আমি তোমার সংগে বেঁধেছি আমার প্রাণ

বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের কিংবদন্তি স্থপতি মোস্তফা খালিদ পলাশ এবং স্থপতি শাহজীয়া ইসলাম অন্তন এর বিবাহ বার্ষিকীতে তাসিনকো লিমিটেডের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

আমি তোমার সংগে বেঁধেছি আমার প্রাণ…..
ছবিটি যখন শেষ হলো তখন দেখি মনের অজান্তেই আঁকা হয়ে গেছে সেই বালিকা, যে কৈশর টপকে যুবাকালের দ্বারে আমার সাথে বেঁধেছে তার প্রাণ, সত্যি অর্থেই ললিত বসন্তে। মনের মাঝে এমন ছায়া কজন হতে পারে। সুখের দুঃখের কতোই না দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী পাড় করেছি অবলিলায় শুধুই সে ছিলো পাশে বলে। ১৯৮৩ যে যুগল যাত্রার শুরু ১৯৮৯ তে তা যুগলবন্দী হবার পর ৩১ বার সূর্যকে পরিক্রমন করেছে এই পৃথিবী; কতো তাপ, কতো ঝঞ্ঝা, কতো দুঃসময় ফিরে ফিরে আঘাত করেছে এ ক্ষুদ্র জীবনকে, কিন্তু সেই বালিকাই পরিণত নারী হয়ে আজও বর্মের প্রলেপে আগলে রেখেছে আমায় নিঃস্বার্থ বিসর্জনে। এপারে যে সংসার তা আমার কর্ম নয়, সম্পূর্ণ তোমারই দায় তোমারই কারিস্মা, তাই কালের যাত্রায় ওপাড়ে গিয়ে কিন্তু আমি আগে বসত গড়বো, তুমি এসো পরে। শুভ বন্ধন-দিন চির বন্ধু, চির নির্ভর চির শান্তি হে আমার, চির সখা হে আমার।

তাঁর লেখাটির মধ্যে দিয়ে  চির সবুজ চির তারুণ্যজ্জল মনের মাধুর্যতার প্রলেপ দিয়ে যায় যুগল প্রাণে এবং অনন্ত প্রেমের ভিত্তি স্থাপন করে মহাকালের বক্ষে। তাদেরকে বিশেষ মুহুর্তকে স্বরনীয় করে রাখতে তাসিনকো নিউজের সম্পাদক জনাব মনির হোসেন আনান্দ এর কবিতা:

ঘড়ির কাঁটার টিক টিক আবর্তনে
জীবন পঞ্জিকার ধারাবাহিকতার গতি যাচ্ছে পাল্টে,
দেখতে দেখতে আজ এতটি বছর-
ক্রমেই ধাবিত হচ্ছি মহাকালের অনন্ত পথে।
সে অসীমতায় কৃষ্ণগহ্বরে যদি কোন সাধ থাকে
তবে তোমাকেই নিব প্রিয়া, সে পথের সাথী করে।
যাবে কি সাথে এই অর্থবকে ভালবেসে?
মাঝে মাঝে তোমার শুভ্র কোমন আঁচল তলে
অবয়ব লুকিযে হাত ডুবানো কেশে অনুভব করি,
হয় তো আরও সহস্র যোজন কেটেছে এমনই করে,
নয় তো এত প্রেম এত ভালবাসা এত তৃষ্ণ আকাঙ্খা
এলো বলো কোথা থেকে?
কখনো কখনো আমার ভাবনা বিভোর
জলাছন্ন তরঙ্গ হীন চোখে চেয়ে বলতে-
কি দেখছো অমন করে তাকিয়ে?
আমি যে তোমাকেই খুঁজে ফিরি দিবা নিশি
রবি ঠাকুরের-
সেই দুটি চয়নের সিন্ধুসম অতল বারি সাঁতরে-
তুমি কোন কাননের ফুল কোন গগনের তারা থেকে
ঝরে পড়েছো আমার হৃদয় মন্দিরে?

কথাবার্তায় পারদর্শী হওয়ার কৌশল

মানুষের কথোপকথন বা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার গোপন রহস্য আসলে কী – তা কখনোই মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়নি।

কথোপকথনকে আরও ধারালো ও উন্নত করতে পারলে সবদিকেই সফল হওয়া যায়।

ব্রিটিশ লেখক মাইকেল রোজেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের মান উন্নয়ন থেকে শুরু করে কীভাবে কথোপকথনকে আরও ভাল করে তোলা যায় সেটা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন।

নিজ বাড়ি থেকে শুরু করে অফিসের বোর্ডরুম কিংবা বৈশ্বিক পরিসরে যেকোনো ধরণের সমস্যার সমস্যার সমাধান বা দ্বন্দ্বের অবসানে একটি কার্যকর কথোপকথনের কোন বিকল্প নেই।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য টকিং রেভোলিউশন’ বইটির লেখক এডি কানফোর-দুমা এবং পিটার অসবর্নের সাথে রোজেন মিলে – কথোপকথন কীভাবে ভাল করে তুলতে হয় তার সাতটি উপায় বের করেছেন।

১. আগে নিজে বোঝার চেষ্টা করুন:
আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিনিয়ত ‘ট্রান্সমিট মোড’ বা কথা বলার মোডে থাকে। এবং তাদের পক্ষে সেই মোড পরিবর্তন করে ‘রিসিভিং মোড’ অর্থাৎ অন্যের কথা শোনার মোডে যাওয়াটা অনেক কঠিন মনে হয়।এই পরিবর্তন করতে না পারাই ব্যক্তিগত এবং পেশাদার সম্পর্কগুলোয় সমস্যা তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ। বইটিতে, বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাতটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়।আর এ ব্যাপারে স্টিফেন কোভি বলেছেন, অন্য কেউ আপনাকে বুঝবে এটা আশা করার আগে আপনি অন্যকে বোঝার চেষ্টার করুন। আর এ জন্য অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এবং নিজের মতামত দেয়ার আগে বা চ্যালেঞ্জ করার আগে তারা কী বলছে সেটা পুরোপুরি বোঝার চেষ্টা করা বেশ জরুরি।

২. আপনি যে বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রকাশ করুন:
যদি আপনি অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারেন, তাহলে সেটা প্রকাশ করুন। আপনি কি শুনেছেন বা বুঝেছেন সেটা তাকে বলুন। কিছু যুক্তিসঙ্গত প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন, যেমন “ঠিক বলেছেন” বা “আমি আপনার জায়গায় হলে এতো ভাল থাকতে পারতেন না।” -এই কথাগুলো এটাই ব্যাখ্যা করে যে আপনি এই কথোপকথনের তরঙ্গে ভাসছেন।যখন অপর ব্যক্তি বুঝতে পারে যে আপনি তাকে বুঝতে পারছেন, তখনই আপনি তাকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন, অথবা তার কোন বক্তব্য বা ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।তবে সেটা অবশ্যই তখন করবেন, যখন আপনি তার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। আপনি যে ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা বেশ জরুরি – সেটা তার কথা শোনার মাধ্যমে, তার প্রয়োজনকে শ্রদ্ধা করার মাধ্যমে বা সেটাকে বোঝার মাধ্যমে হতে পারে। এভাবে আপনি একটি সংযোগ তৈরি করেন যার মাধ্যমে প্রকৃত যোগাযোগ প্রবাহিত হতে পারে।

৩. সৃজনশীল সমাধানে পৌঁছাতে সহযোগিতা করা:

এডি এবং পিটার ‘সৃজনশীল কথোপকথন’ নামে একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন যেটা কিনা একজনের ব্যাপারে আরেকজনের মধ্যে নতুন চিন্তাভাবনা এবং বোঝাপড়া তৈরি করতে সাহায্য করে। এজন্য অন্য মানুষের কথার সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেয়া এবং আপনি তাকে কতোটুকু বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।এটি মানুষের মধ্যে কখনও কখনও নতুন অন্তর্দৃষ্টি জাগিয়ে তোলে যেটা কিনা আলাদাভাবে হয় না।এছাড়াও, আপনি যদি আপনার বোঝাপড়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন, তাহলে সেটি অপর ব্যক্তিকে আরও খোলামেলা হতে, ভাগ করে নিতে, আরও বেশি নিরাপদ ও স্বাধীন বোধ করতে সাহায্য করে। যা তাদের নিজেদের চিন্তাধারাগুলোকে অন্বেষণ করতে সহায়তা করে। এছাড়া আপনার মধ্যেও এমন নতুন কিছু তৈরি করা সম্ভব যা আগে বিদ্যমান ছিল না এবং যেটা আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতেও সাহায্য করবে।

৪. অভ্যাসে বিরতি নিন:

আমরা আমাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ থেকেই নিজেদের কথোপকথনের অভ্যাস পেয়েছি। অনেক সময় আমরা নিজেদের সেই কথোপকথনের ব্যাপারে সচেতন থাকিনা। অনেক সময় আমরা অন্যের কথার মাঝখানে কথা বলতে শুরু করি বা অপ্রাসঙ্গিক অন্য কোন আলাপের দিকে চলে যাই। এতে কোন কথারই কোন মানে থাকেনা। এবং কথোপকথন তার রেশ হারায়।চেষ্টা করুন কখন এই সমস্যাটি হয়, এটার কোন প্যাটার্ন থাকলে সেটা বের করার। এই অভ্যাসকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষের কথা শোনার এবং তা বোঝার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

৫. সমালোচনার জন্য শুনবেন না:

কিছু লোক শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্যেই অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে আর তা হল অন্যের সমালোচনা করতে এবং বিরোধী পক্ষকে পাল্টা তীরের ছুঁড়ে ঘায়েল করতে। রাজনীতির জগতে আমরা প্রতিদিন এমন কিছু দেখি, যেখানে মানুষ বিভিন্ন দল গঠন করে এবং এই বিভাজন নিয়ে কথা চালিয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, আপনার কথা শোনার কারণ যেন অন্যকে ঘায়েল করা না হয় – এজন্য একটি যুক্তির দুটি দিক সম্পর্কেই ভালভাবে শুনে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

৬. অনুশীলন নিখুঁত করে তোলে:
এডি এবং পিটার দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি অনুশীলনের আয়োজন করে যেখানে ওই দুই ব্যক্তির সেটাই প্রথম দেখা।অনুশীলনের সময় দুইজনকে দুটি ভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয়। একজনকে বলা হয় নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে, এবং অপরজনকে বলা হয় সেই কথা শুনে বুঝতে।এর মাধ্যমে তাদের এমন একটি বিষয় খুঁজে বের করতে বলা হয় যার ব্যাপারে দুজনই ভিন্নমত পোষণ করে।এটি সেই ব্যক্তিদের বুঝতে সাহায্য করে যে, কারও কান ধার পাওয়াটা কতো বিরল এবং আশ্চর্যজনক একটি উপহার। এই দক্ষতাটি বন্ধুদের সাথে অনুশীলনের চেষ্টা করতে পারেন যাতে আপনি যখন সত্যি সত্যি কোন দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধের মুখে পড়বেন, তখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উৎরে যেতে পারেন।

৭. যোগাযোগের জন্য আপনি কোন মাধ্যমটি চান সেটা বেছে নিন:
মুখোমুখি যোগাযোগকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। এরপর আপনি যতোই সেখান থেকে সরে আসবেন, আপনার যোগাযোগের মাধ্যমটি ততোই সংকীর্ণ হতে থাকবে।উদাহরণস্বরূপ টেলিফোনে, আপনার শারীরিক কোন উপস্থিতি নেই – সেখানে আপনার কণ্ঠ দিয়েই সব কাজ করতে হবে। আবার যখন আপনি কাউকে ক্ষুদে-বার্তা পাঠান সেখানে কোন শব্দও থাকেনা, থাকে শুধু লিখিত কথা। এবং যদি আপনি টুইটার এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলিতে নাম পরিচয় গোপন করে কিছু পোস্ট করেন, সেখানে যোগাযোগের মাধ্যমটি আরও সংকীর্ণ থাকে। কেননা সেখানে ব্যক্তির পরিচয় ছদ্মনাম দ্বারা লুকানো থাকায় তার কথোপকথন অপমানজনক এবং অবমাননাকর হতে পারে।তাই যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাধ্যমের ক্ষমতা বুঝতে পারাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে কার্যকর কথোপকথনের জন্য যখন যেখানে সম্ভব মুখোমুখি যোগাযোগের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

 

রোহিঙ্গা শিবিরে ‘গোলাগুলির’ ঘটনায় জড়িত ৯ রোহিঙ্গা অস্ত্রসহ আটক

কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুলের পাহাড়ি এলাকা থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ৯ জন রোহিঙ্গাকে অস্ত্রসহ আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আজ মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি দেশে তৈরি অস্ত্র, ২০ রাউন্ড কার্তুজ, ধারালো কিরিচ, লোহার রড ও গুলতি উদ্ধার করা হয়েছে।

আটককৃতরা সবাই কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। তারা সম্প্রতি কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে ‘গোলাগুলি’র ঘটনায় জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

প্রসঙ্গত, কুতুপালংয়ের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত দুদিনে খুন হয়েছে তিনজন। সর্বশেষ গতকাল সোমবারও কুতুপালং ক্যাম্পে মোহাম্মদ ইয়াছিন (২৪) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক খুন হয়।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর ভোররাতে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুজন রোহিঙ্গা নিহত হয়। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর একইভাবে সংঘর্ষে ১৫ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা আহত হয়েছে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মুখে কতিপয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কুতুপালং এলাকা থেকে ছেড়ে চাকমারকুলের পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় গোলাগুলি করেছিল। দুদিন আগে র‌্যাব তাদের ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে তারা কুতুপালং ছেড়ে হোয়াইক্যংয়ের চাকমারকুল এলাকার পাহাড়ে অবস্থান নেয়। গোপন সূত্রে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ৯ জনকে আটক করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনের ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের ছোট-বড় ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে।

এদিকে, গত কয়েক দিনের গোলাগুলি ও খুনের ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে কয়েক’শ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু কুতুপালং ক্যাম্প ছেড়ে অন্য ক্যাম্পে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে বলে রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছেন। সূত্র: আমাদের সময়

শুভর বাসায় ‘রহস্যময়’ ব্রিফকেস!

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভর বাসায় কে বা কারা যেন একটি ব্রিফকেস পাঠিয়েছে। আর সেটির ছবি তিনি ফেসবুকে প্রকাশ করে লিখেছেন- ‘এরপর কী? অদ্ভূত এই ব্রিফকেসটা আমাকে পাঠানোর মানেটাই বা কি? কে পাঠালো, কারা পাঠালো, কেন পাঠালো জানতে চাই!’

শুভ’র এমন পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিষয়টি নিয়ে ভক্তরাও উদ্বিগ্ন। অনেকে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু সত্যি সত্যি কি শুভর বাসায় রহস্যময় ব্রিফকেসটি কেউ পাঠিয়েছেন, না কি অন্য কিছু!

অনেকে আবার বলছেন, এটি সিনেমার প্রচারের জন্য স্ট্যান্টবাজি। অধিকাংশ নেটিজেনই বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসে মেতেছেন। ঘটনা যাই হোক না কেন, শুভ এখনো বিষয়টি খোলাসা করেননি।

ঘটনার মূল রহস্য জানতে আরিফিন শুভর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, শুভ অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘সাপলুডু’। আর মুক্তির আপেক্ষায় আছে তার ‘মিশন এক্সট্রিম’ ছবিটি। অনেকের ধারণা, এই ছবির প্রচারণারই একটি অংশ শুভর ‘রহস্যময়’ ব্রিফকেস!

‘কপ ক্রিয়েশন’ এর ব্যানারে নির্মিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার ‘মিশন এক্সট্রিম’। এতে আরিফিন শুভর বিপরীতে আছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদের যৌথ পরিচালনায় এতে আরও অভিনয় করেছেন তাসকিন রহমান, সাদিয়া নাবিলা, সুমিত সেনগুপ্ত, শতাব্দী ওয়াদুদ, মাজনুন মিজান, ইরেশ জাকের, মনোজ প্রামাণিক, আরেফ সৈয়দ, রাশেদ মামুন অপু, এহসানুল রহমান, দীপু ইমামসহ অনেকে।

ঢাকা ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ অথবা ২৬ মার্চ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ম্যারাথন আগামী বছরের ১৭ অথবা ২৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বুড়িগঙ্গা হলে ম্যারাথন আয়োজনের কর্মযজ্ঞ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকা শহরকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরার লক্ষ্যে এই আয়োজনকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক ঢাকা ম্যারাথন, ২০২১’ (সংক্ষেপে ঢাকা ম্যারাথন, ২০২১) নামকরণের প্রস্তাবনা অনুমোদন করা হয়।

সভায় ম্যারাথন সংশ্লিষ্ট কারিগরি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের সুপারিশ ও আজ অবধি আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক অ্যাথলেটিক সংস্থাগুলোর মতামত (ফিডব্যাক) অনুযায়ী ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বরের বদলে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ কিংবা ২৬ মার্চ আয়োজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। একই সঙ্গে ম্যারাথন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি অর্গানিজিং কমিটি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সাব-কমিটিসমূহ গঠন করতে বিশদ পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় ম্যারাথনের সম্ভাব্য কয়েকটি রুট নিয়ে পর্যালোচনা করে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মনোনয়নের পর এশিয়ান অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের কারিগরি কমিটির সরেজমিন পরিদর্শনের পরেই এই রুট ম্যাপ চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

এসময় ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকাকে সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে আমরা ঢাকা ম্যারাথন, ২০২১ আয়োজন করতে যাচ্ছি। ১৭ মার্চ বা ২৬ মার্চকে উপলক্ষ করে আমরা প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করব।’

তিনি বলেন, আমরা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য অংশীজনদের সাথে সমন্বয় করে প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দীর্ঘ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রাকে এই আন্তর্জাতিক ম্যারাথন আয়োজন করতে যাচ্ছি।

প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ১ম থেকে ৬ষ্ঠ পর্যন্ত যথাক্রমে ২০, ১৫, ১২, ১০, ৮ ও ৫ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার প্রদান এবং বাকি প্রতিযোগীদের সার্টিফিকেট ও মেডেল প্রদান করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) শরীফ আহমেদ, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব শাহেদ রেজা, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আব্দুর রউফ মন্টু, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, ডিএসসিসি সচিব আকরামুজ্জামানসহ ডিএসসিসি’র বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

বিডি প্রতিদিন

রাজবাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

রাজবাড়ীর বড় বাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডে ১১টি দোকান এবং ১টি গোডাউন ভষ্মীভূত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায়  ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ীর বড় বাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অগ্নিকাণ্ডে বড় বাজার এলাকায় ১১টি দোকান ভষ্মীভূত হয়। এছাড়া ১টি গোডাউন ভষ্মীভূত হয়। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে কি কারণে আগুনের সূত্রপাত সেটি বলতে পারেনি ব্যবসায়ীরা।

পদ্মা ট্রেডার্সের মালিক মো. বসির আহম্মেদ বলেন, ভোরে বাজারে অগ্নিকাণ্ডের কথা জানতে পারি। বাসা থেকে বাজারে এসে দেখি আমার গোডাউনে আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিস চেষ্টা করে যাচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে আমার গোডাউনে পাট, তিল, সরিষা সব ভস্মীভূত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে আমার তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, রাজবাড়ীতে বাজারে অগ্নিকাণ্ডের পানি সরবরাহের বিষয়টি চিন্তা করে ২০০৮ সালে ২০ হাজার লিটার পানির ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ করি। আজ যখন বড় বাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হয় তখন রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস সেখান থেকে সম্পূর্ণ পানি ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ যদি ওয়াটার রিজার্ভারে পানি না থাকতো তবে অন্য জায়গা থেকে পানি আনতে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতো।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ইনচার্জ মো. রবিউল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সাড়ে ৫টার দিকে রাজবাড়ী বড় বাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে ১১টি দোকান এবং ১টি গোডাইন ভস্মীভূত হয়। বাজার এলাকায় ওয়াটার রিজার্ভার থাকার কারণে দ্রুত পানি সরবরাহের কারণে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যাবে।

বিডি প্রতিদিন

পাঁচ সন্তানের জননীকে ধর্ষণ শ্রমিক লীগ নেতার ধর্ষিত মাদ্রাসাছাত্রী

স্বামীকে বেঁধে ছাত্রাবাসে স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও বেড়ানোর কথা বলে বাসায় এনে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর এবার পাঁচ সন্তানের জননীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। আগের দুই ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। আর এবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত রবিবার রাতে পুলিশ অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা ও তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

পাঁচ সন্তানের জননী ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতারকৃতরা হলো সিলেট নগরীর শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের ২নং বাসার দুতলার ভাড়াটে দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী হারুন আহমদ। ধর্ষিতা নারীও ওই এলাকার। দেলোয়ার শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার মামলার বরাত দিয়ে জানান, গত পরশু শামীমাবাদ আবাসিক এলাকার ৪নং রোডের পাঁচ সন্তানের এক জননী ধর্ষিত হন। পরে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হন। গত রবিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ আসলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দেলোয়ার ও তার সহযোগী হারুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন দেলোয়ার তাকে ধর্ষণ করে এবং আরও তিনজন ধর্ষণে সহযোগিতা করে।

ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন মাদ্রাসা সুপার : এবার কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে দফায় দফায় তারই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ওই শিক্ষার্থীকে রবিবার ফজরের নামাজের আগে এবং একই দিন রাতে দুই দফা ধর্ষণ করেন মাদ্রাসা সুপার। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান ওই শিক্ষক। উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরূপদহ চকপাড়া এলাকার সিরাজুল উলুম মরিয়ম নেসা মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ধর্ষিত শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসা ঘেরাও ও ভাঙচুর করেছে। পুলিশ জানায়, নির্যাতিতা ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী। সপ্তাহের ছয় দিন সে ওই মাদ্রাসায় থাকত। প্রতি শুক্রবার সকালে তার বাবা তাকে বাড়ি নিয়ে যেত, আবার শনিবার সকালে পৌঁছে দিত মাদ্রাসায়। গত শনিবার সকালে মেয়েটির বাবা তাকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দেন। রাত ৮টার দিকে মেয়েটিকে নিজ কক্ষে ডেকে ধর্ষণ করেন, পরে ভোর রাতে ফজরের নামাজের সময় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুল কাদের মেয়েটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করেন। সুপার বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য মেয়েটিকে শাসিয়েও দেন। তবে মেয়েটি সোমবার সকালে তার এক সহপাঠীকে বিষয়টি জানায়। আর ওই সহপাঠী ঘটনাটি নিজের বাবাকে জানালে তা এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মাদ্রাসায় হামলা চালায়। তারা ভাঙচুরও করে ওই মাদ্রাসায়। ঘটনায় জড়িত আবদুল কাদেরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী ও ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা। এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবদুল কাদের এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। মেয়েটির বাবা এ ঘটনায় আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় গতকাল লিখিত অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জামান মজনুসহ এলাকার মানুষ ওই মাদ্রাসা সুপারকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। মিরপুর থানার ওসি আবুল কালাম বলেন. মেয়েটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তারা ভিকটিমকে উদ্ধার করে মেডিকেল টেস্টের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বনশ্রী থেকে মেডিকেল প্রশ্নফাঁস চক্রের মাস্টারমাইন্ড গ্রেফতার

রাজধানীর বনশ্রী থেকে সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টালের প্রশ্ন ফাঁসচক্রের মাস্টারমাইন্ড স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরোর মেশিনম্যান আবদুস সালামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার রাতে বনশ্রী এলাকার জি ব্লকে এক বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় সিআইডি।

২০১৪ সালে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলারও (মামলা নম্বর-১৬) আসামি আব্দুস সালাম। খন্দকার রেজাউল ইসলামের দায়ের করা মামলায় সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছিল।

সিআইডির সাইবার পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার এসএম আশরাফুল আলম জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের অন্যতম সদস্য জসিম, সালামসহ অন্যান্য সদস্যদের অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধান শুরু করেছে সাইবার পুলিশ। চক্রের অনেক সদস্যদের অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান।

তিনি আরও বলেন, অনুসন্ধান কার্যক্রম সমাপ্ত হলে প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রকে ধরতে গিয়ে মেডিকেল ও ডেন্টালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি উঠে আসে। এতে স্বাস্থ্যশিক্ষা ব্যুরোর মেশিনম্যান আবদুস সালামের নাম রয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন

রাজধানীতে বাথরুমের ফলস ছাদে রহস্যজনক কঙ্কাল, চাঞ্চল্য

রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়ার বাসিন্দা হানিফ সরকারের দিনটা খুব সাদামাটাভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেদিন বিকেলে পিলে চমকে ওঠার মতো এমন এক তথ্য তিনি পেলেন যা কোনদিন কল্পনাও করেননি। বাড়িতে একটা কঙ্কাল পাওয়া গেছে!

দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে পানির লাইন মেরামতের জন্য যে মিস্ত্রি কাজ করেন ফোনকলটি ছিল তার।
“ফোনে মিস্ত্রি আমাকে জানালো স্যার একটু নিচতলায় আসেন। সে আমাকে ফোনে কথাটা বলতে চায়নি। নিচে যাওয়ার পর যখন সে আমাকে বলল যে স্যার বাথরুমের ফলস ছাদের উপর মনে হয় একটা লাশ পাইছি। আমি বললাম ব্যাটা কি কস, পাগলের কথা।”

কিন্তু তার কথাই সত্য হল। তবে পলিথিন, সিমেন্ট আর কংক্রিট দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় যা পাওয়া গেল তা একটি মানুষের কঙ্কাল।

যার বিভিন্ন অংশ টুকরো হয়ে গেছে অথবা খুলে আলাদা হয়ে গেছে। সিনেমায় এমন দৃশ্য নানা সময় দেখা যায়। পুরনো বাড়ি থেকে বের হয় মরদেহ, কঙ্কাল অথবা মূল্যবান কোন বস্তু।

হানিফ বলেন, “আমার কপালে কঙ্কালটাই জুটল।”

সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে তার নিচতলার ভাড়াটিয়া জানালেন যে বাথরুমে পানি আসছে না।

“আমি আমার পার্মানেন্ট মিস্ত্রিকে বললাম বিষয়টা দেখতে। সে কয়েকদিন পরে সেখানে গেল। খুঁজে কোনও সমস্যা না পেয়ে সে বাথরুমের উপরে ফলস ছাদে ওঠে। সেখানে পাইপ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেয়াল ভাঙতে হয়েছে। সেই সময় বের হয়ে এল প্লাস্টিকে মোড়ানো কিছু একটা।”

হানিফ সরকার জানালেন তিনি থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

ঘটনার দিন পুলিশের প্রায় সবগুলো বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা সারারাত জুড়ে তার বাড়িতে এসেছে।

পুলিশের উপস্থিতির পর যখন প্রতিবেশীরা বিষয়টি জানলেন তখন তারাও ভিড় করতে লাগলেন হানিফ সরকারের বাড়িতে।

কঙ্কাল নিয়ে রহস্য
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাজিরুর রহমান বলেন, তার কর্মজীবনে এযাবতকালে এমন রহস্যজনক অভিজ্ঞতা তার হয়নি।

তিনি বলেন, “লাশ সংরক্ষণ করার জন্য চা পাতা ব্যবহার করা হয়েছে। তারপর পলিথিন দিয়ে সেটি মোড়ানো হয়েছে এবং সিমেন্ট, বালু, সুরকি দিয়ে সেটিকে চাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।”

“আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে যে কাজটি করেছে সে এই বিষয়ে বেশ দক্ষ,” যোগ করেন তিনি।

এই কঙ্কালটি নারী না পুরুষের, বয়স কত, কতদিন আগে হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে, অথবা মৃত্যু হয়েছে সেসব কিছুই এখনও জানা যায়নি। মোস্তাজিরুর রহমান বলেন, কঙ্কালটি ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই পরীক্ষা না করে বিস্তারিত জানা যাবে না।

হানিফ সরকার জানিয়েছেন বাড়িটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ১৯৯০ সালে। এর তিনবছর পর তিনিই নিচতলার প্রথম বাসিন্দা।

বাড়ির উপরের অংশ তৈরি হয়ে গেলে তিনি উপরে উঠে যান। এরপর থেকে সেখানে মোট চারজন ভাড়াটিয়া উঠেছে।

একজন ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন ছিলেন। তার পরিবার চলে যাওয়ার পর একবার ফ্ল্যাটটিতে সংস্কার কাজও করা হয়েছে।

পুলিশ এখন ভাড়াটিয়াদের খোঁজ করে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

কঙ্কালটির ফরেনসিক ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সেটি ভাড়াটিয়াদের পরিবার, কর্মচারী ও বাড়িওয়ালার পরিবার সবার সাথে মিলিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কঙ্কাল উদ্ধারের পর পুলিশ নিজে একটি হত্যা মামলা করেছে।

তবে এত দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণ শ্রমিক থেকে শুরু করে ভাড়াটিয়া, কর্মচারী, অতিথিসহ কত ধরনের মানুষ সেখানে এসেছেন। তাই এর তদন্ত বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার পিলে চমকে ওঠা অভিজ্ঞতা

ছয়জনের পরিবার নিয়ে শ্যামল খান নিচতলায় ভাড়া উঠেছিলেন গত বছরের জানুয়ারি মাসে।

দুটি ঘর, একটা বাথরুমের ফ্ল্যাটটি নিচতলায় হওয়াতে এমনিতেই বেশ অন্ধকার।

তিনি বলেন, “মাথার উপরে কঙ্কাল নিয়ে এতদিন আমি, আমার বাচ্চা ও পরিবার বাথরুম ব্যবহার করছি। এখানে রাতে ঘুমাইছি ভাবলে গা ছমছম করে ওঠে।”

শ্যামল খান বলছেন, এই ভয় তিনি ও তার পরিবার এখনও কাটাতে পারছেন না। কিন্তু ভয় নিয়েই অন্ধকার ফ্ল্যাটটিতে থাকতে হচ্ছে কারণ তদন্তের স্বার্থে বাড়িটি ছেড়ে তারা যেতে পারছেন না।

অন্যদিকে বাড়ির মালিক হানিফ সরকার বলছেন, “আমার বাড়িতে একটা কঙ্কাল থাকতে পারে, আমার তো মাথায় ধরতেছে না বিষয়টা। জীবনে এরকম অভিজ্ঞতা হবে তাও ভাবিনি।”

কঙ্কালের অবস্থা যা বলে
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, “নানা কারণে কঙ্কাল ক্ষয় হতে পারে। তার একটি হল সময়। অনেকদিনের পুরনো হলে সেটি ক্ষয় হবে। এছাড়া আগুনে পুড়ে অথবা অ্যাসিডে মৃত্যু হলেও কঙ্কাল দ্রুত ক্ষয় হয়। আবহাওয়াও একটা ফ্যাক্টর। কঙ্কাল পরীক্ষা না করে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।”

তিনি বলছেন, কঙ্কাল পরীক্ষা করে জানা যায় কতদিন আগে মানুষটির মৃত্যু হয়েছে। একদম হুবহু না হলেও কাছাকাছি অনেক তথ্য বের করা সম্ভব।

তিনি আরও বলছেন, সাধারণত একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির মরদেহ কঙ্কাল হতে মাস তিনেক সময় লাগে। তবে সেটিও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। আবহাওয়ায় আর্দ্রতা বেশি থাকলে প্রক্রিয়াটি তাড়াতাড়ি ঘটে।

বিডি প্রতিদিন

রাজধানীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার ৫৯

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ৫৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। মাদক বিক্রি ও সেবনের অপরাধে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ওয়ালিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই হাজার ৫৫০ পিস ইয়াবা, ১৫৩ গ্রাম ১১৮ পুরিয়া হেরোইন, ১০০৫ বোতল ফেনসিডিল ও ৩ কেজি ৬৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে ডিএমপির থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৬ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।