এসএসসির ফরম পূরণের সময় বাড়ছে

করোনাভাইরাসের কারণে শুরু হওয়া ‘লকডাউন’–এর কারণে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। লকডাউন শেষে এই সময় বাড়ানো হবে।

১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়েছে, যা ৭ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ অবস্থায় আজ সোমবার থেকেই সারা দেশে লকডাউন শুরু হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, লকডাউনের কারণে কেউ যাতে সমস্যায় না পড়ে, সেটি বিবেচনা করেই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সময় বাড়ানো হলেও শিক্ষার্থীদের বিলম্ব ফি দিতে হবে না। নির্ধারিত ফি দিয়েই ফরম পূরণ করা যাবে।

বিডি প্রতিদিন

কাল থেকে গ্রন্থমেলার লিটলম্যাগ চত্বরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

অমর একুশে বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর নিয়ে বাংলা একাডেমির বিমাতাসুলভ আচরণের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে লিটলম্যাগের সম্পাদকরা। রবিবার থেকে চলবে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট। ধর্মঘটের পাশাপাশি বিকেল ৫টায় লিটলম্যাগ সম্পাদক ও কর্মীদের নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

আজ মেলার তৃতীয় দিন রাত ৮টায় লিটলম্যাগের সম্পাদকরা সম্মিলিতভাবে এই ঘোষণা দেন। লিটলম্যাগের স্টল বিন্যাস এবং আগের জায়গায় (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের পার্শ্ববর্তী স্থানে) ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই ধর্মঘট ডেকেছেন মেলায় স্টল পাওয়া বিভিন্ন লিটলম্যাগের সম্পাদকরা।

বিডি প্রতিদিন

অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ

অমর একুশে বইমেলা-২০২১ শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। বিকাল ৩টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পরই মেলা উন্মুক্ত হবে সবার জন্য।

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা শুরু হলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর বইমেলা হচ্ছে মার্চের ১৮ তারিখ থেকে, চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

মঙ্গলবার মেলার বিস্তারিত তুলে ধরে বাংলা একাডেমি। সেদিন জানানো হয়, ১৮ মার্চ বিকাল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই অনুষ্ঠানে দেওয়া হবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

গত বছর বইমেলা শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ। সংক্রমণ কমে আসলেও টানা কয়েকদিন ধরে এই সংক্রমণ বাড়ছে। সব শঙ্কা ছাপিয়ে এবার গতবারের চেয়ে দেড় মাস পিছিয়ে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা-২০২১। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার শিক্ষার্থীদের মনে পাঠের খোরাক জোগাবে বইমেলা। তাই মেলা শুরু হওয়ার আগেই দর্শনার্থীর বেশে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে যাচ্ছেন পাঠকরা। পাঠকের পদচারণায় আনন্দের দোলা দিচ্ছে প্রকাশকের মনে।

বই মেলা আবারও পেছাতে বললেন কবি নির্মলেন্দু গুণ

করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে একুশে বই মেলা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পিছিয়ে ১৮ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও এর মাত্র দুই দিন আগে আবারও বই মেলা পেছানোর কথা বললেন প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণ। আজ সোমবার তার প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই মতামত তুলে ধরেন তিনি।

ওই ফেসবুক পোস্টে নির্মলেন্দু গুণ লেখেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি যখন নতুন করে অবনতির মুখে পড়েছে, তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিতে থাকা বাংলাদেশেও যখন করোনার সংক্রমণ বাড়ছে– তখন আমাদের আসন্ন বই মেলা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে বৈকি।

১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ১৮ মার্চ থেকে একুশের বই মেলা শুরু করার কথা যখন আমরা ভেবেছিলান– তখন  আশা করা হচ্ছিল যে, আগামী দিনে করোনা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

 

বই মেলা আগের মতো না হলেও, মোটামুটি জমবে। প্রকাশকরা এই মেলা থেকে লাভ না করতে পারলেও, তারা লোকসানের মুখে পড়বেন না।

কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, দুর্ভাগ্য সমগ্র মানবজাতির! করোনার বেশ ক’টি ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হওয়ার পরও করোনার সংক্রমণ কমছে তো না-ই, বরং বাড়ছে দেশে দেশে। লক ডাউন কথাটা আবার নতুন করে ফিরে আসছে।

এমতাবস্থায়, বৃষ্টিবিঘ্নিত ক্রিকেট ম্যাচের মতো আসন্ন বই মেলাটি আপাতত স্থগিত করাটাই শ্রেয় মনে করছি।

Match abandon ঘোষণা না করে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে এপ্রিলের ১৮ থেকে বই মেলা শুরু করার কথা আমরা নতুন করে ভাবতে পারি।’

কবিতা

দ্বৈত বরণ

মনির হোসেন আনান্দ

 

অবুঝ মন-

শুধু তোমারই স্বপ্নে বেঁচে থাকার স্বস্তি খুঁজে,

পাখির নীড়ের মতন একটি একটি করে খড় তুলে

আপন ঘর যায় রচিত করে।

এই পৃথিবীতে যেমন দিন রাত্রি আসে

এক সূর্য আর্বতনে-

আমারও তাই হয় শুধু তোমাকে কেন্দ্র করে।

তুমি জাননা, কত সিন্ধু সম  নিঃসঙ্গতা ধারণ করে

ঐ নক্ষত্রটা আছে জেগে তিমির রাতে-

ভর করে আমার প্রাণের পরে।

আমার অগ্নিবীনা থরে থরে ওঠে বেজে

দুশ্চিন্তার কালো মন্ত্রের  সমীরণে।,

আমার চারপাশটা জুড়ে শুধু উদাস কোকিল-

গান গেয়ে যায় বসন্তে নীড় হারা হয়ে।

পৃথিবীর সমস্ত কাব্য যেন আমার  ভাবনা গুলো

রেখেছ নিভৃতে পরম যত্ন করে।

আমার অপেক্ষার দীর্ঘ পথ ক্রমেই  আসছে ফুরিয়ে

করতে দ্বৈত বরণ অপার্থিব আয়োজনে ।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করেছে। ভার্জিনিয়ায় “ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি” নামের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার এ উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। করোনা মহামারির কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিও পরিণত হয় আনন্দকেন্দ্রে।

ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী আবুবকর হানিপের মালিকানাধীন ‘ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়ের সংযোজন ঘটলো যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশ্ববিদ্যালয় চালুর মধ্য দিয়ে।

বহুজাতিক এ সমাজে কেবল প্রবাসীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই নয়; বাংলাদেশের মেধাবিদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখবে বলে নিজের আশার কথাও জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যত বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি পাবে, তত বেশি অর্থ যাবে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশিদের স্বপ্ন সারথি হোক এই বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, পরিচালক, শিক্ষার্থী ছাড়াও অতিথি হিসেবে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, সামিট গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ খান, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার।

ভিডিওতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. সাজ্জাদ হোসেন, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ।

স্বাগত বক্তব্যে ওই ইউনিভার্সিটির উদ্যোক্তা প্রকৌশলী আবুবকর হানিপ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি, কারিগরি শিক্ষাও দেয়া হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে। যেন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার সাথে সাথেই সবাই চাকরি পেয়ে যান।

যুক্তরাষ্ট্রে অসংখ্য শিক্ষার্থী ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেও মাসের পর মাস চাকরি পান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক দপ্তরেই পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগে। অভিজ্ঞতা না থাকলে আইটি সেক্টরে কখনোই চাকরি পাওয়া যায় না। এই ইউনিভার্সিটিতে সে ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

তিনি জানান, এই ইউনিভার্সিটিতে তথ্য-প্রযুক্তি, ব্যবসা-প্রশাসন, প্রজেক্ট এবং হেলথ কেয়ার পড়ানো হয়। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটির মালিকানা বদল হয়ে এসেছে, তাদের হাতে। এখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যেন অবাধে ভর্তির সুযোগ পান সে চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মোমেনের নামে দুটি স্কলারশিপ ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীর মধ্য থেকে এই স্কলারশিপ একটি ব্যাচেলর এবং আরেকটি মাস্টার্স কোর্সের জন্য পাবেন। এর বাইরেও প্রায় দুই লাখ ডলারের শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হবে বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদেরকে।

করোনার বিধিনিষেধ মেনে স্কুল খুলছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে

করোনা আতঙ্ক কিছুটা দূর হতেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই চালু হয়েছে স্কুল। প্রায় ১১ মাস পর ঘর ছেড়ে ফের স্কুলের পথে শিক্ষার্থীরা। আজ থেকেই সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেশ কিছু বেসরকারি স্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চালু।

করোনার কথা মাথায় রেখে প্রথমে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যযন্ত ক্লাস চালু হয়েছে। বাকিগুলা শুরু করা নিয়ে পরবর্তীতে চিন্তাভাবনা করা হবে। আপাতত এই চারটি শ্রেণি নিয়ে ক্লাস শুরু হবে। তবে করোনা এড়াতে অনেক নিয়ম জারি করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। ছাত্র ছাত্রীদের অবশ্যই মাস্ক পরে স্কুলে যেতে হবে সেই সাথে দূরত্ব মেনে চলতে হবে। সেই সাথে সবার কাছে স্যানিটাইজার থাকা বাধ্যতামূলক।

স্কুল চত্বরের কোথাও কোনও জমায়েত করা চলবে না। একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করাও যাবে না। ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি কেভিড প্রোটোকল মেনে চলতে হবে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সব শিক্ষাকর্মীদেরও। অভিভাবকদের স্কুলে প্রবেশের ক্ষেত্রে এখনই অনমুতি মিলবে না।

এরই পাশাপাশি স্কুলে আসা কোনও শিক্ষার্থীর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। স্কুলকে করোনামুক্ত রাখতে নিয়মিতভাবে স্যানিটাইজ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।

এরইমধ্যে ভারতের রাজধানী দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা-সহ একাধিক রাজ্যে করোনাবিধি মেনে চালু হয়ে গিয়েছে স্কুল। ওই রাজ্যগুলিতেও আপাতত উঁচু ক্লাসের শিক্ষার্থীদের নিয়েই স্কুল শুরু হয়েছে। এর পর ধাপে ধাপে সেখানেও সব ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর স্কুল চালু হওয়ায় আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। তবে সেই সাথে আছে করোনা মোকাবেলার কড়া চ্যালেঞ্জ।

সুত্র: কালের কন্ঠ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে পরিস্থিতি বিবেচনায়

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘পুরোপুরি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে, আমরা কি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বা শেষ দিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ পাব, নাকি মার্চ মাসে খোলার চেষ্টা করব। মোটকথা, আমরা স্বাস্থ্যঝুঁকি নেব না। যখন মনে করব, ঝুঁকিটা খুবই কম, এখন খোলা যায়, পরিস্থিতি নিরাপদ—তখনই আমরা স্কুল খুলব।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘নিরাপদে স্কুলে ফিরি’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাক, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশসহ ১৫টি উন্নয়ন সংস্থা এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে। ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হলো সরকারকে সহায়তা করা, যাতে শিশু, পরিবার, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যদি মার্চে স্কুল খুলতে পারি, সেই হিসেবে আমরা নতুন করে এসএসসি ও এইচএসসির জন্য সিলেবাস তৈরি করেছি। এসএসসির জন্য ৬০ কর্মদিবস ও এইচএসসির জন্য ৮৪ কর্মদিবসের সিলেবাস তৈরি করেছি। এখন যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে একটু দেরি হয়, তাহলে পরীক্ষা আরেকটু পরে নেব। এতে তাদের পরবর্তী পর্যায়ে যেতে তেমন কোনো সমস্যা হবে বলে আমরা মনে করছি না। তবে অটো পাসের আর কোনো সুযোগ নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, মা-বাবা ও শিক্ষার্থীরা একেবারে মুখিয়ে আছে স্কুলে ফেরার জন্য। এটাও কি একেবারে সত্য? আমরা স্কুল খুলতে যাচ্ছি—এমন গন্ধ পাওয়ার পর অনেক মা-বাবা শুধু আমার ফোনে নয়, আমার বাড়িতে এসেও বলেছেন, এটা কি ঠিক হচ্ছে? এখনই খুলে দেবেন, আমি কিন্তু আমার বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাব না। অনেক বোঝানোর পর তাঁরা বললেন, আচ্ছা দেখি, আগে কয় দিন দেখব, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যখন সব খোলার ব্যাপারে কথা হচ্ছিল, তখন তিনিও আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন, আমাদের যারা আবাসিক ছাত্র, তাদের যদি টিকা আমরা দিয়ে দিতে পারতাম, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে পারতাম। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সানুগ্রহ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সব শিক্ষককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। এটি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সহায়তা করবে। আমরা এর পাশাপাশি বা পরের ধাপেই হয়তো আবাসিক ছাত্রদেরও টিকা দিতে পারব।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জীবন-জীবিকার জন্য একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সব কিছু চালু হয়েছে অনেক দিন হলো। যে কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেটি প্রমাণিত হয়েছে যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা দেশগুলোর একটি। কিন্তু আমি যখনই রাস্তা-ঘাটে, হাট-বাজারে যাই বা হাতিরঝিল দিয়ে যাই, সেখানে তো আমি অগণিত শিক্ষার্থীকে দেখি। ঘরবন্দি শুধু একেবারে ছোট যারা। সর্বত্র শিক্ষার্থীদের ছড়াছড়ি এবং কারো মুখে মাস্ক পাওয়া যায় না। তাহলে এখন ঝুঁকি কম মনে করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। আর যাঁরা এখনো ভয় পাচ্ছেন কী করে খুলব, তাঁরা একটু বাইরের দিকে দেখবেন। আপনাদের সন্তানরা স্কুলে না এলেও বাইরে বের হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, করোনার প্রাদুর্ভাবে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি রয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদ, বাংলাদেশে ইউনিসেফের উপপ্রতিনিধি ভিরা মেন্ডোনকা, বাংলাদেশস্থ কানাডার হাইকমিশনের হেড অব ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স ফেদ্রা মুন মরিস, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অনো ভ্যান ম্যানেন প্রমুখ। সুত্র: কালের কন্ঠ

শেখার পদ্ধতি ও শিশুদের আচরণ নিয়ে অভিভাবকদের জন্য আইএসডির ওয়েবিনার

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা (আইএসডি) অভিভাবকদের জন্য এক ওয়েবিনারের আয়োজন করে। ওয়েবিনারে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন দুজন বক্তা ‘অ্যাপ্রোচেস টু লার্নিং’ (এটিএল) এবং শিশুদের সাথে যোগাযোগের উপায়, এই দুটি ভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

ওয়েবিনারের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএসডি’র আইবিপিওয়াইপি কো-অর্ডিনেটর লিনেট উইকে কাইলো এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রাইমারি কাউন্সিলর, ভিভিয়ান হুইজেনগা। প্রথমে লিনেট পিওয়াইপি (প্রাইমারি ইয়ার্স প্রোগ্রাম) ‘অ্যাপ্রোচেস টু লার্নিং’ (এটিএল) সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং এর গুরুত্ব ও আইবি-পিওয়াইপি শিক্ষা পদ্ধতির ধরণ অভিভাবকদের সামনে তুলে ধরেন। আলোচনার সময় তিনি শিক্ষার্থীদের যেসব ট্রান্সডিসিপ্লিনারি বিষয়ে (যোগাযোগ, চিন্তাচেতনা, গবেষণা, সামাজিক এবং স্ব-ব্যবস্থাপনা) দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন, তা তুলে ধরেন।

এরপরে, ভিভিয়ান হুইজেনগা শিশুদের সাথে যোগাযোগবিষয়ক ধারণা নিয়ে তার ভাবনা ও মতামত ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে, বর্তমানের প্রতিকূল সময়ে যোগাযোগের ধরণ কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তিনি তার বক্তব্যে আলোচনা করেন। শিশুরা যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় কিংবা তাদের অযৌক্তিক কোনো কিছু চায়, তখন বাবা-মায়েরা কী করতে পারেন, সে সম্পর্কে তিনি আলোকপাত করেন। ভিভিয়ান পিতামাতাদের পরামর্শ দেন যে, তাদের উচিত শিশুদের বোঝার চেষ্টা করা এবং তাদের সকল জিজ্ঞাসার ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে উত্তর দেওয়া। এতে করে শিশুরা একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিখতে ও বাড়তে পারবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি শিশুর অনুভূতি বুঝতে না পারেন, তবে তারা ক্ষুব্ধ হয়। তারা যেমন আমাদের শ্রদ্ধা করে, তাদের অনুভূতির প্রতিও আমাদের শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। ছোট ছোট জিনিস যেমন ‘তোমাকে এ ব্যাপারে ভীষণ আনন্দিত মনে হচ্ছে কিংবা আমি বুঝতে পারছি তুমি সত্যিই গর্বিত’- তাদের এমন বলা কিংবা তাদের অনুভূতি বোঝা খুব ছোট মনে হলেও এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ওয়েবিনারটি ‘প্রাইমারি প্যারেন্ট ইভিনিং’ -এর একটি অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ উভয়ের একত্রিত হওয়ার ও স্কুল কী করছে, কেন করছে, কীভাবে তারা অভিভাবকদের সাহায্য করতে পারে, সে বিষয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়। অংশগ্রহণমূলক এ ওয়েবিনারে অভিভাবকরা তাদের চিন্তাভাবনা তুলে ধরার ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। মূলত, শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা প্রদান করার লক্ষ্যেই এ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিডি প্রতিদিন

রজতজয়ন্তী
গর্বিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

উচ্চ মানসম্মত শিক্ষা বাবস্থার সম্প্রসারণ ছাড়া কোন দেশ সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌছাতে পারেনা। যে দেশ যত বেশী উন্নত ও সমৃদ্ধশালী সে দেশে উচ্চ শিক্ষা তত বেশী অগ্রগামী।আমাদের দেশের এই অগ্রগামীতায় সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলো অনবদ্য অবদান রাখছে। তার পৃষ্ঠপোষকতায় সরকার ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করে। বর্তমানে দেশের ৯৫ টির ও বেশি
বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ১৯৯৬ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ঢাকার অদুরে আশুলিয়ায় ১৫ একর জমির উপর আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ সূচনা হয়। তার এই ধারাবাহিকতায় গত ৪ঠা জানুয়ারি ২০২১, আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় ২৫ বছরে পদার্পন করে এবং গত সোমবার (৪ঠা জানুয়ারি) এশিয়ান ইউনিভার্সিটির আশুলিয়া ক্যাম্পাস থেকে বিডিরেন জুমের মাধ্যমে এর ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,এমপি। সভাপতিত্ব করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য এমিরেটাস প্রফেসর ড. আবুল হাসান মোঃ সাদেক স্যার।

তারপর দিন মঙ্গলবার (৫ই জানুয়ারি)আরেক অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রজতজয়ন্তী উদযাপন অত্যন্ত গর্বের ও মর্যাদার।বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি পাঁচটি অনুষদে ১৩ টি বিভাগ নিয়ে গঠিত।আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত গর্ব অনুভব করি যখন দেখি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক অজ্ঞনে সফলতার স্বাক্ষর ও দেশের অর্থনীতিতে অনবদ্য অবদান রাখছে। বর্তমানে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী ক্রেডিট ট্রান্সফার এর সুবিধা নিয়ে বিদেশে অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে ।এত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-ছাত্রী দেশে বিদেশে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সহিত শিক্ষকতা করছে।এশিয়ান ইউনিভার্সিটির জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে সকল শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা,মেধা ও শ্রম দ্বারা বিশ্ব দরবারে তাদের ক্ষ্যাতি গৌরবউজ্জ্বলিত করুক এই আমাদের প্রত্যাশা ।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের
এই অর্জন আমাদের গর্বের,আমাদের অহংকারের।

আমরা আশাবাদী, আমাদের ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এই গৌরব ও অহংকার অম্লান রাখবে যুগের পর যুগ।এশিয়ান ইউনিভার্সিটির পথচলা আরও সুমধুর হোক এই প্রত্যাশা ও শুভ কামনা।

অনুপম হায়াত চৌধুরী
সহকারী অধ্যাপক (গণিত)
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ