শিশুদের সর্দি, ঠাণ্ডা, হালকা জ্বরের লক্ষণে করণীয়

শীতকালে শিশুসন্তান কিংবা তাদের পিতা-মাতা সর্দি, জ্বরের মতো অসুস্থতাকে এতদিন নিশ্চয় গুরুতর কিছু বলে বিবেচনা করেননি। শীতকাল আসতেই অনেকের ঠাণ্ডা লাগে, সর্দি-জ্বর হয় এবং তা দ্রুত সেরেও যায়। কাশি ও কফও এ ঋতুর সাধারণ অসুস্থতা। তবে যা-ই হোক সেগুলো নিয়ে সাধারণভাবে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ছিল না। তবে এটা কভিড-১৯ মহামারীর আগেকার কথা। পরিস্থিতি এখন একেবারেই ভিন্ন।

এবারের শীতে কাশি, হালকা জ্বর, সর্দি গুরুতর পরিস্থিতির লক্ষণ হতে পারে। পিতা-মাতা আতঙ্কিত হবেন, কারণ তাদের জানা নেই লক্ষণগুলো সাধারণ ঠাণ্ডা, ফ্লু নাকি কভিড-১৯। এ রকম লক্ষণ দেখা দিলে কি শিশুদের কভিড পরীক্ষা করাতে হবে? করতে হলে কখন? আর যদি শিশুদের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে তাহলে পিতা-মাতা ও সন্তানদের কতদিন আইসোলেশনে থাকতে হবে?

কভিড-১৯ ও সাধারণ জ্বর-ঠাণ্ডার লক্ষণগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা সহজ নয়। শিশুদের কভিডের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। এছাড়া অন্যান্য সাধারণ লক্ষণ তো থাকেই। লক্ষণ থাকলেই শিশুটি কভিডে আক্রান্ত নাও হতে পারে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এ রকম অসুস্থতার ক্ষেত্রে শিশুদের অবশ্যই বাসায় আইসোলেশনে রাখতে হবে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সংক্রামক রোগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ইভোনে ম্যালডোনাডো এমনটাই মনে করেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুহার বেশ কম। তার পরও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণটা পরোক্ষ। শিশুরা আক্রান্ত হলে তারা ঘরের বয়স্কদের আক্রান্ত করতে পারে এবং সেটাই উদ্বেগের। কোনো আক্রান্ত শিশুর ঘরে যদি তার বৃদ্ধ দাদা-দাদি থাকে তাহলে সেটা তাদের জন্য ভয়ানক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। তাই শিশুদের ঠাণ্ডাজনিত যেকোনো লক্ষণ নিয়ে সতর্ক হতে হবে।

ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের অধ্যাপক ও শিশুদের সংক্রামক রোগবিষয়ক গবেষক মার্গারেট ফিশার মনে করেন শিশু কোন পরিবেশে ও সম্প্রদায়ের মাঝে বাস করছে সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। যদি এমন হয় যে শিশুটি করোনা সংক্রমিত কারো সংস্পর্শে আসেনি এবং আশপাশের এলাকা প্রায় করোনামুক্ত তাহলে সাধারণ ঠাণ্ডায় তাদের কভিড পরীক্ষা না করালেও হবে। কিন্তু যদি এমন হয় শিশুর বসবাসের এলাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন সংক্রমণের কেস পাওয়া যাচ্ছে তাহলে ঠাণ্ডা বা অ্যালার্জিজনিত লক্ষণ থাকলে শিশুটিকে কভিডের পরীক্ষা করাতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়ার মতো বিষয়ে। তারা মনে করেন দুই বছরের বেশি বয়সী যেকোনো শিশুরই মাস্ক ব্যবহার করা প্রয়োজন। মাস্ক ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুরা যেমন নিরাপদ থাকবে, তেমনি তাদের পরিবারের বয়স্ক সদস্যরাও ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারবেন।

স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন

প্রাথমিকে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি আসছে

চলতি সপ্তাহে প্রকাশ হতে পারে প্রাথমিকে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি। ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত করে সেটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে যেটি ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশ হতে পারে বলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, সারাদেশে ২৫ হাজার ৬৩০ জন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক এবং ৬ হাজার ৯৪৭ শূন্যপদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে ওয়েবসাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, এবার প্রার্থীর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারী নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক (সম্মান), স্নাতক (পাস) বা সমমান ডিগ্রি করা হয়েছে।

গত বছর অনলাইন আবেদন ফি ১৬৬ টাকা হলেও এবার কিছুটা বাড়ানো হচ্ছে। বুয়েট ও টেলিটক মোবাইল কোম্পানির সহায়তায় আবেদন গ্রহণ, কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পাঠানো, খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ করা হবে। সুত্র: বাংলা

চমক হাসান
একজন অঙ্ক ভাইয়ার গল্প!

গণিতে পঞ্চাশ পাওয়ায় এক শিক্ষক তাকে বলেছিলেন, ‘তুই তো অঙ্ক পারিস না, আর্টস বা কমার্স নে, ভালো করবি।’ একটা জেদ চেপে গিয়েছিল ছেলেটার মনের ভেতরে, গণিতের ভয়কে জয় করার জেদ…

অঙ্কে খুব একটা ভালো ছিল না ছেলেটা। ক্লাস এইট থেকে নাইনে ওঠার সময় এক শিক্ষক তাকে বললেন, ‘তুই তো অঙ্কে কাঁচা, তোর সায়েন্স পড়ার দরকার নেই, বরং আর্টস বা কমার্স নে, ভালো করবি।’ ছেলেটার স্বপ্নজুড়ে ছিল সে সায়েন্সে পড়বে, বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানবে। শিক্ষকের এই পরামর্শটা খুব গায়ে লাগলো তার। জেদ চেপে গেল, অঙ্ককে বশে আনতেই হবে। তীর ছোঁড়ার জন্যে ধনুকে তীর গেঁথে যেমন পেছনের দিকে টান দিয়ে ধরতে হয়, সেরকম ছেলেটাও নিজেকে পিছিয়ে নিয়ে গেল। ক্লাস সিক্স-সেভেনের বইগুলো দিয়ে আবার সে শুরু করলো ‘মিশন অঙ্ক’। মাঝে অনেককিছুই ঘটে গেছে, সেই গল্পগুলো একটু পরে বলছি। তার আগে বর্তমান পরিচয়টা জানিয়ে দেই। সেই ছেলেটাকে আমরা এখন চমক হাসান নামে চিনি, অনেকের কাছেই যার আরেক না ‘অঙ্ক ভাইয়া’!

হ্যাঁ, অলরাউন্ডার চমক হাসানের কথাই বলছি, গণিতকে ভয়ের জায়গা থেকে সরিয়ে আনন্দের একটা বিষয়ে পরিণত করার জন্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন যে মানুষটি। অনেকেই তাকে গণিত শিক্ষক হিসেবে চেনে, চমক হাসান কিন্ত এই পরিচয়টা একদমই পছন্দ করেন না। তিনি গনিতের আনন্দ ছড়িয়ে বেড়ান, অঙ্ক জিনিসটা যে মোটেও ভয়ের কিছু নয়, বরং দারুণ মজার জিনিস- সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। আর সেজন্যেই ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে ‘গণিতের রঙ্গ’ বা ‘চটপট গণিত’ নামের সিরিজ বানান, ‘ডিজে পিথাগোরাস’ টাইটেলের র‍্যাপ গান গেয়ে ফেলেন, যেটার কথা ও সুর আবার তারই!

গণিত বিষয়টা চমক হাসানের কাছেও একটা সময়ে ভয়ের নামই ছিল। ক্লাস নাইনের ওই ঘটনার পরে তিনি আদাজল খেয়ে নামলেন সেই ভয়কে জয় করার জন্যে। বুয়েটে ভর্তি হবার পরে গণিত অলিম্পিয়াডের সঙ্গে যুক্ত হলেন, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সংস্পর্শে এলেন। অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা ক্যাম্প করা হয়েছিল যেখানে গণিতের একটা অংশ শেখানোর দায়িত্ব পান তিনি৷ সেই থেকে শুরু৷

বুয়েটের পড়ালেখা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্যে তিনি চলে গেলেন আমেরিকায়। কিন্ত যে কাজটা তাকে আনন্দ দিতো, তাকে উৎফুল্ল রাখতো, সেটাকে ভীষণ মিস করা শুরু করলেন তিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আসার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিলেন ইউটিউবকে। ২০১২ সালের কথা সেটা। ইউটিউবে গণিতের ওপরে ভিডিও বানিয়ে আপলোড দিতে থাকলেন চমক হাসান, শুরু করলেন ‘গণিতের রঙ্গে’ সিরিজটা দিয়ে। আমাদের স্কুল-কলেজগুলোতে যেভাবে গণিতটা পড়ানো হয়, সেটা উপভোগ্য কখনোই হয়ে ওঠে না। বরং গণিতের প্রতি একটা বিবমিষা জন্ম নেয়। একারণেই অসংখ্য শিক্ষার্থী অঙ্ক না বুঝে শুধু ফর্মূলাটা মুখস্ত করারও চেষ্টা করে। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষকও এই জায়গাটায় ভীষণ উদাসীন, গণিতের মধ্যে যে দারুণ মজা লুকিয়ে থাকতে পারে, সেটা তারা আমাদের কখনও জানাননি। কে জানে, হয়তো তারা নিজেরাও জানেন না গণিতের এই রস সম্পর্কে!

চমক হাসান গণিতের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই ‘মজার’ সন্ধান দিতে নামলেন। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লো তার ইউটিউব চ্যানেল, তার বানানো ভিডিওগুলোর ভিউ বাড়তে থাকলো। সেসব ভিডিওতে গল্পের ছলে তিনি অঙ্কভীতি দূর করার চেষ্টা করেছেন, হাতে ধরে সহজ ভাষায় বুঝিয়েছেন জ্যামিতি, ক্যালকুলাস কিংবা শূন্যের ইতিবৃত্ত- সবকিছুই সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি সেসব ভিডিওতে। ছাত্র-ছাত্রীরাও অন্যরকম এক শিক্ষকের দেখা পেয়ে লুফে নিলো তাকে। এই শিক্ষক বকা দেন না, বেতের বাড়ির ভয় দেখান না, একটু অন্য নিয়মে অঙ্ক করলে কেটে ‘জিরো’ বসিয়ে দেন না- তার ওপরে ভীষণ মজা করে কথা বলেন, অঙ্ক নিয়ে গানও শোনান- তাকে ভালো না বেসে উপায় আছে?

গত ছয় বছর ধরে চমক হাসান তার ইউটিউব চ্যানেলে অঙ্ক নিয়ে অজস্র ভিডিও বানিয়েছেন, সেগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সমাদৃতও হয়েছে দারুণভাবে। তবে শুধু অঙ্কই নয়, আরও অনেক অনেক জায়গায় তিনি দারুণ পারদর্শী। তার গানের গলা চমৎকার, বুয়েটে পড়ার সময়ে ‘সুয়া চান পাখি’ গানটা কোন শিল্পী গাইলে কেমন হতো, সেটাই বন্ধুদের দেখিয়েছিলেন মজা করে। কোন এক বন্ধু সেটা ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করে দিয়েছিলেন, সেটাও অনেক আগের কথা। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল, যারাই দেখেছেন, চমকের গায়কী এবং অভিব্যক্তি দেখে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেয়েছেন নিশ্চিত!

গণিত অলিম্পিয়াডের যে থিম সং, সেটা তার লেখা। ‘মন মেলে শোন, শুনতে পাবি…’ শিরোনামের সেই গানটা প্রতিটা গণিত উৎসবেই গাওয়া হয়। এর বাইরেও তিনি নিজের লেখা গানে সুর করে গেয়েছেন। কিছুদিন আগেও ‘সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে’ শিরোনামের একটা গান গেয়েছিলেন, দেশ থেকে অনেক দূরে থাকার কষ্টটা ফুটিয়ে তুলেছিলেন সেই গানে। ডিজে পিথাগোরাস নামের একটা র‍্যাপ গানও বানিয়েছেন কিছুদিন আগে। যে পিথাগোরাসের উপপাদ্য ছিল আমাদের কাছে আতঙ্ক, সেই পিথাগোরাস আর তার উপপাদ্যকেই হাসির ছলে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন চমক হাসান।

গণিতের নাম শুনে যাতে কেউ ভয় না পায়, সেটাই চমক হাসানের মিশন
যে ভালো রাঁধে, সে নাকি চুলও বাঁধে। এত গুণ যে মানুষটার, তিনি আবার দারুণ লেখেনও। বেশ কয়েকটি বই বেরিয়েছে তার, হাসিখুশী গণিত নামের একটা বই আছে তার, ‘গল্পে গল্পে জেনেটিক্স’ নামেও একটা বই লিখেছেন তিনি। সবশেষ বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে চমক হাসানের নতুন বই- ‘নিমিখ পানে: ক্যালকুলাসের পথে পরিভ্রমন’। আমাদের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ক্যালকুলাস কিভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, সেটাই তিনি বলেছেন এই বইতে।

তড়িৎকৌশলের ওপরে পিএইচডি করা চমক হাসান এখন ‘বোস্টন সায়েন্টিফিকে’ কাজ করছেন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকৌশলী হিসেবে। বাংলাদেশেও এখন দারুণ জনপ্রিয় তিনি, ঢাকার রাস্তায় অনেকেই দেখলে চিনতে পারেন তাকে, সেলফি তুলতে চান। দেশে ফিরে কিছু করবেন, সেই ইচ্ছেটা তার অনেকদিনের। চমক হাসান বলছিলেন-

“আমার ইচ্ছে আছে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর, নিজের গবেষণা ক্ষেত্রটাকে এগিয়ে নেওয়ার। এর সাথে গণিত ও বিজ্ঞানের উপর বই লেখা, ভিডিও করা চালিয়ে যাব। গণিত-বিজ্ঞান নিয়ে গণমাধ্যমে অনুষ্ঠান করারও পরিকল্পনা আছে। গণিত আর বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসাকে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলগুলোতে পৌঁছে দিতে চাই। একটা সুস্পষ্ট রূপরেখা দাঁড়া করাতে চাই যেন, ৪৮৮ টি উপজেলায় ৪৮৮ টা গণিত ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা যায়, এরপর সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে মানুষের কাছে গণিত আর বিজ্ঞানের আনন্দ তুলে ধরা যায়।”

অঙ্ক জিনিসটা যে এত মজার হতে পারে, সেটা আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের অনেকেই হয়তো জানতেও পারতেন না, যদি চমক হাসান না থাকতেন। দেশে ফিরে তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ করার যে স্বপ্নটা তিনি দেখছেন, সেটা পূরণ হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অঙ্কভীতি দূর হতে সময় লাগবে না খুব বেশি। সেই ভীতি দূর করার জন্যে একজন ‘অঙ্ক ভাইয়া’ তো আছেন! সুত্র: এগিয়ে চলো

প্রাথমিকের সব শিক্ষক পাবেন ১৩তম গ্রেড

তুন ও পুরাতন বিধিমালায় নিয়োগ পাওয়া সব সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে বেতন পাবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সব শিক্ষককে ১৩তম গ্রেডে বেতন দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতেও অর্থ মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে এ নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ স্মারকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ১১ অক্টোবর অর্থসচিবের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধি জারি হওয়ার আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩ এর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠাতে চিঠিতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৪ (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং বেতন গ্রেড-১৫ (প্রশিক্ষণবিহীন) থেকে গ্রেড-১৩ তে উন্নীত করা হয়। কিন্তু অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্রের বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯ এর যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে।

এদিকে, ২০১৯ সালের বিধিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক পাস নির্ধারণ করা হয়। তবে, এ বিধিমালা কার্যকর হওয়ার আগে অনেক শিক্ষক এইচএসসি নিয়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮৩’ তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৯১’তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩’তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এইচএসসি এবং পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্নাতক।

অর্থ সচিবকে পাঠানো চিঠিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সব শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কাজেই আগের বিধিমালার আওতায় নিয়োগপ্রাপ্ত সকল সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে বেতন পেতে পারেন বলে এ মন্ত্রণালয় মনে করে।

এছাড়া ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধিমালা জারির পরে ২০১৩ সালের নিয়োগ বিধিমালা রহিত হবে। রহিতকরণ সত্ত্বেও ওই বিধিমালার অধীন যেসব কার্যক্রম নিষ্পন্ন হয়েছে তা এ বিধিমালার অধীন সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে। এজন্য ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধি জারি হওয়ার আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যারা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩ এর সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠাতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত
‘ফেক নিউজ’ মোকাবেলায় প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকদের কৌশল

বিভ্রান্তিকর বিবৃতি যাচাইয়ে টুইটার সম্প্রতি ফ্যাক্ট-চেকিং অপশন সংযোজন করেছে। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ বেঁধেছে এবং অপপ্রচারের বিষয়টিও সামনে এনেছে। টুইটার ও ট্রাম্পের মধ্যকার এ বিরোধ প্রযুক্তিগত অগ্রসরতার নেতিবাচক ফল মনে হলেও এটি আদৌ কোনো নতুন বিষয় নয়। প্রাচীন গ্রিসেও সত্য, জ্ঞান ও গণতন্ত্র সম্পর্কে নিজস্ব কঠিন কঠিন বিতর্কের চল ছিল। আজকে প্রাচীন দার্শনিকরা বেঁচে থাকলে বলতেন, এটি কেবলই টুইট নিয়ে ঝগড়া নয়, বরং সত্যের মূল্য দেয়া সমাজে বাস করতে মৌলিক পছন্দ তৈরিবিষয়ক আমাদের প্রশ্নের মুখোমুখি করা একটি মুহূর্তও বটে। এ প্রশ্নের এথেনীয় অ্যাপ্রোচ প্রশ্নহীন ও অমূল্যায়িত অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য কীভাবে খোদ গণতন্ত্রকেই নাজুক করতে পারে, তা দেখায়।

এ ‍যুগের ‘ফেক নিউজ’ বা ‘ভুয়া সংবাদের’ বেশ আগেই সত্য সম্পর্কে গ্রিকদের চমকপ্রদ ও প্রাণবন্ত কিছু ধারণা ছিল। সক্রেটিস বলেছিলেন, পরম সত্য (সোফিয়া) জ্ঞেয় বা জানা সম্ভব এবং কেবল সত্য সম্পর্কে পারস্পরিক যোগাযোগ বিনিময়টাই সর্বোত্তম। তার ছাত্র ও উত্তরসূরী প্লেটো আরো অগ্রসর হয়ে বলেছিলেন, দ্বান্দ্বিকতার (ডায়ালেকটিক) মাধ্যমে যেকেউ সত্যে পৌঁছতে পারে, যা প্রশ্ন করা এবং নিরীক্ষণের একটি পদ্ধতিকেই বোঝায়। সক্রেটিস ও প্লেটো উভয়ই প্রস্তাব করেছিলেন যে, প্রজ্ঞা সম্পূর্ণরূপে কেবল ‘সত্য’ ধারণেই নয়, বরং দুর্ভাগ্যক্রমে সেই সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে সজাগ থাকার মধ্যেও নিহিত।

গণতান্ত্রিক এথেন্সের একজন মহান দার্শনিক হিসেবে আমরা প্লেটোকে এখনো স্মরণ করি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি গণতন্ত্রের অনুরাগী ছিলেন না। কারণ তিনি মনে করতেন দ্বান্দ্বিকতার মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষই সত্যে পৌঁছাতে পারে না, কেউ কেউ পারে। তিনি দক্ষ বাগ্মিতা তথা রেটরিক নিয়েও ততটা ভাবিত ছিলেন না। তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে সত্যের জ্ঞান ছাড়া মানুষ শ্রোতাদের প্রভাবিত করতে ম্যানিপুলেশন ও ‘বেজ রেটরিক’ ব্যবহার করবে, যারা পার্থক্যগুলো ঠিক ধরতে পারে না।

এসব কারণে প্লেটো বিশেষত সোফিস্ট নামে পরিচিত বক্তৃতার কলাকৌশল শেখানো শিক্ষকদের ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন গর্জিয়াসের মতো গ্রিক বক্তৃতা বিশারদ। এরা ছিলেন স্বঘোষিত জ্ঞানী লোক, যারা অর্থের বিনিময়ে অভিজাতদের নৈতিকতা ও বক্তৃতাদান সম্পর্কে শেখাত। প্লেটোর দৃষ্টিকোণ থেকে সোফিস্টরা নিজের মক্কেলদের মন জয় করতে চতুর ভাষিক কৌশল ব্যবহার করত, কিন্তু সত্যানুসন্ধান মোটেই এগিয়ে নিত না। প্লেটো মনে করতেন, সোফিস্টরা নিজেরাও সত্য জানতেন না এবং তারা যাদের শেখাতেন, তারাও তা জানত না।

প্লেটোর সমালোচনার মধ্যে কিছু সত্যতা ছিল বটে, তবে বৃহত্তর অর্থে তিনি সঠিক ছিলেন না, পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। নিজেদের দুর্বলতা সত্ত্বেও সোফিস্টরা একটি কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অত্যাবশ্যকীয় অংশীজন (প্লেয়ার) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিলেন। কেন? কারণ বেশিরভাগ রাজনৈতিক সমস্যা প্লেটোর দ্বান্দ্বিকতায় সমাধান সম্ভব হয়নি। এর মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসেনি, কিংবা এলেও তা সহজ ছিল না। কাজেই সোফিস্টরা গণতন্ত্র চর্চার প্রয়োজনীয় দক্ষতা রপ্ত করেছিলেন। আর তা হলো, কীভাবে সত্য সম্পর্কে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হয়, তার উপায় শেখা। কীভাবে শক্তিশালী যুক্তি তৈরি করতে হয়, নিজেদের পক্ষে শ্রোতাদের কীভাবে টানতে হয় এবং কীভাবে রুক্ষ্ণ-বিরোধপূর্ণ সমস্যা সমাধান করতে হয়, সেটি তারা মানুষকে শেখাতেন।

অন্যদিকে প্লেটোর দার্শনিক সত্য সন্ধানের বিপরীতে সোফিস্টদের লক্ষ্য ছিল ব্যবহারিক সত্য উদঘাটন (ফ্রনেসিস)। পাল্টা বয়ানগুলোর সপক্ষে তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে কীভাবে শক্তিশালী যুক্তি তৈরি করতে হয়, তারা তা শেখাত। সক্রেটিসের পরম জ্ঞেয় সত্য সন্ধানের বিপরীতে সোফিস্টরা সত্যকে ‘বিচিত্র মতামতের একটি জনগোষ্ঠীর নিজ বিশ্বাসের প্রতি একে অন্যকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা’ হিসেবে দেখতেন।

অবশ্যই হ্যাঁ, পরম সত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ব্যবহারিক সত্যকে (ফ্রনেসিস) অস্পষ্ট ও ধাঁধাময় মনে হয়। যখন শোনেন যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর যুক্তি তৈরির সমার্থক হিসেবে আজকেও মানুষ ‘কুতর্ক’ শব্দটি ব্যবহার করে; তখন মনে হবে যেন কালের পরিক্রমায় খোদ প্লেটোই আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন।

কাজেই আজকের দিনের অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য কি নিছকই কূটতর্ক? সম্পূর্ণ নয়। আমাদের গণতন্ত্র আসলে আধুনিক সোফিস্টদের সাদরে গ্রহণ করে, তাদের মূল্য দেয়। প্রাচীন গ্রিকদের মানদণ্ডে আজকের অধ্যাপক ও আইনজীবীরা দার্শনিকদের চেয়ে সোফিস্টদের মতো বেশি বিবেচিত হবেন। অধ্যাপকেরা তাদের বিশেষায়িত শাস্ত্রে সাক্ষ্য-সাবুদের নিজস্ব ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকেন। আর নিজেদের মক্কেলদের পক্ষে সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক যুক্তি তুলে ধরতে আইনজীবীরা ন্যায়শাস্ত্র ও বাগ্মিতার দক্ষতা কাজে লাগান। (এবং প্রাচীন সোফিস্টদের মতো উভয়ই নিজেদের প্রচেষ্টার জন্য অর্থ গ্রহণ করেন)।

প্লেটোর যেকোনো পরম ভক্তকে মোকাবেলা করতে হলে আমাদের অবশ্যই অধ্যাপক ও আইনজীবী উভয়েরই সত্য সন্ধানের ওপর সমান জোর দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষগুলোয় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশ্ন করে এবং যুক্তি দিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করতে উৎসাহিত হয়। (আইনের অধ্যাপকেরা আসলে সক্রেটেসীয় পদ্ধতিতে পড়ায়!) আদালত কক্ষগুলোয় সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে নিরীক্ষা করা হয়, যাচাই করা হয় এবং জুরিদের ক্ষেত্রেও (তাদের বাছাই করা হয়, কারণ তারা ট্যাবুলা রাসা- ফাঁকা স্লেট) আশা করা হয় যে পাল্টামুখী পক্ষ-বক্তব্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মিথ্যাটা বোঝার চেষ্টার মাধ্যমে তারা সত্যে পৌঁছবেন।

আমেরিকা এরিস্টটলের আদৃত গণতন্ত্রের ভার্সনই সংহত করে, যা প্লেটো এবং সোফিয়েস্টদের মধ্যকার সবচেয়ে ভালো বিষয়গুলোরই সম্মিলন ঘটায়। এরিস্টটল ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, রেটরিক হলো (ফ্রনেসিস) ডায়ালেকটিকের (সোফিয়া) কাউন্টারপার্ট। সত্যানুসন্ধানের উভয় পদ্ধতি রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধান এবং সত্যে পৌঁছানোর জন্য জরুরি।

তবে সমস্যা হলো যে অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্য এসব মডেলের বাইরে লুকিয়ে থাকে। আমরা অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্যের সম্মুখীন হলে প্রায়ই দেখি যে এর উৎপত্তি, যেকোনো ফলাফলে পৌঁছাতে এক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদ্ধতি সাধারণত অস্পষ্ট থাকে। অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্য অকাট্য যুক্তি যেমন হাজির করে না, তেমনি তা কঠোর নিরীক্ষণও উৎসাহিত করে না। উল্লিখিত দুটি বিষয় সম্মতিবিহীন প্ররোচনা বৈ কিছু নয়। প্রকৃতপক্ষে, তথ্যের নতুন ভার্সন প্রদান করে এর মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বা বিষয় লুকোনোর চেষ্টা করা হয়। যোগাযোগের এসব ধরন যুক্তির বিপরীতে প্রভাবভিত্তিক (ম্যানিউপুলেশন-বেজড) একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করে থাকে। অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্য একটি জগৎ সৃষ্টি করে, সত্য সন্ধানের একটি সম্মিলিত প্রয়াসের বিপরীতে যেখানে অবিশ্বাসকে বিশ্বাসঘাতকতা গণ্য করা হয়।

মোটা দাগে বলা যায়, অপপ্রচারের লক্ষ্য প্ররোচনা নয়, বরং এর লক্ষ্য হলো কমপ্লায়্যান্স নিশ্চিত করা। এটি সোফিয়া বা ফ্রনেসিস কোনোটাই কাজে লাগায় না। সেজন্য এটি কর্তৃত্ববাদীদের প্রিয় একটি যোগাযোগের ধরন। সত্যের অন্য সব দাবি প্রত্যাখ্যান করে আমরা যা বিশ্বাস করি এটি কেবলই তা দাবি করে। কোনো দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি ব্যবহারের পরিবর্তে সত্যানুসন্ধানের কিছু গোপন প্রক্রিয়া দাবিপূর্বক এটি পরম সত্যের অস্তিত্ব স্বীকার করার মতো একটি বিষয়। কোনো সাক্ষ্য-যুক্তি উপস্থাপন ছাড়া কোনো কিছুকে ‘ভুয়া সংবাদ’ হিসেবে অভিযুক্ত করা নিজেই ভ্রমাত্মক। জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ উপন্যাসের ভাষায় এটি ‘স্বীয় চোখ-কানের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করার’ সমতুল্য। ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থাপিত মিথ্যা তথ্যে নিহিত আনুগত্যের পরোক্ষ আকাঙ্ক্ষা গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক। যখনই সত্য অনুসন্ধান করার অঙ্গীকার করছি এবং এটি আবিষ্কারের পদ্ধতি সম্পর্কে সম্মত হচ্ছি, তখনই আমরা গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক ভিতের মৌলনীতিগুলো নির্ধারণ করে চলছি। এই সম্মিলিত মূল্য ও বিশ্বাস আমাদের কেবল সামষ্টিক সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করে না, উপরন্তু এমন এক বন্ধনে আবদ্ধ করে যা আমাদের সমাজের ঐক্যতান ধরে রাখে। যার ফলে সরকারগুলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হলে কিংবা কোনো নীতি প্রণয়ন করলে আমরা সহজেই তার সঙ্গে ভিন্নমতও পোষণ করতে পারি।

কাজেই ট্রাম্পের টুইটে টুইটার যখন তথ্যজুড়ে দেয়ার চেষ্টা করে, তখন প্রতিষ্ঠানটি খুব পুরনো ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিই ব্যবহার করছে, যা আমাদের প্রাচীন গ্রিকদের কাছে নিয়ে যায়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্য অনুসন্ধান ও তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে আমাদের নিজেদের এবং ফেলো নাগরিকদের একটি দায়িত্ব রয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, সম্মিলিত মূল্যবোধ ও উচ্চতর মূলনীতির প্রতি অনুগত হতে আমাদের উৎসাহিত করে।

তবে ন্যায্য যুক্তি ও সত্য উন্মোচনের বিপরীতে সিদ্ধান্তগ্রহণ পক্ষাবলম্বনভিত্তিক হলে উল্লিখিত মৌলনীতিগুলো ব্যাহত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্যক্তি বা কোনো দলীয় সম্পর্কের প্রতি আনুগত্যভিত্তিক বিশ্বাসগুলো প্রশ্ন করতে সহায়তা জোগানো তথ্যের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। সূচনা বিন্দু হিসেবে একটি সম্মিলিত তথ্যগত বাস্তবতা ছাড়া বিবদমান ধারণাগুলোর এরিস্টটোলীয় আদর্শ বাস্তবায়ন এবং আমাদের সাধারণ ও যৌথ বিষয়গুলোয় ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

অপপ্রচারকারীরা- হোক সে প্রেসিডেন্ট বা অন্য সাধারণ কেউ, যখন মিথ্যার মুখে তথ্য জোগানোর যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তখন তারা সত্যানুসন্ধানের মূল স্তম্ভগুলোও (কৌতূহল ও তর্ক-বিতর্ক) প্রত্যাখ্যান করে, যার ওপর একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত প্রোথিত। যুক্তির বিপরীতে অভিযোগ এবং বোঝানোর বিপরীতে কমপ্লায়্যান্স গণতান্ত্রিক সংলাপের সঙ্গে বেমানান। প্রাচীন গ্রিকরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে প্রশ্নহীন অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্যকেও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আমাদেরও তাই করা উচিত।

জোকালোপাবলিক স্কয়ার অবলম্বনে হুমায়ুন কবির

সহসাই খুলছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বন্ধ না হওয়ায় সহসাই খুলছে না দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব শ্রেণিতে পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়ন করে অথবা অটো প্রমোশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপরের ক্লাসে তুলে দেওয়া হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) বাতিলের পর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাতিল করায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের অন্য শ্রেণিতেও বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না এটিও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

করোনার প্রকোপ বন্ধ না হওয়ায় শিক্ষাবিদরাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার পরামর্শ দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, করোনার এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ঝুঁকিপূর্ণ এতে সন্দেহ নেই। সারা পৃথিবীতেই করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও দ্বিতীয় সংক্রমণের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। শীতের সময়ে দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা ঠিক হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা যৌক্তিক।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি একেবারেই ‘অপ্রত্যাশিত’। আমরা চেষ্টা করব শিক্ষার্থীদের কোনোভাবে মূল্যায়ন করে ওপরের শ্রেণিতে তুলে দেওয়ার। করোনা সংক্রমণ বন্ধ না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিরাপদ মনে না হলে স্কুল-কলেজ খোলার সুযোগ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের এ সময়ে শিক্ষার্থীদের টেলিভিশন, অনলাইনসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে পাঠদান চলছে।

করোনার কারণে এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে ইতিমধ্যে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষা/মূল্যায়নের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। নভেম্বরে এসব পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এসব পরীক্ষার্থীকেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে তুলে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের গড়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের এইচএসসিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত জানানোর পর আর করোনার সংক্রমণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অন্য শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা হওয়ারও আর সম্ভাবনা থাকল না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নভেম্বরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসবে। সে সময় করোনার সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন দ্বিতীয় ঢেউ এলে, সংক্রমণ বাড়লে তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সে হিসেবেও এ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা অনিশ্চিত। তাছাড়া শীতকালে করোনার প্রকোপ থাকলে সে হিসেবে নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করে আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এর মধ্যেও যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না যায় তবে তো অটো প্রমোশন ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। সচিব আরও বলেন, জানুয়ারিতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শীতে করোনার প্রকোপ বাড়বে। করোনার প্রকোপ বাড়লে তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কোনো সুযোগ থাকবে না। কবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, গত করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বেতারের মাধ্যমেও শুরু হয়েছে প্রাথমিকের বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান। আর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনার পর দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে পাঠদান চালু রেখেছে।

কথাবার্তায় পারদর্শী হওয়ার কৌশল

মানুষের কথোপকথন বা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার গোপন রহস্য আসলে কী – তা কখনোই মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়নি।

কথোপকথনকে আরও ধারালো ও উন্নত করতে পারলে সবদিকেই সফল হওয়া যায়।

ব্রিটিশ লেখক মাইকেল রোজেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের মান উন্নয়ন থেকে শুরু করে কীভাবে কথোপকথনকে আরও ভাল করে তোলা যায় সেটা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন।

নিজ বাড়ি থেকে শুরু করে অফিসের বোর্ডরুম কিংবা বৈশ্বিক পরিসরে যেকোনো ধরণের সমস্যার সমস্যার সমাধান বা দ্বন্দ্বের অবসানে একটি কার্যকর কথোপকথনের কোন বিকল্প নেই।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য টকিং রেভোলিউশন’ বইটির লেখক এডি কানফোর-দুমা এবং পিটার অসবর্নের সাথে রোজেন মিলে – কথোপকথন কীভাবে ভাল করে তুলতে হয় তার সাতটি উপায় বের করেছেন।

১. আগে নিজে বোঝার চেষ্টা করুন:
আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিনিয়ত ‘ট্রান্সমিট মোড’ বা কথা বলার মোডে থাকে। এবং তাদের পক্ষে সেই মোড পরিবর্তন করে ‘রিসিভিং মোড’ অর্থাৎ অন্যের কথা শোনার মোডে যাওয়াটা অনেক কঠিন মনে হয়।এই পরিবর্তন করতে না পারাই ব্যক্তিগত এবং পেশাদার সম্পর্কগুলোয় সমস্যা তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ। বইটিতে, বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাতটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়।আর এ ব্যাপারে স্টিফেন কোভি বলেছেন, অন্য কেউ আপনাকে বুঝবে এটা আশা করার আগে আপনি অন্যকে বোঝার চেষ্টার করুন। আর এ জন্য অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এবং নিজের মতামত দেয়ার আগে বা চ্যালেঞ্জ করার আগে তারা কী বলছে সেটা পুরোপুরি বোঝার চেষ্টা করা বেশ জরুরি।

২. আপনি যে বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রকাশ করুন:
যদি আপনি অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারেন, তাহলে সেটা প্রকাশ করুন। আপনি কি শুনেছেন বা বুঝেছেন সেটা তাকে বলুন। কিছু যুক্তিসঙ্গত প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন, যেমন “ঠিক বলেছেন” বা “আমি আপনার জায়গায় হলে এতো ভাল থাকতে পারতেন না।” -এই কথাগুলো এটাই ব্যাখ্যা করে যে আপনি এই কথোপকথনের তরঙ্গে ভাসছেন।যখন অপর ব্যক্তি বুঝতে পারে যে আপনি তাকে বুঝতে পারছেন, তখনই আপনি তাকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন, অথবা তার কোন বক্তব্য বা ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।তবে সেটা অবশ্যই তখন করবেন, যখন আপনি তার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। আপনি যে ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা বেশ জরুরি – সেটা তার কথা শোনার মাধ্যমে, তার প্রয়োজনকে শ্রদ্ধা করার মাধ্যমে বা সেটাকে বোঝার মাধ্যমে হতে পারে। এভাবে আপনি একটি সংযোগ তৈরি করেন যার মাধ্যমে প্রকৃত যোগাযোগ প্রবাহিত হতে পারে।

৩. সৃজনশীল সমাধানে পৌঁছাতে সহযোগিতা করা:

এডি এবং পিটার ‘সৃজনশীল কথোপকথন’ নামে একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন যেটা কিনা একজনের ব্যাপারে আরেকজনের মধ্যে নতুন চিন্তাভাবনা এবং বোঝাপড়া তৈরি করতে সাহায্য করে। এজন্য অন্য মানুষের কথার সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেয়া এবং আপনি তাকে কতোটুকু বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।এটি মানুষের মধ্যে কখনও কখনও নতুন অন্তর্দৃষ্টি জাগিয়ে তোলে যেটা কিনা আলাদাভাবে হয় না।এছাড়াও, আপনি যদি আপনার বোঝাপড়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন, তাহলে সেটি অপর ব্যক্তিকে আরও খোলামেলা হতে, ভাগ করে নিতে, আরও বেশি নিরাপদ ও স্বাধীন বোধ করতে সাহায্য করে। যা তাদের নিজেদের চিন্তাধারাগুলোকে অন্বেষণ করতে সহায়তা করে। এছাড়া আপনার মধ্যেও এমন নতুন কিছু তৈরি করা সম্ভব যা আগে বিদ্যমান ছিল না এবং যেটা আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতেও সাহায্য করবে।

৪. অভ্যাসে বিরতি নিন:

আমরা আমাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ থেকেই নিজেদের কথোপকথনের অভ্যাস পেয়েছি। অনেক সময় আমরা নিজেদের সেই কথোপকথনের ব্যাপারে সচেতন থাকিনা। অনেক সময় আমরা অন্যের কথার মাঝখানে কথা বলতে শুরু করি বা অপ্রাসঙ্গিক অন্য কোন আলাপের দিকে চলে যাই। এতে কোন কথারই কোন মানে থাকেনা। এবং কথোপকথন তার রেশ হারায়।চেষ্টা করুন কখন এই সমস্যাটি হয়, এটার কোন প্যাটার্ন থাকলে সেটা বের করার। এই অভ্যাসকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষের কথা শোনার এবং তা বোঝার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

৫. সমালোচনার জন্য শুনবেন না:

কিছু লোক শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্যেই অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে আর তা হল অন্যের সমালোচনা করতে এবং বিরোধী পক্ষকে পাল্টা তীরের ছুঁড়ে ঘায়েল করতে। রাজনীতির জগতে আমরা প্রতিদিন এমন কিছু দেখি, যেখানে মানুষ বিভিন্ন দল গঠন করে এবং এই বিভাজন নিয়ে কথা চালিয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, আপনার কথা শোনার কারণ যেন অন্যকে ঘায়েল করা না হয় – এজন্য একটি যুক্তির দুটি দিক সম্পর্কেই ভালভাবে শুনে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

৬. অনুশীলন নিখুঁত করে তোলে:
এডি এবং পিটার দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি অনুশীলনের আয়োজন করে যেখানে ওই দুই ব্যক্তির সেটাই প্রথম দেখা।অনুশীলনের সময় দুইজনকে দুটি ভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয়। একজনকে বলা হয় নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে, এবং অপরজনকে বলা হয় সেই কথা শুনে বুঝতে।এর মাধ্যমে তাদের এমন একটি বিষয় খুঁজে বের করতে বলা হয় যার ব্যাপারে দুজনই ভিন্নমত পোষণ করে।এটি সেই ব্যক্তিদের বুঝতে সাহায্য করে যে, কারও কান ধার পাওয়াটা কতো বিরল এবং আশ্চর্যজনক একটি উপহার। এই দক্ষতাটি বন্ধুদের সাথে অনুশীলনের চেষ্টা করতে পারেন যাতে আপনি যখন সত্যি সত্যি কোন দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধের মুখে পড়বেন, তখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উৎরে যেতে পারেন।

৭. যোগাযোগের জন্য আপনি কোন মাধ্যমটি চান সেটা বেছে নিন:
মুখোমুখি যোগাযোগকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। এরপর আপনি যতোই সেখান থেকে সরে আসবেন, আপনার যোগাযোগের মাধ্যমটি ততোই সংকীর্ণ হতে থাকবে।উদাহরণস্বরূপ টেলিফোনে, আপনার শারীরিক কোন উপস্থিতি নেই – সেখানে আপনার কণ্ঠ দিয়েই সব কাজ করতে হবে। আবার যখন আপনি কাউকে ক্ষুদে-বার্তা পাঠান সেখানে কোন শব্দও থাকেনা, থাকে শুধু লিখিত কথা। এবং যদি আপনি টুইটার এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলিতে নাম পরিচয় গোপন করে কিছু পোস্ট করেন, সেখানে যোগাযোগের মাধ্যমটি আরও সংকীর্ণ থাকে। কেননা সেখানে ব্যক্তির পরিচয় ছদ্মনাম দ্বারা লুকানো থাকায় তার কথোপকথন অপমানজনক এবং অবমাননাকর হতে পারে।তাই যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাধ্যমের ক্ষমতা বুঝতে পারাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে কার্যকর কথোপকথনের জন্য যখন যেখানে সম্ভব মুখোমুখি যোগাযোগের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

 

৩ লাখ স্কুল শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে

গত ৬ মাসে ২ লাখ ৭৭ হাজার ২৮৫ জন স্কুল শিক্ষার্থী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে । দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের চার শতাংশই স্কুল শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে যাদের বয়স ৫ থেকে ১১ তাদের তুলনায় ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা দ্বিগুণ হারে আক্রান্ত হয়েছে। বসন্তকালে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং গ্রীষ্মকালে তা কমে যায়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ৭৫ লাখের বেশি মানুষ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২ লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষ। সুস্থ হয়েছেন ৪৭ লাখেরও বেশি আক্রান্ত রোগী।

VOA
আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে পদক পেল বাংলাদেশী ৬ তরুণ

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত ৬১তম আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (আইএমও) বাংলাদেশের পক্ষে ১টি রুপার পদক ও ৫টি ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা। ১০৭টি দেশের মধ্যে ৩৮তম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এর মোট নম্বর ১১৮। গত রবিবার আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটে পুরস্কার বিজয়ীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দলের ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী আহমেদ ইত্তিহাদ ৪২ নম্বরের মধ্যে ২৯ নম্বর (মাত্র ২ নম্বরের জন্য সোনার পদক পায়নি ইত্তিহাদ ), এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের শিক্ষার্থী এম আহসান-আল-মাহীর (প্রাপ্ত নম্বর ২০), ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের মো. মারুফ হাসান রুবাব (১৯), কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের আদনান সাদিক (১৮), নটর ডেম কলেজের রাইয়্যান জামিল (১৬) ও ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী সৌমিত্র দাস (১৬) পেয়েছে ব্রোঞ্জপদক।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের এবারের আসরে বাংলাদেশ অবস্থান সবার উপরে। এশিয়ার বাকি দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ৬১তম, পাকিস্তান ৮২তম, মিয়ানমার ৯১তম ও নেপাল ১০২তম স্থান অধিকার করেছে। ২১৫ নম্বর পেয়ে চীন প্রথম, ১৮৫ নম্বর পেয়ে রাশিয়া ফেডারেশন দ্বিতীয় ও ১৮৩ নম্বর পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় হয়েছে।

করোনার কারণে রাশিয়া থেকে অনলাইনে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আয়োজনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০ সেপ্টেম্বর অনলাইন উদ্বোধনী আয়োজনের মাধ্যমে আইএমও শুরু হয়। ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দেশব্যাপী অনলাইন গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজনের মাধ্যমে ৬১তম আইএমওর জন্য ৬ সদস্যের বাংলাদেশ গণিত দল নির্বাচন করা হয়। দল নির্বাচন ও এর আনুষঙ্গিক আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

মায়ের সাথে সন্তানের ভালবাসা

  1. সভ্যতার উত্থান-পতনের যত গল্পই বলা হোক না কেন মায়ের জন্য ভালোবাসার গল্পের কোনো শেষ নেই। কখনো আনন্দের, কখনো ভালোবাসা, আবার কখনোবা অভিমান, অভিযোগের সবই যে শব্দে লুকিয়ে আছে তা হলো ‘মা’। মায়ের ভালোবাসায় স্বার্থপরতার স্পর্শ নেই, নেই কোনো প্রত্যাশা-প্রাপ্তির সমীকরণ। এই সেই মা, পৃথিবীতে যাকে নিয়ে রচিত হয়েছে এ রকম অসংখ্য হৃদয়স্পর্শী গান, গল্প, ছড়া ও কবিতা। খান আতার এমনি একটি গান ‘মায়ের মতো আপন কেহ নাই রে’। এর বাইরেও মাকে নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক গান। সেসব গানে মাকে নিয়ে থাকা বিভিন্ন রকম কথা শ্রোতাদের আপ্লুত করে। বারবার মাকে মনে করিয়ে দেয়। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা আরো বাড়িয়ে দেয়।

সমাজের খুব গভীরে লুকিয়ে থাকা সীমাহীন অপ্রাপ্তি ও অমর্যাদার দেয়াল ভেদ করে যে মা সন্তানকে সফল ও প্রতিষ্ঠিত করার ব্রত নিয়ে আমরণ ত্যাগ স্বীকার করেন সত্যিই এমন মায়ের ঋণ শোধ হওয়ার নয়। তাকে ভালোবাসা জানানোর জন্য আলাদা দিনেরও প্রয়োজন পড়ে না। মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রতিক্ষণ।

ইসলামে মায়ের মর্যাদা অসীম। মাকে মহান আল্লাহ সমাসীন করেছেন অভাবনীয় মর্যাদার আসনে। বলা হয়েছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। বুখারি শরিফের হাদিসে আছে রাসূল সা:কে এক সাহাবা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার কার? নবীজি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ সাহাবি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার কার? রাসূল সা: আবার বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ সাহাবা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার কার?’ রাসূল সা: বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ সাহাবা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমার ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার কার?’ তারপর বললেন, ‘তোমার বাবার।’

মাকে স্মরণ করে জগদ্বিখ্যাত মনীষী আব্রাহাম লিংকন বলেছিলেন, ‘আমি যা কিছু পেয়েছি, যা কিছু হয়েছি অথবা যা হতে আশা করি, তার জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।’ নেপোলিয়নের সেই সার্বজনীন কথাটি খুব প্রসিদ্ধ- আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।