২০ হাজার কর্মী নেবে ম্যাকডোনাল্ড’স

যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে ৫০টি নতুন রেস্তোঁরা চালু করতে যাচ্ছে ফাস্টফুড চেইন ম্যাকডোনাল্ড’স। এজন্য ২০ হাজার কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। আগামী এক বছরের মধ্যেই সংস্থাটি নতুন রেস্তোঁরা চালু ও কর্মী নিয়োগের কাজটি করতে চায়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ম্যাকডোনাল্ড’স জানিয়েছে, মহামারীর কারণে যেসব কর্মীদের ছাঁটাই করা হয়েছিল তাদের প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, বিষয়টা তেমন নয়। এখন মূলত প্রতিষ্ঠানটির পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের করোনাভাইরাস বিষয়ক নির্দেশিকা অনুযায়ী কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে।

ম্যাকডোনাল্ড’স ইউকে ও আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী পল পমরয় বলেন, নতুন করে আরো ২০ হাজার কর্মীকে কাজের সুযোগ করে দিতে সক্ষম হওয়া ভীষণ আনন্দের। কোনো সন্দেহ নেই যে মহামারী কর্মসংস্থানের সুযোগগুলোর ওপর অনেক বড় প্রভাব ফেলেছে। আমাদের ১ হাজার ৪০০টির বেশি রেস্তোঁরা পরিচালিত হয় ২০০ স্থানীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে। এর অর্থ হলো, প্রতিটিতেই আমাদের ব্যক্তিগত অংশীদারী রয়েছে। এটা অনেক বড় দায়িত্ব। স্থানীয় জনগণ ও যে অর্থনীতিতে আমরা ব্যবসা করি তার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই নতুন কর্মী নিয়োগ ও পরিধি বাড়ানোর এ ঘোষণা দিয়েছি।

যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী ম্যাকডোনাল্ড’স এর জন্য কাজ করেন। পমরয় বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিভাসম্পন্ন কর্মীদের আকৃষ্ট করা জটিল কাজ।

ম্যাকডোনাল্ড’সের বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ২১ বছরের কম বয়সী যে কাউকে জাতীয় ন্যূনতম মজুরির বেশি দেয়া হয়। এছাড়া ২১ বছরের বেশি বয়সীরা তাদের জন্য নির্ধারিত জাতীয় কাঠামোর থেকে বেশি বেতন পান।

কূটনীতিক শূন্যতায় যুক্তরাষ্ট্র

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তার আমলে বৈরী দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ আরো ঘনীভূত হয়েছে। মিত্রদেশগুলো থেকেও অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিল ওয়াশিংটন। নির্বাচিত হওয়ার আগেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কূটনৈতিক অঙ্গনের শূন্যতা কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনবেন বলে নিজ দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে সে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে এখনো পুরনো অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে পারেননি তিনি। এমনকি এখনো অনেক দেশেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিতে পারেনি ওয়াশিংটন।

অনেক দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি প্রায় শূন্যের কোঠায়। সেসব দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাষ্ট্রদূতকে এখনো নিয়োগ দেয়নি হোয়াইট হাউজ। এ তালিকায় ট্রাম্পের আমলে দূরত্ব তৈরি হওয়া দেশগুলো যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে চীনের মতো বৈরী দেশগুলোও।

চলতি মাসেই জো বাইডেন ইউরোপের তিনটি দেশ সফর করে এসেছেন। হোয়াইট হাউজের কর্তৃত্ব হাতে তুলে নেয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সফর। তিন দেশের কোথাও স্থানীয় মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড—এ তিন দেশের কোনোটিতেই এখনো কাউকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেননি জো বাইডেন। জেনেভায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে তার এ সফর শেষ হয়। স্থানীয়ভাবে নিয়োজিত শীর্ষ কূটনীতিকদের উপস্থিতি ছাড়াই ঐতিহ্যগতভাবে বৈরী দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাইডেনের এ বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে বেশ বিস্ময়ের সঞ্চার করেছে।

জি৭ জোটভুক্ত কয়েকটি মিত্রদেশেও কোনো শীর্ষ কূটনীতিক নেই যুক্তরাষ্ট্রের। এ তালিকায় নাম রয়েছে জাপান, জার্মানি ও কানাডার। অথচ রাশিয়া ও চীনকে মোকাবেলায় জি৭ জোটভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এশিয়া প্যাসিফিকে চীনকে মোকাবেলার জন্য সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে প্রায় বিস্মৃত জোট কোয়াড্রিলেটারাল ইনিশিয়েটিভকে (কোয়াড) পুনরুজ্জীবিত করে তোলা হয়েছে। এ অঞ্চলের ন্যাটো হিসেবে অভিহিত জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার জাপান। সেখানেও এখন পর্যন্ত কোনো শীর্ষ কূটনীতিককে নিয়োগ দেননি জো বাইডেন। জোটের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ভারত। বর্তমানে সেখানেও যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োজিত কোনো রাষ্ট্রদূত নেই। এ নিয়ে মার্কিনঘেঁষা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বিষয়টি কোয়াডের কার্যক্রম পরিচালনার পথে বড় ধরনের ব্যাঘাত হয়ে দেখা দিতে পারে।

ইউরোপ সফর চলাকালে ইইউ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন বাইডেন। সে বৈঠকের ফলোআপ রাখার জন্য ইইউতে বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রদূত নেই যুক্তরাষ্ট্রের। বেইজিং, কাবুল, কিয়েভ, ম্যানিলা, রিয়াদ, সিউল, ওয়ারশসহ অনেক রাজধানী শহরেই কোনো শীর্ষ কূটনীতিক নেই যুক্তরাষ্ট্রের। অথচ এসব শহরের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি কূটনৈতিক আলোচনা-দেনদরবার-দরকষাকষি চালাতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশ্লেষকরা বলছেন, বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তার পুরনো পথে ফিরে এসেছে। কিন্তু তাতে রাষ্ট্রদূতদের ভূমিকা ও অংশগ্রহণ দুটোই কমে এসেছে।

রাশিয়ায় বর্তমানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন জন সুলিভান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তাকে মস্কোয় নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। দি ইকোনমিস্ট জানাচ্ছে, ন্যাটোয় মার্কিন দূত হিসেবে এরই মধ্যে জুলিয়ানা স্মিথকে পছন্দ করে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জো বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে জুলিয়ানা স্মিথ ছিলেন তার ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার। তবে তার নিয়োগ এখনো সিনেটের অনুমোদন পায়নি। ন্যাটোয় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে কয়েকদিন আগেই তার নাম প্রস্তাব করেছেন জো বাইডেন। সেক্ষেত্রে তার দপ্তর গ্রহণে আরো সময় লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতির প্রভাব স্পষ্টভাবে নিরূপণ করা মুশকিল। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত একজন অভিজ্ঞ পররাষ্ট্র কর্মকর্তা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে থাকেন। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে অন্যের সঙ্গে সরাসরিই কথা বলেন। মহামারীকালে ভার্চুয়াল কূটনীতি কিছু সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মার্কিন অভিজ্ঞ পররাষ্ট্র কর্মকর্তাদের বদলে অন্যদের নিয়োগ দেয়ার কারণে ওয়াশিংটনকে কূটনৈতিকভাবে কিছুটা পিছিয়েও পড়তে হয়েছে।

ট্রাম্পের আমলে বার্লিনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন রির্চার্ড গ্রেনেল। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস তাকে বর্ণনা করেছে ‘জার্মানির জন্য ক্রমাগত বিরক্তি উদ্রেককারী’ হিসেবে। তবে তার সম্পর্কে ইকোনমিস্টের মূল্যায়ন, রিচার্ড গ্রেনেলকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। তিনি সেখানে স্রেফ সে দায়িত্বই পালন করে গিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির অভিজ্ঞ বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রদূতের কাজ হলো কর্মস্থলের সরকারের সঙ্গে নিজ দেশের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা তৈরি করা। এজন্য কর্মস্থলের সরকারি মহলের মূল প্রভাবক ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজটিও তাকে সুচারুভাবে করতে হয়। প্রেসিডেন্টের বাছাইকৃত ব্যক্তি হিসেবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলারও সুযোগ থাকে। এক্ষেত্রে নিজ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনেকটা স্বাধীনভাবেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন তারা।

জো বাইডেনের ক্ষমতা গ্রহণের পর এ পর্যন্ত সময় পেরিয়েছে পাঁচ মাস। পার্টনারশিপ ফর পাবলিক সার্ভিস নামে একটি সংস্থার বরাত দিয়ে ইকোনমিস্ট জানাচ্ছে, এ সময়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিকভাবে ৬৭ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিয়োগ দিয়েছিলেন ৪১ জনকে। অন্যদিকে তারও আগে বারাক ওবামা প্রথম পাঁচ মাসে নিয়োগ দিয়েছিলেন ১৪৯ জনকে।

রাষ্ট্রদূতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাইডেনের এ পিছিয়ে থাকার পেছনে দায়ী করা হচ্ছে সিনেটের দীর্ঘসূত্রতাকে। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সিনেটের অনুমোদন নিয়ে নিয়োগ দিতে হয় প্রায় ১ হাজার ১০০ জনকে। এছাড়া গোটা প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধানের জন্যও কাউকে দায়িত্ব দিতে হয়। এখানেও সিনেটের অনুমোদন জরুরি। ওয়াশিংটনে সরকারি জনবল নিয়োগের বিষয়টি দেখভালের কাজটি করে থাকে প্রধানত অফিস অব পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট, জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও অফিস অব ম্যানেজমেন্ট। এখন পর্যন্ত এসব দপ্তরেই প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেয়াটা মুশকিল হয়ে পড়েছে জো বাইডেনের জন্য।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন সক্রিয় পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক। অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সাধারণত উচ্চাভিলাষী নীতি বাস্তবায়নে আগ্রহ বেশি তার। কিন্তু বর্তমানে দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাকে। প্রশাসনে এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে পারছেন না তিনি।

মার্কিন সিনেটের কাজের পদ্ধতি একটু ধীর ও সময়সাপেক্ষ। গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কয়েকজনকে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন বাইডেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় নিয়োগের অনুমোদন দেয়নি সিনেট।

মস্কোর রাস্তায় শাড়ি পরা কে এই নারী?

বলিউড অভিনেত্রী তাপসী পান্নু করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই ছুটি কাটাতে গেছেন রাশিয়া। সেখানে গিয়ে তিনি তার নানা মুহূর্তের ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে তুলে ধরছেন। এছাড়া সেন্ট পিটার্সবার্গের রাস্তায় দৌড়ের ছবিও দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামে।

তাপসীকে শাড়িতে নতুন লুকে দেখছেন ভক্তরা, প্রশংসাও করছেন। রাশিয়ায় তাপসীর সঙ্গে রয়েছেন বোন শেগুন পান্নু। মস্কোয় যে বাড়িতে থাকছেন সেটির ছবিও শেয়ার করেছেন এ অভিনেত্রী।

মস্কোতে শাড়ি পরে রাস্তায় হাঁটছেন তাপসী, যাচ্ছে দর্শনীয় স্থানগুলোতে। মস্কোর সেন্ট্রাল প্যাভিলিয়নের সামনে নীল সুতির শাড়ি আর লম্বা হাতা হলুদ ব্লাউজে ছবি দিয়েছেন তিনি। পায়ে ছিল স্নিকার্স। চোখে রোদ চশমা। তবে দুই বোনের কেউই মাস্ক পরেননি।

অবশ্য তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তাপসী। একটি ছবির বিবরণে লিখেছেন, ‘অবশেষে ওল্ড নরমালে ফেরা। নতুন নতুন রঙে নিজেকে মুড়ে ফেলার সুযোগ। যখন খুশি রাস্তার পাশে বসে পড়া। ইচ্ছে মতো আকাশ দেখা। আর নিজেকে বলা- সব ঠিক আছে। সব ঠিক হয়ে যাবে। মস্কোকে অভিবাদন। এবার আসল স্বাভাবিক জীবনের মজা নেওয়া যাক।’

তাপসী পান্নুকে সবশেষ ‘থাপ্পড়’ সিনেমায় দেখা গেছে, যেটি পরিচালনা করেন অনুভব সিনহা। আর কিছু দিন পরই তাকে নেটফ্লিক্সে ‘হাসিন দিলরুবা’য় দেখা যাবে, যেখানে তার সঙ্গে রয়েছেন বিক্রান্ত ম্যাসে ও হর্ষবর্ধন রানে। ২ জুলাই নেটফ্লিক্সে সিনেমাটির স্ট্রিমিং হবে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

যৌন হয়রানির অভিযোগে পাকিস্তানে এক মুফতি গ্রেপ্তার

যৌন হয়রানির অভিযোগে পাকিস্তানের মুফতি আজিজুর রেহমানকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। দেশটির মিওয়ানওয়ালি শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানের নেতৃত্বদানকারী লাহোর মডেল টাউন সিআইএর উপ-পুলিশ সুপার (ডিএসপি) হাসনাইন হায়দার সংবাদপত্র ডনকে জানিয়েছেন, আজিজুর রেহমানকে লাহোরে আনা হয়েছে এবং সেখানেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। দু তিনদিনের মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

পাঞ্জাবের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ইনাম গণি এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে বলেছেন, পুলিশ এটাকে পরীক্ষামূলক মামলা হিসেবে দেখছে। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব, তদন্ত করব, মামলা করব এবং আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করবে। আমরা চাই আমাদের বাচ্চারা এই শিশু শ্লীলতাহানির হাত থেকে সুরক্ষিত থাকুক এবং আমাদের সমাজকে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য সুরক্ষিত রাখুক।”

চলতি সপ্তাহের শুরুতে, রেহমানের বিরুদ্ধে তার এক শিক্ষার্থীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করা একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হওয়ার পরেই পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়াল

আবারো ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে ভারতের দৈনিক সংক্রমণ। বুধবার দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ৮৪৮ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়াল। করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ২৮ হাজার ৭০৯ জন।

বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩৫৮ জন রোগীর। এ নিয়ে দেশটিতে মোট প্রাণ হারিয়েছেন ৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৬০ জন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভারতে দৈনিক সংক্রমণের হার কমছে। পাশাপাশি দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও এক মাসের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক ভাবে কমছে। কমতে কমতে তা সাড়ে ৬ লক্ষের নীচে নেমেছে। দেশটিতে এখন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৯৪ জন।

ইসরায়েলপন্থী সেরা ৫০-এর তালিকায় জ্যাক মা

সারা বিশ্বের সেরা ৫০ জন ইসরায়েলপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মধ্যে ১৩ নম্বরে রয়েছেন চীনের জ্যাক মা। সম্প্রতি টপ ৫০ প্রো-ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সার্স নামের একটি সাইট এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সাইটটি বলছে, ইসরায়েলের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ডিজিটাল বিপণন সংস্থা সোশ্যাল লাইট ক্রিয়েটিভ এলএলসি সারা বিশ্বের শত শত ব্যক্তির মধ্য থেকে ২০২১ সালের শীর্ষ ৫০ জন ইসরায়েলপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বাছাই করেছে। এই বছর নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন ইসরায়েলের কর্মী, কয়েকজন সাংবাদিক এবং কয়েকজন সাধারণ ব্যক্তিত্ব রয়েছে। তারা সারা বিশ্বের কাছে ইসরায়েলের গল্প বলেছে।

সাইটটিতে জানানো হয়, সারা বিশ্বের সেরা ৫০ জন ইসরায়েলপন্থী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মধ্যে ১৩ নম্বরে রয়েছেন চীনের জ্যাক মা। তিনি চীনা ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সমাজসেবী। তিনি বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা আলিবাবা গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং এই প্রতিষ্ঠানটির সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান। তিনি ইসরায়েলে বহুবার সফর করেছেন। উচ্চ প্রযুক্তির সেক্টর থেকে তিনি কী শিখলেন তা নিয়েও কথা বলেছেন।

এদিকে চীনের জ্যাক মা ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন আরো ৪৯ জন ব্যক্তিত্ব। তাদের মধ্যে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন দেশটির অভিনেত্রী শিরা হাস। এর পরই রয়েছেন একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হেলেন মীর। তিন নম্বরে রয়েছেন ওয়ান্ডার উইম্যান খ্যাত অভিনেত্রী গল গ্যাডট। এ ছাড়া এই তালিকার ৬ নম্বরে রয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি।

কুর্দিপন্থী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করছে তুরস্ক

তুরস্কের উচ্চ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকে গেরিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগে কুর্দিপন্থী পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এইচডিপি-কে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এইচডিপি তুরস্কের জাতীয় সংসদের তৃতীয় বৃহত্তম দল। গতকাল সোমবার সাংবিধানিক আদালত তুরস্কের শীর্ষ পর্যায়ের কৌঁসুলির দায়ের করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন। তবে দলটির তহবিল জব্দের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন আদালত।

তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদেলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুর্কি আপিল আদালতের বিচারকরা সর্বসম্মতিক্রমে অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। এখন এইচডিপিকে নিজের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে। চলতি মাসের প্রথম দিকে তুর্কি কৌঁসুলিরা এইচডিপিকে নিষিদ্ধ করার জন্য সাংবিধানিক আদালতে আরজি পেশ করেন।

দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী রয়েছে। দলের শীর্ষ নেতা মিহাত সানসার বলেছেন, তারা দৃঢ়ভাবে এ মামলা মোকাবেলা করবেন, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। আদালতের এ পদক্ষেপকে তিনি ‘বিপর্যয়কর’ বলে মন্তব্য করেন।
সূত্র : আনাদেলু এজেন্সি।

উইঘুর নির্যাতন
জিনজিয়াং যেতে চান মানবাধিকার পরিষদের প্রধান

জাতিসংঘ বরাবরই উইঘুর নির্যাতন নিয়ে সরব ভূমিকা পালন করছে। এবার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জিনজিয়াং প্রদেশ পরিদর্শনের কথা বললেন সংস্থাটির মানবাধিকার পরিষদের প্রধান মিশেল ব্যাকলেট। চীনের ওপর চাপ বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার মানবাধিকার পরিষদের ৪৭তম অধিবেশনে চীন, রাশিয়া ও ইথিওপিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সরব হন ব্যাকলেট। বিশেষ করে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চলতি বছরই জিনজিয়াং যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ব্যাকলেট।

একই সঙ্গে হংকংয়ে চীনা দমননীতি নিয়েও সরব হন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের প্রধান। স্বশাসিত প্রদেশটির ‘গণতান্ত্রিক মর্যাদা’ কেড়ে নিতে শি জিনপিং প্রশাসনের বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করেন ব্যাকলেট। বিশ্লেষকদের মতে, উইঘুর ও হংকং ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যাকফুটে রয়েছে চীন। এবার জিনজিয়াং পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে কমিউনিস্ট দেশটির ওপর আরো চাপ বাড়াল জাতিসংঘ।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে জিনজিয়াং প্রদেশে সাম্প্রদায়িক হিংসা হওয়ার পর থেকেই উইঘুর মুসলিমদের ওপর রাশ টেনেছে চীন। সেখানে উইঘুর ও অন্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর জুলুমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কয়েকদিন আগে বিবিসির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বন্দিশিবিরে থাকা মুসলিম নারীদের ওপর পরিকল্পনা করে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন চালাচ্ছে চীন। সেই রিপোর্টকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমেরিকা।

এর আগে মুসলিম নারীদের জোর করে অপারেশন করে বন্ধ্যা করে দেওয়া হচ্ছে কিংবা গর্ভপাত করানো হচ্ছে বলে শোনা গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমালোচিত হলেও তা নিয়ে বিশেষ মাথা ব্যথা নেই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামেনেস্টি কিংবা ইসলামিক দেশগুলোর সংগঠন সবাই এই বিষয়ে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেও লাভ হয়নি কোনও।

পাল্টা বেইজিংয়ের দাবি, তাদের দেশে যথেষ্ট ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শ্রম আইন রয়েছে। ফলে উইঘুর মুসলিমরা সমস্ত নাগরিক অধিকার নিয়ে ভাল রয়েছেন। সংখ্যালঘু কতটা ‘সুরক্ষিত’ সেই কথা বোঝাতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল চীন।
সূত্র: আলজাজিরা।

বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে ‘নতুন যুগের’ সূচনা হয়েছে : এরদোয়ান

গঠনমূলক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জো বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে ‘নতুন যুগের’ দুয়ার খুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তুর্কি-মার্কিন সম্পর্ক একেবারে তলানিতে চলে যাওয়ায় গত সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এটি ছিল এ দুই নেতার প্রথম বৈঠক। তুরস্ক রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করায় ওয়াশিংটন আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং এরদোয়ানের শাসনামলে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটার কঠোর সমালোচনা করে।

তবে কেবিনেট বৈঠকের পর এ তুর্কি নেতা বলেন, তিনি ও বাইডেন একটি গঠনমূলক আলোচনা করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ চালু রাখার বিভিন্ন উপায় ধরে রাখার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা একটি নতুন যুগের দুয়ার খুলে দিয়েছি। আর এটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্কের ভিত্তি।’

তিনি বলেন, ‘বাইডেনের সঙ্গে আমাদের আলোচনার ইতিবাচক ইঙ্গিতের ফলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ চ্যানেল জোরদার করে আমরা দেশের জন্য সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সুবিধা অর্জনে বদ্ধপরিকর।’ এ ক্ষেত্রে ‘তুরস্কের’ একমাত্র দাবি হচ্ছে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান করা এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তাদের লড়াইয়ে সমর্থন জানানো।’

সূত্র : ডয়েচে ভেলে।

 

জিনজিয়াংয়ে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান

চীনের উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত জিনজিয়াং প্রদেশের তারিম বেসিনে ৯০০ মিলিয়ন টনের নতুন একটি তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত ছয় বছর ধরে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর এটির সন্ধান পাওয়া গেল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সর্ববৃহৎ তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (সিএনপিসি) জানিয়েছে, তারা তারিম বেসিনে বিশাল ওই তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ক্ষেত্রটির অবস্থান জিনজিয়াংয়ের ফুমান এলাকার মানসেন-২ নামে অপর এক তেল-গ্যাসক্ষেত্রের পাশে তারিম নদীর দক্ষিণে। এটি তকলিমাকান মরুভূমির কেন্দ্রে ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

তারিম ওয়েলফিল্ডি কম্পানির ব্যবস্থাপক ইয়াং শুয়েওয়েন জানান, তারা সফলভাবে নতুন এই তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পেয়েছেন। সেখানে ১০০ কোটি টন তেল রয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই সর্ববৃহৎ অনুসন্ধান।

সূত্র : সিজিটিএন, গ্লোবাল টাইমস