৪ শিশুকে কারাগারে পাঠানোয় ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে রুল, মামলা স্থগিত

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় চার শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে হওয়া মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চার শিশুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশদাতা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এছাড়া শিশুদেরকে তাদের অভিভাবকসহ নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বলেছেন আদালত।

বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত আগামী ২২ নভেম্বর আদেশের পরবর্তী তারিখ রেখেছেন।

বেসরকারি একটি টেলিভিশনে আসা সংবাদ বিবেচনায় নিয়ে ৮ অক্টোবর রাতে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ আদেশ দেন। রুলে শিশু আদালতের মামলার কার্যক্রম বিচারিক আদালতে পরিচালার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। শিশুদের জামিন, মুক্তি ও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসে করে যশোরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে চার শিশু,তাদের অভিভাবক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি, থানার শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, জেলা প্রবেশন অফিসারকে ১১ অক্টোবর আদালতে হাজির হতে বলা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুসারে সংশ্লিষ্টরা আজ আদালতে হাজির হন।

প্রথমে শিশুদের আদালতের খাসকামরায় নেওয়া হয়। এরপর আদালত দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শুরু করেন। চার শিশুর অভিভাবক, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি, থানার শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা, জেলা প্রবেশন অফিসারের বক্তব্য শোনেন আদালত। পরে আদালত আদেশ দেন। আদালতে শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী উপস্থিত ছিল।

৪ অক্টোবর বাকেরগঞ্জে ছয় বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে কন্যাশিশুটির বাবা বাদী হয়ে ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় কন্যাশিশুটির খেলার সঙ্গী চার শিশুকে আসামি করা হয়। মামলার পর ওই চার শিশুকে গ্রেপ্তার করে বাকেরগঞ্জ থানার পুলিশ। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনায়েতউল্লাহ ওই চার শিশুকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে চার শিশুকে গত শুক্রবার সকালে তাদের অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

চার শিশুর স্বজনদের দাবি, মামলায় এসব শিশুর বয়স ১০ থেকে ১১ বছর উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের বয়স ৮ থেকে ৯ বছরের মধ্যে। ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মূলত জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

আবার বিয়ে করলেন অভিনেতা শ্যামল মাওলা

আবারও বিয়ে করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা শ্যামল মাওলা। দীর্ঘদিনের বন্ধু মাহা শিকদারের সঙ্গে ঘর বাঁধলেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

অভিনেতা শ্যামল বলেন, ‘করোনার মধ্যে বিধিনিষেধ মেনে যতটুকু করা যায় সেভাবেই একটা ঘরোয়া আয়োজন হচ্ছে। হুট করে বিয়ের আয়োজন করায় কাছের অনেককে জানাতে পারিনি। কেউ কষ্ট পাবেন না। সবার কাছে দোয়া চাই আমাদের নতুন জীবনের জন্য।’
পাত্রী মাহা শিকদার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তিনি শোবিজেও যাত্রা করেছেন এরই মধ্যে। তাকে দেখা গেছে ছোট পর্দায় অভিনয় করতে।

এটি শ্যামল মাওলার দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে প্রথম স্ত্রী নন্দিতার সঙ্গে তিন বছরের সংসার ছিল তার। সেই সংসারে শ্রেয়ণ নামে তাদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।

‘অনন্ত জলিলকে বয়কট করলাম’

আমি মেহের আফরোজ শাওন, বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র ও মিডিয়াকর্মী এবং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের নারীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অসংলগ্ন বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও বার্তা দেয়ার জন্য জনাব অনন্ত জলিলকে বয়কট করলাম।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

এর আগে, শনিবার নিজের ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল বলেন, তোমাদের অশালীন ড্রেসের কারণে তোমাদের ফিগারের দিকে তাকিয়ে বিভিন্নভাবে মন্তব্য করে এই বখাটে ছেলেরা এবং রেপ করার চিন্তা তাদের মাথায় আসে। শালীন ড্রেস পরলে যারা বখাটে ছেলে যাদের মাথায় ধর্ষণের চিন্তা-ভাবনা আসে, তারাও কোনও এই ধরনের চিন্তা করবে না। শ্রদ্ধার সঙ্গে তোমার দিকে তাকাবে। এবং তাকিয়ে থাকার পর চোখ নিচের দিকে নিয়ে তোমাকে সম্মান জানাবে।

তার এমন মন্তব্য নিয়ে ফেসবুক এখন সমালোচনায় মুখর।

পটুয়াখালীতে নিরপরাধ ৮০ বছরের বৃদ্ধ কারাগারে, এএসআই প্রত্যাহার

শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় ৮০ বছরের এক নিরপরাধ বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানকে জেল-হাজতে পাঠানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গলাচিপা থানার পুলিশের এএসআই আল আমিনকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অপরাধ) মো. মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নামের মিল থাকায় অসাবধানতা বশত: ওই বৃদ্ধকে গ্রেফতারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রবিবার ওই বৃদ্ধকে মুক্ত করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা থানা সংলগ্ন সদর রোডের নাহার গার্মেন্টসের মালিক মো. হাবিবুর রহমান, পিতা নূর মোহাম্মদ মাস্টার, মুজিবনগর রোড, গলাচিপা পৌর শহরের বাসিন্দা। তিনি ২০১২ সালের ৬ আগস্ট ব্র্যাক থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন।

এ সময় তিনি ব্র্যাকের অনুকূলে উত্তরা ব্যাংক গলাচিপা শাখায় তার নিজস্ব অ্যাকাউন্টের (হিসাব নং-২২০০) ঋণের সমপরিমাণ অর্থের একটি চেক জমা দেন। কিন্তু তিনি ওই ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ হাবিবুর রহমানের জমাকৃত চেকটি ১০ এপ্রিল ২০১৩ সালে ওই ব্যাংকে জমা দিলে তাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা ডিজঅনার হয়।

পরে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ ২ মে ২০১৩ তারিখে তাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। কিন্তু তিনি ব্র্যাক থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি মর্মে ১৯ জুন ২০১৩ তারিখ লিখিতভাবে ব্র্যাক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তারা ঋণ গ্রহীতা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় পটুয়াখালীর যুগ্ম দায়রা জজ জিন্নাৎ জাহান ঝুনু ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ রায় দেন। রায়ে হাবিবুর রহমানকে ১ বছরের কারাদণ্ড ও ঋণের দ্বিগুণ অর্থ অর্থাৎ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ের দিন ঋণগ্রহীতা হাবিবুর রহমান আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুযায়ী গলাচিপা থানার এএসআই আল-আমিন গলাচিপা বনানী এলাকার ৮০ বছরের বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানকে গত রবিবার তার বাসা থেকে গ্রেফতার করেন এবং ওই দিনই তাকে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেফতার হওয়া হাবিবুর রহমানের পিতার নাম নূর মোহাম্মদ পণ্ডিত।

ঋণগ্রহীতা হাবিবুর রহমান প্রায় ৫ বছর আগে গলাচিপা থানা সংলগ্ন সদর রোড থেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে মহিলা কলেজ সড়কে নতুন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। তিনি ব্যবসার ধরন পাল্টে এখন মুদি ব্যবসা শুরু করেছেন।

এ ব্যাপারে জেলে থাকা হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আবু সালেহ বলেন, আমার বাবা সদর রোডে কোনোদিন ব্যবসা করেননি, আর আমরা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণও গ্রহণ করিনি। আমরা দুই ভাই ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করি। বাবা-মায়ের ভরণপোষণের জন্য প্রতি মাসে টাকা পাঠাই। তা দিয়ে তারা সংসার চালান। পুলিশকে বিষয়টি বলা হয়েছিল কিন্তু তারা শোনেনি।

হাবিবুর রহমানের ছোট ছেলে আবু সালেহ জানান, আমার বাবা চোখে কম দেখেন এবং কানে কম শোনেন। পুলিশকে আমার মা বার বার বলার পরও আমার নিরপরাধ বৃদ্ধ বাবাকে জেলে পাঠিয়েছে। আমার বাবার মুক্তি চাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এ জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই।

গলাচিপা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, আসামির নাম ও পিতার নামে মিল থাকায় সরল বিশ্বাসে এএসআই আল-আমিন তাকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি আমরা সংশোধন করে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠিয়েছি এবং ওই বৃদ্ধকে দ্রুত কারামুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এদিকে নিরাপদ ওই বৃদ্ধের জামিনের জন্য আজ পটুয়াখালীর সংশ্লিষ্ট আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিডি প্রতিদিন

‘নিচু জাত হওয়ায় নিজ গ্রামে এখনও গ্রহণযোগ্য নই’

বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকী। এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার নিজের পরিবারে, আমার দাদী ছিলেন নিচু জাতের। সে কারণে আজও আমাদেরকে তারা গ্রহণ করেনি।’

উত্তর প্রদেশের অধিবাসী নওয়াজউদ্দীন বলেন, গ্রামগুলোতে জাতপ্রথা গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে, এমনকি অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জনের পরেও বৈষম্য থেকে মুক্তি পাননি তিনি নিজেও। হাথরাসের ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, গ্রামে জাতবিভেদ এমন এক বাস্তবতা, হাজারো প্রচার-প্রচারণা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যার কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারে না।
এমন এক সময়ে এনডিটিভিতে এই সাক্ষাৎকার দিলেন নওয়াজউদ্দিন, যখন উত্তর প্রদেশের হাথরাস গ্রামে এক দলিত নারীর উপর চার উচ্চ জাতের পুরুষের নৃশংস নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় যখন পুরো ভারত জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

নওয়াজউদ্দীন বলেন, যা অন্যায়, তা অন্যায়ই। আমাদের শিল্পী সমাজও হাথরাসের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আমাদের সবারই কন্ঠ তোলা উচিত, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটন।

টুইটারেও জাতবিভেদ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন এই অভিনেতা। এক পোস্টে তিনি লেখেন, অনেকেই হয়তো বলবে জাতবিভেদ নেই। কিন্তু কেউ যদি একটু চারপাশটা ঘুরে দেখে, তাহলে ভিন্ন বাস্তবতা পাবে।

প্রতারণার মামলায় সাহেদ চার দিনের রিমান্ডে

চট্টগ্রামে ৯১ লাখ টাকার প্রতারণা মামলায় বিতর্কিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে ৪ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালত এ আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী ধীতিমান আইচ রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতারণা মামলায় রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

চট্টগ্রামের গাড়ি আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরসের অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় হাজিরার জন্য রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সাহেদকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় রুট-পারমিট পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেগা মোটরস থেকে ৯১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা হয়।

বিডি প্রতিদিন

২০ অক্টোবর থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের নৌযান ধর্মঘট

নৌযানের মাস্টারশিপ ও ড্রাইভারশিপ (চালকদের যোগ্যতা নির্ধারণী) পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতি বন্ধ এবং শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও মাসিক খাদ্য ভাতা প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে ২০ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। এছাড়া ১৫ দফা দাবিতে সারাদেশে লাগাতার ধর্মঘটে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নৌ শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদ। তাদের ১৫ দফার মধ্যেও মাস্টারশিপ-ড্রাইভারশিপ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতি বন্ধ এবং শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও খাদ্যভাতাসহ ফেডারেশনের অধিকাংশ দাবি রয়েছে।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯ অক্টোবর রাতের প্রথম প্রহর থেকে তাদের ধর্মঘট শুরু হবে। ১২ অক্টোবর সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে ঐক্য পরিষদ নেতারা জানিয়েছেন। শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নিয়োগপত্র প্রদান, ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন, খাদ্যভাতা প্রদান এবং নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের পরীক্ষায় অনিয়ম-হয়রানি বন্ধসহ ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সাল থেকে তারা আন্দোলন করে আসছেন। এগুলোর কয়েকটি পূরণ হলেও অমীমাংসিত ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ২০১৮ সালে আবারো শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন ফেডারেশন নেতারা।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম লাগাতার ধর্মঘট আহ্বানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা চাই, নৌ সেক্টরের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক লীগসহ কয়েকটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘নৌ শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ১৫ দফা দাবিতে লাগাতার ধর্মঘট ডাকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যেও নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের উপরোক্ত প্রধান দাবিগুলো রয়েছে; যেমন- নিয়োগপত্র ও খাদ্যভাতা প্রদান, সার্ভিস বুক, কল্যাণ তহবিল গঠন, মাস্টারশিপ ও ড্রাইভারশিপ পরীক্ষায় অনিয়ম বন্ধ ইত্যাদি।

বিডি প্রতিদিন

মালিকের নতুন রেকর্ডে গর্বিত সানিয়া মির্জা

পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিক নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন। প্রথম এশিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার রান পূরণ করলেন ৩৮ বছয় বয়সী এ ক্রিকেটার।

রবিবার পাকিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ-ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে খাইবার পাখতুনখোয়ার হয়ে ৭৪ রান করেন মালিক। বেলুচিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ৪৪ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান মালিক। আর এই ইনিংস খেলার পথেই এই রেকর্ড গড়েন তিনি।

শোয়েব মালিকের এই কীর্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্ত্রী সানিয়া মির্জা। ভারতীয় টেনিস তারকা টুইটারে লিখেছেন, স্বামীর এমন কীর্তিতে গর্বিত তিনি।

মালিকের এই কীর্তি নিয়ে টুইট করে ক্রিকেটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। যা রিটুইট করেন সানিয়া মির্জা। ক্যাপশনে লিখেন, ‘দীর্ঘায়ু, ধৈর্য, কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং বিশ্বাস।’ এরপর একটা ভালোবাসার ইমোজি ব্যবহার করে লিখেছেন, ‘অনেক গর্বিত।’
৩৯৫ তম ম্যাচে ৩৬৮ ইনিংসে এই কীর্তি তার। সব দেশ মিলে টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক রান সংগ্রাহকের তালিকায় মালিকের অবস্থান তৃতীয়। ১৩,২৯৬ রান নিয়ে সবার ওপরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল। ১০,৩৭০ রান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন গেইলের স্বদেশি কিয়েরন পোলার্ড। এরপরই মালিকের অবস্থান।

যে ৫ সবজিতে কমবে ওজন, ফিট থাকবে শরীরও

অতিরিক্ত ওজন নানা রোগের কারণ। তাই বর্তমানে ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য অনেকেই খাবার গ্রহণে বিভিন্ন নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু এই নিয়ম মানতে গিয়ে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা থেকে পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে দিলে চলবে না। শরীর সুস্থ রাখতে হলে পুষ্টির বিকল্প নেই।

আর এজন্য স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে গেলে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে শাবসবজির ওপর। পাঁচটি সবজি রয়েছে যেগুলো অতিরিক্ত ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক।

পালংশাক: এই সবুজ সবজি নানা ধরনের পুষ্টিগুণে ঠাসা। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, পটাসিয়াম এবং ফাইবার রয়েছে। পালংশাকে ক্যালোরির পরিমাণ অত্যন্ত কম। পালংশাক শুধু যে ওজন কমাতে সহায়তা করে তাই নয়, টাইপ- ২ ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ এবং যেকোনও ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়।

ব্রুকলি: ব্রোকোলিকে নিউট্রিয়েন্ট পাওয়ারহাউস বলা যেতে পারে। এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং আয়রন রয়েছে। ব্রোকলিতে আছে প্রচুর ফাইবার এবং ক্যালোরি কাউন্ট বেশ কম। সেই কারণে ওজন কমাতে অত্যন্ত উপকারী এই সবজি।

ক্যাপসিকাম: এর মধ্যে আছে ভিটামিন সি, ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন ই, বি৬ এবং ফলিত। ক্যাপসিকাম রান্না করা বেশ সহজ এবং এটি সহজেই অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায়। রঙিন এই সবজিতে পানির পরিমাণও বেশি। ক্যাপসিকাম আমাদের মেটাবলিজমের হার বাড়ায় এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।

টমেটো: টমেটোর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপিন। টমেটো ওজন কমাতে অত্যন্ত সহায়ক। পাশাপাশি নিয়মিত টমেটো খেলে বহু ক্রনিক অসুখের থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। আপনি তরকারিতে টমেটো মেশান বা স্যালাডে, এটি যেমন স্বাদু তেমনই স্বাস্থ্যকর।

মিষ্টি আলু: দুটো বড় মিলের মাঝে হালকা কিছু খেতে হলে স্ন্যাক হিসেবে আলু দারুণ উপকারী। মিষ্টি আলুতে প্রচুর ফাইবার এবং কমপ্লেক্স কার্ব আছে। এটি ত্বকের পক্ষেও অত্যন্ত উপকারী। আলুর বদলে আপনি মিষ্টি আলু খেতে পারেন।

বিডি প্রতিদিন

দুবাই বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন ১২৫ জন বাংলাদেশি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাই বিমানবন্দরে প্রায় ১২৫ যাত্রী আটকে আছেন। জানা যায়, গতকাল শনিবার রাতে ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্সে করে তারা বাংলাদেশ থেকে দুবাই আসেন।

এ বিষয়ে দেশ থেকে আগত মুহাম্মদ আলমগীর নামে একজন যাত্রী জানান, গত রাতে ফ্লাই দুবাই এর চারটি ফ্লাইট করে আসা যাত্রীদের মধ্যে প্রায় ১২৫ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। তিনি ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে ফ্লাই দুবাই করে এসেছেন।

ভিসা স্ট্যাটাস রেড থাকার কারণে তাদের আটকানো হতে পারে বলে মনে করছেন ওই যাত্রী। তারসহ আটকে পড়াদের ভিসা স্ট্যাটাস গ্রিন ছিল না বলে জানান তিনি।

তবে ওই যাত্রী বলেন, দেশ থেকে আসার আগে তারা যেখান থেকে টিকেট নিয়েছিলেন সেখান থেকে টিকিটের সঙ্গে তাদের আইসিএ অ্যাপ্রোভালের একটি প্রিন্ট আউট পেপার দেওয়া হয়। যে পেপারটি তারা বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনকে দেখিয়েছিলেন এবং দেশ থেকে আসার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন।

তিনি আরও জানান, ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্সের টিকিট নেওয়ার সময় তাদেরকে আমিরাতে প্রবেশে কোনো সমস্যা হবে না জানানো হয়েছিল। এ কারণে তারা রেড সিগন্যাল থাকার পরও আমিরাতে এসেছেন।

আটকে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে দুবাই কনস্যুলেটের একটি প্রতিনিধি দল কিছুক্ষণ আগে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা ছবি তুলে তাদের অপেক্ষা করতে বলেছেন বলেও জানান মুহাম্মদ আলমগীর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে বিভিন্নভাবে ১৮ জনকে বিমানবন্দর থেকে বের করা হয়েছে। বাকি যাত্রীদের ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমিরাত সরকারের নতুন নিয়ম সম্পর্কে না জানার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমিরাতের নিয়মে সৃষ্ট পরিস্থিতি কাভার না করলে যাত্রীদের পুনরায় দেশে ফিরে যেতে হবে।’

দুবাই কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সিলর ফাতেমা জাহান এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, তবে কনফার্ম করে এখনো কিছু বলতে পারছি না।’

এর আগে গত ৮ অক্টোবর থেকে আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে ঘোষণা করা হয়, আইসিএ অ্যাপ্রোভাল ছাড়া দুবাই বিমানবন্দর দিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এরপরও এয়ারলাইন্সগুলো কেন এ ধরনের কাজ করছে? প্রবাসীদের এ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন আমিরাত প্রবাসীরা।