করোনা বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে জরিমানা

করোনা মহামারির বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করার অভিযোগে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সলবার্গকে জরিমানা করেছে দেশটির পুলিশ। জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধি-নিষেধ না মেনে তিনি এক পারিবারিক জমায়েতের আয়োজন করেছিলেন। আজ শুক্রবার পুলিশ প্রধান ওল সায়েভেরুড এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সলবার্গকে ২০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রাউন (প্রায় দুই লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি পাহাড়ের রিসোর্টে ১৩ জন পারিবারিক সদস্য নিয়ে নিজের ৬০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন সলবার্গ। এ ঘটনায় গত মাসে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। পুলিশ জানায়, এ ধরনের কাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ জরিমানা করে না। কিন্তু বিধি-নিষেধ আরোপ করতে সরকারের শীর্ষে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সায়েভেরুড বলেন, ‘যদিও আইন সবার জন্য সমান, সবাই আইনের সামনে সমান না।’ তিনি বলেন, ‘সামাজিক দূরত্বের বিধি-নিষেধ মেনে চলতে জনগণের আস্থাকে সমুন্নত রাখার জন্য এই জরিমানা করাটা ঠিক আছে।’

পুলিশ জানায়, সলবার্গ ও তার স্বামী সিন্ড্রে ফিনেস যৌথভাবে জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এ জন্য রেস্টুরেন্ট ঠিক করেছিলেন। ফিনেস আইন ভঙ্গ করলেও তাকে জরিমানা করেনি পুলিশ। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষও বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করেছে বলে জানায় পুলিশ। তবে এদেরও জরিমানা করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো কোনো বক্তব্য আসেনি।

দুইবার নির্বাচিত হওয়া প্রধানমন্ত্রী এরনা সলবার্গ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে সফল হয়েছেন। ইউরোপে যে কয়েকটি দেশে সবচেয়ে কম সংক্রমণ ঘটেছে তার মধ্যে নরওয়ে অন্যতম। তবে সম্প্রতি নরওয়েতে সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে মার্চের শেষের দিকে আবারও বিধি-নিষেধ কঠোর করেছে দেশটির সরকার।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

বাড়ছে স্মৃতিভ্রংশ, বিষণ্নতা ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর গত ছয় মাসে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, স্মৃতিভ্রংশ, মানসিক রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে যারা কোভিড আক্রান্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রে মানসিক এবং মস্তিষ্কের নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল কিংবা আইসিইউতে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ লাখের বেশি রোগীর ইলেকট্রনিক তথ্য পর্যালোচনা করে দেখেছেন, কোভিড আক্রান্ত রোগীরা পরবর্তী সময়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, স্মৃতিভ্রংশ, স্নায়ুরোগ, গুরুতর মানসিক অসুস্থতা সাইকোসিস, উদ্বেগ, অবসাদের মতো রোগের শিকার হতে পারে। বিশেষ করে মানসিক অবসাদ এবং যে কোনো কিছু নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিষয়গুলো কোভিড-১৯ রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, কোভিড আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল তাদের ক্ষেত্রে মানসিক অবসাদ, অস্বস্তি এবং ভয় তৈরি হয়। অন্যদিকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকির বিষয়টি নির্ভর করছে ভাইরাসের প্রতি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তার ওপর। যদিও এ গবেষণাটি পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। সুতরাং গবেষকরা বলতে পারছেন না কোভিড আক্রান্ত হওয়ার কারণে এসব হয়েছে কিনা। কারণ কিছু মানুষ হয়তো পরবর্তী ছয় মাসে এমনিতেই স্ট্রোক অথবা অবসাদে আক্রান্ত হতো।

 

যারা কোভিড আক্রান্ত হয়েছিল তাদের সঙ্গে অন্য দুটি গ্রুপের একটি তুলনা করেছিলেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। অন্য দুটি গ্রুপ হচ্ছে- ফ্লুতে আক্রান্ত এবং অন্যটি হচ্ছে অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রজনিত সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিরা। পরবর্তী সময়ে গবেষকরা এই সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছেন যে, কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যা না হয়ে মস্তিষ্কজনিত সমস্যা হতে পারে। গবেষণার জন্য যাদের নেওয়া হয়েছে তাদের বয়স, লিঙ্গ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এসব কিছু বিবেচনা করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে ১৬ শতাংশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি হয়েছিল। যেসব কোভিড আক্রান্ত রোগীর অবস্থা যত বেশি খারাপ ছিল, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে মানসিক সমস্যা এবং ব্রেন ডিসঅর্ডার তত বেশি তৈরি হয়েছে। সাধারণভাবে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের ২৪ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। আর যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রে এটি ২৫ শতাংশ।

একইভাবে কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে ২ শতাংশ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু যারা আইসিইউতে চিকিৎসা নিয়েছে তাদের মধ্যে ৭ শতাংশ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছে। অন্যদিকে রোগীদের মধ্যে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশের ক্ষেত্রে স্মৃতিভ্রংশের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। আর যাদের ক্ষেত্রে আগে থেকেই মস্তিষ্কজনিত সমস্যা ছিল তাদের মধ্যে ৫ শতাংশ স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত হয়েছে। আলঝেইমার্স রিসার্চ ইউকের প্রধান গবেষক ড. সারা ইমারিসিয়ো বলেন, আগের গবেষণাগুলোয় দেখার চেষ্টা হয়েছিল যে যারা মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত রোগ আলঝেইমার্স রোগে ভুগছে, তাদের ক্ষেত্রে কোভিড রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সর্বশেষ এই গবেষণায় দেখার চেষ্টা হয়েছে, এটি উল্টোভাবে হয় কিনা। অর্থাৎ কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর আলঝেইমার্স রোগের ঝুঁকি বাড়ে কিনা।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির নিউরোলজির অধ্যাপক মাসুদ হোসেইন বলেন, এমন প্রমাণ রয়েছে যে করোনা ভাইরাস সরাসরি মস্তিষ্কে ঢোকে এবং ক্ষতি করে। এর পরোক্ষ প্রভাবও থাকতে পারে। যেমন রক্ত জমাট বাঁধা, যার ফলে স্ট্রোক হতে পারে। আবার লন্ডনের কিংস কলেজের ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রি, সাইকোলজি অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সের অধ্যাপক ডেইম টিল ওয়াইকেস বলেন, আমাদের সন্দেহ ছিল কোভিড-১৯ শুধু শ্বাসতন্ত্রজনিত সমস্যা নয়। এই রোগ মানসিক এবং মস্তিষ্কের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। নতুন গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে। খবর বিবিসির।

বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করে সজনে ডাটা

সজনে এমন একটি গাছ যার ডাটা, পাতা ও ফুল সবই খাওয়ার উপযোগী ও উপকারি। এটি সস্তা এবং বহুল পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সবজি।

সজনে শরীরের হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে পুষ্টিবর্ধক হিসেবে কাজ করে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এতে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান। শরীরের ওজন কমাতেও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে।

সজনের এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য যকৃত ও কিডনি সুস্থ রাখতে এবং রূপের সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবেও কাজ করে থাকে। এতে প্রায় ৯০টিরও বেশি এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান।

এছাড়াও ৩৬টির মত এন্টি-ইনফ্ল্যামমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে যা অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।

নিয়মিত দৈনিক সেবন শরীরের ডিফেন্স মেকানিজমকে শক্তিশালী এবং ‘ইমিউনিটি স্টিমুল্যান্ট’ করে। শরীরের ওজন কমাতেও ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি বেশ কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে।

 

কোভিড ব্যবস্থাপনায় যে দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

এক. যদিও কোভিড ওয়ার্ডগুলিতে তিল ধরনের ঠাঁই নাই অনেক রোগী সুস্থ হবার পরেও অযথাই পড়ে থাকে তার টেস্ট নেগেটিভ হল কিনা সেটা দেখার জন্য। অনেক সময় চাপে বাধ্য হয়ে, অনেক সময় অবোধগম্য কারণে ডাক্তাররাও তাকে আবারও টেস্ট করতে পাঠায়। শুধু একবার নয় বারবার যতদিন টেস্ট নেগেটিভ না আসে। অথচ সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরও নেগেটিভ আসতে ৪০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে কারো কারো। এই টেস্ট নেগেটিভ হওয়াটা ডিসচার্জ হওয়ার জন্য জরুরি নয়। বিশেষ করে যারা কেবিনে থাকে এবং যাদের প্রভাবশালীর রেফারেন্স থাকে তাদের কারো কারো সামনে টেস্ট নেগেটিভ হওয়ার আগেই বাসায় যান বলাটা অনেকটাই দুঃসাহসের পর্যায়ে চলে যায়। যিনি অনেক কষ্টে অনেককে ধরাধরি করে একটি সোনার হরিণ কেবিন/বেড ম্যানেজ করলেন তিনি সুস্থ হওয়ার পরও সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক একটা কারণে টেস্ট নেগেটিভ হলে তারপরে যাবে বলে বেড দখল করে বসে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে অনেক সিরিয়াস রোগী যার আসলেই ভর্তি ও অক্সিজেন দরকার তারা ফেরত যাচ্ছে। আমরা এমনই স্বার্থপর একটা জাতি।

কোভিড রাউন্ডের সময় আমি যতই বোঝাই পরবর্তী কোভিড টেস্টগুলি একেবারেই অপ্রয়োজনীয়, সুস্থ হওয়ার পরেও টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে, এজন্য আপনার সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না, আপনি অন্য সবদিক দিয়ে বাড়ি যাবার মতো অবস্থায় আছেন, তাছাড়া এই অপ্রয়োজনীয়’ টেস্টগুলির কারণে যাদের আসলেই রোগ ডায়াগনোসিসের জন্য টেস্ট করার প্রয়োজন তারা বঞ্চিত হচ্ছে-  তারা সেটা বুঝতে চায় না। বলে বাসায় লোকজন আছে নেগেটিভ না হলে কীভাবে যাই? লক্ষণ দেখা দেওয়ার দুই সপ্তাহ পরে সে অন্য কারো জন্য আর কোনো হুমকি নয়- সেটা বোঝালেও বুঝেনা। বেশি বুঝাতে গেলে বেশিরভাগ রোগীই সত্য মিথ্যা যাই হোক মেডিকেলের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অথবা মেডিকেলের বাইরের কোনো প্রভাবশালী মহল/কর্মকর্তাদের রেফারেন্স দিয়ে বলে আমি তার আত্মীয় রোগী। সো কাউন্সেলিং ডিসমিস।

দুঃখজনক ব্যাপার হলো গত এক বছর ধরে একইভাবে রোগীদের একটা বিরাট অংশ সবাই টেস্ট করে করে তারপরে বাড়ি যাচ্ছে, এই অবস্থার কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। তারা একটা ডেড স্পেস এর মতো জায়গা দখল করে রাখছে। দূর থেকে মনে হবে রোগী,  আসলে তার অনেক আগেই বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল, শুধু গায়ের জোরে দখল করে রেখেছে এই গো ধরে যে নেগেটিভ হওয়ার আগে সে যাবে না।

কোভিড টেস্ট পজিটিভ হলে রোগ সেরে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন (৪০ দিন পর্যন্ত) পরবর্তীতে টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে। ভাইরাসের ভগ্নাংশের জন্য পরবর্তীতে পজিটিভ হয়, আসল ভাইরাসের জন্য নয়। তাই দ্বিতীয়বার বা বারবার কোভিড টেস্ট করানোর কোনই প্রয়োজন নেই। এই অযথা টেস্টের কারণে অনেকে প্রথমবারে টেস্ট করারও সুযোগ পায় না।

দুই. ভেন্টিলেটর নয়, কোভিড রোগীদের জন্য আমাদের মূল মনোযোগ দেয়া উচিত রোগীকে যাতে ভেন্টিলেটর পর্যন্ত যেতে না হয় সেদিকে। আমাদের দরকার অক্সিজেন, অক্সিজেন আর অক্সিজেন। অক্সিজেন কীভাবে আরও বেশি মাত্রায় দেয়া যায় সেসব যন্ত্রপাতি। যেমন আরও আরও সেন্ট্রাল অক্সিজেন, High Flow nasal Cannula।

ওয়ার্ডগুলি সয়লাব করে দিতে হবে Highflow Nasal Cannula (HFNC) দিয়ে। HFNC এর অভাবে চাহিদা মাফিক পর্যাপ্ত অক্সিজেনের স্বল্পতায় কারো লিভার, কিডনি, ব্রেন নষ্ট হয়ে যেন আইসিইউতে কল পাঠাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে আগে। এতে করে যে রোগীরা ICU তে যাওয়ার জন্য দৌড়াদৌড়ি করছেন তাদের বেশিরভাগই আসলে ওয়ার্ডেই ম্যানেজ হয়ে যাবে।
তারপরও কিছু রোগী থাকবে যাদের মাল্টি অর্গান ফেলিওর হবে, ভেন্টিলেটর লাগবে কিন্তু সংখ্যাটা যাবে অনেক কমে। এই HFNC, পাইপলাইনে অক্সিজেন- এসবের পিছনে অর্থ খরচের চেয়ে সর্বোত্তম খরচ এ মুহূর্তে আর কোনটিতেই হতে পারে না।

কোভিড রোগীদের বেলায় Invasive ventilation তেমন জীবনরক্ষাকারী নয় আসলে। শতকরা হার এককের ঘরে, কখনো কখনো শূন্য।

When pt develops indications of invasive ventilaton that also almost indicates death ahead with or without this machine.
So prevention (HFNC in wards) is better than Cure ( Ventilator in ICU).

লেখক: এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (চেস্ট),
বক্ষব্যাধি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ১৩ কোটি ১৩ লক্ষাধিক

সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ ৪৪ হাজার একশ ৬৮ জন এবং মারা গেছে ২৮ লাখ ৫৮ হাজার ছয়শ ৯৩ জন।

বিশ্বে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১০ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৮৩৯ জন এবং বর্তমানে আক্রান্ত অবস্থায় রয়েছে দুই কোটি ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬৩৬ জন।

সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার হার ৯৭ শতাংশ এবং মারা যাওয়ার হার ৩ শতাংশ। বিশ্বে বর্তমানে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রয়েছে ৯৭ হাজার ৩৮৭ জন এবং বাকিদের অবস্থা স্থিতিশীল।

বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে তিন কোটি ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪ জন এবং মারা গেছে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৩ জন ।

বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পর যথাক্রমে রয়েছে- ব্রাজিল, ভারত, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন, ইতালি, তুরস্কে, স্পেন ও জার্মানি।

ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ১২৭ জন এবং মারা গেছে এক লাখ ৬৪ হাজার ৬৫৫ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছে এক কোটি ২৯ লাখ ৫৩ হাজার ৫৯৭ জন এবং মারা গেছে তিন লাখ ৩০ হাজার ২৯৭ জন।

সূত্র : ওয়ার্ল্ডোমিটার।

আম-পুদিনার শরবত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

কাঁচা আম সকলের কাছেই পছন্দনীয় এবং খেতেও সুস্বাদু। আচার, ভর্তা, শরবত বিভিন্নভাবেই খেতে এটি সমান জনপ্রিয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ‘ভিটামিন সি’ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। করোনা মহামারি সংক্রমণ রোধে ভিটামিন সি খুবই কার্যকরি।

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়াও বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে ভিটামিন সি। তাই এর ঘাটতি পূরণে খাদ্য তালিকায় কাঁচা আম রাখা সবচেয়ে সহজলভ্য।

কাঁচা আম বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া গেলেও এর সঠিক পুষ্টিগুন পেতে শরবত খাওয়ার বিকল্প নেই। গরমে এক গ্লাস কাঁচা আমের শরবত খেলে যেন মুহূর্তেই শরীরে স্বস্তি দেয়। বিভিন্নভাবে কাঁচা আমের শরবত তৈরি করা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ একটি উপায় হলো ‘কাঁচা আম ও পুদিনা পাতা’ দিয়ে তৈরি শরবত।

পুদিনা পাতা তাপ নিয়ন্ত্রণ করে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এর রস পিষে দু’তিন ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে পান করলে ক্লান্তিভাব দূর হয়। নিয়মিত পুদিনা পাতা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে বুকে কফ জমতে পারেনা। এতে থাকা ‘মেন্থল’ পেশিকে শিথিল করার মাধ্যমে শরীরের ব্যথা কমায়।

করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনার টিকা নিয়েও করোনায় আক্রান্ত হলেন তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, নাসিমা সুলতানা বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলছেন। তবে তার বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়নি।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা দেশের প্রথম পাঁচ টিকাগ্রহণকারীর একজন। গত ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে করোনার টিকা দেওয়া হয়। নাসিমা সুলতানা ২৭ জানুয়ারি টিকা নিয়েছিলেন।

তাকে নিয়ে গত ১৫ দিনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, কর্মচারী করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়।

দেশে করোনায় সর্বোচ্চ শনাক্ত, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫০

করোনাভাইরাসে দেশে আরও ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ১৫৫ জন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৮৩০ জন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৪ জনে।

শুক্রবার (২ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন সুস্থ হয়েছেন আরও ২ হাজার ৪৭৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৪১১ জন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দেশে ৬ হাজার ৪৬৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে মারা যান

ফাহমিদা হাশেম - প্রথম আলোতে প্রকাশিত
দুধ খেতে না পারলে

দুধ একটি আদর্শ খাবার। এতে আয়রন ও ভিটামিন সি ছাড়া প্রায় সব খাদ্য উপাদানই রয়েছে। শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদেরা দুধ খেতে বলেন। কারণ, আমাদের দৈনন্দিন খাবারে ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। ১০০ গ্রাম দুধে ক্যালসিয়াম থাকে ৯৫০ মিলিগ্রাম। দুধের ল্যাকটোজ থেকে উৎপন্ন ল্যাকটিক অ্যাসিড ক্যালসিয়াম পরিশোষণ বৃদ্ধি করে। তাই দুধের ক্যালসিয়াম সবচেয়ে বেশি শোষিত হয়।

তবে ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স, আইবিএস ও অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যার জন্য অনেকেই দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খেতে পারেন না। তাই আমাদের জানতে হবে, দুধের বিকল্প কোন কোন খাবার থেকে সমপরিমাণ ক্যালসিয়াম পাওয়া যেতে পারে। দুধ খেতে না পারলে বিকল্প এসব খাবার থেকেই দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে হবে।

সামুদ্রিক মাছ: চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছে ক্যালসিয়াম থাকে। প্রধানত স্যামন ও সার্ডিন–জাতীয় মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। এ ছাড়া কাঁটাসহ যেকোনো মাছেই, যেমন মলা, কাঁচকি ইত্যাদি মাছ থেকেও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

আমন্ড ও কাজুবাদাম: প্রোটিন, পটাশিয়াম, ভিটামিন ই এবং আয়রনের পাশাপাশি আমন্ড প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করতে সক্ষম।

কমলালেবু: ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে ভালো কাজ করে কমলালেবু। একটি কমলালেবু মানেই শরীরে ৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।

সবুজ শাকসবজি: পালংশাক, বাঁধাকপি, ব্রকলি, শালগম, লেটুসপাতা, মাশরুম, ঢ্যাঁড়সসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। ঢ্যাঁড়স, ব্রকলিও উদ্ভিজ্জ ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস। এ ছাড়া কাঁচকলা, বিট, কচু, কচুর মুখী, মিষ্টি আলু, ওল, ধনেপাতা, মিষ্টিকুমড়া, বরবটি ইত্যাদিতেও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

আমলকী: আমাদের ধারণা, আমলকী মানেই ভিটামিন সি। কিন্তু এতে ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়ামও রয়েছে। ১০০ গ্রাম আমলকী থেকে ২৫ মিলিগ্রামের মতো ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

চিয়া সিড ও বেসিল সিড (তোকমা): আমরা অনেকেই চিয়া সিড ও তোকমাকে এক মনে করি। তোকমা হচ্ছে বেসিল সিড। ১০০ গ্রাম বেসিল সীডে ১৭৭ মিলিগ্রাম এবং ১০০ গ্রাম চিয়া সিডে ৬৩১ মিলিগ্রামেরও বেশি ক্যালসিয়াম থাকে।

সয়াবিনের তৈরি খাবার: সয়াবিন বা সয়াবিনের তৈরি খাবার ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস।

এ ছাড়া ১০০ গ্রাম পাবদা মাছে ৩১০ মিলিগ্রাম, শজনেপাতায় ৪৪০ মিলিগ্রাম, ট্যাংরা মাছে ২৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। তিলেও প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। আখরোট, শজনেপাতা, পুদিনাপাতা, শর্ষেশাক, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, চিংড়ি শুঁটকি ইত্যাদি হলো উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার।

রান্নায় ব্যবহৃত আনুষঙ্গিক উপকরণও হতে পারে ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। যেমন ১০০ গ্রাম জিরায় ১ হাজার ৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম যোয়ানে ১ হাজার ৫২৫ মিলিগ্রাম, শুকনা নারকেলে ৪০০ মিলিগ্রাম, শর্ষেতে ৪৯০ মিলিগ্রাম, রাজমা ডালে ২৬০ মিলিগ্রাম, চানা ডালে ২০২ মিলিগ্রামের মতো ক্যালসিয়াম থাকে।

লেখক: জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ, ল্যাব এইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল, ঢাকা

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়, হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ- প্রথম আলোতে প্রকাশিত
শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে

নানা কারণে অকস্মাৎ শিরায় রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। একে বলে থ্রম্বোএম্বোলিজম। তবে পায়ের বড় শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা ‘ডিভিটি’ নামে পরিচিত। ডিভিটির পূর্ণরূপ হলো ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা। আমাদের সারা শরীরে শিরা ও ধমনি (রক্তনালি) জালের মতো বিস্তৃত। শিরাগুলো হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত বয়ে আনে, আর ধমনিগুলো হৃদ্‌যন্ত্র থেকে পুরো শরীরে রক্ত সরবরাহ করে। কিছু শিরা চামড়ার নিচে থাকে, আবার কিছু শিরা মাংসপেশির ভেতর দিয়ে গভীরে প্রবাহিত হয়।

ঝুঁকি বেশি যাঁদের
যেকোনো বয়সে ডিভিটি হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ে। ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চতা অনুযায়ী যাঁদের ওজন বেশি, আগে কখনো ডিভিটি হয়েছিল অথবা রক্তের সম্পর্কের কারও ডিভিটির ইতিহাস আছে, তাঁদের ঝুঁকি বেশি। যেসব নারী দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেন কিংবা মেনোপজের পর হরমোন নিচ্ছেন, তাঁরা ডিভিটির ঝুঁকিতে থাকেন। গর্ভকালীন এবং প্রসব–পরবর্তী ছয় সপ্তাহ সময়ও ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ ভ্রমণ, যদি একনাগাড়ে অনেকক্ষণ (চার ঘণ্টার বেশি) বসে থাকতে হয়, এমন অবস্থাও পারে ডিভিটির ঝুঁকি বাড়াতে। যেসব অস্ত্রোপচারে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে, বিশেষ করে পায়ে এবং পেটের কোনো অস্ত্রোপচারে, যদি দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকতে হয়, যেমন হাড় ভাঙা, ক্যানসার, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিউর কিংবা নিউমোনিয়া রোগীর ডিভিটি হতে পারে।

বুঝবেন কী করে
কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সম্পূর্ণ পায়ে ব্যথা, পা ফোলা, পায়ের ত্বক বিবর্ণ হওয়া এবং অন্য পায়ের তুলনায় আক্রান্ত পা উষ্ণ হওয়া ডিভিটির প্রাথমিক উপসর্গ। ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ব্যক্তির এমন উপসর্গ দেখা দিলে ডিভিটি বা শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার সন্দেহ করতে হবে এবং দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জটিলতা
শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার একটি বড় জটিলতা হলো, জমাটবদ্ধ রক্ত ফুসফুসের শিরায় প্রবাহিত হয়ে ফুসফুসের শিরাকে ব্লক করে দিতে পারে। একে পালমোনারি এম্বোলিজম বলে। এটি একটি গুরুতর অবস্থা। ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে ব্যথা এই জটিলতার লক্ষণ। এই জটিলতা হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।

প্রতিরোধে করণীয়
উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক ওজন বজায় রাখতে হবে।

প্রতিদিন নিয়মিত কমপক্ষে আধা ঘণ্টা হাঁটতে হবে।

যাঁরা একনাগাড়ে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, তাঁরা কাজের ফাঁকে একটু হাঁটাহাঁটি করবেন অথবা দু-এক ঘণ্টা পরপর পায়ের পেশি সচল থাকে এমন কোনো ব্যায়াম করবেন।

দীর্ঘ ভ্রমণে পায়ের আঙুল, পায়ের পাতা এবং পা সচল রাখার চেষ্টা করতে হবে। মাঝেমধ্যে আসনে পা তুলে বসা যেতে পারে। বসে বসেই পায়ের ব্যায়াম করবেন।

দীর্ঘদিন যাঁরা শয্যাশায়ী হয়ে আছেন, তাঁরাও রোজ পায়ের পাতা ও পায়ের ব্যায়াম করবেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেক ওষুধের ব্যবহার শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি করে।

করোনায় শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা
মাঝারি থেকে তীব্র উপসর্গের করোনা রোগীদের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের ৪০ শতাংশ শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। আরেকটি গবেষণার তথ্যমতে, গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয় ১৮ থেকে ২৮ শতাংশে। করোনা হলে তীব্রতা বুঝে ও পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য ইনজেকশন বা ওষুধ দিতে পারেন চিকিৎসক।

করোনার টিকায় কি রক্ত জমাট বাঁধে
করোনার টিকা দিলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে—এমন একটি অভিযোগ ওঠায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ করোনার টিকা স্থগিত রেখেছিল। কিন্তু তদন্তের পর ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) ঘোষণা করেছে, করোনার টিকার সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি, আর এটি নিরাপদ ও কার্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে, ১ কোটি ৭৯ লাখের বেশি মানুষ ইউরোপে এই টিকা নিয়েছেন, আর রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা শতাধিকও নয়, উপরন্তু তা সরাসরি টিকার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ফলে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ অন্যান্য দেশ আবার টিকা কার্যক্রম শুরু করছে।