খবর এএফপি।
তবুও হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পকেই চাইছে বেইজিং

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীনকে বিভিন্নভাবেই ক্ষেপিয়ে দিয়েছেন, হতাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু আগামী নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পেরই জয় কামনা করবে বেইজিং। কারণ ট্রাম্প জয়ী হলে পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব যে কমছে এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং চীনের উত্থান অক্ষুণ্ন থাকবে।

চার দশক আগে সম্পর্ক স্থাপনের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিক্ততা বেড়েছে বেইজিংয়ের। কিন্তু বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিটির সঙ্গে আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের চরিত্র হতে নারাজ চীন।

‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় চীনকে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। তিনি বড় আকারের বাণিজ্যযুদ্ধের সূচনা করেন, যাতে চীনের শতকোটি ডলারের লোকসান হয়েছে। চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বিভিন্নভাবে নাস্তানাবুদ করেছেন ট্রাম্প। কভিড-১৯ মহামারীর জন্য বেইজিংয়ের প্রতিই অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করেছেন তিনি।

এতসব তিক্ততা সত্ত্বেও আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পেরই জয় কামনা করবে চীন। কারণ এর মাধ্যমে বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে চীনের উত্থানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে, তা এগিয়ে নেয়া সহজতর হবে।

বাকনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ঝিকুন ঝু বলেন, ট্রাম্প জয়ী হলে চীনের হাতে বিশ্বায়ন, বহুপক্ষবাদ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মশালটি চলে যাবে।

ট্রাম্প জয়ী হওয়ার পর পরই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বাণিজ্যিক চুক্তি ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেন। চীনা পণ্যে শতকোটি ডলারের শুল্ক আরোপের পাশাপাশি বৈশ্বিক মহামারীর চূড়ান্ত পর্যায়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্র যেখান থেকেই পিছু হটেছে, সেখানেই সামনে এগিয়ে গিয়েছে চীন।

মুক্ত বাণিজ্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীনকে নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এমনকি দরিদ্র দেশগুলোতে কভিড-১৯-এর টিকা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ঝু মনে করেন, আরেক মেয়াদে ট্রাম্প জয়ী হলে বিশ্ব মঞ্চে নেতা হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে চীনের হাতে মশাল তুলে দেবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের চীন বিশেষজ্ঞ ফিলিপে লো কোর মনে করেন, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি দীর্ঘমেয়াদে বেইজিংয়ের উপকারে আসবে। এ নীতির কারণে অনেক পুরনো মিত্রকে হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তা চীনের সম্প্রসারণের পথ সুগম করে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের উত্থানে সবচেয়ে খুশি হয়েছেন চীনা জাতীয়তাবাদীরা। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসের প্রধান সম্পাদক হু শিজিন ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে এক সম্পাদকীয়তে লেখেন, আপনি আমেরিকাকে হাস্যকর হিসেবে উপস্থাপন করতে থাকুন এবং হোয়াইট হাউজের প্রতি বিশ্বকে ক্ষেপিয়ে তুলুন। আপনি আসলে চীনে ঐক্য বাড়িয়ে দিতে সহায়তা করছেন।

ট্রাম্প সন্দেহাতীতভাবে চীনকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অনেক বিপাকে ফেলেছেন। কিন্তু জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে সেগুলো থেকে মুক্তি পাবে না চীন। বরং বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের নেতৃত্ব ফের দাবি করে বসবে ওয়াশিংটন। সাম্প্রতিক সময়ে উইঘুর, তিব্বত ও হংকংয়ের স্বাধীনতা ইস্যুতে বাইডেনের মতামত বেইজিংকে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে।

বাকনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝু বলেন, জিনজিয়াং ও তিব্বতে মানবাধিকার ইস্যুতে ট্রাম্পের চেয়েও শক্ত অবস্থান নেবেন বাইডেন।

অবসরের পাওনা আদায়ে ৪০ বছর ধরে এক কোর্ট থেকে অন্য কোর্টে ছুটি চলেছেন পূবালী ব্যাংকে অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা; জনাব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন।

চাকুরিতে ১০/১১/১৯৬০ ইং তারিখে যোগদান করেন জনাব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। ২০ বছর সুনামের সাথে চাকুরি করার পর বিনা নোটিশে এবং ব্যাংকের তৎকালীন বিধিমালা অনুসরণ না করে তাকে ৩০-১২-১৯৮০ তারিখে চাকুরিচ্যুত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ১২টি ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপক থাকাকালীন তিন বছর সেরা ব্যবস্থাপক হিসাবের সুনাম অর্জন করেন।

ব্যাংক তাঁর বিরুদ্ধে ২৪-৪-৭৬ ইং তারিখে বিশ হাজার টাকার একটি ডিডি জালিয়াতির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে  তদন্ত চলায় এবং ৩০-১২-১৯৮০ পর্যন্ত তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ খুজে বেড়ায়। ৫৭ মাস তাঁর প্রমোশন, ইনক্রিমেন্ট, বোনাস বন্ধ রেখে ৩১ মাস তাঁর বেতন থেকে উক্ত টাকার মধ্যে ৩,১০০/- কর্তন করা হয়। ব্যাংকের চূড়ান্ত অভিযোগ পত্রে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে না পেরে দায়িত্বে অবহেলার (যা কোর্টে প্রমাণ যোগ্য হয়নি) অভিযোগে চাকুরিচ্যুত করা হয়।

তিনি চাকুরি ফিরে পওয়ার জন্য ১৯৮১-২০০৭ সাল পর্যন্ত কমার্শিয়াল কোর্ট হতে হাইকোর্টে ৭টি মামলায় তার পক্ষে রায় পেলেও আজো অবধি পূবালী ব্যাংক থেকে তাঁর ৩২ বছরের বেতন ও অবসরের টাকা বুঝে পাননি।

উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়ার পরও তাঁকে কাজে যোগদান করার সুযোগ না দিয়ে ২৯/০৩/১৯৯৯ ইং তারিখে নিন্মতর পদে অর্থাৎ জুনিয়র অফিসার হিসাবে ভুতপূর্ব অবসর প্রদান করা হয়। পূবালী ব্যাংক উচ্চ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করাতে ৩০/০৫/২০০৭ তারিখ পর্যন্ত বেতন ও পাওনা নিষ্পত্তি না করে ব্যাংক পাওনার আংশিক অর্থ ১৯৯৯ পর্যন্ত প্রদান করে। অবসর প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংক প্রচলিত কোন রীতি মানে নাই। অবসর দেয়া হলেও তাকে অবসরের কোন প্রকার চিঠি, সুযোগ সুবিধা না দিয়ে ও তার বকেয়া আইনসংগত ভাতা না দিয়ে ১৮-১২-২০০৭ ইং তারিখে ৭,৫৪,৩১৬/- টাকার একটি পে-অর্ডার তার ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়ে ব্যাংক তার দায়মুক্তি নিতে কৌশল অবলম্বন করে।

এছাড়া পাওনা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগীতা চাইলে তারা পূবালী ব্যাংকের স্টেটমেন্টের সাথেই মিলিয়ে বলছে বিচারধীন বিষয়ে তারা কোনই সহযোগীতা করবে না। এমনকি অর্থ মন্ত্রীর দপ্তর চিঠি দিলেও তারা অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জনাব তোফাজ্জেল হোসেনের দাবী অনুযায়ী পাওনা গুলো হিসাব করে পর্যন্ত দেখেনি।

শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত ভিকটিমের পাওনা ও ন্যায্য দাবির বিষয়টি পুনর্বার হাইকোর্টে বিচারাধীন ও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। দীর্ঘ ৪০ বছর কোর্টের পিছনে অপেক্ষার পরেও জনাব মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন জানেননা এই ৮০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুর পূর্বে তাঁর পাওনা অর্থ পাবেন কিনা।

ঢাকার ডিটেইল এরিয়া প্লান(DAP) সংশোধন ২০১৬ -২০৩৫ খসড়া প্রস্তবনা
প্রকৌশলী আব্দুল লতিফের মতামত

ঢাকার ডিটেইল এরিয়া প্লান(DAP) সংশোধন ২০১৬ -২০৩৫ খসড়া প্রস্তবনা প্রথম আলো পত্রিকায় পড়ে মনে হল আমরা কি আবার স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ফেরত যেতে চাচ্ছি, না ২০৫০ সালের দিকে যাচ্ছি।

চোখ বন্ধ করে থাকলেই কি প্রলয় বন্ধ হয়? হয় না। বিল্ডিং এর উচ্চতা বেধে দিলেই কি ঢাকার জন সংখ্যা কমে যাবে বা নাগরিক সুবিধা বেড়ে যাবে? না কোনোটাই হবে না। ঢাকার জন সংখ্যা কমাতে হলে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে অথবা ঢাকার সাথে আশপাশের জেলা শহর গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে যাতে মানুষ আশপাশের জেলা শহর হতে ৪৫ মিনিটের মধ্যে ঢাকাতে এসে কাজ করে আবার রিটার্ন চলে যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেলের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আশা করি মেট্রোরেল চালু হলেই পাব্লিক ট্রান্সপোর্ট কমে যাবে তখন যানজট অনেক অংশেই লাঘব হবে।

এমনকি প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহর হতে প্রতিদিন লোকজন ঢাকায় এসে কাজ করে আবার রিটার্ন চলে যেতে পারে সে ব্যবস্থাও করা সম্ভব। উন্নত বিশ্বে সাবওয়ে আছে মাটির ৬০ ফুট নীচ দিয়ে ৩৫০কিমি বেগে ট্রেন চলাচল করছে। এই মূহর্তে আমরা এটা বাস্তবায়ন করতে না পারলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এটা বাস্তবায়ন করবে বলে আশাকরি। সে সব দেশে ২০০/৩০০কি.মি. দূর হতে মানুষ ৪৫ মিনিট টু ১ ঘন্টার মধ্যে শহরে এসে কাজ করে আবার রিটার্ন চলে যাচ্ছে। নাগরিক সুবিধাও আমরা ইচ্ছা করলেই বাড়াতে পারি।

DAP প্রনয়নের লক্ষ্যছিল ঢাকা এবং ঢাকার আশপাশের জলাশয়, নদ নদী যেন ভরাট না হয়, যত্রতত্র ধানী জমি নষ্ট করে শিল্প কল কারখানা বা আবাসিক এরিয়া গড়ে না ওঠে। নতুন প্রজন্মের বর্ধিত জনগনের এ্যাকোমডেশন ও পরিবেশ গত দিক বিবেচনা করে ঢাকা শহর বিনির্মাণের লক্ষে ও পার্শ্ববর্তী দেশসমূহকে অনুসরন করে ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ভারটিক্যালি এক্সপানশন করার লক্ষে ২০০৮ সনে সরকার একটি বিধিমালা প্রনয়ণ করেন। কিন্তু মাত্র ১২বছর যেতে না যেতেই আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য DAP এর মুল উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন না করে ও জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত ও ঢাকা শহরের উন্নয়ন ব্যহত করার জন্যই এমন একটি DAP প্রনয়নের জন্যে কাজ করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে । ঢাকাশহর বাসীর নিকট নতুন DAP কতটুকু গ্রহন যোগ্যতা পাবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ্য ব্যাপার!

চমক হাসান
একজন অঙ্ক ভাইয়ার গল্প!

গণিতে পঞ্চাশ পাওয়ায় এক শিক্ষক তাকে বলেছিলেন, ‘তুই তো অঙ্ক পারিস না, আর্টস বা কমার্স নে, ভালো করবি।’ একটা জেদ চেপে গিয়েছিল ছেলেটার মনের ভেতরে, গণিতের ভয়কে জয় করার জেদ…

অঙ্কে খুব একটা ভালো ছিল না ছেলেটা। ক্লাস এইট থেকে নাইনে ওঠার সময় এক শিক্ষক তাকে বললেন, ‘তুই তো অঙ্কে কাঁচা, তোর সায়েন্স পড়ার দরকার নেই, বরং আর্টস বা কমার্স নে, ভালো করবি।’ ছেলেটার স্বপ্নজুড়ে ছিল সে সায়েন্সে পড়বে, বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানবে। শিক্ষকের এই পরামর্শটা খুব গায়ে লাগলো তার। জেদ চেপে গেল, অঙ্ককে বশে আনতেই হবে। তীর ছোঁড়ার জন্যে ধনুকে তীর গেঁথে যেমন পেছনের দিকে টান দিয়ে ধরতে হয়, সেরকম ছেলেটাও নিজেকে পিছিয়ে নিয়ে গেল। ক্লাস সিক্স-সেভেনের বইগুলো দিয়ে আবার সে শুরু করলো ‘মিশন অঙ্ক’। মাঝে অনেককিছুই ঘটে গেছে, সেই গল্পগুলো একটু পরে বলছি। তার আগে বর্তমান পরিচয়টা জানিয়ে দেই। সেই ছেলেটাকে আমরা এখন চমক হাসান নামে চিনি, অনেকের কাছেই যার আরেক না ‘অঙ্ক ভাইয়া’!

হ্যাঁ, অলরাউন্ডার চমক হাসানের কথাই বলছি, গণিতকে ভয়ের জায়গা থেকে সরিয়ে আনন্দের একটা বিষয়ে পরিণত করার জন্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন যে মানুষটি। অনেকেই তাকে গণিত শিক্ষক হিসেবে চেনে, চমক হাসান কিন্ত এই পরিচয়টা একদমই পছন্দ করেন না। তিনি গনিতের আনন্দ ছড়িয়ে বেড়ান, অঙ্ক জিনিসটা যে মোটেও ভয়ের কিছু নয়, বরং দারুণ মজার জিনিস- সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি। আর সেজন্যেই ইউটিউবে নিজের চ্যানেলে ‘গণিতের রঙ্গ’ বা ‘চটপট গণিত’ নামের সিরিজ বানান, ‘ডিজে পিথাগোরাস’ টাইটেলের র‍্যাপ গান গেয়ে ফেলেন, যেটার কথা ও সুর আবার তারই!

গণিত বিষয়টা চমক হাসানের কাছেও একটা সময়ে ভয়ের নামই ছিল। ক্লাস নাইনের ওই ঘটনার পরে তিনি আদাজল খেয়ে নামলেন সেই ভয়কে জয় করার জন্যে। বুয়েটে ভর্তি হবার পরে গণিত অলিম্পিয়াডের সঙ্গে যুক্ত হলেন, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সংস্পর্শে এলেন। অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটা ক্যাম্প করা হয়েছিল যেখানে গণিতের একটা অংশ শেখানোর দায়িত্ব পান তিনি৷ সেই থেকে শুরু৷

বুয়েটের পড়ালেখা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্যে তিনি চলে গেলেন আমেরিকায়। কিন্ত যে কাজটা তাকে আনন্দ দিতো, তাকে উৎফুল্ল রাখতো, সেটাকে ভীষণ মিস করা শুরু করলেন তিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে আসার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিলেন ইউটিউবকে। ২০১২ সালের কথা সেটা। ইউটিউবে গণিতের ওপরে ভিডিও বানিয়ে আপলোড দিতে থাকলেন চমক হাসান, শুরু করলেন ‘গণিতের রঙ্গে’ সিরিজটা দিয়ে। আমাদের স্কুল-কলেজগুলোতে যেভাবে গণিতটা পড়ানো হয়, সেটা উপভোগ্য কখনোই হয়ে ওঠে না। বরং গণিতের প্রতি একটা বিবমিষা জন্ম নেয়। একারণেই অসংখ্য শিক্ষার্থী অঙ্ক না বুঝে শুধু ফর্মূলাটা মুখস্ত করারও চেষ্টা করে। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষকও এই জায়গাটায় ভীষণ উদাসীন, গণিতের মধ্যে যে দারুণ মজা লুকিয়ে থাকতে পারে, সেটা তারা আমাদের কখনও জানাননি। কে জানে, হয়তো তারা নিজেরাও জানেন না গণিতের এই রস সম্পর্কে!

চমক হাসান গণিতের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই ‘মজার’ সন্ধান দিতে নামলেন। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়লো তার ইউটিউব চ্যানেল, তার বানানো ভিডিওগুলোর ভিউ বাড়তে থাকলো। সেসব ভিডিওতে গল্পের ছলে তিনি অঙ্কভীতি দূর করার চেষ্টা করেছেন, হাতে ধরে সহজ ভাষায় বুঝিয়েছেন জ্যামিতি, ক্যালকুলাস কিংবা শূন্যের ইতিবৃত্ত- সবকিছুই সহজ ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি সেসব ভিডিওতে। ছাত্র-ছাত্রীরাও অন্যরকম এক শিক্ষকের দেখা পেয়ে লুফে নিলো তাকে। এই শিক্ষক বকা দেন না, বেতের বাড়ির ভয় দেখান না, একটু অন্য নিয়মে অঙ্ক করলে কেটে ‘জিরো’ বসিয়ে দেন না- তার ওপরে ভীষণ মজা করে কথা বলেন, অঙ্ক নিয়ে গানও শোনান- তাকে ভালো না বেসে উপায় আছে?

গত ছয় বছর ধরে চমক হাসান তার ইউটিউব চ্যানেলে অঙ্ক নিয়ে অজস্র ভিডিও বানিয়েছেন, সেগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সমাদৃতও হয়েছে দারুণভাবে। তবে শুধু অঙ্কই নয়, আরও অনেক অনেক জায়গায় তিনি দারুণ পারদর্শী। তার গানের গলা চমৎকার, বুয়েটে পড়ার সময়ে ‘সুয়া চান পাখি’ গানটা কোন শিল্পী গাইলে কেমন হতো, সেটাই বন্ধুদের দেখিয়েছিলেন মজা করে। কোন এক বন্ধু সেটা ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোড করে দিয়েছিলেন, সেটাও অনেক আগের কথা। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল, যারাই দেখেছেন, চমকের গায়কী এবং অভিব্যক্তি দেখে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেয়েছেন নিশ্চিত!

গণিত অলিম্পিয়াডের যে থিম সং, সেটা তার লেখা। ‘মন মেলে শোন, শুনতে পাবি…’ শিরোনামের সেই গানটা প্রতিটা গণিত উৎসবেই গাওয়া হয়। এর বাইরেও তিনি নিজের লেখা গানে সুর করে গেয়েছেন। কিছুদিন আগেও ‘সাড়ে আট হাজার মাইল দূরে’ শিরোনামের একটা গান গেয়েছিলেন, দেশ থেকে অনেক দূরে থাকার কষ্টটা ফুটিয়ে তুলেছিলেন সেই গানে। ডিজে পিথাগোরাস নামের একটা র‍্যাপ গানও বানিয়েছেন কিছুদিন আগে। যে পিথাগোরাসের উপপাদ্য ছিল আমাদের কাছে আতঙ্ক, সেই পিথাগোরাস আর তার উপপাদ্যকেই হাসির ছলে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন চমক হাসান।

গণিতের নাম শুনে যাতে কেউ ভয় না পায়, সেটাই চমক হাসানের মিশন
যে ভালো রাঁধে, সে নাকি চুলও বাঁধে। এত গুণ যে মানুষটার, তিনি আবার দারুণ লেখেনও। বেশ কয়েকটি বই বেরিয়েছে তার, হাসিখুশী গণিত নামের একটা বই আছে তার, ‘গল্পে গল্পে জেনেটিক্স’ নামেও একটা বই লিখেছেন তিনি। সবশেষ বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে চমক হাসানের নতুন বই- ‘নিমিখ পানে: ক্যালকুলাসের পথে পরিভ্রমন’। আমাদের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ক্যালকুলাস কিভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে, সেটাই তিনি বলেছেন এই বইতে।

তড়িৎকৌশলের ওপরে পিএইচডি করা চমক হাসান এখন ‘বোস্টন সায়েন্টিফিকে’ কাজ করছেন গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকৌশলী হিসেবে। বাংলাদেশেও এখন দারুণ জনপ্রিয় তিনি, ঢাকার রাস্তায় অনেকেই দেখলে চিনতে পারেন তাকে, সেলফি তুলতে চান। দেশে ফিরে কিছু করবেন, সেই ইচ্ছেটা তার অনেকদিনের। চমক হাসান বলছিলেন-

“আমার ইচ্ছে আছে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর, নিজের গবেষণা ক্ষেত্রটাকে এগিয়ে নেওয়ার। এর সাথে গণিত ও বিজ্ঞানের উপর বই লেখা, ভিডিও করা চালিয়ে যাব। গণিত-বিজ্ঞান নিয়ে গণমাধ্যমে অনুষ্ঠান করারও পরিকল্পনা আছে। গণিত আর বিজ্ঞানের জন্য ভালোবাসাকে প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলগুলোতে পৌঁছে দিতে চাই। একটা সুস্পষ্ট রূপরেখা দাঁড়া করাতে চাই যেন, ৪৮৮ টি উপজেলায় ৪৮৮ টা গণিত ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা যায়, এরপর সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে মানুষের কাছে গণিত আর বিজ্ঞানের আনন্দ তুলে ধরা যায়।”

অঙ্ক জিনিসটা যে এত মজার হতে পারে, সেটা আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের অনেকেই হয়তো জানতেও পারতেন না, যদি চমক হাসান না থাকতেন। দেশে ফিরে তিনি আরও বড় পরিসরে কাজ করার যে স্বপ্নটা তিনি দেখছেন, সেটা পূরণ হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অঙ্কভীতি দূর হতে সময় লাগবে না খুব বেশি। সেই ভীতি দূর করার জন্যে একজন ‘অঙ্ক ভাইয়া’ তো আছেন! সুত্র: এগিয়ে চলো

বণিক বার্তায় প্রকাশিত
‘ফেক নিউজ’ মোকাবেলায় প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকদের কৌশল

বিভ্রান্তিকর বিবৃতি যাচাইয়ে টুইটার সম্প্রতি ফ্যাক্ট-চেকিং অপশন সংযোজন করেছে। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ বেঁধেছে এবং অপপ্রচারের বিষয়টিও সামনে এনেছে। টুইটার ও ট্রাম্পের মধ্যকার এ বিরোধ প্রযুক্তিগত অগ্রসরতার নেতিবাচক ফল মনে হলেও এটি আদৌ কোনো নতুন বিষয় নয়। প্রাচীন গ্রিসেও সত্য, জ্ঞান ও গণতন্ত্র সম্পর্কে নিজস্ব কঠিন কঠিন বিতর্কের চল ছিল। আজকে প্রাচীন দার্শনিকরা বেঁচে থাকলে বলতেন, এটি কেবলই টুইট নিয়ে ঝগড়া নয়, বরং সত্যের মূল্য দেয়া সমাজে বাস করতে মৌলিক পছন্দ তৈরিবিষয়ক আমাদের প্রশ্নের মুখোমুখি করা একটি মুহূর্তও বটে। এ প্রশ্নের এথেনীয় অ্যাপ্রোচ প্রশ্নহীন ও অমূল্যায়িত অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য কীভাবে খোদ গণতন্ত্রকেই নাজুক করতে পারে, তা দেখায়।

এ ‍যুগের ‘ফেক নিউজ’ বা ‘ভুয়া সংবাদের’ বেশ আগেই সত্য সম্পর্কে গ্রিকদের চমকপ্রদ ও প্রাণবন্ত কিছু ধারণা ছিল। সক্রেটিস বলেছিলেন, পরম সত্য (সোফিয়া) জ্ঞেয় বা জানা সম্ভব এবং কেবল সত্য সম্পর্কে পারস্পরিক যোগাযোগ বিনিময়টাই সর্বোত্তম। তার ছাত্র ও উত্তরসূরী প্লেটো আরো অগ্রসর হয়ে বলেছিলেন, দ্বান্দ্বিকতার (ডায়ালেকটিক) মাধ্যমে যেকেউ সত্যে পৌঁছতে পারে, যা প্রশ্ন করা এবং নিরীক্ষণের একটি পদ্ধতিকেই বোঝায়। সক্রেটিস ও প্লেটো উভয়ই প্রস্তাব করেছিলেন যে, প্রজ্ঞা সম্পূর্ণরূপে কেবল ‘সত্য’ ধারণেই নয়, বরং দুর্ভাগ্যক্রমে সেই সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে সজাগ থাকার মধ্যেও নিহিত।

গণতান্ত্রিক এথেন্সের একজন মহান দার্শনিক হিসেবে আমরা প্লেটোকে এখনো স্মরণ করি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি গণতন্ত্রের অনুরাগী ছিলেন না। কারণ তিনি মনে করতেন দ্বান্দ্বিকতার মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষই সত্যে পৌঁছাতে পারে না, কেউ কেউ পারে। তিনি দক্ষ বাগ্মিতা তথা রেটরিক নিয়েও ততটা ভাবিত ছিলেন না। তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে সত্যের জ্ঞান ছাড়া মানুষ শ্রোতাদের প্রভাবিত করতে ম্যানিপুলেশন ও ‘বেজ রেটরিক’ ব্যবহার করবে, যারা পার্থক্যগুলো ঠিক ধরতে পারে না।

এসব কারণে প্লেটো বিশেষত সোফিস্ট নামে পরিচিত বক্তৃতার কলাকৌশল শেখানো শিক্ষকদের ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দিহান ছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন গর্জিয়াসের মতো গ্রিক বক্তৃতা বিশারদ। এরা ছিলেন স্বঘোষিত জ্ঞানী লোক, যারা অর্থের বিনিময়ে অভিজাতদের নৈতিকতা ও বক্তৃতাদান সম্পর্কে শেখাত। প্লেটোর দৃষ্টিকোণ থেকে সোফিস্টরা নিজের মক্কেলদের মন জয় করতে চতুর ভাষিক কৌশল ব্যবহার করত, কিন্তু সত্যানুসন্ধান মোটেই এগিয়ে নিত না। প্লেটো মনে করতেন, সোফিস্টরা নিজেরাও সত্য জানতেন না এবং তারা যাদের শেখাতেন, তারাও তা জানত না।

প্লেটোর সমালোচনার মধ্যে কিছু সত্যতা ছিল বটে, তবে বৃহত্তর অর্থে তিনি সঠিক ছিলেন না, পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন। নিজেদের দুর্বলতা সত্ত্বেও সোফিস্টরা একটি কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অত্যাবশ্যকীয় অংশীজন (প্লেয়ার) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিলেন। কেন? কারণ বেশিরভাগ রাজনৈতিক সমস্যা প্লেটোর দ্বান্দ্বিকতায় সমাধান সম্ভব হয়নি। এর মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসেনি, কিংবা এলেও তা সহজ ছিল না। কাজেই সোফিস্টরা গণতন্ত্র চর্চার প্রয়োজনীয় দক্ষতা রপ্ত করেছিলেন। আর তা হলো, কীভাবে সত্য সম্পর্কে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হয়, তার উপায় শেখা। কীভাবে শক্তিশালী যুক্তি তৈরি করতে হয়, নিজেদের পক্ষে শ্রোতাদের কীভাবে টানতে হয় এবং কীভাবে রুক্ষ্ণ-বিরোধপূর্ণ সমস্যা সমাধান করতে হয়, সেটি তারা মানুষকে শেখাতেন।

অন্যদিকে প্লেটোর দার্শনিক সত্য সন্ধানের বিপরীতে সোফিস্টদের লক্ষ্য ছিল ব্যবহারিক সত্য উদঘাটন (ফ্রনেসিস)। পাল্টা বয়ানগুলোর সপক্ষে তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে কীভাবে শক্তিশালী যুক্তি তৈরি করতে হয়, তারা তা শেখাত। সক্রেটিসের পরম জ্ঞেয় সত্য সন্ধানের বিপরীতে সোফিস্টরা সত্যকে ‘বিচিত্র মতামতের একটি জনগোষ্ঠীর নিজ বিশ্বাসের প্রতি একে অন্যকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা’ হিসেবে দেখতেন।

অবশ্যই হ্যাঁ, পরম সত্যের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ব্যবহারিক সত্যকে (ফ্রনেসিস) অস্পষ্ট ও ধাঁধাময় মনে হয়। যখন শোনেন যে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর যুক্তি তৈরির সমার্থক হিসেবে আজকেও মানুষ ‘কুতর্ক’ শব্দটি ব্যবহার করে; তখন মনে হবে যেন কালের পরিক্রমায় খোদ প্লেটোই আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন।

কাজেই আজকের দিনের অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য কি নিছকই কূটতর্ক? সম্পূর্ণ নয়। আমাদের গণতন্ত্র আসলে আধুনিক সোফিস্টদের সাদরে গ্রহণ করে, তাদের মূল্য দেয়। প্রাচীন গ্রিকদের মানদণ্ডে আজকের অধ্যাপক ও আইনজীবীরা দার্শনিকদের চেয়ে সোফিস্টদের মতো বেশি বিবেচিত হবেন। অধ্যাপকেরা তাদের বিশেষায়িত শাস্ত্রে সাক্ষ্য-সাবুদের নিজস্ব ব্যাখ্যা প্রদান করে থাকেন। আর নিজেদের মক্কেলদের পক্ষে সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক যুক্তি তুলে ধরতে আইনজীবীরা ন্যায়শাস্ত্র ও বাগ্মিতার দক্ষতা কাজে লাগান। (এবং প্রাচীন সোফিস্টদের মতো উভয়ই নিজেদের প্রচেষ্টার জন্য অর্থ গ্রহণ করেন)।

প্লেটোর যেকোনো পরম ভক্তকে মোকাবেলা করতে হলে আমাদের অবশ্যই অধ্যাপক ও আইনজীবী উভয়েরই সত্য সন্ধানের ওপর সমান জোর দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষগুলোয় শিক্ষার্থীরা তাদের প্রশিক্ষকদের প্রশ্ন করে এবং যুক্তি দিয়ে তাদের চ্যালেঞ্জ করতে উৎসাহিত হয়। (আইনের অধ্যাপকেরা আসলে সক্রেটেসীয় পদ্ধতিতে পড়ায়!) আদালত কক্ষগুলোয় সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে নিরীক্ষা করা হয়, যাচাই করা হয় এবং জুরিদের ক্ষেত্রেও (তাদের বাছাই করা হয়, কারণ তারা ট্যাবুলা রাসা- ফাঁকা স্লেট) আশা করা হয় যে পাল্টামুখী পক্ষ-বক্তব্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মিথ্যাটা বোঝার চেষ্টার মাধ্যমে তারা সত্যে পৌঁছবেন।

আমেরিকা এরিস্টটলের আদৃত গণতন্ত্রের ভার্সনই সংহত করে, যা প্লেটো এবং সোফিয়েস্টদের মধ্যকার সবচেয়ে ভালো বিষয়গুলোরই সম্মিলন ঘটায়। এরিস্টটল ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, রেটরিক হলো (ফ্রনেসিস) ডায়ালেকটিকের (সোফিয়া) কাউন্টারপার্ট। সত্যানুসন্ধানের উভয় পদ্ধতি রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধান এবং সত্যে পৌঁছানোর জন্য জরুরি।

তবে সমস্যা হলো যে অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্য এসব মডেলের বাইরে লুকিয়ে থাকে। আমরা অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্যের সম্মুখীন হলে প্রায়ই দেখি যে এর উৎপত্তি, যেকোনো ফলাফলে পৌঁছাতে এক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদ্ধতি সাধারণত অস্পষ্ট থাকে। অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্য অকাট্য যুক্তি যেমন হাজির করে না, তেমনি তা কঠোর নিরীক্ষণও উৎসাহিত করে না। উল্লিখিত দুটি বিষয় সম্মতিবিহীন প্ররোচনা বৈ কিছু নয়। প্রকৃতপক্ষে, তথ্যের নতুন ভার্সন প্রদান করে এর মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বা বিষয় লুকোনোর চেষ্টা করা হয়। যোগাযোগের এসব ধরন যুক্তির বিপরীতে প্রভাবভিত্তিক (ম্যানিউপুলেশন-বেজড) একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করে থাকে। অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্য একটি জগৎ সৃষ্টি করে, সত্য সন্ধানের একটি সম্মিলিত প্রয়াসের বিপরীতে যেখানে অবিশ্বাসকে বিশ্বাসঘাতকতা গণ্য করা হয়।

মোটা দাগে বলা যায়, অপপ্রচারের লক্ষ্য প্ররোচনা নয়, বরং এর লক্ষ্য হলো কমপ্লায়্যান্স নিশ্চিত করা। এটি সোফিয়া বা ফ্রনেসিস কোনোটাই কাজে লাগায় না। সেজন্য এটি কর্তৃত্ববাদীদের প্রিয় একটি যোগাযোগের ধরন। সত্যের অন্য সব দাবি প্রত্যাখ্যান করে আমরা যা বিশ্বাস করি এটি কেবলই তা দাবি করে। কোনো দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি ব্যবহারের পরিবর্তে সত্যানুসন্ধানের কিছু গোপন প্রক্রিয়া দাবিপূর্বক এটি পরম সত্যের অস্তিত্ব স্বীকার করার মতো একটি বিষয়। কোনো সাক্ষ্য-যুক্তি উপস্থাপন ছাড়া কোনো কিছুকে ‘ভুয়া সংবাদ’ হিসেবে অভিযুক্ত করা নিজেই ভ্রমাত্মক। জর্জ অরওয়েলের ১৯৮৪ উপন্যাসের ভাষায় এটি ‘স্বীয় চোখ-কানের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করার’ সমতুল্য। ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থাপিত মিথ্যা তথ্যে নিহিত আনুগত্যের পরোক্ষ আকাঙ্ক্ষা গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক। যখনই সত্য অনুসন্ধান করার অঙ্গীকার করছি এবং এটি আবিষ্কারের পদ্ধতি সম্পর্কে সম্মত হচ্ছি, তখনই আমরা গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক ভিতের মৌলনীতিগুলো নির্ধারণ করে চলছি। এই সম্মিলিত মূল্য ও বিশ্বাস আমাদের কেবল সামষ্টিক সমাধানে পৌঁছাতে সাহায্য করে না, উপরন্তু এমন এক বন্ধনে আবদ্ধ করে যা আমাদের সমাজের ঐক্যতান ধরে রাখে। যার ফলে সরকারগুলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে উপনীত হলে কিংবা কোনো নীতি প্রণয়ন করলে আমরা সহজেই তার সঙ্গে ভিন্নমতও পোষণ করতে পারি।

কাজেই ট্রাম্পের টুইটে টুইটার যখন তথ্যজুড়ে দেয়ার চেষ্টা করে, তখন প্রতিষ্ঠানটি খুব পুরনো ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিই ব্যবহার করছে, যা আমাদের প্রাচীন গ্রিকদের কাছে নিয়ে যায়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সত্য অনুসন্ধান ও তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে আমাদের নিজেদের এবং ফেলো নাগরিকদের একটি দায়িত্ব রয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, সম্মিলিত মূল্যবোধ ও উচ্চতর মূলনীতির প্রতি অনুগত হতে আমাদের উৎসাহিত করে।

তবে ন্যায্য যুক্তি ও সত্য উন্মোচনের বিপরীতে সিদ্ধান্তগ্রহণ পক্ষাবলম্বনভিত্তিক হলে উল্লিখিত মৌলনীতিগুলো ব্যাহত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ব্যক্তি বা কোনো দলীয় সম্পর্কের প্রতি আনুগত্যভিত্তিক বিশ্বাসগুলো প্রশ্ন করতে সহায়তা জোগানো তথ্যের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। সূচনা বিন্দু হিসেবে একটি সম্মিলিত তথ্যগত বাস্তবতা ছাড়া বিবদমান ধারণাগুলোর এরিস্টটোলীয় আদর্শ বাস্তবায়ন এবং আমাদের সাধারণ ও যৌথ বিষয়গুলোয় ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

অপপ্রচারকারীরা- হোক সে প্রেসিডেন্ট বা অন্য সাধারণ কেউ, যখন মিথ্যার মুখে তথ্য জোগানোর যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তখন তারা সত্যানুসন্ধানের মূল স্তম্ভগুলোও (কৌতূহল ও তর্ক-বিতর্ক) প্রত্যাখ্যান করে, যার ওপর একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত প্রোথিত। যুক্তির বিপরীতে অভিযোগ এবং বোঝানোর বিপরীতে কমপ্লায়্যান্স গণতান্ত্রিক সংলাপের সঙ্গে বেমানান। প্রাচীন গ্রিকরা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে প্রশ্নহীন অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্যকেও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আমাদেরও তাই করা উচিত।

জোকালোপাবলিক স্কয়ার অবলম্বনে হুমায়ুন কবির

বাস্তবতা হলো আজকের এই যে সামাজিক অবক্ষয়

আমার এই অল্প সময়ের জীবনে আমি অনেক মানুষের সাথে মিশেছি। আদর্শ, চিন্তাভাবনা কিংবা মূল্যবোধের দিক থেকে প্রত্যকের মধ্যেই দেখেছি বিস্তর ফারাক। ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ, সেক্সুয়াল অরিয়েন্টশন, ধর্মীয় এবং সামাজিক বিশ্বাসের এই মানুষের মধ্যে আমার চোখে কেউ ছিলেন ভালো কেউ ছিলেন খারাপ। আমার চোখে বলার কারণ হলো, ভালো খারাপের ধারনাও আপেক্ষিক। সুতরাং মানুষভেদে তার সংজ্ঞাও পরিবর্তন হয়। চারপাশের এই মানুষদের দেখার পাশাপাশি আমি আমার নিজেকেও দেখছি প্রতিনিয়ত। আমার মধ্যে যেমন অনেক খারাপের বসবাস, ঠিক তেমনি অনেক ভালোরও। এই ভালো খারাপের মেলবন্ধনে আমার স্বত্বা। তবুও আমার এই চেতনার বিকাশ কিংবা বিশ্লেষণী দৃষ্টিকে যখন আমি খুব গভীরভাবে পর্যালোচনা করি, আমি তার মধ্যে একটা সূক্ষ পক্ষপাতিত্বের সাক্ষাৎ পাই।

সেই দৃষ্টি আমার নিজের খারাপ স্বত্বাকে আড়াল করে রাখতে চায়, সে আমাকে সবসময় আমার ভালো স্বত্বার সাথে পরিচয় করায়। তাই দিনশেষে আমি যে অনেক দিক দিয়েই খারাপ একজন মানুষ, তা আমি উপলব্ধি করতে পারিনা। সেই একই দৃষ্টি আবার আমার যা কিছু অপছন্দ তার বা তাদের খারাপ দিকগুলোর সাথেই পরিচয় করিয়ে তাদের সম্পর্কে আমার ধারনা তৈরী করতে শেখায়। এই পক্ষপাতিত্ব কিন্তু আমাদের সকলের মধ্যেই আছে। তাইতো একজন ধর্ষককে আমরা কেউ বিচার করি তার রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে, কেউ হয়তো বিচার করি তার পারিবারিক কিংবা সামাজিক অবস্থান দিয়ে। এই সামজিক অবক্ষয়ের কারণ দর্শাতে গিয়ে আমরা একেকজন একেকরকম যুক্তি দাড় করাই।

সেখানেও থাকে পক্ষপাতিত্ব, কেউ ভাবে নারীর ক্ষমতায়ন, প্রগতিশীলতা কিংবা তার ব্যবহৃত পোশাকই সকল সমস্যার কারণ, আবার কারো কাছে ধর্মীয় রীতিনীতি নারীর প্রতি এই অসম্মান দেখানো বা তাদেরকে সবসময় দমিয়ে রাখার জন্য দায়ী। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে ভালো দেখানোর একটা তথাকথিত শান্তি খুঁজি। কিন্তু বাস্তবতা হলো আজকের এইযে সামাজিক অবক্ষয় কিংবা মানুষের বিকৃত মানসিকতা আমরা দেখতে পাচ্ছি তার পেছনে আমাদের সকলেরই দায় কখনও না কখনও ছিলো কিংবা আছে। আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে নয়, বরং তার লিঙ্গ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয় কিংবা এই গোলকে তার অবস্থান কোন অঞ্চলে তা দিয়ে বিচার করি। আমরা সকলেই কোন না কোনভাবে আজকের এই অবস্থার জন্য দায়ী। আমার নিউজ ফিডে আমার আত্বীয় স্বজন, বান্ধবী কিংবা পরিচিত যতো নারী আছেন, আপনাদের কাছে সমাজের এই নৈতিকতার অবক্ষয়ের জন্য আমি যতখানি দায়ী তার জন্য আমি ক্ষমাপার্থী। এই পরিস্থিতিতে এর চাইতে বেশী কিছু বলার ভাষা কিংবা সাহস আমার নেই। ভালো থাকুন সবাই।

শুধু কি পুরুষরাই ধর্ষণ করতে পারে?

ধর্ষণ এর আক্ষরিক অর্থ কি?

কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা মানেই ধর্ষণ। শুধু কি পুরুষরাই ধর্ষণ করতে পারে?
ধর্ষণ যে শুধু পুরুষরাই করতে পারে আর মেয়েরা পারবে না, তা নয়। কয়েকটা মেয়ে যদি চায় তাহলে জোর করে ধরে একটা ছেলেকে ধর্ষণ করতে পারে। আসলে মেয়েরা সেটা করে না। আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে কখনো কোথাও কি এরকম ঘটনা ঘটেছে যে একটা ছেলেকে বা একটা পুরুষকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়েছে? অন্তত আমার তা জানা নেই।

আমি আমার এই লেখাটি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছি যে মেয়েরাও ইচ্ছে করলে রেপ করতে পারে কিন্তু মেয়েরা সেটা করে না। এটা আমি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে লিখেছি। এই লেখাটি আমি নোংরা মানসিকতার পুরুষদের আত্মপক্ষ সমর্থনের অজুহাত বের করে দেওয়া বা সৃষ্টি করে দেওয়ার জন্য লিখিনি বরং আমি বোঝাতে চেয়েছি যে মেয়েরাও ইচ্ছে করলে সবই পারে, মেয়েদের সেই ক্ষমতা নেই তা নয় কিন্তু আমাদের দেশের মেয়েরাতো রেপের মতো জঘন্য কাজটি করে না।

মেয়েরাও যদি রেপ করা শুরু করতো তাহলে কি রেপ কমে যেতো না বেড়ে যেতো?
হয়তো রেষারেষিটা আরো বেড়ে যেতো তার মানে ধর্ষণ আরো বেড়ে যেতো। তাহলে মেয়েরা কি করবে, কিভাবে প্রোটেস্ট করা যায় সেটাই এখন ভেবে খুঁজে বের করে দেখা দরকার।

প্রতিশোধ নয়, প্রতিরোধ করার যেকোনো একটা পন্থাতো খুঁজে বের করতেই হবে ধর্ষণকে ঠেকাতে।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস মেয়েরা যেভাবে পৃথিবীর আর সমস্ত বাধা অতিক্রম করে এতোদূর এসেছে সেভাবেই একদিন ধর্ষণের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধের আগুন ছড়িয়ে দিবে দিকে দিকে।

বিডি প্রতিদিন

আমি তোমার সংগে বেঁধেছি আমার প্রাণ

বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের কিংবদন্তি স্থপতি মোস্তফা খালিদ পলাশ এবং স্থপতি শাহজীয়া ইসলাম অন্তন এর বিবাহ বার্ষিকীতে তাসিনকো লিমিটেডের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

আমি তোমার সংগে বেঁধেছি আমার প্রাণ…..
ছবিটি যখন শেষ হলো তখন দেখি মনের অজান্তেই আঁকা হয়ে গেছে সেই বালিকা, যে কৈশর টপকে যুবাকালের দ্বারে আমার সাথে বেঁধেছে তার প্রাণ, সত্যি অর্থেই ললিত বসন্তে। মনের মাঝে এমন ছায়া কজন হতে পারে। সুখের দুঃখের কতোই না দীর্ঘ দিবস, দীর্ঘ রজনী পাড় করেছি অবলিলায় শুধুই সে ছিলো পাশে বলে। ১৯৮৩ যে যুগল যাত্রার শুরু ১৯৮৯ তে তা যুগলবন্দী হবার পর ৩১ বার সূর্যকে পরিক্রমন করেছে এই পৃথিবী; কতো তাপ, কতো ঝঞ্ঝা, কতো দুঃসময় ফিরে ফিরে আঘাত করেছে এ ক্ষুদ্র জীবনকে, কিন্তু সেই বালিকাই পরিণত নারী হয়ে আজও বর্মের প্রলেপে আগলে রেখেছে আমায় নিঃস্বার্থ বিসর্জনে। এপারে যে সংসার তা আমার কর্ম নয়, সম্পূর্ণ তোমারই দায় তোমারই কারিস্মা, তাই কালের যাত্রায় ওপাড়ে গিয়ে কিন্তু আমি আগে বসত গড়বো, তুমি এসো পরে। শুভ বন্ধন-দিন চির বন্ধু, চির নির্ভর চির শান্তি হে আমার, চির সখা হে আমার।

তাঁর লেখাটির মধ্যে দিয়ে  চির সবুজ চির তারুণ্যজ্জল মনের মাধুর্যতার প্রলেপ দিয়ে যায় যুগল প্রাণে এবং অনন্ত প্রেমের ভিত্তি স্থাপন করে মহাকালের বক্ষে। তাদেরকে বিশেষ মুহুর্তকে স্বরনীয় করে রাখতে তাসিনকো নিউজের সম্পাদক জনাব মনির হোসেন আনান্দ এর কবিতা:

ঘড়ির কাঁটার টিক টিক আবর্তনে
জীবন পঞ্জিকার ধারাবাহিকতার গতি যাচ্ছে পাল্টে,
দেখতে দেখতে আজ এতটি বছর-
ক্রমেই ধাবিত হচ্ছি মহাকালের অনন্ত পথে।
সে অসীমতায় কৃষ্ণগহ্বরে যদি কোন সাধ থাকে
তবে তোমাকেই নিব প্রিয়া, সে পথের সাথী করে।
যাবে কি সাথে এই অর্থবকে ভালবেসে?
মাঝে মাঝে তোমার শুভ্র কোমন আঁচল তলে
অবয়ব লুকিযে হাত ডুবানো কেশে অনুভব করি,
হয় তো আরও সহস্র যোজন কেটেছে এমনই করে,
নয় তো এত প্রেম এত ভালবাসা এত তৃষ্ণ আকাঙ্খা
এলো বলো কোথা থেকে?
কখনো কখনো আমার ভাবনা বিভোর
জলাছন্ন তরঙ্গ হীন চোখে চেয়ে বলতে-
কি দেখছো অমন করে তাকিয়ে?
আমি যে তোমাকেই খুঁজে ফিরি দিবা নিশি
রবি ঠাকুরের-
সেই দুটি চয়নের সিন্ধুসম অতল বারি সাঁতরে-
তুমি কোন কাননের ফুল কোন গগনের তারা থেকে
ঝরে পড়েছো আমার হৃদয় মন্দিরে?

কথাবার্তায় পারদর্শী হওয়ার কৌশল

মানুষের কথোপকথন বা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার গোপন রহস্য আসলে কী – তা কখনোই মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়নি।

কথোপকথনকে আরও ধারালো ও উন্নত করতে পারলে সবদিকেই সফল হওয়া যায়।

ব্রিটিশ লেখক মাইকেল রোজেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের মান উন্নয়ন থেকে শুরু করে কীভাবে কথোপকথনকে আরও ভাল করে তোলা যায় সেটা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন।

নিজ বাড়ি থেকে শুরু করে অফিসের বোর্ডরুম কিংবা বৈশ্বিক পরিসরে যেকোনো ধরণের সমস্যার সমস্যার সমাধান বা দ্বন্দ্বের অবসানে একটি কার্যকর কথোপকথনের কোন বিকল্প নেই।

সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য টকিং রেভোলিউশন’ বইটির লেখক এডি কানফোর-দুমা এবং পিটার অসবর্নের সাথে রোজেন মিলে – কথোপকথন কীভাবে ভাল করে তুলতে হয় তার সাতটি উপায় বের করেছেন।

১. আগে নিজে বোঝার চেষ্টা করুন:
আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিনিয়ত ‘ট্রান্সমিট মোড’ বা কথা বলার মোডে থাকে। এবং তাদের পক্ষে সেই মোড পরিবর্তন করে ‘রিসিভিং মোড’ অর্থাৎ অন্যের কথা শোনার মোডে যাওয়াটা অনেক কঠিন মনে হয়।এই পরিবর্তন করতে না পারাই ব্যক্তিগত এবং পেশাদার সম্পর্কগুলোয় সমস্যা তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ। বইটিতে, বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাতটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়।আর এ ব্যাপারে স্টিফেন কোভি বলেছেন, অন্য কেউ আপনাকে বুঝবে এটা আশা করার আগে আপনি অন্যকে বোঝার চেষ্টার করুন। আর এ জন্য অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এবং নিজের মতামত দেয়ার আগে বা চ্যালেঞ্জ করার আগে তারা কী বলছে সেটা পুরোপুরি বোঝার চেষ্টা করা বেশ জরুরি।

২. আপনি যে বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রকাশ করুন:
যদি আপনি অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারেন, তাহলে সেটা প্রকাশ করুন। আপনি কি শুনেছেন বা বুঝেছেন সেটা তাকে বলুন। কিছু যুক্তিসঙ্গত প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন, যেমন “ঠিক বলেছেন” বা “আমি আপনার জায়গায় হলে এতো ভাল থাকতে পারতেন না।” -এই কথাগুলো এটাই ব্যাখ্যা করে যে আপনি এই কথোপকথনের তরঙ্গে ভাসছেন।যখন অপর ব্যক্তি বুঝতে পারে যে আপনি তাকে বুঝতে পারছেন, তখনই আপনি তাকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন, অথবা তার কোন বক্তব্য বা ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।তবে সেটা অবশ্যই তখন করবেন, যখন আপনি তার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। আপনি যে ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা বেশ জরুরি – সেটা তার কথা শোনার মাধ্যমে, তার প্রয়োজনকে শ্রদ্ধা করার মাধ্যমে বা সেটাকে বোঝার মাধ্যমে হতে পারে। এভাবে আপনি একটি সংযোগ তৈরি করেন যার মাধ্যমে প্রকৃত যোগাযোগ প্রবাহিত হতে পারে।

৩. সৃজনশীল সমাধানে পৌঁছাতে সহযোগিতা করা:

এডি এবং পিটার ‘সৃজনশীল কথোপকথন’ নামে একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন যেটা কিনা একজনের ব্যাপারে আরেকজনের মধ্যে নতুন চিন্তাভাবনা এবং বোঝাপড়া তৈরি করতে সাহায্য করে। এজন্য অন্য মানুষের কথার সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেয়া এবং আপনি তাকে কতোটুকু বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।এটি মানুষের মধ্যে কখনও কখনও নতুন অন্তর্দৃষ্টি জাগিয়ে তোলে যেটা কিনা আলাদাভাবে হয় না।এছাড়াও, আপনি যদি আপনার বোঝাপড়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন, তাহলে সেটি অপর ব্যক্তিকে আরও খোলামেলা হতে, ভাগ করে নিতে, আরও বেশি নিরাপদ ও স্বাধীন বোধ করতে সাহায্য করে। যা তাদের নিজেদের চিন্তাধারাগুলোকে অন্বেষণ করতে সহায়তা করে। এছাড়া আপনার মধ্যেও এমন নতুন কিছু তৈরি করা সম্ভব যা আগে বিদ্যমান ছিল না এবং যেটা আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতেও সাহায্য করবে।

৪. অভ্যাসে বিরতি নিন:

আমরা আমাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ থেকেই নিজেদের কথোপকথনের অভ্যাস পেয়েছি। অনেক সময় আমরা নিজেদের সেই কথোপকথনের ব্যাপারে সচেতন থাকিনা। অনেক সময় আমরা অন্যের কথার মাঝখানে কথা বলতে শুরু করি বা অপ্রাসঙ্গিক অন্য কোন আলাপের দিকে চলে যাই। এতে কোন কথারই কোন মানে থাকেনা। এবং কথোপকথন তার রেশ হারায়।চেষ্টা করুন কখন এই সমস্যাটি হয়, এটার কোন প্যাটার্ন থাকলে সেটা বের করার। এই অভ্যাসকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষের কথা শোনার এবং তা বোঝার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

৫. সমালোচনার জন্য শুনবেন না:

কিছু লোক শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্যেই অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে আর তা হল অন্যের সমালোচনা করতে এবং বিরোধী পক্ষকে পাল্টা তীরের ছুঁড়ে ঘায়েল করতে। রাজনীতির জগতে আমরা প্রতিদিন এমন কিছু দেখি, যেখানে মানুষ বিভিন্ন দল গঠন করে এবং এই বিভাজন নিয়ে কথা চালিয়ে যায়। মনে রাখতে হবে, আপনার কথা শোনার কারণ যেন অন্যকে ঘায়েল করা না হয় – এজন্য একটি যুক্তির দুটি দিক সম্পর্কেই ভালভাবে শুনে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

৬. অনুশীলন নিখুঁত করে তোলে:
এডি এবং পিটার দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি অনুশীলনের আয়োজন করে যেখানে ওই দুই ব্যক্তির সেটাই প্রথম দেখা।অনুশীলনের সময় দুইজনকে দুটি ভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয়। একজনকে বলা হয় নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে, এবং অপরজনকে বলা হয় সেই কথা শুনে বুঝতে।এর মাধ্যমে তাদের এমন একটি বিষয় খুঁজে বের করতে বলা হয় যার ব্যাপারে দুজনই ভিন্নমত পোষণ করে।এটি সেই ব্যক্তিদের বুঝতে সাহায্য করে যে, কারও কান ধার পাওয়াটা কতো বিরল এবং আশ্চর্যজনক একটি উপহার। এই দক্ষতাটি বন্ধুদের সাথে অনুশীলনের চেষ্টা করতে পারেন যাতে আপনি যখন সত্যি সত্যি কোন দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধের মুখে পড়বেন, তখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উৎরে যেতে পারেন।

৭. যোগাযোগের জন্য আপনি কোন মাধ্যমটি চান সেটা বেছে নিন:
মুখোমুখি যোগাযোগকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। এরপর আপনি যতোই সেখান থেকে সরে আসবেন, আপনার যোগাযোগের মাধ্যমটি ততোই সংকীর্ণ হতে থাকবে।উদাহরণস্বরূপ টেলিফোনে, আপনার শারীরিক কোন উপস্থিতি নেই – সেখানে আপনার কণ্ঠ দিয়েই সব কাজ করতে হবে। আবার যখন আপনি কাউকে ক্ষুদে-বার্তা পাঠান সেখানে কোন শব্দও থাকেনা, থাকে শুধু লিখিত কথা। এবং যদি আপনি টুইটার এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলিতে নাম পরিচয় গোপন করে কিছু পোস্ট করেন, সেখানে যোগাযোগের মাধ্যমটি আরও সংকীর্ণ থাকে। কেননা সেখানে ব্যক্তির পরিচয় ছদ্মনাম দ্বারা লুকানো থাকায় তার কথোপকথন অপমানজনক এবং অবমাননাকর হতে পারে।তাই যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাধ্যমের ক্ষমতা বুঝতে পারাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে কার্যকর কথোপকথনের জন্য যখন যেখানে সম্ভব মুখোমুখি যোগাযোগের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

 

এই ধরনের নোংরা মানুষজন পৃথিবী থেকে চলে গেলে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না : এমপি একরামুল

গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

গতকাল রবিবার দুপুরের দিকে ঘটনার ৩২ দিন পর ওই গৃহবধূর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ পেলে তা ভাইরাল হলে জনমনে অসন্তোষ দেখা দেয়। ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে একরামুল করিম বলেন, আমি খুব বিব্রত। নোয়াখালীতে একটি নারীর উপর এভাবে অত্যাচার এবং বর্বরোচিত ঘটনা ঘৃণা জানাচ্ছি। পুলিশ প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে একজন এমপি হিসেবে নয় একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বলবো কত ক্রসফায়ারই তো আপনারা দিতেন, এই ধরনের নোংরা টাইপের দুই একজন মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেলে এই সমাজ কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। এছাড়া দ্রুতবিচার আইনে অপরাধীদের ফাঁসির দাবিও করেন তিনি।