অন্য পথে হাঁটছেন অমিতাভের নাতনি

নানা-নাতির দেখানো পথে নয়, নিজের মতো করে ক্যারিয়ার শুরু করতে চলেছেন অমিতাভ বচ্চনের নাতনি নব্যা নভেলি নন্দা। স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি অনলাইন সংস্থা খুলে ফেলেছেন নব্যা। নাম ‘আরা হেলথ’। তবে অবশ্য নব্যা একা নয়, তাঁর সঙ্গে মিলে এই ‘আরা হেলথ’-এর প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রজ্ঞা সাবু, অহল্যা মেহতা ও মল্লিকা সাহানে।

জিনিউজ বলছে সম্প্রতি, ‘আরা হেলথ’-এর অনলাইন সেশনে প্রজ্ঞা সাবু, অহল্যা মেহতা ও মল্লিকা সাহানের সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন নব্যা। যেখানে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারী হিসাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে দেখা গেল তাঁদের। নব্যা নভেলি নন্দাকে বলতে শোনা গেল পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাঁকে কীভাবে প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে।

নব্যার কথায়, ‘যখনই আমদের স্পললাইটে রাখা হয়, কোনোও বিক্রেতা কিংবা ডাক্তার (যদি পুরুষ হয়), যার সঙ্গেই কথা বলি না কেন, আমরা মহিলা সেকথা মাথায় রেখেই তাঁরা কথা বলেন।’

বাইরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাঁর কী অনুভূতি হয়েছে সেবিষয়ে নব্যা বলেন, ‘যখন আপনি কোনও বিষয়ে কারোর সঙ্গে কথা বলতে যাবেন, সেই ব্যক্তি আপনার সম্পর্কে কী ভাবছেন, তা কখনও ভাববেন না। তবে আমার মনে হয়েছে, আমাদের আরও প্রমাণ করার দরকার আছে। কারণ, আমরা যে জায়গায় থাকি, তার বেশিরভাগ অংশই পুরুষ দ্বারা পরিচালিত।’

প্রসঙ্গত, নব্যা নভেলি নন্দা হলেন অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের কন্যা শ্বেতা বচ্চন নন্দা-র মেয়ে। নব্যার বাবা নিখিল নন্দা, পেশায় ব্যবসায়ী। যিনি আবার রাজ কপুরের মেয়ে রীতু নন্দার ছেলে। তবে ফিল্মি পরিবারে অংশ হয়েও নিজের কেরিয়ারটা অন্যভাবেই শুরু করলেন নব্যা। গতবছর (২০২০) নিউ ইয়র্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বয়েছেন।

ভারত থেকে ৩ কোটি টিকা নেবে মিয়ানমার

ভারত থেকে আগামী ফেব্রুরায়ী মাসের মধ্যে ৩ কোটি করোনা টিকা নেবে মিয়ানমার। গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্বের বৃহত্তম টিকা প্রস্ততকারক কোম্পানি, সিরাম ইন্সটিটিউট অফ ইন্ডিয়া অক্সফোর্ড এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র টিকাটি কোভিশিল্ড নামে তৈরি করেছে। আর এ টিকাই নিতে যাচ্ছে মিয়ানমার।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের মহাপরিচালক ইউ জাও এইচটি এক বিবৃতিতে বলেন, টিকা অর্ডারের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করার পরিকল্পনা করছে তাদের সরকার। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার এই টিকাটি বেছে নেয়ার কারণ, ভ্যাক্সিন টি ২-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায় এবং এটি মিয়ানমারের জলবায়ুর জন্যও উপযুক্ত।

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া এবং চীন থেকে করোনা টিকা কেনার চেষ্টা করেছিল মিয়ানমার।

সূত্র: মিজিমা নিউজ।

গত বছর জার্মানির গাড়ি নির্মাণ ও বিক্রিতে রেকর্ড পতন

পূর্ব ও পশ্চিম পুনর্মিলিত হওয়ার পর ২০২০ সালে এসে সবচেয়ে বেশি পতনের সাক্ষী হলো জার্মানির গাড়ির বাজার। গতকাল প্রকাশিত পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এ তথ্য। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গাড়ি নির্মাণ ও বিক্রি দুটোই নাটকীয় হারে হ্রাস পেয়েছে। খবর এএফপি।

ভিডিএ অটো ফেডারেশনের মতে, গত বছর ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে ২৯ লাখ গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছিল, যা কমেছে ১৯ শতাংশ। এছাড়া মোট গাড়ি নির্মাণ হয়েছে ৩৫ লাখ, যা ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

গত বছরের শুরুতে নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি ঠেকানোর চেষ্টায় কারখানাগুলোও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ডিসেম্বরে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এখন আবার চলছে লকডাউন। তাই বাজার স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভিডিএ প্রেসিডেন্ট হাইল্ডগার্ড ম্যুলার বলেন, তারা ২০২১ সালেই যাত্রবাহী গাড়ির বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন। তবে বিবৃতিতে তিনি স্বীকার করে বলেন, খুব দ্রুত করোনাপূর্ব শক্তিশালী অবস্থায় ফেরার আশা করছি না।

জার্মান গাড়ির বাজারের এমন পতন দুই জার্মানির একীভূত হওয়ার পর আর দেখা যায়নি। সর্বশেষ ৩০ লাখের কম নিবন্ধন দেখা মিলেছিল ১৯৮৯ সালে। এছাড়া ১৯ শতাংশের পতনের মতো রাহুগ্রস্ত অবস্থার দেখা মিলেছিল ২০১০ সালে। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কিছুটা আশা দেখা গিয়েছিল, যখন ৩ লাখ ১০ হাজারের কিছু বেশি গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছিল; যা কিনা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়েছে ১০ শতাংশ।

সপ্তাহে চার কর্মদিবসে সুবিধা দেখছে কোম্পানিগুলো

গত বছর নভেল করোনাভাইরাসসংক্রান্ত লকডাউনের শুরুর দিকে পরিস্থিতির চাপে কর্মীদের বেতন কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় টার্গেট পাবলিশিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ম্যাগাজিনটি কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে নতুন এক সিদ্ধান্তও গ্রহণ করে। যেখানে তারা কর্মীদের জন্য সপ্তাহে চারদিন অফিস করার ব্যবস্থা চালু করে।

টার্গেটের প্রতিষ্ঠাতা ও মালিক ডেভিড কান বলেন, আমরা এজন্য ভালো অনুভূতি হচ্ছিল যে সবাই যে কষ্ট স্বীকার করেছে, তার বিপরীতে আমি তাদেরকে কিছু ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।

মূলত মহামারীজনিত কারণে বিজ্ঞাপন হ্রাস পাওয়া এবং বেশকিছু প্রকল্প বাতিল হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বাধ্য হয় ৩০ জন কর্মীর ২০ শতাংশ করে বেতন কমাতে। কিন্তু সপ্তাহে চারদিন অফিস করার সিদ্ধান্ত তাত্ক্ষণিকভাবে সুবিধা এনে দেয় কোম্পানিটিকে। কান লক্ষ করেন, এ সিদ্ধান্ত কর্মীদের কর্মোদ্দীপনাও অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি হলে তিনি সবার বেতন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেন কিন্তু চার কর্মদিবসের সিদ্ধান্ত আর বদলাননি। অর্থাৎ বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা সংকটপূর্ব সময়ের মতো বেতন পেলেও অফিস করতে হচ্ছে সপ্তাহে চারদিন।

কান বলেন, অবশ্যই ছোটখাটো কিছু সমস্যা হচ্ছে কিন্তু কর্মীরা যেভাবে কাজ করছেন, তাও আমরা লক্ষ করছি। উল্লেখযোগ্য যোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা আরো মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে আমরা ব্যাপক সুবিধা দেখতে পাচ্ছি, যার জন্য সবাই লাভবানও হচ্ছে।

এর আগে নভেম্বরে ইউনিলিভার বলেছিল, তারা তাদের নিউজিল্যান্ড অফিসের কর্মীদের একই বেতনে সপ্তাহে চারদিন অফিস করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিশ্বজুড়ে কাজ করছেন ১৫ লাখ কর্মী। এখন বাকিরাও হয়তো তাদের সেই সিদ্ধান্তের পথ চেয়ে আছে।

নিউ ইকোনমিক ফাউন্ডেশনে (এনটিএফ) সহকর্মীদের নিয়ে চার কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলন করে সফল হওয়া অর্থনীতিবিদ আইডান হার্পার বলেন, এখনই সময়।

চার কর্মদিবসের এই ইস্যুতে হার্পারসহ কয়েকজন ‘দ্য কেস ফর এ ফোর ডে উইক’ নামে একটি বইও লিখেছেন। যেখানে তারা বেতন না কমিয়েই কর্মঘণ্টা কমানোর পক্ষে যৌক্তিক ভিত্তিগুলো তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, বিংশ শতাব্দীতে কোম্পানিগুলো শ্রমিক সংগঠন দ্বারা, সরকারি নীতিমালা দ্বারা কিংবা শ্রমিকস্বল্পতার কারণে বাধ্য হয়েছিল উৎপাদন কার্যক্রমে কর্মীদের কাছ থেকে অধিক কর্মঘণ্টা আদায় করতে। কিন্তু সে প্রক্রিয়া গত হয়েছে ১৯৮০-এর দশকে।

মহামারীর মতো পরিস্থিতি টার্গেটের মতো কোম্পানিগুলোকে অফিস ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। এখন ২০২১ সালে সামনের দিনগুলোয় কর্মঘণ্টা হ্রাস পাওয়ার নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

থিংকট্যাংক অটোনমির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, ঋষি সুনাক চাইলে বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে পারেন, যদি তিনি কোম্পানিগুলোকে চার কর্মদিবসের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা দেন। তারা বলছে, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই অধিক উৎপাদনশীলতা কিংবা মূল্য বাড়িয়ে এটি মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে।

তারা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে সপ্তাহে চার কর্মদিবস রাখার বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে। এদিকে ইউনিলিভারের ঘোষণা দেয়ার কয়েক সপ্তাহ পর এউইন নামে একটি অনলাইন মার্কেটিং সংস্থা বলেছে, তারা এক হাজার কর্মীর জন্য সপ্তাহে চারদিন অফিস করার ব্যবস্থা করেছে।

এউইনের মতো ইউনিলিভারের বিশ্বাস ১২ মাসের পাইলট প্রজেক্টে কর্মীরা আরো ভালোভাবে কাজ করবেন। এমন নয় যে কেবল প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি করে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মূলত ৪১ জন হোয়াইট কলার কর্মীর দৈনিক কাজ বিবেচনায় নেয়ার পর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে হেঁটেছে তারা।

দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে

শুরুর আগেই ধাক্কা খেল স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক ব্যবস্থা

প্রায় ৫২ কোটি টাকা খরচ করে ঢাকার চারটি ইন্টারসেকশনে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (আইটিএস) বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিল ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এজন্য মহাখালী, গুলশান-১, পল্টন ও ফুলবাড়িয়া ইন্টারসেকশন নতুন করে গড়ে তোলা হয়। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা, ভেহিকল ও ইমেজ ডিটেক্টর, সিগন্যাল বাতি লাগানো হয়। জাপান থেকে আসে আইটিএস সফটওয়্যার সংবলিত দুটি বিশেষ কম্পিউটার। কিন্তু স্থাপনের আগেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) একটি গোডাউন থেকে চুরি হয়ে গেছে সেগুলো। ফলে অন্য সব কাজ শেষ হলেও শুধু সফটওয়্যারের অভাবে অলস পড়ে আছে চার ইন্টারসেকশনে স্থাপন করা আইটিএস প্রকল্পের সরঞ্জামাদি।

‘ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে চার ইন্টারসেকশনে পরীক্ষামূলকভাবে আইটিএস স্থাপনের কাজটি বাস্তবায়ন করছে ডিটিসিএ। প্রকল্পটি নেয়া হয় ২০১৬ সালে। শুরুতে এর প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩৭ কোটি টাকা। দুই দফায় বাড়িয়ে যা এখন ৫২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। কয়েক দফা বাড়িয়ে কাজ শেষ করার মেয়াদ নেয়া হয়েছে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। এ প্রকল্পে ডিটিসিএ শুধু ইন্টারসেকশনগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে। আর আইটিএসের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে জাইকা। এ কারণে চুরি হওয়া আইটিএস সফটওয়্যারের দাম কত, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেননি ডিটিসিএর কর্মকর্তারা।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, জাপান যেসব প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করে, সেগুলো গুণগত মানে বেশ ভালো। দামও বেশি হয়। আইটিএস সফটওয়্যার সংবলিত কম্পিউটারগুলোর দাম উচ্চক্ষমতার একটি সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। কম্পিউটার হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই হয়তো এগুলো চুরি করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো সাধারণ মানুষের পক্ষে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

সফটওয়্যার চুরি হওয়ার ঘটনায় এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ডিটিসিএ। পাশাপাশি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগও (ডিবি) তা তদন্ত করছে। আইটিএস প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যে নতুন করে সফটওয়্যার কেনার উদ্যোগও নিয়েছে ডিটিসিএ।

ডিটিসিএতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাপান থেকে আইটিএস প্রকল্পের বিভিন্ন সরঞ্জাম বাংলাদেশে আসে ২০১৯ সালে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড় করার পর সেগুলো ডিএসসিসির একটি গোডাউনে রাখা হয়। এসব সরঞ্জামের একটি প্যাকেটে দুটি অত্যাধুনিক কম্পিউটারসহ আইটিএস সফটওয়্যার রাখা ছিল। প্যাকেটের গায়ে ছিল জাইকার কোড। প্রকল্পের কাজে নিযুক্ত জাপানের প্রকৌশলীদের প্যাকেটটি খোলার কথা ছিল।

চার ইন্টারসেকশনে আইটিএসের ‘ট্রায়াল’ ও ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ কাজ করার জন্য ২০১৯ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে আসে জাপানের একটি বিশেষজ্ঞ দল। গত বছরের জানুয়ারি থেকে তারা কাজ করেন। কথা ছিল দ্রুতই তারা আইটিএসের ওপর মোট ছয়টি অ্যাকশন প্ল্যান, গাইডলাইন ও ম্যানুয়াল ডিটিসিএর কাছে হস্তান্তর করবেন। পরে সিস্টেমটি ডিটিসিএ হস্তান্তর করবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে। তখনই প্রয়োজন হয় গোডাউনে রাখা আইটিএস সফটওয়্যার ও বিশেষায়িত কম্পিউটারগুলো। তবে গোডাউনে গিয়ে সেগুলো আর খুঁজে পাননি ডিটিসিএর কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে প্রকল্পটির পরিচালক ও ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ২০২০ সালের শুরুতেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সফটওয়্যার গোডাউন থেকে খুঁজে না পাওয়ায় কাজ এখনো আটকে আছে। আমরা নতুন করে সফটওয়্যার আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই এসব কাজ শেষ হবে বলে আমরা আশাবাদী। নতুন করে সফটওয়্যার কিনতে গিয়ে প্রকল্পের ব্যয় আরো বাড়বে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এজন্য খুব একটা ব্যয় বাড়বে না।

ঢাকায় ব্যাপক হারে সিগন্যাল বাতি স্থাপন শুরু হয় চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে। ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ঢাকার অন্তত ৭০টি ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল বাতি বসানো হয়। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এক বছরও টেকেনি এসব বাতি। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আরেক দফায় বসানো হয় সিগন্যাল বাতি।

কয়েক কোটি টাকা খরচ করে সিগন্যাল বাতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেনা হয় রিমোর্ট কন্ট্রোল সিস্টেম। ২০১৫ সালে বনানী থেকে মত্স্য ভবন পর্যন্ত ১১ পয়েন্টে আলাদা করে বসানো হয় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বাতি। ২০১৯ সালে আসাদ এভিনিউয়ে পথচারী পারাপারের জন্য বেশ ঘটা করে পুশ বাটন উদ্বোধন করেন উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র। দুই দশকে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরও সিগন্যাল বাতিতে নয়, ঢাকার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে পুলিশের হাতের ইশারায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঢাকার চারটি ইন্টারসেকশনে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিস্টেম বসানোর উদ্যোগ নিয়েছিল ডিটিসিএ। কিন্তু সফটওয়্যার চুরি হয়ে যাওয়ায় আলোর মুখ দেখছে না এ প্রকল্প। ডিটিসিএ নতুন করে সফটওয়্যার কেনার উদ্যোগ নিলেও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ব্যবস্থাও ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে না। তাদের ভাষ্য, সিগন্যাল বাতিতে অপচয়ের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে আইটিএস প্রকল্প।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদন
ব্যাংকের নামে এসটিসির লোভনীয় অফার প্রতারণা

আইনগতভাবে কোনো ব্যাংক না হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসটিসি ব্যাংক লিমিটেড। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করে আসছে। উচ্চ মুনাফার লোভনীয় অফার দিয়ে অপকর্ম করা হচ্ছে। চাকরির নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিশেষ পরিদর্শনে এমন সব ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। এ অবৈধ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধে সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যুগান্তরের অনুসন্ধানেও দেখা গেছে, অনুমোদন ছাড়াই চলছে এসটিসি ব্যাংক। এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শনে বলা হয়-এসটিসি ব্যাংকের কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকলেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও কুষ্টিয়ায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এসটিসি ব্যাংক লিমিটেড নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেশব্যাপী ৮০টি শাখা খোলা হয়েছে।

নানা নামে আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রার্থীপ্রতি ২ থেকে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি শাখা থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

বিশেষ পরিদর্শনে বলা হয়-শিগগিরই অবৈধ ব্যাংকটি বন্ধ করা না গেলে বড়ো ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারে সাধারণ মানুষ। বিষয়টি বিবেচনায় নিতে সরকারের কাছে সুপারিশ করা হচ্ছে।

সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন নিয়ে এসটিসি ব্যাংক বেআইনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার মৌচাক মার্কেটের পূর্ব পাশের ভবন লিলি প্লাজার দ্বিতীয় তলায় (সাদ রেস্টুরেন্টের ওপর) এসটিসি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ।

প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহাগ জানান, মালিকদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং আইনি জটিলতায় বেশ কয়েক মাস ধরে কার্যক্রম বন্ধ। তবে নতুন করে শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও জানান, এ বছরের জানুয়ারি থেকে আবার কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিষ্ঠানটি সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধিত। বিস্তারিত জানতে ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। কিন্তু চেয়ারম্যানের দুটো মোবাইল ফোন নম্বরে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ব্যাংকটির ওয়েবসাইট ও প্রসপেক্টাস ঘেঁটে দেখা গেছে, প্রথম পাতায় ব্যাংকের তিন শতাধিক শাখা থাকার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লোকেশনে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৪৪টি শাখার তথ্য। এসব শাখার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

দৈনিক সঞ্চয় প্রকল্প, মুদারাবা মাসিক সঞ্চয়, মুদারাবা শিক্ষা সঞ্চয়, মুদারাবা হজ সঞ্চয় নামে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা ব্যাংকের মতো আমানত নিচ্ছে। এছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের শেয়ারও বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এসব শেয়ারের নাম দেওয়া হয়েছে- অংশীদার, নিকট, আস্থা, বিশ্বাস, প্রিয়, আমার ও আপন। ২০১৯ সাল থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে এসটিসি ব্যাংক লিমিটেড। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ব্যাপক পরিসরে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সীমিত বন্ধক দিয়ে গৃহঋণ, আশ্চর্যজনক পুরস্কার (উচ্চ সুদহার), কর্তব্যনিষ্ঠ ও অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে শক্ত ও স্থিতিশীল ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটে দেখা যায়, এসটিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মির্জা আতিকুর রহমানসহ পরিচালকের সংখ্যা মোট সাতজন। বাকি ছয়জনের মধ্যে চারজনের কোনো ছবি প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ২০০১ সালের ১৫ জুলাই জারি করা সমবায় আইনে সমবায় প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যাংক শব্দ যুক্ত করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে- আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ছাড়া কোনো সমবায় সমিতি সদস্য ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ বা ঋণ দিতে পারবে না।

এ বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুদে বার্তায় নিজের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে যুগ্ম-নিবন্ধক (ব্যাংক-বীমা ও কৃষি ঋণ) জেবুন নাহার মিতার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। জেবুন নাহার মিতা যুগান্তরকে বলেন, ১৯৭৬ সালে নারায়ণগঞ্জে সীমিত পরিসরে স্মল ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিবন্ধন নেয় এসটিসি। এরপর প্রতিষ্ঠানটি (এসটিসি) সারা দেশে কার্যক্রম চালাতে গেলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এ নিষেধাজ্ঞার ওপর আদালত স্থগিতাদেশ দেন। এরপর অবৈধ কমিটির ওপরও স্টে অর্ডার নেয় প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, এসটিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় শাখা খুলতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। এরপর আদালতে রিট করে তাদের কার্যক্রম চলমান রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি যে নাম ব্যবহার করেছে তা সমবায় ও ব্যাংক কোম্পানি আইনের কোনোটিই সমর্থন করে না।

এ ছাড়া তাদের অসঙ্গতিগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদককে জানানো হয়েছে। আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকেও (বিএফআইইউ) বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।ন্তর

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান যুগান্তরকে বলেন, এটা নিয়ে অনেক পক্ষ কাজ করছে। বিএফআইইউও তদন্ত করেছে। সব মিলিয়ে এসটিসি ব্যাংক নজরদারির মধ্যে রয়েছে। সুত্র: যুগান্তর

সিলভিয়া গ্রুপের হাজার কোটি টাকা ব্যাংক জালিয়াতি, পাচার ২১৫ কোটি টাকা

ঋণ জালিয়াতির দায়ে বহুল আলোচিত চট্টগ্রামের সিলভিয়া গ্রুপ ২১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এর মধ্যে জাহাজ আমদানি করে ১৭৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ও অন্যভাবে ৩৯ কোটি টাকা পাচার করা হয়। পাচারের টাকায় সিলভিয়া গ্রুপের কর্ণধার মুজিবুর রহমান মিলন সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে গড়ে তুলেছেন ৬টি কোম্পানি।

এসব কোম্পানির নামে সিঙ্গাপুরে ২টি, মাল্টায় ২টি, যুক্তরাজ্যে ১টি এবং ইতালিতে ১টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এছাড়া মিলনের নামে সিঙ্গাপুরের ২টি ব্যাংকে ৫টি ব্যক্তিগত হিসাব রয়েছে।

বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বাংলাদেশে ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ) এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। সেখানে সিলভিয়া গ্রুপের পাচার করা অর্থের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচারের ঘটনা উদ্ঘাটিত হওয়ায় পরবর্তী তদন্তের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে। কারণ মানি লন্ডারিংয়ের বিধি অনুযায়ী দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মাধ্যমে পাচার করা অর্থের তদন্ত করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অদিধফতর।

এ প্রসঙ্গে বিএফআইইউর প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান যুগান্তরকে বলেন, বিএফআইইউর কাজ হচ্ছে, পাচারের গোয়েন্দা তথ্য দেশের অন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে সরবরাহ করা। ওই সংস্থাগুলো পাচারের প্রমাণ পেলে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পাচার করা টাকা ফেরত আনার প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হলেও দেশে টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য আদালতের নির্দেশে জড়িত ব্যক্তির সম্পত্তি জব্দ করতে হবে। পরে আদালতের রায় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসসংশ্লিষ্ট দেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে পাঠিয়ে সে দেশে আইনি সহায়তা চাইতে পারে। তখন অর্থ ফেরত আনা সম্ভব।

সিলভিয়া গ্রুপ দেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার মুজিবুর রহমান মিলন বাংলাদেশের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি কয়েক বছর আগেই ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। এখন তিনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন বলে বিএফআইইউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিলভিয়া শিপট্রেড লিমিটেড, অলসিস হোল্ডিং লিমিটেড, ট্যালেন্ট মাইল লিমিটেড, হেড রুবি গ্রুপ লিমিটেড, ওশান ফ্লো হোল্ডিং লিমিটেড নামে ৫টি সিঙ্গাপুরে এবং যুক্তরাজ্যে সিলভিয়া (লন্ডন) নামে ১টি কোম্পানি রয়েছে। বর্তমানে মিলনের নামে সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংকে ৪টি ও সিটি প্রাইভেট ব্যাংকে ১টি ব্যক্তিগত হিসাব এখন পরিচালিত হচ্ছে।

অলসিস হোল্ডিং ও হেড রুবি গ্রুপ লিমিটেডের নামে সিঙ্গাপুরের ডিবিএইচ ব্যাংকে ১টি করে ২টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। অলসিস হোল্ডিং ও ট্যালেন্ট মাইল লিমিটেডের নামে মাল্টার আইআইজি ব্যাংক (মাল্টা) লিমিটেডে একটি করে দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

এ হিসাব দুটি ১৩ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হয়ে গেছে। হিসাব দুটিতে ২৬ হাজার ৫৫ ইউরো বা ২৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা ছিল। সেগুলো যুক্তরাজ্যের এইচএসবিসি ব্যাংকে পরিচালিত সিলভিয়া (লল্ডন) লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশ থেকে পাচার করা টাকায় তিনি বিদেশে এসব কোম্পানি গড়ে তুলছেন। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত হিসাবে থাকা অর্থও দেশ থেকে পাচার করা। বাংলাদেশ থেকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে নিতে হলে আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হয়। সিলভিয়া গ্রুপকে দেশ থেকে টাকা বিদেশে নেয়ার কোনো অনুমোদন দেয়া হয়নি।

জাহাজ আমদানির নামে তিনি যেসব অর্থ বিদেশে তার মালিকানাধীন কোম্পানিতে স্থানান্তর করেছেন সেগুলো সরাসরি পাচার। আর যেসব অর্থ তিনি দেশ থেকে অন্য পথে স্থানান্তর করেছেন সেগুলোও পাচার। এছাড়া বিদেশে আয় করা অর্থ থেকে খরচ বাদে বাকিটা দেশে আনার নিয়ম রয়েছে। ব্যবসা করে সেগুলো দেশে না আনায় তাও পাচার বলে গণ্য হবে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদনে বলা হয়, অলসিস হোল্ডিংস লিমিটেড নামে মাল্টার আইআইজি ব্যাংক (মাল্টা) লিমিটেডে থেকে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১১ লাখ ২০ হাজার ডলার বা ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ঋণ নেয়া হয়। পরে ওই অর্থ হলম্যান ফ্যানউইক উইল্যান সিঙ্গাপুরের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।

একই বছরের ১৬ মার্চ লন্ডনে মাশরেফ ব্যাংক হতে মাল্টার অলসিস হোল্ডিংসের হিসাবে ১৫ লাখ ৫২ হাজার ডলার বা ১৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা স্থানান্তর করে ঋণটি শোধ করা হয়। এছাড়া আলোচ্য হিসাবে একই বছরের ১৩ এপ্রিল ২৫ লাখ ৬৯ লাখ ডলার ২২ কোটি ১০ লাখ স্থানান্তর করা হয়। সিঙ্গাপুরের সোমাপ ইন্টারন্যাশনাল পেট লিমিটেড ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই অলসিস হোল্ডিংসের ঋণ হিসাবে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ৩ কোটি ১ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়।

তবে মিলন সোমাপ ইন্টারন্যাশনাল হোলম্যানের মালিক বা পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার নন। অন্যদিকে মাল্টার ট্যালেন্ট মাইল লিমিটেড সিঙ্গাপুরের আরএইচবি ব্যাংকে একই কোম্পানির হিসাবে ২০১৯ সালের ৮ অক্টোবর ১২ লাখ ডলার বা ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। ঋণের বিপরীতে তার বন্ধকী অর্থও দেশ থেকে পাচার করা।

যুক্তরাজ্যের কোম্পানি হাউসের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, সিলভিয়া (লন্ডন) লিমিটেডের পরিচালকও মিলন। তিনি সিঙ্গাপুরের সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিক। তার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় ২০১৫ সালে, যার মেয়াদ আছে ২০২৫ সাল পর্যন্ত।

এদিকে বিএফআইইউর অপর এক তদন্তে দেখা যায়, সিঙ্গাপুর ও ব্রিটিশ ভার্জিনিয়ার আইল্যান্ডে দুটি কোম্পানি খুলে দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে মুজিবুর রহমান মিলন। সচল জাহাজের বদলে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে ২ কোটি ৫ লাখ ডলার বা ১৭৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি বিদেশি ওই দুই কোম্পানিতে নিয়ে গেছেন তিনি।

অবাক করা বিষয় হলো, দেশ থেকে জাহাজ আমদানির জন্য যে কোম্পানির নামে এলসি খোলা হয়েছে এবং জাহাজ রফতানি বাবদ যে দুটি কোম্পানিতে বৈদেশিক মুদ্রা স্থানান্তর করা হয়েছে ওই তিনটির মালিক মিলন। ফলে তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিভাবে দেশ থেকে টাকা পাচার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, টাকা পাচারের পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিলন প্রথমে সিলভিয়া শিপট্রেড লিমিটেড নামে সিঙ্গাপুরে এবং অলসিস হোল্ডিং নামে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে দুটি কোম্পানি খোলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে মেসার্স এস. শিপিং লাইন নামে একটি কোম্পানি খোলেন। বিদেশি ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এস শিপিং লাইন দুটি সচল জাহাজ কেনে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাউথইস্ট ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা থেকে ১ কোটি ২৬ লাখ ডলার সিলভিয়া শিপট্রেডে এবং প্রাইম ব্যাংকের জুবিলি রোড শাখা থেকে ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ডলার ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডের অলসিস হোল্ডিংয়ের ইতালির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। নতুন জাহাজ বদলে বাংলাদেশে আনা হয় নিম্নমানের স্ক্র্যাপ জাহাজ। যা বলতে গেলে মূল্যহীন।

এ প্রসঙ্গে সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামাল হোসেন বলেন, টাকা আদায়ে মিলনের নামে মামলা করা হয়েছে। ঋণের বিপরীতে জমি যে বন্ধক দেয়া সেগুলো বিক্রির চেষ্টা চলছে।

ঋণের বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রাইম ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগে ই-মেইল করা হয়। ফিরতি ই-মেইলে জানানো হয়, ঋণের টাকা উদ্ধারের জন্য প্রাইম ব্যাংক ২০১৬ সালে গ্রাহকের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে মামলা করেছে। এর আগে ২০১৪ সালে বন্ধকীকৃত জাহাজ বিক্রি করে ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা আদায় করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক আরও ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করেছে।

কাতারের সঙ্গে সৌদির নের্তৃত্বে নতুন সম্পর্ক, স্বাগত জানাল পাকিস্তান

এবারের জিসিসি সম্মেলনের প্রাক্কালে এসে সৌদি আরবের নের্তৃত্বে কাতারের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে সৌদির আকাশসীমা ব্যবহার করে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে কাতার এয়ারওয়েজ।

কাতারের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি কাতার, সৌদি আরব ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করে এ ব্যাপারে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, সৌদি আরবের আল-উলায় সফলভাবে সম্মেলন হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, জিসিসি সম্মেলনের ফলে জিসিসিভূক্ত দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো ভালো হবে।

এর আগে সন্ত্রাসবাদ সমর্থন ও অর্থায়নের অভিযোগে কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করা হয় সৌদি আরবের নেতৃত্বে। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর সেই অবরোধ উঠলে।

সূত্র: আল-জাজিরা

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন
অস্থির নেপালে চীন ও ভারতের লাভ-ক্ষতির সমীকরণ

নেপালে গত ২০ ডিসেম্বর হঠাৎ পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কে পি অলির বিরোধীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে, তার বৈধতা নির্ধারণে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরুর কথা। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ১২টির মতো আবেদন হয়েছে। আবেদনগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ২০১৫ সালে সংশোধিত সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নেপালের সুপ্রিম কোর্ট হয়তো সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত দিতে পারে। কিন্তু আদালতের রায়ে কি সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে?

অধিকাংশ পর্যবেক্ষক মনে করছেন, নেপালে নতুন একটি রাজনৈতিক সংকটের যে সূচনা হয়েছে, আদালতের রায়ে তার সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কাঠমাণ্ডুতে সিনিয়র সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক কমল দেব ভট্টরাই মনে করেন, ২০১৭ সাল থেকে তিন বছর ধরে নেপালের সরকার এবং রাজনীতিতে বিরল যে স্থিতিশীলতা চলছিল, সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তা চরম হুমকিতে পড়েছে। ঘটনা কোন দিকে মোড় নেবে এখনই তা বলা মুশকিল, কিন্তু নেপাল যে আবারও নতুন একটি অস্থিতিশীল রাজনীতির আবর্তে পড়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। আদালত যে রায়ই দিক না কেন, তাতে এই সংকটের সুরাহা হবে বলে মনে হয় না।

কমল দেব ভট্টরাই বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি কে পি অলির সিদ্ধান্তের পক্ষে রায় দেন, তাহলে তাঁর নিজের দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বের বড় একটি অংশ এবং প্রধান বিরোধী দলগুলো হয়তো মধ্যবর্তী নির্বাচন বয়কট করবে। আর যদি সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তাহলে অলির বিরুদ্ধে তাঁর নিজের দলের একটি অংশই হয়তো অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করবে। সুতরাং রায় যেটাই হোক হোক না কেন, সংকট তাতে মিটবে বলে আমি মনে করি না।

ক্ষমতাসীন দলে ভাঙন

নেপালের নতুন এই রাজনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব, যা সাম্প্রতিক সময়ে চরমে পৌঁছেছে। কমল দেব ভট্টরাই বলেন, আপনি এখন পরিষ্কার বলতে পারেন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে গেছে। মীমাংসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ফলে সংকটের আশু মীমাংসাও এখন সম্ভব নয়।

নেপালের প্রধান যে দুই মাওবাদী দল সশস্ত্র আন্দোলন করে রাজতন্ত্র উৎখাত করেছিল এবং পরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে, তারাই এখন পরস্পরের প্রধান বৈরী হয়ে উঠেছে। ২০১৭ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কে পি অলির দল সিপিএন-ইউএমএল এবং পুষ্পা প্রচন্দ কমল দাহালের সিপিএন (মাওয়িস্ট সেন্টার) একটি নির্বাচনী মোর্চা তৈরি করে। ২৭৫ আসনের পার্লামেন্টে অলির দল সবচেয়ে বেশি ১২১টি আসন জিতলে পুষ্পা দাহালের সমর্থন নিয়ে তিনি সরকার গঠন করেন। পরপরই মূলত চীনের চেষ্টায় এই দুই মাওবাদী দল একত্রিত হয়ে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিএন) নামে অভিন্ন দল তৈরি করে।

অলি ও দাহালের মধ্যে তখন চুক্তি হয় দলে এবং সরকারে তাদের ক্ষমতা সমানভাবে ভাগাভাগি হবে। কিন্তু দাহাল, যিনি প্রচন্দ নামে বেশি পরিচিত, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ করছেন অলি তাঁর কথা রাখেননি, এবং দলে ও সরকারে একচ্ছত্র প্রাধান্য তৈরির চেষ্টা করছেন। অনেক পর্যবেক্ষকের ধারণা যে দাহাল এবং তাঁর অনুগতরা তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে- এই আশঙ্কা থেকেই প্রধানমন্ত্রী অলি সংসদ ভেঙে দিয়েছেন।

সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিরুদ্ধে গত দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানী কাঠমাণ্ডু ছাড়াও নেপালের অন্যত্র হাজার হাজার মানুষ করোনাভাইরাসের বিধি-নিষেধ তোয়াক্কা না করে মিছিল, সমাবেশ করছে। রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনা বা নেপালকে আবারও হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করার পক্ষের দল এবং গোষ্ঠীগুলোও এই সুযোগে সরব হয়েছে। তারাও এখন নতুন করে বিক্ষোভ জমায়েত করছে।

চীনের উদ্বেগ

নেপালে এই অস্থিরতার দিকে নেপালিদের যতটা নজর, তাদের যতটা উদ্বেগ, প্রতিবেশী দুই জায়ান্ট চীন এবং ভারতের নজর-আগ্রহ তার বেশি ছাড়া কম নয়। কুয়ালালামপুরে মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব চায়নার অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, মূলত তিব্বতের কারণে চীনের কাছে নেপালের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বৈরিতার প্রেক্ষাপটে সেই গুরুত্ব বেড়েছে। পঞ্চাশের দশকের পর তিব্বতি বিদ্রোহীরা নেপালে আশ্রয় নিয়ে বহু বছর ধরে চীনবিরোধী তৎপরতা চালিয়েছে। চীন কোনোভাবেই চায়না নেপালের ভূমি আর কখনো চীনবিরোধী তৎপরতার জন্য ব্যবহার করা হোক।

ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী বলেন, গত বছরগুলোতে চীন যেভাবে নেপালে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছে, কোনোভাবেই তা তারা নষ্ট করতে চাইবে না। নেপালে নতুন অবকাঠামোর প্রায় সবগুলোই এখন চীনের পয়সায় হচ্ছে।

সে কারণেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী উপমন্ত্রী গুও ইঝাও, যিনি দলের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক দেখেন, ২৭ ডিসেম্বর কাঠমাণ্ডুতে এসে কমিউনিস্ট পার্টির দুই বিরোধী পক্ষের মধ্যে মীমাংসার একটি চেষ্টা করেন। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির এই নেতাই ২০১৭ সালে নেপালের মাওবাদী দুই দলের মধ্যে ঐক্য তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু এ দফায় বিরোধ মেটাতে কোনো সাফল্য তিনি যে পেয়েছেন তার কোনো ইঙ্গিত নেই।

কমল দেব ভট্টরাই বলেন, কমিউনিস্ট পার্টির দুই প্রধান নেতার মধ্যে ক্ষমতা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে তা সহজে মেটার নয়। ড. মাহমুদ আলী মনে করেন, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টিতে এই ভাঙন চীনের জন্য বড় একটি ধাক্কা। চীনই দুটি মাওবাদী দলকে একত্রিত করে ক্ষমতা নিতে সাহায্য করেছিল। এটা চীনের জন্য বড় একটি রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সাফল্য ছিল। কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতা নেওয়ায় গত কয় বছরে নেপালে প্রাধান্য বিস্তারে অনেক সুবিধা চীনের হয়েছে। দলের ভাঙনে সেই সাফল্য অনেকটাই হুমকিতে পড়বে সন্দেহ নেই।

কিন্তু চীনের সামনে এখন বিকল্প কী?

ড. আলী বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতা হারালে যে দল বা জোট পরবর্তী সময়ে নেপালের ক্ষমতায় আসুক তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করবে চীন। চীনের সরকার এখন যতটা বাস্তববাদী, ততটা আদর্শিক নয়। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা যেকোনো সরকারের সঙ্গে সম্পর্কে প্রস্তুত। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও তারা সেটাই করছে।

অস্থির নেপালে ভারতের অঙ্ক

নেপালের নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে দিল্লিতে মোদি সরকার নিশ্চুপ, কিন্তু ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টিতে ফাটলে ভারত যে খুশি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিরাপত্তা ছাড়াও রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় দিক দিয়ে যে প্রতিবেশী দেশটির গুরুত্ব ভারতের কাছে অনেক, গত কয়েক বছরে তার সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই নষ্ট হয়েছে এবং সেই সঙ্গে ভারতের বৈরী একটি দেশের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক ক্রমে উষ্ণ হয়েছে।

দিল্লিতে জওহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. সঞ্জয় ভরদোয়াজ বলেন, ভারত মনে করে কে পি অলির কমিউনিস্ট সরকারের কারণেই নেপালের সঙ্গে এই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। অলি ২০১৫ সালে সীমান্ত অবরোধের সূত্র ধরে তখন থেকে নেপালে ভারতবিরোধী মনোভাব উসকে দিয়ে চলেছেন। সুতরাং অলি ক্ষমতা হারালে এবং তার দলে ভাঙন হলে ভারত খুশি।

নেপালের নতুন যে মানচিত্র সম্প্রতি প্রকাশ করেছে কে পি অলির সরকার, সেখানে ভারত নিয়ন্ত্রিত বেশ বড় একটি এলাকাকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে চরম নাখোশ ভারত। ড. ভরদোয়াজ বলেন, ভারত চাইবে কমিউনিস্ট পার্টির বদলে নেপালি কংগ্রেসের মতো গণতান্ত্রিক কোনো দল বা সমমনা দলগুলোর মোর্চা নেপালে ক্ষমতায় আসুক। এমনকি প্রচন্দ কমিউনিস্ট হলেও ভারতের ব্যাপারে অনেক সহনশীল। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুবার ভারত সফর করেছেন। আমি মনে করি ভারত বিশেষভাবে চায় অলি যেন নেপালে ক্ষমতায় না থাকেন।

অর্থনৈতিক স্বার্থ এক নম্বর স্বার্থ

তবে নেপালে কে পি অলির সরকার ক্ষমতা হারালে বা কমিউনিস্টরা ক্ষমতার বাইরে চলে গেলেও কি নেপাল থেকে চীনকে পাততাড়ি গোটাতে হবে? কমল দেব ভট্টরাই বলেন, তেমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ যে এক নম্বর স্বার্থ, তা নিয়ে নতুন সংবিধান তৈরির সময় থেকেই এক ধরনের ঐকমত্য নেপালের রাজনৈতিক এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হয়েছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও সেই ঐকমত্য ভেঙে পড়বে বলে তিনি মনে করেন না। সে কারণেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিদল নেপালের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে গেছে। সন্দেহ নেই, চীন নেপালের ক্ষমতায় কমিউনিস্টদের চায় এবং চাইবে; কিন্তু নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক খারাপ – এ কথা বলা যাবে না।

কাঠমাণ্ডুর ক্ষমতায় এখন যারাই আসুন, চীনের লম্বা পকেট অগ্রাহ্য করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হবে।

‘শ্রমিকের পুষ্টিসেবা নিশ্চিতকরণে মালিকদের এগিয়ে আসতে হবে’

শ্রমিকের পুষ্টিসেবা নিশ্চিতকরণে মালিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মহানগরীর অভিজাত হোটেলে শ্রমিকদের পুষ্টিসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে আঞ্চলিক উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই আহ্বান।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকরা পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে সুস্থ থেকে কর্মে নিয়োজিত থাকলে কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। শ্রমজীবী মানুষের হাতেই উন্নয়নের চাবিকাঠি। সুষম খাদ্য উৎপাদনও তাদের হাতেই।

প্রতিমন্ত্রী ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮(১) অনুচ্ছেদে পুষ্টি বিষয়টি সংযুক্তির জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। শ্রম প্রতিমন্ত্রী শ্রমিকের পুষ্টিসেবা নিশ্চিতকরণে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে আন্তরিকতার সাথে ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনার মো. ইসমাইল হোসেন, গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. হুদাবা খন্দকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মঞ্জুরুল মোর্শেদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান এবং খুলনা বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গেইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার খন্দকার মনিরুজ্জামান বিপুল। সভায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান দপ্তর এবং শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, বিভিন্ন সেক্টরের মালিক প্রতিনিধি এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। শ্রম মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গেইন বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

বিডি প্রতিদিন