্রদাহজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে অতি পরিচিত সহজলভ্য এই ফলটি।

৩ পাবজি বন্ধুর বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

অনলাইন গেম পাবজি খেলার সময় বন্ধুত্ব হয়েছিল। সেই ‘বন্ধু’দের হাতে ধর্ষণের শিকার ভারতের এক ১২ বছরের কিশোরী। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার কথা জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, পাবজি খেলার মাধ্যমে নির্যাতিতার সঙ্গে আলাপ হয় তিন অভিযুক্তের। গত মাসে ওই কিশোরীকে রম্ভা নগর এলাকায় আসতে প্রলুব্ধ করে অভিযুক্তরা। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়। সেই ঘটনার ছবি-ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীর উপর একাধিকবার নির্যাতন চালিয়েছে অভিযুক্তরা।

স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, মেয়েটির পরিবার ঘটনার কথা জানায় পুলিশকে। এরপরই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বয়স ১৮-১৯ বছর। তারা সকলেই রম্ভা নগরের বাসিন্দা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

ইন্দো-প্যাসিফিকে মার্কিন তৎপরতার কেন্দ্রে বাংলাদেশ —স্টিফেন বাইগান

মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বাইগান বলেছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে এ অঞ্চলে মার্কিন তৎপরতার কেন্দ্রে থাকবে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্টিফেন বাইগান এ কথা বলেন। গতকাল সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বাইগান বুধবার বিকালে এক বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লি থেকে ঢাকা সফরে আসেন। আজ সকালেই তার ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে স্টিফেন বাইগান বলেন, ২ ঘণ্টার বৈঠকটি বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। গতকালও (বুধবার) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেশ লম্বা বৈঠক করেছি, যেখানে দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিকে অন্যতম মূল অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অবাধ ও মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে এ অংশীদারিত্বের সম্প্রসারণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিদ্যমান জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের মধ্যকার পার্থক্য জানতে চাইলে স্টিফেন বাইগান বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত উদ্বাস্তুদের মানবিক সহায়তার বিষয়টি মাথায় রেখে পর্যাপ্ত সম্পদ নিশ্চিতে দাতাদের সম্মেলন ঘোষণা করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন ও অধিকার নিশ্চিতের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, কভিড-১৯ মোকাবেলায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাসামগ্রী ও ওষুধ উৎপাদন নিয়ে কাজ করবে। ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে আমরা সহযোগিতা ও এর বিতরণ নিয়ে কাজ করব।

তিনি বলেন, আসন্ন ইন্দো-প্যাসিফিক বিজনেস ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের দিকে তাকিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে আমাদের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে।

ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের (আইপিএস) আওতায় বাংলাদেশ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ খুঁজছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় অংশীদারে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এছাড়া ভোক্তার পরিমাণ, দক্ষ শ্রমিক, বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতিসহ আরো অনেক কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। আমাদের বেশকিছু বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করছেন। এখানের তৈরি পোশাক ও ওষুধ শিল্পের ওপর মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।

তবে বৈঠকে আইপিএস নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বেশ ভালো আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরো বাড়ছে। এটা চলমান থাকা উচিত। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক স্থানে বেশ বেড়েছে। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি; এছাড়া ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতা। আমাদের এখানে একটি স্থিতিশীল সরকার রয়েছে। আর গণতন্ত্র নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একই মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। সে কারণে আমাদের সম্পর্ক আরো বাড়ছে।

তিনি বলেন, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ভিসার বিষয়টি তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নীতিগতভাবে তারা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের ভিসা দেয়ার বিপক্ষে নয়। তবে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষার বিষয়টি চিন্তা করে কভিডের কারণে দূতাবাস বর্তমানে সীমিত পরিসরে চলছে। যখন দূতাবাস পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে চালু হবে, তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ভার্চুয়ালি শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস বন্ধ। যদি শিক্ষার্থীরা যায় তবে তারা কোথায় থাকবে? এছাড়া এসব শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও তখন যুক্তরাষ্ট্রকে দেখতে হবে। তবে ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভিসা দেয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ দেশগুলোয় মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের চেয়ে বড় পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে গতকাল বিকালে ঢাকার একটি হোটেলে স্টিফেন বাইগান সাংবাদিকদের জানান, তার দিল্লি ও ঢাকা সফর থেকে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উত্তাপ পরিমাপের একটি সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত ইন্দো-প্যাসিফিকে আমরা বেশকিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। তা অস্বীকার করা যাবে না। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, এটি সত্য। এটি আমাদের অনেকের উদ্বেগের কারণ। হিমালয় সীমান্তে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া জাপান, তাইওয়ান, হংকং ও তিব্বতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জে রাখা হয়েছে। এ অঞ্চলে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ বর্তমানে রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ এ অঞ্চলের অনেকগুলো দেশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত - এফআইসিসিআই লিডস-২০২০
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ঐক্য চায় বাংলাদেশ-ভারত

বিশ্বায়নের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে ভাবার লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের পরিকল্পনা জানতে একটি অনলাইন সম্মেলন আয়োজন করা হয়। দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কর্মার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা এফআইসিসিআই লিডস-২০২০ সম্মেলনটি ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে গতকাল শেষ হয়েছে। ‘সাউথ এশিয়া সেশন রিইমাজিনিং নেইবারহুড ইকোনমিক ইন্টিগ্রেশন’ শীর্ষক এ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১০০টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্মেলনে ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ঐক্যের বিষয়টি উঠে এসেছে।

সম্মেলনে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ভারত সরকারের বস্ত্র, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং এফআইসিসিআই সভাপতি ডা. সংগীতা রেড্ডি বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের কথা স্মরণ করে এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, পূর্ব পাকিস্তান সংসদে ৯৮ শতাংশ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনসহ আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাইলফলকগুলো সম্পর্কে আপনারা সবাই নিশ্চয়ই অবগত আছেন, যা বিশ্ব মানচিত্রে আমাদের একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ দীর্ঘ সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারত, ভুটান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ, রাশিয়া, জার্মানিসহ আরো ১৫০টি দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। সংসদীয় আদেশ জারির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকালীন এক কোটি বাংলাদেশী মানুষকে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিয়ে বন্ধুত্বের যে নজির স্থাপন করেছে তার জন্য আমরা ভারতের জনগণের কাছে ঋণী।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমাদের সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন সব বাধা কাটিয়ে ২০০৮ সাল থেকে আমরা সংস্কৃতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিসরে সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার জন্য অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। ধারাবাহিক টেকসই উন্নয়নে আমাদের নেতারা নিজেদের ভাবনা বিনিময় করেছেন, যা আমাদের বর্তমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন। আমরা এও দেখেছি যে কভিড ১৯-এর সময় আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে এর বাইরেও মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপনে একত্র হয়েছেন।

সাফটা ভ্যালু চেইন সর্বাধিকীকরণের জন্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, সার্ক অর্থনৈতিক অঞ্চল বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য অন্যান্য দেশকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমাদের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ-ভারত মনোনীত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো আরো কৌশলগত বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা আমাদের আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন উদ্যোগে (আরভিসিআই) বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে আঞ্চলিক শিল্পের জন্য প্রতিবেশী দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ, বাংলাদেশের উৎপাদন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সুবিধা গ্রহণ করে বিভিন্ন অঞ্চলে রফতানি করতে পারি এবং জ্ঞান ও সম্পদ বিনিময়ভিত্তিক বৈশ্বিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন বিস্তৃত করতে পারি।

মহামারীর সময়েও বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্য ও বিকাশের কথা তুলে ধরে ফাহিম আরো বলেন, আমরা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোসিস্টেম আরো উন্নীত করার লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাই-টেক পার্ক, মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটি, আকাশ, সড়ক, রেল ও নৌপথের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লজিস্টিক খাতসহ অন্যান্য উন্নয়ন খাতে ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেছি। এছাড়া বাংলাদেশের উৎপাদন প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সুবিধা সর্বাধিকীকরণের জন্য শুল্ক-শুল্কমুক্ত সুবিধা, ব্যবসার সহজলভ্যতার জন্য নীতি কাঠামো নির্ধারণের কাজ চলছে। আমাদের ১৬০ মিলিয়নের শক্তিশালী দেশীয় বাজার, ১ দশমিক ৮ বিলিয়নের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক বাজার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, চীন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, এপিটিএর (এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট) জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা ইত্যাদি ভ্যালু চেইন উদ্যোগের পরিপূরক সম্ভাবনা।

তিনি আরো বলেন, করোনা-পরবর্তী স্বাভাবিক সময়ে আমাদের মধ্যে সহযোগিতা কেবল দ্বিপক্ষীয় বা আঞ্চলিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা বিশ্বব্যাপী হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়াসহ আরো বিস্তৃত হবে।

ভারতীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, মহামারীর প্রভাব বিবেচনায় রেখে এখনই আমাদের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ঐক্যের বিষয়টি নতুন করে ভাবার সময়। এ অঞ্চলে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তর্নির্ভরশীলতার পাশাপাশি সহযোগিতার অপার সুযোগ রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে পণ্য উৎপাদন করার মতো বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমেই হতে পারে আমাদের নতুন বন্ধন, নতুন পরিচয়।

এফআইসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে যেকোনো সংকট কাটিয়ে উঠতে আমরা একে অন্যকে সাহায্য করতে পারি। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি নিয়মতান্ত্রিক সম্পর্ক আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য ঐক্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আর্থসামাজিক সীমাবদ্ধতাগুলো মোকাবেলায় সহায়তা করবে।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া কান্ট্রি ডিরেক্টর জুনায়েদ আহমদ, রাষ্ট্রদূত সুনজয় সুধীর, এফএনসিসিআই সভাপতি ভবানী রানা, ফেডারেশন অব আফগান চেম্বার্সের চেয়ারম্যান ইসমাইল গাজানফার, শ্রীলংকার জ্যাট হোল্ডিংসের সিইও নিশাল ফারদিন্যান্দো, টাইমস অব ইন্ডিয়ার কূটনীতিক সম্পাদক ইন্দ্রানী বাগচি, এফআইসিসিআইয়ের এসজি দিলীপ চনয় এবং এফআইসিসিআইয়ের সাউথ এশিয়া অ্যান্ড মাল্টিলেটারালস ডিরেক্টর সুষমা নায়ার সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

আবার ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করল পাকিস্তান

পাকিস্তান সরকার আবারো ইরানের ওপর আমেরিকার একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে। পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুখপাত্র জাহিদ হাফিজ চৌধুরি বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তেহরানের বিরুদ্ধে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালুর মার্কিন প্রচেষ্টার বিরোধী পাকিস্তান সরকার।

তিনি বিষয়টি নিয়ে ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক আচরণ করার জন্য পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ইরানের আন্তর্জাতিক পরমাণু সমঝোতার প্রতি ইসলামাবাদের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জাহিদ হাফিজ চৌধুরি বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও বলপ্রয়োগে কোনো ফল পাওয়া যায় না; এর পরিবর্তে বরং ইরানের সঙ্গে গঠনমূলক আচরণ করতে হবে।

২০১৫ সালে আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠী ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সই করলেও ২০১৮ সালের মে মাসে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তার দেশকে এই সমঝোতা থেকে বের করে নেন।

এরপর ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করে যা এখন পর্যন্ত চলছে। এরমধ্যে সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালু করার চেষ্টা করে ওয়াশিংটন। ওই ম্যাকানিজম চালু করা সম্ভব হলে ইরানের ওপর জাতিসংঘের সব নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হবে। কিন্তু আমেরিকার এই আইন লঙ্ঘনকারী পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি পাঁচ দেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ।#পার্সটুডে

ফিলিস্তিনিরা অকৃতজ্ঞ জাতি: সংযুক্ত আরব আমিরাত

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের চুক্তি করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে ফিলিস্তিনিদেরকে অকৃতজ্ঞ জাতি বলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফ্রান্সে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহারাইনকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তির জন্য কঠোর সমালোচনা করেন। এরপর ফিলিস্তিনিদেরকে অকৃতজ্ঞ জাতি বলল আমিরাত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ তার টুইটার অ্যাকাউন্টে আরবি ভাষায় লিখেছেন, “ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য এবং সমালোচনায় আমি মোটেই অবাক হই নি, কারণ তারা অকৃতজ্ঞ জাতি।”

এর আগে ফ্রান্সে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত সালমান আল-হারফি ফ্রান্সের একটি পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহারাইন ইসরাইলের চেয়েও বেশি ইসরাইল হয়ে গেছে এবং তারা মূলত জাতিসংঘ সনদকে লঙ্ঘন করছে।”


ফ্রান্সে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত সালমান আল-হারফি

তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে তিনি মোটেই অবাক হন নি কারণ বহু আগে থেকেই ফিলিস্তিনিদেরকে ত্যাগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তারা ইসরাইলের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রক্ষা করে আসছিল। তিনি বলেন, নতুন যা হয়েছে তা হচ্ছে প্রকাশ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা এবং আমি তাদেরকে তাদের আসল চেহারা প্রকাশ করার জন্য ধন্যবাদ দেবো।”

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রকৃতপক্ষে কখনই সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিল না বরং তারা ১৯৮৫ সালে ফিলিস্তিনে সম্পদ আটক করেছিল। সালমান আ-হারফি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকদের সমালোচনা করে বলেন, যুবরাজ জায়েদ আল-নাহিয়ান স্বৈরশাসকের মতো কাজ করছেন এবং নিজে পরিচিতি পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি আগুন নিয়ে খেলছেন।

আল-হারফি সুস্পষ্ট করে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক বিনাযুদ্ধে ইসরাইলের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করার মধ্যদিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহারাইন আরবলীগ এবং জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন করেছে।#পার্সটুডে

তুরস্ক কখনো রাশিয়ার কৌশলগত মিত্র ছিল না: সের্গেই ল্যাভরভ

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, তার দেশ তুরস্ককে কখনোই কৌশলগত মিত্র মনে করেনি বরং দেশটিকে ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে গণ্য করেছে। তিনি বৃহস্পতিবার মস্কোয় এক বক্তব্যে একথা বলেন।

বিগত বছরগুলোর বিভিন্ন আঞ্চলিক সংকটে রাশিয়া ও তুরস্কের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, নগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে তুরস্কের নীতি-অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় রাশিয়া।

নগরনো-কারাবাখের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছে। তবে তুরস্ক এই সংঘাতে সরাসরি আজারবাইজানকে সমর্থন দিয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের উত্তর সীমান্তবর্তী এই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ১৪ দিন সংঘর্ষ চলার পর মস্কোয় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে এক বৈঠকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দু’দেশ। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা না যেতেই আবার সংঘর্ষ শুরু হয়।

বর্তমানে দু’দেশই যুদ্ধবিরতি পালন করার দাবি করে পরস্পরকে প্রতি এই অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করছে। ইরান আজারবাইজানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে।# পার্সটুডে