মালয়েশিয়ায় হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র “কোরআনিক ভিলেজ”

এশিয়ার ইউরোপ খ্যাত পর্যটন নগরী মালয়েশিয়া এবার তৈরি করতে যাচ্ছে বিশ্বের একমাত্র “কোরআনিক ভিলেজ”। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ১৫০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত এবং প্রায় ২০ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত হবে এই মেগা প্রকল্পটি।

মেগা প্রকল্পটির নকশা প্রকাশ করে মালয়েশিয়ার ফেডারেল টেরিটরিমন্ত্রী আনোয়ার মুসা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক ও টুইটারে বলেন, কোরআনিক ভিলেজ এর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে প্রকল্পটিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে এবং এর অর্থায়ন সরকার অনুমোদন করেছে। ২০২১ সালে এর কাজ শুরু করতে পারব ইনশাল্লাহ।


এটি বিশ্বের একমাত্র কোরআনিক ভিলেজ হতে যাচ্ছে বলে দাবি মালয়েশিয়ার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সেখানে থাকবে ৫ হাজার মুসল্লীর ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নতুন মসজিদ, একটি কুরআন বিজ্ঞান ও ভবিষ্যদ্বাণীমূলক জীবনী কেন্দ্র, একটি ছাত্রাবাস এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান, একটি বাজার এবং একটি শিল্পকলা কেন্দ্র।

কোরআনিক ভিলেজটি যথাক্রমে মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইরাক, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ব্রুনাইয়ের জন্য উৎসর্গীকৃত বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আনোয়ার মুসা। BD PROTIDIN

সৌদি যুবরাজকে হোয়াটসঅ্যাপে তলব মার্কিন আদালতের

সাবেক এক নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে নির্যাতন ও গুপ্তহত্যার চেষ্টা চালানো মামলায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে তলব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। খবর আল-জাজিরা’র।

তাকে হোয়াটসঅ্যাপে তলব করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টায় এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় প্রিন্স সালমান ও আরও নয়জন সৌদি কর্মকর্তাকে অফিসিয়াল চিঠিতে তলব করে ওয়াশিংটন ডিসি আদালত।
টমাস মাস্টার্স নামে একজন কম্পিউটার ফরেনসিক তদন্তকারী নিশ্চিত করেছেন, বৃহস্পতিবার আদালতে একটি হলফনামা দাখিল করা হয়, সেটা হোয়াইটসঅ্যাপের মাধ্যমে ২২ সেপ্টেম্বর পাঠানো হয়েছিল। ২০ মিনিট পর সেটি সৌদি যুবরাজের মোবাইল থেকে পড়াও হয়েছে।

প্রিন্স সালমানসহ সৌদি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছেন দেশটির সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা সাদ আল-জাবরি। তার অভিযোগ, ২০১৮ সালের অক্টোবরে তাকে ‘হত্যার জন্য’ কানাডাতে ৫০ সদস্যের ‘একটি গুপ্তঘাতকের দল’ সৌদি আরব থেকে পাঠিয়েছিলেন যুবরাজ সালমান।

আল-জাবরির দাবি, তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটে দেশটির সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার কয়েক দিন পর তাকেও গুপ্ত হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনস্যুলেটে খুন হন দেশটির ৫৯ বছর বয়সী সাংবাদিক জামাল খাশোগি। ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলাম লেখকের হত্যার ঘটনা গোটা বিশ্বকে আলোড়িত করে।

এই হত্যার পেছনে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশনায় এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ’সহ অনেক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় যুবরাজের জড়িত থাকার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে।

বিডি প্রতিদিন

তিব্বতী বৌদ্ধধর্মকে ‘চীনাকরণ’ করার চেষ্টা বেইজিংয়ের!

তিব্বতি বৌদ্ধধর্মকে চীনের সংস্কৃতি ও ভাবধারার সঙ্গে ধাপে ধাপে খাপ খাইয়ে নেওয়ার (সিনিসাইজ) লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বেইজিং। তিব্বতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য আরো একটি পদক্ষেপ এটি। মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, চীনের এমন কাজে বৌদ্ধধর্মের বিশ্বাসকে পরিবর্তন করবে।

আগস্ট মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হয় তিব্বতির কর্মের ওপর কেন্দ্রীয় সিম্পোসিয়াম। এতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, তিব্বতের বৌদ্ধধর্মকে (চীন) সমাজতান্ত্রিক সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। চীনের মতো উন্নত করা উচিত। তাইওয়ান নিউজে লেখা এক নিবন্ধে এমন তথ্য জানিয়েছেন তেনজিন সাংমো।

সাংমো তার নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, এক বছর আগে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের (পিআরসি) ৭০তম বার্ষিকীতে জিনপিং বলেছিলেন, কোনো শক্তিই চীনা জনগণ ও জাতিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে আটকাতে পারে না। তবে ৭১তম বার্ষিকীতে বিশ্বে অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শক্তি রয়েছে। যা চীনকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আর বৌদ্ধধর্ম তাদের মধ্যে অন্যতম হতে পারে।

এটা পরিষ্কার যে সিসিপি তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্মকে হুমকি মনে করে। ২০১৮ সালের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনে স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে এমন দেশ হিসেবে চীনকে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। ওই তালিকায় রয়েছে উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়া।

তিব্বতে জোর করে বসতি স্থাপনের পর থেকে সিসিপি তিব্বতী ধর্মের ওপর চাপ দিচ্ছে। বিশেষত তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্মের ওপর নিরলসভাবে চাপ দিচ্ছে সিসিপি। রাষ্ট্রীয় কৌশল ব্যবহার করে চীনা সরকার তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রচারের পরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি প্রচারণা একটির চেয়েও আরেকটি নিষ্ঠুর ও নিপীড়নমূলক।

সাংমো জানিয়েছেন, চীন তিব্বতে রাজনৈতিকভাবে দমন, অর্থনৈতিক প্রান্তিককরণ, সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের এবং পরিবেশ ধ্বংস করতে শুরু করেছে। আর তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্ম নিয়ে চীনা শাসক দলের উদ্বেগ তার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। সাংমোর মতে, ২০০৭ সালে রাজ্য ধর্মবিষয়ক ব্যুরোর ৫নং আদেশে তিব্বতীয় লামার পুনর্জন্মকে কমিউনিস্ট সরকারের অনুমোদন নেওয়ার জন্য আদেশ জারি করেছিল।

নিবন্ধে সাংমো বলেন, এটি স্পষ্ট যে তিব্বত হলো হরেক রকম চাপের কেন্দ্রবিন্দু এবং সর্বদার্ই ছিল। এটি এমন একটি ভিত্তি যা থেকে চীনের সম্প্রসারণবাদী নকশা তৈরি হয়েছে। এটি মাত্র বিশ্ব সম্পূর্ণরূপে দেখতে শুরু করেছে।

সূত্র: এএনআই।

আল জাজিরার প্রতিবেদন
ইসলামাবাদে মন্দির নির্মাণের অনুমোদন ইসলামিক পরিষদের

পাকিস্তানে হিন্দুদের একটি নতুন মন্দির নির্মাণ অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ইসলাম বিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদ। তারা বলেছে, রাজধানী ইসলামাবাদে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ শুরু করা যেতে পারে। কারণ, ইসলামিক আইন সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপাসনার জন্য মন্দির স্থাপনকে অনুমোদন দেয়। এ কথা জানিয়ে দিয়েছে কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজি। এটি হলো রাষ্ট্র পরিচালিত ধর্মীয় নেতাদের একটি পরিষদ। ধর্মীয় ইস্যুতে তারা সরকারকে উপদেশ বা পরামর্শ দিয়ে থাকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, বুধবার পরিষদ এমন রায় দেয়ার পর পাকিস্তান পার্লামেন্টে হিন্দুদের একজন প্রথম সারির নেতা লাল মালহি ভূয়সি প্রশংসা করেছেন।

উল্লেখ্য, রাজধানী ইসলামাবাদে একটি মন্দিরের নির্মাণকাজ আকস্মিকভাবে স্থগিত করে দেয় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকার। এরপর এ নিয়ে দেনদরবার চলতে থাকে। তার মাঝেই পরিষদ বুধবার ওই অনুমোদন দেয়। এখানে আরো বলে নেয়া যেতে পারে যে, কট্টরপন্থি মুসলিমদের পক্ষ থেকে আতঙ্ক ছিল যে, ইসলামাবাদে ওই মন্দির নির্মাণ হলে তা ধর্মের বিরুদ্ধে কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হবে। এমন উদ্বেগের পরে ইমরান খানের সরকার মন্দিরটির নির্মাণ কাজ স্থগিত করেন। কেউ কেউ জোর করে ওই মন্দিরের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দেন। এতে দেখা দেয় উত্তেজনা।
অবকাঠামো নির্মাণের জন্য জনগণের অর্থ ব্যবহার করা যাবে কিনা, এ বিষয়ে কাউন্সিল অব ইসলামিক আইডিওলজির কাছে পরামর্শ চান ইমরান খান। এর আগে তিনি ওই মন্দিরটি নির্মাণে ৬ লাখ ডলার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বুধবার পরিষদ যে রায় দিয়েছে তা ইমরান খান মেনে চলবেন কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে মন্দির নির্মাণে তহবিল সরবরাহ দেয়ার একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সংখ্যালঘুদের বিষয়েও ইমরান খান সমঅধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন তিনি মন্দির নির্মাণে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ইস্যু করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজধানী ইসলামাবাদে বসবাস করেন প্রায় ৩০০০ হিন্দু। কিন্তু কার্যত সেখানে কোনো মন্দির নেই। পাকিস্তানে হিন্দু ও মুসলিমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন। তবে কখনো কখনো হিন্দু মেয়ে বা ছেলেদের জোর করে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ আছে। ১৯৪৭ সালে ভারতের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে পাকিস্তানের বহু হিন্দু দেশ ত্যাগ করে ভারতে এসে অবস্থান নিয়েছেন।

আমার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে: মাহাথির

ফ্রান্স ইস্যুতে করা সাম্প্রতিক মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। সম্প্রতি তিনি টুইটারে লেখেন, অতীতের গণহত্যার কারণে লাখ লাখ ফরাসিকে হত্যা করার অধিকার মুসলমানদের আছে। তার এ মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরেছেন তিনি। তবে এবার তিনি দাবি করেছেন যে, তার ওই মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমার লেখা পুরোপুরি না তুলে দিয়ে তারা এর অর্থকে অন্যদিকে ধাবিত করেছে। আমি বলেছি, মুসলিমরা এখন পর্যন্ত চোখের বদলে চোখ এই নীতি প্রয়োগ করেনি। ফ্রান্সের উচিত অন্য ধর্মে বিশ্বাসীদের অনুভূতিকে সম্মান দেখানো।তার ওই পোস্ট মুছে দেয় টুইটার ও ফেসবুক।তিনি এরও সমালোচনা করেন। ওই পোস্টে মাহাথির এও বলেছিলেন যে, তিনি কোনোভাবেই ফরাসি শিক্ষক সামুয়েল প্যাটির হত্যাকে সমর্থন করেন না।

ভারতবর্ষ শাসন করা সেই ইস্ট ইন্ডিয়ার মালিক এখন একজন ভারতীয়

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত চেনা একটি নাম। বাণিজ্যের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করে কয়েক শতাব্দী শাসন ও শোষণের দ্বারা পুরো উপমহাদেশ কবজা করে রাখার ইতিহাসই এই নামটিকে এনে দিয়েছে চিরস্থায়ী পরিচিতি।

এটিকে বলা হয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং প্রথম করপোরেশন কোম্পানি। শুরুতে এর নাম ছিল ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৬০০-১৭০৮)। পরবর্তীতে এর নাম বদলে করা হয় অনারেবল কোম্পানি অব মার্চেন্টস অব লন্ডন ট্রেডিং ইনটু দ্য ইস্ট ইন্ডিজ অথবা ইউনাইটেড কোম্পানি অব মার্চেন্টস অব ইংল্যান্ড ট্রেডিং টু দ্য ইস্ট ইন্ডিজ (১৭০৮-১৮৭৩)। তবে উপমহাদেশে সেটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামেই অধিক পরিচিত ছিল।

আগে ইউরোপের মানুষের কাছে ভারতীয় উপমহাদেশ ‘ইস্ট ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত ছিল। সেই সময় ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল মশলা, কাপড় এবং দামি রত্নের জন্য বিখ্যাত এক স্থান। এসব উপকরণ ইউরোপে বেশ চড়া দামে বিক্রি হতো। কিন্তু সমুদ্রে শক্তিশালী নৌবাহিনী না থাকার দরুণ ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে আসতে ব্যর্থ হয়।
সেই সময়ে স্পেন এবং পর্তুগাল ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মশলা ও কাপড় নিয়ে পূর্বের দূরবর্তী দেশ সমূহে বিক্রি করত। কিন্তু ব্রিটিশ বণিকরা উপমহাদেশে আসার জন্য মরিয়া হয়ে ছিলেন। অবশেষে ১৫৮৮ সালে ব্রিটিশরা পথের দিশা পায়। স্প্যানিশদের হারিয়ে তাদের নৌবহরের দখল নিয়ে নেয় তারা। এই নৌবহর ব্রিটিশদের ভারতের আসার পথ তৈরি করে দেয় এবং সেই সাথে তাদের নৌশক্তি বহুগুণে বেড়ে যায়।

১৬০০ সালের স্যার থমাস স্মাইথের নেতৃত্বে লন্ডনের একদল বণিক রাণী প্রথম এলিজাবেথের কাছে এক আর্জি নিয়ে হাজির হন। তারা রাণীর কাছে পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা করার জন্য রাণীর সম্মতি ও রাজসনদ প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। রাণী প্রথম এলিজাবেথ তাদের সম্মতি দেন। পরবর্তীতে ৭০ হাজার পাউন্ড পুঁজি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়।

কোম্পানি থেকে শাসক
শুরুতে মুঘল সাম্রাজ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া ছিল শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশরা ভারতের রাজনীতিতে প্রভাব খাটানো শুরু করে।

রাণী এলিজাবেথ শুরুতেই কোম্পানিকে তাদের যেকোনও প্রয়োজনে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া মুঘল সাম্রাজ্যের শক্তি কমে যাওয়ায় দিল্লি থেকে দূরবর্তী রাজ্যগুলোতে কেন্দ্রের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এর সুবিধা নিয়ে ব্রিটিশরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসা জোরদার করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

এদিকে ইউরোপের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ভারতে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে ব্রিটেনের জাতীয় শত্রু ফ্রান্সের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ভাবিয়ে তোলে। ফলে তখন তারা ভারতের রাজনীতি দখলের পরিকল্পনা আঁকতে শুরু করে।

শুরুতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এক দক্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তোলে। পাশাপাশি ভারতের উপকূলে তাদের অবস্থান ছিল শক্তিশালী। এছাড়া যেকোনও প্রয়োজনে তাদের ডাকে ব্রিটিশ নৌবাহিনী সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। সামরিক দিক দিয়ে এগিয়ে থাকার কারণে ভারতের বিভিন্ন যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়।

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর কোম্পানি বাংলার কর সংগ্রহের ক্ষমতালাভ করে। ভারতের রাজনীতির দখল নেওয়ার জন্য বাংলা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পুরো ভারতে প্রভাব তৈরির জন্য বাংলাই কেবল যথেষ্ট ছিল না।

এ কারণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে। এরপর পশ্চিম ভারতের মারাঠা এবং মহীশূরের রাজা টিপু সুলতানকে হারানোর পর পুরো ভারতই কার্যত তাদের অধীনে চলে যায়৷ মুঘল সম্রাটরা তখন পুতুল শাসকে পরিণত হয়। ১৮১৮ সালের হিসেব অনুসারে ভারতের দুই-তৃতীয়াংশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে ছিল।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বর্তমান অবস্থা
মূলত ১৮১৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাঠামোর ভেঙে পড়ে। কিন্তু পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায় ১৮৭৪ সালে। এর প্রায় ১৩৫ বছর পর ২০১০ সালের আগস্টে আবারো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সচল হয়েছে। তবে এক ভারতীয় ব্যবসায়ীর হাত ধরে। তার নাম সঞ্জীব মেহতা। মূলত পূর্বের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে এই কোম্পানির নাম ছাড়া আর কোনও কিছুতেই মিল নেই।

৪৮ বছর বয়সী ভারতীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা ২০০৫ সালে স্বল্প মূল্যে ইস্ট কোম্পানির পেটেন্ট ক্রয় করেন। এর পাঁচ বছর তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ভোগ্য পণ্যের ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি লন্ডনে বিলাসবহুল এক খাবারের দোকান চালু করেছেন। মাত্র ৩৫ জন কর্মীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানে মেহতার বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১২ মিলিয়ন পাউন্ড। সূত্র: আরব নিউজ, ডব্লিউআইওনিউজ, রোর মিডিয়া

নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে নোংরা অভিজ্ঞতা আমিশা প্যাটেলের

‌’আমাকে ধর্ষণ করে দিত বা আমাকে মেরে ফেলত ওরা’-ভারতের বিহার নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে এমনই কুৎসিত অভিজ্ঞতা হয় বলিউড অভিনেত্রী আমিশা প্যাটেলের। এলজেপি প্রার্থী প্রকাশ চন্দ্রের জন্য প্রচারে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে না ছিল কোনও নিরাপত্তা, না ছিল ভদ্রতা।

এই অভিনেত্রী জানান, আমি মুম্বাই ফিরেছি। তারপরও বিপদ কাটেনি। সত্যি কথা বলার জন্য আমাকে হুমকি দিয়ে ফোন ও মেসেজও করেন প্রকাশ চন্দ্র। তার দাবি, তাকে নিয়ে ভাল ভাল কথা বলতে হবে। কিন্তু সেখানে আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তারপর তার সম্পর্কে ভাল কথা বলা যায়?‌ তার নির্দেশ মতো কথা না বলার জন্য আমার গাড়ি ঘিরে ধরেছিল প্রকাশ চন্দ্রের লোকজন। আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। আমাকে খুন হয়ে যেতে পারতাম অথবা আমায় ধর্ষণও করে দিত পারত তারা।‌

ভারতের জাতীয় একটি সংবাদসংস্থাকে এসকল কথা বলেন অভিনেত্রী আমীশা প্যাটেল। কিন্তু অভিযুক্ত প্রকাশ চন্দ্র বলেন, এসবই মিথ্যা অভিযোগ। তার জন্য দাউদনগরের পুলিশ কর্মকর্তারা সকল সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। বিডি-প্রতিদিন

কোনও দস্যু আমেরিকার মতো এভাবে চুরি করে গর্ব করে না: ইরান

মার্কিন সরকার কথিত ইরানি তেল ট্যাংকারের জ্বালানি বিক্রি করে বিপুল অংকের অর্থ আয় করার যে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছে সে সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে বলেছেন, “ক্যারিবিয়ান সাগরের জলদস্যুরা অন্যের জাহাজ লুট করে দম্ভভরে গর্ব করে বেড়াচ্ছে; অথচ কোনও সভ্য সমাজ চুরি করে গর্ব করতে পারে না।”

মার্কিন আইন মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক ঘোষণায় জানায়, ভেনিজুয়েলা যাওয়ার পথে মার্কিন নৌসেনারা যেসব ইরানি তেল ট্যাংকার আটক (চুরি) করেছিল সেগুলোর তেল বিক্রি করেছে ওয়াশিংটন।
এ সম্পর্কে খাতিবজাদে নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে লিখেছেন, তেহরান এর আগেও ঘোষণা করেছে ওই ট্যাংকারগুলো ইরানের নয় বরং অন্য কারও জাহাজ চুরি করেছে মার্কিন সেনারা।

মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট শুক্রবার জানায়, সম্প্রতি আমেরিকা জলদস্যু স্টাইলে ভেনিজুয়েলাগামী ইরানি তেলের চালান চুরি করেছিল। সেই তেল ৪ কোটি ডলারে বিক্রি করা হয়েছে বলেও আমেরিকার ওই মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তবে ইরান শুরু থেকে বলে এসেছে ওই তেল ট্যাংকারগুলো ইরানের ছিল না। #পার্সটুডে

ভূমিকম্পে তুরস্ক-গ্রিসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

তুরস্কের এজিয়ান ও গ্রিসে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের ঘটনায় অন্তত চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। অন্তত ২০টি ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল তুরস্কের ইজমির প্রদেশে। তুরস্ক জানিয়েছে, ভূমিকম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৬। ভূমিকম্পের কারণে গ্রিসের সামোস বন্দর এবং তুরস্কের ইজমিরে বন্যা দেখা দিয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তি এজিয়ান সাগরের ১০ কিলোমিটার গভীরে। পার্শ্ববর্তী অ্যাথেন্স এবং ইস্তাম্বুল শহরেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে তুরস্ক জানিয়েছে, ভূকম্পন সৃষ্টি হয়েছে এজিয়ান সাগরের ১৬ কিলোমিটার গভীর থেকে।

তুরস্ক এবং গ্রিস ফল্ট নাইনসে অবস্থিত। ভূমিকম্প ওই অঞ্চলে স্বাভাবিক ঘটনা। ভূমিকম্প আঘাত হানার পরপরই তুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তর শহরে ইজমির হাজারো বাসিন্দা ভয়ে, আতঙ্কে রাস্তায় এসে আশ্রয় নিয়েছে।

ইজমির গর্ভন জানিয়েছেন, চারটি ভবন একেবারে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তুরস্কের ভূমিকম্প গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক হালুক ওজেনার শুক্রবার ইস্তাম্বুলে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর অন্তত ১৯টি মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এগুলোর মাত্রা ৩ দশমিক ৩ থেকে ৪ দশমিক ৮ এর মধ্যে ছিল। ১৫ সেকেন্ডের বেশি মৃদু ভূকম্পনগুলো স্থায়ী হয়। ভূমিকম্পের কারণে ফল্ট লাইনের ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার ফেটে গেছে বলে জানান তিনি।

তুরস্কের দুর্যোগ এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ইজমির এবং আশপাশের প্রদেশগুলোর বাসিন্দাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তুরস্কের ভূমিকম্প গবেষণা ইনস্টিটিউট সতর্ক করেছে, সম্ভাব্য পরর্ব্তী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। বলা হয়, ৫ দশমিক ৮ মাত্রার পরবর্তী আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বহুতল একটি ভবন ভূমিকম্পেরে আঘাত ধসে পড়েছে। অন্যান্য ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ভবন ধসে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং সরকারি বাহিনী।

ভূমিকম্পনের কারণে সৃষ্ট বন্যায় সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকজন জেলে নিখোঁজ হয়েছে বলেও জানানো হয়। গ্রিসে ভূমিকম্প এবং এর কারণে সৃষ্ট বন্যায় বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপকূলীয় বাসিন্দাদের উপকূল থেকে দূরে অবস্থানের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। শুক্রবারের ভূমিকম্প গ্রিসের ক্রেটে উপকূলেও অনুভূত হয়েছে।

এর আগে তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় ইলাজিগ প্রদেশে এ বছরের জানুয়ারিতে ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন মারা যায়। আহত হয় ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি।

ভারতের বিভিন্ন শহরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মুসলিমদের বিক্ষোভ সমাবেশ

ভারতের বিভিন্ন শহরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের বিরুদ্ধে মুসলিমরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ফ্রান্সে সম্প্রতি কাল্পনিক কার্টুন প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে প্রিয় নবী মুহাম্মাদ(সা.)-এঁর অবমাননা করায় এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট তাঁকে সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা মুসলিম সমাজ।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ফ্রান্সে এ ধরনের কার্টুন ছাপানো কখনও বন্ধ হবে না। এর পাশাপাশি তিনি গোটা বিশ্বে ইসলাম ধর্ম সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে ভারতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) মধ্য প্রদেশের রাজধানী ভোপালের ইকবাল ময়দানে হাজার হাজার মুসলিম সমবেত হয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদের উদ্যোগে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ে কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে ফ্রান্সে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে সেখানকার শাসকের ‘মুসলিম বিরোধী’ অবস্থানের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ নিবন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি এ সময়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের বিরুদ্ধে প্রিয় নবী (সা)–এঁর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুনকে সমর্থন করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ করেন।

কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ভারতে বাসরত মুসলিমদের আহত করেছেন, সেজন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত আমাদের এখন ফ্রান্স থেকে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেওয়া। ভোপালে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হওয়া মুসলিমরা এদিন ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দেন। প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে কালো পতাকাও প্রদর্শন করা হয়। পরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ছবিও পোড়ানো হয়। অন্যদিকে, ভোপালের ইকবাল ময়দানে করোনা বিধি ভেঙে জমায়েতের অভিযোগে কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ এবং অন্য প্রায় ২ হাজার লোকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় ভারতের মধ্য প্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘মধ্য প্রদেশ শান্তির দ্বীপ। যারা এর শান্তিকে ব্যাহত করেছে তাদেরকে আমরা কঠোরভাবে মোকাবিলা করব। এক্ষেত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি যেই হোক না কেন।

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের ছবি সড়কের মধ্যে লাগিয়ে দেওয়ায় মানুষজন তা পদদলিত করছে। ওই ছবির ওপর দিয়েই যানবাহন চলাচল করেছে। ম্যাকরনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রসঙ্গে রাজা একাডেমির মাওলানা আব্বাস রিজভী বলেন, ‘মুম্বাইয়ের মুসলিমরা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ছবি পদদলিত করছে। মানুষজন, যানবাহন, কুকুর-বিড়াল সবই ওই পোস্টারের উপর দিয়ে যাচ্ছে। মহানবী (সা)-এঁর শানে ধৃষ্টতার জন্য এ ধরণের শাস্তি পাওয়া উচিত।’

অন্যদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ওই ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানকার শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতারা এ সময়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ফ্রান্সের তৈরি পণ্য বয়কট করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের পোস্টারও পুড়িয়ে দেয়।

ছাত্র নেতা ফারহান জুবায়েরি বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইসলাম সম্পর্কে যে ধরণের মন্তব্য করেছে তা বরদাশত করা যায় না। ফ্রান্সের তৈরি পণ্যগুলো বিশ্বজুড়ে বয়কট করা হচ্ছে। এরফলে তিন দিনেই কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এর মাধ্যমে ফ্রান্স বুঝতে পারছে যে সম্মিলিত শক্তি কী।#পার্সটুডে