ঘুষ খেয়েও পুরস্কার পায় কাস্টমস

আমদানি হওয়া পণ্য খালাসে করফাঁকি চিহ্নিত করার নামে ঘুষ খায় কাস্টমস। ঘুষ খাওয়া কাস্টমস কর্মকর্তারাই আবার করফাঁকি উদঘাটনে প্রণোদনার নামে পুরস্কার পায়। এভাবেই ঘুষ খায় পুরস্কার পায় কাস্টমস কর্মকতারা। এমন ঘুষখেকো কাস্টমস কর্মকর্তাদের অমানবিক হয়রানি ও ভোগান্তি থেকে রেহাই চান ব্যবসায়ীরা। পুরস্কারের নামে কাস্টমস কর্মকর্তাদের প্রণোদনা বাতিলের দাবি জোরালো হচ্ছে ব্যবসায়ী মহলে। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অংশীজনদের মতে, করফাঁকি উদঘাটনের জন্য কর্মকর্তাদের বাড়তি অর্থ প্রদানের নজির উন্নত বিশ্বের কোথাও নেই। এই ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হলে কর্মকর্তাদের মাঝে বেশি করে ঝামেলা পাকানোর প্রবণতা তৈরি হয়। তাতে ব্যবসায়ীদের ওপর হয়রানি বাড়ে। তবে নিয়মমাফিক কাজ করলে এসব ব্যবস্থা লাগে না। ঘুষ, বকশিসের মতো না হোক, একটা প্রণোদনার মতো- এটা রাখা হয়েছে। কিন্তু আদর্শিকভাবে চিন্তা করলে চাকরি তো চাকরি। সরকারি কর্মকর্তাদের তো এমনতিইে করফাঁকি খুঁজে বের করার কথা।

এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারলে কর্মকর্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা বাতিল করতে হবে। বর্তমান আইনে কর্মকর্তাদের যারা বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারবেন, তাদের প্রণোদনা দেওয়ার বিধান আছে। এ কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা হচ্ছে, যার ভুক্তভোগী হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আইনের মধ্যে থেকেই বিভিন্ন চাপের সৃষ্টি করা হয়, যার ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এটা অযৌক্তিক ও অন্যায়। এভাবে একটা দেশের রাজস্ব প্রশাসন চলতে পারে না। ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হলে অর্থনীতি বিপদগ্রস্ত হবে। দেশ পিছিয়ে পড়বে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-সিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখন বিশ্ব হাতের মুঠোয়। ফলে সহজেই জানা যায়, কোন পণ্যের কি মূল্য। কিন্তু কাস্টমস কর্মকর্তারা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করেই করফাঁকি উদঘাটনের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে। ফলে, পণ্য খালাস করতে গিয়ে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এর একটাই কারণ, পুরস্কারের নামে প্রণোদনা পেতে মরিয়া কাস্টমস কর্মকর্তারা। এটা বাতিল করতে হবে। আমাদের কাছে অনেক তথ্য আছে যে, কাস্টমস কর্মকর্তারা ইনটেনশনালি (ইচ্ছাকৃতভাবে) ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছেন। ব্যবসায়ীরা কাস্টমসের এই অন্যায় ও হয়রানি থেকে মুক্তি চান। পুরস্কারের নামে প্রণোদনার অর্থ নেওয়া পুরোপুরি অন্যায়।

 

এ প্রসঙ্গে পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মনে করেন, কাস্টমস ও বন্ডে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান জটিলতা সমস্যার কারণে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস ও কাস্টমসের বন্ড কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ তুলেছে বিজিএমইএ। সংগঠনটি বলেছে, পোশাক শিল্পের আমদানিকৃত পণ্য চালান খালাসে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কিছু কর্মকর্তা এইচএস কোডসহ বিভিন্ন বিষয়ে অযথা হয়রানি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। ফলে পণ্য খালাস বিলম্ব হচ্ছে। একই সঙ্গে পণ্য রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এখনো প্রচুর পরিমাণে পোশাকের রপ্তানি আদেশ রয়েছে।

এর আগে কাস্টমস কর্মকর্তাদের দুর্নীতি প্রতিরোধে ২০১৮ সালে বেশ কিছু সুপারিশমালা দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। সুপারিশগুলো হচ্ছে- কাস্টমস বিভাগের সোর্স মানি ব্যয় এবং বিভিন্ন উদ্দীপনা পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সব দফতরে একই নীতি অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। সোর্স মানি ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে প্রতিটি ইউনিটে রেজিস্ট্রার সংরক্ষণসহ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে আর্থিক অব্যবস্থাপনা দুর্নীতির একটি বড় উৎস। এটি রোধকল্পে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং নীতিমালা মোতাবেক স্বচ্ছতার সঙ্গে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এনবিআরের আওতাধীন কাস্টম হাউস, বন্ড কমিশনারেটসহ গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় অনেক সময় দুর্নীতি হয়। রাজস্ব কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি। কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে। সৎ, মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাদের কাস্টম হাউস, বন্ড কমিশনারেটসহ গুরুত্বপূর্ণ দফতরে পদায়ন করা উচিত।

বিডি-প্রতিদিন

পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেন

সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার পুঁজিবাজারে সূচক কমার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে।

আজ সোমবার ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৯ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৫২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে শরীয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে ১৪২৯ ও ২৩৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

 

আজ ডিএসইতে এক হাজার ৩৬০ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩৩১ কোটি টাকা কমেছে। আগের দিন ডিএসইতে এক হাজার ৬৯১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

সোমবার ডিএসইতে ৩৭৮টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৪টি কোম্পানির, কমেছে ১১৫টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।

এদিন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান- বেক্সিমকো লিমিটেড, অরিয়ন ফার্মা, বিএসসি, জেএমআই হসপিটাল, নাহী অ্যালুমিনিয়াম, লাফার্জ হোলসিম, শাইনপুকুর সিরামিক, ইস্টার্ন হাউজিং, আইএফআইসি ব্যাংক ও  অরিয়ন ইনফিউশন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৬১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৯ হাজার ১৯৮ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১১০টির, কমেছে, ৮১টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১০০টির কোম্পানির শেয়ার দর।

সোমবার সিএসইতে ২৭ কোটি ৯২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকার লেনদেন কমেছে। আগের দিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪১ কোটি ৪২ লাখ টাকার।

বিডি প্রতিদিন

সিপিএভুক্ত পার্লামেন্টগুলো একত্রে কাজ করতে পারে : স্পিকার

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য বিমোচনসহ সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করণে ওয়েস্ট মিনিস্টার ও সিপিএভুক্ত পার্লামেন্টসমূহ একত্রে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি লন্ডনস্থ ওয়েস্ট মিনিস্টার ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে হাউস অব কমন্সের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি’র সফর উপলক্ষে ওয়েস্ট মিনিস্টার প্রাঙ্গনে ব্রিটিশ পতাকার পাশাপাশি বাংলাদেশের পতাকাও উত্তোলন করা হয়।

সাক্ষাৎকালে তারা জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন,রোহিঙ্গা ইস্যু,বাংলাদেশের ডায়াসপোরা এবং সামাজিক উন্নয়নসহ কমনওয়েলথভুক্ত পার্লামেন্টসমূহের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

 

স্পিকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলা, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়নসহ সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে ওয়েস্টমিনিস্টার ও কমনওয়েলথভুক্ত পার্লামেন্টসমূহ একত্রে কাজ করতে পারে। বিগত সময়ে সিপিএ-এর চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কমনওয়েলথভুক্ত পার্লামেন্টসমূহ এবং আইপিইউ-সহ অন্যান্য পার্লামেন্টারি সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বয় করে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি অবদান রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন। এসব ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সহযোগিতা ও সমর্থন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন স্পিকার।

তিনি বলেন, কমনওয়েলথ দেশসমূহের কনফারেন্স কমনওয়েলথ হেডস অফ গভর্ণমেন্ট মিটিং এ সরকারি পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি পার্লামেন্টসমূহের সাথে বিদ্যমান ও উদীয়মান ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করা যেতে পারে। বর্তমানে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ-সহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা পার্লামেন্টগুলোর সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করে যাচ্ছে। কমনওয়েলথও এই পদক্ষেপ অনুসরণ করতে পারে।

স্পিকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে যে সব দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশংকা রয়েছে তন্মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তবে, সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বাংলাদেশ সফলতার সাথে সংকট মোকাবেলা করছে। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পাশাপাশি বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ও ডেল্টা প্লান গ্রহণ করেছে। এ সব ক্ষেত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়টি তুলে ধরেন।

ব্রিটিশ স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপ ও উদ্যোগসমূহের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের ডায়াসপোরা ব্রিটেনে বেশ প্রশংসার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ব্রিটিশ বাংলাদেশিগণ নিষ্ঠার সাথে ব্রিটেনের উন্নয়নে অবদান রেখে যাচ্ছেন। একইসাথে তারা বাংলাদেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ব্রিটেনের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন।

বাংলাদেশ পার্লামেন্টের পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি ব্রিটিশ স্পিকারকে আমন্ত্রণ জানান। স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতকালে ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিম ও যুগ্মসচিব এম এ কামাল বিল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

লিফটের উপর অতিরিক্ত শুল্ক নিয়ে রিহাব এবং বেলিয়ার আলোচনা

লিফট সেক্টরে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক বাড়ানোর  ক্ষতিকর দিক জানাতে  বাংলাদেশ এলিভেটর এসকেলেটরস অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া) এর সভাপতি  এমদাদ উর রহমান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া, অচিন্ত কুমার বিশ্বাস,মুসফিকুল হক, সাইফুল ইসলাম ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল, অর্থ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম স্বপন  রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (রিহাব) এর সভাপতি  জনাব আলমগীর শামসুল আলম কাজলের সাথে এক  আলোচনায় বসেন ।

বেলিয়া’র সভাপতি এমদাদ উর রহমান তাকে অবহিত করেন যে, লিফট একটি আমদানি নির্ভর পণ্য। যারা আমদানি করে তাদের এখানে এনে সংস্থাপন করতে হয়। ১ বছরের ফ্রি সার্ভিস দিতে হয়, তাই পুরো কারিগরি দক্ষতা অর্জনের জন্য একটা কোম্পানীতে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে দক্ষ কর্মী তৈরী করতে হয়। গত ৫০বছর ধরে এই সেক্টরকে যারা তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন তাদের কথা কোন প্রকার বিবেচনায় না এনে হঠাৎ করে লিফটের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে, যা কিনা এই সেক্টরের শতাধিক কোম্পানী গুলোকে দেউলিয়া হয়ে পরবে।  যে সকল লিফটের অর্ডার এই বছরে সম্পন্ন হয়েছে সেই সকল অর্ডারের লিফট গুলো তৈরী হয়ে সেগুলো শিপমেন্ট শুরু হয়েছে। ক্রেতাদের সাথে যে চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তির মূল্যর উপর অতিরিক্ত প্রায় ৩০% খরচ বেড়ে যাচ্ছে যা বহন করা কোন কোম্পানীর পক্ষে সম্ভব নয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল বলেন, হঠাৎ করেই ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বাজেটে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার প্রত্যয়ে আমদানী পর্যায়ে বিদ্যমান শুল্ক ১১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৩১ শতাংশ করা আত্মঘাতি হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা উদ্বিগ্ন। এই শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। আগে আমরা ১১ শতাংশ শুল্ক দিতাম। ৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ানোয় এবং ক্যাপিট্যাল মেশিনারিজ থেকে বাদ দেওয়ায় এখন ৩১ শতাংশ কর ভার বহন করতে হবে। অর্ডার পাওয়ার পর ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লিফট আনতে ৬ থেকে ৮ মাস লাগে। অনেক আগে অর্ডার নেওয়া হয়। শুল্ক বাড়ানো হলে এখন আমাদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ অর্থ দিতে হবে। এতে আমাদের প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।’

উপরোক্ত বিষয়ের পাশাপাশি সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া, অচিন্ত কুমার বিশ্বাস,মুসফিকুল হক, সাইফুল ইসলাম ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল, অর্থ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এই সেক্টরের বর্তমান চ্যালেন্জগুলো এবং রিয়েলএসটেট কোম্পানীর উপর উক্ত সিদ্ধান্ত নেতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে আলোকপাত করেন।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এর সভাপতি আলমগীর শামসুল আলম কাজল বলেন যে, শুধু চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসেই দেশে অবকাঠামো নির্মাণে খরচ বেড়েছে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ। রড, ইট, বালু, সিমেন্ট সহ প্রায় ২শতাধিক পণ্যর দাম প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে চুক্তিমুল্য অনুযায়ী কোন ফ্লাট হস্তান্তর করতে পারছে না রিয়েল এসটেট ব্যবসায়ীরা, এর উপর লিফটের দাম বৃদ্ধি এই চাপ আরেকদফা বাড়িয়ে দিবে নিঃসন্দেহে। এই বিষয়ে সে নিজে বিভিন্ন সংস্থার সাথে কথা বলবেন, তাদেরকে বাস্তব বিষয়গুলো তুলে ধরবেন এবং বেলিয়ার দাবি অনুযায়ী লিফট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নীতিমালা প্রনয়ণে রিহ্যাব অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে বলে আশ্বস্ত করেন।

 

অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ছোট ছোট লিফট শিল্পকে ধ্বংস করবে।

 

’’তারিকুল ইসলাম স্বপন’’

বাংলাদেশে ১৯৯০সালে একটি কারখানায় শুরু হয় লিফটের ছোট ছোট মালামাল তৈরীর উদ্যোগ। তারা ধীরে ধীরে বিভিন্ন আমাদানীকৃত লিফটের যেসব মালামাল নষ্ট হয়ে যেত বা মাপে মিলতো না সেগুলো তৈরী করে, ধাপে ধাপে তারা সকল ফিক্সিং ব্র্যাকেট, কাউন্টার ওয়েট ফিলার, কাউন্টার ওয়েট, মটর বেজ, ওয়াইড জ্যাম, ডোর ফ্রেম, ডোর প্যানেল ট্রেইলরিং করে বিভিন্ন লিফট কোম্পানীর চাহিদা অনুযায়ী। এই কাজটি তারা সম্পন্ন করে লিফট কোম্পানীর সার্বিক কারিগরী সহযোগিতা নিয়ে। তাদের কারখানার বিভিন্ন কর্মী সেখান থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে গড়ে তোলে আরো ছোট ছোট কারখানা।

এবার বাজেটে সরকারের অর্থমন্ত্রী তার ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বাজেট স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার প্রত্যয়ে আমদানী পর্যায়ে বিদ্যমান শুল্ক ১১% শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৩১% শতাংশ করে। এই উদ্যেগ স্বাভাবিকভাবে ভাল মনে হতে পারে কারণ এটার ফলে দেশীয় কারখানায় লিফটের যন্ত্রাংশ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করবে কিন্তু বাস্তবতা পুরোপুরি উল্টো কিভাবে??

যে সকল কারখানাগুলো গড়ে উঠেছে তারা মূলত লোকাল বিভিন্ন সোর্স থেকে ‍স্টেইনলেস ষ্টিল সংগ্রহ করে তারপর সেটা দিয়ে তারা কেবিন, দরজা সহ অন্যান্য জিনিস ট্রেইলরিং করে, এই অতিরিক্ত শুল্কের ফলে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ১টি বা ২টি কারখানা ব্যতীত অন্য কেউ সরকারের বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। যার ফলে গড়ে উঠা লোকাল শিল্প গুলো চাপের মধ্যে পড়ে যাবে। এখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশে উপরেল্লিখিত জিনিস তৈরী ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রায় ৯২% যন্ত্রাংশ আমদানি নির্ভর।

সরকার হয়ত এই বিষয়টি তার ভাবনায় আনেই নাই বা যারা তথ্য দেয় তারা তথ্য দেয় নাই। এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে লিফটের যন্ত্রাংশ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করবে বলে যেটা সরকার বিশ্বাস করছে তা মূলত গড়ে উঠা শিল্পকে ধ্বংস করবে এবং একটা মনষ্টার তৈরী করবে।

পরিশেষে বলবো যে, সরকার কারখানা গুলোকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে তাদের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করুক সেটা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত দ্বিমত নেই তবে তাদের প্রতিযোগীদের ধ্বংস করে তাদেরকে একক ভাবে মাঠে ছেড়ে দিলে সেটা হবে দেশের জন্য ভয়ংকর। এইতো কিছুদিন পূর্বেই বাংলাদেশে একটি কোম্পানী বাইক তৈরী করে বাজারজাত করে, দামে কম হওয়া অনেকেই সেই বাইক ক্রয় করে তবে ব্যবহারকারীরা সেটা ব্যবহার করতে যেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করার কারণে এক বছরের মধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়ে। একবার ভাবুন সরকার যদি অন্যান্য  বাইকের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে শুধু তাদের সুযোগ দিত তবে কি অবস্থা তৈরী হত!!?? লিফট যেহেতু মানুষ পরিবহন করে তাই এটার কোয়ালিটির বিষয়ে সক্ষমতা অর্জন জরুরী।

লিফট এসোসিয়েশনের প্রস্তাবনা গুলো ভেবে দেখবেন কি??

১) লিফট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য নিতীমালা প্রনয়ণ।

২) আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডের আলোকে বাংলাদেশ লিফট স্ট্যান্ডার্ড প্রনয়ণ।

৩) নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৈরী এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন।

৪) লিফট প্রস্তুত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য সহজ শর্তে জায়গার ব্যবস্থা করা।

৫) লিফট প্রস্তুত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য সহজ শর্তে মূলধনের ব্যবস্থা করা।

৬) উপরোক্ত প্রস্তুতি মূলক কার্য্য সম্পাদন করার পর লিফট প্রস্তুত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য নূন্যতম ৩ বছর সময় বেঁধে দেয়া।

৭) বাজেট পূর্ববর্তী সময়ে খোলা ঋণপত্র এবং উপরোক্ত কার্যক্রম সম্পাদন করার পূর্ব পর্যন্ত লিফটকে অত্যাবশ্যক ক্যাপিটাল মেশিনারী ক্যাটাগরীতে রাখা এবং পূর্বের শুল্ক হার ১১% শতাংশ বহাল রাখা।

৮) উপরোক্ত পন্থা অবলম্বন করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গুলো বিগত ৫০ বছর ধরে অর্জিত আমাদের সক্ষমতা ব্যবহার করে আমরা বাংলাদেশকে একটি টেকসই লিফট শিল্প উপহার দিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।

 

লিফট আমদানীতে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার চায় BEELIA

বর্তমানে দেশে আমদানি করা লিফটের ওপর এক শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য আছে। আগামী ২০২২–২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশি লিফটের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

আমদানি করা লিফটের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটরস অ্যান্ড লিফট ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (BEELIA)।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর শহরভিত্তিক উন্নয়নের পাশাপাশি ‘গ্রাম হবে শহর’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উন্নয়নের যে জোয়ার তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে গেলে বিল্ডিংয়ে ওঠানামায় লিফটের বিকল্প অন্য কোনো প্রযুক্তি নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান বাস্তবায়ন করতে গেলে ভোক্তাপর্য়ায়ে দামসহনীর রাখার জন্য আমদানিকৃত লিফটের ওপর অতিরিক্ত যে কর আরোপিত হতে যাচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে, সেটা হবে প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান পরিপন্থি পদক্ষেপ।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুন) প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় শিল্পের প্রসারের স্বার্থে এবং আমদানি নিরুৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে পণ্যটি (লিফট) মূলধনী যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন হতে প্রত্যাহার করে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপসহ সর্বমোট করভার ৩১ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করছি। ’

বর্তমান অবস্থায় অতিরিক্ত শুল্প আরোপের ফলে আমদানিকারকদের ওপর কগগুলো ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে বলে দাবি করেছে বিইইএলআইএ। সেগুলো হলো—
১. কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়, যার ফলশ্রুতিতে জাহাজ ভাড়া ৭-৮ গুণ বেড়ে যায়, যা এখন পর্যন্ত বিদ্যমান, ফলে সকল আমদানিকারক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।

২. বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় মূল্য ওঠানামা করার কারণে প্রতিটি লিফটের ওপর ১৮-২০% অতিরিক্ত মুল্যবৃদ্ধি হচ্ছে।

৩. বৈদেশিক মুদ্রার সংকট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আরোপিত এলসি খোলার মার্জিন ৫০-৭৫ শতাংশ হওয়ায় আমদানিকারকদের চলতি মূলধনের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

উপরোক্ত প্রভাবগুলোর ফলে ইতোমধ্যেই প্রতিটি লিফটের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, এ অবস্থায় যদি অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হয় তবে সেটা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাহিরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটরস অ্যান্ড লিফট ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশন।

দেশে এক দামে বিক্রি হবে ডলার

ডলার নিয়ে অস্থিরতা কমাতে নির্দিষ্ট দরে ডলার কেনাবেচা করতে সম্মত হয়েছে ব্যাংকগুলো, যা হবে আন্ত ব্যাংক বিনিময় হার। আন্ত ব্যাংকে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি দরে ডলার কেনাবেচা করার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর জন্য রবিবারের মধ্যে একক রেট নির্ধারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাবে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন করা সংগঠন বাফেদা ও ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক তা পর্যালোচনা করে আন্ত ব্যাংক ডলারের একক রেট নির্ধারণ করে দেবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এবিবি ও বাফেদার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান, এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন, অগ্রণী ব্যাংকের এমডি শামস-উল ইসলাম, ইসলামী ব্যাংকের এমডি মনিরুল মাওলা ও মধুমতি ব্যাংকের এমডি মো. সফিউল আজমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ‘ইউনিফর্ম রেটে ডলার কেনাবেচা করতে সম্মত হয়েছে ব্যাংকগুলো। ’ তিনি জানান, নির্ধারিত এ দর হবে আন্ত ব্যাংক বিনিময় দর। এ দরে রপ্তানি ও আমদানি বিল পরিশোধ করা হবে এবং ব্যাংকগুলো এ দরে ডলার কেনাবেচা করবে। তবে ব্যাংকগুলো নগদে ডলার বিক্রি বা কেনার ক্ষেত্রে নিজেরা দর নির্ধারণ করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে এক ব্যাংকের রপ্তানি বিল অন্য ব্যাংকের কাছে বিক্রি করা যাবে না। ডলারের সংকট মেটাতে প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এবিবি চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, ‘রবিবারের মধ্যে একক রেটের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানো হবে। আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি খুব শিগগিরই ডলারের সাময়িক যে চাপ হচ্ছে, সেটা সহনীয় হয়ে যাবে। ’

জানা গেছে, ডলারের আন্ত ব্যাংক দর ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা থাকলেও গত কয়েক দিনে অনেক ব্যাংক প্রবাসী ও রপ্তানিকারকদের থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত দরে ডলার কিনছে। আর আমদানিকারকদের কাছে বিক্রি করছে ৯৭ টাকা পর্যন্ত দরে। খোলাবাজারে ডলারের দর ৯৮ থেকে ৯৯ টাকা।

আমরা অনেক স্বাভাবিক অবস্থায় আছি : অর্থমন্ত্রী

গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের ফরেন রিজার্ভ ভালো। এখনো ফরেন রিজার্ভে আশপাশের দেশের তুলনায় আমরা অনেক স্বাভাবিক অবস্থায় আছি। ’

চীনকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান অস্ট্রেলিয়ার

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় এসেছেন অ্যান্থনি আলবানিজ। চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করতে চীন সরকারকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। খবর এপি।

দুই বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অ্যান্থনি আলবানিজ। নতুন অস্ট্রেলিয়া সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করতে প্রস্তুত চীন। যদিও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতির জন্য চীনের দিকে আঙুল তুলেছেন অ্যান্থনি আলবানিজ। অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়া নয়, বরং ২০১৩ সালে মধ্যবামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসার পর চীনে পরিবর্তন এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকশ কোটি ডলার মূল্যের অস্ট্রেলীয় পণ্যের রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে কয়লা, বার্লি, গরুর মাংস ও সামুদ্রিক খাদ্যসহ আরো কয়েকটি পণ্য।

সম্প্রতি টোকিও সামিটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চীনই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এজন্য যথার্থ কোনো কারণও চীনের কাছে নেই। তাই তাদের এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া প্রয়োজন।

এদিকে চীনকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানান অস্ট্রেলিয়ার অর্থমন্ত্রী জিম চালমার্সও। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই চাই অস্ট্রেলিয়ার ওপর সব নিষেধাজ্ঞা ও আরোপিত কর তুলে নেয়া হোক। এতে আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের কয়েকজন নিয়োগকর্তা ও কর্মীর জন্য তা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

এদিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব ঠেকাতে ফিজিতে সফরে যাওয়ার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে অসম্মতি প্রকাশ করেছে পেনি ওংয়ের অফিস।

টোকিও সামিট শেষে অস্ট্রেলিয়া ফেরার আগে অ্যান্থনি আলবানিজ নির্বাচনে জেতার জন্য ভোটারদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি সবসময় সততার সঙ্গে কাজ করব। আমাদের বন্ধু, অংশীদার ও অন্য নেতাদের সঙ্গে কাজ করার সময় সততা বজায় রাখার চেষ্টা করব। এর আগে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে এক বক্তব্যে অন্যান্য দেশের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক খারাপ হওয়ার জন্য তিনি পূর্বসূরি স্কট মরিসনকে দায়ী করেন। পাশাপাশি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর ব্যক্তিগত টেক্সট ম্যাসেজ গণমাধ্যমে ফাঁস করার জন্যও স্কট মরিসনকে দোষারোপ করেন সদ্য নির্বাচিত অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সতর্কতা

কভিডজনিত প্রতিবন্ধকতায় বিপর্যস্ত হয় বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন। রেকর্ড সর্বোচ্চ পরিবহন ব্যয়ে মহামারীর শুরু থেকেই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। এ বাধা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয় ইউক্রেন যুদ্ধ। অস্থিরতা দেখা দেয় জ্বালানি বাজারে। এ কারণে জ্বালানির পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান রয়েছে খাদ্য ও সারের দামও। এ অবস্থায় বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। বৈশ্বিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ডেভিড ম্যালপাস একটি ব্যবসায়িক ইভেন্টে বলেন, আমরা কীভাবে মন্দা এড়াতে পারি তা পর্যালোচনা করাও কঠিন হয়ে উঠছে। খবর বিবিসি।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন খাদ্য, জ্বালানি ও সারের দাম ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে চীনে কভিডজনিত লকডাউন উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দায় পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।

বিশ্ব অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে এমন ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে এ সতর্কবার্তা জানালেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান। এর আগে গত সপ্তাহে ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স (আইআইএফ) চীন বাদে অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতি মন্দার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করে।

ডেভিড ম্যালপাস বলেন, আমরা যদি বৈশ্বিক জিডিপির দিকে তাকাই, তবে আমরা মন্দার ঝুঁকি দেখতে পাব। বর্তমানে মন্দা এড়ানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। জ্বালানির দাম দ্বিগুণ করার ধারণাটিই মন্দা শুরু করার জন্য যথেষ্ট।

গত মাসে বিশ্বব্যাংক চলতি বছরের জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ করেছে। মোট দেশজ উৎপাদন কিংবা জিডিপি অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির একটি পরিমাপক। এটি অর্থনীতি কতটা ভালো কিংবা খারাপ তা পরিমাপ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলোর একটি। এজন্য অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো জিডিপির তথ্য-উপাত্ত ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে। জিডিপির পরিসংখ্যান ব্যবসাগুলোকে পর্যালোচনা করতে সহায়তা করে যে কখন কার্যক্রম প্রসারিত ও আরো বেশি কর্মী নিয়োগ কিংবা কখন কার্যক্রম সংকুচিত ও কর্মী কমাতে হবে। সরকারগুলোও কর ও ব্যয় থেকে শুরু করে অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করে। সুদের হার বাড়াতে কিংবা কমাতে হবে কিনা তা বিবেচনা করার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য মূল্যস্ফীতির সঙ্গে জিডিপির তথ্য একটি মূল পরিমাপক।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউরোপের অনেক দেশ এখনো জ্বালানি তেল ও গ্যাসের জন্য রাশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যদিও পশ্চিমা দেশগুলো রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় দেশগুলো মন্দায় পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

ইউএস চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল ইভেন্টে তিনি রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ কমানোর পদক্ষেপ এ অঞ্চলে মন্দা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেন। ডেভিড ম্যালপাস বলেন, উচ্চজ্বালানির দাম এরই মধ্যে জার্মান অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। ইউরোপের বৃহত্তম এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এ অর্থনীতিতে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বিশ্বব্যাংক প্রধানের মতে, সার, খাদ্য ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি চীনে লকডাউন বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, চীনের লকডাউনের কারণে সাংহাইয়ের আর্থিক, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে স্থবিরতা তৈরি করেছিল। এ কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনো ধীরগতির প্রভাব রয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির রিয়েল এস্টেট খাত সংকোচনের মুখোমুখি হয়েছে। তাছাড়া ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের আগেই চীনের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস যথেষ্ট দুর্বল হয়েছিল। সর্বশেষ লকডাউন চীনের প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশাকে আরো কমিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব তো আছেই।

ক্লিয়ারওয়ের অর্ধেক অংশীদারত্ব কিনছে টোটালএনার্জি

ক্লিয়ারওয়ের ৫০ শতাংশ মালিকানা কেনার ঘোষণা দিয়েছে টোটালএনার্জি। যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থাটির অর্ধেক অধিগ্রহণের মাধ্যমে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে টোটাল। খবর রয়টার্স।

কয়েক বছর ধরেই ফরাসি জ্বালানি জায়ান্ট দ্রুত বর্ধনশীল নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মনোযোগ দিয়েছে। হাইড্রোকার্বন-কেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবসা বহুমুখী করে তুলছে। টোটালএনার্জি জানিয়েছে, এ অধিগ্রহণের মাধ্যমে সংস্থাটি গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার পার্টনারসের (জিআইপি) সঙ্গে দলবদ্ধ হবে। ক্লিয়ারওয়েতে সংস্থাটির বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। এজন্য এ চুক্তির আওতায় জিআইপি ১৬০ কোটি ডলারের নগদ অর্থ পাবে।

টোটালএনার্জির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাট্রিক পুইয়ান বলেন, এ অধিগ্রহণের মাধ্যমে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাব। বিশ্বের অন্যতম গতিশীল বাজার এবং পরিচালন সম্পদ আমাদের কার্যক্রম বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি আমাদের ২৫ গিগাওয়াটের উচ্চমানের পাইপলাইন, বায়ু, সৌরবিদ্যুৎ ও স্টোরেজ এবং ৩৪টি অঙ্গরাজ্যসহ বিস্তৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে উপস্থিতি বাড়াবে।

বর্তমানে ক্লিয়ারওয়ের ৭ দশমিক ৭ গিগাওয়াট ক্ষমতার বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটির নবায়নযোগ্য জ্বালানির ২৫ গিগাওয়াটের পাইপলাইন ও সংরক্ষণ সম্পদ রয়েছে। গত মাসে টোটালএনার্জি প্রথম প্রান্তিকের শক্তিশালী মুনাফার ফলাফল প্রকাশ করে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসের উচ্চ দাম এ সময়ে সংস্থাটিকে বড় অংকের মুনাফা পেতে সহায়তা করেছে। এ সময়ে টোটালের আয় ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৮৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে সংস্থাটির পরিচালন মুনাফা শেয়ারপ্রতি ৩ ডলার ৪০ সেন্টে পৌঁছে।