বাল্যবিবাহ ও মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা সভা

রবিবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন সময়ে বাল্যবিবাহের অবস্থা ও শহরের বস্তিতে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইউএনএফপিএ দুইটি স্টাডি রিপোর্টের উপর আলোচনা অনুষ্ঠান এর আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভিন, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুক। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মাসাকি ওয়াতাবে।

অনুষ্ঠানে, গবেষকরা ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বাল্যবিবাহ: একটি দ্রুত অধ্যয়ন’ এবং ‘বাংলাদেশের শহুরে বস্তিতে নারী ও কিশোরী মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।

ঘরে বসে ডায়াবেটিস সামলান

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নিয়মিত রক্তের সুগার পরিমাপ করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত সুগারের লেভেল পর্যবেক্ষণে রাখলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্রের নাম গ্লুকোমিটার। এই যন্ত্রের সাহায্যে ঘরে বসেই রক্তের সুগার (অর্থাৎ, ডায়াবেটিসের মাত্রা) কত পয়েন্ট তা নির্ণয় করা যায়।

ঘরে বসে যেভাবে ডায়াবেটিস সামলাবেন

 

১। ঘরে বসে রক্ত সুগার টেস্ট করুন নিয়মিত।
আছে গ্লুকোমিটার। আঙ্গুলের ডগা থেকে রক্ত মেশিনে প্রবেশ করালে ডিজিটাল ডিসপ্লে পাবেন।
২। ডাক্তারের পরামর্শ নিন কখন মাপবেন-খালি পেটে, ব্যায়ামের পর, নাকি শোবার আগে, নাকি যখন মনে হবে কমেছে তখন?
৩। গ্লুকোজ মান খুব বেশি পেলে বা কম পেলে কি করবেন ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন।কখন কত টার্গেট পেরিয়ে গেলে ডাক্তার দেখাবেন।
৪। ফলাফল সব নথি ভুক্ত করুন

ওজন কত নজর করুন

শরীরে বাড়তি ওজন? ওজন কমালে অবশ্য কমবে রক্তের সুগার।

ওজন কমানোর উপকারিতা

* ওজন কমালে রক্তে সুগারের পরিমাণ কমবে ও রক্ত চাপ হ্রাস পাবে।
* কোলেস্টেরল মান উন্নত হবে।
* ওজন কমালে পায়ে চাপ কম পড়বে।
* শরীরে কর্মক্ষমতা বাড়বে ও শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হবে।

ওজন কমানোর পরিকল্পনা করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

ঘুম ও ডায়াবেটিস

বিশ্রাম ভাল না হলে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বড় কষ্ট। ঘুম ভাল হচ্ছে না মানে রক্তের সুগার ভাল নিয়ন্ত্রণে নেই। ঘুমের গুনগত মান বড় গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সমস্যা হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

আরও যা করতে পারেন

* শিথিলায়ন চর্চা করুন
* নিয়মিত ব্যায়াম
* ধূমপান ও কফি পান নয়

এছাড়াও ইয়োগা, ব্রিদিং ব্যায়াম, রিফ্লেক্সোলজি করা যেতে পারে।

বিডি-প্রতিদিন

লবঙ্গ চা পানে স্বাস্থ্যের কী কী উপকার হয়, জানেন?

সাধারণত খাবার সুস্বাদু করতে দৈনন্দিন রান্নায় আমরা বিভিন্ন ধরনের মসলা ব্যবহার করি। এগুলোর কিন্তু নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। কারণ, বেশির ভাগ মসলাই পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে লবঙ্গ এমন একটি মসলা, যা ওজন কমানোর পাশাপাশি ইমিউনিটি বৃদ্ধি, জ্বর ও সর্দি-কাশি সারাতে দারুণ কার্যকর। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। শুধু লবঙ্গ যেমন ভালো, ঠিক তেমনই লবঙ্গ চা খাওয়াও কিন্তু দারুণ উপকারি।

লবঙ্গ চা তৈরির পদ্ধতি

সসপ্যানে দুই কাপ পানি দিন। পানি ফুটে উঠলে গ্যাস বন্ধ করে দিন। এতে কয়েকটা লবঙ্গ গুঁড়ো করে দিন, এর সঙ্গে আদা থেঁতো এবং দারুচিনি মিশিয়ে ১৫ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন। তারপর চা ছেঁকে নিয়ে তাতে ১ চা চামচ মধু এবং ১ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন।

 

 

লবঙ্গ চা পানে স্বাস্থ্যের কী কী উপকার হয়-

ওজন কমায়

এই চা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। কারণ, এতে ব্যবহৃত মসলাগুলো মেটাবলিক রেট উন্নত করতে সাহায্য করে, যা ফ্যাট-বার্ন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করে।

স্কিন ইনফেকশন নিরাময় করে

লবঙ্গে অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্যে রয়েছে, যা ত্বকের নানা সমস্যা নিরাময় করতে পারে এবং শরীর থেকে টক্সিন দূর করে। এ ছাড়াও এই চা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়, যা চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়া আটকায়।

সাইনাস থেকে মুক্তি দেয়

লবঙ্গ চা সাইনাস থেকে মুক্তি দিতে পারে। এতে রয়েছে ভিটামিন ই এবং ভিটামিন কে, যা আমাদের শরীরকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে বাঁচায়। এই চা জ্বর নিরাময়েও দারুণ কার্যকর।

মাড়ি এবং দাঁতের ব্যথা কমায়

লবঙ্গ দাঁতের ব্যথা এবং ফোলা মাড়ি থেকে মুক্তি দেয়। এই চা আমাদের মুখ থেকে ব্যাকটেরিয়া দূর করতেও সাহায্য করে। এর ফলে দাঁতের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি মেলে।

লবঙ্গ চায়ের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

দিনে একবার বা দুবার লবঙ্গ চা পান স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তবে অত্যধিক পান করলে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা, পেশী ব্যথা এবং শারীরিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদের অবশ্যই এই চা পানের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হবে।

এই চা পান করার পর যদি বমি বমি ভাব অনুভব করেন, তবে খাওয়া বন্ধ করাই ভালো। আর লবঙ্গ চা পানের পরে শরীর খুব খারাপ হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কান খোঁচানোর অভ্যাস ত্যাগ না করলে ভয়াবহ বিপদ

অনেকে পরিষ্কার করার নামে, কেউ আরাম পেতে, অনেকে আবার অযথাই কান খুঁচিয়ে থাকেন। কোনো অস্বস্তি না হলেও শুধু স্বভাবের কারণেও প্রায়ই কটন বাডস ব্যবহার করে কানে সুড়সুড়ি দিতে থাকেন অনেকেই। বাজারে কান খোঁচানোর জন্য বিভিন্ন সংস্থার কটন বাডসও পাওয়া যায়। এ রকম কান খোঁচানোর বা বাডস ব্যবহারের অভ্যাস থেকে হতে পারে বড়সড় বিপদ।

এ ব্যাপারে বিশষজ্ঞরা বলেন, কানে কোনো সমস্যা হলে বা ময়লা জমেছে মনে হলেই ইয়ার বাডস ব্যবহারের যে প্রবণতা রয়েছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইয়ার বাডস ব্যবহার করতে সব সময় বারণ করেন চিকিৎসকরা। কারণ কানের যা অ্যানাটমি বা গঠন, সে ক্ষেত্রে কানে যে ওয়্যাক্স বা ময়লা তৈরি হয়, তা চোয়ালের নাড়াচাড়াতেই বেরিয়ে আসে।

খুব কম ক্ষেত্রেই গঠনের জন্য কানের মধ্যে আটকে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। কানের সমস্যা থেকে জটিলতা বেড়ে মস্তিষ্কে প্রভাব পড়তে পারে। তাই কানে কিছু অস্বস্তি হচ্ছে মনে হলেই আঙুল দিয়ে খোঁচাখুঁচি, বাডস ব্যবহার ইত্যাদি একেবারেই করা যাবে না, বলেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

কানের অতিরিক্ত ময়লা বা ওয়্যাক্স হাঁচি-কাশি-গোসল-ঘুম ইত্যাদি নানা জৈবিক কাজের হাত ধরেই বেরিয়ে যায়। আলাদা করে খুঁচিয়ে বের করতে হয় না। কারণ শরীর একটা নির্দিষ্ট ওজনের পর আর ময়লা নিজের ভেতরে রাখে না।

কেন বাডস জাতীয় জিনিস ব্যবহার করা যাবে না

  • কানের যে ছিদ্র বা গহ্বর, সেটির ব্যাস বেশ ছোট। বাডসের ব্যাস সেই তুলনায় বেশি। ফলে কানের প্রাচীরে তৈরি হওয়া ওয়্যাক্স বা ময়লা আরও ভেতরে চলে যায়। এর থেকে সংক্রমণও হতে পারে।
  • কানের প্রাচীরে আঘাত লাগতে পারে।
  • বাডস ভেঙে ভিতরে রয়ে যেতে পারে, যা মারাত্মক বিপজ্জনক।
  • বাডসের তুলো থেকে সংক্রমণ হতে পারে।
  • কটন বাডসের খোঁচানোয় প্রতিদিনই কানের অডিটরি লোবকে উত্তেজিত করে তার অভ্যন্তরীণ ক্ষতি হয়।
  • কানের তরুণাস্থিও পড়ছে বিপদে। এরা নষ্ট হয়ে দুর্বল করে দিচ্ছে শ্রবণশক্তি।
  • শ্রবণশক্তি কমলে প্রভাব পড়বে শরীরের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও। কারণ শরীরের ভারসাম্য রক্ষার জায়গাটি কানেই রয়েছে।

কানে ময়লার পরিমাণ বেশি হলে যা করতে হবে

বাড়িতে আগে সর্ষের তেল ব্যবহার করা হতো। এখন অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল দিয়ে ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সমস্যা কমবে কীভাবে

১. অলিভ অয়েল ওয়্যাক্স জাতীয় পদার্থকে গলিয়ে দেয়, নরম করে। ফলে ময়লা বেরিয়ে যায়।

২. পানি ঢুকেছে মনে হলে তোয়ালের মাধ্যমে যতটা পানি মুছে নেওয়া যায়, মুছে নিন। বাকিটা ঠিক সময়মতো বেরিয়ে যাবে।

হার্ট ব্লক কাদের হয়

হার্ট ব্লক সচরাচর ব্যবহৃত একটি কথা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হার্টের রক্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা বা বাধা সৃষ্টি হওয়াকে হার্টে রক্তনালির ব্লক বলা হয়। হার্ট তার ভিতরে থাকা রক্ত থেকে সরাসরি অক্সিজেন ও রসদ গ্রহণ করতে পারে না যেমন- পেট্রল পরিবাহী ট্রাংকারের টেং এ থাকা পেট্রল গ্রহণ করে তার ইঞ্জিন চালাতে পারে না, ইঞ্জিন চালানোর জন্য আলাদাভাবে ইঞ্জিনে পেট্রল সরবরাহ করতে হয়। হার্টের বেলায়ও তেমনি ঘটে থাকে। হার্ট তার নিজস্ব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ পেয়ে থাকে। এসব রক্তনালিকে করোনারি আর্টারি বা হার্টের রক্তনালি বলা হয়ে থাকে। করোনারি রক্তনালি শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হতে হতে খুবই সূক্ষ্ম রক্তনালিতে পরিণত হয়, যাকে কেপিলারি রক্তনালি বলা হয়। যা এতই চিকন যে খালি চোখে তাদের দেখা সম্ভব নয়, কেবল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যেই তাদের দেখা যেতে পারে। কেপিলারি ছাড়া অন্য যেসব বড় সাইজের রক্তনালি শরীরে বিদ্যমান থাকে তারা শুধু কেপিলারিতে রক্ত সরবরাহ করতে পারে কিন্তু কোনো রূপ অক্সিজেন, রসদ ও বর্জ্য আদান-প্রদান করতে পারে না। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের মতো রক্তনালিগুলোও গ্রিড লাইন ও সাপ্লাই লাইনের মতো কাজ করে। এখানে কেপিলারিগুলো ডিস্ট্রিবিউশন বা সাপ্লাই লাইনের মতো এবং অন্য সব রক্তনালি গ্রিড লাইনের মতো কাজ করে থাকে। রক্তনালিতে ভিতরের দিকে বিভিন্ন স্থানে ময়লা বা আবর্জনার মতো বস্তু জমা হয়ে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে, যাকে রক্তনালির ব্লক বলে আখ্যায়িত করা হয়। এ ধরনের ব্লক সাধারণত বড় ও মাঝারি সাইজের রক্তনালিতে দেখা যায়।

করোনারি আর্টারি বা হার্টের রক্তনালিতে এক ধরনের বস্তু স্তূপাকারে জমা হয়ে রক্ত চলাচলের পথকে সরু বা চিকন করে ফেলার জন্য রক্তনালির সেসব স্থানে রক্ত প্রবাহের স্বল্পতা দেখা দেয় এর ফলে ব্লকের পরবর্তী স্থানে বা ব্লকের ভাটি এলাকার রক্ত সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, ফলশ্রুতিতে হার্টের সে অংশ বা এলাকার রক্ত সরবরাহের কমতিকে ইসকেমিয়া বলা হয় এবং ব্লকজনিত অসুস্থতাকে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বলা হয়ে থাকে। যা অক্সিজেন ঘাটতিজনিত অবস্থা এবং ওইসব অংশ বা এলাকার অক্সিজেন ও রসদের অভাবে হার্টের মাংসপেশি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না এবং এর লক্ষণ হিসেবে বুকে ব্যথা, বুকে চাপ, জ¦লা ও শ্বাসকষ্টের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং গুরুতর অবস্থায় হার্ট ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। আমরা অনেকেই জানি যে, হার্ট সারা জীবন রক্ত পাম্প করে সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে থাকে। এ ক্ষেত্রে রক্ত কম পরিমাণে পাম্প করার ফলে সারা শরীরের রক্ত সরবরাহ কমে যায়। ব্যক্তি তার স্বাভাবিক কর্ম সম্পাদনে অপারগ হয়ে পড়ে।

কী কী কারণে রক্তনালিতে ব্লকের সৃষ্টি হয়?
ব্লক সৃষ্টি হওয়ার কারণ এখনো সম্পূর্ণভাবে জানা সম্ভব হয়নি, তবে এখন পর্যন্ত যে সব কারণকে ব্লকের জন্য দায়ী করা হয়, সেগুলো হচ্ছে- দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরল জাতীয় উপাদান বেশি থাকা, যা ব্লক সৃষ্টির একটি উপাদানও বটে, উচ্চরক্তচাপে যারা দীর্ঘদিন যাবৎ ভুগছেন তাদেরও ব্লক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, যারা ধূমপান করেন বা তামাক জাতীয় বস্তু গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যেও ব্লকের প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হয়, যারা কায়িকশ্রম থেকে বিরত থাকেন বা অলস জীবনযাপন করেন তারাও অধিকহারে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। যারা প্রায় সময়ই টেনশন বা উদ্বিগ্নতায় ভোগেন তাদের ক্ষেত্রেও স্ট্রেস হরমোন বেশি বেশি নির্গত হয়ে ব্লক সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এসব ব্যক্তির স্ট্রেস হরমোনের প্রভাবে উচ্চরক্তচাপ বা হাইপ্রেসার হতে দেখা যায়। বংশগত প্রবণতা হিসেবেও অনেককে ব্লক জাতীয় অসুস্থতায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এখানে উল্লেখ্য, রক্তনালির ভিতর দিকে স্তূপাকারে চর্বি জাতীয় ব¯ুÍ খুবই ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে জমা হতে হতে তাৎপর্যপূর্ণ ব্লক সৃষ্টি হতে অনেক বছর সময় লেগে যায়। যার জন্য অল্পবয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ব্লক সৃষ্টি হতে সাধারণত খুব একটা বেশি দেখা যায় না, তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। যার জন্য এ ধরনের অসুস্থতাকে বয়স্ক ব্যক্তিদের অসুস্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হার্ট ব্লককে জীবনধারাজনিত অসুস্থতা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়, যেমন- অত্যধিক চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা, ভেজালযুক্ত খাদ্য খাওয়া, দীর্ঘসময় ধরে সংরক্ষিত খাদ্য গ্রহণ করা। অতিমাত্রায় শর্করা জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা, বয়স অনুপাতে কায়িকশ্রম বা পরিশ্রম না করা, অতিমাত্রায় চিনি ও লবণ গ্রহণ করা ইত্যাদি। তাই এ বিষয়ে সচেতন হোন।

 

লেখক: চিফ কনসালটেন্ট, শমশের হার্ট কেয়ার, শামলী, ঢাকা।

ঘাড় ও কোমর ব্যথায় করণীয়

ব্যথা কোমর থেকে উরু, হাঁটু অথবা পায়ে চলে গেলে তাকে সায়াটিকা বলে। অনেক রোগী পা ঝিঁ ঝিঁ ধরা, পা চিবানোর কথাও বলে থাকেন। পিএলআইডি ও লাম্বার স্পন্ডাইলোলিসথেসিস থেকেই সায়াটিকা হয়ে থাকে। এই রোগীরা কোমরের চেয়ে পায়ে বেশি ব্যথা অনুভব করেন। দাঁড়িয়ে থাকলে, সামনে ঝুঁকে কাজ করলে বা হাঁটাহাঁটি করলে ব্যথা বেড়ে যায়।

বেশির ভাগ ঘাড় ও কোমর ব্যথা খুব সাধারণ কারণে হয়। কিন্তু এই সাধারণ ব্যথাই মানুষকে ভীষণ বিপদে ফেলে দেয়- অনেকে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন বা স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন না। তাই ঘাড় ও কোমর ব্যথা অবহেলার বিষয় নয়। প্রথমিক পর্যায়ে এই ব্যথা নির্মূল করতে না পারলে রোগীকে অনেক ভুগতে হতে পারে এমনকি অপারেশনের টেবিলে পর্যন্ত যেতে হতে পারে।

কোমরের গঠনতন্ত্র থেকে দেখা যায় মেরুদণ্ডের পাঁচটি হাড় নিয়ে কোমর গঠিত। প্রতি দুটি হাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে তালের শাঁসের মতো ডিস্ক। স্পাইনাল কর্ড বা মেরুরজ্জু থেকে যে স্নায়ু বের হয় তা হাড় ও ডিস্ক সমন্বয়ে গঠিত ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে কোমর নিতম্ব ও পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই হাড় ও ডিস্ক ছাড়াও কোমরে অনেক মাংসপেশি ও লিগামেন্ট রয়েছে। তাই এগুলোর কোনো একটিতে অসামঞ্জস্য তৈরি হলেই কোমর ব্যথা হয়।

 

কোমর ব্যথার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস ও পিএলআইডি। কোমরের হাড়ের ক্ষয় হলে তাকে লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস বলে। এই ব্যাপারটিকে বোঝাতে বিভিন্নজন ক্ষয় হওয়া, বেড়ে যাওয়া বা ফাঁকা হয়ে যাওয়া বলে থাকেন। তিনটি ব্যাপারই এক।

হাড় ক্ষয়জনিত কোমর ব্যথা সাধারণত চল্লিশের কাছাকাছি বয়সে বেশি হয়। তবে পিএলআইডি বা মাংসপেশিতে টানজনিত কোমর ব্যথা যে কোনো বয়সে হতে পারে। এটি রোগীর কাজের ধরন, খাদ্যাভ্যাস, শরীরের গঠন ও ওজন এমনকি বংশগত কারণের ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করে। যারা ভারী কাজ করেন বা সারাদিন বসে কাজ করেন এবং যাদের ওজন অনেক বেশি তাদের কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।

ঘাড় বা কোমর ব্যথায় ব্যথানাশক সাময়িক মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যথানাশক সেবন মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। আর ব্যথানাশক ঘাড় বা কোমর ব্যথার কারণ নির্মূল করতে পারে না। ফিজিওথেরাপি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না এবং ব্যথার কারণকে নির্মূল করে।

গরম হিট সামান্য ট্রাকশান এমনকি সেরাজেম নামক অবৈজ্ঞানিক অপচিকিৎসাকেও অনেকে ফিজিওথেরাপি বলে চালিয়ে দিচ্ছে। তাই রোগীদের খুব সচেতন হতে হবে। ফিজিওথেরাপির প্রধান অংশ হলো রোগ নির্ণয়। শরীরের ঠিক কোন অংশে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তা নির্ণয় করতে না পারলে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা কাজে আসবে না। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসককে অবশ্যই সঠিক ডায়াগনোসিস করতে হবে এবং সে মতো চিকিৎসা দিতে হবে, তবেই এই চিকিৎসা কাজে দেবে।

ফিস্টুলার চিকিৎসা

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জাবেদ সাহেব (ছদ্ম নাম)। ২০ বছর আগে তার পায়ুপথের পাশে একটি ফোঁড়া হয়। সেটি একসময় ফেটে পুঁজ পড়তে থাকে। তারপর তিনি চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি বলেন, তার ফিস্টুলা হয়েছে। অপারেশন করেন। কিন্তু অপারেশনের কিছুদিন পরেই তার আবার ফিস্টুলা দেখা দেয়। এভাবে একাধিক চিকিৎসার পরও ভালো ফল পাননি তিনি। বরং ফিস্টুলার সংখ্যা বেড়েই যায়। এই ফিস্টুলার কষ্ট নিয়েই ছিলেন তিনি। বর্তমানে লেজারের মাধ্যমে কাটাছেঁড়া ছাড়া অপারেশন করা হয়ে থাকে। অতঃপর লেজারের সাহায্যে ফিস্টুলার অপারেশন করে অনেকটাই ভালো আছেন তিনি। এ অপারেশনে রোগী একদিন পরেই বাড়ি ফিরতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক ফিস্টুলা কি? জেনে রাখা ভালো, শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও ফিস্টুলা হতে পার। পায়ুপথের ফিস্টুলাকে বা ফিস্টুলা ইন এনা পায়ুপথের একটি রোগ যাকে প্রচলিত ভাষায় নালিও বলা হয়। এটি একটি নালির মতো যার একটি মুখ পায়ুপথের বাইরে থাকে, আর একটি মুখ পায়ুপথের ভিতরে থাকে। এই নালি দিয়ে পুঁজ-রক্ত ইত্যাদি বের হতে থাকে। তারপর ফুলে যাওয়া, ব্যথা করা, টয়লেট সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে। বিষয়টি কখনো কখনো বড় উপদ্রব হয়, যখন ফিস্টুলা দিয়ে পুঁজ-মল বের হয়ে কাপড়ে দাগ পড়ে। এটির প্রচলিত সমাধান হচ্ছে ফিস্টুলোট মি ও ফিস্টুলেকটমি। যাতে পুরো নালি কাটা হয়। বড় একটি ক্ষত থাকে। মেট্র ড্রেসিং করে ভালো করতে হয়। ক্ষত শুকোতে ২-৩ মাস সময় লাগে। হাই লেভেল ফিস্টুলা হলে ৩-৪ ধাপে অপারেশন করতে হয়। ফলশ্রুতিতে রোগীর অনেক কষ্ট হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন অপারেশন আছে। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি অপারেশন হচ্ছে সেটি হলো লেজার পদ্ধতি। বৈজ্ঞানিক নাম Laser Fistola Closuer (Filac) এই পদ্ধতিতে একাধিক ফিস্টুলার হাই লেভেল ফিস্টুলা, জটিল ফিস্টুলা কিংবা আবার হওয়া ফিস্টুলার একবারই চিকিৎসা হচ্ছে। এমনকি রোগী একদিনেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে পারেন।

লেখক: কোলোরেক্টাল সার্জন, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী।

রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে মৃত্যুহার বাড়তে পারে ৬০ শতাংশ, কিন্তু কেন?

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়েই বাড়ছে তাপমাত্রা। দাবদাহে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ইউরোপ থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ, অনেক দেশে গেল কয়েক দশকের মধ্যে এবার রেকর্ড ভেঙেছে তাপমাত্রা। এরমধ্যেই এক আঁতকে ওঠার খবর দিয়েছেন একদল গবেষক। তাদের দাবি রাতের অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে এই শতাব্দির শেষ নাগাদ মৃত্যুহার বাড়তে পারে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত।

গবেষকদের দাবি, তাপমাত্রার এই উলম্ফন মানুষের ঘুমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যার ফলে হৃদরোগ, মানসিক অস্থিরতা-অশান্তিসহ নানা ধরনের রোগ বাড়তে পারে। আর এই রোগবৃদ্ধি মানুষকে আরও বেশি ঠেলে দেবে মৃত্যুর দিকে।

২০৯০ সালের মধ্যে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের ২৮টি শহরে রাতের তাপমাত্রা গড়ে ৬৮.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে দ্বিগুণ হয়ে ১০৩.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে গবেষণায়।

 

চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং গবেষণার অন্যতম লেখক ড. হাইডং কান বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে যেসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, মানুষকে এর সাথে মানিয়ে নিতে হবে; আর আমাদের উচিত মানিয়ে নিতে বা এই অভিযোজন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে এমন কার্যকর উপায় তৈরি করা।’’

এক্ষেত্রে ড. কান মনে করেন, ভবিষ্যতে দাবদাহের সতর্কব্যবস্থা তৈরির সময় রাতেরবেলার উত্তাপের বিষয়টি অবশ্যই বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে, নিম্ন আয়ের মানুষদের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে, যাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের অতিরিক্ত ব্যয় বহনের সক্ষমতা নেই।

এই গবেষকরা মনে করেন, রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি কেউ গুরুত্বের সাথে দেখছে না।

তবে, গবেষকরা এশিয়া অঞ্চলের বাকি অংশ এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এই গবেষণার ফলাফল আপাতত প্রয়োগ না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ তারা এখনও এ সংক্রান্ত বিশ্বব্যাপী তথ্য বিশ্লেষণ করেননি।

চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, জার্মানি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন।

সূত্র: সায়েন্স ডেইলি

মধ্যকর্ণের প্রদাহ কানপাকা

কানপাকা রোগ হচ্ছে মধ্যকর্ণের প্রদাহ। কানের ডাক্তাররা বলবেন, তারা রোগটিকে চেনেন কানের পর্দার অবস্থা দেখে। কান পাকলে কানের পর্দায় একটা স্থায়ী অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, খুব সম্ভবত ইতিপূর্বে সংঘটিত মধ্যকর্ণের আকস্মিক প্রদাহের কারণে। অথবা মধ্যকর্ণের ঋণাত্মক বায়ুচাপের কারণে। অথবা সেখানে পানি জমে থাকার কারণে। তারা এ রোগকে ডাকেন সিওএম অর্থাৎ ক্রনিক অটাইটিস মিডিয়া। জনসমাজে রোগটির ব্যাপকতা কেমন? সক্রিয় এবং অপেক্ষাকৃত নিরুপদ্রব এ দুই ধরনের মিলিয়ে ৪.১ শতাংশ লোক এ রোগে ভোগে। এর মধ্যে ৩.১ শতাংশ রোগীর দুই কানে এবং অন্যদের এক কানে। বাংলাদেশে এই হার ৫-৬ শতাংশ। ১৮ থেকে ৪০ বছরের তুলনায় ৪১ থেকে ৮০ বছর বয়সীদের আক্রান্তের ঝুঁকি দ্বিগুণ।

সিওএম কাদের হয় : মূলত বংশগত ও জাতিগত কারণে সিওএম হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আদিবাসীরা বেশি আক্রান্ত হয়। আবার একই দেশের আদিবাসীদের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে তারতম্যও দেখা যায়। উন্নয়নশীল দেশে রোগটির হার বেশি হলেও একেক দেশে একেক রকম। অন্যদিকে এ রোগের জন্য পরিবেশ যথেষ্ট ভূমিকা পালন করে।

কোন জীবাণু দায়ী : প্রোটিয়াস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, সিউডোমনাস, কোলিফর্ম ব্যাসিলাই, কোরিন ব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরি, এসকেরিয়সিয়া কোলাই, স্ট্রেপটোকক্কাস ফিকালিস এ রোগের জন্য দায়ী। তাই এ রকম উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উত্তম।

 

লেখক: নাক-কান ও গলারোগ বিশেষজ্ঞ।

হার্ট ব্লকের উপসর্গ কী?

হার্ট ব্লকের উপসর্গগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যক্তিভেদে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রায় একই ধরনের হয়ে যায়, এই পর্যায়কে হার্ট ফেইলুর বলে আখ্যায়িত করা হয়।

প্রাথমিক পর্যায় : প্রাথমিক অবস্থায় রোগী তার সমস্ত কর্মকাণ্ড ঠিক ঠিকভাবেই করতে পারেন। কিন্তু ব্যক্তি যদি কোনো রূপ ভারি কাজ করতে যান অথবা তাড়াহুড়া করে কোনো কাজ করতে যান অথবা পেট ভরে খেয়ে কাজ করতে যান অথবা অত্যধিক টেনশন নিয়ে কোনো কাজ করতে যান বা কোনো কারণে ভীত হন বা ভয় পান, তবে তিনি শারীরিক কিছু উপসর্গ অনুভব করেন। এসব উপসর্গ হচ্ছে বুকে চাপ অনূভব করা, অনেককে বলতে শুনেছি তার বুকে-পিঠে একসঙ্গে চাপ অনুভূত হয়। কারও কারও বুক জ্বালা ভাব অনুভূত হয়। কেউ কেউ এই ধরনের জ্বালাকে এসিড বা গ্যাসের কারণ বা রিচ ফুড খাওয়াকে অথবা ঝাল খাওয়াকে দায়ী করে থাকেন। কেউ কেউ এ ধরনের জ্বালাকে গ্যাসের সমস্যা মনে করে গ্যাসের মেডিসিন গ্রহণ করে থাকেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ধরনের ধারণার মূল কারণ হলো এই উপসর্গ ক্ষণিকের জন্য হয়ে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে পুরোপুরিভাবে নিবারণ হয়ে যায়। বলে রাখা ভালো যে, হার্ট ব্লকের প্রাথমিক পর্যায়ের উপসর্গগুলো বিভিন্ন কারণে ও বিভিন্ন সময়ে অনুভূত হয় এবং স্বল্প সময়েই নিবারণ হয়ে যায়।

কারণগুলো হলো : কায়িকশ্রম সম্পাদন করা, পাহাড় বা সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা, তাড়াহুড়া করা, টেনশন করা, অত্যধিক রাগান্বিত হওয়া ইত্যাদি। আর সময় বলতে আবহাওয়া যেমন : অতিরিক্ত বৃষ্টি ভেজা আবহাওয়া, কনকনে ঠান্ডা বাতাস, ঝড়-বৃষ্টি, ভূমিকম্প, দুঃসংবাদ শোনার কালে ইত্যাদি সময়ে।
অনেকের মধ্যে বুকে চাপের সঙ্গে বুকব্যথা অনুভূত হয় অথবা চাপ ছাড়া শুধুই বুকে ব্যথা অনুভূত হয়। অনেক সময় বুকের ব্যথা, বাহু ও হাতে ছড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বাম হাতে বেশি পরিলক্ষিত হয়, কারও কারও বুক ব্যথার সঙ্গে চোয়াল, গলা অথবা পেটের উপরিভাগে ব্যথা অনুভূত হয়। তবে সব সময়ই বুকে ব্যথা নিবারণ হলে অন্য সব ব্যথাও নিবারিত হয়। কারও কারও এসবের সঙ্গে বা আলাদাভাবে বুক ধড়ফড় অনুভূত হয়।

 

মাধ্যমিক পর্যায় : উপরে উল্লিখিত উপসর্গগুলোর তীব্রতা বৃদ্ধি পায় এবং উপসর্গগুলোতে ব্যক্তি ঘন ঘন বা প্রায় প্রায়ই আক্রান্ত হন এবং পূর্বের চেয়ে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়ে থাকে। এসব উপসর্গের সঙ্গে খুব অল্প পরিশ্রমে ব্যক্তি হাঁপিয়ে ওঠেন, অলসতায় আক্রান্ত হন এবং কাজকর্মের উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলেন। অনেকের মনে ভীতির সঞ্চার হতে দেখা যায় এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যান।

চূড়ান্ত পর্যায় : হার্ট ফেইলুর বলা হয়ে থাকে। এ পর্যায়ে ব্যক্তিরা প্রায় এক ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হন। হার্ট ফেইলুর বলতে এমন এক অবস্থাকে বোঝানো হয়, যখন হার্ট শরীরের চাহিদা মোতাবেক পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে অপারগ হয়ে পড়ে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ রক্ত সরবরাহ পায় না। যেহেতু রক্তের মাধ্যমেই শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও রসদ পৌঁছে, তাই অক্সিজেন ও খাদ্যাভাবে প্রতিটি অঙ্গই দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব উপসর্গ বহাল থাকে এবং তার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশ কিছু নতুন উপসর্গ যোগ হয় যেমন- বিছানায় ঘুমাতে গেলে শ্বাসকষ্ট ও শুকনা কাশির মতো হয়, মাঝরাতে শ্বাসকষ্ট ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে ব্যক্তির ঘুম ভেঙে যায়। তবে একটু উঠে বসলে বা পায়চারি করলে আবার তা নিবারিত হয়ে যায়, ব্যক্তি আবার ঘুমাতে পারেন। পেট ফেঁপে থাকা, পেটে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস সৃষ্টি হওয়া, হাত, পা ও মুখ পানিতে ফোলা ফোলা ভাব ধরা বা বেশি পরিমাণে পানি জমা হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, তীব্র ক্ষুধা মন্দায় আক্রান্ত হওয়া, অল্প খেলেই পেটে অত্যধিক ভরা ভরা ভাব সৃষ্টি হওয়া, অল্প পরিশ্রমে অত্যধিক ঘেমে যাওয়া, বিশ্রামকালীনও শ্বাসকষ্ট অনুভব হওয়া। তাই এ বিষয়ে যথেষ্ঠ সচেতন হতে হবে।

লেখক: চিফ কনসালটেন্ট, শমশের হার্ট কেয়ার, শ্যামলী, ঢাকা।