মৃত করোনা রোগীর ফুসফুস বলের মতো শক্ত, বিস্মিত চিকিৎসকরা

করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া ৬২ বছরের এক ব্যক্তির শরীরে ময়নাতদন্তের পর তার ফুসফুস দেখে বিস্মিত হয়েছেন চিকিৎসকরা। কারণ, মৃত ওই ব্যক্তির ফুসফুস চামড়ার বলের মতো শক্ত হয়ে গেছে। খবর সংবাদ প্রতিদিনের।

ভারতের কর্ণাটকের বাসিন্দা ওই ব্যক্তির শরীরে মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টার পরে মিলেছে করোনার অস্তিত্ব। শুধু তাই নয়, তার নাসারন্ধ্র ও গলা থেকে সংগৃহীত নমুনার ভেতরে রয়ে গেছে কোভিড-১৯ সংক্রমণের চিহ্ন। এই প্রথম কর্ণাটকে কোনো করোনা রোগীর ময়নাতদন্ত হলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্ত করেছেন অক্সফোর্ড মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ড. দীনেশ রাও। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তির ফুসফুসের বায়ুথলি ফেটে গিয়েছিল। জমাট বেঁধে গিয়েছিল রক্তনালীগুলো।গত ১০ অক্টোবর ওই ময়নাতদন্ত করেন তিনি। সময় লেগেছিল ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট। ড. রাও বলছেন, কোভিড আক্রান্তদের শরীরে ময়নাতদন্ত করলে রোগের অগ্রগতির বিষয়ে বুঝতে সুবিধা হয়।

মৃত ব্যক্তির নাক ও গলার নমুনায় করোনার উপস্থিতি ধরা পড়লেও ত্বকে ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি। ড. রাও জানান, অর্থাৎ কোভিড রোগীর মৃতদেহ সংক্রামক হতে পারে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তাদের ত্বকে ভাইরাসের উপস্থিতি নেই।

ওই ব্যক্তির পরিবারের অনুমতি নিয়েই ময়নাতদন্ত করেন চিকিৎসকরা। তিনি যখন মারা গিয়েছিলেন, তখন তার পরিবারের সদস্যরা কোয়ারান্টাইনে ছিলেন। সেই জন্য তারা দেহ দাবি করেননি।

ড. রাও আরও জানান, আমেরিকা ও ইতালিতে কোভিড রোগীদের ময়নাতদন্তে যা দেখা গেছে, আমার পর্যবেক্ষণ তার থেকে আলাদা। যা থেকে প্রমাণ হয়, ভারতে এই ভাইরাসের চরিত্র আলাদা। শিগগিরি এই ময়নাতদন্তের পূর্ণ বিবরণ তিনি কোনো জার্নালে প্রকাশ করার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানান তিন‌ি।

বিডি প্রতিদিন

এক গ্লাস অল্প গরম পানিতে মিলবে ৬টি জটিল সমস্যার সমাধান

দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যায় ভুগছেন? হাজার চেষ্টার পরও ওজন কমছে না? কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা? এমনই অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার সহজ সমাধান হল কয়েক গ্লাস গরম পানি। প্রতিদিন কয়েক গ্লাস অল্প গরম পানি নিয়মিত খেতে পারলে একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন এ বিষয়ে জেনি নিই…

১) আমরা অনেকেই খেতে বসে পানি খাই। এতে খাবারের সঙ্গে পাচক রস সঠিক ভাব মিশতে পারে না। ফলে হজমের নানা সমস্যা দেখা দেয়। খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে বা পরে যদি এক গ্লাস গরম পানি খাওয়া যায়, তাহলে অ্যাসিডিটি, বদহজম, অম্বলের মতো একাধিক সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অল্প গরম পানি খাবার দ্রুত হজমেও সাহায্য করে।

২) দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস গরম পানি খেতে পারলে পেট সহজেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে গরম পানি খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৩) সাধারণ তাপমাত্রার পানির তুলনায় অল্প গরম পানি খেতে পারলে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রাটা সামান্য হলেও বৃদ্ধি পায় এবং ঘাম হয় বেশি। অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার ফলে শরীরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় উপাদান ঘামের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে যায়। এতে শরীর দ্রুত ডিটক্স হয়ে যায়।

৪) দ্রুত মেদ ঝরাতে অল্প গরম পানি অত্যন্ত কার্যকর। গরম পানি খেলে শরীরের মেটাবলিক রেট বাড়ে এবং সহজেই অনেকটা ক্যালোরি পোড়ে। পানি খিদে বোধ কমিয়ে ওজন কমাতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে গরম পানির সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারলে মেদ ঝরবে দ্রুত।

৫) প্রতিদিন সকালে খালি পেটে গরম পানি খেতে পারলে শরীরের টক্সিক উপাদানগুলি সহজেই বাইরে বেরিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, বাড়বে শরীরের আভ্যন্তরীন তাপমাত্রাও। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে শিরা, ধমনীতে রক্তচলাচলের গতিও স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পায়।

৬) দীর্ঘদিন ধরে বাতের ব্যথায় ভুগছেন? এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে খান এক গ্লাস গরম পানি। অল্প গরম পানি খেলে শরীরের সক্ত সঞ্চালন বাড়বে, শরীরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় উপাদান ঘামের সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে যাবে। ফলে ব্যথা বোধও ক্রমশ কমে আসবে।

৭) পুষ্টিবিদরা বলেন, পেট পরিষ্কার থাকলে শরীরের অনের রোগ আমাদের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। পেট পরিষ্কার থাকলে ত্বকও থাকে ঝকঝকে, উজ্জ্বল। প্রতিদিন সকালে, খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে বা পরে যদি এক গ্লাস অল্প গরম পানি খাওয়া যায়, বদহজম, অম্বলের মতো একাধিক সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব, শরীর দ্রুত ডিটক্স হয়ে যায়। ত্বকে জমাট বাধা তেল, ধুলোবালি থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। পেট পরিষ্কার থাকলে ব্রণ-ফুসকুড়ির সমস্যা থেকেও সহজেই দূরে থাকা যায়। সূত্র: জি২৪ঘণ্টা

ফ্রিজে রাখা এক বছরের পুরনো নুডলস খেয়ে ৯ জনের মৃত্যু

ফ্রিজের এককোণে পড়েছিল নুডলস। দু-একদিন নয়, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখা ছিল সে নুডলস। পরিবারের কর্ত্রী প্রাণ ধরে ফেলতে পারেননি। এক বছর পর কী মনে করে সেই নুডলস দিয়েই বানিয়েছিলেন সুস্বাদু সুয়ানতাঞ্জি (বিশেষ একধরনের চিনা স্যুপ)। নিজে তো খেয়েই ছিলেন। রাতে টেবিলে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও তা পরিবেশন করেন কর্ত্রী। এ ক্ষেত্রে পরিণতি যা হওয়ার ছিল , তাই হয়েছে। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে একই পরিবারের ৯ জনের। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে চীনের উত্তর-পূর্ব প্রদেশ হিলংজিয়াংয়ের জিক্সি শহরে।

চিকিত্‍‌সকেরা জানান, গাঁজানো কর্ন ফ্লাওয়ার থেকে তৈরি হয় নুডলস। সেটি ফেলে রাখায় বংগ্রেকিক নামে বিশেষ ধরণের এক অ্যাসিড তৈরি হয়েছিল। সেই অ্যাসিডই পরিবারে মৃত্যু ডেকে আনে।

ইংল্যান্ডের ডেইলি স্টার পত্রিকার সূত্রে খবর, বিষাক্ত সুয়ানতাঞ্জি খাওয়ার পাঁচ দিনের মাথায়, ১০ অক্টোবর মৃত্যু হয় পরিবারের সাত সদস্যের। এর দু’দিন পর অষ্টম ব্যক্তি মারা যান। অবশেষে সোমবার মৃত্যু হয় অসুস্থ হয়ে পড়া পরিবারের নবম ব্যক্তি লি’র। লি নামের এই মহিলাই নুডলস পরিবেশন করেছিলেন।

ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই চীনের স্বাস্থ্য কমিশন এ বিষয়ে একটি সতর্কতা জারি করে। এ ধরনের খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়।

সৌভাগ্যবশত, পরিবারের তিনটি বাচ্চাই ওইদিন কর্ন নুডলস দিয়ে তৈরি ওই খাবার খেতে অস্বীকার করে। সুয়ানতাঞ্জি স্যুপ তাদের অপছন্দের বলেই মুখে তোলেনি। তাই তারা বেচে গিয়েছে। হিলংজিয়াং সেন্টার ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর খাদ্য সুরক্ষা কর্ককর্তা ফাই চীন নিউজ সার্ভিসকে জানান, বংগ্রেকিক অ্যাসিডের বিষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শরীরের পক্ষে মারাত্মক হতে পারে।

তিনি জানান, গাঁজানো খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বংগ্রেকিক বিষক্রিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়। পেটেব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা থেকে অসুস্থ ব্যক্তি কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হতে পারে। তার কারণ, এই অ্যাসিড লিভার, কিডনি, হার্ট ও ব্রেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অরগ্যানগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

গাও ফাইকে কোট করে ডেইলি স্টার জানাচ্ছে, এই ধরনের খাদ্য বিষক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক ওষুধ নেই। তাই শরীরে একবার এর বিষক্রিয়া হলে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গাঁজানো নারকেল থেকেও এই অ্যাসিড তৈরি হয়। এই ভয়ানক বিষক্রিয়ার কারণেই কয়েক বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কিডনি সুস্থ রাখতে যা খাবেন

বর্তমান সময়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে কিডনির সমস্যা। সাধারণত কিছু অসতর্কতার জন্যই দেখা দেয় এই ধরনের সমস্যা, যা পরবর্তীতে কিডনি ড্যামেজের কারণে পরিণত হয়। তবে কিছু খাবার আছে, যা কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে থাকে। এই খাবারগুলো নিয়মিত খেলে কিডনি রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। আসুন জেনে নেই সেই খাবারগুলো সম্পর্কে।

পেঁয়াজ : কিডনি সুস্থ রাখার অন্যতম উপাদান হলো পেঁয়াজ। এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনোয়েড রয়েছে, যা রক্তের চর্বি দূর করে থাকে। এ ছাড়া এতে কুয়ারসেটিন আছে, যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে থাকে। পেঁয়াজে পটাশিয়াম, প্রোটিন আছে, কিডনির জন্য তা অনেক বেশি উপকারী।

রসুন : রসুন ইনফ্লেমেটরি এবং কোলেস্টেরল কমাতে অনেক বেশি কার্যকরী। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আছে, যা দেহের প্রদাহ দূর করে থাকে। তবে রান্না করে খেলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় না। ভালো হয় সকালে খালি পেটে কাঁচা রসুন খাওয়া, এটি হার্ট ভালো রাখার পাশাপাশি কিডনিকেও ভালো রাখে।

 

আপেল : প্রচলিত আছে ‘প্রতিদিন একটা আপেল খান আর ডাক্তারকে দূরে রাখুন’। কথাটা কিডনির ক্ষেত্রেও সত্য। আপেল উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, এতে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি আছে, যা বাজে কোলেস্টেরল দূর করে হৃদ রোগ প্রতিরোধ করে থাকে। এ ছাড়া এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। আপেল কাঁচা বা রান্না করে অথবা প্রতিদিন এক গ্লাস আপেলের জুস খাওয়ার চেষ্টা করুন।

বাঁধাকপি : বাঁধাকপি কিডনির ফাংশন উন্নত করে থাকে। এতে রয়েছে ভিটামিন বি৬, সি, কে, ফাইবার, ফলিক অ্যাসিড। এটি শরীরের পটাসিয়ামের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি সালাদ বা রান্না করে খেতে পারেন।

লাল ক্যাপসিকাম : লাল ক্যাপসিকামে কম পরিমাণে পটাশিয়াম আছে, যা কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন সি, এ, ভিটামিন বি সিক্স, ফলিক এসিড, ও ফাইবার রয়েছে। এছাড়া লাইকোপেন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। রান্না বা সালাদ হিসেবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় লাল ক্যাপসিকাম খেতে পারেন।

ডিমের সাদা অংশ : ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস এবং অ্যামিনো এসিড আছে, যা কিডনি রোগ প্রতিরোধ করে কিডনিকে সুস্থ রাখে। ডিম সিদ্ধ করে বা অমলেট করে খেতে পারেন। তবে হ্যাঁ, ডিমের সাদা অংশ শুধু।

মাছ : ২০০৮ সালে প্রকাশিত আমেরিকান জার্নাল অফ কিডনি ডিজিসের মতে, মাছ দেহে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। মাছে প্রচুর পরিমাণ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে যা ইনফ্লামেশন হ্রাস করে এবং কিডনিকে সুস্থ রাখে।

অলিভ অয়েল : অলিভ অয়েল হৃদস্বাস্থ্য সুস্থ রাখার পাশাপাশি কিডনিও ভালো রাখে। এতে প্রচুর পরিমাণ ওলিক অ্যাসিড এবং অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা অক্সিডেসন কমিয়ে কিডনি সুস্থ রাখে। রান্নায় বা সালাদে অলিভ অয়েল রাখার চেষ্টা করুন।

শিশুদের সর্দি, ঠাণ্ডা, হালকা জ্বরের লক্ষণে করণীয়

শীতকালে শিশুসন্তান কিংবা তাদের পিতা-মাতা সর্দি, জ্বরের মতো অসুস্থতাকে এতদিন নিশ্চয় গুরুতর কিছু বলে বিবেচনা করেননি। শীতকাল আসতেই অনেকের ঠাণ্ডা লাগে, সর্দি-জ্বর হয় এবং তা দ্রুত সেরেও যায়। কাশি ও কফও এ ঋতুর সাধারণ অসুস্থতা। তবে যা-ই হোক সেগুলো নিয়ে সাধারণভাবে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ছিল না। তবে এটা কভিড-১৯ মহামারীর আগেকার কথা। পরিস্থিতি এখন একেবারেই ভিন্ন।

এবারের শীতে কাশি, হালকা জ্বর, সর্দি গুরুতর পরিস্থিতির লক্ষণ হতে পারে। পিতা-মাতা আতঙ্কিত হবেন, কারণ তাদের জানা নেই লক্ষণগুলো সাধারণ ঠাণ্ডা, ফ্লু নাকি কভিড-১৯। এ রকম লক্ষণ দেখা দিলে কি শিশুদের কভিড পরীক্ষা করাতে হবে? করতে হলে কখন? আর যদি শিশুদের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে তাহলে পিতা-মাতা ও সন্তানদের কতদিন আইসোলেশনে থাকতে হবে?

কভিড-১৯ ও সাধারণ জ্বর-ঠাণ্ডার লক্ষণগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা সহজ নয়। শিশুদের কভিডের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ তো থাকেই। লক্ষণ থাকলেই শিশুটি কভিডে আক্রান্ত নাও হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এ রকম অসুস্থতার ক্ষেত্রে শিশুদের অবশ্যই বাসায় আইসোলেশনে রাখতে হবে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সংক্রামক রোগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইভোনে ম্যালডোনাডো এমনটাই মনে করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুহার বেশ কম। তার পরও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণটা পরোক্ষ। শিশুরা আক্রান্ত হলে তারা ঘরের বয়স্কদের আক্রান্ত করতে পারে এবং সেটাই উদ্বেগের। কোনো আক্রান্ত শিশুর ঘরে যদি তার বৃদ্ধ দাদা-দাদি থাকে তাহলে সেটা তাদের জন্য ভয়ানক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। তাই শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত যেকোনো লক্ষণ নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপক ও শিশুদের সংক্রামক রোগবিষয়ক গবেষক মার্গারেট ফিশার মনে করেন শিশু কোন পরিবেশে ও সম্প্রদায়ের মাঝে বাস করছে সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। যদি এমন হয় যে শিশুটি করোনা সংক্রমিত কারো সংস্পর্শে আসেনি এবং আশপাশের এলাকা প্রায় করোনামুক্ত তাহলে সাধারণ ঠাণ্ডায় তাদের কভিড পরীক্ষা না করালেও হবে। কিন্তু যদি এমন হয় শিশুর বসবাসের এলাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন সংক্রমণের কেস পাওয়া যাচ্ছে তাহলে ঠাণ্ডা বা অ্যালার্জিজনিত লক্ষণ থাকলে শিশুটিকে কভিডের পরীক্ষা করাতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়ার মতো বিষয়ে। তারা মনে করেন দুই বছরের বেশি বয়সী যেকোনো শিশুরই মাস্ক ব্যবহার করা প্রয়োজন। মাস্ক ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুরা যেমন নিরাপদ থাকবে, তেমনি তাদের পরিবারের বয়স্ক সদস্যরাও ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারবেন।

স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন

হঠাৎ প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত এলে…

যেকোনো ব্যক্তিরই প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। হঠাৎ প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া ক্ষতিকর না হলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক কোনো রোগের কারণ হতে পারে। তাই শুরুতে রোগ শনাক্ত করে সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতা কমে। প্রস্রাবে রক্ত যাওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট বা একক কোনো কারণ নেই; বরং অনেক কারণে রক্ত যেতে পারে। তবে পুরো প্রস্রাবজুড়ে রক্ত গেলে ধরে নিতে হবে এর পেছনে জটিল কোনো কারণ রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, প্রস্রাবে রক্ত আসে কোথা থেকে। মূত্রতন্ত্রের যেকোনো স্থান থেকেই রক্ত আসতে পারে। যেমন- কিডনি, মূত্রথলি, মূত্রনালি। প্রস্রাবে রক্তক্ষরণ অনেক কারণে হতে পারে। এর মধ্যে আছে-

* মূত্রথলির ইনফেকশন বা সিস্টাইটিস। এ ক্ষেত্রে সাধারণত প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া থাকে।

* কিডনি ইনফেকশন। এ ক্ষেত্রে সাধারণত শরীরে জ্বর থাকে এবং পেটের এক বা দুই পাশে ব্যথা করে।

* কিডনির পাথর। সাধারণত কোনো লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই কিডনিতে পাথর থাকতে পারে।

* ইউরেথ্রাইটিস বা মূত্রনালির ইনফ্ল্যামেশন। সাধারণত যৌনবাহিত রোগ, যেমন- ক্ল্যামাইডিয়া থেকে এমন হয়।

* প্রস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া। সাধারণত বেশি বয়স্কদের এ সমস্যা দেখা দেয়।

* প্রস্টেট ক্যানসার।

* ব্লাডার বা মূত্রথলির ক্যানসার।

* কিডনি ক্যানসার।

* তলপেটে বা কিডনিতে আঘাত।

আমাদের দেশে মূত্রতন্ত্রের আঘাত, প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন, ক্যানসার এবং পাথরই সাধারণত প্রস্রাবে রক্তক্ষরণের জন্য দায়ী। বয়স্ক লোকদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে রক্তপাত মারাত্মক রোগ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসা করতে হবে। আবার অতিরিক্ত ব্যায়ামের কারণে কখনো কখনো অতি অল্পমাত্রায় প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। অ্যাসপিরিনের মতো প্রচলিত ওষুধও এ ধরনের সমস্যার সূচনা করতে পারে, কিন্তু প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া সাধারণত মারাত্মক অসুখই নির্দেশ করে।

উপসর্গ এবং লক্ষণ

বেশি মাত্রায় রক্ত যাওয়ার প্রধান লক্ষণ হচ্ছে প্রস্রাবের রং গোলাপি, লাল বা কালো হওয়া। লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে এমন হয়ে থাকে। অনেক সময় প্রস্রাবে রক্তপাতের সময় প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। আবার কোনো ধরনের উপসর্গ বা লক্ষণ ছাড়াও প্রস্রাবে রক্ত যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তপাত শুধু অণুুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়। তাই রক্ত না দেখা গেলেও যদি বারবার প্রস্রাবে ইনফেকশনের ইতিহাস থাকে, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া হয়, কোমরে ব্যথা হয়, জ্বর থাকে; তবে প্রস্রাব পরীক্ষা করে তাতে রক্ত যাচ্ছে কি না দেখা দরকার।

চিকিৎসা

* কী কারণে রক্ত যাচ্ছে তার ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। অনেক সময় প্রস্রাবে রক্তক্ষরণের কারণ বের করা খুব কঠিন হয়।

* প্রস্রাবে রক্তক্ষরণ হলে প্রাথমিকভাবে ইউরোলজিস্টের পরামর্শমতো প্রস্রাব পরীক্ষা করে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

* ব্যথা থাকলে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে হবে। তবে কিডনি জটিলতা থাকলে সব ধরনের ব্যথানাশক সেবন করা যাবে না। তাই ব্যথানাশক সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

* রক্তক্ষরণ বেশি হলে রোগীকে রক্ত দেওয়ার প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

ডাক্তারকে জানাতে হবে

* প্রস্রাবে রক্ত কখন প্রথম লক্ষ করলেন সে সময়টা

* প্রস্রাবের সময় তলপেটে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া বা অন্য কোনো অসুবিধা বোধ করেন কি না

* আগের চেয়ে ঘন ঘন প্রস্রাব হচ্ছে কি না

* আগে কখনো, একবারের জন্য হলেও প্রস্রাবে রক্ত গেছে কি না

* প্রস্রাবের গন্ধ স্বাভাবিকের চেয়ে অন্য রকম কি না

* ধূমপান করেন কি না, করলে দিনে কতবার?

রক্ত না গেলেও ডাক্তারের কাছে যেতে হবে

* বারবার প্রস্রাবে সংক্রমণের ইতিহাস থাকলে

* বয়স ৫০-এর বেশি হলে সাধারণ চেকআপের জন্য

* তলপেটে বা পিঠের নিচের দিকে হঠাৎ আঘাত পেলে

* প্রস্টেটের সমস্যা থাকলে

 

শসার গুনাগুন

শসা খুব পরিচিত খাবার। প্রায় সারা বছর ধরে এই ফলটি পাওয়া যায়। শসায় ক্যালরি খুব কম। ১০০ গ্রাম শসাতে থাকে ১৩ ক্যালোরি। এবার শসা খাওয়ার উপকারিতা আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে একবার দেখে নেওয়া যাক-

১) কথায় বলে ডায়াবেটিস থেকে ডায়েরিয়া সকলের জন্যই শসা অপরিহার্য। প্রচণ্ড গরমে দেহের ওয়াটার ইলেক্ট্রোলাইটৈর ভারসাম্য বজায় রাখে শসা।

২) বদ হজম, অ্যাসিডিটি, অরুচি, গ্যাস্ট্রাইটিস লিভার এবং প্যানক্রিয়াসের সমস্যা থাকলে শসা খাওয়া উচিত।
৩) আর্থারাইটিস হার্টের রোগ অস্টিওপোরেসিস এবং কনস্টিপেশন প্রতিরোধে শসা ভালো কাজ করে।

৪) বয়স্কদের মধ্যে অ্যালঝাইমার্স ও অন্যান্য নিউরোলজিক্যাল রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে শসায় থাকা ফিসটিন নামক এক ধরনের আন্টি ইনফ্লামেটরি যৌগ।

৫) এছাড়া কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ও অন্যান্য প্রদাহজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে অতি পরিচিত সহজলভ্য এই ফলটি।

বাজারে অসহায় ক্রেতা

নিত্যপণ্যের দামে আগুন। লাগাম টানা যাচ্ছে না। সরকারি নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও বাজারে কিছুতেই ফিরছে না স্বস্তি। কিছুদিন পর পর অস্বাভাবিক দাম বাড়ছে একেকটি পণ্যের। একবার বাড়লে আর কমার কোনো লক্ষণ নেই। এখন অনেক নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে অসহায় হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই পিয়াজের দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। এরপর আর দাম কমেনি।

সংকট না থাকলেও বেড়েছে চালের দাম। এখন ২৫ টাকা কেজির আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকারও বেশি দরে। সরকারি সংস্থা বলছে, আলুর কোনো সংকট নেই। সবমিলিয়ে বাজারে ৩০ টাকার বেশি দাম হওয়ার কথা না। কিন্তু গত কয়েক দিনে কেন বাড়তি দামে আলু বিক্রি হচ্ছে এর কারণও কেউ বলতে পারছেন না। বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজির কমে কোনো সবজি নেই। অন্য অনেক নিত্যপণ্যেরও দাম সাধারণ ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে করোনায় আয় কমে যাওয়া মানুষজন এখন বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে। কম আয়ে সংসার চালাতে তাই হাপিত্যেস করছেন অনেকে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মে মাসে আলুর দাম ছিল প্রতিকেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা। জুলাইয়ে এসে দাম বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় ঠেকে। এতোদিন এই দাম স্থিতিশীল থাকার পর গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই হাফ সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে আলুর দাম। খুচরা বাজারে মান ও প্রকারভেদে সস্তা এই পণ্যটি কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়েছে। তবে ভোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রির জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চিঠি দিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। সম্প্রতি কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এদিকে পিয়াজের বাজারও অস্থির অনেক দিন থেকে। এখনো জরুরি এই পণ্যটির দাম চড়া। মান ভেদে দেশি পিয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। আর আমদানি করা পিয়াজ ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ওদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন অজুহাতে সবজির বাজার এখন অনেকটা বেসামাল। বাজারে ৭০-৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ সবজি। এরমধ্যে দুই একটি সবজির কেজি ১০০ ছাড়িয়েছে। বাজারে টমেটো এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ১০০-১৩০, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বেগুনও ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চালের দামও কোনো কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে মিল পর্যায়ে চালের দাম নির্ধারণ করে দেয়া হলেও এখনো বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে মোটা চালের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৫২ টাকায় ঠেকেছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের কেজি ৫৭ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা। চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলারদের কারসাজিতে চালের দর বাড়তি। তারা সিন্ডিকেট করে মিল পর্যায় থেকে সব ধরনের চালের দর বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া বাজারে আরো কিছু পণ্যের দাম চড়া।

শান্তিনগর বাজারের একজন সবজি বিক্রেতা জানান, বাজারে এখন সব সবজির দামই চড়া। বিশেষ করে টমেটো, কাঁচামরিচ, শিমসহ কয়েকটি সবজির আরো দাম বেশি। এ ছাড়া ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি বাজারে নেই। কাওরান বাজারের আলু বিক্রেতা জানান, পাল্লা প্রতি (৫ কেজি) আলু বিক্রি করছি ২৩০ থেকে ২৩৫ টাকায়। তবে ক্রেতা খুবই কম আসছে। তিনি বলেন, দাম বাড়লে তো আমাদের কিছু করার থাকে না। কারণ দাম বাড়ায় বড় ব্যবসায়ীরা। অথচ কাস্টমাররা আমাদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন।
হাতিরপুল কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা মোতালিব হোসেন বলেন, ছোট একটি চাকরি করি। বেতন যা পাই তা বাজার করতেই শেষ হয়ে যায়। এভাবে ঢাকা শহরে টেকা মুশকিল। আমরা ঢাকায় আসছি যেন কিছু আয় করতে পারি। অথচ আয়তো দূরের কথা বাসা ভাড়া-আর খাওয়ায় সব চলে যায়। বাজারে এসে দাম শুনলে মাথা ঘোরা শুরু হয়। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেশি। এভাবে আর কতদিন। এই যে আপনারা এতো সংবাদ করেন। তাতেই বা কি লাভ হচ্ছে। সরকার কি এসব শুনছে? দেখছে? কোনো ব্যবস্থা তো নিতে দেখি না। মজুত করে যারা পণ্যের দাম বাড়ায় তারা কি সরকারের চেয়ে শক্তিশালী? তা না হলে দীর্ঘদিন ধরে একটা জিনিসের দাম এতো বেশি থাকে? পিয়াজ নিয়ে আর কেউ কথা বলছে না। আলু ৩০ থেকে ৫০ টাকা হইছে এটা নিয়ে কথা হচ্ছে। কিন্তু পিয়াজ তো এখনো ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একটা জিনিসের দাম কোনো কারণে বাড়তে পারে, তাই বলে এতোদিন স্থায়ী থাকার নজির খুব কম দেশেই আছে।

ওদিকে দাম নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিদিন জরিমানাও করা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তারপরও কাজ হচ্ছে না। বিভিন্ন অজুহাতে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে তারা। কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বাজারে স্বস্তি ফিরবে না বলে মনে করেন ভোক্তারা। ওদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম প্রতিদিন সকালে বাজার মনিটরিং করে থাকে। এই টিমের নির্দেশনা দেয়া রয়েছে, প্রতিটি বাজারে যেন মূল্য তালিকা টানানো থাকে এবং সেই মূল্য তালিকা অনুযায়ী যেন পণ্যের দাম রাখে ব্যবসায়ীরা। সুত্র: মানবজমিন

এবার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল স্থগিত করলো জনসন অ্যান্ড জনসন

ভ্যাকসিন গ্রহণ করে একজন স্বেচ্ছাসেবী অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরীক্ষামূলক করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ট্রায়াল স্থগিত করেছে ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন। সোমবার একটি বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ট্রায়াল স্থগিতের ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। একই কারণে গত মাসে অ্যাস্ট্রাজেনেকা তাদের ভ্যাকসিন ট্রায়াল স্থগিত করেছিল।

বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আমাদের নির্দেশিকাগুলো অনুসরণ করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাটা সেফটি মনিটরিং বোর্ডের (ডিএসএমবি) পাশাপাশি আমাদের অভ্যন্তরীণ ক্লিনিক্যাল ও সুরক্ষা চিকিত্সকদের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীর অসুস্থতা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, এমনকি গুরুতর পরিস্থিতির মতো প্রতিকূল ঘটনাগুলো ক্লিনিক্যাল অধ্যয়নের একটি প্রত্যাশিত অংশ, বিশেষ করে বড় অধ্যয়নের ক্ষেত্রে।

তবে সংস্থাটি অংশগ্রহণকারীর কি ধরনের অসুস্থতা সৃষ্টি হয়েছে তা জানায়নি। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের একটি পয়েন্টই হলো সেটা বিপজ্জনক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে কিনা তা খুঁজে বের করা। ভ্যাকসিন গ্রহণের পর স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে অসুস্থতা সৃষ্টি হলে তখন ওই ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল স্থগিত করে তার অসুস্থতা ভ্যাকসিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিংবা অন্য কোনো কারণে কিনা – তা দেখা হয়।

সংস্থাটি বলেছে, সুরক্ষার প্রতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ভিত্তিতে সমস্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য জনসন অ্যান্ড জনসনের পূর্বনির্ধারিত নির্দেশিকা রয়েছে। এগুলো নিশ্চিত করে, অপ্রত্যাশিত গুরুতর প্রতিকূল ঘটনার ক্ষেত্রে ট্রায়াল স্থগিত থাকতে পারে। এক্ষেত্রে অধ্যয়ন পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সমস্ত চিকিত্সা ডাটার একটি সতর্ক পর্যালোচনা করতে হবে। আমাদের অবশ্যই এই অংশগ্রহণকারীর গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানাতে হবে। আমরা এই অংশগ্রহণকারীদের অসুস্থতা সম্পর্কে আরো জানার চেষ্টা করছি এবং অতিরিক্ত তথ্য শেয়ার করার আগে আমাদের সমস্ত তথ্য জানা থাকা জরুরি।

এর আগে গত মাসে ভ্যাকসিন গ্রহণ করে ব্রিটেনের স্বেচ্ছাসেবীর স্নায়ুজনিত জটিলতার কারণে অ্যাস্ট্রাজেনেকের করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ট্রায়াল স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তের পর বিভিন্ন দেশে ট্রায়ালটি শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্রে এখনো থমকে আছে।

সূত্র : সিএনএন

রাজধানীর প্রায় অর্ধেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত

রাজধানীর ৪৫ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের ২৪ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। গত জুলাই মাস পর্যন্ত অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় এসব তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের বস্তির প্রায় তিন চতুর্থাংশ মানুষ ইতিমধ্যে সংক্রমিত হয়েছেন। করোনার কোনো লক্ষণ ছিল না এমন ৪৫ শতাংশ নগরবাসী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ও জিন রূপান্তর নিয়ে গবেষণার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ও বেসরকারি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) যৌথভাবে এই গবেষণা করেছে। এই গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দাতা সংস্থা ইউএসএ আইডি এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

করোনাভাইরাসের জিন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা অনুমান করছেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল।

গবেষণার জন্য ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্য থেকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ২৫টি ওয়ার্ড বেছে নেওয়া হয়। প্রতি ওয়ার্ড থেকে একটি মহল্লা বাছাই করা হয়। প্রতি মহল্লা থেকে ১২০টি খানা জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ৮টি বস্তিকে এ জরিপে যুক্ত করা হয়। ঢাকা শহরের সাধারণ খানার নমুনা সংগ্রহ করা হয় মধ্য এপ্রিল থেকে মধ্য জুলাই পর্যন্ত। আর বস্তির মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হয় মধ্য জুলাই থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত।

গবেষকেরা বলছেন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা ও টিকা দেওয়ার ব্যাপারে এসব তথ্য কাজে লাগবে। গবেষণার তথ্য এমন সময় প্রকাশ করা হলো যখন দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে আলোচনা চলছে। আসন্ন শীত মৌসুমে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি তাদের আছে।

অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন আইইডিডিআর ও আইসিডিডিআরবির গবেষক ও বিজ্ঞানীরা। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মীরজাদী সেব্রিনা। অনুষ্ঠানে অনলাইনে যোগ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক।