মেরি এন ওয়েবস্টার-দ্যা মোস্ট বিউটিফুল মাদার ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড।

ইস্ট লন্ডনের একটি নিম্ন মধ্যবিও পরিবারে ১৮৭৪ সালে জন্ম নেয়া সধারণ এক মেয়ে ছিলেন মেরি। তিনি ছাড়াও পরিবারে ছিলেন আরও সাত ভাই-বোন। দেখতে ছিলেন রীতিমতো সুন্দরি এক নারী। অল্প

বয়সেই জীবিকার জন্য একটি হাসপাতালে একজন সেবিকা হিসেবে চাকরী নেন। বয়স যখন ২৯, তখন তার বিয়ে হয় থমাস বেভান নামে  এক ভদ্রলোকের সাথে। তারপর একে একে জন্ম নেয় তার চার সন্তান। স্বামী সংসার নিয়ে সুখেই ছিলেন তিনি। কিন্তু বিধি বাম, বিয়ের কিছু বছর পর তিনি অ্যাক্রোমেগালি নামে হরমোনের সমস্যাজনিত এক বিরল রোগে আক্রান্ত হন। এই রোগে শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রোথ হরমোন উৎপন্ন হওয়ার কারনে হাত, পা এবং মুখ অতিরিক্ত বড় হয়ে যায়। প্রথমদিকে তিনি মাংসপেশি এবং হাড়ের জোড়ায় ব্যথা অনুভব করতেন। কিন্তু নিজের সংসার এবং কাজ নিয়ে ব্যস্ত মেরি নিজের শরীরে দানা  বাঁধতে থাকা এই ভয়ংকর অসুখ নিয়ে একদমই ওয়াকিবহাল ছিলেন না। তারপর একসময় লক্ষ্য করলেন ধীরে ধীরে তার চোয়ালের হাড় বাড়ছে, মুখ বিকৃত হচ্ছে।
কিছুদিন যাবার পর মেরি দেখলেন তার চেহারা এক বীভৎস রূপ ধারণ করেছে। সেই সময়টায় এইসব রোগের খুব ভালো একটা চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিলো না। তার স্বামী মেরির পাশে থেকেই তাকে মানসিক শক্তি জুগিয়ে গেলেন। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিলো না কখনওই। বিয়ের ১১ বছরের মাথায় ১৯১৪ সালে মারা গেলেন মেরির স্বামী। সেই সময়টা থেকেই তার জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠলো। সংসারে চারটা ছোট ছেলেমেয়ে, প্রতিদিন তাদের জন্য খাবার জুটাতে হয়। কিন্তু নিজের চেহারা এবং দৈহিক অবয়বের কারনে তিনি কোথাও কাজের সুযোগই পেতেন না। এমনকি সব ক্ষেত্রেই মানুষের উপহাস এবং বিদ্রূপের পাত্র হতেন। দিনে দিনে ধার-দেনায় জর্জরিত হয়ে অসহনীয় হয়ে পড়লো বেঁচে থাকা। এমন একটা সময় শাপে বর হয়ে মেরির জীবনে আসলো একটা প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনের সুযোগ। পৃথিবীর সবচেয়ে কুৎসিত নারী- “The world’s ugliest woman” নামে এই প্রতিযোগীতায় পুরস্কার হিসেবে ছিলো একটা উল্ল্যেখযোগ্য পরিমাণের অর্থ। নিজের ছেলেমেয়েদের নিয়ে একটু সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এইরকম একটি কুৎসিত প্রতিযোগিতায় তিনি অংশ নিলেন এবং প্রথমবারের মতো তার অসুখ তাকে কিছু অর্থ প্রাপ্তির সুযোগ করে দিলো। মেরি সেই প্রতিযোগিতায় জিতে গেলেন। কিছু অর্থ আসলো ঠিকই, তবে সঙ্গে করে নিয়ে আসলো নতুন এক বিপত্তি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার ছবি ছাপা হলো, মানুষ তাকে নিয়ে আরও বেশী বিদ্রূপ করার সুযোগ পেলো। গনমাধ্যমগুলো তাকে নিয়ে অপ্রীতিকর খবর প্রকাশ করতে শুরু করলো। এইরকম করেই সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিয়ে মেরির দিন চলে যাচ্ছিলো। তবে কিছুদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের কনি আইলেন্ডের ড্রীমল্যান্ড সার্কাস শো থেকে তাকে একটা স্থায়ী চাকরীর প্রস্তাব করা হলো। নিষ্টুর এই ফ্রিক শোতে আস্বাভাবিক বৈশিষ্টধারী মানুষ যেমন দাড়িওয়ালা মহিলা, বামন কিংবা দৈত্যাকার মানুষদের সমাজের তথাকথিত সুস্থ সবল মানুষের বিনোদনের জন্য প্রদর্শন করা হতো।

মেরি এই ফ্রিক শোতে যোগদান করে নিজেকে সবার উপহাসের বিষয়বস্তু করে বাকী জীবনটা কাটিয়ে দিলেন। নিঃসন্দেহে এই জীবনটা তার জন্য ছিলো অনেক বেশী কঠিন। কিন্তু এই সবকিছুর উর্ধে ছিলো সন্তানদের প্রতি তার ভালোবাসা, যাদের মেরি একটা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন উপহার দিলেন। মেরি বেঁচে ছিলেন ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত, নিজের নারীসত্ত্বার বিসর্জন দিয়ে তিনি মানুষের সামনে বেঁচে ছিলেন একজন  মনস্টার হিসেবে। তার দেহ লন্ডন শহরের ব্রকলি সিমেট্রি তে সমাহিত করা হয়। ইন্টারনেটে মোস্ট আগলিয়েস্ট ওমেন দিয়ে সার্চ দিলে মেরিকে খুঁজে পাওয়া যায়!! কিন্তু সত্যি কি তাই!! স্বামী সংসার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবন অতিবাহিত করা সুন্দরী এক নারী থেকে এমন বীভৎস এক চেহারায় পরিবর্তিত হওয়ার পরও মেরি মানসিক ধীরতা নিয়ে নিজের সন্তানদের জন্য বাকী জীবনটা শুধুমাত্র একটা সার্কাসের ক্রিয়েচার হিসেবে কাটিয়ে দিলেন। কতোজন মানুষ এমনভাবে বেঁচে থাকতে পারে!! কিন্তু মেরী পেরেছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মমতাময়ী মা হিসেবে বেঁচে ছিলেন, বেঁচে ছিলেন একজন অসাধারণ মহিলা হিসেবে। মেরীর মৃত্যর ৭০ বছর পর, ২০২০ সালে হলমার্ক কার্ড মেরির ছবি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে “ব্লাইন্ড ডেট” নামে একটি পোস্টকার্ড তৈরী করে। বিষয়টা একজন ডাচ চিকিৎসকের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি অভিযোগ করেন এই পুরো ব্যাপারটা মেরিসহ অ্যাক্রোমেগালিতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চরম অবমাননাকর। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হলমার্ক তাদের এই কার্ডের পরিবেশন বন্ধ করে। মেরি বেঁচে ছিলেন ৫৯ বছর। বেঁচে থাকা বলাটা হয়তো ভুল হচ্ছে, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে তিনি টিকে ছিলেন শুধুমাত্র। নিচের প্রথম ছবিটা মেরি যখন সুস্থ ছিলেন সেই সময়ের। পরের ছবি তার অসুখের পর তুলা হয়েছিলো। তৃতীয় ছবিতে দেখা যাচ্ছে মেরি এবং তার চার ছেলেমেয়েকে।

হিটলার গোয়েবলসের মিথ্যার দুনিয়া

মিথ্যাচার করতে একটি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন ইতিহাসের খলনায়ক হিটলার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার তৈরি করেন গুজব মন্ত্রণালয়। অবশ্য ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই তিনি এ কাজে তৎপর ছিলেন। হিটলার খেয়াল করেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা প্রচারণায় এগিয়ে ছিল। জার্মানরা প্রচারণায় মার খেয়েছে বারবার। শুধু প্রচারণা দিয়েই ব্রিটিশরা আড়াল করেছিল অনেক কিছু।  জার্মানরা মার খায় ব্রিটিশ প্রচারণার কাছে। ব্রিটিশ মিডিয়া গুজব ছড়িয়ে জার্মানদের বিভ্রান্ত করতে পেরেছিল। ব্রিটিশ গুজব ও প্রচারণার কাছে জার্মানরা নাস্তানাবুদ হয়। হিটলার ভাবনায় পরিবর্তন আনেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি করেন বিশেষ মন্ত্রণালয়। নাম দেন ‘মিনিস্ট্রি অব পাবলিক এনলাইটেনমেন্ট অ্যান্ড প্রোপাগান্ডা’। আর এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন প্রিয়ভাজন গোয়েবলসকে। এই গোয়েবলস পিএইচডি শেষ করে কিছুদিন ব্যাংকার ও পরে সাংবাদিকতা করেন। তারপর যোগ দেন রাজনীতিতে। ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগদানের। কিন্তু তার এক পা খাটো ছিল জন্মগত। এ কারণে সেনাবাহিনীতে যাওয়া হয়নি। দল হিসেবে বেছে নেন হিটলারের নাৎসি পার্টিকে। সামনে আসতে বেশি সময় লাগেনি। দিনকে রাত বানাতে পারতেন। বাস্তবের সঙ্গে মিল নেই এমন সব আজগুবি খবর সৃষ্টি করতেন। মানুষ যা কল্পনা করত না তা-ই বাস্তব বানিয়ে ছাড়তেন। এমন নিখুঁতভাবে করতেন সবকিছুই বিশ্বাসযোগ্য মনে হতো। প্রথম সাক্ষাতের পরই হিটলার তাকে লুফে নেন। তারপর বিশেষ গোপনীয়তা বজায় রেখে সব কাজ করতেন। তখন এত যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ ছিল না। আর সেই সুযোগকে ঠান্ডা মাথায় কাজে লাগাতেন গোয়েবলস।

Bangladesh Pratidinআজকাল কেন জানি মনে হয় গোয়েবলসি মিথ্যাচারের যুগে ফিরে গেছি আমরা। অসুস্থ, ব্যর্থ ঈর্ষাকাতর নষ্টরা একটা হিংসুটে সমাজ তৈরি করছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সর্বস্তরের যার তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া মিথ্যাচার করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে। কুৎসা নোংরামি গোয়েবলসকেও হার মানায়। সেদিন র‌্যাবের একটা ভিডিও দেখলাম টেলিভিশনে। লেকে মরা মাছ ভাসছে। মানুষ ভিড় করে দেখছে। পথচলা একজন জানতে চাইলেন, ভাই কী হয়েছে? জবাবে আরেকজন বললেন, লেকে মরা মাছ ভাসছে। সেই লোক শুনল লেকে লাশ ভাসছে। দূর থেকে মোবাইলে লেকের ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়ে দিল ‘লেকে লাশ ভাসছে’। মুহূর্তে গুজব ছড়িয়ে পড়ল গোটা শহরে, ‘লেকে মরা লাশ ভাসছে’। তেমনি গার্মেন্ট কারখানায় মশার ওষুধ ছিটানোর ধোঁয়া দেখে ছবি তুলে আরেকজন ফেসবুকে লিখে দিলে, ‘আগুন লেগেছে গার্মেন্টে’। ব্যস, আর যায় কোথায়? সবাই ব্যস্ত হয়ে গেল আগুন নিয়ে। হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে হতাহত গার্মেন্টের মেয়েরা। এমনও হাজারো গুজব ছড়ানো হচ্ছে এখন সমাজে। কিছু লোকের কাজই হলো বাজেভাবে সমাজে গুজব ছড়ানো। হিটলারি প্রচারণার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় আজকালের অনেক কিছুতে।

হিটলারের সময় জনপ্রিয় ছিল রেডিও। বিনামূল্যে জার্মান নাগরিকদের একটি করে রেডিও দেওয়ার ব্যবস্থা করেন মন্ত্রী গোয়েবলস। হিটলার সব সময় বিশ্বস্ত এই সহযোগীর কথা শুনতেন। কারণও ছিল। গোয়েবলসের আলোচিত উক্তি ছিল, ‘আপনি যদি একটি মিথ্যা বলেন এবং সেটা বারবার সবার সামনে বলতে থাকেন তাহলে লোকজন একসময় সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করবে।’ জার্মানিতে তা-ই হয়েছিল। ইহুদি নিধনের সময় গোয়েবলস প্রচার করতেন, জার্মানিতে হিটলারের মতো শক্তিশালী একজনকে দরকার। তিনিই পারবেন জার্মান জাতিকে তার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে। বেতারে এ প্রচারণা শুনতে শুনতে মানুষ বিশ্বাসও করত। আলোচনায় ইহুদি নিধনের পরিবর্তে সব সময় সামনে থাকত হিটলারের সাফল্য নিয়ে। যুদ্ধের আগে প্রচারণা ছিল এক ধাঁচের। যুদ্ধের সময় আরেক। জার্মান রেডিও-টিভিতে শুধুই থাকত হিটলার ও তার বাহিনীর সাফল্যের কথা। বাস্তবে যখন রাশিয়ানদের হাতে জার্মান সেনারা নাস্তানাবুদ তখন গোয়েবলসের প্রচারণা ছিল সোভিয়েত রাশিয়া তাদের দখলে। জার্মান সেনারা রাশিয়ান ভদকা পান করছে। আর রাশিয়ান মেয়ে নিয়ে আনন্দফুর্তি করছে। এ ধরনের প্রচারণা প্রতিদিনই হতো। আমেরিকা আর ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে চলত কুৎসা রটনা। যার কোনো আগামাথা ছিল না। গোয়েবলসের শেষ পরিণতি ছিল করুণ। তাকে মরতে হয়েছিল পরিবার-পরিজন নিয়ে বিষপান করে। মৃত্যুতেও হিটলারের পথ অনুসরণ করেছিলেন। বিশ্ববাস্তবতায় আমরা কি গোয়েবলসীয় প্রচারণা থেকে মুক্ত হতে পেরেছি? এই যুগে এই সময়ে প্রচার হয় একজন মানুষকে চাঁদে দেখা গেছে। আর এ প্রচারণাতেই মধ্যরাতে সবাই ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে যায় দেশি অস্ত্র টেঁটা, বল্লম, লাঠি নিয়ে। আগুন ধরিয়ে দেয় সরকারি অফিস-আদালতে। নিজের জীবনও বিলিয়ে দেয়। বেশি দিন আগের কথা নয়। সময়টা ২০১৩ সালের ৩ মার্চ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়, জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গোপন স্থানে নিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। ফাঁসির পর তিনি আকাশে উড়ে গেছেন। কিছুক্ষণ আগে দেখা গেছে চাঁদে। তিনি চাঁদে বসে তাকিয়ে আছেন। আজব! এই যুগে এই সময়ে এমন প্রচারণা শুনে মানুষ বেরিয়ে আসে ঘরবাড়ি থেকে। এ ধাঁচের প্রচারণা দেখেছি ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময়ও। একজন অভিনেত্রী ফেসবুক লাইভে আসেন। তিনি বলতে থাকেন, চার ছাত্রকে মেরে ফেলা হয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডিতে লাশ পড়ে আছে। তিনি নিজের চোখে সবকিছু দেখেছেন। মুহূর্তে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা ওয়েবসাইটে। ব্যস, আর যায় কোথায়? সবাই মিলে এ নিয়ে গবেষণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বড় অদ্ভুত সবকিছু।মানুষ কেন এমন গুজব ছড়ায়? সেদিন এক মনোবিজ্ঞানীকে প্রশ্ন করেছিলাম। জবাবে তিনি বললেন, সবচেয়ে বড় কারণ হতাশা। আর হতাশা থেকে গুজব ছড়ানো একটা বড় ধরনের রোগ। কেউ গুজব ছড়ায় ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে। কেউ গুজব ছড়ায় ঈর্ষা, হিংসা, ব্যক্তিগত হতাশা, ব্যর্থতা ঢাকতে। মগজে সারাক্ষণ হিংসা লুকিয়ে থাকায় কিছু লোক অশ্লীল আনন্দ পায় মিথ্যাচার করে। এক ধরনের অসুস্থতা থেকেই মানুষ সত্য লুকিয়ে, অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা রটায়। বাংলাদেশে এই মানসিক অসুখটি অনেক বেশি বেড়েছে। গোয়েবলসীয়দের অত্যাচার থেকে নারী-শিশুদেরও রেহাই মিলছে না। তারা সবকিছুতেই নেতিবাচক অবস্থান দেখে। কোথাও ইতিবাচক কিছু খুঁজে পায় না। ওদের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ সফল মানুষদের বিরুদ্ধে। আগে প্রকাশ ঘটানোর স্থানের অভাব ছিল। এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বাজেভাবে ব্যবহার করছে।

গোয়েবলসীয় কান্ড শুধু আমাদের দেশে হচ্ছে তা নয়। মিথ্যা প্রচারণার শিকার হয়েছিলেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। বিশ্ব মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, ইরাকের কাছে জীবাণু অস্ত্র আছে। এ অস্ত্র দিয়ে দুনিয়ায় কিয়ামত আনা সম্ভব। আর গুজবটা ছড়িয়েছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। থেমে থাকল না পশ্চিমা মিডিয়াও। তারাও সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আজব সব তথ্য প্রকাশ করল। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল কোনোটারই বাস্তব ভিত্তি নেই। কিন্তু গুজবের ভিত্তিতেই শেষ হয়ে গেল একটি দেশ। সাদ্দাম ছিলেন একনায়ক। তিনি চলতেন নিজের খেয়ালখুশিমতো। আর সেটাই সহ্য করতে পারেনি আমেরিকা ও তার মিত্ররা। বুশের সঙ্গে সুর মেলাতে গিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বলেছিলেন, সাদ্দামের হাতে এমন অস্ত্র আছে এর সামান্য ব্যবহারে মুহূর্তে লন্ডন শহর ধ্বংস হতে পারে। বাস্তবে সাদ্দাম যুগ তথা ইরাক যুদ্ধ শেষে প্রমাণিত হয়েছিল গোয়েবলসীয় প্রচারণা কতটা অলীক, ভিত্তিহীন। এমন প্রচারণার শিকার প্রেসিডেন্ট আসাদ ও তার দেশ সিরিয়া। আসাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আর বাস্তবতা নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় বিভক্তি রয়েছে। মিথ্যা প্রচারণায় পৃথিবী আজ মানুষের বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। করোনাকালে এখন একটা ভয়াবহ চিত্র বিশ্ব দেখছে নতুনভাবে।

সেদিন এক বন্ধু বললেন, একদল নষ্ট ঈর্ষাপরায়ণ মানুষের কারণে দুনিয়াটা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। ঈর্ষার অনলে জ্বলতে থাকা মানুষ সবকিছু ছাই করে দিতে চায়। পৃথিবীর কোনো সৌন্দর্যই তাদের ভালো লাগে না। সভ্যতার সব উন্নতি-সমৃদ্ধির বিরুদ্ধে তারা। এ মানুষগুলোর কারণে দুনিয়াটা বাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। এখন বাঁচতে হলে লড়াই করে টিকতে হবে। অথবা দৌড়ে পালাতে হবে সবকিছু ছেড়ে। এ জগৎ-সংসার থেকে পালানো সহজ কাজ। সংগ্রাম করে টিকে থাকা অনেক কঠিন। কাঠিন্যকে ভেদ করে চলতে পারাটাই বিজয়ের। পরাজয়ে আনন্দ নেই। হুমায়ুন আজাদকে একটা সময়ে কঠোর সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছিল। চারপাশের মানুষগুলো তাকে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে দেয়নি। এই নগর সভ্যতা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। চারপাশে হাজারো মানুষ তামাশা দেখেছে। কেউ খুনিদের আটকাতে পারেনি অথবা আটকাতে আসেনি। কবি শামসুর রাহমানকে সারাটা জীবন বাঁচতে হয়েছিল সমালোচনা সহ্য করে। শুধু সমালোচনা নয়, তাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল বারবার। কবিকে হত্যা করতে তাঁর শ্যামলীর বাড়িতে হামলা হয়েছিল। ভাগ্যটা শামসুর রাহমানের ভালো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগের হাতে পড়েননি। পড়লে এখন আরও কত কথা শুনতে হতো তার ঠিক নেই। একবার কবিকে প্রশ্ন করেছিলাম, আপনার আপনজন কারা? জবাবে হাসলেন। তারপর বললেন, আপনজন কারা মাঝে মাঝে বুঝি না। তবে বেলাল চৌধুরী, রফিক আজাদ, কায়সুল হক, মনজুরুল ইসলামের কাছে প্রশ্ন করলে কিছু ভালো কথা শুনবে। বাকিদের কথা জানি না। কথা বাড়ালাম না। কবিকে নিয়ে কিছু মানুষ মাঝেমধ্যে ভীষণ নোংরা প্রচারণা চালাত। এক সন্ধ্যায় কবির তল্লাবাগের বাড়িতে গেলাম। দেখলাম তিনি মন খারাপ করে বসে আছেন। সামনে বসা তরুণ কবি মারুফ রায়হান। জোহরা ভাবি চা পাঠালেন। কবির মন খারাপ কেন জানতে চাইলাম। জবাবে মারুফ রায়হান বললেন, এক অসভ্য কবি দাবিদার নোংরা যুবক বাজে কথা লিখেছেন এক পত্রিকায়। এ কারণে কবির মন খারাপ। সারাটা জীবন কুৎসা আর মিথ্যার জবাব দিতে দিতে চলে গেছেন হুমায়ূন আহমেদ।

খ্যাতিমান সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীকেও সমসাময়িকরা সহ্য করতে পারতেন না। ভাগ্যটা ভালো তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল না। পত্রিকায় একটু রাখঢাক করে লিখতেন পরস্পরকে ইঙ্গিত করে। একবার তিনি একজনের টিপ্পনীর জবাব দিতে গিয়ে লিখেছিলেন, মুুকুল তুই আর ফুটলি না। এই জগতে কেউ কারও ভালোটা সহ্য করতে পারে না। একটা ভালো শার্ট পরে বের হোন দেখবেন চারদিকের চোখগুলোর মাঝে ঈর্ষার অনল। এখানে একদল মানুষ কাজ করে। আরেক দল ঈর্ষার অনলে পুড়ে পুড়ে সারা দিন অন্যের সমালোচনা করে কাটায়। তাদের আর কোনো কাজ নেই। অনেকে কথায় কথায় জ্ঞান দেন, বাণী দেন। নিজের ব্যক্তিজীবনের দীন-দুনিয়ার ঠিক নেই। আর কথায় কথায় পাড়াপড়শি নিয়ে ঘুম হারামের কথা জানান দেন। সুযোগ পেলেই কুৎসা রটান।

সেদিন আরেকজন বললেন, কারও সঙ্গে আত্মীয়তা করতে এখন আর সামাজিকভাবে খোঁজখবরের দরকার নেই। গোয়েন্দা লাগিয়েও খবর নেওয়ার দরকার নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই লোকটির প্রোফাইলে ঢুকলেই হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কতটা হিংসুটে, অসুস্থ, মিথ্যা রটনাকারী, নোংরা মানসিকতা রাখেন তা জানা যাবে ফেসবুকে লেখনী পড়েই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন গুজব আর কুৎসা রটনার বাহন। অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় সবাই ব্যস্ত। এখানে সবাই বিচারক, সবাই আদালত, সবাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকায়। সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের দরকার নেই। মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে যায় মুহূর্তে। একজন একটা মিথ্যা প্রচারণা শুরু করতে পারলেই হলো। বাকিরা যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন মনে করেন না। ‘চিলে কান নিয়েছে’ প্রচারণার মতো ছুটতে থাকেন। কিছুদিন আগে একদল ফেসবুকে প্রচার চালাল নায়ক আলমগীরের মৃত্যু হয়েছে। একজন থেকে আরেকজন কপি করতে থাকলেন। ফেসবুক জমে গেল। পরে নায়ক আলমগীর নিজে, রুনা লায়লা, আঁখি আলমগীর বাধ্য হলেন লিখতে তিনি জীবিত। কোনো সমস্যা নেই। নায়ক ফারুককে নিয়েও এমন হয় মাঝেমধ্যে। এ টি এম শামসুজ্জামানের মারা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে ফেসবুকে বারবার তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করা হয়। শোক প্রকাশেরও শেষ ছিল না।  বড় অদ্ভুত সবকিছু! সমাজের ভদ্রবেশীরাই ছড়িয়ে দেন নোংরামি। কবি বলেছেন, ‘আমরা সবাই পাপী; আপন পাপের বাটখারা দিয়ে; অন্যের পাপ মাপি!!’ কবির কবিতার আরেকটি লাইন মনে পড়ছে,  ‘অন্যের পাপ গনিবার আগে নিজেদের পাপ গোনো!’

লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

আলবার্ট আইনস্টাইনের জীবনের কিছু প্রচলিত মজার ঘটনা

১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেছিলেন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। ৬৬ বছর আগে যিনি বিদায় নিয়েছেন, তাঁর গবেষণা আজও পৃথিবীকে পথ দেখায়। তাঁর উদ্ভাবিত থিওরি অব রিলেটিভিটি এখনো বহুল আলোচিত।

আমার ড্রাইভারও উত্তর দিতে পারবে

১৯ শতকের প্রথমভাগে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আইনস্টাইনের উদ্ভাবিত ‘থিওরি অব রিলেটিভিটি’। এই জটিল তত্ত্ব বোঝাতে তাঁকে তখন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে ছুটতে হয়েছিল। ছোটাছুটিতে সঙ্গী ছিলেন তাঁর গাড়িচালক। সভার পেছনের সারিতে বসে প্রতিবারই গাড়িচালক আইনস্টাইনের কথা মন দিয়ে শুনতেন। একদিন এমনই একটি সেমিনারে যোগ দিতে রওনা হলেন আইনস্টাইন। গাড়িতে তাঁর ড্রাইভার বললেন, ‘স্যার, আপনার এই থিওরি অব রিলেটিভিটি তো খুব সহজ। আমি এটা এতবার শুনেছি যে সেমিনারে এখন আমিও এ বিষয়ে কথা বলতে পারব।’

আইনস্টাইন বিরক্ত না হয়ে বরং দুষ্টু বুদ্ধি আঁটেন। সেই সময়ে গণমাধ্যমে তেমন প্রচার না থাকায় কেউ জানত না আসল আইনস্টাইন দেখতে কেমন। তাই সেমিনারে পৌঁছেই তিনি আর তাঁর গাড়িচালক পোশাক অদলবদল করে ফেলেন। আইনস্টাইন তাঁর গাড়িচালকের পোশাক পরে সেমিনারের পেছনে বসেন, আর গাড়িচালক বসেন আইনস্টাইনের জায়গায়। আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বেও গাড়িচালক বেশ ভালোই উতরে যাচ্ছিলেন। কারণ, বেশির ভাগ প্রশ্ন আগের সেমিনারগুলোর মতোই ছিল।

তবে একেবারে শেষ প্রশ্নে আটকে যান তিনি। তখন গাড়িচালক বুদ্ধি করে প্রশ্নকর্তাকে বলেন, ‘আপনার প্রশ্নটি এতটাই সহজ যে আমার ড্রাইভারও এর উত্তর দিতে পারে।’ বলে তিনি দর্শকের আসনে বসা আইনস্টাইনকে দেখিয়ে দেন। সে যাত্রায় আইনস্টাইন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন।

 

পজিটিভ-নেগেটিভ একসঙ্গে

বিশ্ববিদ্যালয়জীবন পেরিয়ে আইনস্টাইন বিয়ে করেছিলেন মিলেভা ম্যারিককে। মিলেভা ছিলেন তাঁরই সহপাঠী, ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী। দুজনই পদার্থবিজ্ঞানী হওয়ার কারণে বাস্তব জীবনেও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে তাঁদের বিপুল আগ্রহ ছিল। তাই তাঁরা নিজেদের দুই ছেলের ডাকনাম রেখেছিলেন পজিটিভ ও নেগেটিভ। কারণ, পদার্থবিজ্ঞানে বিপরীতধর্মী কণা একে অপরকে আকর্ষণ করে একসঙ্গে থাকে। দুই ভাইকে এক রাখতেই এমন বুদ্ধি করেছিলেন আইনস্টাইন-মিলেভা দম্পতি।

তুমি আগে

প্রায় ১৭ বছরের প্রথম সংসারজীবন ছেড়ে আইনস্টাইন বিয়ে করেন মামাতো বোন এলসাকে। এলসা খুব সাধারণ ঘরের মেয়ে। পদার্থবিজ্ঞানের কিছু নিয়েই তাঁর তেমন ধারণা ছিল না। এলসা ভাবতেন, ‘জেনারেল রিলেটিভিটি’ জার্মান আর্মির কোনো অফিসার পদ হবে! তো আইনস্টাইন একদিন ভাবলেন, তিনি এলসাকে থিওরি অব রিলেটিভিটি বোঝাবেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে শুরু করলেন, ‘যদি কোনো সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানো শুরু করি, তাহলে এক ঘণ্টা কাটালেও মনে হবে এক মিনিট থেকেছি। কিন্তু রান্নাঘরের চুলার আগুনে যদি এক মিনিট হাত রাখি, সেটা এক ঘণ্টা মনে হবে।’ আইনস্টাইন এলসাকে বাস্তব উদাহরণ দিতে রান্না ঘরে নিয়ে গেলেন। বুদ্ধিমতী এলসা শুরুতেই বললেন, ‘তুমি আগে হাত দাও।’

তোমাকে কেউ চেনে না

পোশাক, খাবার আর বাড়ির ঠিকানা ভোলার অভ্যাস তো আইনস্টাইনের ছিলই। অফিসে যাওয়ার সময় তাঁকে মার্জিত পোশাক পরার জন্য জোর করতেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু আইনস্টাইন বলতেন, ‘কেন? ওখানে সবাই তো আমাকে চেনে।’ জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের দিন আইনস্টাইন যখন রওনা হচ্ছেন, সেদিনও স্ত্রী তাঁকে ভালো পোশাক পরতে বলছিলেন। বরাবরের মতো প্রশ্ন করে বসলেন আইনস্টাইন, ‘কেন? কী প্রয়োজন সেটার?’ স্ত্রী ঠান্ডা গলায় উত্তর দিয়েছিলেন, ‘কারণ, সেখানে তোমাকে কেউ চেনে না’।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্কার

কবি হেলাল হাফিজকে আজীবন সম্মাননা

‘এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ কবিতার কবি হেলাল হাফিজের হাতে বাংলাদেশ প্রতিদিন আজীবন গুণীজন সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক যুগে পদার্পণ উপলক্ষে ১৯ গুণীজনকে আজীবন সম্মাননা জানানো হয়। সেই তালিকায় ছিলেন কবি হেলাল হাফিজ। কিন্তু অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত দিনে তিনি আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে পারেননি। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় কবি সম্মাননাটি এরই মধ্যে তুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ কারণে আজ শনিবার ইস্কাটনে তার ভাইয়ের বাসায় আজীবন সম্মাননা ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্র ও এক লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপ-সম্পাদক মাহমুদ হাসান ও সিনিয়র সহ-সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান।

বিডি প্রতিদিন

এসএসসির ফরম পূরণের সময় বাড়ছে

করোনাভাইরাসের কারণে শুরু হওয়া ‘লকডাউন’–এর কারণে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। লকডাউন শেষে এই সময় বাড়ানো হবে।

১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয়েছে, যা ৭ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ অবস্থায় আজ সোমবার থেকেই সারা দেশে লকডাউন শুরু হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, লকডাউনের কারণে কেউ যাতে সমস্যায় না পড়ে, সেটি বিবেচনা করেই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সময় বাড়ানো হলেও শিক্ষার্থীদের বিলম্ব ফি দিতে হবে না। নির্ধারিত ফি দিয়েই ফরম পূরণ করা যাবে।

বিডি প্রতিদিন

কাল থেকে গ্রন্থমেলার লিটলম্যাগ চত্বরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

অমর একুশে বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর নিয়ে বাংলা একাডেমির বিমাতাসুলভ আচরণের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছে লিটলম্যাগের সম্পাদকরা। রবিবার থেকে চলবে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট। ধর্মঘটের পাশাপাশি বিকেল ৫টায় লিটলম্যাগ সম্পাদক ও কর্মীদের নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

আজ মেলার তৃতীয় দিন রাত ৮টায় লিটলম্যাগের সম্পাদকরা সম্মিলিতভাবে এই ঘোষণা দেন। লিটলম্যাগের স্টল বিন্যাস এবং আগের জায়গায় (সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের পার্শ্ববর্তী স্থানে) ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই ধর্মঘট ডেকেছেন মেলায় স্টল পাওয়া বিভিন্ন লিটলম্যাগের সম্পাদকরা।

বিডি প্রতিদিন

অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ

অমর একুশে বইমেলা-২০২১ শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। বিকাল ৩টায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পরই মেলা উন্মুক্ত হবে সবার জন্য।

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বইমেলা শুরু হলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর বইমেলা হচ্ছে মার্চের ১৮ তারিখ থেকে, চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত।

মঙ্গলবার মেলার বিস্তারিত তুলে ধরে বাংলা একাডেমি। সেদিন জানানো হয়, ১৮ মার্চ বিকাল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই অনুষ্ঠানে দেওয়া হবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।

গত বছর বইমেলা শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ। সংক্রমণ কমে আসলেও টানা কয়েকদিন ধরে এই সংক্রমণ বাড়ছে। সব শঙ্কা ছাপিয়ে এবার গতবারের চেয়ে দেড় মাস পিছিয়ে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা-২০২১। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এবার শিক্ষার্থীদের মনে পাঠের খোরাক জোগাবে বইমেলা। তাই মেলা শুরু হওয়ার আগেই দর্শনার্থীর বেশে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে যাচ্ছেন পাঠকরা। পাঠকের পদচারণায় আনন্দের দোলা দিচ্ছে প্রকাশকের মনে।

বই মেলা আবারও পেছাতে বললেন কবি নির্মলেন্দু গুণ

করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে একুশে বই মেলা ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পিছিয়ে ১৮ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আগামী বৃহস্পতিবার উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও এর মাত্র দুই দিন আগে আবারও বই মেলা পেছানোর কথা বললেন প্রখ্যাত কবি নির্মলেন্দু গুণ। আজ সোমবার তার প্রোফাইল থেকে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এই মতামত তুলে ধরেন তিনি।

ওই ফেসবুক পোস্টে নির্মলেন্দু গুণ লেখেন, ‘বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি যখন নতুন করে অবনতির মুখে পড়েছে, তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বস্তিতে থাকা বাংলাদেশেও যখন করোনার সংক্রমণ বাড়ছে– তখন আমাদের আসন্ন বই মেলা নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে বৈকি।

১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ১৮ মার্চ থেকে একুশের বই মেলা শুরু করার কথা যখন আমরা ভেবেছিলান– তখন  আশা করা হচ্ছিল যে, আগামী দিনে করোনা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

 

বই মেলা আগের মতো না হলেও, মোটামুটি জমবে। প্রকাশকরা এই মেলা থেকে লাভ না করতে পারলেও, তারা লোকসানের মুখে পড়বেন না।

কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, দুর্ভাগ্য সমগ্র মানবজাতির! করোনার বেশ ক’টি ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হওয়ার পরও করোনার সংক্রমণ কমছে তো না-ই, বরং বাড়ছে দেশে দেশে। লক ডাউন কথাটা আবার নতুন করে ফিরে আসছে।

এমতাবস্থায়, বৃষ্টিবিঘ্নিত ক্রিকেট ম্যাচের মতো আসন্ন বই মেলাটি আপাতত স্থগিত করাটাই শ্রেয় মনে করছি।

Match abandon ঘোষণা না করে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে এপ্রিলের ১৮ থেকে বই মেলা শুরু করার কথা আমরা নতুন করে ভাবতে পারি।’

কবিতা

দ্বৈত বরণ

মনির হোসেন আনান্দ

 

অবুঝ মন-

শুধু তোমারই স্বপ্নে বেঁচে থাকার স্বস্তি খুঁজে,

পাখির নীড়ের মতন একটি একটি করে খড় তুলে

আপন ঘর যায় রচিত করে।

এই পৃথিবীতে যেমন দিন রাত্রি আসে

এক সূর্য আর্বতনে-

আমারও তাই হয় শুধু তোমাকে কেন্দ্র করে।

তুমি জাননা, কত সিন্ধু সম  নিঃসঙ্গতা ধারণ করে

ঐ নক্ষত্রটা আছে জেগে তিমির রাতে-

ভর করে আমার প্রাণের পরে।

আমার অগ্নিবীনা থরে থরে ওঠে বেজে

দুশ্চিন্তার কালো মন্ত্রের  সমীরণে।,

আমার চারপাশটা জুড়ে শুধু উদাস কোকিল-

গান গেয়ে যায় বসন্তে নীড় হারা হয়ে।

পৃথিবীর সমস্ত কাব্য যেন আমার  ভাবনা গুলো

রেখেছ নিভৃতে পরম যত্ন করে।

আমার অপেক্ষার দীর্ঘ পথ ক্রমেই  আসছে ফুরিয়ে

করতে দ্বৈত বরণ অপার্থিব আয়োজনে ।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করেছে। ভার্জিনিয়ায় “ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি” নামের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার এ উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। করোনা মহামারির কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিও পরিণত হয় আনন্দকেন্দ্রে।

ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী আবুবকর হানিপের মালিকানাধীন ‘ইনোভেটিভ গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়ের সংযোজন ঘটলো যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশ্ববিদ্যালয় চালুর মধ্য দিয়ে।

বহুজাতিক এ সমাজে কেবল প্রবাসীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই নয়; বাংলাদেশের মেধাবিদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখবে বলে নিজের আশার কথাও জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যত বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি পাবে, তত বেশি অর্থ যাবে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশিদের স্বপ্ন সারথি হোক এই বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, পরিচালক, শিক্ষার্থী ছাড়াও অতিথি হিসেবে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, সামিট গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ খান, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার।

ভিডিওতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. সাজ্জাদ হোসেন, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ড. নীনা আহমেদ।

স্বাগত বক্তব্যে ওই ইউনিভার্সিটির উদ্যোক্তা প্রকৌশলী আবুবকর হানিপ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি, কারিগরি শিক্ষাও দেয়া হবে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে। যেন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার সাথে সাথেই সবাই চাকরি পেয়ে যান।

যুক্তরাষ্ট্রে অসংখ্য শিক্ষার্থী ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেও মাসের পর মাস চাকরি পান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক দপ্তরেই পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগে। অভিজ্ঞতা না থাকলে আইটি সেক্টরে কখনোই চাকরি পাওয়া যায় না। এই ইউনিভার্সিটিতে সে ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

তিনি জানান, এই ইউনিভার্সিটিতে তথ্য-প্রযুক্তি, ব্যবসা-প্রশাসন, প্রজেক্ট এবং হেলথ কেয়ার পড়ানো হয়। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনিভার্সিটির মালিকানা বদল হয়ে এসেছে, তাদের হাতে। এখানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যেন অবাধে ভর্তির সুযোগ পান সে চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মোমেনের নামে দুটি স্কলারশিপ ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীর মধ্য থেকে এই স্কলারশিপ একটি ব্যাচেলর এবং আরেকটি মাস্টার্স কোর্সের জন্য পাবেন। এর বাইরেও প্রায় দুই লাখ ডলারের শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হবে বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদেরকে।