প্রত্যাবাসন চেষ্টার পাশাপাশি ভাসানচরে স্থানান্তর জরুরি

মানবিকতার খাতিরে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে এখন বাংলাদেশই উল্টো ঝুঁকিতে পড়েছে। উখিয়া-টেকনাফের ক্যাম্পগুলোয় বাস করা রোহিঙ্গারা জড়িয়ে পড়েছে বড় ধরনের অপরাধে। স্থানীয়রা বলছেন, ৩৪টি ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকায় থাকতে থাকতে এরই মধ্যে এ অঞ্চলের মানুষের ভাষা পুরো রপ্ত করে নিয়েছে। আর সেই সুবিধা নিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মিলে তারা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া। স্থানীয় ইয়াবাকারবারি এবং চোরাচালানীদের সঙ্গেও তাদের রয়েছে যোগাযোগ। অভিযোগ আছে, ক্যাম্পগুলোয় তারা ইয়াবা ও অস্ত্রের মজুদও গড়ে তুলেছে। যার সত্যতা দেখা যায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায়। প্রায় প্রতিরাতেই এখন ক্যাম্পে সংঘর্ষ হচ্ছে। গত তিন বছরে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছে। এমনকি তাদের হাতে খুন হয়েছে বাংলাদেশিও।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে তারা এ এলাকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন। গতকাল রবিবার চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী বলেন, কিছু রোহিঙ্গা মাদকপাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি দুদল রোহিঙ্গার সংঘর্ষে ৮ জন মারা গেছে। তা ছাড়া কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এসব ঘটনা উত্তরোত্তর বাড়ছে। প্রত্যাবাসন দেরি হওয়ায় দিন দিন রোহিঙ্গা এবং বিদেশি সাহায্যকারী প্রতিষ্ঠানের ওপরও স্থানীয়দের অসন্তুষ্টি ঘণীভূত হচ্ছে।

এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের অপরাধ প্রবণতা কমানোর স্বার্থে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি তাদের একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর জরুরি বলে মত দিয়েছেন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে তার আগে রোহিঙ্গাসহ সব পক্ষকে আস্থায় নিতে হবে। আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে তারা এ মত ব্যক্ত করেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব) আবদুর রশীদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত সমাধান তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা। এ প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত শুরু করা যায় সে জন্য আমাদের আরও বেশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যে হানাহানি, সহিংসতা চলছে তার পেছনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মদদ থাকতে পারে। কারণ রাখাইন থেকে রোহিঙ্গারা চলে আসার পর সেখানে যে জায়গাটা ফাঁকা হয়েছে, তার দখল নিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মি। দৃশ্যত আরাকান আর্মিকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে নিঃসন্দেহে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। অনেক দেশই মিয়ানমারের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক সীমিত করছে। এ অবস্থায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর কৌশল হিসেবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতাদের একটি অংশকে ব্যবহার করে সেখানে সংঘাত, সহিংসতা ঘটানোর কাজটি করতে পারে। যেন সংকট সমাধানে প্রচেষ্টা ব্যাহত এবং প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হয়। ভাসানচরে রোাহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য কক্সবাজারের চেয়ে অনেক উন্তত ও আধুনিক সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কারণে রোহিঙ্গাদের যতজনকে সম্ভব ভাসানচরে স্থানান্তর যুক্তিযুক্ত।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ওয়ালিউর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে অপরাধমূলক কর্মকা- বাড়ছে। সেখানে নানা ধরনের গুরুতর অপরাধকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। যেটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের একটা অংশকে ভাসানচরে নেওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। প্রচুর অর্থ ব্যয় করে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের বাসবাসের উপযোগী উন্নত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ক্যাম্প ঘিরে যাদের বাণিজ্য বা আর্থিক স্বার্থ রয়েছে তারা কখনোই চাইবে না রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যাক। এ কারণে সরকারকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ ভূখ-ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদের কোথায় রাখা হবে সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে ফিরে যায় সে ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, রোহিঙ্গারা কক্সবাজার ক্যাম্পে ঘিঞ্জি পরিবেশে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু কিছু রোহিঙ্গা নেতা নিজেদের অনেক সুবিধা, অবৈধ উপার্জনের পথ হাতছাড়া করতে চায় না। ফলে তারা অন্য রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে যেতে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে চায়। কারণ তারা সেখানে বসবাসের জন্য ভালো বাসস্থান, জীবনধারণের জন্য জীবিকা, ভালো স্বাস্থ্যসেবা এবং সন্তানদের লেখাপড়ার নিশ্চয়তাও পাবে। অতএব তাদের ভাসানচরে যেতে না চাওয়ার কোনো কারণ নেই। এখন সরকারকে কঠোর হতে হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের নিয়ে যেতে হবে ভাসানচরে। কোনো একটি গোষ্ঠীর স্বার্থের জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নিতে পারে না। এ জন্য এখন আর বিরোধিতাকে গুরুত্ব না দিয়ে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যেতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই মূল লক্ষ্য।

নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য ভাসানচরের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এর জন্য নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলীয় মেঘনার বুকে জেগে ওঠা ভাসানচরকে নবরূপে সাজানো হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে সারি সারি ঘর, সাইক্লোন শেল্টার, অভ্যন্তরীণ সড়ক, লাইট হাউস, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, পুকুর, মসজিদ, বাগান, সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ আরও নানা কিছু। জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস থেকে এই চরের ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রক্ষা করতে নৌবাহিনী তৈরি করেছে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ।

পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়

কেনাকাটায় অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও চিকিৎসাসেবায় ঠকবাজিসহ নানা বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বড় চার দপ্তরসহ ১৭ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌনে ৪ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের (অনিয়ম-দুর্নীতির) তথ্য মিলেছে। গুরুতর অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এসব অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের কেউ কেউ সরাসরি জড়িত। আবার অনেকে পরোক্ষভাবে অনিয়ম-দুর্নীতিতে সায় দিয়েছেন। দায়ীদের চিহ্নিত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাব্যক্তিদের চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ অডিট অধিদপ্তর। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কর্মকর্তারা জানান, বিপুল অঙ্কের এ অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, কেন্দ্রীয় ঔষাধাগার (সিএমএসডি) ও ১৭ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের। এ ছাড়াও অডিট করা হয়েছে সব সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। অডিট করা হয়েছে ২২টি বিশেষায়িত হাসপাতালেও। এসব প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য পেলে এই অঙ্ক আরও বড় হবে। ১৬ প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল : রোগীদের খাবারের জন্য কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ থাকলেও ঠিকমতো খাবার দেওয়া হয় না বলে গুরুতর তথ্য পেয়েছে অডিট দল। ৫০০ রোগীর জন্য ৩টি রসুন, ৫টি পেঁয়াজ ও ২৫০ গ্রাম আদা দিয়ে মাংস রান্না করার মতো গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। অথচ প্রতিরোগীর জন্য দৈনিক বরাদ্দ ১২০ টাকা।

তাজউদ্দীন মেডিক্যাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যালে ১৩২ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ২৫৬ টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১২৮ কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতিই তাজউদ্দীন মেডিক্যালের। বাকি চার কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে। ময়মনসিংহ মেডিক্যালের সেবার মানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে অডিট দল।

তাজউদ্দীন মেডিক্যালের অডিটের কয়েকটি আপত্তিতে বলা হয়, ব্লাড ব্যাংকের দীর্ঘদিন আগের দাবিদারবিহীন ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪১ হাজার সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত শয্যার রোগীর পথ্য সরবরাহ দেখিয়ে ৭ কোটি ২ লাখ ২২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন দুর্নীতিবাজরা। বিভিন্ন বিভাগে ২৪ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার যন্ত্রপাতি স্থাপনের পরও চালু না করায় জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে। এ ছাড়া আরও নানা ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতি পাওয়া গেছে তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অডিট রিপোর্টে।

কর্নেল মালেক ও মনসুর আলী মেডিক্যাল স্থাপন প্রকল্প : এ দুটি প্রকল্পে ৭৩২ কোটি ৭৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯৯ টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে ৩৬৩ কোটি ৪৩ লাখ ৩১ হাজার ৪৪৫ টাকা। অডিট দলের রিপোর্টে বলা হয়, সিরাজগঞ্জে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ এবং ৫০০ শয্যার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ১২৭ কোটি ৮০ লাখ ৭১ হাজার ৫২৪ টাকা পরিশোধ দেখানো হলেও যন্ত্রপাতি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অনিয়মিতভাবে যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ২৬ কোটি ৩৯ লাখ ৫৫ হাজার ৬২৬ টাকা, যা বিধিবহির্ভূত নয়। পিসিআর, আরবিসি কাউন্টার, ডিসেকটিং টেবিল ও অটোপসি টেবিল ক্রয় বাবদ ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অনিয়মিতভাবে যন্ত্রপাতি ও অন্য সরঞ্জামাদি ক্রয় বাবদ ১৫৫ কোটি ৭০ লাখ ৩৪ হাজার ৮১০ টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পে বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনা ছাড়াই ঠিকা দাবি পরিশোধ, যন্ত্রপাতি না কিনেই ব্যয় দেখানো, ভূমি অধিগ্রহণে অতিরিক্ত ব্যয় পরিশোধ, অনাদায়ী আয়করসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের জালিয়াতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল : আর্থিক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে ক্রয়চুক্তি অনুমোদন করায় অনিয়মিতভাবে ব্যয় করা হয় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। আমদানির পক্ষে কোনো রেকর্ড-পত্রগ্রহণ না করা সত্ত্বেও ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহ বাবদ ঠিকাদারকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। এমএসআর কেমিক্যাল রি-এজেন্ট বাজারমূল্য অপেক্ষা অতিরিক্ত দরে পরিশোধ করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত এমএসআর ওষুধ ও সার্জিক্যাল টেপ ক্রয়ে আর্থিক জালিয়াতি ১ কোটি ১৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। অতিরিক্ত দরে ব্রয়লার মুরগির মাংস ক্রয়ে আর্থিক ক্ষতি ৬০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ। পণ্য খাতে রোগী অপেক্ষা পাউরুটি, কলা ও ডিম সরবরাহ দেখিয়ে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা আত্মসাৎ। বেড সংখ্যা অপেক্ষা অধিক রোগীর পথ্য দেখিয়ে ১ কোটি ৮২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ। এ ছাড়া অন্যান্য খাতে ৬৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৬ টাকার গুরুতর অনিয়ম হয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল : অগ্নিকা-ের ভুয়া ক্ষতি দেখিয়ে ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৩ টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। খুচরা বিক্রয়ের জন্য উচ্চমূল্যে ওষুধ কেনা, পিপিআরের বিধান লঙ্ঘন করে সরাসরি কার্যাদেশ প্রদান করে যন্ত্রপাতি কেনা, ভারী যন্ত্রপাতি সরবরাহের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্টসের আইটিটি ক্লজ এবং শিডিউলের শর্ত মোতাবেক মেশিনের গায়ে অ্যাম্বোস বা খোদাই করা কাউন্টি অব অরিজিন লিখা না থাকা সত্ত্বেও ঠিকাদারকে ৮ কোটি ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিল পরিশোধ, বাজারমূল্য যাচাই না করেই এক্স- রে ফিল্ম এবং সার্জিক্যাল গ্লাভস ক্রয় করাসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে ১৮৮ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকার অনিয়ম হয়েছে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। এর মধ্যে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে ৮৬ কোটি টাকার। বাকি ১০৪ কোটির অনিয়মকে সাধারণ অনিয়ম বলছে অডিট দল।

ঢাকা মেডিক্যাল : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও (ঢামেক) অনিয়মের ফলে আর্থিক ক্ষতি ও অপচয়ের কথা বলা হয়েছে অডিট রিপোর্টে। এখানে জালিয়াতির ঘটনা তুলনামূলক কম। সার্বিকভাবে ঢামেকের চিকিৎসাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে অডিট দল।

ঢাকা ডেন্টাল হাসপাতাল : বিলে আয়কর কম কর্তন করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ১ লাখ ৯১ হাজার ২৭২ টাকা। বাজারমূল্য যাচাই ছাড়াই উচ্চমূল্যে মালামাল কেনার ফলে আর্থিক ক্ষতি ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ টাকা। যানবাহন মেরামত বাবদ আর্থিক ক্ষমতার অতিরিক্ত ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা ব্যয়। হিসাবরক্ষণ অফিসের সঙ্গে হিসাবের সংগতিসাধন করা হয়নি। এ খাতে ২২ কোটি ৫৭ লাখ ৯১ হাজার ৯২৭ টাকা জড়িত। বিপুল এই অঙ্কের সঙ্গে দুর্নীতি জড়িত বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজের বকেয়া বিল বাবদ ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫০ টাকা অনিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল : চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ১৮ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে অডিট দল রিপোর্টে উল্লেখ করেছে। চমেকে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ না দিয়ে পুনঃদরপত্র আহ্বান করে সর্বোচ্চ দরদাতা ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া, সরকারি বাসায় বাস করেও বাড়িভাড়া-ভাতা গ্রহণ, দুর্নীতির উদ্দেশ্যে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত স্যালাইন না কিনে অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্যালাইন কেনা, চিকিৎসা ও শল্য সরঞ্জাম কেনায় টাকার গরমিলে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

কুমিল্লা ও ঢাকার মিডফোর্ড : কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মিডফোর্ড হাসপাতালে প্রায় ৬৮ কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। একই অর্থবছরে বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে এমএসআর সামগ্রী ক্রয় করায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকার ক্ষতি ধরা পড়েছে অডিটে। প্যাথলজি বিভাগে রোগীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের চেয়ে কম জমা করে ১৯ লাখ ২৬ হাজার ৭২০ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। লিনেন ধৌতকরণ কাজের ওপর ঠিকাদারের কাছ থেকে কম হারে ভ্যাট কর্তন করায় সরকারের ৬ লাখ টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে। এক্স-রে ফিল্ম, ইসিজি ফিল্ম (বহির্বিভাগ) এবং এমআরআই ফিল্ম ব্যবহার অনুযায়ী জমাযোগ্য ইউজার ফির চেয়ে কম জমা করে ৫১ লাখ ৩১ হাজার ১০৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সিরিঞ্জ কোম্পানির মুদ্রিত খুচরা বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে ক্রয় করায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৪ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সিএমএসডির সরবরাহ করা ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকার চিকিৎসা মেশিনারি ও সরঞ্জাম ইন্সটল না করায় সরকারি অর্থের অপচয় করেছে কর্তৃপক্ষ। পিপিআরের বিধিবহির্ভূতভাবে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কিনে ৩৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৪০ টাকার আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া এমএসআর মালামাল কিনে ৮ কোটি ২৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকার অনিয়ম-দুর্নীতি করা হয়েছে। দুর্নীতির উদ্দেশ্যে কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ অনুমোদিত বিভাজন হারের চেয়ে ৩ কোটি ২০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বেশি ব্যয় করা হয়েছে। অনুমোদিত বেডের অতিরিক্ত পথ্য ব্যয় দেখিয়ে ৪৭ লাখ সাড়ে ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে ইনফো নরমাল স্যালাইন এবং ইনফিউশন সেট ও হার্টসম্যান সল্যুশন না কিনে খোলা বাজার থেকে উচ্চমূল্যে কিনে ২৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। রোগীদের বিছানার চাদর ও বালিশ না দিয়ে ৬০ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। চাহিদা ও প্রয়োজন ছাড়াই মালামাল কিনে ১৩ লাখ টাকার অধিক আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল : রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ এবং বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৭৬ কোটি ২৩ লাখ ১৭ হাজার ৮৩১ টাকার অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৪০ কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার ৩০৬ টাকার গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। আর ৫ কোটি ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৮৮৫ টাকার বিধি ও পদ্ধতিগত অনিয়ম হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ওষুধ কেনা, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে স্যালাইন না কিনে ঠিকাদার থেকে কিনে আর্থিক ক্ষতি, ইনকেজশন আত্মসাৎ নন-মেডিক্যাল ফার্নিচারে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, ইউজার ফি কম আদায় ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পিপিআরের প্রবিধান এবং আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে ইডিসিএল থেকে ১২ কোটি ৪ লাখ সাড়ে ১৬ হাজার টাকার ওষুধ কেনায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অনিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দরপত্র অনুমোদন গ্রহণ না করে পিপিআরের বিধান উপেক্ষা করে ৫ কোটি ৭৮ লাখ সাড়ে ১৪ হাজার টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এ কেনাকাটায় দুর্নীতি হয়েছে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। এমএসআর ক্রয়ে বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয় করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৪৯ লাখ সাড়ে ৫৮ হাজার টাকা। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে বিভাজন অনুযায়ী ইডিসিএল থেকে ওষুধ কম ক্রয় করায় ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল : নির্মাণ ও পূর্ত কাজে অর্থ ব্যয়ের সমর্থনে খাতভিত্তিক আয়-ব্যয় হিসাব, নথি, বিল-ভাউচার, রেজিস্টার ইত্যাদি নিরীক্ষায় দাখিল করেনি কর্তৃপক্ষ। এসব খাতে জড়িত অর্থের পরিমাণ ৪০ কোটি টাকা।

মহাখালী নিমিউ এন্ড টিসি এবং রংপুর ও সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল : অনিয়মিতভাবে মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি মেরামত ও সার্ভিসিং খাতের বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের গাড়ি মেরামত, দরপত্রের চেয়ে বেশি মূল্য পরিশোধ করে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। অডিট দলের প্রতিবেদনে এই তিন প্রতিষ্ঠানে ৭ কোটি ৭০ লাখ ৪৯ হাজার ৯৭ টাকার অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে বলে উঠে এসেছে। এর মধ্যে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে ৫ কোটি ৫০ লাখ ৬২ হাজার ৫৪৯ টাকার। বাকি ২ কোটি ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৪৮ টাকাকে সাধারণ অনিয়ম বলা হচ্ছে।সূত্র: আমাদের সময়

পুলিশ ফাঁড়িতে তরুণকে ‘পিটিয়ে হত্যা’

এক তরুণকে পুলিশ ফাঁড়িতে এনে টাকার জন্য নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে সিলেট মহানগর পুলিশের বিরুদ্ধে। নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার গুলতেরা মঞ্জিলের বাসিন্দা। তিনি দুই মাস বয়সী এক সন্তানের জনক। নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটে ডা. আবদুল গফফারের চেম্বারে তিনি চাকরি করতেন বলে জানা গেছে।

রায়হানের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ প্রচার করে, গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ওঠার পর নিজেদের বক্তব্য পাল্টে পুলিশ জানায়, নিহত তরুণ ছিনতাইকারী গ্রুপের নির্যাতনের শিকার। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম ও চাচা হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, কর্মস্থল চিকিৎসকের চেম্বার থেকে ফিরতে দেরি দেখে গতকাল শনিবার রাত ১০টায় রায়হানের মোবাইলে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। ভোর ৪টা ২৩ মিনিটের দিকে মায়ের মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওপার থেকে রায়হান জানান, পুলিশ তাকে ধরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে এসে ১০ হাজার টাকা দাবি করছে। টাকা না পেলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে রায়হানের মা তার চাচাকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠান। রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ আজ রোববার ফজরের সময় টাকা নিয়ে ভাতিজা রায়হানকে ছাড়িয়ে আনতে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে যান।

এ সময় সাদা পোশাকে ফাঁড়িতে থাকা এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘আপনার ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসার কথা। আপনি ৫ হাজার টাকা নিয়ে আসলেন কেন? চলে যান, রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে। যে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধরে নিয়ে এসেছেন, তিনিও ফাঁড়িতে নেই। আপনি ১০ হাজার টাকা নিয়ে সকাল ৯টার দিকে আসেন। আসলেই তাকে নিয়ে যেতে পারবেন। তাকে আমরা কোর্টে চালান করব না। ’

রায়হানের চাচা জানান, সকাল ৯টার দিকে টাকা নিয়ে তিনি ফের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে যান। এ সময় পুলিশ সদস্যরা জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ায় সকাল ৭টার দিকে রায়হানকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ খবরে হাবিবুল্লাহ উদ্বিগ্ন হয়ে তৎক্ষণাৎ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, রায়হানের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।

‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন আজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের আখালিয়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

এদিকে আজ ভোরে রায়হানের মৃত্যুর পর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ছিনতাইকালে নগরীর কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

তবে পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠার পর তৎপর হয় মহানগর পুলিশ। নিজেদের বক্তব্য বদলে তারা জানায়, ছিনতাইকারী একটি গ্রুপের নির্যাতনের শিকার রায়হানকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন দাবি করেন, ভোররাতে এএসআই আশিক এলাহির নেতৃত্বে রায়হানকে উদ্ধার করা হয়। ছিনতাইকারী একটি গ্রুপ তাকে নৃশংসভাবে নির্যাতন করে ফেলে রাখে। রায়হান নিজেও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত বলে দাবি করে তিনি জানান, কোতোয়ালি থানায় তার নামে দুটি মামলা আছে, তিনি মাদকও গ্রহণ করতেন। তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতনের প্রশ্নই আসে না। সিসি টিভির ফুটেজ দেখলেও এমন অভিাযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে তিনি দাবি করেন।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে রাত পর্যন্ত থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানান সিলেট কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র।

তবে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, যে মোবাইল নম্বর থেকে কল করা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটিকে সূত্র ধরে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার জানান, পুলিশ গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছে। তদন্তে পুলিশের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেটে বায়োফ্লেক প্রযুক্তি ব্যবহারে মাছ চাষে সাফল্য

মাছ চাষের জনপ্রিয় কৃত্রিম পদ্ধতি, বায়োফ্লক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফল হয়েছেন তরুণ মৎস্য চাষি নাজিম উদ্দিন। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় তিনিই প্রথম বায়োফক মৎস্যচাষী। স্বল্প খরচ ও জায়গা ব্যবহার করে চার মাসের মাথায় আশানুরূপ ফলাফল পেয়েছেন তিনি।

সরেজমিন উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের লোহারশপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নাজিম উদ্দিন তার বসত ঘরের পেছনেই বায়োফ্লক মৎস্য খামার গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি রয়েছে তিনটি ট্যাঙ্ক। এর মধ্যে ১০ হাজার লিটারের দু’টি ট্যাঙ্কে কৈ ও ১৫ হাজার লিটারের অপরটিতে চাষ করেছেন শিং মাছ।
নাজিম উদ্দিন জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বড়ভাইয়ের উৎসাহ-পরামর্শ ও সহযোগিতায় বায়োফ্লক প্রদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হন তিনি। পরে ঘরের পেছনের খালি জায়গায় নির্মাণ করেন তিনটি ট্যাঙ্ক। প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষে গেল ১৩ জুলাই ময়মনসিংহ থেকে ১২ হাজার কৈ ও ৬ হাজার শিং মাছের পোনা সংগ্রহ করে শুরু করেন চাষ। চার মাসের মাথায় এখন খামারে বিক্রি উপযোগী কৈ মাছ রয়েছে প্রায় ১ হাজার কেজি। খুচরা ১২০ টাকা ধরে যার বাজার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। শিং মাছ রয়েছে প্রায় ১৬৭ কেজি। খুচরা ২শ টাকা কেজি ধরে যার বাজার মূল্য ৩৩ হাজার ৩শ টাকা। বায়োফক পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রথম চাষ থেকেই খরচ বাদে তার মূনাফা হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩শ টাকা।

নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি ও আমার এক বোন মিলে দৈনন্দিন কাজ-কর্মের পাশাপাশি খামার দেখা-শুনা করি। বায়োফ্লেক পদ্ধতিতে মাছ চাষে খরচ-পরিশ্রম কম। জায়গা অল্প হলেও চাষ করা সম্ভব। এ পদ্ধতি অধিক লাভজনক।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বায়োফ্লেক পদ্ধতিতে প্রথম মাছ চাষে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ায় চাষিকে অভিনন্দন। আমাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ-সেবা অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্ণালী পাল ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেন, নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। খামার পরিদর্শন করে চাষিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হবে।

বিডি প্রতিদিন

গোলশূন্য ড্র রোনালদো-এমবাপেদের

সবশেষ রাশিয়া বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে ফ্রান্স। আর ২০১৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দেশ পর্তুগাল।

উয়েফা নেশনস লিগে রবিবার রাতে মুখোমুখি হয় এই দুই দল। তবে কেউ জয় পায়নি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ঘরের মাঠে পর্তুগালকে পেয়েও হারাতে পারেনি।
অন্যদিকে পর্তুগালও পায়নি জালের নাগাল। গোলশূন্য ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছেড়েছে রোনালদো-এমবাপেরা।

প্রথমার্ধে ফ্রান্সের আঁতোয়ান গ্রিজমান গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার নেওয়া শট পর্তুগালের গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিওকে ফাঁকি দিতে পারেনি। রোনালদোও অবশ্য প্রথমার্ধে প্রায় গোল দিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু তার নেওয়া শট ফ্রান্সের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লুকাস হার্নান্দেজ লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন।

যোগ করা সময়ে রোনালদো গোলমুখে শট নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা ধরে ফেলেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক হুগো লরিস।

পর্তুগালের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় পেপে ফ্রি কিক থেকে আসা বলে মাথা লাগিয়ে অবশ্য জালে জড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

শেষ পর্যন্ত কোনও দলই জালের নাগাল পায়নি। তাতে জয়ও ধরা দেয়নি বিশ্ব ও ইউরো চ্যাম্পিয়নদের হাতে। পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদেরকে।

৩ ম্যাচ থেকে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে পর্তুগাল। সমান ম্যাচ থেকে সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে আছে ফ্রান্স। ৩ ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ক্রোয়েশিয়া আছে তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে থাকা সুইডেন এখন পর্যন্ত কোনও পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি।

করোনার কারণে স্টাডে ডি ফ্রান্সের গ্যালারিতে বসে পর্তুগাল-ফ্রান্সের ম্যাচ দেখার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার দর্শক। যদিও এই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৮০ হাজার।

বিডি প্রতিদিন

সম্পর্ক থেকে মুক্তি চেয়ে ১০ মিনিটেই ভাঙল সংসার

বিখ্যাত অটোমান বা ওসমানি সাম্রাজ্যের প্রবক্তা ছিলেন দিরিলিস এরতুগ্রুল। এ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয়েছিল ঐতিহাসিক ড্রামা সিরিয়াল ‘দিরিলিস এরতুগ্রুল’। যা বিশ্বব্যাপী বহুল জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখেছেন এই সিরিয়ালটি। তাই সম্প্রতি গিনেস বুকে নাম উঠেছে এই সিরিয়ালটির।

এ সিরিয়ালে দিরিলিসের স্ত্রী হালিমা হাতুন সুলতানের ভূমিকায় মানে এরতুগ্রুলের নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি পেয়েছেন এসরা বিলজিক। এ অভিনেত্রী প্রণয় সূত্রে ঘর বেঁধেছিলেন তুরস্কের ফুটবলার গোখন তোরের সঙ্গে। সেই ঘর যেন এখন জ্বলন্ত উনুন। তার তিন বছরের প্রেম শেষে তিন বছরের সংসার মাত্র ১০ মিনিটেই ভেঙে গেছে। ছয় বছর ভালোবেসে পাতা এসরার এই সংসার ভাঙার ঘটনায় গত মে মাসে এই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
তুরস্কের ইন্টারন্যাশনাল দ্য নিউজ জানাচ্ছে, ‘দিরিলিস’খ্যাত এই তারকা অভিনেত্রী ২০১৪ সাল থেকে প্রেম শুরু করেন তোরের সঙ্গে। ২০১৭ সালে তুরস্কের প্রসিডেন্ট তাইয়েপ এরদোয়ানের উপস্থিতিতে তারা বিয়ে করেন জমকালো আয়োজনে। তবে ব্যক্তিগত নানা কারণে আর একসঙ্গে থাকা হচ্ছে না তাদের।

গেল মে মাসে তারা বিচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। এ জন্য আদালতে হাজির হয়েছিলেন তুরস্কের এ দুই তারকা। সেখানে এসরাকে তার সাবেক স্বামী তোরের সম্পদের ওপর দাবি আছে কি না জিজ্ঞেস করেন আদালত। জবাবে তিনি বলেন, তোরের কাছে তার কিছুই প্রত্যাশা নেই। কোনো সম্পত্তি তিনি চান না। মুক্তি চান সম্পর্ক থেকে।

এদিকে তোরেকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনিও তার স্ত্রী সম্পর্কে কোনো অভিযোগ বা সমস্যার কথা বলেননি। তাই দুই পক্ষের অনুমতিতে মাত্র ১০ মিনিটেই শেষ হয়েছে তাদের ডিভোর্স কার্যক্রম। প্রসঙ্গত, সদ্য একা হয়ে যাওয়া এসরা তার হিট ড্রামা ‘রামো’র নতুন মৌসুম নিয়ে আবারও ফিরছেন দর্শকদের সামনে।

বিডি-প্রতিদিন

ফের রক্তাক্ত আফগানিস্তান, ১০ সেনাসহ নিহত ১৩

ফের রক্তাক্ত হলো আফগানিস্তান। রাস্তার ধারে পড়ে থাকা বোমা বিস্ফোরণে মারা গেলেন ১০ জন আফগান ন্যাশনাল আর্মির সেনা। বিস্ফোরণে মারা গেছেন ৩ জন সাধারণ মানুষও। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এই বিস্ফোরণে। আফগানিস্তানের শের ই পাল প্রদেশে সেনা কনভয়কে নিশানা করা হয়েছিল। তালেবান বা অন্য কোনও গোষ্ঠী এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয় সূত্রে খবর, দেশটির বাঘলানে আরও একটি মাইন উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

এদিকে, কয়েকদিন আগেই লাঘমানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় ৮ জনের। লাঘমানের প্রাদেশিক গভর্নর রহমাতুল্লা ইয়ারমলের কনভয় লক্ষ্য করে এদিন বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই বিস্ফোরণের অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন প্রাদেশিক গভর্নর। ৮ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হন ৩০ জনেরও বেশি মানুষ। প্রাদেশিক গভর্নর রহমাতুল্লা ইয়ারমলের সামান্য আঘাত লাগলেও, তা গুরুতর নয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র আসাদুল্লাহ দৌলতজাই জানান গভর্ণর এখন সুস্থ রয়েছেন।

বাগেরহাটে এনজিও কর্মীকে গণধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ১

বাগেরহাটের ফকিরহাটে ২৫ বছর বয়সী এক এনজিও কর্মীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে ভ্যানচালক ধর্ষক মামুন (২৭)-কে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ফকিরহাটের জারিয়া মাইট কুমড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামুনকে আটক করা হয়।

এসময় ধর্ষক মামুনের কাছ থেকে ভিডিও ধারণ করা একটি মোবাইল উদ্ধার করেছে পুলিশ। সকালে ওই এনজিওকর্মী চারজনের বিরদ্ধে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের কথা উল্লেখ করে ফকিরহাট থানায় অভিযোগ করলে ধর্ষকদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়। অভিযুক্তরা হলেন- জারিয়া মাইট কুমড়া এলাকার রাজমিস্ত্রি ফিরোজ (২৮), দিনমজুর মুসা (২৬), ভ্যানচালক রাজু (২৯) এবং মামুন (২৭)।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় জানান, ওই এনজিওকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালিয়ে ভ্যানচালক মামুনকে আটক করি। মামুনের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিওসহ একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ওই নারী যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, তার রুমের পাশে এক ছেলে শিক্ষার্থী ভাড়া থাকতেন। অভিযুক্ত ওই চার ব্যক্তি শনিবার গভীর রাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। ছেলে শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই নারীর অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে ব্লাকমেইল করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তারা ওই নারীকে ধর্ষণ করেন।

রাজধানীতে বেড়াতে এসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী, আটক ৪

রাজধানীর পল্লবীতে বেড়াতে এসে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন ৪ ধর্ষককে আটক করেছে।

জানা গেছে, ১৫ বছর বয়সের ওই তরুণী গত শনিবার (১০ অক্টোবর) নোয়াখালী থেকে পল্লবী এলাকায় তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। পারিবারিক কারণে বাবা-মেয়ের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এক সময় ওই তরুণী বাসা থেকে রাগ করে বের হয়ে যায়। পরে তার স্বজনেরা সম্ভাব্য অনেক স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাচ্ছিল না। এরই মধ্যে অভিযুক্তরা তাকে ধরে নিয়ে যায় কালশীর একটি নির্জন মেসে। সেখানে ৬-৭ জন তাকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে ভুক্তভোগী তরুণী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, ওই তরুণী থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করে। এরপরই আমরা অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছি। তরুণী ধর্ষণ হয়েছে মর্মে অভিযোগ করলে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন

৪৮ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ নয় দফা দাবিতে দেশব্যাপী ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পণ্য পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। আজ (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতারা ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ নয় দফা দাবিতে সারাদেশে ১২ ও ১৩ অক্টোবর পণ্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

বিডি প্রতিদিন