ট্রাম্প ও মেলানিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

করোনাভাইরাস মহামারীতে ধুঁকতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও আক্রান্ত হলেন।

RELATED STORIES
উপদেষ্টা আক্রান্ত, ট্রাম্প ও মেলানিয়া কোয়ারেন্টিনে

বৃহস্পতিবার রাতে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে) এক টুইটে ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হোপ হিক্সের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে দিয়েছিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া।

বৃহস্পতিবার এক টুইটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তারা দুজনও করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন এবং কোয়ারেন্টিন শুরু করছেন। পরে সেই পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ আসার খবর দেন ট্রাম্প।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্কদের ঝুঁকিই সবচেয়ে বেশি। ৭৪ বছর বয়সী ট্রাম্প সেই বয়স শ্রেণিতেই পড়েছেন। আর মেলানিয়ার বয়স ৫০ বছর।

সিএনএন লিখেছে, কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের এরকম গুরুতর রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে ট্রাম্পের এই অসুস্থতা নতুন সঙ্কটের ঝুঁকি তৈরি করল।

এক সঙ্গে দুই জা’র সঙ্গে সম্পর্ক: ধরা পড়ে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার

জা সম্পর্কের দুই নারীর সঙ্গে একই সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছিলেন গাড়িচালক মনিরুল ইসলাম মনির; কিন্তু ধরা পড়ার পর ধর্ষণের মামলায় এখন তাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মনির ধর্ষণ করেছেন- ওই দুই নারী এমন অভিযোগ করেছেন পুলিশের কাছে।

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে হাজারীবাগ এলাকা থেকে মনিরকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয় বলে হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন।

বিবাহিত ওই নারীদের একজনকে নিয়ে হাজারীবাগে ঘর ভাড়া করে মনির থাকছিলেন। আর এই ব্যক্তি নিজের আগের বিয়ের কথা লুকিয়েছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিবাহিত মনির বাড্ডা এলাকায় থাকতেন। সেখানে এক বিবাহিত নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন এই ব্যক্তি।

ওই নারীর কাছ থেকে তার দেবরের স্ত্রীর ফোন নম্বর নিয়ে তার সঙ্গেও মনির একই সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ জানান।

চার মাস আগে দ্বিতীয় নারীকে (প্রথম জনের দেবরের স্ত্রী) নিয়ে হাজারীবাগ এলাকায় একটি টিনশেড ঘর ভাড়া নেন মনির। কিন্তু মনির এই নারীর ভাবির সঙ্গে আগের মতোই সম্পর্ক চালিয়ে গেলে এক পর্যায়ে তারা দুজনই ঘটনাটি টের পেয়ে যান।

দুই নারীই বুধবার রাতে হাজারীবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে প্রতারণার অভিযোগ করেন। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ এনে সকালে মামলা করলে মনিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মনির দাবি করেছেন, ওই দুই নারী তার সঙ্গে স্বেচ্ছায় সম্পর্ক রেখেছিলেন।

অন্যদিকে ওই দুই নারী বলেছেন, তাদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন মনির।

পেশায় প্রাইভেটকারচালক মনির এই দুজন ছাড়াও সে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আরও নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছেন বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। # বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

চীনের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে: ইরান

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বলেছে, চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। চীনের ৭১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে দেশটিকে অভিনন্দন জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি গতকাল (বৃহস্পতিবার) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাঠানো বার্তায় এ আশা ব্যক্ত করেন।

বর্তমানে তেহরান এবং বেইজিং দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

অভিনন্দন বার্তায় প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, তেহরান এবং বেইজিং করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় পাশাপাশি থেকে কাজ করেছে এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনকে সহযোগিতা করতে ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন।

অভিনন্দন বার্তায় প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, “আমি নিশ্চিত যে, দুই দেশের মধ্যকার ২৫ বছর মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিরাট বড় পদক্ষেপ হবে। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং একাধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গীরও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং ভাইস-প্রেসিডেন্ট ওয়াং সিশানকে আলাদা অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, চীন এবং ইরান সম্মিলিতভাবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যে লড়াই চালিয়েছে তার সুন্দর একটি ফলাফল এসেছে। তিনি আশা করেন, ২৫ বছর মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই হলে ইরান ও চীনের মধ্যকার সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।#

পার্সটুডে

দুবাইয়ে সময় কাটাচ্ছেন নুসরাত-রশিদ

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়িকা নুসরাত ফারিয়ার দুবাইতে হবু বর রনি রিয়াদ রশিদকে নিয়ে সুন্দর সময় কাটাচ্ছেন। সেখানে বিলাসবহুল ফাইভ পাম জুমেইরাহ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে উঠেছেন নুসরাত। আর সেখান থেকেই আশিকী’খ্যাত এই নায়িকা তার ভক্তদের জন্য সু-খবর দিলেন। আবারো নতুন গান নিয়ে আসছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নুসরাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘোষণা দেন, নতুন গান শিগগিরই প্রকাশ পাচ্ছে। পরদিন বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নুসরাতের ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয় তার নতুন গান ‘আমি চাই থাকতে’র টিজার। মাত্র ২০ সেকেন্ডের টিজারেই ভক্তদের মনে দারুণ আলোড়ন তোলেন শিল্পী। মুহূর্তেই টিজারটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিকমাধ্যমে। তবে এর আগে তার আগের গান পটাকা আলোচিত-সমালোচিত হয় একথা সবার জানা।

গানটি ভিডিওসহ আগামী অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হবে।

ফারিয়া আরো জানালেন, গানটিতে নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠ দিয়েছেন ভারতের মাস্টার ডি। সুর ও সংগীত করেছেন মাস্টার ডি নিজেই। বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্য পরিচালক বাবা যাদব মিউজিক ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন।

লাদাখ সীমান্ত দ্বন্দ্ব
শান্তির খোঁজে মস্কোর টেবিলে দিল্লি-বেজিং

সীমান্তে শান্তি ফেরাতে ফের কূটনৈতিক পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছে এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত ও চীন। তবে আদৌ কি শান্তি প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি। সীমান্তবর্তী গালওয়ান প্রদেশে সেনা সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত-চীন দুই দেশের মধ্যে আরও চওড়া হয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ফাটল। প্রশাসনিক ও সামরিক পর্যায়ের একাধিক বৈঠকের পরেও মেলেনি সমাধান। উল্টো পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে চীন। যদিও পাল্টা জবাবের জন্যও সদা প্রস্তুত ছিল ভারত।

এমতাবস্থায় লাদাখ সমস্যা মেটাতে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ফের বৈঠকে বসলেন দুই দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিবিদেরা। বুধবার সীমান্ত সমস্যা নিয়ে এই ভার্চুয়াল বৈঠক বলে জানিয়েছে ভারত-চীন সূত্রের খবর। এদিন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমেই মূলত চলে এই বৈঠক। ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসাল্টেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশনের আওতাতেই বর্তমানে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে এই ভার্চুয়াল বৈঠক চলে দুই দেশের কূটনীতিবিদদের মধ্যে।

এর আগে গত ১০ই সেপ্টেম্বর রাশিয়া সাংহাই কো-অপারেশন সামিটেও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে লাদাখ সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জোরদার আলোচনা হয় বলে জানা যায়। পাঁচ দফা প্রস্তাবের কথাও উঠে আসে।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রের খবর পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়ে দু’দেশের মাঝে চলে আলোচনা। এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকেও সেই পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়েও জোরদার আলোচনা চলে ভারত ও চীনের মধ্যে। লাদাখে শান্তি ফিরেয়ে আনতে এই পাঁচটি বিষয়ের বাস্তবায়নের পক্ষে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন দুইদেশের কূটনীতিবিদেরা।

এদিকে লাদাখের উত্তপ্ত পরিস্থিতি ঠাণ্ডা করতে দীর্ঘদিন থেকেই লাদাখ থেকে সেনা সরানোর জন্য চীনকে চাপ দিয়ে আসছে ভারত। শেষে অনেক অনুরোধ উপরোধও করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে একাধিক সামরিক পর্যায়ের বৈঠকেও মেলেনি সমাধান সূত্র।

ভারতের দাবি ১৯৯৩-৯৬ সালে হওয়া চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়েছে চীনের তরফে। ভারত চায় ওই চুক্তি মেনে লাদাখ থেকে সরে যাক লালফৌজ। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না বলেই দেখা যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু মস্কোর বিদেশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের রেশ ধরেই এদিনের বৈঠকে উভয় দেশই ভারত ও চীনের সীমান্ত চুক্তি অনুসরণ করার ক্ষেত্রে ঐক্যমতে পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে।

এই বৈঠকের পরেই এই একটি বিবৃতি প্রকাশ করতে দেখা যায় চীনা বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিনকে। এদিন ভারত-চীন ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসাল্টেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন বা ডাব্লুএমসিসির সীমান্ত বিষয়ক ১৯তম বৈঠক বসল বলেও জানান তিনি। একইসাথে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আগামীতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে বিশ্বের উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার ক্ষেত্রেও দুই দেশের কূটনীতিকরা একমত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। যদিও বেজিংয়ের তরফে এই প্রতিশ্রুতি আগে মিললেও বাস্তবক্ষেত্রে তার উল্টোচিত্রই দেখা গেছে। সেকথা ভেবে বর্তমানে সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চাইছে ভারত।

লাদাখে গত মাসে কমান্ডার পর্যায়ের যে বৈঠকটি চুশুল-মল্ডোতে হয়েছিল, সেটি লেফটেন্যান্ট জেনেরাল পর্যায়ের ষষ্ঠ বৈঠক দুই দেশের মধ্যে। এর আগে জুন মাসের ৬, ২২ ও ৩০ তারিখ এবং জুলাইয়ের ১৪ ও অগস্টের ২ তারিখ এই পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। তবে সেখানে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে বারবার আলোচনা হলেও কোনও সুরাহা বেরিয়ে আসেনি। এরই মাঝএ বারবার সীমান্তে উত্তেজনার পারদ চড়েছে।

শেষ যে কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে ভারত ও চীন বসেছিল, তাতে উপস্থিত ছিলেন বিদেশ মন্ত্রকে চীন বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব নবীন শ্রীবাস্তব। এছাড়া ছিলেন সেনার ১৪ নম্বর কর্পসের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনেরাল হরিন্দর সিং এবং লেফটেন্যান্ট জেনেরাল পি জি কে মেনন ছিলেন সেই বৈঠকে। দুই উচ্চপদস্থ সেনা আধিকারিককে বৈঠকে বসিয়ে ভারত বুঝিয়ে দেয় যে তারা এই বৈঠকগুলিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। তাছাড়া প্রথমবার সেনা পর্যায়ের কোনও বৈঠকে দিল্লির কোনও আমলা উপস্থিত ছিলেন পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য। এটাই ছিল ওই বৈঠকের বিশেষত্ব।

আনন্দবাজার পত্রিকা

আরো কর্মী ছাঁটাইয়ে যাচ্ছে লুফথানসা

আগে ঘোষিত ২২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি আরো কর্মী ছাঁটাইয়ে যাবে লুফথানসা। কভিড-১৯ মহামারীতে ভ্রমণ চাহিদায় বিপর্যয়ের ফলে সোমবার এ ঘোষণা দিয়েছে জার্মানির বৃহত্তম এ উড়োজাহাজ সংস্থা।

এক বিবৃতিতে লুফথানসা জানায়, গ্রীষ্মে চাহিদায় কিছু উল্লম্ফনের পর ফের বুকিং হ্রাসের ফলে মাসে ৫০ কোটি ইউরো বা ৫৯ কোটি ডলার লোকসান গুনছে তারা। ২০২৫ সালের মধ্যে ৮০০ উড়োজাহাজের বহর থেকে ১৫০টি কমিয়ে আনা হবে। এর আগে ১০০ উড়োজাহাজ কমানোর পরিকল্পনা করেছিল লুফথানসা।

নতুন করে কতজন কর্মী ছাঁটাই হবে তা না জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ সংখ্যা পাঁচ হাজার হতে পারে। শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে উড়োজাহাজ সংস্থাটি। ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মীরা এতে বড় ধাক্কা খাবেন। ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে প্রতি পাঁচ ব্যবস্থাপকের মধ্যে একজনকে ছাঁটাই করা হবে। গত জুনে জার্মান সরকার থেকে ৯০০ কোটি ইউরোর বেইলআউটের মাধ্যমে দেউলিয়াত্ব থেকে রক্ষা পেয়েছে লুফথানসা। খবর এএফপি।

মহামারীর প্রভাব
স্বপ্নের চাকরির আশা ছেড়ে দিয়েছেন ইউকের এক-তৃতীয়াংশ তরুণ

চলমান মহামারীর প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি তরুণ জানিয়েছেন যে তারা তাদের স্বপ্নের চাকরিপ্রাপ্তির আশা ছেড়ে দিয়েছেন। দ্য প্রিন্সেস ট্রাস্ট জানিয়েছে, তারা যুক্তরাজ্যজুড়ে ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী দুই হাজার তরুণের ওপর এক জরিপ পরিচালিত করেছে। এতে দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেয়া তরুণদের ৪৪ শতাংশই মহামারীর কারণে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

দ্য প্রিন্সেস ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী জনাথন টাউনসেন্ড জানিয়েছেন, মহামারী তরুণদের মনোবল দুর্বল করে দিয়েছে। এ অবস্থায় তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। সেন্সাসওয়াইডের গবেষণা অনুযায়ী, ৪১ শতাংশ তরুণ বিশ্বাস করেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব। আর এ লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব বলে মনে করছেন দরিদ্র পরিবারের ৫০ শতাংশ তরুণ। আরো দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশের বেশি তরুণ, প্রায় ৩৮ শতাংশ মনে করছে জীবনে তারা কখনই সফল হতে পারবেন না। এ ধারণা পোষণ করছেন দরিদ্র পরিবারের ৪৮ শতাংশ তরুণ।

ব্রিস্টলের পিটার হোয়াইট একজন রেল ডিসপ্যাচার হিসেবে কাজ করছেন। তার স্বপ্ন তিনি একজন ট্রেনচালক হবেন। মহামারীর আগে তিনি ট্রেনচালকদের জন্য পরিচালিত গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়েজের ট্রেনিং প্রোগ্রামে সুযোগ পান। কিন্তু মহামারীর কারণে বর্তমানে ওই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া করোনাকালে গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।

জরিপে আরো দেখা গেছে, এক-চতুর্থাংশের বেশি (২৮%) তরুণ মনে করছেন, তারা যে চাকরি পাবেন, সেটাই গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে ৩৫ শতাংশের বিশ্বাস, তাদেরকে তাদের স্বপ্নের চাকরির আশা ছেড়ে দিতে হবে। এর বদলে জীবিকার তাগিদে তাদেরকে যেকোনো কাজ করতে হতে পারে। প্রায় ৪৩ শতাংশ তরুণ বলেছেন, তারা সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসেন, এমন চাকরি আর তারা কখনই পাবে না। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা তরুণদের মধ্যে এ ধারণা পোষণ করছেন ৫৫ শতাংশ। তাছাড়া ৪৫ শতাংশ তরুণের ধারণা বেঁচে থাকার জন্য তাদেরকে নিম্ন মজুরির চাকরি বেছে নিতে হবে।

এ বিষয়ে টাউনসেন্ড বলেন, মহামারী সার্বিকভাবে তরুণদের জন্য অতিজরুরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও চাকরির সুযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলেছে। আর এ তথ্য তাদের জরিপেই উঠে এসেছে। ফলে দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আত্মবিশ্বাস দিন দিন নেমে যাচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, পরিস্থিতি এতটাই বাজে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে এদের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন যে তারা আর জীবনে কিছুই করতে পারবেন না।

বর্তমানে আমাদের এখানে প্রত্যাশাগত বড় ধরনের ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে। আর এর প্রমাণ হলো, তরুণের মধ্যে হতাশা বাড়ছেই। এক্ষেত্রে মনোবল সবচেয়ে বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের তরুণদের।

এ অবস্থায় টাউনসেন্ড সরকারের পাশাপাশি দাতব্য সংস্থা ও চাকরি প্রদানকারীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করেছেন, যাতে এসব তরুণ পিছিয়ে না পড়েন। তিনি বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধি, পুনঃপ্রশিক্ষণ ও চাকরিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমাদের তরুণদের সমর্থন ও সহায়তা করতে হবে। না হলে মনোবল ভেঙে যাওয়া এসব তরুণ আর কখনই ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না; যার প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে, বাড়বে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব। দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের বিষয়টি চিন্তা করে এখনই তরুণদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। খবর বিবিসি।

আগস্টে চীনের শিল্প মুনাফা বেড়েছে ১৯.১%

আগস্টে চীনের প্রধান শিল্প কোম্পানিগুলোর মোট মুনাফা হয়েছে ৬১২ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ইউয়ান বা ৯ হাজার কোটি ডলার। এক বছর আগের তুলনায় এ মুনাফায় বৃদ্ধি ঘটেছে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। রোববার ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (এনবিএস) এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে সব মিলিয়ে মাসটিতে জুলাই থেকে প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হয়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট। বছরের প্রথম আট মাসে চীনে প্রধান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মুনাফায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ পতন হয়ে ৩ দশমিক ৭২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে জানুয়ারি-জুলাইয়ের চেয়ে সংকোচন হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। এদিকে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মুনাফায় এক বছর আগের তুলনায় ১৭ শতাংশ পতন হয়ে ৯৫০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়ায়। এ সময় ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বছরওয়ারি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকোচনের ফলে মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৭ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে।

জানুয়ারি থেকে আগস্টে চীনে খনি শিল্পের পতন হয়েছে ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের মুনাফায় পতন হয়েছে ১ শতাংশ। এনবিএসের জরিপকৃত ৪১টি শিল্প খাতের মধ্যে ১৬টির গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে এ সময়ে মুনাফায় পতন হয়েছে ২৫ খাতের। এক্ষেত্রে সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেই প্রধান ধরা হচ্ছে, যেগুলোর ব্যবসায় বার্ষিক টার্নওভার অন্তত ২ কোটি ইউয়ান। খবর সিনহুয়া।

সিয়াটলে লিফট ও উবার চালকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ

রাইড শেয়ার কোম্পানি লিফট ও উবার চালকদের জন্য ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল নগর কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে দুটি কোম্পানি এবং এতে হাজারো চালকের চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় নগর হিসেবে রাইড শেয়ার চালকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করে দিল সিয়াটল। এর আগে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে রাইডশেয়ার চালকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করে দেয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সিয়াটল মেয়র জেনি ডুরকান বলেছেন, ‘মহামারীর কারণে শ্রমিকদের সুরক্ষায় আমাদের যে কাঠামো রয়েছে, তাতে ত্রুটিগুলো বেরিয়ে এসেছে। ফলে সুরক্ষা জালবিহীন অবস্থায় সাময়িক চুক্তিভিত্তিক কর্মীসহ সম্মুখসারির কর্মজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।’

এ নারী জানান, নতুনভাবে নির্ধারণ করে দেয়ায় চালকরা ন্যায্য বেতন পাবেন; যা দিয়ে তারা নিজেদের ও পরিবারকে সুরক্ষা দিতে পারবেন। জানুয়ারি থেকে সিয়াটলের রাইড শেয়ার চালকদের প্রতি ঘণ্টায় ন্যূনতম ১৬ দশমিক ৩৯ ডলার করে আয় করতে হবে।

গত মাসে সিয়াটল নগর সরকারকে লেখা এক চিঠিতে উবার বলেছে, একই ধরনের পলিসি গ্রহণের ফলে নিউইয়র্কে চালকদের কাজের সুযোগ কমে যায় এবং গ্রাহকদের ব্যয় বেড়ে যায়। কোম্পানিটির ভাষ্যমতে, ‘নিউইয়র্কে হাজারো চালক চাকরি হারান, কেননা তখন বিধিনিষেধের কারণে অনেকেরই আমাদের অ্যাপটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়।’ তারা আরো জানায়, সেই থেকে নিউইয়র্কে নতুন কোনো চালককে নিবন্ধন করা হয়নি।

উবার জানায়, প্রথম বছরে মূল্য ৩০ শতাংশ বেড়ে যায় এবং এ কারণে মানুষজন রাস্তায় বিক্ষোভও প্রদর্শন করে।

আরেক রাইড শেয়ার কোম্পানি লিফটও এ ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা জানায়, সিয়াটলের এ সিদ্ধান্ত ‘অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং নিশ্চিতভাবেই হাজারো মানুষের কাজের সুযোগ ধ্বংস করবে। কেবল লিফটেই চার হাজার চালকের চাকরি যাবে এবং এতে রাইড শেয়ার কোম্পানিই বিদায় নিতে পারে।’

উবার জানিয়েছে, এ মুহূর্তে সিয়াটলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তাদের। খবর এএফপি।

আমেরিকান এয়ারলাইনস
১৯ হাজার কর্মীকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে ১৯ হাজার কর্মীকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করছে আমেরিকান এয়ারলাইনস। মহামারীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান পরিবহন সংস্থাটি নতুন করে সহায়তা চুক্তি না করতে পারায় এ পদেক্ষপ নিতে যাচ্ছে।

আমেরিকান এয়ারলাইনস মার্কিন কংগ্রেস থেকে কয়েক কোটি ডলারের সহায়তা পেয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এয়ারলাইনসটি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মী ছাঁটাই না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নতুন করে সহায়তা নিশ্চিত না হওয়ায় অক্টোবর থেকে সংস্থাটির হাজারো কর্মী ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডাগ পার্কার এক চিঠিতে বলেন, আমাদের নির্বাচিত কর্মকর্তারা সরকারের সঙ্গে কভিড-১৯ রিলিফ প্যাকেজ বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে বৃহস্পতিবার থেকে আমরা আমাদের নিবেদিত ও কর্মঠ ১৯ হাজার সহকর্মীকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছি। তবে কোনোভাবে আইনপ্রণেতারা সহায়তার বিষয়ে নতুন করে চুক্তি সম্পাদনে সমর্থ হয়, তবে ছুটিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া হয়তো বন্ধ হতে পারে। একই সঙ্গে আবার ফিরিয়ে আনা হতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের।

মূলত মার্চে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যাত্রী চাহিদা না থাকা এবং সীমান্ত বন্ধের পাশাপাশি নানা বিধিনিষেধের কারণে উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড রাখতে বাধ্য হয় এয়ারলাইনসগুলো।সুত্র: এএফপি।