বণিক বার্তায় প্রকাশিত
কঠোর লকডাউনে কারখানা সচল রাখতে চান শিল্প মালিকরা

ভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় চলমান লকডাউন শেষ হচ্ছে আজ। ১৪ এপ্রিল থেকে আবারো লকডাউন দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ধারণা দেয়া হয়েছে, আসন্ন লকডাউন হবে আরো কঠোর। গণপরিবহনসহ বন্ধ রাখতে হবে শিল্প-কারখানা। তবে শিল্প-মালিকরা বলছেন, কঠোর ওই লকডাউনে কারখানা সচল রাখতে চান তারা।

দেশে গত বছরের মার্চে করোনার সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয়। মার্চের মধ্যভাগ থেকে কিছু রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজ থেকেই কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি বা অঘোষিত লকডাউন শুরু হলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পরে শর্ত মেনে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা সচল রাখতে শুরু করেন কারখানা মালিকরা। অর্থনীতির গতি ফেরাতে প্রায় দুই মাস পর লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু ততদিনে স্থবিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করে অর্থনীতিতে।

এ স্থবিরতা কাটিয়ে দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছিল দেশের অর্থনীতি। কিন্তু এর মধ্যেই দেশে শুরু হয়েছে কভিডের দ্বিতীয় ঢেউ। গত মাসের শেষ দিক থেকে স্বাস্থ্য খাতে এ ঢেউয়ের প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দৈনিক মৃত্যু ও সংক্রমণ শনাক্তের রেকর্ড ভাঙছে প্রায় প্রতিদিনই। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৯ এপ্রিল থেকে লকডাউন চলছে। আরো কঠোর লকডাউনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে। এ পরিস্থিতিতে কারখানা সচল রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে রফতানিমুখী শিল্প-কারখানার মালিকদের মধ্যে। মহামারী পরিস্থিতিতে কারখানা পরিচালনার পূর্বাভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখতে চাইছেন তারা। নতুন প্রণোদনার দাবিও তুলতে শুরু করেছেন অনেকে।

রফতানিমুখী শিল্পসংশ্লিষ্ট মালিকরা বলছেন, সরকার এখন কঠোর লকডাউনের কথা বলছে। যদিও কোনো বিধিনিষেধ বা প্রজ্ঞাপন দেয়া হয়নি এখনো। পোশাক খাতকে এ বিধিনিষেধের আওতামুক্ত রাখার দাবি তাদের।

তাদের ভাষ্যমতে, আট-নয় মাস ধরে করোনা পরিস্থিতির মোকাবেলা করছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রটোকলের ভিত্তিতে চালু রেখেছেন উৎপাদন কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, পোশাক শ্রমিকদের কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম, ১ শতাংশেরও নিচে। চলমান দ্বিতীয় ঢেউয়েও এ খাতের শ্রমিকদের মধ্যে খুব কমই আক্রান্ত হয়েছেন।

শিল্প-মালিকদের দাবি, পরিস্থিতি এখন জটিল। কিন্তু এখনই সবকিছু বন্ধ করে শ্রমিকদের ছেড়ে দেয়া হলে তারা নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়ে। এছাড়া তাদের বেতন পরিশোধ নিয়েও ঝামেলা দেখা দিতে পারে। এখনো শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোর সুযোগ রয়েছে। প্রতি বছরই ঈদের আগে তিন-চার সপ্তাহ প্রচুর কাজ থাকে, এবারো থাকবে। এসব কাজের কাঁচামালও কেনা হয়ে গেছে। এ মুহূর্তে কাজের ব্যাঘাত ঘটলে আবারো স্টকলটের (অতিরিক্ত মজুদ চাপ) আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

রফতানিমুখী শিল্পের প্রধান খাত পোশাক শিল্প-মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ক্রেতারা তাদের ক্রয়াদেশগুলো আমাদের পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোতেও দেয়। আমাদের জানামতে প্রতিযোগী দেশ কোনোটিই এখনো লকডাউনে যায়নি। সামনের দিনগুলো, বিশেষ করে ঈদের সময়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সরকারকে আবেদন করে রাখতে চাই। নীতিনির্ধারণী মহল আমাদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করবে, সে আশাবাদই আমরা জানিয়ে রাখতে চাই।

শিল্প-কারখানার ব্যবসার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে রফতানিমুখী শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলো এখন কেবল কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এখন সামনের দিনগুলোর ক্রয়াদেশ নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া গত আট-নয় মাসের রফতানি পরিসংখ্যান এ খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্রয়াদেশ দিতে ক্রেতারা এখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবেই বিবেচনা করছেন বাংলাদেশকে। যদিও আগে যেভাবে ১০-১১ ঘণ্টা কারখানা সচল রাখতে হতো, সে পরিমাণ কাজ নেই। এর পরও প্রায় সব কারখানায়ই ৮ ঘণ্টা সচল রাখার মতো কাজ আছে। এদিকে রোজার ঈদের দুই মাস পরই আসছে কোরবানির ঈদ। সব মিলিয়ে বছরের এ সময়টাতেই চাপে থাকে কারখানাগুলো। যেহেতু ক্রয়াদেশ আছে, কাঁচামালও চলে এসেছে, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন চালিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন।

বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, কভিডের প্রথম ঢেউ মোকাবেলার অভিজ্ঞতা আছে আমাদের। আট-নয় মাস ধরে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের মাধ্যমে উৎপাদন সচল রাখার দক্ষতা গড়ে উঠেছে শিল্প-মালিকদের। অন্যদিকে কারখানাগুলোয় ক্রয়াদেশের বিপরীতে চলমান উৎপাদন নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হবে। এ মুহূর্তে শিপমেন্ট নিয়েও কারখানা মালিকরা কিছুটা চাপের মধ্যে আছেন। লকডাউনে কারখানা বন্ধ রাখলে আকাশপথে শিপমেন্টের চাপ বেড়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে সরকার চাইলে কারখানা বন্ধ রাখতে হবে। তবে আমরা চাই লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা সচল রাখার অনুমতি দেয়া হোক।

রফতানিমুখী শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু পোশাক খাতের কারখানাগুলো খোলা রেখে ক্রেতাদের ধরে রাখা যাবে না। কারণ এর সঙ্গে বস্ত্র ও গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ কারখানাগুলোও যুক্ত। সুতা, কাপড় ও অ্যাকসেসরিজের অভাবে পোশাক কারখানার উৎপাদন চালু রাখা নিয়ে সংশয় রয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ওয়েল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ও সিইও এবং বিটিএমএ ও এফবিসিসিআই পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলামের ভাষ্য হলো, গত বছর টাস্ক ফোর্স গঠন করে কারখানা খোলা রাখা হয়েছিল স্বাস্থ্যবিধি মেনে। আজকের অভিজ্ঞতা থেকে দেখছি, সেদিন টাস্ক ফোর্সের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। আবারো যদি লকডাউনের কারণে বস্ত্র ও পোশাক খাতের কারখানা বন্ধ রাখা হয় তবে পুরো খাতই একেবারে শেষ হয়ে যাবে। সরকারের প্রণোদনা বলি আর সহায়তা বলি কিছুই কাজে আসবে না। তাই সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ বস্ত্র, পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ খাতের কারখানাগুলোকে লকডাউনকালে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগের মতো খোলা রাখার সুযোগ দিলে আমাদের রফতানি খাত টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে।

দেশের শিল্প-কারখানা অধ্যুষিত ছয় এলাকায় কারখানার সংখ্যা ৭ হাজার ৬০২। এসব কারখানায় কর্মরত ৪০-৪১ লাখ শ্রমিক। গত বছর ঈদের সময় তাদের অবস্থান নিয়ে তথ্যানুসন্ধান করেছিল শিল্প পুলিশ। কিন্তু বিষয়টি তদারক করে যথাযথ নজরদারি সম্ভব হয়নি। কারণ ঈদের ছুটিতে কারখানা এলাকার বাইরে যাওয়া যাবে না বলে ঘোষণা থাকলেও সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ছিল ব্যক্তিগত গাড়ি দিয়ে অনেকে যেতে পারবেন। ফলে শ্রমিকদের একটা অংশ কারখানা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। আবার অনেকে যেতে চাইলেও আর্থিক কারণে যেতে পারেননি।

পোশাক শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বণিক বার্তাকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন সচল রেখে কীভাবে কভিড-১৯ মোকাবেলা করা যায়, সে বিষয়ে এরই মধ্যে শিল্প-মালিকরা যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লকডাউনের মধ্যেও কারখানা সচল রাখার অনুমতি প্রয়োজন আমাদের। আর পরিসংখ্যান বলছে, এ মুহূর্তে বিটিএমএর সদস্য কারখানাগুলোতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের কাজ চলমান আছে। সামনে আসছে ঈদ। সব দিক বিবেচনায় লকডাউনে কারখানা সচল রাখার অনুমতি প্রয়োজন।

সেনাবাহিনীর তিন সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল সৌদি

সৌদি আরবে গতকাল স্থানীয় সময় শনিবার সেনাবাহিনীর তিনজন সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং শত্রুদের সহযোগিতা করার অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির বিশেষ আদালতে বিচারের পর ওই তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

তবে ওই তিন ব্যক্তি ঠিক কাদের সহযোগিতা করেছেন, সে ব্যাপারে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কিছু জানানো হয়নি।

জানা গেছে, ইয়েমেনের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে। ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সহায়তাপ্রাপ্ত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে ওই এলাকায় সৌদি আরবের সংঘর্ষ চলছে।

এদিকে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সারাবিশ্বে সমালোচিত হচ্ছে সৌদি আরব। সৌদির মানবাধিকার পরিস্থিতিও চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে।

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার জন্য অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অনুরোধ জানিয়েছে আসছে। যদিও সৌদি আরব সেসব ব্যাপারে কর্ণপাত করে না।

সৌদি আরবের মানবাধিকার কমিশনের তথ্য মোতাবেক, গত বছর সে দেশে ২৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তার আগের বছর ১৮৫ জনের মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছিল।

সূত্র: রয়টার্স, ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর

গুলিতে নিহতের ঘটনায় অস্বস্তিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে কোচবিহারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালনার ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যুতে অস্বস্তিতে ভারতের নির্বাচন কমিশন।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন ছিল শুক্রবার। সকাল থেকে শুধুমাত্র কোচবিহার জেলাতেই মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এর মধ্যে শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের মাথাভাঙা ফাঁড়ি এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন।

শনিবার সন্ধেবেলা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসে এটি সেই সব প্রশ্নের উত্তর কার্যত এড়িয়ে গেলেন রাজ্যের নির্বাচনী কর্মকর্তা আরিজ আফতাব।

এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। তৃণমূলের প্রতিনিধিরা এ নিয়ে দুপুরের পর কমিশনের দ্বারস্থ হন এবং এই ঘটনা নিয়ে কমিশনের উত্তর দাবি করেন। তৃণমূলের আগে বারবার অভিযোগ করেছে যে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির নির্দেশে চলছে।

তৃণমূলের পরে,সন্ধের দিকে বিজেপির প্রতিনিধি দলও দেখা করে সিইও আরিজ আফতাবের সঙ্গে। কেন এভাবে গুলি চালানো হলো সেই গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল কেন শূন্যে গুলি ছোড়া হয় নি,সাংবাদিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া এড়িয়ে যান আরিজ আফতাব।

তিনি কেবল বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে বুথের বাইরে গুলি চলেছে। এ নিয়ে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিশেষ পর্যবেক্ষক ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের রিপোর্ট হাতে এসেছে, তা দিল্লি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে।

ধর্ষণ সম্পর্কে ইমরান খানের মন্তব্য, ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ

ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাক দায়ী বলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মন্তব্য করার পর তার দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। অ্যাক্টিভিস্টি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিক্ষোভের আয়োজন করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

নারীদের পোশাক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার জন্য ইমরান খানকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যে মন্তব্য করেছেন, তাতে সরাসরি ভুক্তভোগীকে দায়ী করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন ধরনের লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা।

বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্যে ধর্ষকরা আরো উৎসাহ পাবে।

প্রসঙ্গত, টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে ইমরান খান ধর্ষণের জন্য নারীর পোশাককে দায়ী করেছেন। ইমরান খান বলেছেন, নারী ধর্ষণের ঘটনা অনেক দ্রুত বাড়ছে। প্রলুব্ধ করা এড়াতে নারীদের পর্দা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইমরান খান আরো বলেছেন, পর্দার মূল বিষয় হলো আকর্ষণ করা থেকে বিরত থাকা। সবার তা অস্বীকার করার ইচ্ছাশক্তি থাকে না।

পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইমরান খানের মন্তব্যে তারা হতবাক। কেন ও কিভাবে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, তার মন্তব্যে কেবল সে সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় না। এ ধরনের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ধর্ষণের শিকার নারীদের ওপর দায় বর্তানো হয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

বিজেপির গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত, বললেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে চতুর্থ দফার ভোটে কোচবিহারের শীতলকুচিতে আজ চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে অমিত শাহের পদত্যাগ করা উচিৎ বলে দাবি করলেন মমতা।

বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন,”বিজেপির গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত। বিজেপি মিথ্যে কথা বলে।”

“এ মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক আমি অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করছি,” বললেন মমতা।

এদিন শীতলকুচিতে ঘটেছে এক অভূতপূর্ব ঘটনা, শীতলকুচির জোড় পাটকির ১৩৬ নম্বর বুথে ভারতের কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়।

সাধারণ মানুষকে তিনি বলেন, “আপনাদের একমাত্র রক্ষাকবচ তৃণমূল। অন্য আর কেউ নয়। আমরা ভাগাভাগি করি না। আমরা সবার জন্য করি, সব ধর্মের জন্য করি।”

তিনি বলেন, “বিজেপি প্রতারণা করছে। ভুল বোঝাচ্ছে। ওরা এনপিআর, এনআরসি করবে। আসামি দেখেছেন কিভাবে মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাচ্ছে তেমনি এখানে ওরা একই জিনিস করবে,” বলেও তোপ দাগেন মমতা।

অন্যদিকে শীতলকুচির ঘটনায় মমতা জানান, আগামীকাল তিনি শীতলকুচি যাবেন। এই ঘটনায় শুরু হয়েছে এক রাজনৈতিক বিতর্ক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে গুলি চালিয়েছে বাহিনীই। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন বলেছেন, “এই রক্ত উপত্যাকা আমার দেশ নয়, আমরা শান্তি চাই।”

তৃণমূলের দাবি, মৃত ৪ জনই তৃণমূল কর্মী। ঘটনায় ওই বুথে ভোট বন্ধ রেখেছে ইলেকশন কমিশন।

এই ঘটনা ছাড়াও এই শীতলকুচিতেই সকালে ১৮ বছর বয়সের প্রথম ভোটার গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আনন্দ বর্মণ বিজেপি সমর্থক বলে বাড়ির লোকের দাবি। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “বিজেপি হার্মাদদের আক্রমণে এই ঘটনা ঘটেছে।

আরব বিশ্বে জ্বালানি তেলবহির্ভূত বাণিজ্যে উন্নতি

জ্বালানি তেল বাণিজ্য ছাড়াও আরব বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোয় প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মূলত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এসব ব্যবসায় গতি আসে। আইএইচএস মার্কিটের পারচেজিং ম্যানেজার সূচক অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে প্রবৃদ্ধি খুব সামান্য কমেছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে বেসরকারি জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতগুলোর ভালো রকমের উত্থান হয়েছে। এসব খাতের বিস্তৃতি যেমন বেড়েছে, কেনাবেচাও বেড়েছে। খবর ন্যাশনাল নিউজ।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, সৌদি আরবের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি বেশ স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। কিছু ক্ষেত্রে এটি কভিড-১৯ মহামারী শুরুর আগের সময়ের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে। ক্রমবর্ধমান উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেনাবেচা বাড়াতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের স্টক শেষ করে ফেলছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে ক্রয়ক্ষমতা মাঝারি মানে বেড়েছে।

একটি জরিপ বলছে, নির্মাণ শিল্প খাতের কর্মকাণ্ড মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে। কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকা কার্যক্রম থেকে পাওয়া আশাবাদ ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করেছে। সামনের দিনগুলোয় মহামারী সম্পর্কিত বিধিনিষেধ উঠে গেলে সামনে ব্যবসার জন্য আরো ভালো দিন প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ই তাদের অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত করেছে। ব্যবসার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হয়েছে। কারণ হিসেবে গণটিকাদান কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে।

ব্লুমবার্গের ভ্যাকসিন ট্র্যাকারের হিসাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮৬ লাখের বেশি টিকা সরবরাহ করা হয়েছে। এ সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশটিতে ৩ কোটি ৮৫ লাখ নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার সহজলভ্যতা ও টিকার সহজপ্রাপ্যতা দেশটির ব্যবসা খাতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এসেছে।

তবে বিশ্বব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম চললেও কভিড-১৯ রোগের তৃতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার অনেক দেশে নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ১৩ দশমিক ১ কোটি ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ২৮ লাখ।

তবে সব মিলিয়ে আরব বিশ্বে ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের কর্মকাণ্ড বেশ ইতিবাচক। ব্যবসায়ীরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি ও নতুন উদ্যমে ব্যবসা শুরু করার কারণে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

চীনা হ্যাকারদের হুমকিতে মার্কিন সহায়তা প্রার্থনা ভারতের

নিজেদের প্রতিরক্ষা অবকাঠামোতে চীনের মদদপুষ্ট বিভিন্ন সাইবার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রার্থনা করেছে ভারত। নয়াদিল্লিতে এক সেমিনারে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান বিপিন রাওয়াত জানান, নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করলেও বিভিন্ন সাইবার হামলায় বেশ ঝুঁকি অনুভব করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। গত মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের ভারত সফরের সময় এ বিষয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়েছে। খবর ইটি টেলিকম।

গত বুধবারের সেমিনারে রাওয়াত বলেন, আমরা চীনের সঙ্গে টেক্কা দেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা হয়তো চীনকে পুরোপুরি ধরতে পারব না, তবে এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছি। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি সাইবার হামলার তদন্ত করছে ভারত এবং এ রকম একটি হামলায় মুম্বাইয়ে বৈদ্যুতিক গোলযোগ হয়েছে।

করোনা বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে জরিমানা

করোনা মহামারির বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করার অভিযোগে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সলবার্গকে জরিমানা করেছে দেশটির পুলিশ। জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিধি-নিষেধ না মেনে তিনি এক পারিবারিক জমায়েতের আয়োজন করেছিলেন। আজ শুক্রবার পুলিশ প্রধান ওল সায়েভেরুড এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সলবার্গকে ২০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রাউন (প্রায় দুই লাখ টাকা) জরিমানা করা হয়েছে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি পাহাড়ের রিসোর্টে ১৩ জন পারিবারিক সদস্য নিয়ে নিজের ৬০তম জন্মদিন পালন করেছিলেন সলবার্গ। এ ঘটনায় গত মাসে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। পুলিশ জানায়, এ ধরনের কাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ জরিমানা করে না। কিন্তু বিধি-নিষেধ আরোপ করতে সরকারের শীর্ষে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সায়েভেরুড বলেন, ‘যদিও আইন সবার জন্য সমান, সবাই আইনের সামনে সমান না।’ তিনি বলেন, ‘সামাজিক দূরত্বের বিধি-নিষেধ মেনে চলতে জনগণের আস্থাকে সমুন্নত রাখার জন্য এই জরিমানা করাটা ঠিক আছে।’

পুলিশ জানায়, সলবার্গ ও তার স্বামী সিন্ড্রে ফিনেস যৌথভাবে জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এ জন্য রেস্টুরেন্ট ঠিক করেছিলেন। ফিনেস আইন ভঙ্গ করলেও তাকে জরিমানা করেনি পুলিশ। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষও বিধি-নিষেধ ভঙ্গ করেছে বলে জানায় পুলিশ। তবে এদেরও জরিমানা করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো কোনো বক্তব্য আসেনি।

দুইবার নির্বাচিত হওয়া প্রধানমন্ত্রী এরনা সলবার্গ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে সফল হয়েছেন। ইউরোপে যে কয়েকটি দেশে সবচেয়ে কম সংক্রমণ ঘটেছে তার মধ্যে নরওয়ে অন্যতম। তবে সম্প্রতি নরওয়েতে সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে মার্চের শেষের দিকে আবারও বিধি-নিষেধ কঠোর করেছে দেশটির সরকার।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।

চীনা দূতাবাসের পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন আঙ্কারার মেয়র

তুরস্কের আঙ্কারা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনসুর ইয়াবাস জিনজিয়াংয়ের উইঘুরে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি চীনা কর্তৃপক্ষ। এর জেরে আঙ্কারার মেয়রকে কড়া ভাষায় চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানায় সেখানকার চীনা দূতাবাস। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দূতাবাসের পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন মেয়র। গত বুধবার এই পদক্ষেপ নেয় আঙ্কারা সিটি।

ইব্রাহিম হাসকোলোলু নামে তুরস্কের একজন সাংবাদিক এক টুইটার বার্তায় এ তথ্য জানান। স্থানীয় ‘ডুভার ইংলিশ’ নামের একটি অনলাইন নিউজপোর্টাল জানায়, উইঘুর নিয়ে মন্তব্যের জেরে সম্প্রতি চীনা দূতাবাস আঙ্কারার সিটি মেয়র মনসুর ইয়াবাস বরাবর কড়া ভাষায় চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানায়। এরপর ক্ষিপ্ত হন মেয়র। এরপর ওই এলাকায় অবৈধ পানির সংযোগ চিহ্নিত করার অভিযান শুরু করে আঙ্কারা সিটি করপোরেশন। অভিযানে চীনা দূতাবাসের পানির সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি।

মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের সংঘবদ্ধ হামলা, ১০ পুলিশের মৃত্যুর খবর

মিয়ানমারে জান্তা সরকারবিরোধী জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহীজোটের সংঘবদ্ধ হামলায় ১০ পুলিশ নিহত হয়েছে। শনিবার (১০ এপ্রিল) দেশটির শান রাজ্যের নুনগোমন এলাকার থানায় ভোরবেলা এ হামলা চালানো হয়। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

মিয়ানমারে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে রয়টার্স বলেছে, এই জোটে আছে আরাকান আর্মি, ট্যাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স আর্মি। এদের যোদ্ধারাই এ হামলা চালিয়েছে।

মিয়ানমারে স্থানীয় গণমাধ্যম ‘শান নিউজ’ বলছে, হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। ‘শ্বে ফি ম্যায়’ নামের একটি গণমাধ্যম বলছে, নিহতের সংখ্যাটি ১৪। এ বিষয়ে কথা বলতে জান্তা সরকারের মুখপাত্রের সঙ্গে রয়টার্স যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কল ব্যাক করেননি।

সূত্র : বিবিসি