জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ভাষণে যা বললেন প্রিয়াঙ্কা

এবার ‘অন্য’ মঞ্চেও জ্বলে উঠলেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। জাতিসংঘের মঞ্চে বিশ্বকে মনে করিয়ে দিলেন, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের চাবিকাঠি আমাদের নিজেদের হাতেই রয়েছে এবং ন্যায্য, সুরক্ষিত ও স্বাস্থ্যকর দুনিয়া প্রতিটি নাগরিকেরই অধিকার।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দেন প্রিয়াঙ্কা। বলিউড ছেড়ে যিনি হলিউডেই ঘাঁটি গেড়েছেন। অভিনেতা-প্রযোজক ছাড়া প্রিয়াঙ্কার আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি জাতিসংঘের ‘গুডউইল অ্যাম্বাসাডর’ বা শুভেচ্ছাদূত।

সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের সমস্ত সদস্য দেশের লক্ষ্যমাত্রাও নিজের ভাষণে মনে করিয়ে দেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা বলেন, “বিশ্বের এক সঙ্কটময় সময়ে আমরা আজ মিলিত হয়েছি, যেখানে দুনিয়াজোড়া ভ্রাতৃত্ববোধের প্রয়োজনীয়তা আগের থেকে বেশি জরুরি।”

 

সাম্প্রতিক সময়ে গোটা বিশ্বই যে স্বস্তিজনক অবস্থায় নেই, তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। তার কথায়, “কোভিডের মতো মহামারীর বিধ্বংসী প্রভাবের জেরে বিশ্বের নানা দেশই সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্কটের জেরে জীবন-জীবিকা প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বের ন্যায্য ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিয়েছে দারিদ্র এবং অসাম্য। যার জন্য আমরা দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।”

জাতিসংগের পক্ষে প্রিয়াঙ্কার এই ভাষণ সম্প্রচার করা হয়েছে ইউটিউবে। সেখানে তাকে গাঢ় নীল পোশাকে দৃপ্ত ভঙ্গিতে ভাষণরত দেখা গেছে। বিশ্বজুড়ে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সুস্থায়ী উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে এর সমস্ত সদস্য। তারই অঙ্গ হিসেবে দারিদ্র দূরীকরণ, পরিবেশরক্ষা এবং বিশ্ববাসীর জীবনের মান উন্নয়নসহ ১৭টি লক্ষ্য রয়েছে জাতিসংঘের। ১৫ বছরের এই দীর্ঘ পরিকল্পনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রিয়াঙ্কার মন্তব্য, “এই বিশ্ববাসীর কাছে আমরা ঋণী, এই পৃথিবীর কাছে আমরা ঋণী। যে বিশ্বে বসবাস করি তা ন্যায্য, নিরাপদ এবং সুস্থ হোক, সেটাই আমাদের প্রাপ্য।” সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমসইন্ডিয়া টুডেএনডিটিভিদ্য ইকোনমিক টাইমস

বলিউডের কৌতুকশিল্পী রাজু শ্রীবাস্তব আর নেই

বলিউডের কৌতুকশিল্পী রাজু শ্রীবাস্তব আর নেই। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর দেড় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার সকালে মৃত্যু হয় এ কৌতুকশিল্পীর। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।

গত ১০ আগস্ট হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন রাজু। জিমে ট্রেডমিলে হাঁটতে হাঁটতে আচমকাই বুকে ব্যথা শুরু হয়। তার পরেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল রাজুকে। প্রথম দিকে অবস্থার অবনতি হলেও প্রায় ১৫ দিন হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে থাকার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিলেন। জ্ঞান ফিরেছিল। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর আবার শারীরিক অবনতি হতে থাকে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, হৃদরোগের চিকিৎসাধীন রাজুর হঠাৎই জ্বর আসতে শুরু করে। ঝুঁকি না নিয়ে রাজুকে লাইফসাপোর্ট সিস্টেমে রাখেন চিকিৎসকেরা। গত ২০ দিন সেভাবেই চিকিৎসা চলছিল কৌতুকাভিনেতার। বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

 

উল্লেখ্য, হার্ট অ্যাটাকের পর প্রথমে রাজুর অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হয়। দু’টি স্টেন্টও বসে। কিন্তু তাতে হার্ট সচল হলেও রাজু সুস্থ হননি। প্রায় ১৫ দিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর জ্ঞান ফেরে রাজুর। গত ১ সেপ্টেম্বর রাজু আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত লাইফসাপোর্ট সিস্টেমেই রাখা হয়েছিল রাজুকে।

‘এ ট্রফি বাংলাদেশের সকল মানুষের’

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে দেশে ফিরেছেন সাবিনা খাতুনরা। বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বাংলাদেশের মেয়েরা। বিমানবন্দরে ফুলে মালা পরিয়ে দেওয়া হয় কৃতি ফুটবলারদের। ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে, কেক কেটে জয় উদযাপন করা হয়।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফুটবলার সাবিনা বলেন, ‌‘অসংখ্য, অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের এত সুন্দরভাবে বরণ করে নেওয়ার জন্য। আমরা অনেক কৃতজ্ঞ, গর্বিত। সকলকে ধন্যবাদ। এ ট্রফি বাংলাদেশের সকল মানুষের’।

বিমানবন্দরে শিরোপাজয়ী কন্যাদের জন্য অপেক্ষা করছে ফুল দিয়ে সাজানো ছাদখোলা বাস। এই বাসে করেই বাফুফে ভবনে আসবেন ফুটবলাররা।

সাফ গেমসে নারী ফুটবল চালু করেন প্রেসিডেন্ট জিয়া : ফখরুল

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে বিজয়ী নারী ফুটবলারদের আগমনে তাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছে বিএনপি। বিজয়ীদের দেশে ফেরার প্রাক্কালে আজ বুধবার সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষ থেকে এই অভিনন্দন জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাফ ফুটবলে আমাদের মেয়েরা অসাধারণ সম্মান বয়ে এনেছে। বহুদিন পর আমাদের দেশের জন্য একটা সুখবর তারা বয়ে নিয়ে এসেছে। এটার জন্য আমরা গর্ববোধ করছি। আজকে তারা দেশে ফিরছে। তাদের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা আমাদের পক্ষ থেকে।

তিনি দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তাদের পরিবার-পরিবারবর্গ যারা আছেন তাদের আমরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

 

মির্জা ফখরুল বলেন, “গতকাল আমি টেলিভিশনে স্বপ্নার মায়ের কথা শুনেছি। এই কথাটা শোনার পর আমি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি। স্বপ্নার মাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, আপনার মেয়ে ফুটবল খেলছে। তার জন্য আপনি ভালো খাবারদাবারের কী ব্যবস্থা করেন, ডিম-দুধ খেতে দেন? মহিলা তখন বললেন, ‘ভাতই দিতে পারি না, ডিম-দুধ দেব কোত্থেকে’?”

তিনি বলেন, “দ্যাট ইজ দ্য রিয়াল পিকচার। এটা হচ্ছে আসল চিত্র। এ দেশের ৪২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এই মেয়েটা উঠে এসেছে একেবারে দরিদ্রতম পরিবার থেকে। তার বাবা অসুস্থ, হার্টের রোগী। তার মাকে প্রশ্ন করা হয়েছে কী করেন? পেশা কী? তার মা বলেছেন, ‘পরের বাড়িতে কাজ করি। ভাতই দিতে পারি না।’ তারপরও এই দারিদ্র্যকে জয় করে এই মেয়ে আজকে এই জায়গায় পৌঁছেছে। টিম যে এই জায়গায় পৌঁছেছে এটা জন্য আমরা গর্ববোধ করছি।”

তিনি বলেন, ‘সাফ গেমস নারী ফুটবল খেলা চালু করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব। আমি পত্রিকায় দেখলাম ডানা (কামরুন নাহার ডানা), যিনি মহিলা ফেডারেশনের এক সময়ে প্রধান ছিলেন। তিনি বলছেন, প্রথম টুর্নামেন্টটা বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় অনেক বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে শুরু হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

গত সোমবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে নারী সাফের ফাইনালে স্বাগতিক দেশ নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ান হয়। বুধবার দুপুর দেড়টায় নেপাল থেকে বিজয়ীরা দেশে ফিরেছেন।

বিডি প্রতিদিন

জাপানি নাগরিক হত্যা মামলা; চার আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, একজন খালাস

রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে জড়িত চার অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্ট যে চারজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন, তারা হলেন জেএমবির পীরগাছার আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী, জেএমবি সদস্য লিটন মিয়া ওরফে রফিক, সাখাওয়াত হোসেন ও আহসান উল্লাহ আনসারী ওরফে বিপ্লব। খালাস পেয়েছেন ইছাহাক আলী। তাদের মধ্যে আহসান উল্লাহ আনসারী পলাতক। অপর চার আসামি কারাগারে।

এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি খুনের দায়ে জেএমবি পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শুরু হয়।

 

২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার জাপানি নাগরিক কুনিও হোসি হত্যার দায়ে জেএমবি পাঁচ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকালে জাপানি নাগরিক কুনিও হোসিকে কাউনিয়া উপজেলার আলুটারি এলাকায় গুলি করে হত্যা করেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির জঙ্গিরা।

বিডি প্রতিদিন

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের বলিষ্ঠ ভূমিকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে এবং এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ও জাতিসংঘকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সকালে হোটেল লোটে প্যালেস নিউইয়র্ক মিটিং রুমে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডি সাক্ষাতে এলে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। খবর-বাসস’র।

সাক্ষাৎ শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

 

গ্রান্ডির সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে ফিলিপো বলেন, তিনি দ্রুত মিয়ানমার সফর করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের মাধ্যমেই রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান সম্ভব।

ইউএনএইচসিআর হাইকমিশনারও এ বিষয়ে তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বৈঠক চলাকালে তারা বাংলাদেশের কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ইউএনএইচসিআরের বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পরে একই স্থানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম এ এ খান কিউসি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

তারা বাংলাদেশ ও আইসিসি’র মধ্যে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী আইসিসি’র প্রসিকিউটরকে আশ্বাস দেন যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ভিকটিমদের জন্য ন্যায় বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইসিসি’র চলমান সকল প্রচেষ্টার ব্যাপারে বাংলাদেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

সূত্র: বাসস।

পুলিশ নেতাকর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করছে : অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

পুলিশ বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠন সমূহের নেতাকর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পুলিশ বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করার নামে হয়রানি করছে এবং দেশে বিরাজমান ভয়ের পরিস্থিতিকে আরো আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে।

বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ রাজনৈতিক কর্মীদের একজনের কাছ থেকে অন্যজনের তথ্য সংগ্রহেও লিপ্ত রয়েছে। পুলিশি এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ সংবিধান, ফৌজদারী কার্যবিধি, পুলিশ আইন বা পুলিশ বিধি কিংবা অন্য কোন আইন দ্বারা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম একদিকে যেমন নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। অন্যদিকে তেমনি নাগরিকের আইনি অধিকার ভোগ করা এবং তার ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে প্রতীয়মান হয় যা সংবিধানের ৩১,৩২ এবং ৪৩ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২ এবং ৪৪ ধারায় একজন নাগরিক যুক্তিসঙ্গত কারণে কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করবে বলে বলা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিত ভিন্ন। ফৌজদারী কার্যবিধির আওতায় যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার এখতিয়ার ধারণ করে বা আমলযোগ্য অপরাধের সম্পৃক্ততার যুক্তিসম্মত কারণ পায় এবং সে ব্যক্তি যদি পালানোর চেষ্টা করে কিংবা তার শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কোন আশংকা থাকে বা রেলওয়ে, কেনাল, টেলিগ্রাফ অথবা সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বা ৪৪ ধারায় উল্লেখিত দণ্ডবিধির কোন অপরাধ সংঘটনের তথ্য থাকে তবেই কেবল উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা একজন নাগরিকের সহযোগিতা চাইতে পারে, অন্য কোন কারণে নয়। উক্ত ৪২ এবং ৪৪ ধারা প্রয়োগ করতে গেলেও আগে প্রমাণ করতে হবে যে, নাগরিকের কাছ থেকে কোন তথ্য বা সহযোগিতা চাইতে হলে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে এবং সে কারণ অবশ্যই উল্লেখিত আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, চলমান অবস্থায় ইহা দৃশ্যতঃ প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশ বিএনপিসহ ভিন্নমতালম্বীদের দমনের উদ্দেশ্যে তাদের গণহারে শুধু নাম ঠিকানায় নয়, তাদের পেশা, সন্তান সম্পত্তির বিবরণসহ চৌদ্দ গোষ্ঠীর যাবতীয় বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে যা দেশে বিরাজমান আতঙ্কের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। বিএনপি এই অবস্থার অবসান চায়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা পুলিশ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, এই ভাবে সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক কর্মীদের হয়রানি বন্ধ করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তারা তাদের সংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সভায় যোগ দেয়ায় ভাবমূর্তি রক্ষায় লোক দেখাতে বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা না করার কথা বলছে ক্ষমতাসীনদলের নেতারা।

সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনায় বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মির্জা ফখরুল।

রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধীতার পরও আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ জাতির সাথে মশকরা করছে কমিশন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

বিডি-প্রতিদিন/

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় জাপান-ইউএনএইসসিআর ৩.৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষায় জাপান ও জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা-ইউএনএইসসিআর ৩.৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করেছে। বুধবার এই চুক্তি সই হয়।

কক্সবাজার ক্যাম্পে ও ভাসান চরে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের জন্য এই অর্থ ব্যয় করা হবে। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি জোহানেস ভ্যান ডার ক্লাউ বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি জাপান সরকার ও তাদের জনগণের সমর্থন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে তাদের সংহতির জন্য ইউএনএইচসিআর কৃতজ্ঞ।

চুক্তি অনুসারে ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার এবং ভাসান চরে ক্যাম্পে তাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

 

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, ভাসান চর ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কাজের সুযোগ তৈরি, উন্নত ও নিরাপত্তা বাড়ানোর দৃঢ় আশা নিয়ে এই প্রকল্পে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজার সফরের সময়, আমি ইউএনএইচসিআর এবং এর অংশীদারদের উদ্ভাবনী কাজ দেখেছি। যেহেতু রোহিঙ্গা সংকট ষষ্ঠ বছরে পড়েছে। মিয়ানমারে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শরণার্থীদের উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য অর্থায়ন অব্যাহত রাখাও অপরিহার্য। এই সংকটের টেকসই সমাধান একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়তে সহায়ক হবে। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পাশে দাঁড়াবে জাপান।

বিডি প্রতিদিন

৪৮৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার পাঠ্যপুস্তক কিনবে সরকার

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের লক্ষ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য ১১ কোটি ২০ লাখ এক হাজার ৪৭৪টি পাঠ্যপুস্তক কিনবে সরকার। এতে মোট খরচ হবে ৪৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ টাকা। বুধবার দুপুরে ভার্চ্যুয়ালি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল বারিক সাংবাদিকদের জানান, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য দুটি এবং ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ১১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। ক্রয় প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তিনটি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি, স্থানীয় সরকার বিভাগের দুটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের একটি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবনা ছিল। ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১১টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৯০৩ কোটি ৮৭ লাখ এক হাজার ৯২৩ টাকা।

প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ৪৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ টাকায় ১১ কোটি ২০ লাখ এক হাজার ৪৭৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি), মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি, দাখিল স্তরের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি, শিক্ষক নির্দেশিকা এবং কারিগরি বই (ট্রেড বই)। ১৮২টি লটে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এসব পাঠ্যপুস্তক কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য এসব পাঠ্যপুস্তক কেনা হবে।

এর আগে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে দুটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে দুটি প্রস্তাবেরই নীতিগত অনুমোদন দেয় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটি।

বিডি প্রতিদিন

বাল্যবিবাহ ও মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা সভা

রবিবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন সময়ে বাল্যবিবাহের অবস্থা ও শহরের বস্তিতে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইউএনএফপিএ দুইটি স্টাডি রিপোর্টের উপর আলোচনা অনুষ্ঠান এর আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভিন, প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাক্তন মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোঃ গোলাম ফারুক। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মাসাকি ওয়াতাবে।

অনুষ্ঠানে, গবেষকরা ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বাল্যবিবাহ: একটি দ্রুত অধ্যয়ন’ এবং ‘বাংলাদেশের শহুরে বস্তিতে নারী ও কিশোরী মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।