কোরআনের দৃষ্টিতে জাকাতের যোগ্য যারা

আল কোরআনের স্পষ্ট ঘোষণা, ‘নিশ্চয়ই সাদাকাহ (জাকাত) তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও জাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটাই আল্লাহর বিধান।’ (সুরা তওবা, আয়াত ৬০)

কোরআনের আলোকে জাকাত পাওয়ার যোগ্যরা হলো-

নিঃস্ব ফকির : ফকির বলা হয় যার কোনো সম্পদ নেই, নেই তার উপযোগী হালাল উপার্জন, যা দিয়ে সে তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। যার খাওয়া-পরা ও থাকার স্থান নেই। 

অভাবগ্রস্ত মিসকিন : মিসকিন বলা হয় যার এমন পরিমাণ সম্পদ আছে যা তার ওপর নির্ভরশীল লোকদের প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট নয়। মিসকিন সে যার কোনো কিছু নেই। আবার কারও মতে মিসকিন সেই ব্যক্তি যার কিছু সম্পদ আছে কিন্তু লজ্জা-সম্মানের ভয়ে কারও কাছে হাত পাতে না। তারা জীবন-জীবিকার জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালানোর পরও প্রয়োজনমতো উপার্জন করতে পারে না। এত কিছুর পরও নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলতে পারে না।

জাকাত বিভাগের কর্মচারী : যারা জাকাত আদায়কারী, সংরক্ষণকারী, পাহারাদার, লেখক, হিসাবরক্ষক এবং জাকাতের বণ্টনকারী এদের সবাইকে জাকাতের ফান্ড থেকে বেতন দিতে হবে।

যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য : ইসলামের জন্য যাদের মন আকর্ষণ করা প্রয়োজন কিংবা ইসলামের ওপর তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য এমন লোকদের জাকাতের খাত থেকে জাকাত প্রদান করা।

দাসমুক্তির জন্য : যে ক্রীতদাস তার মালিককে অর্থ প্রদানের বিনিময়ে মুক্তিলাভের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এখানে এ পর্যায়ে মুসলিম যুদ্ধবন্দিও এ খাতের আওতায় পড়বে। কাজী ইবনুল আরাবি বলেন, মুসলিম দাসকে যখন মুক্ত করতে জাকাতের খাত থেকে দেওয়া যাবে, ঠিক তেমনি মুসলিম বন্দিকেও কাফিরদের দাসত্ব-শৃঙ্খলা ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্ত করার কাজে জাকাতের অর্থ ব্যয় করা অধিক উত্তম বলে বিবেচিত হবে।

ঋণগ্রস্তদের জন্য : এমন ব্যক্তি যিনি ঋণ ভারাক্রান্তে জর্জরিত অবস্থায় নিপতিত, তাকে জাকাতের ফান্ড থেকে সাহায্য করা। তবে যে কোনো অসৎ কাজে বা অপব্যয়ের কারণে ঋণ ভারাক্রান্ত হয়েছে তওবা না করা পর্যন্ত জাকাতের ফান্ড তাকে দেওয়া যাবে না। আবার ঋণ ভারাক্রান্ত এর পর্যায়ে যেমন জীবিত ব্যক্তি শামিল, তেমনি মৃত ব্যক্তিও এর আওতায় পড়ে, মৃত ব্যক্তি যিনি ঋণ রেখে মারা গেছেন। ইমাম কুরতুবি (রহ.)ও তা-ই বলেছেন।

আল্লাহর পথে : আল্লাহর পথ বলতে আকিদা, বিশ্বাস ও কাজের দিক দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি পর্যন্ত পৌঁছে দেয় যে পথ, ফি সাবিলিল্লাহর অর্থ এমন কার্যক্রমকে বোঝায় যা খালিস নিয়তে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, তা ফরজ, নফল ও বিভিন্ন ধরনের ইবাদত-বন্দেগিকে বোঝায়। জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) বলেন, ফি সাবিলিল্লাহর অর্থ যারা জিহাদের ইসলাম প্রচার-প্রসারের কাজে নিয়োজিত আছেন।

মুসাফিরদের জন্য : এমন ব্যক্তি যার নিজ আবাসস্থলে সম্পদ আছে, কিন্তু সফরে তিনি বিপদগ্রস্ত ও নিঃস্ব অবস্থায় আছেন তাকে জাকাতের তহবিল থেকে সাহায্য করা। তবে তার সফর পাপের কাজ বা অনুরূপ পর্যায়ের কোনো সফর হওয়া যাবে না। তাবারি (রহ.) হজরত মুজাহিদ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, জাকাতের সম্পদ ধনীর হওয়া সত্ত্বেও এ ধরনের নিঃস্ব পথিকেরও একটি হক রয়েছে। যদি সে তার নিজের ধনসম্পদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

মাদকের আখড়া এখন ‘পথের পাঠশালা’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুরুর দিকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বাচ্চাদের পড়াতে বেশ সমস্যা হতো। যাত্রীদের কারণে ওরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারত না। তাই একটি নিরিবিলি জায়গা খোঁজা হচ্ছিল। ওই সময় প্ল্যাটফর্মের পাশে রেলওয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবন তাঁদের নজরে আসে। রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মৌখিক আলোচনা করেই তাঁরা ভবনটি পেয়ে যান। তখন ভবনটি ময়লা-আবর্জনায় ভরা ছিল। ছিল মাদকের আখড়ায়ও। প্রথমে তাঁরা মাদকসেবীদের ভবনটিতে না বসার অনুরোধ করেন। পরে নিজেরাই ভবন পরিষ্কার করে সেখানে পথের পাঠশালার কার্যক্রম শুরু করেন।

আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শুরুর দিকে প্রতিশ্রুতির ৩৫ জন সদস্য শিক্ষাকার্যক্রম চালানোর জন্য প্রতিদিন দুই টাকা করে দিতেন। এই টাকায় শিশুদের পড়ানোর পাশাপাশি কিছু খাবার দেওয়া হতো। বর্তমানে প্রত্যেক সদস্য মাসে ১০০ টাকা করে দিচ্ছেন। অনেকে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেন। ফলে এখন শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি খাবার এবং খাতা, কলম, বই কিনে দেওয়া হচ্ছে। ছিন্নমূল শিশুদের অনেককে কিনে দেওয়া হচ্ছে জামা-কাপড়ও।

ওই স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের পাশেই রেলওয়ের পরিত্যক্ত একতলা ভবন। ভবনের সামনে বসে পড়ছে একঝাঁক শিশু। হাতেখড়ি থেকে শুরু করে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হচ্ছে সেখানে। শিক্ষার্থীদের কেউ স্টেশনের ছিন্নমূল শিশু, কেউবা স্টেশনের আশপাশের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পাঁচজন শিক্ষক তাদের পড়াচ্ছেন, লেখাচ্ছেন।

শিশুদের পড়াচ্ছিলেন পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করা সুরাইয়া খাতুন। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে বেকার বসে ছিলাম। তাই শিশুদের পড়াতে শুরু করেছি। প্রতিদিন বিকেলটা ওদের সঙ্গে বেশ ভালো কাটছে।’

ওই পাঠশালায় শিশুকন্যাকে পড়াতে নিয়ে এসেছেন আয়শা খাতুন নামের এক নারী। তিনি বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। বাচ্চাক পিরাইভেট পড়াবের সাধ্যি নাই। তাই হেনে দিছি। আমার মিয়েডা লেহা শিখে গেছে।’

এ পাঠশালার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ব্যবসায়ী সাব্বির আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বহুদিন ধরেই কয়েকজন তরুণকে শিশুদের একত্র করে পড়াতে দেখছি। ওরা একটা ভালো কাজ করছে। নিজের হাতে পরিত্যক্ত ভবনটি পরিষ্কার করেছে। প্রতিদিন নিয়ম করে শিশুদের পড়াচ্ছে। দেখেই বুক ভরে যায়। বিষয়টি অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুসরণীয় বলে আমি মনে করি।’

জেলায় শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা পল্লব ইবনে শায়েখ। পাঠশালাটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশু অধিকার রক্ষা ও শিশুদের সুরক্ষায় এটি স্থানীয় তরুণদের একটি চমৎকার উদ্যোগ। আমরা নিয়মিত ওদের খোঁজখবর রাখছি। কার্যক্রমটি চালিয়ে নিতে সহযোগিতার চেষ্টা করছি।’

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েস বলেন, ‘কার্যক্রমটি দেখতে বেশ কয়েকবার স্টেশনে গিয়েছি। উদ্যোগটি বেশ ভালো লেগেছে। আমরা বিভিন্নভাবে তাঁদের সহযোগিতা দিচ্ছি। পাঠশালাটি সঠিকভাবে চালিয়ে নিতে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

সূত্র : প্রথম আলো

প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি: নির্দেশনার দ্রুত বাস্তবায়ন করুন

এ প্রবন্ধ কেবল প্রাথমিক পর্যায়ের উপবৃত্তি নিয়ে লেখা। আর উপকারভোগীরা সবাই প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। এর বড় অংশটি মেয়ে শিক্ষার্থী। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার কমাতে, মেয়ে শিশুদের ক্লাসরুমে ধরে রাখতে ও নারীর ক্ষমতায়নে এসব কার্যক্রম বিশেষ অবদান রাখছে। এমএফএসের মাধ্যমে প্রাথমিক উপবৃত্তির টাকা প্রদানের নানা অভিজ্ঞতার আলোকে, প্রাথমিক উপবৃত্তি কার্যক্রমকে ত্রুটিমুক্ত করতে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশনা ২০২১ সাম্প্রতিক কালে অনুমোদিত হয়েছে। শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সূত্র, অনুমোদিত এই নির্দেশনা উপকারভোগীবান্ধব। এই নির্দেশনায় উপকারভোগীদের নিজেদের পছন্দের এমএফএস অপারেটরদের বাছাইয়ের স্বাধীনতার সুযোগ রাখা হয়েছে। তাই এই নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন করা জনস্বার্থে বিশেষ জরুরি। এ প্রবন্ধে সেই পরিপ্রেক্ষিত ও যৌক্তিকতা তুলে ধরার প্রচেষ্টা থাকবে।

বাংলাদেশ নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে ও চাহিদাভিত্তিক উদ্ভাবনমূলক কৌশল হিসেবে শর্তসাপেক্ষ নগদ প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশের এই কর্মসূচি থেকে শিক্ষা নিয়ে পৃথিবীর বহু দেশ নিজেরা তা প্রয়োগ করছে।

২০২১ সালে চতুর্থ মেয়াদে পাঁচ বছরের এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকল্পটি বর্তমানে সম্পূর্ণ রাজস্ব খরচে আনা হয়েছে। দেশের দুই শিক্ষা মন্ত্রণালয় (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা) ২০১৪ সাল থেকে এমএফএস খাত ব্যবহার করে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করছে। উল্লেখ্য, এর আগে উভয় মন্ত্রণালয়কে ব্যাংকের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাঠাতে হতো। বর্তমানে তা এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে।

সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য একটি একক গাইডলাইন রয়েছে। সেই গাইডলাইনে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে যে উপকারভোগীরা তাদের নিজেদের এমএফএস অপারেটরদের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে, যাতে করে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগী তাদের নিকটবর্তী এমএফএস এজেন্ট পয়েন্ট থেকে সরকারি এই আর্থিক সহায়তার অর্থ গ্রহণ করতে পারে।

২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি এমএফএসের মাধ্যমে শুরু হয়। শুরু থেকেই নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমরা অগ্রসর হয়েছি। এমএফএসের মাধ্যমে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদানের ব্যাপক উপকারের পাশাপাশি, নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমএফএস অপারেট বাছাই প্রক্রিয়াটি ছিল সাবজেক্টিভ। এই প্রক্রিয়াতেও গ্রাহক বা উপকারভোগী মূল স্টেকহোল্ডার হিসেবে নিজেদের মতামত প্রদানের কোনো সুযোগ পায় না।

বর্তমানে প্রাথমিক উপবৃত্তির টাকা এমএফএস অপারেটর নগদের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। বিগত বছরে এমএফএস অপারেটর শিওর ক্যাশের মাধ্যমে (২০১৪-২০২১) দেওয়া হচ্ছিল। এই প্রকল্পের আওতায় উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে শিওর ক্যাশ। গত জুন ২০২১–এ প্রাথমিক শিক্ষার উপবৃত্তি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষার উপবৃত্তি সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শিওর ক্যাশকে বাদ দিয়ে নগদকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা প্রদানের সার্বিক অভিজ্ঞতা, অর্জন ও শিক্ষণীয় দিকগুলোকে সংক্ষেপে নিচে এক এক করে তুলে ধরছি।

এক. প্রথম পর্যায়ে শুরুতে যখন চাল-আটা দেওয়া হতো, তখন দুটি সমস্যা বা অভিযোগের কথা শোনা যেত। প্রথমত, ওজনে কম দেওয়া। দ্বিতীয়ত, দরিদ্র শতকরা চল্লিশ ভাগ শিক্ষার্থীদের এই সহায়তা প্রদান করা হয়, যা অপ্রতুল।
দুই. সময় ও অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষা উপবৃত্তি গম–চাল থেকে ক্যাশে চালু (২০১৪) করা হয়। ইতিমধ্যে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে চালু হয়েছে। সরকার শতভাগ শিশুকে এই উপবৃত্তির আওতায় আনে। এই পর্যায়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হতো। এ ক্ষেত্রেও দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ দেখা যায়। প্রথমত, ত্রৈমাসিক উপবৃত্তির টাকা ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করতে শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের প্রায় এক কর্মদিবস সময় নষ্ট হতো। উপবৃত্তির টাকা সংগ্রহ করতে এর এক–তৃতীয়াংশ খরচ হয়ে যেত। দ্বিতীয়ত, উপকারভোগীরা রিয়েল টাইম সেবা স্থানীয় ব্যাংকের কাছ থেকে পেতেন না।
তিন. ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে উপরিউক্ত দুই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার দিকগুলো বন্ধের সুযোগ তৈরি হয়। এ পর্যায়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরে এসে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শিক্ষা উপবৃত্তি দেওয়া হয়। যার ইতিবাচক ফল দৃশ্যমান, নিচে তা তুলে ধরছি—
প্রথমত, এমএফএসের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা রিয়েল টাইম সেবা পাচ্ছেন। উপকারভোগী এমএফএস অ্যাকাউন্টে এই টাকা সরাসরি চলে আসে।
দ্বিতীয়ত, সম্প্রতি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির টাকা পাঠানোর জন্য একটি একক খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে শতকরা শূন্য দশমিক ৭০ ভাগ, যা উপবৃত্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
তৃতীয়ত, জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে এমএফএস অপারেটররা কেওয়াইসির মাধ্যমে তাদের অ্যাকাউন্ট খুলে থাকে। কাজেই যথার্থ উপকারভোগী নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা টাকা পায়।
চতুর্থত, এমএফএস অপারেটরদের মাধ্যমে উপবৃত্তি দেওয়ায় ঝামেলাবিহীনভাবে সবকিছু স্বচ্ছতার সঙ্গে করা সম্ভব হচ্ছে।
পঞ্চমত, দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের হাতে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছানোর ব্যাপারটি প্রশাসনের জন্যও সহজ হয়েছে। ফলে মূল্যবান সময় ও রাষ্ট্রীয় অর্থের সাশ্রয় হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি হয়েছে আরও দ্রুত ও নিরাপদ।
এ প্রসঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতি আবেদন থাকবে, সমাজের পিছিয়ে পড়া ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমের আওতায় ভবিষ্যতে শতভাগ অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি এমএফএসের মাধ্যমে শুরু হয়। শুরু থেকেই নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমরা অগ্রসর হয়েছি। এমএফএসের মাধ্যমে শিক্ষা উপবৃত্তি প্রদানের ব্যাপক উপকারের পাশাপাশি, নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এমএফএস অপারেট বাছাই প্রক্রিয়াটি ছিল সাবজেক্টিভ। এই প্রক্রিয়াতেও গ্রাহক বা উপকারভোগী মূল স্টেকহোল্ডার হিসেবে নিজেদের মতামত প্রদানের কোনো সুযোগ পায় না।

উপকারভোগীদের স্বার্থে কয়েকটি প্রধান বিষয় বা সূচক বিবেচনায় রাখা দরকার। ক. সহজলভ্যতা, অর্থাৎ হাঁটা পথের দূরত্বে যেন এজেন্ট পাওয়া যায়, খ. প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা, গ. রিয়েল টাইমে উপকারভোগীদের টাকা উত্তোলনের সুযোগ প্রদানের সক্ষমতা, ঘ. সাইবার সিকিউরিটি ও মানি লন্ডারিংয়ের ব্যাপারে সর্বোচ্চ উদ্যোগী ও সার্বক্ষণিক সতর্কতা। এই চারটি সূচক প্রাথমিক বাছাইয়ের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেই বিগত দিনের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশনা ২০২১ একটি উপকারভোগীবান্ধব নির্দেশনা। এর বাস্তবায়ন হলে দেশের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষা খাত উভয় উপকৃত হবে।

পরিশেষে বলব, প্রাথমিক শিক্ষা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে পথিকৃৎ ভূমিকা পালন করছে উপবৃত্তির মাধ্যমে। শিক্ষা উপবৃত্তির উপকারভোগীদের স্বার্থ, অংশগ্রহণ ও পছন্দকে প্রথমে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উপকারভোগীদের জন্য স্বাধীনভাবে নিজেদের এমএফএস অপারেটরদের সেবা বাছাইয়ের সুযোগ রাখার বিষয়টি একটি ভালো সিদ্ধান্ত।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তকে (প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশনা, ২০২১) আমি অভিনন্দন জানাই। ২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এই নির্দেশনা অনুমোদিত হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক, সাবেক শিক্ষাসচিব ও এটুআইয়ের প্রথম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে জনস্বার্থে তাই নির্দেশনা দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রইলাম।

এন আই খান, সাবেক মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

ঢাকার বড় স্কুলগুলো নিজস্ব বাসের ব্যবস্থা করে না কেন

২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক জরিপে ঢাকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা শহরের মধ্যে দ্বিতীয় বলে উল্লেখ করা হয়। আবার বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণে বিশ্বের নিকৃষ্ট শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। সুস্থ মানুষ এই শহরের সড়কে নামলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন—শারীরিক ও মানসিকভাবে। রিকশার ক্রিং ক্রিং, মোটরসাইকেলের পিপ পিপ, প্রাইভেটকারের প্যাঁ পোঁ, ট্রাকের ভোঁ ভোঁ। শব্দের এই ‘ফিউশনে’ পথচারীদের কানের পর্দা ফাটার জোগাড়। এই শহরে ভালো নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ আছেন গুটিকয়েক। তাই চিকিৎসকের সিরিয়াল না পেয়ে কানের গুরুতর রোগ নিয়েই দিনাতিপাত করতে হচ্ছে অনেক নাগরিককে। কানে আঙুল দিয়ে পথ চলতে গিয়ে এরা আবার আছেন সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে।

ঢাকা এক ‘শিক্ষানগরী’। মহাসড়কের পাশে ও মহাসড়ককে ঘিরে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, তেমনি অলিতে-গলিতে ছোটখাটো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। এখানে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন আছে, তেমনি ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়েও স্কুল চলছে। ধরে নেওয়া যাক, লোকের প্রয়োজনেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। পড়াশোনা যতটা হোক বা না হোক, কোনোভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। বরং তা বাড়বে, বাড়ছেও।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল, হলি ক্রস, রাজউক উত্তরা মডেল, আইডিয়াল স্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ—এগুলো ঢাকার বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই বাইরেও বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের অনেক নামী স্কুল রয়েছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকার গৌরব। কারণ, এখান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার ছেলেমেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার দরজায় কড়া নাড়ে।স্

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গোয়েন্দা নজরদারি, বসছে জ্যামার


সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র ও অন্যান্য ডকুমেন্ট ঢাকা থেকে জেলার ট্রেজারি সংরক্ষণ এবং উত্তরপত্র পৌঁছানো হবে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গোয়েন্দা নজরদারি, বসছে জ্যামার

যেকোনো প্রকার ইলেকট্রনিকস কমিউনিকেটিভ ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষার্থীরা যাতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারেন, এ জন্য প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। নারী প্রার্থীদের কানে কোনো ডিভাইস আছে কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ঠেকাতে বিটিআরসি ও গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রথম ধাপের পরীক্ষার্থীরা কাল রোববার থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। আবেদনকারীর নিজ নিজ জেলায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

যেভাবে প্রবেশপত্র ডাউনলোড
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রার্থীদের আবেদনে উল্লিখিত মুঠোফোন নম্বরে যথাসময়ে ০১৫৫২১৪৬০৫৬ নম্বর থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোডের খুদে বার্তা পাঠানো হবে। প্রথম ধাপের প্রার্থীরা কাল থেকে এই ওয়েবসাইটে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে অথবা এসএসসির রোল, বোর্ড ও পাসের সন দিয়ে লগইন করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে রঙিন প্রিন্ট কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রার্থীদের অবশ্যই প্রবেশপত্রের রঙিন প্রিন্ট এবং নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে। ওএমআর শিট পূরণের নির্দেশাবলি এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ও প্রবেশপত্রে পাওয়া যাবে।

২২ এপ্রিল প্রথম ধাপে যেসব জেলার সব উপজেলায় পরীক্ষা হবে সেগুলো হলো—ঢাকা, গাজীপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাগুরা, শেরপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গোয়েন্দা নজরদারি, বসছে জ্যামার

আর যেসব জেলার কিছু উপজেলায় পরীক্ষা নেওয়া হবে সেগুলো হলো—যশোর (ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মনিরামপুর, শার্শা), সিরাজগঞ্জ (উল্লাপাড়া, বেলকুচি, চৌহালী, কামারখন্দ, কাজীপুর), ময়মনসিংহ (ভালুকা, ধোবাউড়া, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও, গৌরীপুর, হালুয়াঘাট, ঈশ্বরগঞ্জ), নেত্রকোনা (আটপাড়া, বারহাট্টা, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া), কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম, বাজিতপুর, ভৈরব, হোসেনপুর, ইটনা, করিমগঞ্জ, কটিয়াদী), টাঙ্গাইল (সদর, ভুয়াপুর, দেলদুয়ার, ধনবাড়ী, ঘাটাইল, গোপালপুর), কুমিল্লা (বরুড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, সদর, মেঘনা, দাউদকান্দি) ও নোয়াখালী (কবিরহাট, সদর, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, সুবর্ণচর)।

প্রাথমিকের ইতিহাসে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর অনলাইনে আবেদন শুরু হয়। আবেদন করেছেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ প্রার্থী। সে হিসাবে ১টি পদের জন্য প্রতিযোগিতা হবে ২৯ প্রার্থীর মধ্যে।

এ বছরও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা কম

শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে একজন সাংবাদিকেরা জানতে চান তাহলে আমরা বলতে পারি এবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা হচ্ছে না। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়নি। আর কিছুদিন দেখে, তারপর সিদ্ধান্ত হবে। সামনে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা আছে, লজিস্টিক বিষয়গুলো দেখে যদি মনে হয়, কষ্ট হলেও পারা যাবে, সে ক্ষেত্রে হয়তো নেওয়া যাবে। তবে আরও এক-দেড় মাস সময় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে চান বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

নতুন শিক্ষাক্রমেও জেএসসি পরীক্ষার কথা নেই, যা ২০২৩ সাল থেকে কার্যকর হবে। আবার গত দুই বছরও এ পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় এক বছরের জন্য এই পরীক্ষা নেওয়া কতটা জরুরি বলে মনে করেন? এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সেই অর্থে খুব যে জরুরি তা হয়তো নয়। তারপরেও পরিস্থিতিটি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ে এ সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে, এ বছর জেএসসি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে সেপ্টেম্বরে। এ ধরনের পাবলিক পরীক্ষা নিতে গেলে তিন মাসের মতো প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে। আবার জেএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীও অনেক বেশি।

সাধারণত প্রতি বছরের নভেম্বরে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হতো। কিন্তু করোনার সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। টানা প্রায় ১৮ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ জন্য গত দুই বছর এ পরীক্ষাগুলো হয়নি। এর মধ্যে ২০২০ সালে পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ওপরের ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হয়েছিল। গত বছর অবশ্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে কম বিষয়ে বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়েছিল। এবারও অষ্টম শ্রেণি স্তরের শিক্ষার্থীদের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার পরিবর্তে বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এ বছর হজ করতে পারবেন ১০ লাখ, মানতে হবে দুই শর্ত প্রথম আলো ডেস্ক প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২২, ০৯: ৩৭ অ+ অ- এ বছর হজ করতে পারবেন ১০ লাখ, মানতে হবে দুই শর্ত ফাইল ছবি: এএফপি চলতি বছর ১০ লাখ হজযাত্রীকে হজ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। এ জন্য মানতে হবে দুটি শর্ত। করোনা মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগের বছর স্বল্পসংখ্যক হজযাত্রী হজের অনুমতি পেয়েছিলেন। খবর আরব নিউজের। আজ শনিবার এক টুইটে এ ঘোষণা দিয়েছে সৌদির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, হজযাত্রীদের বয়স ৬৫ বছরের নিচে হতে হবে এবং পূর্ণ ডোজ টিকা নেওয়া থাকা লাগবে। আর সৌদির উদ্দেশে রওনা হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর টেস্টের নেগেটিভ সনদ লাগবে। স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বর্ধিত হজযাত্রীর এই সংখ্যা কোটা অনুযায়ী দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রত্যেক হজযাত্রীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। হজ পালনের সময় তাঁদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় নেওয়া সব ধরনের পূর্বসতর্কতামূলক পদক্ষেপ মেনে চলতে হবে।

করোনা মহামারির কারণে গত বছর সীমিতসংখ্যক হজযাত্রী হজ পালন করতে পেরেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৫৮ হাজার ৭৪৫ জন হজ পালন করেছেন। মহামারির আগের বছরগুলোতে হাজির সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে যেত।

মন্ত্রণালয় বলছে, সর্বোচ্চসংখ্যক হজযাত্রীকে হজ পালন এবং মসজিদে নববী পরিদর্শনের সুযোগ দিতে আগ্রহী সৌদি আরব। একই সঙ্গে তাঁদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সুরক্ষা দেওয়াও সরকারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এবার ৩২ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা

ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির বিষয়ে কাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হবে। আজকের সভায় গত বছর অনুষ্ঠিত গুচ্ছ পরীক্ষায় যেসব সমস্যা হয়েছিল, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব সমস্যা সমাধানে ভর্তি পরীক্ষা ও শিক্ষার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করে দেওয়া ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাইগ্রেশন শেষ করা এবং ভর্তিতে কেবল যে বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্তভাবে ভর্তি হবে, সেখানকার জন্য টাকা নেওয়া, ভর্তি ফি যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করাসহ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে ইউজিসি। সভায় আলোচনা হয়েছে, এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরেও বিভিন্ন কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে গুচ্ছের বাইরে থাকা আটটি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের মতো ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করবে।

সভায় গুচ্ছের বাইরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি, ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল ও ভর্তির সময় প্রকাশ করার সুপারিশ করেছে ইউজিসি। এ ছাড়া ইউজিসির পক্ষ থেকে ভর্তি পরীক্ষার ফি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব বিষয়ে আসন খালি থাকে, সেগুলোর আসনসংখ্যা কমানো পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইউজিসির চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) দিল আফরোজা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় কমিশনের সদস্য মুহাম্মদ আলমগীর, বিশ্বজিৎ চন্দ, মো. আবু তাহের, কমিশনের সচিব ফেরেস জামান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা শুরু ৩ জুন

আসছে ৩ জুন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ বছর ভর্তিযুদ্ধ শুরু হবে। আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস্ কমিটির এক সভায় ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে এসব প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ‘সাধারণ ভর্তি কমিটির’ সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ডিনস্ কমিটির একাধিক সদস্য গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিনস্ কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে উপ-উপাচার্য প্রশাসন অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ডিনস্ কমিটির সভায় প্রাথমিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেটি আগামীকাল জেনারেল এডমিশন কমিটির সভায় উঠবে। সেখানে সবার সম্মতিক্রমে তারিখ ও যাবতীয় বিষয়ে চূড়ান্ত করা হবে। ’

জানা গেছে, এবার ভর্তি পরীক্ষার আবেদনের যোগ্যতা গত বছরের তুলনায় কমানো হতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞান শাখায় এসএসসি ও এইচএসসিতে মোট ৮ (একক ন্যূনতম ৩.৫), মানবিক শাখায় মোট ৭.৫ (একক ন্যূনতম ৩.০) এবং ব্যবসায় শিক্ষায় মোট ৭.৫ (একক ন্যূনতম ৩.০) নির্ধারণ করা হতে পারে। এ ছাড়া ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষায় জিপিএ ৬.৫ (একক ন্যূনতম ৩.০) থাকতে হবে।

এদিকে ডিনস কমিটির সভা সূত্রে জানা যায়, এ বছর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটে  ভর্তি পরীক্ষা ৩ জুন, কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৪ জুন, বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১০ জুন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ১১ জুন এবং চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান) ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে। গতবারের মতো এবারও আট বিভাগীয় শহরে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি আবেদন ফি জমা কার্যক্রম ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১০ মে শেষ হবে।

নববর্ষে ঢাবি ক্যাম্পাসে চলবে না মোটরসাইকেলও

 

নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ব্যতিত অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন চালানো যাবে না। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালানো থাকবে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাবিতে বাংলা নববর্ষ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ক্যাম্পাসে নববর্ষের দিন সকল ধরনের অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। এজন্য বিকাল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা যাবে। ৫টার পর বের হওয়া ছাড়া কোনোভাবেই আর প্রবেশ করা যাবে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসবাসরত কোনো ব্যক্তি নিজস্ব গাড়ি নিয়ে যাতায়াতের জন্য শুধুমাত্র নীলক্ষেত মোড় সংলগ্ন গেইট ও পলাশী মোড় সংলগ্ন গেইট ব্যবহার করতে পারবেন।

নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়, টিএসসি থেকে বের হয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর সংলগ্ন স্মৃতি চিরন্তন হয়ে পুনরায় টিএসসিতে গিয়ে শেষ হবে। নির্মাণাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পের কারণে চলাচলের পথ সরু থাকায় ও কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পাশাপাশি পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরা যাবে না কোনো ধরনের মুখোশ। বহন করা যাবে না কোনো ধরণের ব্যাগ। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। এছাড়াও সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভুভুজিলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নববর্ষের দিন ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইট বন্ধ থাকবে। আগতরা উদ্যানে প্রবেশের জন্য চারুকলা অনুষদ সম্মুখস্থ ছবির হাটের গেইট, বাংলা একাডেমির সম্মুখস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেইট ব্যবহার করতে পারবেন এবং বের হওয়ার জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গেইট, রমনা কালী মন্দির সংলগ্ন গেইট ও বাংলা একাডেমির সম্মুখস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইট ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়াও আগতদের সুবিধার্থে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ সংলগ্ন এলাকা, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন এলাকা, দোয়েল চত্বর এলাকা ও কার্জন হল এলাকায় মোবাইল পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি পুলিশের আওতায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন কর হবে।

সুষ্ঠুভাবে নববর্ষের কর্মসূচি পরিচালনার উদ্দেশ্যে সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদকে আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে আরও ২টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। সেগুলো হলো, শৃঙ্খলা উপ-কমিটি ও মঙ্গল শোভাযাত্রা উপ-কমিটি। ১২ সদস্যবিশিষ্ট শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী এবং সদস্য সচিব সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম। ৩৮ সদস্যবিশিষ্ট মঙ্গল শোভাযাত্রা উপ-কমিটির আহ্বায়ক চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন এবং সদস্য সচিব সহকারী প্রক্টর মো. নাজির হোসেন খান।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘নববর্ষ-১৪২৯ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছে। সকলের প্রতি আহ্বান, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং মেট্রোরেলের চলমান উন্নয়ন কাজের জন্য চলাচলের ক্ষেত্রে সতকর্তা অবলম্বন করে আনন্দময় পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নববর্ষ উদযাপন করবেন।’ তিনি তার নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় জনসমাগম সীমিত রাখতে সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।

উপাচার্যের সভাপতিত্বে পরিচালিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার, বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, সিনেট-সিন্ডিকেট সদস্য, প্রক্টর, অফিস প্রধানগণ এবং বিভিন্ন সমিতির প্রতিনিধি।

সূত্র: ভোরের আলো