বাস্তবতা হলো আজকের এই যে সামাজিক অবক্ষয়

আমার এই অল্প সময়ের জীবনে আমি অনেক মানুষের সাথে মিশেছি। আদর্শ, চিন্তাভাবনা কিংবা মূল্যবোধের দিক থেকে প্রত্যকের মধ্যেই দেখেছি বিস্তর ফারাক। ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ, সেক্সুয়াল অরিয়েন্টশন, ধর্মীয় এবং সামাজিক বিশ্বাসের এই মানুষের মধ্যে আমার চোখে কেউ ছিলেন ভালো কেউ ছিলেন খারাপ। আমার চোখে বলার কারণ হলো, ভালো খারাপের ধারনাও আপেক্ষিক। সুতরাং মানুষভেদে তার সংজ্ঞাও পরিবর্তন হয়। চারপাশের এই মানুষদের দেখার পাশাপাশি আমি আমার নিজেকেও দেখছি প্রতিনিয়ত। আমার মধ্যে যেমন অনেক খারাপের বসবাস, ঠিক তেমনি অনেক ভালোরও। এই ভালো খারাপের মেলবন্ধনে আমার স্বত্বা। তবুও আমার এই চেতনার বিকাশ কিংবা বিশ্লেষণী দৃষ্টিকে যখন আমি খুব গভীরভাবে পর্যালোচনা করি, আমি তার মধ্যে একটা সূক্ষ পক্ষপাতিত্বের সাক্ষাৎ পাই।

সেই দৃষ্টি আমার নিজের খারাপ স্বত্বাকে আড়াল করে রাখতে চায়, সে আমাকে সবসময় আমার ভালো স্বত্বার সাথে পরিচয় করায়। তাই দিনশেষে আমি যে অনেক দিক দিয়েই খারাপ একজন মানুষ, তা আমি উপলব্ধি করতে পারিনা। সেই একই দৃষ্টি আবার আমার যা কিছু অপছন্দ তার বা তাদের খারাপ দিকগুলোর সাথেই পরিচয় করিয়ে তাদের সম্পর্কে আমার ধারনা তৈরী করতে শেখায়। এই পক্ষপাতিত্ব কিন্তু আমাদের সকলের মধ্যেই আছে। তাইতো একজন ধর্ষককে আমরা কেউ বিচার করি তার রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে, কেউ হয়তো বিচার করি তার পারিবারিক কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে। এই সামজিক অবক্ষয়ের কারণ দর্শাতে গিয়ে আমরা একেকজন একেকরকম যুক্তি দাড় করাই।

সেখানেও থাকে পক্ষপাতিত্ব, কেউ ভাবে নারীর ক্ষমতায়ন, প্রগতিশীলতা কিংবা তার ব্যবহৃত পোশাকই সকল সমস্যার কারণ, আবার কারো কাছে ধর্মীয় রীতিনীতি নারীর প্রতি এই অসম্মান দেখানো বা তাদেরকে সবসময় দমিয়ে রাখার জন্য দায়ী। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে ভালো দেখানোর একটা তথাকথিত শান্তি খুঁজি। কিন্তু বাস্তবতা হলো আজকের এইযে সামাজিক অবক্ষয় কিংবা মানুষের বিকৃত মানসিকতা আমরা দেখতে পাচ্ছি তার পেছনে আমাদের সকলেরই দায় কখনও না কখনও ছিলো কিংবা আছে। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে নয়, বরং তার লিঙ্গ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয় কিংবা এই গোলকে তার অবস্থান কোন অঞ্চলে তা দিয়ে বিচার করি। আমরা সকলেই কোন না কোনভাবে আজকের এই অবস্থার জন্য দায়ী। আমার নিউজ ফিডে আমার আত্বীয় স্বজন, বান্ধবী কিংবা পরিচিত যতো নারী আছেন, আপনাদের কাছে সমাজের এই নৈতিকতার অবক্ষয়ের জন্য আমি যতখানি দায়ী তার জন্য আমি ক্ষমাপার্থী। এই পরিস্থিতিতে এর চাইতে বেশী কিছু বলার ভাষা কিংবা সাহস আমার নেই। ভালো থাকুন সবাই।

শুধু কি পুরুষরাই ধর্ষণ করতে পারে?

ধর্ষণ এর আক্ষরিক অর্থ কি?

কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা মানেই ধর্ষণ। শুধু কি পুরুষরাই ধর্ষণ করতে পারে?
ধর্ষণ যে শুধু পুরুষরাই করতে পারে আর মেয়েরা পারবে না, তা নয়। কয়েকটা মেয়ে যদি চায় তাহলে জোর করে ধরে একটা ছেলেকে ধর্ষণ করতে পারে। আসলে মেয়েরা সেটা করে না। আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে কখনো কোথাও কি এরকম ঘটনা ঘটেছে যে একটা ছেলেকে বা একটা পুরুষকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়েছে? অন্তত আমার তা জানা নেই।

আমি আমার এই লেখাটি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছি যে মেয়েরাও ইচ্ছে করলে রেপ করতে পারে কিন্তু মেয়েরা সেটা করে না। এটা আমি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে লিখেছি। এই লেখাটি আমি নোংরা মানসিকতার পুরুষদের আত্মপক্ষ সমর্থনের অজুহাত বের করে দেওয়া বা সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য লিখিনি বরং আমি বোঝাতে চেয়েছি যে মেয়েরাও ইচ্ছে করলে সবই পারে, মেয়েদের সেই ক্ষমতা নেই তা নয় কিন্তু আমাদের দেশের মেয়েরাতো রেপের মতো জঘন্য কাজটি করে না।

মেয়েরাও যদি রেপ করা শুরু করতো তাহলে কি রেপ কমে যেতো না বেড়ে যেতো?
হয়তো রেষারেষিটা আরো বেড়ে যেতো তার মানে ধর্ষণ আরো বেড়ে যেতো। তাহলে মেয়েরা কি করবে, কিভাবে প্রোটেস্ট করা যায় সেটাই এখন ভেবে খুঁজে বের করে দেখা দরকার।

প্রতিশোধ নয়, প্রতিরোধ করার যেকোনো একটা পন্থাতো খুঁজে বের করতেই হবে ধর্ষণকে ঠেকাতে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস মেয়েরা যেভাবে পৃথিবীর আর সমস্ত বাধা অতিক্রম করে এতোদূর এসেছে সেভাবেই একদিন ধর্ষণের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধের আগুন ছড়িয়ে দিবে দিকে দিকে।

বিডি প্রতিদিন

এ বছর হচ্ছে না এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার হচ্ছে না উচ্চ মাধ্যমিক তথা এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। তবে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফল মূল্যায়ন করেই এইচএসসির ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এ কথা জানান।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহাবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক প্রমুখ।

প্রতিদিন প্রোটিনসমৃদ্ধ যে ১০ খাবার খাওয়া উচিত

 

ন্যতম প্রয়োজনীয় একটি উপাদান প্রোটিন। প্রোটিনে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা পেশি গঠন ও মানবদেহের বিভিন্ন কার্যক্রম ঠিক রাখতে সাহায্য করে। প্রোটিন হাড় মজবুত করে, কোষ পুনরুৎপাদন, হজম শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমাদের শরীরের জন্য প্রতিদিন যে পরিমাণ প্রোটিনের দরকার হয় ১০ ধরনের খাবার খেলেই সেই চাহিদা মিটে যাবে। ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে এমন ১০ খাবারের কথা, যা প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রাখতে পারি।

ডিম : ডিম আমাদের খুবই পরিচিত ও তুলনামূলকভাবে সস্তা একটি খাবার। দামে সস্তা হলেও ডিমে উচ্চমাত্রার প্রোটিন রয়েছে। ডিমে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ উপাদান, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সব ধরনের ডিমেই প্রোটিন বিদ্যমান, তবে সাদা ডিমে বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়।

টক দই : টক দই খেতে সুস্বাদু, প্রোটিনেও ভরপুর। টক দই সহজে  তৈরি করা যায় বা বাজারেও এটি সহজলভ্য। প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে টক দইয়ে স্বাদ বাড়ানোর জন্য এক চিমটি লবণ,আখরোট ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

দুধ : দুধে খনিজ ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে এক গ্লাস দুধ আপনাকে দীর্ঘ সময় ক্ষুধামুক্ত রাখবে।

পনির : প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে রাতে পনির খেতে পারেন। হজম প্রক্রিয়ায় সময় নেয় বলে পনির খেলে দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগে না। স্যান্ডউইচ, রোল ও সালাদেও পনির মিশিয়ে খেতে পারেন।

মুরগি : মুরগির বুকের অংশ উচ্চমাত্রায় প্রোটিন সমৃদ্ধ। তবে প্যাকেটজাত মাংস পরিহার করাই ভালো। মুরগি কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে এবং কোলেস্টেরলের এলডিএল’র মাত্রা কমায়।

মসুর ডাল : মসুর ডাল প্রোটিনের ভালো একটি উৎস। এতে খনিজ উপাদান আঁশ, ফলেট, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, পটাশিয়াম ও ভিটামিন ‘বি’ রয়েছে। মসুর ডালে থাকা প্রোটিন হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে, হজমে সাহায্য করে ও রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ওটস : কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ ওটস প্রোটিনের ভালো উৎস। সকালের নাশতা হিসেবে ওটস খেতে পারেন।

আলু : আলুতে প্রোটিন ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে সাধারণত উচ্চমাত্রার ক্যালরির উৎস হিসেবে আলু খাওয়া হয়ে থাকে।

বাদাম ও বীজ জাতীয় খাদ্য : একমুঠো বাদাম যেমন; আখরোট, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম প্রতিদিন বিকেলের নাশতা হিসেবে উপযুক্ত। এসব খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি ও ওজন কমানোর দাওয়াই হিসেবে কার্যকরী। প্রোটিন ছাড়াও রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্যালরি।

তানভীর মোকাম্মেলকে সম্মানিত করল পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকা

চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখার জন্যে তানভীর মোকাম্মেলকে ‘আন্তর্জাতিক জীবনকৃতি সম্মাননা’ প্রদান করছেন পশ্চিবঙ্গের ‘অশোকনগর’ পত্রিকা। পত্রিকাটি ২০১৭ সালে ‘সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ৮৩’ সংখ্যাটি প্রকাশ করেছিল যা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা বিভাগের ভারতীয় শাখা অনুবাদের জন্যে নির্বাচিত করেছে।

জীবনকৃতি সম্মাননা উপলক্ষ্যে তানভীর মোকাম্মেলকে আগামী ফেব্রুয়ারী মাসের শেষে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানটিতে ওর চলচ্চিত্র বিষয়ে একটি বক্তৃতা প্রদান করতে হবে। তানভীর মোকাম্মেল জীবনকৃতি সম্মাননাটি গ্রহণ ও অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। সূত্র: আমাদের সময়

গৃহবধূকে মুখে কুলুপ আঁটতে বলেছিলেন ইউপি মেম্বার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে সম্প্রতি স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করার জন্য চালানো বর্বরোচিত নির্যাতন এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কাণ্ডে গ্রেপ্তার দেলোয়ার হোসেন ৩৬ বছর বয়সী ওই নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এর আগেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছিল। প্রায় সময়ই শারীরিক সর্ম্পকে সম্মত না হলে ওই নারীকে সে হুমকি দিত, বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে গণধর্ষণ করা হবে বলে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্যাতিত ওই নারী।

ওই গৃহবধূ জানিয়েছেন, বিবস্ত্র করে নির্যাতন করার পর তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের কাছে বিচার চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু মেম্বার সোহাগ কোনো বিচার করেননি। উল্টো ভূক্তভোগী নারীকে বলেছিলেন, মুখে কুলুপ এঁটে রাখতে। মেম্বারের এ আচরণে ওই নারী বিচার পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। গতকাল পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির কাছে এ তথ্য তুলে ধরেছেন বিচারবঞ্চিত ওই নারী।

নির্যাতিত ও অসহায় ওই নারী মেম্বারের কথায় মুখে কুলুপ এঁটে রাখলেও সম্প্রতি তার ওপর চালানো নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে চলছে প্রশাসনের তৎপরতা। তার করা দুটি মামলায় গতকাল মেম্বার সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে একলাশপুর থেকে এবং মামলার ৫ নম্বর আসামি সাজুকে ঢাকার শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ দুজনসহ মামলায় মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ জনকে। এছাড়া নির্যাতনকা-ের অন্যতম হোতা দেলোয়ারকে অস্ত্র মামলায় গতকাল দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিন সন্ধ্যায় নির্যাতিত গৃহবধূ তাকে এক বছর আগে ধর্ষণ করার কা-ে দেলোয়ার ও তার সহযোগী আবু কালামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর আগে একই থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি আইনে মামলা করেন ওই নারী। যেখানে তাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ এনেছেন।

গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ-তদন্ত) আল আহমুদ ফয়জুল কবির বেগমগঞ্জে গিয়ে ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

আল আহমুদ ফয়জুল কবির সাংবাদিকদের জানান, গতকাল সকালে বেগমগঞ্জ থানায় তিনিসহ তাদের তদন্ত কমিটির সদস্যরা ওই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলেন। গৃহবধূ তাদের কাছে অভিযোগ করেন, এক বছর আগে দেলোয়ার তার ঘরে ঢুকে প্রথমে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। তিনি চিৎকার করতে চাইলে দেলোয়ার তাকে বাহিনীর লোক দিয়ে ধর্ষনের পর খুন করার হুমকি দেয়। তখন প্রাণ বাঁচাতে তিনি মুখ বুজে শারীরিক সম্পর্কে বাধা দেননি। এর কিছুদিন পর দেলোয়ার ও তার সহযোগী কালাম ওই নারীকে তার বাড়ী থেকে বের করে একটি নৌকা যোগে পাশের একটি বিলে নিয়ে যায়। সেখানে দেলোয়ার ও কালাম তাকে গণধর্ষণের চেষ্টা করলে হাতে পায়ে ধরে কালামের হাত থেকে রক্ষা পেলেও দেলোয়ার তাকে নৌকার মধ্যে ধর্ষণ করে।

আল আহমুদ ফয়জুল কবির আরও জানান, এ ঘটনায় নির্যাতিতা বাদী হয়ে আদালতে ধর্ষণ মামলা করবেন। মামলাটি পরিচালনা করবেন এড. জাফর উদ্দিন বাবুল। আদালতে ২২ ধারায় পুনরায় ভিকটিমের জবানবন্দী রেকর্ড করা হবে। তদন্ত শেষে চুড়ান্ত রিপোর্ট মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে দাখিল করা হবে বলে তিনি জানান।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের উপ-পরিচালক গাজী সালাউদ্দিন, নোয়াখালী জেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুন নাহার প্রমুখ।

অন্যদিকে গতকাল বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো.হারুন উর রশীদ জানান, সাজু (২১) একলাশপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নোয়াব আলী বেপারী বাড়ির লোকমানের ছেলে। অন্যদিকে ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ (৪৮) একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও একই এলাকার মৃত হাজী গোলাম মোস্তফা’রছেলে।

ওসি জানান, আদালতে ভিকটিমের জবানবন্দি অনুসারে ইউপি সদস্যকে ২২ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়।

গত সোমবার দিনগত রাতে রাতে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে নির্যাতিতা গৃহবধূ (৩৫) বাদী হয়ে ৯ জনকে জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র‌্যাব তিন দফায় অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।

নোয়াখালী জজ আদালতের পিপি এড. গোলজার আহমেদ জুয়েল বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি বাদলের ১০দিনের রিমান্ডের আবেদন করে গতকাল বিকারে ৩নং আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাসফিকুল হকের আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে শুনানি শেষে প্রধান আসামি বাদলকে দু’টি মামলায় পৃথকভাবে ৭দিন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অস্ত্র মামলায় দেলোয়ার ২ দিন রিমান্ডে

গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনার অন্যতম সহযোগী দেলোয়ারকে সোমবার অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। এঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় গতকাল মঙ্গলবার দেলোয়ারকে ৩দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে আদালত তার ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে তাকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফাহমিদা খতুনের আদালতে তোলা হয়।

ঘটনাস্থলে ডিআইজি

গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে প্রায় ঘন্টা ব্যাপী নির্যাতিতা ওই নারী, তার বাবা ও স্বামীর সাথে বেগমগঞ্জ থানায় কথা বলেন ডিআইজি।

পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডিআইজি বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় পৃথক দু’টি মামলা করেছেন। ভিকটিমের ভাষ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত যুবকরা তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতো। তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেমকে বিষয়টি জানালেও সে কোন ব্যবস্থা নেননি বা পুলিশকেও জানাননি। ইতোমধ্যে মামলায় এজাহারভূক্ত ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও ভিকটিমের দেওয়া আদালতে ২২ধারা জবানবন্দিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগের নাম আসায় গতরাতে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলায় কেন দেলোয়ারের নাম আসেনি এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, মামলায় ভিকটিম নয় জনের নাম উল্লেখ করেছেন। এর বাহিরে দেলোয়ার ও ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত ছাড়াও ঘটনার তদন্তে যাদের নাম উঠে আসবে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। অভিযুক্ত অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পরে তিনি ভিকটিমের বাড়ী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন, বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান শেখ প্রমুখ।

এমপি কিরণের সংবাদ সম্মেলন

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ভিডিও প্রচারের কান্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। গতকাল উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণ। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের কেউ গৃহবধৃকে নির্যাতনের সাথে জড়িত থাকলে আমরা তদন্ত করে দলীয়ভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যারা এ ধরণের অপকর্ম করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এবং যারা অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয় তাদের বিরুদ্ধেও দল ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, দেলোয়ার আমার নামে যে পোস্টার ছাপিয়েছে, সেটি অনলাইনে তৈরি করা হয়েছে। আমি কখনো সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিই না।

নারী সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে

বিয়ের প্রলোভনে নারী সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবু নাসের রায়হান নামে এক পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য জানান, তিনি প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর কনস্টেবল পদে নীলফামারী পুলিশ লাইনে যোগদান করেন। এরপর ওই সময় সেখানে কর্মরত পরিদর্শক আবু নাসের রায়হান (বর্তমানে বরিশাল ডিআইজি অফিসে কর্মরত) প্রায়ই তাকে উত্যক্ত করতেন এবং বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিতেন। ওই নারী তার অধস্তন কর্মচারী হওয়ায় মুখ বুঝে তা সহ্য করে যাচ্ছিলেন। এদিকে আবু নাসের রায়হানের স্ত্রী নীলফামারী জর্জ কোর্টের পেশকার হওয়ায় তিনি কর্মস্থলে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে ওই নারী পুলিশ সদস্যকে বাড়িতে ডেকে নিতেন অভিযুক্ত পরিদর্শক। সেখানে অশ্লীল পর্ন ছবি দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দিতেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য জানান, এরই এক পর্যায়ে ২০১৬ সাল থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারী কনস্টেবলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন আবু নাসের। এ ছাড়া তাদের এ সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারী ‍পুলিশ সদস্যের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন তিনি। স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নাসের তাকে বিয়ে না করায় চাপ দেন ভুক্তভোগী। পরে চাপে পড়ে এক হুজুরকে ডেকে এনে কালিমা পড়ে বিয়ে করেন তারা। এরপর ভক্তভোগী কাজীর মাধ্যমে বিয়ে রেজিস্ট্রি করার কথা বললে আবু নাসের বলেন, ‘আমরা তো আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে বিয়ে করেছি, রেজিস্ট্রির প্রয়োজন নেই।’

ভুক্তভোগী নারী পুলিশ সদস্য জানান, বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজন বিয়ে রেজিস্ট্রির জন্য চাপ দিলে নাসের কালক্ষেপণ করতে থাকেন এবং উল্টো তাদের শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে কৌশল করে ভুক্তভোগীকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পুলিশ লাইনে বদলি করান এবং নিজে বরিশাল ডিআইজি অফিসে বদলি হয়ে যান। এখন নাসের তাদের এ সম্পর্ক পুরোপুরি অস্বীকার করছেন। এতে ভুক্তভোগী চরম বিপাকে পড়ে উপায়ন্তর না পেয়ে প্রথমে বরিশাল ডিআইজি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন এবং নিজ জেলা ঠাকুরগাঁয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল ডিআইজি তদন্তের নির্দেশ দিলে মঙ্গলবার সৈয়দপুর সার্কেল কার্যালয়ে ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল। তিনি বলেছেন বলেন, ‘এ সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে।’ এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শক আবু নাসের রায়হান বলেন, ‘এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি, বিষয়টি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’সূত্র: আমাদের সময়

উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে জেলায় জেলায়

সারাদেশে একের পর এক ধর্ষণ-নিপীড়নের জন্য দায়ীদের বিচার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর রাজপথে ছিল বিক্ষোভ প্রতিবাদের উত্তাপ। দিনের শুরুতেই বিভিন্ন সংস্থা, সংগঠনের ব্যানারে রাস্তায় নেমে আসেন প্রতিবাদকারীরা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখী ছাত্র ইউনিয়নের কালো পতাকা মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে প্রতিবাদকারীদের। এতে পুলিশের লাঠিপেটায় ছাত্র ইউনিয়নের অন্তত ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের প্রতিবাদে গতকাল রাজধানীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুব মহিলা লীগও। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরার সড়কে গতকালও ছিলেন হাজারও প্রতিবাদী শিক্ষার্থী। প্রতিবাদ হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের সামনে। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতি, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাম, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন ও সোনাইমুড়ী জনকল্যাণ সমিতি প্রভৃতি সংগঠন। মোহাম্মদপুর এলাকার আড়ংয়ের সামনে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন।

অন্যদিকে নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে গতকালও বিভিন্ন দল, সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাসদ নোয়াখালী, জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন, জেলা যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক, স্টুডেন্টস অব নোয়াখালী এবং মানবিক ব্লাড ফাউন্ডেশন; চাটখিলে মলং মুড়ি, জয়াগ মৈত্রী যুব সংঘ, স্বেচ্ছাসেবী প্যানেল অব চাটখিল, বুলু ফোরাম সিবিএফ, এন সোশ্যাল ব্লাড ডোনেট ক্লাব, একতা ব্লাড ডোনেট সংগঠন, চাটখিল পাঁচগাও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, চাটখিল উপজেলার স্কুল, কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ একাধিক সংগঠন গতকাল কর্মসূচি পালন করেছে।

সিলেট এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে নববধূকে গণধর্ষণকা-ে যখন বিবেকবান মানুষমাত্রই মর্মাহত, তখন সেই ক্ষত না শুকাতেই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করার জন্য চালানো বর্বরোচিত নির্যাতন এবং তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অসভ্য কা-ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। তাদের স্লোগানে-গর্জনে ছিল প্রতিবাদের হুঙ্কার; ছিল এসব কা-ের জন্য দায়ীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র আন্দোলনের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণেও গতকাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিগ্রহের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে এসবের জন্য দায়ী যারা, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়। এদিন ক্ষোভের উত্তাপ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয়ে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘ধর্ষকের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘যে রাষ্ট্র ধর্ষণ পোষে, সেই রাষ্ট্র চাই না’, ‘আমার বোনকে ধর্ষণ কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘নিপীড়ক যেখানে, লড়াই হবে সেখানে’- ইত্যাদি স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে চারপাশ। প্রগতিশীল অনেক সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও লেখক, কবি, শিল্পী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নারী অধিকারকর্মীরাও এ বিক্ষোভে যোগ দেন।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় থেকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ঘুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করলে ছাত্র ইউনিয়নের বেশ কয়েক নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষা সম্পাদক আসমানিয়া আশা, ঢাকা মহানগরের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা দীপা, সাজ্জাদ হোসেন শুভ, আরেফিন ইমন ও রাসেল রহমান- এই ৫ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মিছিলকারীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করার প্রতিবাদে স্লোগানে স্লোগানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা ধর্ষক ও নিপীড়কদের শাস্তির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালেরও পদত্যাগ দাবি করেন। বেলা ২টার দিকে মিছিলটি ফের শাহবাগ হয়ে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে সন্ধ্যায় শাহবাগে মশাল মিছিল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেন ছাত্রনেতারা।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ১০ জনেরও বেশি নেতাকর্মী পুলিশের পিটুনিতে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে সবচেয়ে ন্য ক্কারজনক হলো, আমাদের মিছিলে নারীরা ছিলেন সামনে আর পুলিশের নারীরা ছিলেন পুলিশবাহিনীর পেছনের দিকে। পুরুষ পুলিশরা আমাদের নারীদের ওপর হামলা করেছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ ঠেকাতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শাহবাগ শাকুরা পয়েন্টে ব্যারিকেড দিয়ে রাখা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেডের তালা ভেঙে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এতে সংঘর্ষ বাধে। আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার পর পুলিশ আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছে মাত্র।

সারাদেশে ধর্ষণ-নিপীড়নের প্রতিবাদে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর উত্তরায় সড়কে মানববন্ধন-বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হতে থাকেন ছাত্রছাত্রীরা। পরে তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানারসহ ধর্ষণবিরোধী নানা লেখা নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ধর্ষকের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘ধর্ষণমুক্ত দেশ চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘নারী কোনো পণ্য নয়, নারী কোনো ভোগ্য নয়’ প্রভৃতি। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘মানুষ তুমি চুপ কেন?’, ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই’ প্রভৃতি। সেখান থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে অংশ নেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা হাইস্কুল, নবাব হাবিবুল্লাহ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ কর্মসূচিতে যোগ দেন।

লালবাগ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. শাহাদাত হোসেন চোখে কালো কাপড় ও মুখে কালো মাস্ক পরে গতকাল গণঅবস্থানে আসেন। তার মাস্কের ওপরে লেখা- ‘পুরুষতন্ত্র নিপাত যাক’। শাহাদাত বলেন, এ রাষ্ট্রে আমরা নাগরিকরা এখন অন্ধের মতো হয়ে গেছি। ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, তবু বিচার হচ্ছে না। আইনের আওতায় আনা হয় খুবই কম। জামিন পেয়ে ধর্ষকরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। ন্যায্যবিচার হলে বারবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটত না। এ কারণেই চোখ থাকতে আমরা অন্ধ।

দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে আইনপ্রণেতাদের জবাবদিহি করার দাবি জানিয়েছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। ধর্ষণ বন্ধে দেশব্যাপী প্রতিরোধের আহ্বান জানায় ওই কমিটি।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফৌওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘বেগমগঞ্জের ঘটনায় নারীরা কেন লজ্জিত হবে? লজ্জিত হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সেখান থেকে নির্বাচিত সাংসদ, প্রশাসন, নোয়াখালী থেকে নির্বাচিত ওবায়দুল কাদের এবং সংসদের স্পিকার। তারা কী জবাব দেবেন?’

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, যতদিন মনে করবেন যে ধর্ষণের হার অন্য দেশের চেয়ে আমাদের দেশে কম, ততদিন ধর্ষণ কমবে না, বিচার হবে না। আইন ও সালিস কেন্দ্রের প্রতিনিধি ফাহমিদা জামান বলেন, সুষ্ঠু বিচার থাকলে এসব দেখতে হতো না। নারী, মেয়ে ও ছেলে শিশু নিরাপদ না।

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রও প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন করেছে। সংগঠনের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, দেশে ধর্ষণের মহামারী শুরু হয়েছে। ধর্ষণ আইনে পরিবর্তন এনে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যুব মহিলা লীগের

নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের প্রতিবাদে গতকাল যুব মহিলা লীগ দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাদুঘরসংলগ্ন মিরপুর রোডে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধনে অবিলম্বে নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ বন্ধ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এ সংগঠনের নেতারা। যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম ও খোদেজা নাসরিন, সহসভাপতি কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা নারী নির্যাতনকারীদের বর্বর ও মানুষরূপী পশু আখ্যা দেন। তারা নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এসব অপরাধরোধে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সূত্র: আমাদের সময়

ঢাকায় দেশের প্রথম ডিজিটাল রোড ক্রসিং

রাজধানী ঢাকার মিরপুরে ডিজিটাল রোড ক্রসিং বসানো হয়েছে, যা বাংলাদেশে এই প্রথম। সোমবার (৫ অক্টোবর) এর কার্যক্রম চালু হয়।

ব্যস্ত রাজধানীর ব্যস্ততম পয়েন্টগুলোতে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। প্রাণহানির পাশাপাশি এসব দুর্ঘটনা রোধে পথচারীদের জন্য বসানো হয়েছে এই ডিজিটাল রোড ক্রস।
মিরপুর-২-এ ঢাকা কমার্স কলেজের সামনের রাস্তায় বসানো হয়েছে নতুন এই প্রযুক্তি। এই ডিজিটাল রোড ক্রসিংয়ের সহায়তায় সহজেই পারাপার হতে পারবেন পথচারীরা। এর সুইচ টিপলে রাস্তার মাঝে জ্বলে উঠবে লাল ট্রাফিক লাইট। সিগন্যাল দেখে থামবে গাড়ি।

ডিজিটাল রোডক্রসের বিশেষত্ব হলো, কোনো পথচারী রাস্তা পার হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সুইচে চাপ দিলে নিচ থেকে ট্রাফিক পিলার উঠে দাঁড়াবে। এই পিলারই রাস্তা রোধ করে দাঁড়াবে, ফলে থেমে যাবে গাড়ি। রাস্তা পার হওয়ার পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই পিলার আবার রাস্তার নিচে নেমে যাবে।

এর আগে উল্টোপথে যানবাহন চলাচল ঠেকাতে ঢাকার প্রতিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই যন্ত্রটি অচল হয়ে পড়লে সরিয়ে নেয় ট্রাফিক পুলিশ।

বিডি প্রতিদিন

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ৪

 

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর সংঘর্ষে আবারও ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা রোহিঙ্গা শীর্ষ সন্ত্রাসী মুন্না গ্রুপের সদস্য।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে চলা সংঘর্ষে এই ৪ জন নিহত হয়।
এর আগে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শনিবার রাতভর এই দুই সন্ত্রাসী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইয়াবা পাচার, চাঁদাবাজী, অপহরণ নিয়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মুন্না বাহিনীর সঙ্গে আরেক সন্ত্রাসী বাহিনীর দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলে আসছিল। এরই জেরে আজ সন্ধ্যা ৭টায় উভয় গ্রুপ আবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দীর্ঘ ১ ঘণ্টা উভয় গ্রুপের মাঝে থেমে থেমে গোলাগুলি হয়। ভারি অস্ত্রের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়েও উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সময় ৪ জন নিহত। নিহতদের মধ্যে সন্ত্রাসী মুন্নার ভাই গিয়াসও রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএন সূত্রে ৪ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন