সমালোচনায় বিরক্ত হয়ে যা বললেন সেই ‘টম ইমাম’

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এক দম্পতির কিছু ছবি। তারা হলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক টম ইমাম ও তার স্ত্রী মিষ্টি ইমাম। তাদের ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, এই দম্পতি বিবাহবার্ষিকীতে কেক কেটেছেন। আবার কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে ফটোসেশন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায়া পাতায় ঘুরেছে।

যা নিয়ে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আলোচনা করলেও, অনেকেই সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন সেই ‘টম ইমাম’। তিনি শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বড়াবাড়ি না করতে নিষেধ করেছেন তিনি।

ফেসবুকে টম ইমাম লিখেছেন, কয়েকদিন যাবৎ আমি লক্ষ্য করছি, অনেক লোকজন আমাকে এবং আমার স্ত্রীর ফেসবুক আইডি থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে অনেক ছবি ভাইরাল করছেন। সাথে অনেক খারাপ মন্তব্যও করেছেন। এগুলো কি ঠিক হলো?

তিনি আরও লিখেছেন, অনেকেই জানতে চাচ্ছেন-কে টম ইমাম? তাহলে বলি-আমি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। আমার আগের স্ত্রী আমেরিকান নাগরিক ছিলেন এবং সে ১০ বছর ধরে অসুস্থ থাকার পর ২০১১ সালের মারা যায়। এরপর আমি আমার সন্তানদের মানুষ করার জন্য আর বিয়ে করিনি। সব মিলিয়ে ২০ বছর আমি ত্যাগ করেছি। তারপর আমি বাংলাদেশি একজনকে বিয়ে করি।

তিনি লিখেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি এবং সেও আমাকে ভালোবাসে। ভালোবাসার কোন বয়স নেই। ভালোবাসা অন্ধ হয় যদি আপনি কাউকে হৃদয় থেকে ভালোবাসেন। দয়া করে আমি যেমন আপনার পরিবারকে শ্রদ্ধা করি তেমন আমার পরিবারকে শ্রদ্ধা করুন।

বিডি-প্রতিদিন

সমালোচনায় বিরক্ত হয়ে যা বললেন সেই ‘টম ইমাম’

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এক দম্পতির কিছু ছবি। তারা হলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক টম ইমাম ও তার স্ত্রী মিষ্টি ইমাম। তাদের ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, এই দম্পতি বিবাহবার্ষিকীতে কেক কেটেছেন। আবার কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে ফটোসেশন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায়া পাতায় ঘুরেছে।

যা নিয়ে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আলোচনা করলেও, অনেকেই সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন সেই ‘টম ইমাম’। তিনি শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বড়াবাড়ি না করতে নিষেধ করেছেন তিনি।

ফেসবুকে টম ইমাম লিখেছেন, কয়েকদিন যাবৎ আমি লক্ষ্য করছি, অনেক লোকজন আমাকে এবং আমার স্ত্রীর ফেসবুক আইডি থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে অনেক ছবি ভাইরাল করছেন। সাথে অনেক খারাপ মন্তব্যও করেছেন। এগুলো কি ঠিক হলো?

তিনি আরও লিখেছেন, অনেকেই জানতে চাচ্ছেন-কে টম ইমাম? তাহলে বলি-আমি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। আমার আগের স্ত্রী আমেরিকান নাগরিক ছিলেন এবং সে ১০ বছর ধরে অসুস্থ থাকার পর ২০১১ সালের মারা যায়। এরপর আমি আমার সন্তানদের মানুষ করার জন্য আর বিয়ে করিনি। সব মিলিয়ে ২০ বছর আমি ত্যাগ করেছি। তারপর আমি বাংলাদেশি একজনকে বিয়ে করি।

তিনি লিখেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি এবং সেও আমাকে ভালোবাসে। ভালোবাসার কোন বয়স নেই। ভালোবাসা অন্ধ হয় যদি আপনি কাউকে হৃদয় থেকে ভালোবাসেন। দয়া করে আমি যেমন আপনার পরিবারকে শ্রদ্ধা করি তেমন আমার পরিবারকে শ্রদ্ধা করুন।

বিডি-প্রতিদিন

বেয়াদবি হলে ক্ষমা করবেন…

এই ৪২ জনের নাম নিতে চাই না। কখন আবার বেয়াদব খেতাব পেয়ে বসি। উনারা বিদ্যা বুদ্ধিতে অনেক উপরের মানুষ। উনাদের নিয়ে কিছু বলার ইচ্ছাও ছিল না, তবুও বিবেকের তাড়নায় লিখলাম। কালে কালে জনগণই তাদের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করেন। ১/১১ এর মত কোন ঘটনা ঘটলেই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে আসে।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উনাদের নাকি বিস্তর অভিযোগ। উনাদের ক্ষোভের মাত্রাটা এতটাই অগোছালো ছিল যে, গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য যেখানে ২ কোটি টাকা বরাদ্দই ছিল না সেখানে পুরা ২ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগও তারা এনেছেন। মনে হচ্ছে, কেউ একটা ফরমায়েশি কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে আর উনারা তাতে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন।

ধরে নিলাম, আপনারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছেন, অসদাচরণের অভিযোগ পেয়েছেন। আর সেটা দেখেই আপনারা একেবারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেলেন। খুবই ভালো কথা। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে অনিয়ম হলে সোচ্চার হওয়াটা আপনার আমার নাগরিক দায়িত্ব। আপনারা হয়েছেন। কারণ, আমার বিশ্বাস আপনারা চাঁদ তারা নয়, লাল সবুজের বাংলাদেশটাকেই ভালোবাসেন।

ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে ব্যক্তিগতভাবেও আমি খুশি। উনারা মনে করেছেন যে, দেশের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের খবর শুনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। এইভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে রাষ্ট্রের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটবে না।

শ্রদ্ধেয় ৪২ জনের কাছে আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। যেই তাড়না থেকে এই লেখা। কিছুদিন আগেও মৌলবাদী গোষ্ঠী দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য মুছে ফেলতে চেয়েছে, ভাস্কর্য ভেঙে দিতে চেয়েছে, জাতির পিতার ভাস্কর্য ভেঙে দিয়েছে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে- তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? এই দেশের ৩০ লাখ মানুষ জীবন বিলিয়ে দিয়ে ফয়সালা করে গিয়েছে যে, এই দেশ হবে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, সব ধর্মের মানুষ এই দেশে সমান অধিকার নিয়ে বাস করবে। দেশের এই অসাম্প্রদায়িক চরিত্র মুছে দেয়ার হুঙ্কার যখন আসে তখন কেন আপনাদের বিবেকের কলম কথা বলে না?

যদি ভয় পান সেটাও বলেন। যদি চাঁদ তারার বাংলাদেশ চান সেটাও পরিষ্কার করে বলেন। দেশের জনগণ আপানেদের আসল রূপ’টা জানুক। স্বাধীন দেশের অস্তিত্বের চেয়ে নির্বাচন কমিশন যখন বড় হয়ে যায় তখনই আপনাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এই প্রশ্ন আমার মনেও উঠেছে- তাই এই লেখা। বেয়াদবি হলে ক্ষমা করবেন।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

কেউ তাদের টেরিটরিতে আমাকে জায়গা দিতে চান না

পদ্য লেখকরা আমাকে বলেন, তুমি গদ্যটা ভালো লেখো। গদ্য লেখকরা বলেন, তুমি পদ্যটা ভালো লেখো। এর মানে কেউ তাদের টেরিটরিতে আমাকে জায়গা দিতে চান না। আমার পদ্য যে পাঠকেরা ভালোবাসেন, লক্ষ্য করেছি, প্রেমের পদ্য ভালোবাসেন। প্রেম না করলে ভালো প্রেমের কবিতা লেখা যায় না। চরম বিরহে চুরমার না হয়ে গেলে ভালো বিরহের কবিতাও লেখা যায় না। গদ্য সারা বছর লেখা যায়। দুনিয়ায় কী হচ্ছে না হচ্ছে চোখ কান খোলা রাখলেই চলে।

ভাবছি নতুন কিছু প্রেমের কবিতা লিখবো। কল্পনার কোনো প্রেমিকের সঙ্গে না হয় প্রেম করবো। কল্পনার প্রেমিক রক্তমাংসের প্রেমিকের চেয়ে ঢের ভালো। একবার কবিতা লেখা হয়ে গেলে কাকে ভেবে লিখেছি সে কবিতা, তা গৌণ হয়ে যায়। চিরকালই, প্রেমিকের চেয়ে প্রেম বড়, মানুষের চেয়ে মানুষের জন্য অনুভব বড়।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

ভাস্কর্য ইস্যু- রাজনীতির নতুন মেরুকরণ

ভাস্কর্য ইস্যুতে বিএনপি চুপ। অনেকে এই চুপ থাকাকে বিএনপির রাজনৈতিক প্রজ্ঞা হিসেবে দেখছেন। আসলে কি তাই? হেফাজতের অস্বাস্থ্যকর প্রেমে সাড়া দিয়ে বিএনপি শাপলা চত্বর ট্রাজেডিতে যে পরিমান ছ্যাঁকা খেয়েছে তাতে বিএনপির চুপ থাকা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। শাপলা চত্বর তান্ডবে হেফাজতের প্রতি বিএনপির নির্লজ্জ সমর্থন ছিল একটি রাজনৈতিক ভুল। বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার জন্য সেই ভুল অনেকাংশে দায়ী।
ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামীলীগও হেফাজতের প্রেমে সাড়া দিয়েছিল। বশে এনে আল্লামা শফিকে পাশে বসিয়েছিল। নানান লোভ, আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সমঝোতা করে শফি হুজুরের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খুব ভালভাবেই সম্পর্ক টেনে নিয়ে গিয়েছিল! শফি হুজুরের মৃত্যুর পর হেফাজতের সাথে আওয়ামিলীগের অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে থাকে। সর্বশেষ হেফাজতের আমির হিসেবে বাবু নগরীর আবির্ভাব ছিল আওয়ামী-হেফাজত প্রেমের কফিনে শেষ পেরেক।
বিএনপি ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে পড়ে থাকার পর আওয়ামীলীগ এখন হেফাজত তান্ডবে হতভম্ব। আওয়ামিলীগ কি কখনো ভেবেছিল এই হেফাজত জাতির জনকের ভাস্কর্য ভেংগে দিবে? মামুনুল-বাবুনগরীরা এইভাবে হুমকিধামকি দিয়ে সরকারকে অস্থির করবে?
হেফাজতের এই উত্থান আওয়ামিলীগ এবং বিএনপির নষ্ট রাজনীতির ফসল। বিএনপি আওয়ামিলীগকে আর আওয়ামিলীগ বিএনপিকে ঘায়েল করতে রাজনীতিতে হেফাজতীয় ধর্মীয় কার্ড ব্যবহারের জন্য তৎপর থাকে। রাজনীতিতে এরশাদ কার্ড শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই দুইটা দলের লোলুপ দৃষ্টি এখন হেফাজতের ওপরে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুদলই হেফাজত থেকে মোটামুটি ভাল শিক্ষা পেয়েছে।
আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তা নির্ভর করছে মূলত এই দুইটা দলের রাজনৈতিক চরিত্রের ওপর। রাজনীতির স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে গেলে রাজনীতিতে হেফাজতী বা ধর্মীয় কার্ড জরুরি হয়ে পড়ে! উগ্রবাদী শক্তির উত্থান ঘটে। হেফাজতের সাম্প্রতিক উত্থান, হুমকিধামকি, তান্ডব তারই বহিঃপ্রকাশ! ভাস্কর্য একটি বাহানা মাত্র।

লেখক: শেখ মোহম্মদ নুরনবী 

ভাস্কর্য থাকবে নাকি থাকবে না?

বাংলাদেশে হঠাৎ ভাস্কর্য পতনের আন্দোলন হচ্ছে কেন? আসলেই কি এ আন্দোলন ভাস্কর্য পতনের আন্দোলন নাকি সরকার পতনের আন্দোলন? দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলে একদিন সেই কালসাপ তোমাকে ছোবল দেবে- সেটির চমৎকার প্রমাণ আমরা দেখতে পাচ্ছি।

সব মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য আছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার ভাস্কর্য নিয়ে কোনো মুসলিমের সমস্যা হচ্ছে না। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ ভারতের মুসলিমদেরও কোনো ভাস্কর্য নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ইত্যাদি কট্টর মুসলিম দেশেও ভাস্কর্য নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। মিসরে প্রাক-ইসলাম যুগের মূর্তিপূজকদের স্ফিংস আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, এ নিয়েও মিসরের কোনো মুসলিমের সমস্যা হচ্ছে না। শুধু বাংলাদেশের মুসলিমদের সমস্যা হচ্ছে। ভাস্কর্য নিয়ে কিন্তু জিহাদি জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিসদের সমস্যা হতো, তাহলে কি বাংলাদেশে যারা ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার দাবি করছে, তারা আইসিস-মানসিকতার? তালিবানি মানসিকতার? তালিবানরা আফগানিস্তানের বিখ্যাত বামিয়ান বুদ্ধকে উপড়ে ফেলেছে। মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন ভাস্কর্যগুলো হাজার বছর ধরে ছিল, আইসিসরা গুঁড়ো করে দেওয়ার আগ পর্যন্ত। বাংলাদেশের মোল্লারা হুমকি দিয়েছে, রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়বে, রক্তে ভেসে যাবে রাজপথ যদি কোনো ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। তারা যে ব্যানারেই আজ বাংলাদেশে হুমকি দিক না কেন, তাদের হুমকি পক্ষান্তরে জঙ্গি-আইসিসের হুমকি ছাড়া অন্য কিছু নয়। গুলশানে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর শেখ হাসিনা-সরকার যেভাবে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি নির্মূলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেভাবে ফের জঙ্গি নির্মূলের, সেই কালসাপ নিধনের সময় এসেছে। এদের আস্ফালন না কমাতে পারলে দেশকে আসলেই এরা রক্তে ভাসিয়ে দেবে, লাশের পর লাশ ফেলবে, গুলশান হোলি আর্টিজানের চিত্র হয়ে উঠবে গোটা বাংলাদেশের চিত্র।

একের পর এক এদের অন্যায় দাবি মেনে নিয়ে এদের মাথায় চড়িয়েছে সরকার, আর সেই ফল আজ ভোগ করছে গোটা বাংলাদেশ। আমি নিশ্চিত, সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে থেমেসের ভাস্কর্যটি যদি সেদিন মোল্লাদের দাবির কারণে না সরাতো, তাহলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে আজ কোনো সমস্যা হতো না। দুষ্ট লোকের দাবি, বিশেষ করে গণতন্ত্রবিরোধীদের দাবি কখনও মেনে নিতে হয় না। এই মোল্লাগুলো এমন ভাব করছে যেন ইসলাম ধর্মটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যেন তাদের ইসলামের দূত বানিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। দিনরাত এই লোকগুলো শের্ক করছে। এক ওয়াজ ব্যবসায়ী তো বলে বসল, ‘অমুক মার্কায় ভোট দেওয়া মানে আল্লাহ আর আল্লাহর নবীকে ভোট দেওয়া’! আরেকজন বলল, ‘মামুনুল হককে অপমান করা মানে আল্লাহকে অপমান করা, আল্লাহর নবীকে অপমান করা’! এদের ওয়াজে এদের ভাষণে এদের কীর্তিকলাপে এরাই কিন্তু আসলে নিরবধি ইসলামের অবমাননা করে চলেছে। এই কালসাপদের ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই, এই অপশক্তিকে নির্মূল করাই দেশ বাঁচানোর, এমনকি ইসলাম বাঁচানোর একমাত্র উপায়। এদের হাতে দেশ বা ইসলাম কোনোটি গেলে দুটোরই সর্বনাশ এরা করে ছাড়বে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। হিন্দু হলেও সব হিন্দুর বিশ্বাস এক রকম নয়। একই রকম মুসলমান হলেও সব মুসলমানের চিন্তা এক রকম নয়। কেউ উদার, কেউ কট্টর, কেউ আরবের পোশাক পরে, কেউ দেশি পোশাক পরে, কেউ বোরখা পরে, কেউ হিজাব পরে, কেউ আবার বোরখা হিজাব কিছুই পরে না, কেউ পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে, কেউ আবার নিয়মিত নামাজ পড়ে না, – কিন্তু তারা সবাই মুসলমান। কট্টর বা উগ্রবাদীদের ইসলামই সত্যিকারের ইসলাম, সেটিই সবাইকে পালন করতে হবে, এই ধারণা ভুল। কট্টরপন্থিরাই বেহেস্তে যাবে, অন্যরা সবাই দোযখে যাবে, এই ধারণাও ভুল। শেষ বিচারের দিনে, যদি সেরকম কোনো অলৌকিক বিচার ব্যবস্থা থেকে থাকে, তবে শেষ বিচারের মালিকই বিচার করবেন। বিচারে তিনি নামাজ রোজা আর জিহাদকে মূল্য দেবেন বেশি, নাকি সততা এবং উদারতাকে মূল্য দেবেন, তা তিনিই জানেন। বাংলাদেশের মুসলমানরা অন্যের ক্ষতি না ক’রে, অন্যের অধিকার লংঘন না করে, যে যার বিশ্বাস নিয়ে থাকলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এক সময় কত মানুষের কত বিশ্বাস নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে, গোপনে গোপনে সেই বিশ্বাসকে তাদের জিইয়ে রাখতে হয়েছে! পরিস্থিতির ভিত্তিতে পৃথিবীর সব ধর্ম-পালনে পরিবর্তন এসেছে। বহুঈশ্বরবাদী ধর্মের রমরমা অবস্থার মধ্যে একদা একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রবর্তন হয়েছিল। ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বাইবেলেও বহুঈশ্বরবাদী মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছে। ধর্ম প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রতিকূল পরিবেশে ধর্ম প্রচারকরা মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তীকালে অনুকূল অবস্থায় সেই ধর্মের অনুসারীরা ধর্ম প্রচারকদের সেই আদি প্রস্তাব মানেনি। এতে ধর্মের কোনো অপমান হয়নি, বরং অপমান থেকে ধর্ম রক্ষা পেয়েছে। আজ তো কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান মূর্তি ভেঙে দিতে হাতুড়ি শাবল হাতে নেবে না। তবে মুসলিমদের মধ্যে কেন এই প্রবণতা? সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে নয়, কট্টরদের মধ্যেই সাধারণত এই প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু কট্টররাই বা কেন হাতুড়ি শাবল নেয় বা নিতে চায়? এর উত্তর খুব সহজ। তারা ধর্মকে আর ধর্ম হিসেবে দেখতে চায় না, তারা একে রাজনীতি হিসেবে দেখে। তারা দেশ নয় শুধু, তারা ধর্ম দিয়ে বিশ্ব শাসন করতে চায়। তাদের এই লেলিহান বাসনা অনেক সময় তাদেরই পুড়িয়ে ছাই করে।

মক্কার মূর্তিপূজকদের মূর্তি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসলামের নবী। ইসলামের প্রতিষ্ঠার জন্য তা তখন তিনি জরুরি মনে করেছিলেন। কিন্তু ইসলাম আজ প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম আজ ইসলাম। যে অবস্থায় মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, সেই অবস্থাটি বর্তমান বিশ্বে নেই। তাই কোনো মুসলিম দেশেই মূর্তিপূজা নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। এ ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রয়োজনে ইসলামের এই উপদেশটিই মেনে চলতে হয় ‘যার যার ধর্ম তার তার কাছে, ইসলামে কোনো জবরদস্তি নেই’।

বাংলাদেশের মাদ্রাসা-পাস মোল্লারা ঘোষণা দিয়েছে তাদের দৌড় আর মসজিদ পর্যন্ত নয়, তাদের দৌড় পার্লামেন্ট পর্যন্ত। এ বিরাট হুমকি বটে। তারা আজ দেশ শাসনের স্বপ্ন দেখছে। কী যোগ্যতা তাদের আছে দেশ শাসন করার? গণতন্ত্র সম্পর্কে যাদের কোনো ধারণাই নেই, তারা কী করে দেশ শাসন করবে। মোল্লাতন্ত্র বা জিহাদি আদর্শ দিয়ে দেশ শাসন এই একবিংশ শতাব্দীতে চলবে না। সে কারণেই আইসিসকে সারা বিশ্ব মিলে নির্মূল করেছে। পৃথিবীটা বাংলাদেশ নয়। পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্র অংশ বাংলাদেশ। এই পৃথিবীকে চলমান রাখার পেছনে, সভ্য এবং শিক্ষিত করার পেছনে সব দেশের সব ধর্মের সব সংস্কৃতির সব রকম বিশ্বাসের মানুষের অবদান আছে। সবাইকে অস্বীকার করে শুধু নিজের ধর্ম এবং সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ মনে করে, আমিই বেহেস্তে যাব, বাকিরা নরকে যাবে, এই মানসিকতা নিয়ে বেশি দূর এগোনো যায় না। সবার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, সবার অধিকারকে, এমনকি বিধর্মী ও নাস্তিকের অধিকারকে মর্যাদা দেওয়া গণতন্ত্রের আদর্শ। এই আদর্শকে অস্বীকার করলে বিশ্বে কোনো স্থান নেই।

কাবার কালো পাথরকে মুসলমানরা চুমু খেয়ে বা একটু স্পর্শ করে ধন্য হয়, বিশ্বাস করে এতে তাদের মঙ্গল হয়, পাথরই শুষে নেয় তাদের পাপ, তারা পাপমুক্ত হয়। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাব সেই কালো পাথরকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আমি জানি তুমি একটা পাথর, তুমি মানুষের অপকারও করতে পার না, উপকারও করতে পার না, যদি আমি নবীকে না দেখতাম তোমাকে চুম্বন করতে, তাহলে আমিও তোমাকে চুম্বন করতাম না।’ তাহলে জিনিসটা ভাস্কর্য, বা মূর্তি বা পাথর সেটা বিষয় নয়, বিষয় হলো মুসলমানের মনন। তাহলে যাদের কাছে এখন ভাস্কর্য, মূর্তি বা পাথর বিষয় হয়ে উঠছে, তাদের কাছে নিশ্চিতই মননের মূল্য নষ্ট হচ্ছে।

ইসলাম ধর্মটিকে ধর্ম হিসেবে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে। রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম মেলালে, বা ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি মেলালে তার পরিণাম কখনও শুভ হয় না। কারণ এর ফলে মন্ত্রী হয়ে যায় মোল্লা, আর মোল্লা হয়ে যায় মন্ত্রী।

বাংলাদেশে আদিকাল থেকে ভাস্কর্য আর মূর্তি দুই-ই ছিল। আইসিস-মানসিকতার ঠাঁই বাংলাদেশে হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা উপমহাদেশেরই অকল্যাণ। আমি প্রচলিত ধর্মে নয়, মানববাদে বিশ্বাস করা মানুষ। আমি পুজো করি না, কারও পায়ে মাথাও ঠেকাই না। কিন্তু আমি বাংলাদেশের লালনের পাদদেশে ফুল দেবে, কারণ লালনের জাতপাতের বিরুদ্ধে লেখা মানবতার পক্ষে লেখা গানগুলোকে আমি মহান বলে মনে করি। এর মানে এই নয় তাঁকে আমি পুজো করছি, এর মানে এই – তাঁকে আমি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি। আমি শহিদ বেদিতে, স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দেব। যুগে যুগে আমরা ফুল অর্পণ করেই শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আসছি। উপমহাদেশের সুফি-সাধকদের মাজারে মোমবাতি দিয়েও মানুষ যুগে যুগে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আসছে। যুগে যুগে নমস্যদের পায়ের ধুলো মাথায় নিয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আসছে। ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামন্ডপালন আর আরব দেশের ইসলামন্ডপালনে ভিন্নতা তো থাকবেই। এই ভিন্নতা যারা বোঝে না, তারা ইতিহাস বোঝে না।

শেষ কথা, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য শেখ হাসিনাকে স্থাপন করতেই হবে, এতেই যদি এতদিন কালসাপ পোষার দায়মুক্তি ঘটে তাঁর।

লেখক : নির্বাসিত লেখিকা।

বেসিক বিল্ডার্স লিঃ এর কর্ণধার
প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ সাহেবের জন্মদিন আজ

দেশে ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে বেড়ে উঠা পাবনা চাঠমোহরের কৃতি সন্তান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ , কঠোর পরিশ্রম, মেধা, দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে সৎ ও ন্যায়পরায়ণতা সাথে কাজ করে ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন একজন সফল ব্যবসায়ী রূপে।বেসিক বিল্ডার্স লিঃ এর কর্ণধার প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ একজন মানবিক ও ন্যায়নীতি সম্পন্ন মানুষ। নিতি সর্বদায় কাজ করে যাচ্ছেন অসচ্ছল মানুষের পক্ষে তাছাড়া এলাকার মানুষের জন্য রয়েছে তাঁর গভীর মমতা ও ভালবাসা  তাই তাদের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে কাজ করে যাচ্ছেন নিস্বার্থ ভাবে ।

দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি মমত্ববোধ ও  দায়বন্ধতা  থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে শুরু করে এলাকার অসহায় মানুষদের জন্য মুক্তহস্তে দান করেছেন বহু অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী । এত ব্যস্ততার মাঝে থেকেও তিনি সামাজিক সংগঠন ও সমাজ কল্যাণমূলক কাজের সম্পৃক্ত রেখেছেন নিজেরকে।

নিভৃতচারী প্রচার বিমুখ ও অত্যন্ত অতিথি পরায়ণ এবং সাদামাটা জীবনের অধিকারী প্রকৌশলী  আব্দুল লতিফ ভাইয়ের শুভ জম্মদিনে  তাহসিনকো লিমিটেড ও তাহসিনকো নিউজ24. কম এর পরিবারের পক্ষ থেকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালবাসা ও অভিনন্দন ।

Detailed Area Plan (DAP)
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে

সম্প্রতি প্রস্তাবিত “খসড়া” ঢাকা মহানগর Detailed Area Plan (DAP) বিভিন্ন মহলে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটও এটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
এই বিষয়ে ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেগুলো হচ্ছে:
১. গত ২৯শে অক্টোবর বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবিনার আয়োজন এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে প্রস্তাবিত DAPএর দুর্বলতা ও অসংগতি বিষয়গুলি নিয়ে স্থপতি ইনস্টিটিউট-এর মতামত তুলে ধরা হয়।
২. ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ও বিশেষজ্ঞ স্থপতিদের একটি দল “খসড়া” DAP প্রস্তাবটি বিশদভাবে বিশ্লেষণ এবং আলোচনা করেছে এবং এই প্রক্রিয়াটি চলমান ।
৩: গত ২১শে নভেম্বর ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার সাথে যৌথভাবে গোলটেবিল আয়োজন করে স্থপতিদের মতামতগুলি তুলে ধরা হয়েছে।
৪: গত ২২শে নভেম্বর স্থপতিদের উদ্বেগ এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি যাতে প্রস্তাবিত DAP যথাযথ গুরুত্ব পায় সে বিষয়ে ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল সরকার কর্তৃক মনোনীত DAPএর আহবায়ক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে দেখা করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
৫: পাশাপাশি গত ২৪শে নভেম্বর ইনস্টিটিউট প্রস্তাবিত “খসড়া” DAP এর বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে। বিভিন্ন টিভি চ্যানেেলে ও পত্রিকা সমূহে স্থপতিদের উদ্বেগের বিষয় গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
৬: একই সাথে গত ২৬শে নভেম্বর DAP-এর প্রকল্প পরিচালক এবং পরামর্শক দলকে ইনস্টিটিউটে আমন্ত্রণ জানিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে নীতিগতভাবে একমত হয়েছি যে আগামী তিন মাস প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত “খসড়া” DAP-টির বিভিন্ন দিক নিয়ে যৌথ সভায় ও কর্মশালা আয়োজন করা হবে এবং স্থাপতিদের যৌক্তিক মতামতগুলি DAP-এ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
৭: এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে প্রস্তাবিত Detailed Area Plan (DAP)টি এখনো “খসড়া” এবং বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সকলের মতামত নিয়েই এটি চূড়ান্ত করা হবে।

গবেষণায় ‘করোনায় হুজুররা কেন মারা যান না’ পেয়েছেন ড. মাহফুজুর রহমান

দেশব্যাপি চলমান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে হুজুররা কেন মারা যাচ্ছেন না; গবেষণা করে তার উত্তর পেয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান। হুজুররা পাঁচবার ওযু করেন বিধায়, করোনায় তাদের প্রাণ যাচ্ছে না বলে ধারণা করছেন তিনি!

আজ রোববার করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ‘গণমাধ্যম ও বেসরকারি হাসপাতালের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজনে নিজের গবেষণা ব্যাক্ষ্যা করেন ড. মাহফুজুর রহমান।

এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান বলেন, ‘করোনার সময়ে ডাক্তাররা অনেক মারা গেছেন। কিন্তু একজন হুজুর যে শতশত মানুষকে নিয়ে নামাজ পড়ছেন; এমন কেউ কী মারা গেছেন? আমার জানা নেই। করোনায় কোনো হুজুর মারা গেছে আমি এখন পর্যন্ত কোনো মিডিয়াতে পাইনি।’

 

কারন কী? এ বিষয়ে ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এর কারণ হচ্ছে, একজন হুজুর দিনে পাঁচবার ওযু করেন। এর ফলে তার সারা শরীর পরিষ্কার করতে হয়। ওযু কতটা ইফেক্টিভ করোনা প্রতিরোধে তা আপনারা বিবেচনা করুন।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাক্তার এবিএম আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। সূত্র: আমাদের সময়

ভুট্টোর ফাঁসি, জেনারেল জিয়াউল হক ও আমি

অনুবাদ : আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু

 

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আমি যেসব রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সাক্ষাৎকার নিয়েছি তার মধ্যে পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক জনসংযোগে নিজেকে অত্যন্ত চৌকস প্রমাণ করেছেন; তাঁর তথ্যমন্ত্রী অথবা জনসংযোগ অফিসাররা নন। তিনি যেসব মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তাদের ওপর উষ্ণতা ও শুভেচ্ছার স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন। বিষয়টি আমি ব্যাখ্যা করছি। আমার বন্ধু এম এ রেহমান, যাকে আমি আমার লাহোরের দিনগুলো থেকে জানি, তিনি আমাকে লিখে জানান আমি জেনারেল জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই কিনা। সঙ্গে সঙ্গে আমি ইতিবাচক উত্তর দিলাম। জেনারেল জিয়া অনেক কারণেই তখন সংবাদ শিরোনাম। এর প্রধান কারণ তাঁর পূর্বসূরি জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যুদন্ডের রায়, যার ভাগ্য নির্ভর করছিল জেনারেল জিয়ার ওপর।

আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করা হলো। এক দিন আগে আমি ইসলামাবাদে পৌঁছলাম এবং আমাকে সেখানকার সবচেয়ে অভিজাত হোটেলে রাখা হলো। বিদেশি সাংবাদিকে গিজগিজ করছিল হোটেলটি; আমেরিকান, ব্রিটিশ, জার্মান, ভয়েস অব আমেরিকা, বিবিসি, ডয়েচে ভেলে; ৮৫টি গণমাধ্যমের নাম বলুন, তারা সেখানে উপস্থিত। কোনোভাবে তারা আঁচ করলেন, পরদিন সকালে ভুট্টোকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে। সান্ধ্য সংবাদপত্রগুলোয় একটি খবর প্রকাশিত হলো যে সেদিনই প্রেসিডেন্ট একজন ভারতীয় সাংবাদিককে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় দিয়েছেন। বিদেশি সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করার জন্য এটি একটি কৌশল ছিল। ভুট্টোকে ফাঁসি দেওয়ার পর একজন ভারতীয় সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দেবেন- কারও পক্ষে এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল।

পরদিন ভোররাতে ভুট্টোর ফাঁসি কার্যকর হলো। আমাকে কয়েক দিন পর আসার জন্য বলা হলো। জনগণের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য আমি একটি গাড়িতে উঠে ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী জায়গা ঘুরে সময় কাটালাম। বোরকা পরা মহিলাদের একটি বিক্ষোভ মিছিল এবং মৃতের জন্য প্রার্থনা ছাড়া প্রতিক্রিয়া ছিল সামান্যই। দোকানপাট খোলা ছিল। আমি করাচি চলে গেলাম। মণি শঙ্কর আয়ার করাচিতে ভারতীয় কনসাল। তিনি আমাকে নগরীর অবস্থা দেখাতে বের হলেন। বাজারগুলো খোলা। ছেলেরা ক্রিকেট খেলছে। শোকের দৃশ্যমান কোনো লক্ষণ নেই। আমি দিল্লি ফিরে গেলাম।

কয়েক দিন পর ইসলামাবাদে ফিরে এসে একই হোটেলে উঠলাম। বিকালে একটি সরকারি গাড়ি আমাকে উঠিয়ে ক্যান্টনমেন্টে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে নিয়ে গেল। আমি বৈঠকখানায় প্রবেশ করার পর আমাকে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হলো। টেবিলের ওপর আমার লেখা একগাদা বই দেখতে পেলাম। প্রেসিডেন্ট যে বইগুলো পড়েননি অথবা পড়ার কোনো ইচ্ছাও তাঁর নেই, সে সম্পর্কে আমার মনে কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু বইগুলো প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য পূরণ করেছে।

ভুট্টোর ফাঁসিসংক্রান্ত অনেক প্রশ্ন ছিল আমার। আমার ভিতরে যে বিষ জড়ো করে রেখেছিলাম তা নিঃশেষ হয়ে গেল। তিনি সিল্কের সালোয়ার-কুর্তা পরে এসে উষ্ণভাবে আমার সঙ্গে হাত মিলিয়ে বললেন, ‘সরদার সাহিব, আমাকে প্রশ্ন করার আগে মেহেরবানি করে আমার জন্য আপনার বইগুলো স্বাক্ষর করে দিন।’ যদিও তাঁর কথায় আমি আমোদিত হলাম, তবু তাঁকে প্রশ্ন করলাম, ‘জেনারেল সাহিব, ভুট্টোকে ফাঁসি দেওয়ার কি প্রয়োজন ছিল? আপনি তাঁকে ক্ষমা করতে পারতেন এবং তাঁর সাজা লাঘব করতে পারতেন।’ দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি উত্তর দিলেন, ‘ক্ষমার অধিকার আল্লাহর হাতে, মানুষের হাতে নয়। তিনি খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যার একমাত্র সাজা মৃত্যু।’

জিয়া গড় উচ্চতাবিশিষ্ট ছিলেন, চুলে ভালোভাবে তেল মাখতেন এবং সিঁথি কাটতেন মাঝবরাবর। তাঁর কালো চোখের চারপাশ ঘিরে কালো দাগ। লোকজন তাঁকে বলত ‘সুরমেওয়ালি সরকার’, (সুরমা পরা সরকার বা প্রেসিডেন্ট)। আমার প্রশ্ন শেষ হওয়ার পর তাঁর বেগম, ফরসা মোটাসোটা মহিলা এবং তাঁদের ১২ বছর বয়সী মানসিক-প্রতিবন্ধী মেয়ে আমাদের সঙ্গে চা পানের সময় যোগ দিলেন। আমি বিদায় নেওয়ার সময় জেনারেল জিয়া আমার জন্য গাড়ির দরজা খুললেন। আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধান এটা করেননি। এক বা দুই বছর পর রেহমান আমাকে বললেন লাহোরে তাঁর ছেলের বিয়েতে অংশগ্রহণের জন্য।

মদপানের ওপর পাকিস্তানে যদিও কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল, আমি আমার বিছানার পেছনের শেলফে স্কচ হুইস্কির ছয়টি বোতল দেখতে পেলাম; জেনারেল জিয়ার সৌজন্যে। আমি আমার জন্মস্থান হাদালি গ্রামে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলাম। লাহোর থেকে হাদালির দূরত্ব ৩০০ মাইল। আমাকে একটি গাড়ি দেওয়া হয়েছিল। আমার গ্রামবাসী আমাকে উষ্ণতার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানালেন। এও জেনারেল জিয়াউল হকের সৌজন্যে। এক বছর পর আমার স্ত্রীর জ্ঞাতি বোন কুন্তালিন কাউর, যিনি একজন মুসলিমকে বিয়ে করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নূরজাহান বেগম নাম গ্রহণ করেন, তিনি আমার সাহায্য কামনা করলেন। তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে জেনারেল জিয়াকে লিখলাম। সম্পত্তিতে তাঁর অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণ সিং প্রেসিডেন্ট জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁকে এবং আটজন ভারতীয় কূটনীতিককে তিনি নৈশভোজে আমন্ত্রণ করেছিলেন। ভোজের পর শরণ সিং প্রেসিডেন্টের গাড়িতে তাঁর হোটেলে ফিরে আসেন। আমাদের হাইকমিশনার তাঁর গাড়িতে উঠে চলে যান। দিলীপ মেহতা ও লাম্বার একটি অ্যাম্বাসাডর গাড়ি ছিল। গাড়ির ব্যাটারি খারাপ হয়ে যায় এবং স্টার্ট নেওয়ার জন্য গাড়ি ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। প্রেসিডেন্টের বাসভবনের পোর্চে দিলীপ ও লাম্বা যখন গাড়ি ধাক্কা দিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গে যোগ দেন গাড়ি ধাক্কা দিতে। এরপর তিনি দুজনের সঙ্গে হাত মেলান ও হাত নেড়ে বিদায় জানান।

জেনারেল জিয়াউল হকের সঙ্গে আমার আনন্দময় স্মৃতি রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ভুল বানানে লেখা আমার নামের নিচে জেনারেলের স্বাক্ষর করা তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে উপহার দেওয়া শিল্পী চুগতাইয়ের অলঙ্করণ-শোভিত মির্জা গালিবের কবিতার বই। আমার কাছে তিনি ‘মর্দ-ই-মোমিন’ ও ‘মর্দ-ই-হক্ক’।

১৯৮৮ সালের ১৭ আগস্ট জিয়াউল হকের বিমানে বোমার বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি, আমেরিকান রাষ্ট্রদূত এবং আটজন পাকিস্তানি জেনারেল ও অন্য লোকজন নিহত হলে অত্যন্ত দুঃখবোধ করি। আজ পর্যন্ত কেউ জানে না এর পেছনে কে ছিল এবং কেন। পাকিস্তানের একমাত্র মদ ব্যবসায়ী মিনু ভান্ডারা আয়োজিত এক ডিনারে জেনারেল জিয়ার ছেলের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়। তাঁর কাছে জানতে চাই ঘটনা সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা আছে কিনা। তিনি তাঁর সন্দেহের কথা বললেও ঘাতকদের পরিচয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেননি। খুব কমসংখ্যক লোক আমার মতামতের সঙ্গে একমত হয়। অধিকাংশ মানুষ জিয়ার নাম শুনলে থুথু ছিটায়। তাদের বক্তব্য, আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত রাশিয়াকে বিতাড়ন করার উদ্দেশ্যে মুজাহিদিন ও তালেবানকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য জেনারেল জিয়া আমেরিকানদের হাতে তাদের মর্জির পুতুল ছাড়া আর কিছু ছিলেন না। তিনি পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে তালেবানের অভয়ারণ্যে পরিণত করার সুযোগ প্রদান এবং দেশে কঠোর শরিয়াহ আইন কার্যকর করেন। তাঁর ১১ বছরের শাসনকাল ছিল স্বেচ্ছাচারমূলক, যার ফলে দেশ চলে যায় ধর্মীয় চরমপন্থিদের হাতে, যা থেকে পাকিস্তান আর কখনো উদ্ধার পায়নি। মোহাম্মদ হানিফ নামে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত একজন অফিসার, যিনি বর্তমানে বিবিসি উর্দু বিভাগের প্রধান, তিনি সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ করেন ‘এ কেস অব এক্সপ্লোডিং ম্যাঙ্গোজ’ নামে তাঁর লেখা চমৎকার উপন্যাসে।

তিনি জেনারেল জিয়াকে চিত্রিত করেন ভীত ছোটখাটো আকৃতির মানুষ, যিনি এমনকি নিজের ছায়াকেও ভয় করেন; লুক্কায়িত বাণীর জন্য তিনি সারাক্ষণ কোরআন ঘাঁটেন, যাকে তাঁর সন্দেহ তাকে কঠোর শাস্তি দিয়ে সুখ লাভ করেন; তাঁর শাস্তির কবল থেকে এমনকি একজন অন্ধ নারী নিষ্কৃৃতি পাননি, বিধবাদের নগদ অর্থ বিতরণের সময় যে নারী একটি দৃশ্যের অবতারণা করেন। তিনি প্রচারণা পছন্দ করতেন এবং শান্তিতে নোবেল পাওয়ার চেষ্টা করেন। ধার্মিকতা সত্ত্বেও তাঁর চোখ খুঁজে ফেরে মহিলাদের জামার বুকের অংশের ফাঁকা স্থান, যাতে তাদের স্তন দেখতে পারেন। তিনি মদ পান করতেন না। প্রেসিডেন্ট জিয়া বিমানে তাঁর সঙ্গে আমের যে ঝুড়িগুলো নেন তাতে যিনি বা যারা টাইম বোমা স্থাপন করেন হানিফ তার উপন্যাসে তাদের কাজের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। পুরোটাই কল্পকাহিনি, কিন্তু আকর্ষণীয় ও সুপাঠ্য।

ইংরেজি ভাষার ওপর চমৎকার দখলসহ মোহাম্মদ হানিফ আজন্ম গাল্পিক। প্রকাশক আশ্বাস দিয়েছেন বইটি বেস্ট-সেলার হবে। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে বইটি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। অতএব, প্রত্যেক পাকিস্তানি ও ভারতীয় অবশ্যই বইটি পাঠ করার ইচ্ছা পোষণ করবেন।

(২০০৮ সালে প্রকাশিত মোহাম্মদ হানিফের ‘এ কেস অব এক্সপ্লোডিং ম্যাঙ্গোজ’ উপন্যাসটি শুধু বেস্ট-সেলার নয়, অনেক পুরস্কার অর্জন করে এবং পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হয়নি। ইংরেজির পাশাপাশি বইটির উর্দু সংস্করণও প্রকাশ হয়)।

লেখক : ভারতীয় প্রয়াত সাংবাদিক।