মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী জানালেন
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু মঞ্চের পাশেই হবে ইন্দিরা মঞ্চ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর অবদান অনস্বীকার্য। এদেশের জন্য বিশ্বে তিনি জনমত গঠন করেছেন। আমাদের স্বাধীনতা আর্জনে তিনি অনেক ভূমিকা রাখলেও আমরা তাকে সেভাবে সম্মান করতে পারিনি। তাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু মঞ্চের পাশেই আমরা ইন্দিরা মঞ্চ তৈরি করবে।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক কমিটি আয়োজিত ইন্দিরা গান্ধীর স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ইন্দিরা গান্ধী যেসময় স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন, তখন ভারতের কিছু ব্যক্তি বাধা সৃষ্টি করেছিল। তিনি তাদের জানান -আমি ন্যায় ও জনগণেরর পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। একইভাবে আমেরিকাতে একদল সাংবাদিক তাকে পাকিস্তান যুদ্ধের উসকানিদাতা হিসেবে প্রশ্ন করেন। জবাবে ইন্দিরা বলেছিলেন, জনগণের মুক্তির জন্য আমার অবস্থান। আমি জনগণের পক্ষে।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের ন্যায়সংগত অধিকার বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছিলেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছেন। এসব সহযোগিতা না পেলে মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হত।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের সব বর্ডার খুলে দিয়েছেন আমাদের জন্য, এক কোটি মানুষকে আশ্রয়, খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন, ২ লাখ মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। অথচ এতো অবদানের পরও আমরা ইন্দিরা গান্ধীকে সেভাবে সম্মান দিতে পারিনি, তার সম্মানে কিছু করতে পারিনি।

এতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম, বিএসএমএমইউ’র সাবেক ভিসি ডা. কামরুল হাসান সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সংগঠনটির আহ্বায়ক নিম চন্দ ভৌমিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. ফজলে এলাহী প্রমুখ।

অক্টোবরেই আক্রান্ত ১৩৮ জন
ঢাকায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ঢাকায় বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরের রোগী। অক্টোবরেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাতজন। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর মূল মৌসুম শেষ হওয়ার পর বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগী। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিনের থেমে থেমে বৃষ্টিতে এডিস মশার লার্ভা বংশবিস্তার ও বৃদ্ধির সুযোগ পেয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। দ্রুত মশার বংশবিস্তারের উৎস নির্মূল করলে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৬০২ জনের। গতকাল ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৯ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলতি বছর ডেঙ্গু সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। আইইডিসিআর এখন পর্যন্ত দুটি মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে একজনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ জন, মার্চে ২৭ জন, এপ্রিলে ২৫ জন, মে মাসে ১০ জন, জুনে ২০ জন, জুলাইতে ২৩ জন, আগস্টে ৬৮ জন, সেপ্টেম্বরে ৪৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা এর আগের সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, ২০১৯ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু জ্বরে মারা গিয়েছেন ১৭৯ জন। এ বছর ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব যাচাইয়ে জরিপ পরিচালতি হয়েছে। জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ২৫টি ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে। ‘ডিসেমিনেশন অন মুনসুন এডিস সার্ভে-২০২০’ নামের জরিপের ফলাফলে এ তথ্য উঠে আসে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ১০০টি এলাকায় (ডিএনসিসি ৪১টি এবং ডিএসসিসি ৫৯টি) দুই হাজার ৯৯৯টি বাড়িতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের ভেক্টরের ওপর এই জরিপ কাজ পরিচালিত হয়। জরিপে বলা হয়েছে, উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৬টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার সূচক ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। তবে উত্তরে ১৭ নম্বর এবং দক্ষিণে ৫১ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি হলে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়। সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নতুন গন্তব্য তুরস্ক ও দুবাই
চিকিৎসার জন্য আবারো বিদেশমুখী উচ্চবিত্তরা

চিকিৎসা নিতে উচ্চবিত্তদের গন্তব্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এমনকি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রও। আর মধ্যবিত্তরা যায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে। কয়েক বছর ধরেই বিদেশগামী রোগীদের মধ্যে এ প্রবণতা চলে আসছে। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে হঠাৎ করে এ ধারায় সাময়িক ছেদ ঘটে। বিশ্বব্যাপী লকডাউনে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়ায় ধনী-গরিব সবাইকেই চিকিৎসা নিতে হয়েছে দেশেই। তবে ফ্লাইট চলাচল শুরু হওয়ায় আবারো চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে শুরু করেছে সামর্থ্যবানরা।

উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের সামর্থ্যবান নাগরিকদের প্রথম পছন্দ সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে ব্যাংককের ভিসা। মালয়েশিয়াতেও বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশীদের ভিসা। সিঙ্গাপুর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশীদের ভিসা দিলেও রয়েছে কঠিন নিয়মের বেড়াজাল। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সিঙ্গাপুরে পৌঁছার পর হোটেল কক্ষেই ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয়, যা বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এর পরই শুরু হয় চিকিৎসা প্রদান। এ কারণে বাংলাদেশীরা এখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য উচ্চবিত্তের কাছে নতুন গন্তব্য তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই।

ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সংশ্লিষ্টরা জানান, আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে তুরস্ক ও দুবাইয়ে চিকিৎসা সেবাগ্রহীতাদের যাতায়াত। দেশ দুটিতে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন বাংলাদেশী চিকিৎসা নিতে গিয়েছে। সে হিসেবে গত তিন মাসে চিকিৎসার জন্য তুরস্ক ও দুবাই গিয়েছে আড়াই হাজারের বেশি সামর্থ্যবান বাংলাদেশী।

নিয়মিত বিদেশে চিকিৎসা সেবা নেয়া এমনই একজন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। স্বাভাবিক সময়ে মেডিকেল চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে যেতেন তিনি। কিন্তু করোনার কারণে সিঙ্গাপুরের ভিসা বন্ধ থাকায় চলতি মাসের মাঝামাঝি দুবাই যান এ ব্যবসায়ী। মেডিকেল চেকআপ শেষে ২৩ অক্টোবর দেশে ফিরে আসেন তিনি।

জসিম উদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী শহীদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, স্যার নিয়মিত সিঙ্গাপুরে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে থাকেন। কিন্তু করোনার কারণে সেখানকার ভিসা বন্ধ থাকায় দুবাইয়ে গিয়ে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে এসেছেন। তিনি দুবাইয়ের আমেরিকান হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়েছেন। স্যার ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।

করোনার কারণে মার্চের মাঝামাঝি থেকেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আকাশপথে নিয়মিত যোগাযোগ। সেই সঙ্গে বন্ধ থাকে মেডিকেল ট্যুরিজমও। তবে গত জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এয়ারলাইনস এবং জুলাই থেকে তুরস্কের এয়ারলাইনস বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু করে। প্রথমদিকে ট্রানজিট যাত্রী পরিবহন করলেও পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ ও চিকিৎসা ভিসায় বাংলাদেশীদের প্রবেশাধিকার দিতে শুরু করে দুবাই ও ইস্তাম্বুল। এরপর থেকেই চিকিৎসা নিতে উচ্চবিত্তরা দেশ দুটিতে যেতে শুরু করে।

মেডিকেল ট্যুরিজম খাতের সঙ্গে যুক্তদের দেয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশীদের দুবাইয়ের চিকিৎসা নিতে যাওয়া হাসপাতালের মধ্যে প্রথম পছন্দ হলো এস্টার হাসপাতাল। মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে প্রতিষ্ঠানটির ২৫টি হাসপাতাল ও ১১৬টি ক্লিনিক রয়েছে। এ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বেশির ভাগই ভারতীয়। তাদের আবার ভারতেও হাসপাতাল রয়েছে। তবে দুবাই সার্জারি খুবই ব্যয়বহুল। ডিএনএ বা এইচএলএ টাইপিং টেস্টের খরচ বাংলাদেশ ও ভারতে হয় ১৫-২০ হাজার টাকায়। কিন্তু সেই টেস্ট দুবাইয়ে করতে হয় ২৮ হাজার দিরহাম বা ৪ লাখ টাকায়। বিশেষ করে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ টেস্ট করাতে হয়। উচ্চবিত্তদের জন্য দুবাইয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো থাকলেও বড় বড় সার্জারি করার সক্ষমতা তাদের তেমন নেই। সেখানে ভারতীয় চিকিৎসকরা গিয়েই সার্জারি করেন।

তুরস্ক আগে থেকেই মেডিকেল ট্যুরিজমে উন্নত। কিন্তু আগে বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের বিমান ভাড়া অনেক বেশি ছিল। তাই দেশটিতে চিকিৎসা নিতে আগ্রহীর সংখ্যা কম ছিল। আর মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের ভিসা বন্ধ থাকায় উচ্চবিত্তরা দুবাই ও তুরস্কে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা চালু হলে রোগীরা এ দুই দেশে তেমনটা যাবে না বলে মনে করেন এ খাতে কাজ করা ব্যক্তিরা।

ভ্রমণ ও ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান নিউ ডিসকভারি ট্যুরস অ্যান্ড লজিস্টিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আলম ভূইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশী উচ্চবিত্তরা নিয়মিত যেসব দেশে চিকিৎসা সেবা নিতে যেতে, করোনার কারণে এবার সেখানে প্রবেশাধিকার নেই তাদের। এ কারণে বিকল্প হিসেবে তুরস্ক এবং দুবাইয়ে যাচ্ছে তারা। তবে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার তুলনায় এ দুটি গন্তব্যে চিকিৎসা খুবই ব্যয়বহুল। তাই ফ্লাইট স্বাভাবিক হলে উচ্চবিত্তরা আবারো চিকিৎসায় ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরমুখী হবে বলে ধারণা করা যায়।

স্বাভাবিক সময়ে ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশী রোগী চিকিৎসার জন্য ছুটে যায়। হূদরোগ, ক্যান্সার, কিডনি ও চোখের সমস্যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী যায় ভারতে। এক্ষেত্রে ক্যান্সারের জন্য দিল্লি, চেন্নাই, চোখের জন্য চেন্নাই ও কলকাতাকে বেছে নেয় তারা। ২০১৭ সালেই মেডিকেল ভিসায় ভারতে চিকিৎসা নিয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৭৫১ জন বাংলাদেশী।

বিশ্বস্ত, সৎ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং তুলনামূলক কম সময়ে অস্ত্রোপচার ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা থাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশী থাইল্যান্ডে চিকিৎসা সেবা নেয়। সরকারি হিসাবে ২০১৭ সালে ৬৫ হাজার বাংলাদেশী রোগী দেশটিতে সেবা নিয়েছে। যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। গন্তব্য হিসেবে থাইল্যান্ডের পরই বাংলাদেশী রোগীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরো দুই দেশ সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। সিঙ্গাপুরে গত বছর চিকিৎসা নিয়েছে ২৫ হাজার বাংলাদেশী। সুত্র: বণিক বার্তা

৫ মাসে বেড়েছে ৮ বিলিয়ন ডলার
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৪১ বিলিয়ন ডলার

প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গতকাল দিন শেষে দেশের রিজার্ভ নতুন এ উচ্চতায় পৌঁছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ১০৩ কোটি ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা ৩ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে দেশের প্রায় ১০ মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব।

নভেল করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশের আমদানি খাত। ব্যবসা, ভ্রমণ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশীদের বিদেশ যাত্রাও প্রায় বন্ধ। অন্যদিকে রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফনের পাশাপাশি রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোয় ক্রমেই বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্সের বড় প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়াতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, জুন থেকে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। প্রবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। দেশের রফতানি খাতও করোনাসৃষ্ট বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শীর্ষ দুটি খাতের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ দাতা সংস্থাগুলোর ঋণসহায়তা বাড়ছে। এতে রিজার্ভের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। একই সময়ে রফতানি আয়ে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুটি উৎস ইতিবাচক ধারায় থাকলেও ব্যয়ের খাত সংকুচিত হয়েছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় কম হওয়ায় সরকারের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ৩৫৩ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত থেকেছে। যদিও কয়েক বছর ধরে চলতি হিসাবে বড় ঘাটতি ছিল।

গত ৩ জুন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪ জুন সেই রিজার্ভ আরো বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ৩০ জুন রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর ২৮ জুলাই রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরও অতিক্রম করে। তিন সপ্তাহ পর গত ১৭ আগস্ট রিজার্ভ ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। পরে তা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। ৮ অক্টোবর রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকও ছাড়িয়ে যায়। উন্নতির এ ধারাবাহিকতায় অক্টোবর শেষ হওয়ার আগেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল।

নভেল করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারীতে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েছেন বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এক কোটির বেশি বাংলাদেশী। মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের বড় অংশই কর্মস্থলে ফিরে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবের নতুন ভিসা বন্ধ। ছুটিতে দেশে ফেরা ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশী এখনো সৌদি আরবে ফিরতে পারেননি। অন্যতম শ্রমবাজার কুয়েতে ফিরতে পারছেন না ছুটিতে দেশে আসা বাংলাদেশীরা। তার পরও চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দেশের রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত আছে চলতি মাসেও। মূলত প্রবাসীদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ভর করেই ৪১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে রিজার্ভ।

ভার্চুয়াল সংলাপে বক্তারা
পিপিপিতে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করতে পারে চীন

চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে বড় কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী চীন। গতকাল এক ভার্চুয়াল সংলাপে আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে।

গতকাল ‘বাংলাদেশ-চায়না ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন: এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড আউটলুক’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। ভার্চুয়াল সংলাপটিতে সভাপতিত্ব করেন সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। প্রধান অতিথি হিসেবে সংলাপে যুক্ত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামানও যুক্ত ছিলেন সংলাপে।

সংলাপে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল আ ন ম মুনিরুজ্জামান এনডিসি পিএসসি (অব.), ইনস্টিটিউট ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ ইউনানের সামাজিক বিজ্ঞান একাডেমি কুনমিং চীনের অধ্যাপক চেং মিন এবং চীনের বেইজিংয়ের দক্ষিণ এশিয়ান স্টাডিজ ইনস্টিটিউট অব কনটেম্পোরারি ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. ওয়াং শিদা।

সংলাপে টিকা কূটনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) এবং ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির (আইপিএস) মতো বৈশ্বিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সংলাপের উদ্দেশ্য ছিল চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করা এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা।

সংলাপের প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের চাহিদা জানতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে খুব নিবিড়ভাবে কাজ করছি। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ৮০০ একর জমিতে চীনা ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা হওয়ায় দেশটির বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ছে।

দুদেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। কভিড-১৯ অবস্থার উন্নতি হলে এ-জাতীয় আরো উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হবে।

সংলাপে সিপিডির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, চীন যদি বাংলাদেশকে উন্নয়নের কৌশলগত বন্ধু হিসেবে নিয়ে থাকে, তাহলে চীনের বিআরআইয়ে (বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ) যুক্ত করার জন্য কাজ করতে হবে। চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে বড় কাজ করতে পারে। সম্প্রতি চীন বাংলাদেশের প্রায় আট হাজার পণ্য রফতানিতে যে শূন্য শুল্কের সুবিধা দিয়েছে, তাতে বাংলাদেশের মূল রফতানি পণ্য থাকতে হবে, নাহলে এর সুফল বাংলাদেশ নিতে পারবে না। সুত্র: বণিক বার্তা

অর্ণবের নতুন স্ত্রী, কে এই সুনিধি নায়েক

শান্তিনিকেতনের সুনিবিড় ছায়ায় মুগ্ধতা। মুগ্ধতার মাত্রা ছড়ায় বন্ধুমহলের আড্ডায়, এরপর জন্মদিনে বই উপহার। খুনসুটি, ধীরে ধীরে প্রণয়, অতঃপর এক হেমন্তের দুপুর সাক্ষী হয়ে রইল অর্ণব-সুনিধির পরিণয়ের।

অর্ণবের ভক্তদের সুনিধির কথা এরই মধ্যে জানা। বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে এবং তাদের প্রেমের কথাও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন তারা। এবার নিজেদের সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিলেন এই জুটি। বুধবার কলকাতার নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির এক পোস্ট ঘিরে আলোচনায় আসে অর্ণবের বিয়ের বিষয়টি।

সুনিধি নায়েক সম্পর্কে টেলিভিশন অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানলেও ‘তবে থাক’ গান দিয়ে প্রকাশ্যে আসেন কিংবা আলোচনায় আসেন। তাঁদের সেই গানে মডেল হয়েছিলেন আফসানা মিমি।

সৃজিত অর্ণব-সুনিধি ও মিথিলার সঙ্গে একটি ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘হারিয়ে গিয়েছো, এইতো জরুরি খবর। অভিনন্দন অর্ণব ও সুনিধি নায়েক।’ সেই পোস্ট শেয়ার করে সুনিধি ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘অলরাইট’। এরপর জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে গতকাল অর্ণবের বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়।

পশ্চিমভঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীতে স্নাতকোত্তর পড়েছেন। তিনি একজন পেশাদার এসরাজ বাদক, দখল আছে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতে; মডেলিংও করেন। শান্তিনিকেতনে (বিশ্বভারতী) আয়োজিত ‘রবি অ্যান্ড র‌্যাবি’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সুনিধির কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন অর্ণব; জানিয়েছিলেন শুভ কামনা। সেই থেকে পরিচয়।

জেমসের ‘সুন্দরীতমা’ গাইলেন অর্ণব

এরপর বিভিন্ন বন্ধুমহলের আড্ডায় তাঁদের আলাপ বাড়তে থাকে। কলকাতায় সুনিধির জন্মদিনে অর্ণব বই উপহার দেন। বন্ধুত্বের আনুষ্ঠানিকতা মূলত এখানেই। যদিও তখনো প্রণয় উপস্থিত হয়নি, তবে খুনসুটি চলত। সুনিধি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সেই ছোট ছোট মুহূর্ত শেয়ার করেছেন। অর্ণব নাকি সুনিধিকে হাতের আঙুল দিয়ে বন্দুকের মতো তাক করে ঠিসিয়া করে দেন।

সুনিধি বলেন, ‘আমিও ওর দিকে ঠিসিয়া করে দিই। মূলত প্রণয়ে এভাবেই হেমন্ত শেষে শীতের কুয়াশার মতো জড়িয়ে পড়ে অর্ণব-সুনিধির জীবনে। একত্রে বেঁধে ফেলে কুয়াশার জালে। আর প্রণয় থেকে পরিণয় ঘটে, এক হেমন্তের দুপুরে।’

সুনিধি কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মেয়ে নন, আসামের মেয়ে। শান্তিনিকেতনে পড়তে এসেই রবীন্দ্র প্রেম, আর রবীন্দ্রপ্রেম থেকেই অর্ণব, এখন যার তিনি ঘরণী। এখন অবশ্য দুজনই কলকাতায় রয়েছেন।

সাহেদের চেয়েও বড় প্রতারক ‘ঢাকার নবাব’!

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তাঁর বাবার অংশীদারি রয়েছে। ওই হাসপাতালে ৭০০ নার্স নিয়োগ করা হবে। বিনা খরচে এসব লোককে বিদেশে পাঠানো হবে। নিজেকে ঢাকার নবাব পরিবারের বংশধর অর্থাৎ স্যার সলিমুল্লাহ খানের বংশধর হিসেবে পরিচয় দিয়ে আলী হাসান আসকারী নামের সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের এক দলনেতার বিরুদ্ধে সোয়া তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফেনীর চার শতাধিক দরিদ্র লোকের কাছ থেকে তিনি এই টাকা হাতিয়ে নেন। ভুক্তভোগী লোকজন এখন পথের ফকির। তাঁদের কেউ কৃষক, কেউ সবজি বিক্রেতা, আবার কেউ কারখানার শ্রমিক। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ধার করে টাকা নিয়ে একটু সুখের আশায় তাঁরা বিদেশ যেতে চেয়েছিলেন। এখন তাঁরা পথের ফকির। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও গোয়েন্দা তদন্ত বিভাগের সামনে এসব ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

এসব ভুক্তভোগীর পক্ষে এ বিষয়ে কথা হয় ফেনীর বিখ্যাত রাশিদীয়া মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল আহাদ সালমানের সঙ্গে। তিনি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে আসকারীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় তাঁর। এরপর আসকারী প্রথমে নিজেকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। সেই সঙ্গে তাঁর ফেসবুক প্রফাইলে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি দেখে সহজেই বিশ্বাস করে ফেলেন। পরিচয়ের এক পর্যায়ে তাঁদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা হয়। আসকারী তাঁকে তাঁদের মাদরাসায় স্থায়ীভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা দান করতে চান। এসব নিয়ে আলোচনার মধ্যেই আসকারীর কথামতো তিনি এলাকার যাঁরা সিঙ্গাপুর যেতে চান, এ রকম প্রায় ৪০০ লোক সংগ্রহ করেন। তাঁদের পাসপোর্ট হাতে নিয়ে বিষয়টি আসকারীকে জানালে আসকারী তাঁদের প্রত্যেককে মেডিক্যাল করতে হবে বলে জানান। এ জন্য প্রত্যেকের সাড়ে আট হাজার টাকা করে খরচ হবে। মেডিক্যালের কথা বলে তাঁদের দুই দফায় মোহাম্মদপুরের ঢাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন আসকারী। এখান থেকে শুরু তাঁর প্রতারণা। পরে প্রত্যেকের একটি করে নার্সিং সার্টিফিকেট জোগাড় করতে বলেন তিনি। নার্সিং সার্টিফিকেট ম্যানেজ করতে না পেরে তিনি এ বিষয়ে আসকারীর কাছে সহযোগিতা চান। এ সময় আসকারী বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) একজন কর্মকর্তার নাম্বার দিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। আসলে বিএমডিসির কথিত ওই কর্মকর্তা ছিলেন আসকারীর প্রতারণার সহযোগী রাজু ওরফে রাশেদ। রাশেদকে ফোন দেওয়ার পর তিনি কাজটি গোপনে করে দিতে পারবেন জানিয়ে এ জন্য প্রত্যেক সার্টিফিকেটের বিপরীতে ৭৫ হাজার টাকা করে দাবি করেন জানিয়ে সালমান বলেন, প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তাঁর সন্দেহ হলেও পরে রাজি হয়ে যান তিনি। বিদেশগামী চার শ ব্যক্তির কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা করে নিয়ে তিনি ছয় দফায় মোট সোয়া তিন কোটি টাকা আসকারী ও রাশেদের হাতে তুলে দেন। এর পর থেকেই আসকারী টালবাহানা শুরু করেন। পরে বুঝতে পারেন, তিনি আসলে প্রতারিত হয়েছেন।

সালমানের ভাষ্য, পরিচয়ের পর তিনি যখন আসকারীর সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় আসেন, তখন তাঁর সঙ্গে একবার ধানমণ্ডির একটি রেস্টুরেন্টে এবং পরে ধানমণ্ডির জাহাজবাড়ির সামনে দেখা করেন। আসকারী এ সময় তাঁকে জাহাজবাড়িটি তাঁর বাবার এবং বাবা সেটির সংস্কারকাজ করাচ্ছেন বলে সালমানকে জানান। সালমান বলেন, ‘নবাব পরিবারের বংশধর হিসেবে আমি তাঁর সব কথাই বিশ্বাস করেছি।’

রাকিবুল এহসান মিনার নামের একজন আসকরির বিরুদ্ধে লেখা চুরির আভিযোগ করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই প্রতারক ২০১৭ সালে আমার লেখা ১১ টি কবিতা নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি কেউই কিছু করতে পারেননি,নবাব পরিবারের সম্মানে সাংবাদিকেরাও নিউজ করেননি। আচ্ছা, তখন যে ভাইয়েরা আমাকে নবাব পরিবারের সম্মানের দোহাই দিয়ে প্রতিবাদ করতে দেননি আজ তারা কি বলবেন? বাংলার নবাব সলিমুল্লাহ্ খানের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে কিভাবে এতোটা নিচু কাজ করতে পারলেন? আমি তো সেদিনই আপনাকে চিনে গিয়েছিলাম যেদিন আপনার মতো মানুষ ছোটখাটো কবির লেখা চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিতে দুইবার ভাবেননি,আবার ইনবক্সে নক করার পর ব্লক করে দিয়েছিলেন, আজ কোথায় গেলো আপনার সব ক্ষমতা,কোথায় গেলো নবাবী? কোথায় পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীর প্রটোকল? আপনি না অক্সফোর্ড ও ঢাবির সভাপতি? আপনি না ২০০+ বইয়ের লেখক? আপনার উপর না ২৫ জন পিএইচডি করেছিলো? তাহলে এতো বড় সম্মানিত ব্যক্তির চরিত্র আজ জাতির সামনে এভাবে প্রকাশিত কেন হলো? নিশ্চই মহান আল্লাহ্ সুবিচারক,আলহামদুলিল্লাহ।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসকারী এ ধরনের প্রতারণা আরো অনেক মানুষের সঙ্গে করেছেন। প্রতারণার জন্য তিনি বহুরূপ ধারণ করতেন। তিনি কখনো নিজেকে নবাব সলিমুল্লাহ খানের বংশধর হিসেবে পরিচয় দিতেন, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুফু হিসেবে পরিচয় দেন। প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক আত্মীয় হিসেবে গণভবনে তাঁর অবাধ যাতায়াত রয়েছে বলে প্রচার চালাতেন। এখানেই শেষ নয় তাঁর প্রতারণা, জানান দুবাইয়ে আছে তাঁর গোল্ডের কারখানা। বাবা ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, থাকেন নিউ ইয়র্কে। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মালিকানায় অংশীদারি রয়েছে তাঁদের। বাবার কোটি কোটি টাকার ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি নিজেই। তাঁর ফেসবুক প্রফাইলে রয়েছে মন্ত্রী-এমপিসহ সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি। চলেন বডিগার্ড নিয়ে। নিজে থাকেন নেদারল্যান্ডসে। বছর পাঁচেক ধরে দেশে এসেছেন। দানবীর। এ রকম আরো অনেক পরিচয় তাঁর। কিন্তু আসলে সবই ভুয়া। সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করাই তাঁর আসল পেশা।

প্রতারণা করে এরই মধ্যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) হাতে পাঁচ সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি। গত মঙ্গল ও বুধবার টানা দুই দিনের অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় জানিয়ে সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিজেকে নবাব বংশের পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে আসকারী এরই মধ্যে দেশের অনেক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আসকারী একজন ভয়ংকর প্রতারক।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসকারী স্বীকার করেছেন, তাঁর এই প্রতারণার কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগী ছিলেন রাজুসহ আরো বেশ কয়েকজন। সুত্র: কালের কন্ঠ

কাদির কল্লোল বিবিসি বাংলা, ঢাকা
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লালমনিরহাটে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা, মৃতদেহে আগুন

বাংলাদেশে লালমনিরহাট জেলার পুলিশ জানিয়েছে, পাটগ্রাম এলাকায় শত শত মানুষ একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর তার মৃতদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, এক মসজিদে আছরের নামাজের পর ঐ ব্যক্তি ধর্মের অবমাননা করেছেন, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শত শত মানুষ জড়ো হয়ে পিটিয়ে ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করে তার মৃতদেহে আগুন দেয়ার ঘটনাটি ঘটেছে পাটগ্রামের বুড়িমারি ইউনিয়নে।

পিটিয়ে একজনকে হত্যা এবং রক্তাক্ত একটি মৃতদেহ আগুন দিয়ে পোড়ানোর ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বিবিসি বাংলাকে বলছেন, “যতটুকু শুনেছি দু’জন লোক মসজিদে হোন্ডা (মোটরসাইকেল) নিয়ে নামাজ পড়তে এসেছিল। আসরের নামাজ। তো নামাজ পড়া শেষে, যে কোনো কারণেই হোক তাদের সঙ্গে মসজিদে যারা ছিল, তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। ওনারা নাকি একটা শেলফে পা দিয়েছিলেন। তো সেটা নিয়ে কেউ বলছেন কোরআন শরীফের ওপর পা পড়েছে- এরকম একটা গুজব হয়তো ছড়িয়ে পড়েছে।”

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “তখন অনেক লোকজন জড়ো হয়ে যায়। সেসময় পুলিশ আসে। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের একজন মেম্বার তাকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের একটা রুমের মধ্যে আটকে রাখে। পরে পুলিশ আসলে হ্যান্ডওভার করবে এরকম। পুলিশ আসার মধ্যেই অনেক লোক জড়ো হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রিল ভেঙে বিভিন্ন দিক দিয়ে লোকজন ঢোকে।

”দুজন ছিল। তাদের একজনকে জোর করে নিয়ে যায়। ওসি একজনকে রেসকিউ করে সরিয়েছে। আরেকজনকে তারা ওইখানে পিটিয়ে মেরেছে। লাশটা তারা নিয়ে গেছে এবং আগুন দিয়েছে,” বিবিসিকে বলেন পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা।

তিনি আরও জানান, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন।

যে ব্যক্তিকে সেখানে হত্যা করা হয়েছে, তার পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তারা এখনও জানতে পারেন নি।

তবে সেই ব্যক্তির সাথে থাকা একজন, পুলিশ যাকে রক্ষা করতে পেরেছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তৌহিদুন্নবী বলে এক ব্যক্তি বিবিসির কাছে নিজেকে নিহতের ভাই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তার ভাইকে পিটিয়ে হত্যার খবর তারা প্রথমে লোকমুখে শুনেছেন। তারা বিস্তারিত জানতে পারেননি। তবে ঘটনাটি তাদের হতবাক করেছে।

তিনি জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি রংপুরে, কিন্তু তার ভাই কীভাবে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে গিয়েছে, সেটা তাদের কাছে বোধগম্য নয়। এই খবরে তাদের পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে তিনি বলেছেন।

তিনি বলেছেন, “আমরাও তো শুনছি। আমরা কনফার্ম না। আমরাতো কিছুই জানি না। আমরা অন্ধকারে আছি। এতটুকু শুনছি যে ও নাকি বুড়িমারি গেছে ওখানে নাকি লোকজন ওকে গণধোলাই দিছে। দিয়ে নাকি পিটায়ে মেরে ফেলছে। এই খবরটা পাইছি। ও রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের টিচার ছিল। একবছর আগে চাকরি থেকে অব্যাহতি পাইছে। মানসিক একটু অ্যাবনরমালিটি হয়ছিল। খুব যে সিভিয়ার তা না। এমনি একটু মানসিক বিপর্যস্ত ছিল এই আরকি। কারো সাথে কোনো রকম ঝামেলা ছিল না,” জানিয়েছেন তৌহিদুন্নবী।

নারীদের হিজাব, পুরুষদের টাকনুর ওপর পোশাক পরতে বললেন জনস্বাস্থ্যের পরিচালক

অফিস চলাকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘ড্রেস কোড’ নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবদুর রহিম। গতকাল বুধবার ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘অত্র ইনস্টিটিউটের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অফিস চলাকালীন সময়ে মোবাইল সাইলেন্ট/বন্ধ রাখা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুরুষ টাকনুর ওপরে এবং মহিলা হিজাবসহ টাকনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আবশ্যক এবং পর্দা মানিয়া চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে ডা. মুহাম্মদ আবদুর রহিম গণমাধ্যমকে জানান, তার ওই নির্দেশনা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য। তিনি বলেন, ‘টাকনুর ওপরে যদি পুরুষ কাপড় পড়ে তাহলে তার কোনো গুনাহ নাই। টাকনুর নিচে পরলে সে কবিরা গুনাহ করল। একইভাবে নারীদের জন্যও সেটা প্রযোজ্য, নারীরা পর্দার ভেতরেই সুন্দর। টাকনুর নিচে কাপড় পরলে তার কবিরা গুনাহ হবে না।‘

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে এমন বিজ্ঞপ্তি দিতে পারেন কি না, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক বলেন, ‘আমি আমার অফিসের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের দেশ মুসলিম কান্ট্রি, আমাদের দেশে, আমার অফিসে যদি এভাবে সজ্জিত হয় আমার কাছে ভালো লাগবে।’সূত্র: আমাদের সময়

বিবস্ত্র করে নারীকে নির্যাতন : জড়িত স্বামী, দায় এড়াতে পারেন না এএসপি-ওসি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে নিজ ঘরে ধর্ষণচেষ্টা ও বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামীও জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এএসপি, ওসিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কেউই দায় এড়াতে পারেন না বলে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে (ভার্চুয়াল) এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে নিজ ঘরে ধর্ষণচেষ্টা ও বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ফৌজদারি মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন চান হাইকোর্ট। ২৮ অক্টোবর ওই প্রতিবেদন জমা দিতে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আজ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।

 

গত ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৩২ দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ৪ অক্টোবর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সূত্র: আমাদের সময়