ভ্যাকসিন কূটনীতিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে ভারত

নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে নয়াদিল্লির সামনে এমন সুবর্ণ সুযোগ আর কখনো আসেনি। কিছু সময়ের জন্য হলেও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে চীনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে মোক্ষম হাতিয়ার এখন ভারতের হাতে। চীন ও ভারত দুই দেশই এখন করোনা পর্যুদস্ত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সামনে কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিনের ডালি সাজিয়ে শুভেচ্ছার বার্তা নিয়ে এগিয়ে আসছে। যদিও চীনা ভ্যাকসিনের প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে কম। অন্যদিকে পাকিস্তান ছাড়া এ অঞ্চলের সব দেশই এখন ভারতের কাছ থেকে ভ্যাকসিন নিতে মুখিয়ে রয়েছে।

গত কয়েক বছরে আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে অনেকটাই একা হয়ে পড়ার শঙ্কার মধ্য দিয়ে গিয়েছে ভারত। বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় জনসংখ্যা রেজিস্ট্রার (এনপিআর), জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি), তিস্তা ইস্যু, বাংলাদেশীদের নিয়ে অমিত শাহর কটূক্তিসহ নানাবিধ কারণে উষ্ণতা হারাচ্ছিল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। নেপালের পার্লামেন্টে অনুমোদিত নতুন মানচিত্র নিয়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে নয়াদিল্লির। অন্যদিকে শ্রীলংকায় দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছিল চীনের উপস্থিতি। চিরবৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গেও এ মুহূর্তে সব ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা একেবারেই বন্ধ রেখেছে ভারত।

এ অবস্থাতেই গত বছরের মে মাস থেকে লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে এক ধরনের সামরিক অচলাবস্থায় জড়িয়ে পড়ে নয়াদিল্লি। কয়েক বছর ধরে এমনিতেই কিছুটা অর্থনৈতিক মন্দাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল ভারত। এ পরিস্থিতিকে আরো সংকটপূর্ণ করে তুলেছে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে আবারো উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হয়ে উঠেছে দেশটি। চলতি বছরটিকে কূটনৈতিক প্রয়াসের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের বছর হিসেবেই দেখছে নয়াদিল্লি। এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক লড়াইয়ে ভারতকে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন।

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় সুলভে সরবরাহের জন্য অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে ভারতের পুনেভিত্তিক সেরাম ইনস্টিটিউট। যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে এ ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা দাঁড়াতে পারে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। এছাড়া দেশটির স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভারত বায়োটেক উদ্ভাবন করেছে কোভ্যাক্সিন নামে আরো একটি ভ্যাকসিন। এটিও জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োগের জন্য অনুমোদন দিয়েছে ভারত সরকার। ভ্যাকসিনটির কার্যকারিতা সম্পর্কে সেভাবে কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও ভারত সরকারের দাবি, এটি ১১০ শতাংশ পর্যন্ত নিরাপদ।

অন্যদিকে ব্রাজিলে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে দেখা গিয়েছে, চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন সর্বোচ্চ ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে। এদিকে চীনেরই আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম গত ৩০ ডিসেম্বর জানায়, প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। চলতি মাসের শুরুর দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, সেখানে ফেজ-৩ ট্রায়ালে সিনোফার্মের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রমাণ হয়েছে ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত।

বর্তমানে ভারত নিজ দেশের ৩০ কোটি নাগরিককে টিকা দেয়ার এক বৃহৎ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর পাশাপাশি সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড এবং ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিনকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্যও কাজে লাগাতে চাইছে দেশটি। ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদের গণ্ডি পেরিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র পাকিস্তান বাদে আর সব দেশেই ‘টিকার কূটনৈতিক উপহার’ নিয়ে উষ্ণতার বার্তা পাঠাতে চাইছে দেশটি।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, ভুটান, নেপাল, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ এবং মিয়ানমার, মরিশাস ও সেশেলসের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোয় ভারত সব মিলিয়ে ১ কোটি ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাঠাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাই বলে নিশ্চুপ বসে নেই চীনও। বেইজিংও চাইছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো চীনা ভ্যাকসিন সংগ্রহ করুক। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই এ নিয়ে একটি অনলাইন সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে চীন ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা অংশ নেয়। অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপ। তবে তাতে খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি বেইজিং। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ছাড়া আর সব দেশের হাবভাবেই পরিষ্কার, সবাই এখন শুধু সেরামে উৎপাদিত ভ্যাকসিন নিয়েই ভাবছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ধারাভাষ্যকাররা বলছেন, ভারত এ মুহূর্তে কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছেন, বাংলাদেশকে কাছে টানতে দেশটি এখন পর্যন্ত সিএএর পদ্ধতিগত ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করেনি। অন্যদিকে ভারত-নেপাল যৌথ কমিশনের বৈঠকে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী দেশটির মানচিত্রে ভারতের দাবি করা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যৌথ কমিশনের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হবে জানালেও বিষয়টিতে বিপরীত অবস্থানে নয়াদিল্লি। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর বলেছেন, যৌথ কমিশনের বৈঠকে মানচিত্র নিয়ে আলোচনার অবকাশ নেই।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, অনেকটা বিরোধ এড়াতেই বৈঠকে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করতে চাইছেন না ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে গতকাল যখন দুই দেশের যৌথ কমিশনের বৈঠক চলছিল, ঠিক সে সময়ই জরুরি ভিত্তিতে সেরামের কোভিশিল্ড ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নেপাল।

এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য শ্রীলংকা সফরে যান সুব্রামনিয়াম জয়শংকর। ওই সময় তিনি কলম্বোকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসেন, রফতানির জন্য প্রস্তুত হওয়া মাত্র ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে শ্রীলংকাকে অগ্রাধিকার দেবে ভারত।

অন্যদিকে মালদ্বীপ সরকার এরই মধ্যে সেরামের কোভ্যাক্সিন সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েই রেখেছে। ভারতও বলছে, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মতো মালদ্বীপকেও ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেবে নয়াদিল্লি।

সব মিলিয়ে বলা চলে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভ্যাকসিন কূটনীতিতে ভারতের তুলনায় এখনো যোজন যোজন পিছিয়ে চীন। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদিক থেকে বেইজিংয়ের পারফরম্যান্স মোটামুটি ভালো। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে টিকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে চীন। তবে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত কম্বোডিয়া বলছে, আন্তর্জাতিক কোভ্যাক্স কর্মসূচির বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের কথা আপাতত ভাবছে না দেশটি। এর বাইরেও কয়েকটি দেশে চীনা ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ তৈরি করে নিতে পেরেছে বেইজিং। ইউএইর শাসক শেখ মোহাম্মাদ বিন রাশিদ আল মাকতুম স্বয়ং সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া তুরস্ক, ব্রাজিল ও মেক্সিকোতেও ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে চীন।

এর পরেও সার্বিক পরিসংখ্যান বিবেচনায় বলা চলে, প্রাকসরবরাহ অর্ডারের দিক থেকে পশ্চিমে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনগুলোর সঙ্গে খুব একটা পেরে উঠছে না চীনা ভ্যাকসিনগুলো। এখন পর্যন্ত দেশটি সারা বিশ্বে সিনোভ্যাক ও সিনোফার্ম—এ দুটি ভ্যাকসিন সরবরাহের অর্ডার পেয়েছে সব মিলিয়ে ৫০ কোটি ডোজ। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী শুধু ফাইজারের ভ্যাকসিনটিরই সরবরাহের মোট অর্ডার রয়েছে ৫০ কোটি ডোজ। সবচেয়ে বেশি রয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের—২৫০ কোটি ডোজ।

ইস্তানবুল-তেহরান-ইসলামাবাদ রেল নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে উষ্মা বাড়াচ্ছে

ইস্তানবুল-তেহরান-ইসলামাবাদ (আইটিআই) রেল নেটওয়ার্ক প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় ২০০৯ সালে। এর প্রায় এক যুগ পর চলতি বছরেই বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে রেল নেটওয়ার্কটি। দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এ রেল নেটওয়ার্ককে ঘিরে অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পক্ষ নানা পরিকল্পনাও নিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এ উদ্যোগ থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে যাচ্ছে চীন। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) বাস্তবায়নের পথকে অনেকটাই সুগম করে দিতে যাচ্ছে এ রেল নেটওয়ার্ক। চীন যে অদূর ভবিষ্যতেই এ রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইটিআই নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্মকর্তারাও।

তবে শেষ পর্যন্ত এ রেল নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বড় ধরনের উষ্মার কারণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে এ প্রকল্পের বাস্তবসম্মততা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। তবে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভূরাজনৈতিক বিষয়াদিই এ উষ্মার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

গত মাসেই তুরস্ক, ইরান ও পাকিস্তানের রেল খাতসংশ্লিষ্টরা এ নেটওয়ার্ক পুরোদমে চালু করে দেয়ার বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছেন। ৬ হাজার ৫৪০ কিলোমিটার লম্বা এ রেলপথের দৈর্ঘ্য পৃথিবীর মোট পরিধির ছয় ভাগের এক ভাগের চেয়েও বেশি। এর মধ্যে রেলপথটির তুরস্ক অংশের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৯৫০ কিলোমিটার। এছাড়া ইরান ও পাকিস্তান অংশের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ২ হাজার ৬০০ ও ১ হাজার ৯৯০ কিলোমিটার। বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, চালু হলে প্রকৃত অর্থেই আঞ্চলিক বাণিজ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে রেলপথটি।

এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সমুদ্রপথে ইস্তানবুল থেকে ইসলামাবাদে পণ্য পরিবহনে সময় লাগে ২১ দিন। এ রেলপথ চালু হলে তা নেমে আসবে ১০ দিনে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেল নেটওয়ার্কটি চীনের বিআরআই প্রকল্পের অংশ না হলেও একপর্যায়ে এর সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ইসলামাবাদের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ভবিষ্যতে পাকিস্তানের এমএল-১ প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের স্বায়ত্তশাসিত জিনজিয়াং উইঘুর প্রদেশের সঙ্গে সংযুক্ত হবে আইটিআই রেল নেটওয়ার্ক। চীন পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের (সিপিইসি) সবচেয়ে বড় উপাদান হতে যাচ্ছে এমএল-১ প্রকল্প। ৬৮০ কোটি ডলারের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হতে সময় লেগে যাতে পারে ২০২৬ সাল পর্যন্ত।

মনে করা হচ্ছে, আইটিআই প্রকল্প বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে চীনকে আরো প্রভাবশালী করে তুলবে। সেক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে এশিয়ার মোড়ল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে চীন।

অথচ চীনের বিআরআই পরিকল্পনাকে মোকাবেলার জন্য একসময় এ আইটিআই রেল নেটওয়ার্ককেই কাজে লাগানোর কথা ভাবা হচ্ছিল। ২০১৭ সালের মার্চে আইটিআই-ডিকেডি-ওয়াই প্রকল্পের মাধ্যমে চীনের আগে ইউরোপে কানেক্টিভিটি তৈরির এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসে ভারত। এজন্য প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ইস্তানবুল পর্যন্ত রেল সংযোগ তৈরির এক প্রস্তাব দেয় দেশটি। সেক্ষেত্রে ঢাকা থেকে শুরু হয়ে কলকাতা-দিল্লি-অমৃতসর-লাহোর-ইসলামাবাদ-জাহেদান-তেহরান হয়ে ইস্তানবুল পর্যন্ত রেল নেটওয়ার্কটি স্থাপন করার প্রস্তাব ছিল ভারতের। প্রস্তাব অনুযায়ী, পরে এ রেল নেটওয়ার্কে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনকে যুক্ত করা হবে। এছাড়া আফগানিস্তান পাকিস্তানের কোয়েটা রেলস্টেশন হয়ে এবং নেপাল বীরগঞ্জ (পারসা জেলা) থেকে কলকাতা হয়ে এ নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে বলেও সে সময় জানানো হয়। এ নিয়ে ওই সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে নিয়ে ভারতের আহ্বানে বৈঠক আয়োজন করা হলেও বিষয়টি এখন পর্যন্ত তেমন একটা এগোয়নি।

তবে শেষ পর্যন্ত আইটিআই রেল নেটওয়ার্ক যে শেষ পর্যন্ত বিআরআইর বর্ধিত অংশ হিসেবেই কাজ করতে যাচ্ছে সে বিষয়ে এক প্রকার নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বেইজিং ইরানের পরিবহন অবকাঠামো এবং ইসিও (ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে ১০ দেশের জোট ইকোনমিক কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন) জোটভুক্ত দেশগুলোকে বিআরআইর অংশ হিসেবেই দেখছে। সংকট ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এ ধরনের বিকল্প বাণিজ্যিক পথগুলো অনেক মূল্যবান ও লাভজনক হয়ে উঠতে পারে।

আইটিআইর সঙ্গে এমএল-১ যুক্ত হলে শুধু এ নেটওয়ার্ক দিয়েই যে চীন ও তুরস্কের প্রথম রেল যোগাযোগ তৈরি হবে, তা-ও নয়। ১৯ ডিসেম্বর একটি ট্রেন চীনের শাংসি প্রদেশের শিয়াংয়ে এসে পৌঁছে। তুরস্ক থেকে যাত্রা করে ট্রেনটি ওই পর্যন্ত পৌঁছার আগে জর্জিয়া, আজারবাইজান হয়ে ফেরি করে কাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়েছে। এরপর কাজাখস্তান হয়ে জিনজিয়াংয়ের উত্তর-পূর্বে শিয়ানে এসে থেমেছে ট্রেনটি। বাকু-তিবলিসি-কারস হয়ে ট্রান্স কাস্পিয়ান ইস্ট-ওয়েস্ট মিডল করিডোরে গড়ে উঠেছে রেলওয়ে রুটটি।

ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে চীন উভয় রুটকেই ব্যবহার করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেক্ষেত্রে ইস্তানবুল-শিয়ান এবং আইটিআই রেল নেটওয়ার্ক—দুটি রেলপথেই চীনের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের প্রতিফলন দেখা যাবে বলে ধারণা তাদের। অন্যদিকে এর মধ্য দিয়ে তুরস্কের সামনেও অন্যতম প্রধান ইউরেশীয় পরিবহন হাব হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এ রেলপথটি ক্ষিপ্ত করে তুলতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকেও। কারণ এর ফলে ইরানেরও মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার বড় একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ইসিওভুক্ত দেশগুলো বাণিজ্য পরিচালনার জন্য স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহার করে থাকে। এ কারণে এ পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় ডলারের মুখাপেক্ষী হতে হচ্ছে না তেহরানকে।

ইরান, তুরস্ক ও পাকিস্তানের বাইরে ইসিও জোটভুক্ত অন্য দেশগুলো হচ্ছে আজারবাইজান, আফগানিস্তান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চালানো থেকে ইরানকে বিরত রাখা একপ্রকার অসম্ভব করে তুলবে নতুন এ রেলপথটি। এছাড়া এ ধরনের বৃহদায়তন প্রকল্প দেশটির অর্থনীতিতে একদিকে যেমন উদ্দীপকের কাজ করবে, তেমনি দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তেহরানকে প্রায় ৪০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি দেয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছিল চীন। সেক্ষেত্রে আইটিআইর মতো প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রকে আরো ক্ষুব্ধ করে তোলার আশঙ্কাই এখন বেশি।

আইটিআই রেল নেটওয়ার্কের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে নিরাপত্তা ইস্যু। এ রেলপথ-সংশ্লিষ্ট এলাকার বড় একটি অংশে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি উৎপাত অনেক বেশি। বিশেষ করে রেলপথটির ইরান ও পাকিস্তানের পশ্চিম বালুচিস্তান অংশে সন্ত্রাসবাদীদের আনাগোনা অনেক বেশি। এছাড়া স্বাধীনতাকামী বালুচদের সঙ্গে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যেও নিয়মিত সংঘর্ষ ঘটছে। সেক্ষেত্রে চালু হয়ে যাওয়ার পর আইটিআই নেটওয়ার্ক সন্ত্রাসীদের জন্য সহজ টার্গেটে রূপ নেয়ার শঙ্কাও রয়েছে।

চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের বলি আড়াই লাখ কর্মী

চীনের সঙ্গে শুরু করা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের বলি হয়ে চাকরি হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় আড়াই লাখ কর্মী। ইউএস-চীন বিজনেস কাউন্সিলের (ইউএসসিবিসি) এক গবেষণায় এ দাবি করা হয়েছে। খবর রয়টার্স।

ইউএসসিবিসি বলছে, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারিয়েছেন ২ লাখ ৪৫ হাজার কর্মী। তারা আরো বলছে, ধীরে ধীরে শুল্ক কমানোর ফলে উভয় পক্ষের প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে এবং ২০২৫ সালের মাঝে আরো ১ লাখ ৪৫ হাজার মানুষের চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাও লিজিয়ান বলেন, চীনের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা বাণিজ্যিক লড়াই যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সমস্যার কোনো সমাধান দিতে পারবে না। এটা কেবল অন্যদের এবং তাদের নিজেদের ক্ষতিসাধন করবে। আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র যৌক্তিক সতর্কবার্তাগুলো আমলে নেবে এবং অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে চীনের সঙ্গে কাজ করবে।

চীনে ব্যবসারত প্রধান মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ইউএসসিবিসি, অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সমীক্ষার বরাত দিয়ে আরো জানায়, পৃথিবীর দুটি বৃহৎ অর্থনীতির বিচ্ছিন্নতার ফলে আগামী পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হতে পারে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। যে কারণে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারাতে পারেন ৭ লাখ ৩২ হাজার এবং ২০২৫ সালে চাকরি হারাতে পারেন ৩ লাখ ২০ হাজার।

গবেষণায় বলা হয়, চীনের বাজারে রফতানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ লাখ কর্মীর জীবিকা নিশ্চিত হয়। এছাড়া চীনা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোয় ১ লাখ ৯৭ হাজার মার্কিনিকে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৯ সালে চীনে ১০ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে মার্কিন কোম্পানিগুলো।

চলতি দশকে চীন যেখানে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ প্রবৃদ্ধির ক্রীড়নক হতে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে অর্থনীতির চাকা সবল রাখতে চীনের বাজারে অবস্থান জরুরি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের কোম্পানিগুলোর।

২০১৬ সালের নির্বাচনী বছরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনবেন। এক্ষেত্রে তিন মূলধারার অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ তেমন পাত্তা দেননি। অথচ মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে চীনের সঙ্গে ঘাটতি আরো বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। গত বছরের নভেম্বর নাগাদ ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

২০১৯ সালে অবশ্য চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমেছিল। চীনের পরিবর্তে মার্কিন সংস্থাগুলো আমদানির জন্য ভিয়েতনামের মতো দেশকে বেছে নিয়েছিল। তবুও বণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ২০১৬ সালে ২৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের চেয়ে বেশি ছিল। এক্ষেত্রে আংশিক কারণ ছিল পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে বেইজিংও প্রায় ১১ হাজার ডলার মূল্যমানের মার্কিন পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করা। ফলে মার্কিন পণ্যগুলোর আমদানি কমে যায় এবং এটি গত বছরের শেষ কয়েক মাসে এসে পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে।

সিভিল এভিয়েশনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি চীনের

গত পাঁচ বছরে বেসামরিক বিমান খাতের অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে চীন। এক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতির দাবি করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।

সিভিল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না (সিএএসি) বলছে, ২০১৬-২০ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিভিল এভিয়েশন খাতে ৪৬ হাজার ৮০ কোটি ইউয়ান বা ৭ হাজার ১২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন।

দেশটির আর্থসামাজিক উন্নয়নে সিভিল এভিয়েশনকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করছে চীন। ২০২০ সাল নাগাদ চীনের সিভিল ট্রান্সপোর্ট এয়ারপোর্ট ও সাধারণ এয়ারপোর্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৪১ ও ৩১৩। Source:  সিনহুয়া

খবর সিএনএন বিজনেস
জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হলেও শিগগিরই গতি পাচ্ছে না অর্থনীতি

২০২০ সালকে বিদায় দেয়ার জন্য মুখিয়ে ছিল গোটা বিশ্ব। নভেল করোনাভাইরাস নামের এক মহামারীতে গোটা বিশ্ব রীতিমতো জিম্মি অবস্থায় ছিল বছরটিতে। কিন্তু নতুন বছরে সবার প্রত্যাশা হচ্ছে অর্থনীতি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। সত্যি কথা হচ্ছে, মানুষের জীবনযাত্রা হয়তো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে, কিন্তু অর্থনীতির ফেরা এখনো অনেক দূরের পথ। যেমন মার্কিনিদের দিকেই তাকানো যাক, শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশের মানুষ হিসেবে তারা সে পরিমাণ অর্থ খরচ করতে পারছে না, যা তারা করতে অভ্যস্ত। লাখো মানুষ এখন বেকার জীবনের ঘানি টানছে। সেসব দেশ, যাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে ভোক্তাব্যয়, তাদের জন্য এটি একটি বিশাল সমস্যা।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা এখন অনেকাংশে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তৃত বিতরণের সঙ্গে জড়িত। বেশির ভাগ মানুষের এটি পেতে পেতে ২০২১ সালের অনেকটা সময় পার হয়ে যাবে। কেউ কেউ হয়তো আরো পরে গিয়ে পাবে, যার অর্থ অসংখ্য মানুষ ও তাদের পরিবারের জীবন খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হতে যাচ্ছে না।

ভাইরাসকে থামানোর জন্য আরোপ করা নানা ধরনের বিধিনিষেধ ভোক্তাব্যয়কে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির দুই-তৃতীয়াংশই চালিত হয় এ খাত থেকে। এর কারণ অবশ্য বেশ সরল, আপনি যখন বেশির ভাগ সময় ঘরে বসে থাকবেন, তখন আপনি নিশ্চিতভাবেই কম অর্থ খরচ করবেন।

সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ভ্যাকসিনের বিস্তৃত বিতরণের পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার যে প্রত্যাশা, সেটি পূরণ হওয়ার আগে আরো একটু খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সাইমন ম্যাকাডাম বলেন, দুর্বল অর্থনৈতিক কার্যক্রম ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকেও অব্যাহত থাকবে।

এইচএসবিসির অর্থনীতিবিদ জেমস পোমেরোই ও হেনরি ওয়ার্ডের মতে, এমনকি এই অর্থনৈতিক দুরবস্থার সময়ে যেসব সৌভাগ্যবান মানুষ তাদের চাকরি বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছেন, তারা এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করার পরিবর্তে জমানোর দিকে অধিক মনোযোগ দিয়েছেন।

তবে তারা বলছেন, ভ্যাকসিন ছাড়াও আরো বেশি ব্যয় হয়তো ২০২১ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালক হয়ে উঠবে।

চাকরির বাজারের জন্যও এটা একটা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর ভোক্তাব্যয় ছাড়া নিজেদের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে পারবে না। কিন্তু চাকরি সংকটের এমন বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে মানুষ তাদের সব অর্থ খরচ করে ফেলতে পারবে না।

মহামারীতে লাখো শ্রমিক তাদের জীবিকা হারিয়েছেন। এখন টিকে থাকার জন্য তাদের দৃষ্টি সরকারি সহায়তার দিকে। পাশাপাশি অনেক লোকের কর্মঘণ্টা এখন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

মার্কিন শ্রম বিভাগ বলছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ মিলিয়নের বেশি মানুষ ফেডারেল সুবিধা গ্রহণ করেছে। এর অর্থ হচ্ছে, এই সংখ্যক মানুষ পুরোপুরিভাবে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারছে না এবং নিশ্চিতভাবেই অধিক অর্থ ব্যয় করতে পারছে না।

পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে ডিসেম্বরে চাকরিবাজারের পুনরুদ্ধার স্থবির হয়ে পড়লে। গত মাসে দেশটিতে ১৪ লাখ লোক বেকারের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। আতিথেয়তা খাত ও রেস্টুরেন্ট শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে মূলত এই পতন দেখা গেছে। পাশাপাশি ভাইরাসের সংক্রমণ থামানোর জন্য নেয়া ব্যবস্থাগুলো তো রয়েছেই।

তবে যুক্তরাষ্ট্র এখানে কেবল একটি দৃষ্টান্ত। প্রায় সব দেশেরই অর্থনীতি এখন এমন বেহাল সময় পার করছে। হয়তো ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোয় জীবনযাত্রা কিছুটা স্বাভাবিক হবে। কিন্তু অর্থনৈতিক সুরক্ষা ফিরে আসা এখনো অনেক দূরের পথ।

বাইডেনের অভিষেকের আগেই হোয়াইট হাউস ছাড়ছেন ট্রাম্প

বিদায়বেলায় বক্তৃতা দেওয়া, উত্তরসূরিকে বরণ করা এবং তাঁর জন্য শুভেচ্ছাবার্তা রেখে যাওয়া—এমন সব রেওয়াজ পায়ে ঠেলে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরিকল্পনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেটা তিনি করবেন জো বাইডেনের অভিষেকের আগেই।

স্থানীয় সময় আগামী বুধবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা বাইডেন। সেদিন অভিষেক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প থাকবেন না, সেটা বলে দিয়েছেন বহু আগেই। শুধু তা-ই নয়, সেদিন সকাল সকাল হোয়াইট হাউস ছেড়ে বেরিয়ে যাবেন এ রিপাবলিকান নেতা। প্রথমে তিনি গত মঙ্গলবারই রাজধানী ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বুধবার সকালে ফ্লোরিডায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবেই আগামী বুধবার সকালে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করবেন ট্রাম্প। শেষবারের মতো এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে করে চার বছরের আবাসন ত্যাগ করবেন তিনি। প্রথা ভেঙে ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরিকল্পনা করলেও বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এদিকে ট্রাম্পের বিদায়ের আগেই তাঁর ব্যক্তিগত মালপত্র গত শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাকযোগে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ট্রাম্পের গন্তব্য সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, বুধবার সকালে তিনি হোয়াইট হাউস থেকে ফ্লোরিডায় মার-আ-লাগোতে যাওয়ার আগে ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেইস এন্ড্রুস সামরিক স্থাপনায় থামবেন। সেখানে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে বিদায়ি অভিবাদন জানানো হবে। তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে এবং বুধবার কখন তিনি বক্তৃতা দেবেন, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বাইডেনের শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত ট্রাম্পই প্রেসিডেন্ট। তাই তিনি ফ্লোরিডা পর্যন্ত যাওয়ার জন্য শেষবারের মতো প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত এয়ারফোর্স ওয়ান বিমান ব্যবহার করতে পাবেন, এমনটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফ্লোরিডার পাম বিচে মার-আ-লাগো অবকাশযাপন কেন্দ্রেই শুরু হবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিপরবর্তী জীবন। হোয়াইট হাউসে তাঁর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা একাধিক ব্যক্তিও সেখানেই তাঁর সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন।

ট্রাম্পের গন্তব্য জানা গেলেও অনিশ্চয়তা আরো আছে। প্রথা অনুযায়ী বিদায়ি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওভাল অফিসের ড্রয়ারে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের জন্য একটি চিঠি রেখে যান। চিঠিতে নতুন প্রেসিডেন্টে প্রতি পূর্বসূরির শুভেচ্ছার পাশাপাশি নানা পরামর্শ থাকে। ট্রাম্প সেই প্রথা পালন করবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। চিঠি রেখে গেলেও তাতে কী লেখা থাকবে, সেটা নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরছে উত্সুকদের মনে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দুই দফা অভিশংসিত হওয়া একমাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিদায়ের আগে আরো অনেককে ক্ষমা ও দায়মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি নিজেই নিজেকে ক্ষমা করে দেওয়ার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারেও পরামর্শ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

কমলার সঙ্গে কথা বলেছেন পেন্স : এদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স টেলিফোনে কথা বলেছেন তাঁর উত্তরসূরি কমলা হ্যারিসের সঙ্গে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা বলেছেন পেন্স।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা অভিষেকের আগে হোয়াইট হাউসে বাইডেনের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ জানালেও তাতে কাজ হয়নি। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

এরদোয়ান ও ম্যাখোঁর চিঠি আদান-প্রদান

সম্পর্ক উন্নয়নে চিঠির আদান-প্রদানের মাধ্যমে নতুনকরে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন এরদোয়ান ও ম্যাখোঁ। চিঠিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাখোঁকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গত বছর ফ্রান্সে সংঘটিত বেশ কটি হামলার জন্য সমবেদনা প্রকাশ করেন।

গতকাল শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে চিঠি আদান-প্রদানের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘চমৎকারভাবে চিঠির জবাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ। চিঠির শুরুতেই ‘প্রিয় তাইয়েপ’ লিখে শুরু করেন তিনি।’

ম্যাখোঁর কথা উল্লেখ করে কাভুসোগলু বলেন, ‘তুরস্ক ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে জানিয়েছেন ম্যাখোঁ। তুরস্কের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে উভয়ের সাক্ষাতের আশা ব্যক্ত করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।’

সিরিয়া ও লিবিয়াসহ আঞ্চলিক ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, সন্ত্রাসবাদ ও শিক্ষা বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন ম্যাখোঁ।

দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে চিঠি আদান-প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্স বিভাগ। অবশ্য এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কিছু জানায়নি।

সিরিয়া ও লিবিয়া ইস্যু ছাড়াও বিরোধপূর্ণ অঞ্চল নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে আঙ্কারা-প্যারিস। অবশেষে দু’দেশের প্রেসিডেন্টের ইতিবাচক চিঠি বিনিময়ে সংকট কিছুটা কাটবে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইসলাম ধর্ম সংকটে রয়েছে গত বছরে অক্টোবরে এমন বেপরোয়া মন্তব্য করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। ‘ইসলামি বিচ্ছিন্নতাবাদ’-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এমন আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ম্যাক্রোঁর মানসিক চিকিৎসা জরুরি বলে মন্তব্য করেন এরদোয়ান। এরপর থেকেই দু’দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়।

সূত্র : আল জাজিরা

টিকা সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়ে চীন-রাশিয়ার ব্যাপারে মার্কিন গোয়েন্দাদের উদ্বেগ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহ ও মানুষের শরীরে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। টিকা সরবরাহ প্রক্রিয়াকে টার্গেট করে চীন ও রাশিয়া কিছু ঘটাতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি সেন্টারের (এনসিএসসি) প্রধান।

ওয়াশিংটন পোস্ট আয়োজিত অনলাইন এক অনুষ্ঠানে এনসিএসসি প্রধান উইলিয়াম ইভানিনা বলেন, এটা খুবই জটিল সমস্যা। আমি অবশ্যই সেনাবাহিনীর নারী এবং পুরুষদের প্রশংসা করবো। সেই সঙ্গে এই (মার্কিন) সরকারকে ধন্যবাদ জানাবো এ কারণে যে, শত্রুপক্ষ টিকা সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে জেনেও আমরা নিরাপদে টিকা পরিবহণের বিষয়টি সহজ করতে সক্ষম হয়েছি।

কোন কোন দেশ করোনা টিকা সরবরাহ প্রক্রিয়ায় হুমকি হিসেবে রয়েছে, সে ব্যাপারে করা এক প্রশ্নের জবাবে এনসিএসসি প্রধান বলেন, এই মুহূর্তে চীন ও রাশিয়া।

তবে এ ধরনের উদ্বেগ তিনিই প্রথম প্রকাশ করেননি। গত মাসে এফবিআই এর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বলেছেন, করোনা টিকা উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জাতি-রাষ্ট্র বিরোধীরা নানাভাবে যুক্ত হওয়ার পাঁয়তারা করছে।

আই বিএম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের টিকা সরবরাহের প্রক্রিয়ায় হিমাগারে টিকা রাখার বিষয়টিকে টার্গেট করছে একটি গ্রুপ। সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি অ্যাজেন্সি (সিআইএসএ) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, টিকা পরিবহন ও সংরক্ষণাগারে সাইবার হামলা রুখতে সতর্ক থাকতে হবে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে এফবিআই প্রধান ক্রিস্টোফার রে বলেছিলেন, করোনাভাইরাস সম্পর্কিত গবেষণা হাতিয়ে নেওয়ার টার্গেট করতে পারে চীনের হ্যাকাররা।

তিনি বলেছিলেন, আমরা চীনাদের খুব আক্রমণাত্মক ক্রিয়াকলাপ দেখছি। কিছু ক্ষেত্রে অন্যরাও আমাদের করোনাভাইরাস সম্পর্কিত গবেষণা, টিকা, চিকিৎসা ও পরীক্ষার প্রযুক্তি হাতিয়ে নেওয়ার টার্গেট করছে।

এদিকে ওয়ার্ল্ডয়োমিটারের দেওয়া তথ্যানুসারে যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ৪৩ লাখ ছয় হাজার ৪৩ জন এবং মারা গেছে চার লাখ পাঁচ হাজার দু’শ ৬১ জন।

সূত্র: জি ফাইভ, এএনআই

সশস্ত্র বিক্ষোভের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ রাজ্যেই সতর্কতা

এ সপ্তাহে সহিংসতা শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যেই সতর্কতা জারি আছে। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি নব-নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সহিংসতা ছড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা যাচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মার্কিন পার্লামেন্ট ভবনে ট্রাম্প সমর্থকরা ঢুকে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, সেই ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

এফবিআই মনে করছে, ট্রাম্পের সমর্থকরা ৫০টি রাজ্যেই সশস্ত্র বিক্ষোভে নামতে পারে। বিষয়টি বাইডেনের শিবিরও বিবেচনায় রাখছে।

মার্কিন গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে, জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে পা রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের জঞ্জাল সরানোর ব্যাপারে কার্যনির্বাহী পদক্ষেপ নিতে পারেন।

সূত্র: বিবিসি

আফগানিস্তানে সুপ্রিম কোর্টের দুই নারী বিচারককে গুলি করে হত্যা

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সুপ্রিম কোর্টের দুই নারী বিচারককে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কাবুল পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার সকালে ওই দুই নারী বিচারক গাড়িতে চড়ে কাজে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হন।

তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় এক দল বন্দুকধারী। শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন হামলার জেরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হামলার জেরে আহত হয়েছেন গাড়ির চালকও।

বিচারক নিহতের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে আফগান প্রশাসন। আফগানিস্তানের অ্যাটর্নি জেনারেলের মুখপাত্র জামশিদ রাসুলি জানান, নিহতরা সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত ছিলেন। এখনো কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।

তবে ওই হামলার পিছনে কাদের হাত রয়েছে, তা জানার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি