রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে নিহত তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে পুলিশের হাতে আটক হন দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বৃহৎ জনসমাবেশ করায় তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

এর আগে উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এক তরুণী গত মঙ্গলবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ পরিবারের সদস্যদের বিনা উপস্থিতিতে রাতের আঁধারে ওই তরুণীর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করে বলেন, দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশে ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ গতিরোধ করে গাড়িবহর আটকে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে দলের নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

কংগ্রেসের এই নেতা এক টুইট বার্তায় পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা তাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন। ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধীকে বলতে শোনা যায়, আমাকে কেন আটক করছেন? আমাকে আটকের কারণ কি? গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কার করুন।

তখন পুলিশের এক সদস্যকে বলতে শোনা যায়, সরকারি বিধির ১৮৮ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আটক করা হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পথরোধকারী পুলিশ সদস্যদের প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী। পরে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান কংগ্রেসের অন্যতম এই নেতা।

VOA
আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে পদক পেল বাংলাদেশী ৬ তরুণ

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত ৬১তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (আইএমও) বাংলাদেশের পক্ষে ১টি রুপার পদক ও ৫টি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা। ১০৭টি দেশের মধ্যে ৩৮তম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এর মোট নম্বর ১১৮। গত রবিবার আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটে পুরস্কার বিজয়ীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দলের ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী আহমেদ ইত্তিহাদ ৪২ নম্বরের মধ্যে ২৯ নম্বর (মাত্র ২ নম্বরের জন্য সোনার পদক পায়নি ইত্তিহাদ ), এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের শিক্ষার্থী এম আহসান-আল-মাহীর (প্রাপ্ত নম্বর ২০), ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের মো. মারুফ হাসান রুবাব (১৯), কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের আদনান সাদিক (১৮), নটর ডেম কলেজের রাইয়্যান জামিল (১৬) ও ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী সৌমিত্র দাস (১৬) পেয়েছে ব্রোঞ্জপদক।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের এবারের আসরে বাংলাদেশ অবস্থান সবার উপরে। এশিয়ার বাকি দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ৬১তম, পাকিস্তান ৮২তম, মিয়ানমার ৯১তম ও নেপাল ১০২তম স্থান অধিকার করেছে। ২১৫ নম্বর পেয়ে চীন প্রথম, ১৮৫ নম্বর পেয়ে রাশিয়া ফেডারেশন দ্বিতীয় ও ১৮৩ নম্বর পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় হয়েছে।

করোনার কারণে রাশিয়া থেকে অনলাইনে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আয়োজনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর অনলাইন উদ্বোধনী আয়োজনের মাধ্যমে আইএমও শুরু হয়। ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী অনলাইন গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজনের মাধ্যমে ৬১তম আইএমওর জন্য ৬ সদস্যের বাংলাদেশ গণিত দল নির্বাচন করা হয়। দল নির্বাচন ও এর আনুষঙ্গিক আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

পাকিস্থানের গোলায় নিহত তিন ভারতীয় সেনা

পাকিস্তানের মর্টারের আঘাতে কাশ্মীরে ভারত-পাক সীমান্তে তিন ভারতীয় সেনা নিহত। আহত পাঁচ। যার জেরে সীমান্তে চরম উত্তেজনা।

ভারত-পাক সীমান্তে এলওসি বা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে পাক সেনার আক্রমণে তিনজন ভারতীয় সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সেনা সূত্রে এ খবর জানানো হয়েছে। পাকিস্তান সেনার কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত পাকিস্তানের তরফে কিছু জানানো হয়নি। ভারত বলেছে, এর উপযুক্ত জবাব পাবে পাকিস্তান।

দুইটি পৃথক সংঘর্ষে তিনজন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। আহত পাঁচজন। তাঁদের গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেনা সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরেই সীমান্তে প্রবল গুলি গোলা ছুড়ছে পাকিস্তান। ভারতীয় সেনার পোস্ট লক্ষ্য করে মর্টার ছোড়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। তারই আঘাতে কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার নওগাম সেক্টরে দুইজন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

অন্য দিকে, কাশ্মীরের পুঞ্চ সেক্টরেও একই ধরনের হামলার ঘটনায় এক সেনা জওয়ান নিহত হন এ দিন সকালেই। সেখানেও একজন আহত হয়েছেন। সেনার মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই ঘটনার পরে ভারতও পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দিয়েছে। তবে ভারতের হামলায় পাকিস্তানের কোনো সেনার নিহত বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ভারতের অভিযোগ, গত এক বছরে তিন হাজার বার পাক সেনা সীমান্তে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। কিছু দিন আগেও পুঞ্চ সেক্টরে দুই দেশের সেনার সংঘাত হয়েছিল। দুই পক্ষই সীমান্তের অন্যপ্রান্তে বিপুল পরিমাণ গোলাগুলি চালিয়েছিল। তবে সেই ঘটনায় কারো মৃত্যু হয়নি। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বৃহস্পতিবারের ঘটনা বড় হয়ে গেল। তিনজন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ায় ভারত পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানকে এর উত্তর দেবে ভারতীয় সেনা।

এক দিকে লাদাখে চীনের সঙ্গে ভারতীয় সেনার সংঘাত চলছে। গালওয়ানে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছিল। এ বার পাক সীমান্তে ফের সেনা জওয়ান নিহত হলেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, সেনা বাহিনীর মনোবল খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাহিনীর কেউ নিহত হলে তার উপযুক্ত জবাব দিতে না পারলে বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। গালওয়ানের পর ভারতীয় সেনা চীনকে সে ভাবে উত্তর দিতে পারেনি। এ বার পাক সীমান্তে ক্ষয়ক্ষতির পরে সেনা আরও বেশি করে উত্তর দিতে চাইবে। ফলে সীমান্তে আপাতত উত্তেজনা প্রশমনের কোনও সম্ভাবনা তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশে নতুন করে দেড় হাজার করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

এ নিয়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫ হাজার ২৭২ জনের মৃত্যু হল।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১,৫০৮ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হলেন মোট ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি ১১,৪২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৩.২০% এর মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে ১৮.৬৩% এর মধ্যে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগ থেকে সুস্থ হয়েছেন ১,৫৯১ জন।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কোভিড-১৯ থেকে মোট সুস্থ মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮ জন।

সুস্থতার হার ৭৫.৯১% বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে মৃত্যুহার ১.৪৪%।

ধর্ষণ মামলায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ধর্ষণের অভিযোগে এবার ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সবুজ আল সাহবাসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে এক তরুণী ছাত্রলীগ নেতা সবুজের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পরে রাতেই রাজধানীর একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা সবুজ ও বিবি ফাতেমা ঝুমুর (৩৫) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় বিবি ফাতেমাকে ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী তরুণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাজিজুর রহমান দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এক তরুণীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় সবুজ আল সাহবার এবং বিবি ফাতেমা ওরফে ঝুমুর (৩৫) নামের দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তবে গ্রেপ্তার সবুজ আল সাহবার কোন দলের নেতা বা কর্মী তা জানেন না বলে জানান ওসি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী পুলিশ জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ৬০ ফিট এলাকায় নিজ বাসায় নিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন সবুজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইব্রাহিম দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘ধর্ষকের মতো অপরাধীর কোনো জায়গা আমাদের সংগঠনে হবে না। আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

মডেলিংয়ের মোহে তরুণীর জীবন গেল সিলিং ফ্যানে ঝুলে

তরুণীর স্বপ্ন ছিল মডেলিং করে ক্যারিয়ার গড়ার। এই স্বপ্ন নিয়ে তিনি চট্টগ্রামের একটি কথিত ‘মডেলিং এজেন্সি’র সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তাদের হয়ে অখ্যাত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফটোসেশনেও অংশ নিতে দেখা যায় ওই তরুণীকে। চট্টগ্রামের হালিশহরের বাসিন্দা মাহি নামের সেই তরুণী হঠাৎই নিজের বাসায় আত্মহত্যা করে বসলেন। এমন অস্বাভাবিক ঘটনার পর হালিশহর থানা পুলিশের সায়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সেই তরুণীর লাশ দাফন করে ফেলা হয়। এ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে নিজের রুমের ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেন ১৯ বছরের তরুণী মাহি। ঘটনা টের পাওয়ার পর ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে মাহিকে নিয়ে যাওয়া হয় আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ‘মৃত ঘোষণা’ করেন।
জানা গেছে, এ ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় লাশের ময়নাতদন্ত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ‘পরিবারের অনুরোধে’ হালিশহর থানা পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই মাহির মরদেহ দাফনের জন্য তার পরিবারকে অনুমতি দেয়। ময়নাতদন্ত কেন হল না— এমন প্রশ্নে হালিশহর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ময়নাতদন্ত করাবে না বলেছে, সেজন্য মামলা দায়ের করে তারা লাশটি দাফন করার জন্য নিয়ে গেছে।’

১৯ বছর বয়সী মাহির বাড়ি চাঁদপুর হলেও তিনি চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে নানার বাড়িতে বসবাস করতেন। জানা গেছে, মাহি নগরীর একটি কলেজে এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। সেই সাথে চট্টগ্রামের উইন্ডোজ মাল্টিমিডিয়া নামে একটি কথিত মডেলিং এজেন্সিতে ‘মডেলিং’ করতেন। নগরীর মেহেদীবাগ ন্যাশনাল হাসপাতালের পাশের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় প্রতিষ্ঠানটি ‘কার্যক্রম’ চালায় বলে তাদের ফেসবুক পেইজ থেকে জানা গেছে।

‘মডেলিং’য়ের সূত্রে এসময় নাসিরাবাদ এলাকার এক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মাহি— এমন কথা নিশ্চিত করে উইন্ডোজ মাল্টিমিডিয়া নামের ওই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত এক তরুণ জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতি সেই সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলে আমরা শুনেছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাহির ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু জানান, ‘শোবিজ মিডিয়ায় অবস্থান পাকাপোক্ত করতে গিয়ে মাহি একপর্যায়ে মাদকসেবনের সাথে জড়িয়ে যায়। তার সঙ্গে কয়েকটি ছেলের সম্পর্কও ছিল। তার পরিবার বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ঘরের বাইরে যেতে দিতো না।’

মাহির মামা ঢাকার ডেমরা থানার ওসি তদন্ত মো. সেলিম বলেন, ‘মাহি এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। খুব শান্ত ও ভালো মেয়ে। রাগটা একটু বেশি। গতকাল আমার বাবার (মাহির নানা) কাছে বান্ধবীর বাসায় যেতে দিতে বলেছিল। কিন্তু তার বাবা করোনার মধ্যে ঘরের বাইরে যেতে মানা করার পর সে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। এর একপর্যায়ে নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে কোনও সাড়া না পেয়ে পরিবারের অন্যরা দরজা ভেঙে দেখে মাহি ফ্যানের সাথে ঝুলছে।’

তিনি বলেন, ‘মাহির আত্মহত্যা নিয়ে আমাদের কারও কাছে কোনো অভিযোগ নেই। যার জন্য আমরা মামলায় কারও দোষ নেই বলে উল্লেখ করেছি। অনেকে অনেক কথা বলছে ফেসবুকে ছবি পোস্ট দিয়ে। তারা মূলত আত্মহত্যার ঘটনাটিকে অন্যদিকে মোড় দেওয়ার চেষ্টায় এমন কথা রটাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের হালিশহর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘গতকালকে (মঙ্গলবার) জিইসি মোড়ে এক বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য নানাকে বলেছিল সে। কিন্তু তার নানা যেতে মানা করায় রুমে গিয়ে অভিমান করে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা।’

সূত্র : চট্টগ্রাম প্রতিদিন।

ধর্ষণের অভিযোগ: থানায় ডাক পড়ল অনুরাগের

 

বাঙালি অভিনেত্রীকে যৌন হেনস্তা ও ধর্ষণের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলিউডের পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপকে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা নাগাদ মুম্বাইয়ের ভারসোভা থানায় হাজিরা দিতে হবে। ধর্ষণের অভিযোগে এ থানাতেই প্রথমে বয়ান রেকর্ড করা হবে পরিচালকের।
সম্প্রতি অনুরাগের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলেন পায়েল ঘোষ। এরপর ধর্ষণের অভিযোগও দায়ের করেন তিনি।

অভিনেত্রী জানান, ২০১৫-১৬ সাল নাগাদ অনুরাগ কাশ্যপের কাছে অডিশন দিতে গিয়েছিলেন তিনি। ওই সময় অনুরাগ তাকে ঘরের মধ্যে ডেকে নিয়ে গিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত করেন প্রথমে। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে পর্নো ছবি চালিয়ে পায়েলকে শয্যা সঙ্গিনী করার চেষ্টা করেন।

পায়েল রাজি না হলে তিনি রিচা চাড্ডা, হুমা কুরেশিদের উদাহরণ টেনে আনেন। সেই সঙ্গে বলেন, হুমা-রিচাদের যখন ডাকেন তখনই নাকি তারা হাজির হন।

ওই সময় অনুরাগ ‘বম্বে ভেলভেট’ ছবির শুটিং করছিলেন। ফলে রণবীর কাপুরের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার জন্য যে কোনও মেয়ে তার শয্যা সঙ্গিনী হতে রাজি হয়ে যায় বলেও নাকি উল্লেখ করেন।

তবে পায়েল ঘোষের ওই অভিযোগের পর মুখ খোলেন অনুরাগের সাবেক দুই স্ত্রী। তারা জানান, ‘সেক্রেড গেম’ পরিচালক সব সময় নারী স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেন। তাই তিনি ওই ধরনের কোনও কাজ করতে পারেন না। আরও কয়েকজন অভিনেত্রীও অনুরাগের পক্ষে কথা বলছেন।

‘আই এম ওম্যানের’ গায়িকা হেলেন রেড্ডি আর নেই

নারীবাদী সংগীত ‘আই এম ওম্যানের’ গায়িকা অস্ট্রেলিয়ান সংগীতশিল্পী হেলেন রেড্ডি আর নেই। ৭৮ বছর বয়সে মারা গেছেন।

মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসে তিনি মারা যান বলে তার পরিবার ফেসবুকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। তার সন্তান ট্রেসি ডোনাট এবং জর্ডান সোমার্স তাকে ‘দুর্দান্ত মা, ঠাকুরমা এবং সত্যিকারের এক দুর্গম নারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
‘আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। তবে তার কণ্ঠ চিরকাল বেঁচে থাকবে, এজন্য আমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।’

রেড্ডির বেশ কয়েক বছর ধরে ডিমেনশিয়ায় (স্মৃতিভ্রংশ রোগ) ভুগছিলেন।

হেলেন রেড্ডি ১৯৪১ সালের ২৫ অক্টোবর মেলবোর্নে একটি শো-বিজনেস পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। রেড্ডি চার বছর বয়সে একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন।

তার “আই এম ওম্যান” ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত গান। তবে এর সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি “ডেল্টা ডন,” “অ্যাঞ্জি বেবি,” “লিভ মি এলোন (রুবি রেড ড্রেস)”সহ আরও বেশ কয়েকটি গান জনপ্রিয় হয়।

ষাটের দশকের শেষ এবং পুরো সত্তর দশকজুড়ে নারীমুক্তি আন্দোলনে হেলেন রেড্ডির গাওয়া ‘আই অ্যাম ওমেন’ (আমি নারী) গানটি একটি বিশেষ স্থান দখল করে ছিল। প্রায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাসিঞ্চিত সাদামাটা কথামালার এই গানটি অসংখ্য গানকে পিছে ফেলে বিলবোর্ড চার্টের ১ নম্বরে ছিল দীর্ঘদিন। গানটির বহুলপ্রচলিত সংস্করণটি বেরুয় ১৯৬৯ সালে, সঙ্গে সঙ্গেই সচেতন নারী সমাজের মন কেড়ে নয়। এক পর্যায়ে তা ‘নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের’ ‘জাতীয় সংগীত’-এ পরিণত হয়।

বলিউডের চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনা

বলিউড মানেই চাঞ্চল্যকর ঘটনার স্রোত। বলিউডের অন্দরে লুকিয়ে আছে নানা কেলেঙ্কারি, ঘটনা-দুর্ঘটনা। তার মধ্যে বাছাই করা কিছু ঘটনা নিচে তুলে ধরা হলো।

১. গুরু দত্তের আত্মহত্যা না কি দুর্ঘটনা

গুরু দত্ত ছিলেন পরিচালক, প্রযোজক, নায়ক। পঞ্চাশ ও যাটের দশকে একের পর এক ক্লাসিক হিন্দি ছবির জনক। ১৯৬৪-র ১০ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। মদের সঙ্গে প্রচুর ঘুমের ওষুধ খাওয়ার ফলে। তার ছেলের দাবি, দুর্ঘটনা। কিন্তু বলিউডের অধিকাংশ লোকের বিশ্বাস, আত্মহত্যা। পারিবারিক জীবনের দুঃখ, কাজের চাপ, আবেগপ্রবণ মনের কারণেই নাকি তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। গুরু দত্ত আগেও আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন। তৃতীয়বারে সফল হন।

২. সঞ্জয় দত্ত ও মাদক

মাদক নিয়ে এখন তোলপাড় বলিউড। কিন্তু সঞ্জয় দত্ত নিজেই জানিয়েছিলেন তার মাদকাসক্তির কথা। ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকার কনক্লেভে সঞ্জয় দত্ত জানান, কলেজে পড়ার সময় তিনি মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। দশ বছর লেগেছিল তার ওই মাদকের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে। রিহ্যাবে যেতে হয়েছিল। আর বাবা সুনীল দত্ত ছেলের পাশে থেকে তার নেশামুক্তি ঘটিয়েছিলেন।

৩. সঞ্জয় দত্তের অস্ত্র কেলেঙ্কারি

১৯৯৩ সাল। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে মুম্বাই। সেই বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত আবু সালেম ও রিয়াজ সিদ্দিকির কাছ থেকে অস্ত্র নিয়েছিলেন সঞ্জয়। তাকে টাডায় গ্রেফতার করা হয়। মুম্বাই বিস্ফোরণেও জড়ানো হয়। সঞ্জয় অস্ত্র নেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরিবারের সুরক্ষার জন্য নিয়েছিলেন। মুম্বাই বিস্ফোরণের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও বেআইনি অস্ত্র রাখার দায়ে তার ছয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।

৪. সালমান খান ও কৃষ্ণসার হরিণ

১৯৯৮ সাল। যোধপুরে শুটিং করতে গিয়েছিলেন সালমান খান এবং অন্য তারকারা। তখনই সালমান একটি কৃষ্ণসার হরিণ মারেন বলে অভিযোগ। নিম্ন আদালতে তার পাঁচ বছরের জেল হয়। কিন্তু তার সঙ্গে থাকা সাইফ আলি খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে দেয় আদালত। সালমান এক সপ্তাহ জেল খাটেন। এখন তিনি জামিনে। তার শাস্তির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন।

৫. সালমান খান এবং হিট অ্যান্ড রান

চার বছর পর অর্থাৎ ২০০২ সালে সালমান আবার গ্রেফতার হন বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে একজন ফুটপথবাসীকে মারা ও তিনজনকে আহত করার দায়ে। ২০১৫ সালে মুম্বাইয়ের সেশন কোর্ট সালমানকে দোষী বলে রায় দেয় ও জানায় তিনি মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার পাঁচ বছরের জেল হয়। কিন্তু যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ না থাকায় হাইকোর্ট তাকে অভিযোগমুক্ত বলে ঘোষণা করে। এখন মামলা সুপ্রিম কোর্টে।

৬. একের পর এক আত্মহত্যা

সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যা বা মৃত্যুরহস্য নিয়ে তোলপাড় বলিউড। কিন্তু শুধু গুরু দত্ত বা সুশান্ত নন, প্রচুর বলিউড তারকা আত্মহত্যা করেছেন। ১৯৯৬-তে সিল্ক স্মিতা, ২০০৫ এ ময়ূরী, ২০০৮-এ কুনাল সিং, ২০১৩-তে জিয়া খান, ২০১৫তে শিখা জোশী, ২০১৬-তে প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়, ২০১৭তে নীতিন কাপুর এবং তারপর ২০২০-তে সুশান্ত সিং রাজপুত। অবশ্য সুশান্তের মৃত্যুরহস্য নিয়ে এখন তদন্ত করছে সিবিআই।

৭. বলিউড ও মি টু

মি টু মুভমেন্টের আঁচ ভালো করেই লেগেছিল বলিউডে। শুরু হয়েছিল নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রী দত্তের অভিযোগ দিয়ে। তারপর একের পর এক অভিনেতা মি টু-তে বিদ্ধ হয়েছেন। যেমন অলোক নাথ। টিভি প্রযোজক বিনতা নন্দা অভিযোগ করেন, অলোক নাথ তাকে ধর্ষণ করেছেন। অলোক নাথ অস্বীকার করেন। একাধিক অভিনেত্রীর অভিযোগ, অলোকনাথের হাতে তাদের লাঞ্ছিত হয়ে হয়েছে। মি টুতে বিদ্ধ হয়েছেন কৈলাশ খের, সালমান খান, সাজিদ খান, অণু মালিকরাও।

৮. মাদক ও দীপিকা

সুশান্তের মৃত্যুর পর তদন্ত করতে নেমে মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে। কিন্তু সেখানেই মাদককাণ্ড শেষ হয়নি। সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনসহ চার নায়িকাকে জেরা করে নারকোটিকস ব্যুরোর কর্মকর্তারা। পাঁচ ঘণ্টা জেরার পর দীপিকার ফোন সিজ করা হয়। দীপিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি পার্টির জন্য মাদক জোগাড় করেছিলেন।

৯. সারা আলি খানকেও জেরা

শুধু দীপিকা পাড়ুকোন নয় সারা আলি খান এবং শ্রদ্ধা কাপুরকেও জেরা করেছে নারকোটিকস ব্যুরোর কর্মকর্তারা। সারার বিরুদ্ধেও মাদককাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। তার মোবাইলও নিয়ে নিয়েছে নারকোটিকস ব্যুরো। মাদককাণ্ডে এই নায়িকাদের যোগাযোগ নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন দেখা দিয়েছে বলিউডে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

দালানের স্বপ্নে বাঁশতলায় ঠাঁই বিধবা আলকুমা’র!

স্বামী গত হবার পর নিজেদের মাটির কুঁড়েঘরেই দিনযাপন করছিলেন বিধবা আলকুমা বেগম (৫০)। ভাঙাঘর জোড়াতালি দিয়ে মাদরাসা পড়ুয়া একমাত্র মেয়েকে নিয়ে দিন কাটছিল তার। টুকটাক অন্যের সাংসারিক কাজ-কর্ম ও মানুুষের সাহায্যে জীবন-জীবিকা চলছিল মা-মেয়ের। এ অবস্থায় তাদের দালান ঘর নির্মাণের স্বপ্ন দেখান পাশের বাড়ির মৃত মাসুম মিয়ার ছেলে মাওলানা বেলাল আহমদ।

তিনি বিধবার কুঁড়েঘরের ছবি ও ভিডিওচিত্র স্যোসাল মিডিয়ার ছড়িয়ে দেন। লাইভে সাহায্য চান ঘর নির্মাণের জন্যে। বিভিন্ন ভাবে সংগ্রহ করেন বিপুল অর্থও। পরে বিধবার জন্যে দায়সারা ঘর নির্মাণ করে ফেলে রাখেন তিনি। বিধবা আলকুমার ঘর অসম্পূর্ণ রেখেই বেলাল নিজের ভিটায় নির্মাণ করেন নতুন ঘর। এদিকে নতুন ঘরের আশায় কুড়েঘর ভেঙে মেয়ে নিয়ে দীর্ঘ ছ’মাস ধরে বাঁশতলায় খড়কুটোর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন বিধবা আলকুমা। ঘটনাটি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বাগ বাড়ি গ্রামের। আলকুমা ওই গ্রামের মৃত চেরাগ আলীর স্ত্রী।
সরেজমিন বাগ বাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আলকুমা বেগমের আগের ভাঙা কুঁড়েঘর’র ঠিক পেছনে দু’কামরার একটি নির্মানাধীন ঘর রয়েছে। উপরের ছাদ বা টিনের চালা নেই। অসম্পূর্ণ এ ঘরটি বর্তমানে ব্যবহার অনুপযোগী। কিছু দূরে বাঁশতলায় খড়কুটোর ঘরে মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বিধবা আলকুমা বেগম। তার দু:খের শেষ নেই। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ঘর নির্মাণের জন্যে টাকা উঠলেও শেষ হয়নি ঘরের কাজ। ভিটে থেকে গাছও কেটে দিতে হয়েছে। তবুও এখন আমাদের মাথা রাখার জায়গাও নেই। খড়ের ঘরে কাঁদা-পানিতেই বর্ষা কাটিয়েছি। আমরা এখন কোথায় যাবো? কার কাছে বলবো এসব.? কে শুনুবে গরীবের কান্না?

গ্রামবাসীরা জানান, মাওলানা বেলাল আহমদ ওরফে বিশটেকি মোল্লা শুধু বিধবা আকলিমার সাথেই নয়, প্রতারণা করেছেন আরো অনেকের সাথে। গ্রামের সহজ-সরল লোকদের বিভিন্ন ভাবে লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন অর্থ। এমনকি মসজিদের পাশে মক্তব নির্মাণের নামে টাকা সংগ্রহ করলেও কাজ শেষ করেননি। দেননি নির্মাণ শ্রমিকদের পারিশ্রমিকও। যে কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন, সে কাজ না হলেও বেলালের নিজের কাজ হয়েছে ঠিকই। এছাড়াও গ্রামের যুবক ফয়জুল করিমকে বিদেশ পাঠানোর নামেও আত্মসাত করেন সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা।

গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী মো. জামাল মিয়া বলেন, তার প্রতারণায় আমরা অতিষ্ঠ। সে বিধবা আলকুমাকে চরম বেকায়দায় ফেলেছে। আর মসজিদের মক্তব নির্মাণে আমাদের সাথে করেছে ‘দু’নম্বরি’। এখন জিজ্ঞেস করলে বলে, তার নিজের কাজই শেষ করতে পারছেনা। শেষ হলে পরে এসব বিষয় দেখবে।

এসব বিষয়ে জানতে মাওলানা বেলাল আহমদের বাড়ি গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মুঠোফেনে কথা হলে তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম স্বামীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দাতারা অর্থ বন্ধ করে দেয়ায় বিধবার ঘর ও মসজিদের মক্তবের কাজ সর্ম্পূূণ করতে পারেননি তার স্বামী। টাকা আসলে নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। আর ভিসার জন্যে ফয়জুল ৩ লাখ নয়, দিয়েছিল ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। পরে ক্রমান্বয়ে তার টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি পরিষদ সদস্য ফখর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কি বলবো এগুলো তার (বেলালের) বাটপারি। বিধবা আলকুমার সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা আমানবিক। তার ঘর নির্মাণের জন্যে অর্থ সংগ্রহ করে বেলাল আত্মসাত করেছে। একই কায়দায় ঝুলিয়ে রেখেছে মসজিদের মক্তবও নির্মাণের কাজও। আমরা বিধবার ঘর ও মসজিদের মক্তব নির্মাণের হিসেব চাইলে সে পালিয়ে বেড়ায়। আর বিদেশ পাঠানোর নামে ফয়জুলের আত্মসাত করা অর্থও এখনও পুরোটা ফেরত দেয়নি সে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেন, সরেজমিন গিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিডি প্রতিদিন