জাতিসংঘে চীন-জার্মানি তীব্র বিরোধ

এক দিকে জার্মানি, অ্যামেরিকা, যুক্তরাজ্যসহ ৩৯টি দেশ। অন্য দিকে চীন এবং তার সমর্থনকারী কিউবা, পাকিস্তান সহ আফ্রিকার এবং আরবের একাধিক রাষ্ট্র। জাতিসংঘে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ল বিশ্বের দুই অর্ধ। বিতর্কের কেন্দ্রে চীন।

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পেশ করেছে জার্মানি। সেখানে চীনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে অনাচার থেকে শুরু করে তিব্বতে চীনের আগ্রাসন, হংকংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চীনের মূল ভূখণ্ডে নাগরিকের অধিকার হরণ– বিবিধ বিষয়ে শি জিনপিংকে আক্রমণ করেছে জার্মানি। তবে চীনকে এই সমস্ত বিষয়ে এই প্রথম আক্রমণ করছে না জার্মানি। মাত্র কয়েক দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আয়োজিত এক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্টের সামনেই এই সমস্ত প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়।

মঙ্গলবার জাতিসংঘে জার্মানি যে প্রস্তাব পেশ করেছে তাতে সই করেছে বিশ্বের ৩৯টি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। যার মধ্যে অ্যামেরিকা, যুক্তরাজ্য আছে। রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশ। এর আগে চীনের বিরুদ্ধে এতগুলি দেশ একজোট হয়নি।

স্বাভাবিক ভাবেই জার্মানির পদক্ষেপে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয় চীন। ফলে জাতিসংঘে নিজেদের সমর্থন আদায়ে নেমে পড়ে তাঁরা। সঙ্গে পেয়ে যায় পাকিস্তান, কিউবা সহ একাধিক আরব এবং আফ্রিকার দেশকে। এরপর তীব্র ভাষায় জার্মানিকে আক্রমণ করেন জাতিসংঘে চীনের  প্রতিনিধি। তিনি বলেন, জার্মানি যা প্রস্তাব পেশ করেছে, তা ভিত্তিহীন। চীন তার নাগরিকদের সঙ্গে অন্যায় ব্যবহার করে না। জার্মানি যা বলছে, তা একান্তই  চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে চীন কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়।

উইঘুর মুসলিম, হংকং এবং তাইওয়ান নিয়ে গত কিছু দিন ধরে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় চীন। একের পর এক দেশ এ বিষয়ে চীনের বিরোধিতা করছে। হংকংয়ে বিশেষ আইন বলবৎ করে প্রায় গোটা বিশ্বের বিরাগভাজন হয়েছেন শি জিনপিং। তাইওয়ান নিয়ে দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সম্প্রতি তাইওয়ান দিবস নিয়ে তাইওয়ানের সরকার ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। তা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন। বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ভারত বরাবর চীনের ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলেছে। ভারত যেন এমন কিছু না করে, যাতে সেই নীতির সঙ্গে আপস করা হয়। ভারতের পত্রপত্রিকা যেন এক চীন নীতি মেনে চলে।  ভারত জবাবে জানিয়েছে, দেশের সমস্ত পত্রপত্রিকা স্বাধীন ভাবে কাজ করে। সেখানে হস্তক্ষেপ করার অধিকার সরকারের নেই।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, পিটিআই)

কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা জেনেই তিন কাজিন পলাতক

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের জেরে ভারতের গুজরাটের নওসারী জেলায় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ১২ বছরের কিশোরী। গত পাঁচ মাস ধরে ওই কিশোরীকে তার তিন কাজিন ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, কিশোরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সম্প্রতি তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখনই এই ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসে।

কিশোরীর বাবা দিনমজুর। পাঁচ মাস আগে কাজিনদের একজন প্রথম ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। এরপর সে আরো দুই ভাইকে ঘটনার কথা জানালে, তারাও ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

কিশোরী যেন মুখ বন্ধ রাখে সেজন্য হুমকিও দেয় অভিযুক্তরা। এরপর গত পাঁচ মাস ধরে নানা সময়ে একাধিকবার ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। বাড়িতে অভিভাবকরা কেউ না থাকলে, সেই সুযোগে যৌন নিগ্রহ করত কাজিনরা।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের সবার বয়স ১৮ বছরের নীচে। দিন কয়েক আগে মেয়েটির পেটে ব্যথা শুরু হলে, মা তাকে নিয়ে হাসপাতালে যান।

পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা জানান, কিশোরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চিকিত্‍সার জন্য বুধবার রাতে অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাকে অন্য হাসপাতালে শিফট করা হয়। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার বয়ান নিয়েছে পুলিশ। মেয়েটির মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেছে।

পুলিশ জানায়, কিশোরীর সম্পর্কিত ভাই তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে তারা গা ঢাকা দিয়ে আছে। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযুক্তরা নাবালক হওয়ায় পকসো আইনে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

সূত্র : এই সময়

বাবা-মায়ের বিয়েবিচ্ছেদ নিয়ে এবার মুখ খুললেন কুমার শানুর ছেলে

জান কুমার শানুর বাবা-মায়ের বিয়েবিচ্ছেদ হয়েছে সেই কবেই। তার পর থেকে মা রীতা ভট্টাচার্যই তাকে বড় করেছেন। সম্প্রতি বাবা কুমার শানু ও মা রীতা ভট্টাচার্যের বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন জান কুমার শানু। যিনি এবার ‘বিগ বস ১৪’র প্রতিযোগী।

সম্প্রতি বিগ বস ১৪-এর প্রতিযোগী জান কুমার শানু, জেসমিন ভাসিন, সারা গুরপাল, নিক্কি তাম্বোলি তাদের ছোটবেলা নিয়ে কথা বলেন। জান কুমার শানু বলেন, আমার কাছে মা-বাবা বলতে সবটাই আমার মা। যখন আমি মায়ের গর্ভে ছিলাম, তখনই আমার বাবা-মা আলাদা হয়ে যান। ছোট থেকে আমি আমার মায়ের কাছেই বড় হয়েছি। উনিই আমার মা-বাবা সব। আমি এখানে আসার আগে সবচেয়ে বেশি আমার মাকে নিয়েই চিন্তিত ছিলাম। ভালোবাসা নিয়েও আমি মায়ের মতো প্রাচীনপন্থী।

কুমার শানুর সঙ্গে রীতা ভট্টাচার্যের বিয়েবিচ্ছেদ হয়ে যায় ১৯৯৪ সালে। তার পর থেকে ছেলে জান কুমার শানুকে একা মানুষ করেছেন রীতা। জান কুমার শানুর আসল নাম জয়েস ভট্টাচার্য। তাকে বিগ বসের প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন খোদ সালমান খান। রীতা ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কুমার শানু সালোনিকে বিয়ে করেন। তবে রীতা ভট্টাচার্য একাই থেকেছেন। জান কুমার শানু বড় হয়েছেন কলকাতাতেই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়াশোনা করেছেন জান।

বেনাপোল দিয়ে ভারত গেল ১৮৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ

দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা হিসাবে বেনাপোল বন্দর দিয়ে এক হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। যার মূল্য এক কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতি কেজি ইলিশের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ মার্কিন ডলার।

রপ্তানি করা প্রতিটি ইলিশের সাইজ এক কেজি ২০০ গ্রাম। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ চালানে ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানি হয়েছে।

শার্শা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুই দফায় ১৩ জন রপ্তানিকারককে মোট এক হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ১২ মেট্রিক টনের ইলিশের প্রথম চালান ভারতে রপ্তানি হয়। ৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৫টার সময় সর্বশেষ চালানে ১৯৭ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ ভারতে রপ্তানি হয়।

শাহবাগে প্রতিদিন বিকেলে প্রতিবাদ কর্মসূচি

নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শাহবাগে চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত পর্যন্ত শাহবাগে এ কর্মসূচি চলবে। আজ শুক্রবার শাহবাগে সাধারণ শিক্ষার্থী, বামধারার ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা মহাসমাবেশ থেকে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা এ কথা জানান এবং নয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

শাহবাগে ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ লেখা ব্যানারে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ মহাসমাবেশ শুরু হয় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ‘চিৎকার করো মেয়ে, দেখি কত দূর গলা যায়, আমাদের শুধু মোমবাতি হাতে নীরব থাকার দায়’ গণসংগীতের মধ্য দিয়ে। এরপর মহাসমাবেশে গণসংগীত পরিবেশন, আবৃত্তি ও পথনাটক পরিবেশন করা হয়।

এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীদের মুখে ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’, ‘ধর্ষক লীগের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’, ‘প্রীতিলতার বাংলাদেশে, ধর্ষকদের ঠাঁই নাই’, ‘ধর্ষকদের কারখানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘পাহাড় কিংবা সমতলে, লড়াই হবে সমানতলে’ শোনা যায়।

মহাসমাবেশে নয় দফা দাবি তুলে ধরেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। এ দাবিগুলো হলো :

১. সারা দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ।

২. নারীদের ওপর সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করা।

৩. হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে, নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৪. ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারী বিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞানে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে।

৫. তদন্তকালে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।

৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭৯-১৫৫ (৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

৮. পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যেকোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।

৯.সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে হবে।

এ সময় বলা হয়, আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নয় দফা দাবি মানা না হলে ১৬ অক্টোবর সকাল ৯টায় শাহবাগ থেকে বেগমগঞ্জের উদ্দেশে লংমার্চ ও ১৭ অক্টোবর বেগমগঞ্জে সমাবেশ করা হবে।

ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে আ.লীগের নেতা তিনি!

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে নিজেকে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা দাবি করায় রবিউল ইসলাম সোহাগ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইমাম চৌধুরী।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সাব্বিরুল আহসান ছবি মারা যান। তার মৃত্যুর পর ওই পদটি শূন্য ছিল। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর জাল করে সোহাগ নিজেকে ওই পদে নিযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এর প্রমাণ স্বরূপ তিনি গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের সামনে ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত ও সিলযুক্ত একটি কাগজ প্রদর্শন করেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষরের বিষয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর ফিজার ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেছেন “আমি জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশ বা মতামত ছাড়া কাউকে অর্ন্তভুক্ত করার গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ড করতে পারি না এবং এ ধরনের স্বাক্ষরিত কাগজ প্রদান করিনি। যদি সোহাগ এ ধরনের কাগজ প্রদর্শন করে তবে ওই কাগজ সম্পূর্ণ জাল বলে গণ্য হবে।’

মামলার বাদী আরও বলেন, ‘এ ছাড়া রবিউল ইসলাম সোহাগ নামে কাউকে তিনি চেনেন না জানিয়ে এ ধরনের ভুয়া সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত কাগজ প্রদর্শন হয়ে থাকলে থানায় মামলা করার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। এ নির্দেশ পেয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের পরামর্শক্রমে শুক্রবার সকালে কোতোয়ালি থানায় রবিউল ইসলাম সোহাগকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়।’ এ ছাড়া সোহাগ এর আগে আওয়ামী লীগের কোনো পদে ছিলেন না বলেও দাবি করেন মামলার বাদী আজিজুল ইমাম চৌধুরী।

বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘মামলাটি গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২২/২৩/২৪ ও ২৯ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানকে প্রদান করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে স্বাক্ষর ও সিল ভুয়া শনাক্ত হলে আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে আসন্ন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে রবিউল ইসলাম সোহাগ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। তার এ জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা প্রচার করে প্রার্থী হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কেটে ডেকে নিয়ে স্ত্রীকে এসিড নিক্ষেপ করলেন স্বামী!

স্ত্রীকে নাকফুল কিনে দেওয়ার কথা বলে মার্কেটে ডেকে নিয়ে এসিড নিক্ষেপের করেছেন স্বামী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসিডদগ্ধ বৃষ্টি তার স্বামী আকবরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন।

এসিডে দগ্ধ বৃষ্টির বোন বর্ষা বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে আমার ছোট বোন বৃষ্টি কলেজে পড়াকালীন কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়া এলাকার আকবরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তারা নিজেরা বিয়ে করে। আমাদের পরিবার তখন তাদের বিয়ে মেনে নেয়নি। আকবর বিভিন্ন অপরাধে প্রায় সময়ই জেলে থাকে। ওর নামে মাদক, চুরিসহ বেশ  কয়েকটি মামলা রয়েছে। বৃষ্টির বাচ্চা হওয়ার পর আকবর পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর আমার বাবা বৃষ্টি ও বৃষ্টির সন্তানকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর থেকে আকবর আমার বাবার বাড়িতে থাকত।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আকবর আমার বোনকে নাকফুল কিনে দেওয়ার জন্য মার্কেটে নিয়ে যায়। কিন্তু নাকফুল কিনে না দেওয়ায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি সৃষ্টি হয়। এর একপর্যায়ে চৌড়হাসের লুৎফর ড্রাইভারের বাড়ির সামনে গিয়ে বৃষ্টিকে এসিড নিক্ষেপ করে আকবর পালিয়ে যায়। সেখানে থাকা স্থানীয়রা বৃষ্টিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। ’

এসিডদগ্ধ বৃষ্টি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, বৃষ্টির শারীরিক অবস্থা এখন ভালো রয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে গেছি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসিড অপরাদ দমন আইনের ৫ নম্বর ধারায় গতকাল বৃহস্পতিবার এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।’

স্ত্রীকে ৪ টুকরা করে হত্যা, পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার

৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে চার টুকরা করে হত্যার অভিযোগে সাদ্দাম হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার তাফালাবাড়ী বাজার এলাকা পারিবারিক কলহের কারণে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনাটি ঘটে। ভোরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ সময় সাদ্দামকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় তাফালবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির কনেষ্টবল মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) তার দ্বিতীয় স্ত্রী জোসনা বেগমকে (৩০) নিয়ে তাফালবাড়ী বাজারের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। এর জের ধরে নিজের ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে খুন করেন সাদ্দাম।

যেভাবে খুন হন জোসনা

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জোসনা বেগমের দেহ থেকে মাথা কেটে ফেলেন সাদ্দাম। পরে দুই হাতের কবজি আলাদা করে ফেলেন। পেট কেটে ৪ টুকরা করে জোসনার গর্ভের বাচ্চাটিকে বের করে ফেলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শরণখোলা থানা পুলিশ আজ শুক্রবার ভোরে সাদ্দামের ওই ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। পরে সেখান থেকে জোসনার খণ্ডকৃত দেহ উদ্ধার করে। এ সময় সাদ্দামকে আটক করে পুলিশ সদস্যরা। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার পঙ্কজ কুমার রায়সহ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আজ শুক্রবার সকালে শরণখোলা থানায় সাদ্দামের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত জোসনার মা জুলেখা বেগম। আটক পুলিশ কনেষ্টবল সাদ্দামকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, এক বছর আগে খুলনার রূপসা থানার চানপুর গ্রামের বাসিন্দা জোসনাকে বিয়ে করেন সাদ্দাম। তার বাবার নাম আ. লতিফ। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার বড়দল গ্রামে। ২০১৩ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন সাদ্দাম। সেখান থেকে গত তিনমাস আগে ফকিরহাট থেকে তাফালবাড়ীর পুলিশ ফাঁড়িতে তিনি যোগদান করেন।

শরণখোলা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, সাদ্দাম তার স্ত্রীকে হত্যার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, ‘পারিবারিক কলহের কারণে পুলিশ সদস্য সাদ্দাম হোসেন তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন। আমরা সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছি। পারিবারিক কলহের কোন পর্যায়ে স্ত্রীকে হত্যার মতো ঘটনা ঘটল তার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।’ সূত্র: আমাদের সময়

কেঁচো সারে সম্মাননা পদক ছাত্রীর, অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লীর মেধাবী ছাত্রী কুলসুম আক্তার। রংপুর কারমাইকেল কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশী বাবার সহযোগীতায় নিজ বাড়ীতে ভার্মি কম্পোষ্ট (কেঁচো) সার তৈরীতে বিশেষ অববদান রাখায় স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন “জননেত্রী শেখ হাসিনা সম্মাননা পদক ২০০০”। গত ৩ অক্টোবর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি হলরুমে বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ এবং বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা কৃষিবিদ পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশায় অবদান রাখায় দেশের ১৭ জন ব্যক্তিকে এই পদক প্রদান করা। ওই অনুষ্ঠানে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় ভার্মি কম্পোষ্টে বিশেষ অবদান রাখায় পদক প্রাপ্ত হয়েছেন পীরগঞ্জের সফল উদ্যোক্তা কুলসুম আক্তার ।
কুলসুম আক্তার জানান, তিনি বর্তমানে রংপুর কারমাইকেল কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী। তারা ৫ বোন। বছর দশেক আগের কথা, কুলসুমের পিতা রবিউল আলম অন্যের জমিতে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। অভাবের কারণে ২০০৯ সালে সপ্তম শ্রেণীতে উঠলে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় কুলসুমের। বাধ্য হয়ে সে ওই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে গ্রামের এক বাড়িতে ঝিয়ের কাজ শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে চতরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুজ্জামান কুলসুমের বাড়িতে যান। বাবা-মাকে বুঝিয়ে কুলসুমকে ডেকে নেন। পরামর্শ দেন, স্থানীয় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) অধীনে বিষ মুক্ত সবজি চাষ ও কেঁচো সার তৈরির কৌশল শিখে নেওয়ার। পরে একটা এনজিওতে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করে কুলসুম। বাড়ির এক পাশে চালা তুলে সেখানে সিমেন্টের চারটি রিং স্থাপন করেন। সকাল-বিকাল মাঠে ঘুরে তাজা গোবর সংগ্রহ করে রিংগুলো ভরিয়ে তোলার পর ওই সংস্থার কাছ থেকে ৬০০টি বিশেষ প্রজাতির কেঁচো এনে রিংয়ের ভেতর ছেড়ে দেন। এতে ৩ মাসে চারটি রিং থেকে প্রায় ২০০ কেজি কেঁচো সার পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ৬০০টি কেঁচোর বাচ্চাও প্রাপ্ত হন। প্রথম পর্যায়ে কুলসুম ১৫ টাকা কেজি দরে ৩ হাজার টাকার সার বিক্রি করেন। সেই সাথে কেঁচো বিক্রি করেও পান ৬০০ টাকা। এ আয় কুলসুমের চোখ খুলে দেয়। পরে ইট দিয়ে পাকা গর্ত নির্মাণ করে কেঁচো সার তৈরি শুরু করেন। মেয়ের সঙ্গে শ্রম দেয় বাবাও।

২০০৯ সালে সার ও কেঁচো বিক্রি করে সব মিলিয়ে মোট ২৩ হাজার টাকা জমা করেন। এ টাকা দিয়ে অন্যের ৮০ শতক জমি বর্গা নিয়ে কেঁচো সার দিয়ে শসা, লাউ, শিম, করলা চাষ করেন। এ ফসল বিক্রি করে আয় হয় ৭০ হাজার টাকা। এ ভাবে আয় বাড়ে, সাথে বাড়ে চাষের জমিও। সার, কেঁচো ও সবজি বিক্রির টাকায় কেনেন ২৬ শতক জমি। নির্মাণ করেন টিনের বাড়ি। কুলসুমার সংসারে এখন প্রতিমাসে আয় নূন্যতম ৩০ হাজার টাকা। কেঁচো সার বিক্রির টাকা দিয়ে ৩ বোনকে বিয়েও দিয়েছেন। কুলসুমসহ আরো দু’বোন পড়াশুনা করছেন। তাদের সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা।

বিডি প্রতিদিন

নদী থেকে গলায় পাথরের বস্তা বাঁধা নারীর মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধলেশ্বরী নদী থেকে গলায় পাথরের বস্তা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে নদীর নাগরপুর অংশের সহবতপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে নাগরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বাহারুল খান বাহার বলেন, বিকালের দিকে ধলেশ্বরী নদীতে এক নারীর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় তার গলায় পাথর ভর্তি বস্তা বাঁধা ছিলো।

প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে মরদেহ গুম করতেই গলায় পাথর ভর্তি বস্তা বাঁধা হয়ে থাকতে পারে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের ময়না তদেন্তর জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে।

তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর নাম-পরিচয় জানা না গেলেও সনাতন ধর্মে বলে ধারণা হচ্ছে বলে জানান বাহারুল খান।

বিডি-প্রতিদিন