স্থপতি, বায়েজিদ মাহবুব খন্দকারের জন্মদিন আজ

স্থপতি, বায়েজিদ মাহবুব খন্দকারের জন্মদিন আজ ।রাত ১২টার পর থেকেই জন্মদিনের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। পরিবার, বন্ধু-স্বজনরা তাকে ফেসবুকে কিংবা মুঠোফোনে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাসিনকো লিমিটেডের পরিবার তার দীর্ঘায়ু কামনা করছে। বায়েজিদ মাহবুব খন্দকার। বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য স্থপতি। দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে স্বল্পমূল্যে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে স্থাপত্য শিল্পে দেশের জন্য সৃষ্টিশীল কাজ করে চলেছেন। তিনি ইট, কাঠ, কংক্রিটের চেনা জগতের বাইরে বেরিয়ে প্রকৃতিকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য বিষয়ে ব্যাচেলর অব আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০০ সালে ছোট্ট পরিসরে নিজে গড়ে তোলেন ‘নকশাবিদ আর্কিটেক্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটি বনানীতে বড় পরিসরে এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ যাবৎ তিনি বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার ডিজাইন করেছেন।

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে
স্থপতি আমিনুল ইসলাম ইমনের মতামত

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আমরা স্থপতিরা তিনবার কাঁটা- ছেড়া করেছি, এবং প্রতিবারই কিছু অনাকাংখিত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রথমবার, ৭ই মার্চের বংবন্ধুর ভাষণ ও নিয়াজীর আত্মসমর্পণের নিশানা মুছে দিয়ে তার উপরে শিশু পার্ক বানানো। দ্বিতীয়বার, নির্বিচারে গাছ কেটে স্বাধীনতা স্তম্ভ করা হয়েছে। বর্তমানে তৃতীয়বারের মত আরেক দফা নির্বিচার গাছ কেটে রেস্তোরা, টয়লেট, পার্কিং, সহ বিশাল আকারের সবুজকে কনক্রিটের ঢালাই দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এবং ঐতিহাসিক স্থান সুরক্ষার নামে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে বরং পার্কের প্রায় এক তৃতীয়াংশ যায়গা জুড়ে এমন ভাবে লক্ষ টন কনক্রিট বিছানো হয়েছে যে সেখানে আর কোনদিন কোন গাছ হবে না।

উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য গুলো কি কি ছিল?
1. মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা। অর্থাৎ স্বাধীনতা যুদ্ধের সবচাইতে গুরুত্মপূর্ন দুটা মূহুর্ত ধারণ করা। এক, মুক্তিযুদ্ধের শুরু অর্থাৎ জাতির পিতার ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণ এবং দুই, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ১৬ই ডিসেম্বর পরাজিত পাক হানাদার বাহিনীর অস্ত্র সমর্পণ এর মাধ্যমে আত্ম-সমর্থন। এই ঐতিহাসিক স্থান দুটাকে চিনহিত করা, করে সেখানে কোন একটি সিম্বল বা মনুমেন্ট স্থাপন করে ওই স্থানটিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা।
2. ইতোমধ্যে স্থাপিত স্বাধীনতা স্তম্ভ ও জাদুঘরে প্রবেশ ও দেখার সুব্যবস্থা করা। মেট্রো-রেল, বাস, রিকশা, গাড়ি, ইত্যাদি পরিবহনের মানুষ নামানো ও ওঠানোর জন্য সুব্যবস্থা রাখা।
3. ঐতিহাসিক ভাবে এই উদ্যান একটা খেলাধুলা, জনসভা, বইমেলা ও আনন্দ ভ্রমণের জন্য বহুল ব্যাবহৃত বিধায় প্রচুর মানুষের জন-সমাগমকে ধারণ করে এরকম বহু ব্যাবহার উপযোগী খোলা যায়গা
4. ঢাকার একমাত্র সরকারী ও সাশ্রয়ী শিশু পার্ককে আরও সুন্দর করে তৈরি করা।
5. সাথে কিছু আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা যেমন টয়লেট, যাত্রী ছাউনি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা। পাবলিক সার্ভিস এর ব্যবস্থা করা।
6. ঢাকা শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বনানীকে রক্ষা করে উপরোক্ত সব গুলো কাজ করা।

কীভাবে করলে কাজ গুলো আরও অনেক ভালভাবে করা যেত?
১। স্বাধীনতার ইতিহাসকে তুলে ধরা
স্বাধীনতা যুদ্ধের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দুটিকে সবচাইতে অবহেলিত স্থানে রাখা হয়েছে। পথের পাশে, ড্রেনের পাশে অল্প খানিকটা যায়গায়। প্রায় দেখাই যায় না। এখানে এখন যত সুন্দর স্থাপনা বা ভাস্কর্য তৈরি করা হোক না কেন সেটা্র সেটিং ও ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে ব্যাপারটা সঠিক মর্যাদা-পূর্ন না হবার আশংকা আছে। তাছাড়া গাড়ির গ্যারেজের উপরে বংগবন্ধুর ভাষণের মঞ্চ কেন হতে হবে? কেন, গাড়ির এঞ্জিনের শব্দ, ভাইব্রেশন, কালো ধোয়া, ও পেছনে শিশু-পার্কের বাচ্চাদের চিৎকারের কাছে এই স্থাপনা করা হল। বঙ্গবন্ধুর মঞ্চের সম্মান রক্ষার্থে এসব পরস্পর বিরোধী স্থাপনা গুলিকে আরও দূরে দেওয়া উচিত ছিল।
উচিত ছিল দুইটা মহা গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে দুইটা আলাদা চত্বরের কেন্দ্রে রাখা যেত। দুই চত্বরের সংযোগ পথে ৭ই মার্চ থেকে শুরু করে ৯ মাস ৯ দিনের যে যুদ্ধ তার ইতিহাস তুলে ধরা। এটা একটা মনোমুগ্ধকর ও শিক্ষণীয় জার্নি হতে পারত।
প্রথম চত্তরে শুধুই বঙ্গবন্ধু ও তার ঐতিহাসিক ভাষণের গমগমে আওয়াজ থাকতে পারত। শতাব্দীর সেরা সংলাপ গুলোকে দু-দণ্ড দাঁড়িয়ে বা বসে শোনার জন্য কোন সুব্যবস্থা নাই কেন? কনক্রিটের উত্তাপে সেখানে দাঁড়ানো যাবে কি? বরং ওখানে ভিড় করে দাড়াতে গেলে পাশেই ড্রেনে পরে যাবে কি না? ওই ড্রেইনের পানির ময়লা প্রতিদিন প্রিষ্কার করা হবে? একই কথা নিয়াজীর আত্মসমর্পণের যায়গার ক্ষেত্রেও। আমরা সেখানে আত্মসমর্পণের মূহুর্তের ভাস্কর্য দেখতে চাই। লাইট এন্ড শো বা অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সেই দুর্লভ মুহূর্ত বার বার মঞ্চায়ন হতে দিতে চাই। সেই যায়গা কোথায়?
এগুলো সমাধান করেই ডিজাইন করা যেত। না করা হলে মুক্তিযুদ্ধের সবচাইতে ঐতিহাসিক স্থানের সঠিক মর্যাদা দেওয়া হল বলে মনে হচ্ছে না।
২। জনসমাগমের সুব্যাবস্থা করা
এই ঐতিহাসিক স্থান দেখতে আসবে মূলত দেশের কৃষক, শ্রমিক ও জনতা। জনসভা গুলিতেও তাই। এরা আসবে মূলত বাস, সি এনজি বা রিকশায়। এসব গন পরিবহন থেকে লোক নামা বা ওঠার সুশৃঙ্খল সুব্যবস্থা চাই। কমপক্ষে ৫০ টা বাসের এবং একশত রিকশা/সিএনজি/ বাইকের পার্কিং প্রয়োজন কিন্তু এমন কিছুই নাই। বরং আছে ৫০০ প্রাইভেট গাড়ির পার্কিং। এই ব্যবস্থা কাদের জন্য, ভিভিআইপিদের জন্য তো আশে পাশে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট, মিউজিয়াম সহ নানা যায়গায় পার্কিং এর ব্যবস্থা আছেই। এই পার্কিং কাদের স্বার্থে? আশে পাশের কোন ক্লাব বা হোটেলের জন্য কি? প্রাইভেট গাড়িতে করে কত ভাগ লোক আসবে আর গন পরিবহনে কত লোক আসবে তার হিসাব করা হয়েছে কি? করা হলে ডিজাইন অন্য রকম হবার কথা।
৩। বহু ব্যাবহার উপযোগী খোলা যায়গা
সেটার জন্য গোলাকৃতির আকৃতির বিশাল একটা যায়গা স্বাধীনতা স্তম্ভ করার সময় অপ্রয়োজনে গাছ কেটে এক দশক আগেই ন্যাড়া বানিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানেই এখন থেকে জনসভা, বইমেলা সহ সকল অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়। নতুন করে আরও গাছ কেটে নতুন খোলা যায়গা করা র দরকার হয় না।
৪। শিশু পার্ক
শিশু পার্ক করতে আসলে বাউন্ডারি দেওয়া আলাদা যায়গা লাগে এটা একেবারেই ভুল ধারনা। শিশু পার্ক বলে আলাদা কিছু মেকানাইজড রাইড দিলেই সেটা শিশু পার্ক হয়ে যায় না। এটা এদেশের পার্ক ডিজাইনারদের মাথায় নাই। তারা সিঙ্গাপুরের সেস্তোসা আইল্যান্ড ঘুরে আসেন, লস এঞ্জেলসের ডিজনি ল্যান্ড ঘুরে আসেন, কিন্তু কিছু শিখে আসেন না। শিশুরা শুধুমাত্র টিকেট কেটে প্লাস্তিকের রাইডে চড়তে আসে না। তাদের জন্য খোলা মাঠ দরকার আছে। তাদের জন্যেও স্বাধীনতা জাদুঘর দেখার দরকার আছে। তাদের জন্য গাছের ছায়ায় বাবা মা কে নিয়ে মাদুর বিছিয়ে বসে প্রকৃতির নিরবতা উপভোগ করার দরকার আছে। হ্যাঁ রাইড ও থাকবে। প্রয়োজনে সেই রাইড গুলো এই বিশাল পার্কের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে। এই পার্ক হবে শিশু, তরুণ, যুবক, ও বৃদ্ধ সবার ই আনন্দের যায়গা। কেউ তো আলাদা না। স্বাধীনতার আনন্দ যেমন সবার। শিশুতোষ আনন্দও সবার। বরং এখন যেভাবে শিশুপার্ককে কেটে দুই ভাগ করে একটা সরু টানেলের মাধ্যমে যাতায়াতের ব্যাবস্থা করা হয়েছে সেখানে ভয় মহিলা ও শিশুরা ঢুকতে চাইবে? আর্কিটেক্ট এবং প্লানারদের এক্ষেত্রে আরো বেশী ম্যাচিউরিটি নিয়ে এই ডিজাইন করতে হবে।
৫। পাবলিক সার্ভিস
পাবলিক সার্ভিস যেমন রেস্তোরা, টয়লেট, প্রাথমিক চিকিৎসা, নিরাপত্তা রক্ষীদের ভবন, প্রার্থনার যায়গা, ইত্যাদি সবই লাগবে। সে গুলোকেই বরং অল্প যায়গা খরচ করে গভীর মাটির তলায় করা যায়।
৬। বৃক্ষ নিধন
বৃক্ষ নিধন করে নতুন গাছ লাগালেই হয় না। একটা পুরাতন গাছের যে শক্তি, যে ছায়া, যে পরিমাণ মানুষকে এর নিচে ধারণ করতে পারে তা নতুন বৃক্ষ আগামী এক যুগেও পারবে না। উদাহরণ, হাতির ঝিল ও ধানমন্ডি লেক। বনায়ন দু যায়গাতেই আছে। তবে ধানমন্ডি এখন পুরোটাই ছায়া ঘেরা সুশীতল। হাতির ঝিলে এই অবস্থা আসতে আরও বহু বছর অপেক্ষা করতে হবে। তার চেয়ে বড় কথা গাছ না কেটেই সব কিছু করা যেত। এমন একটা স্থাপনা এখানে নাই যা গাছ রেখে করা যায় না। বরং গাছ থাকলেই বেশি সুন্দর হয়, বেশি দর্শক আসে। বর্তমানে নির্মাণাধীন বিরাট এলাকা জুড়ে কনক্রিটের পার্কিং এর ছাদে প্লাস্টিকের ঘাস লাগানো ছাড়া আর কিছু হবে না। গাছের শেকড়ের যায়গা আমরা খেয়ে ফেলেছি।
এখন শেষ ভরসা হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। একমাত্র তিনিই পারেন এই স্থানটির ডিজাইন পুনরায় মূল্যায়নের জন্য পাঠিয়ে উল্লেখিত সমস্যাগুলো সমাধান করে আরও উপযোগী, আরও সুন্দর এবং আরও সবুজ, জন-বান্ধব একটা ডিজাইন করতে। তার সাথে আমার স্থাপত্য বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছে, আমি জানি তিনি স্থাপত্য ও পরিকল্পনা বিষয়টা ভালো বোঝেন এবং নির্দেশনা দিতেও পারেন। তিনি বিষয়টার দিলে সুদৃষ্টি দেবেন বলে আমার আশাবাদ।

সুত্র” স্থপতি আমিনুল ইসলাম ইমনের ফেসবুক পোষ্ট

মঙ্গলের আকাশে উড়ল হেলিকপ্টার!

মঙ্গলের বুকে নতুন ইতিহাস রচনা করল নাসা। সোমবার লাল গ্রহের আকাশে উড়ল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার হেলিকপ্টার ইনজেনুইটি। এই প্রথম অন্য কোনও গ্রহের আকাশে হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেল।

নিঃসন্দেহে মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় রচিত হলো। স্বাভাবিকভাবেই এমন সাফল্যের আনন্দে উচ্ছ্বসিত নাসার বিজ্ঞানী ও কর্মীরা। নাসার শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পৃথিবীতে বসে স্ক্রিনে সাফল্যের মুহূর্তের সাক্ষী থাকার সময় কেমন করে দু’হাত তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন সকলে।

এই সাফল্যকে বর্ণনা করতে গিয়ে নাসার এক শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারের কথায়, ‘এটা আমাদের রাইট ব্রাদার্স মুহূর্ত।’’

প্রসঙ্গত, মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত রচিত হয়েছিল যেদিন রাইট ভাইদের তৈরি বিমান আকাশে উড়েছিল। কার্যত সেই ইতিহাসেরই এক সম্প্রসারিত অধ্যায় হিসেবে এদিনে সাফল্যকে দেখছে নাসা। আর সেই কারণেই মঙ্গলে উড়া এই হেলিকপ্টারের মধ্যেই রাখা ছিল ছোট্ট কাপড়ের এক টুকরো। এই কাপড়ের টুকরোটি ছিল ফ্লাইয়ার ওয়ান নামের বিমানের ডানায়। ওই বিমানটিই ১৯০৩ সালে উড়িয়েছিলেন রাইট ভাইরা।

নাসার এই সাফল্য অবশ্য একদিনে আসেনি। বহুবারই উদ্যোগ নিয়েও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে হাল ছাড়েননি তারা। অবশেষে সোমবার এল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

এদিন মঙ্গল-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ ফুট উপরে উড়তে দেখা যায় নাসার এই কপ্টারকে। কেবল আকাশে উড়াই নয়, এরপর ধীরে ধীরে সেটিকে মাটিকে নেমে আসতেও দেখা যায়। মঙ্গলে বাতাসের ঘনত্ব পৃথিবীর থেকে ৯৯ শতাংশ কম। এমন প্রতিকূলতায় হেলিকপ্টার উড়ানো ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। ইনজেনুইটি কেবল উড়েইনি, মাটি থেকে তিন মিটার উপরেও উঠেছে। আর তাতেই অভিভূত নাসা।

চলতি মাসের শুরুতেই পার্সিভিয়ারেন্স থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেরিয়ে আসে হেলিকপ্টারটি। আশা করা হচ্ছে, নাসা কপ্টারটির উড়ে বেড়ানোর আরও ভিডিও পোস্ট করবে সোশ্যাল মিডিয়ায়।-সংবাদ প্রতিদিন

গল্প; সাব্বির ইমন

সাব্বির ইমন,
মুদি দোকানে ডিম কিনতে গিয়েছি। পাশে এক লোক বাচ্চা নিয়ে দোকানে এসেছে। লোকটা সম্ভবত শ্রমিক বা রিকশাচালক। শুকনা। কন্ঠার হাড্ডি বের হয়ে গেছে। অভাব অনটন তাকে কেমন জীর্ণশীর্ণ করে দিয়েছে।
তার বাচ্চাটারও একই অবস্থা। লোকটা ২৫০ গ্রাম তেল আর লবন কিনতে এসেছে। বাচ্চাটা জুলজুল চোখে লজেন্সের বয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে। বেচারা চাইতে সাহস পাচ্ছে না। ওর বাবা সেটা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু দারিদ্র্য মাঝেমাঝে চোখে নির্লজ্জ টিনের চশমা পড়িয়ে দেয়। সেই কথিত “চশমার” আড়ালে ছেলের মায়াভরা মুখটা দেখে ভালোবাসায় ভেজা গলায় বাবাটা বললো, “কিছু লইবি?”
ছেলেটা লাজুক ভাবে কথা না বলে আঙ্গুল তুলে দেখালো। বাবা হেসে লজেন্সের বয়ামের কৌটা খুলে দুইটা লজেন্স বের করে ছেলেকে খুব আদর করে বলো, “তিনের ঘরের নামতাটা কও তো বাপ”
বলেই লোকটা আড়চোখে সবার দিকে হালকা তাকালো। তার সেই দৃষ্টিতে কেমন একটা চাপা উত্তেজনা। যদি না পারে? সবাই তো তাকিয়ে আছে!
ডিমের পুটুলি হাতে নিয়ে আমিও তাকিয়ে আছি ছেলেটার দিকে।
দোকানদারও সরু চোখে তাকিয়ে আছে। এই পিচ্চি পোলা! নাক দিয়ে সিকনি ঝরছে, সে বলবে তিনের ঘরের নামতা! এই কঙ্কালসার ছেলে তিনে তিনে কত হয় সেটাই তো জানে না!
ছেলের হাতে লজেন্স। সে লজেন্স দুইটা এহাত-ওহাত করছে। বাবার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে স্পোর্টস কারের গতিতে সে বলতে শুরু করলো,
“তিন অক্কে তিন, তিন দুগুনি ছয়, তিন তিরিক্কা নয়, তিন চাইরে বারো….”
কেমন টেনেটেনে গানের তালে মাথা নেড়েনেড়ে সে বলে যাচ্ছে। বাবার চোখে যেন নামতার পাতাটা সেঁটে আছে, ও শুধু দেখে দেখে পড়ে যাচ্ছে।
নামতা শেষ হলো ত্রিশ কি চল্লিশ সেকেন্ডে। শেষ করে সে একটা লজেন্স মুখে পুড়লো। মুখ ঝলমল করে বাবাকে বললো, “আব্বা, চাইরের নামতাও পারি। কমু?”
সেই জীর্ণ লোকটা, হয়তো প্রতিদিন ঠিক মতো পয়সা পায় না। পাঁচটাকা বেশী রিকশা ভাড়া চাইলে দুইচারটা গালি খায়, মহাজনের গুঁতা খায়।
সেই গাল ভাঙ্গা কুঁজো হয়ে যাওয়া লোকটা প্রতিদিনই হেরে যায়। সমাজের কাছে, সংসারের কাছে, পিতৃত্বের কাছে।
আজ সে হারেনি। আজ তার অনেক বেশি আনন্দ। সবার সামনে ছেলে তার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এবার সে আড়চোখে না, পূর্ণ দৃষ্টিতে আমাদের সবার দিকে তাকালো। তার চোখে গর্বের অশ্রু, আনন্দাশ্রু।
যে লোক শুধু পরাজিতই হয়, আমাদের চোখে, আসলে সে পরাজিত না। সে আসলে অনেক বড় যোদ্ধা। আমাদের চেয়ে অনেক সাহসী। আমরা তো যুদ্ধের আগে নানান পরিকল্পনা করি, কত ফন্দিফিকির, কাকে নিচে নামিয়ে কাকে মাড়িয়ে আমরা উপরে উঠবো।
কিন্তু এই লোকগুলো কাউকে মাড়িয়ে উপরে উঠতে চায় না, নিশ্চিত পরাজয় জেনেও প্রাণপণ যুদ্ধ করে যায়।
যে সিঁড়ি বেয়ে আমরা তড়তড়িয়ে উপরে উঠে যাই, আমরা কি জানি তাদের কাঁধের উপরই সেই সিঁড়ি চাপানো!
লোকটা আজ সাহস পেয়েছে। তিনের ঘরের নামতাটা শুধু নামতা নয়, একটা সাহস, একজন বাবার শক্ত একটা কাঁধ, একটা অবলম্বন। তিনের ঘরের নামতাটা এই দরিদ্র লোকটার স্বপ্ন পূরণের উপাখ্যান।
লোকটা তার ছেলেকে কোলে তুলে ফেললো। সে কেঁদেই ফেলেছে। এই সময় হুট করে দোকানী ডীপফ্রিজ খুলে একটা ললি আইসক্রিম পিচ্চির হাতে দিলো,
“সাবাস! জজ ব্যারিস্টার হইয়া দেখায়া দিস সবাইরে! ল, আইসক্রিম খা। বেশি খাইস না, গলা ফুইলা গেলে কথা কইবার পারবি না।”
ছেলেটা খুশি মনে আইসক্রিমটা নিলো। বাবা ছেলে চলে গেলো। আমি ওদের দিকে তাকিয়ে আছি।
দোকানদার আমাকে বললো, “আমি তো ভাববারও পারি নাই। বান্দরটা কেমনে চ্যালচ্যালাইয়া নামতা কইয়া দিলো! দেখলেন নি কারবার ডা!”
একি! দোকানির চোখেও পানি! আসলে যারা ক্ষুধার কষ্ট বোঝে, তাদের একজনের মনের সাথে অন্যজনের মন একই সুতোয় গাঁথা থাকে। একজনের কষ্ট আরেকজন বুঝতে পারে, আবার আনন্দগুলোও স্পর্শ করে প্রবলভাবে।
আর আমরা? কোটি টাকার স্বপ্নে বিভোর আর প্রতিযোগীতার উন্নাসিকতায় ভুলে যাই আমরা আসলে কি!!!
আমি ডিম হাতে একা একাই হাঁটছি আর বলছি, “তিন অক্কে তিন, তিন দুকুনে ছয় …”
আমাকেও সংক্রামিত করেছে তাদের জয়ের আনন্দ।

পূবালী ব্যাংকের আর্থিক রিপোর্ট সংশোধনে নির্দেশনা।

পূবালী ব্যাংকের আর্থিক রিপোর্ট সংশোধনে নির্দেশনা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ০৮/০২/২০২১ তারিখের এক পত্রে পূবালী ব্যাংকের ২০১৮ ও ২০১৯ সালের আর্থিক রিপোর্ট সংশোধনে আইসিবিকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, পূবালী ব্যাংক IAS ৩৭ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলাধীন বিষয় গুলো যথাযথ ভাবে সঞ্চিতি রাখেনি। সে সময়ের অডিটর ছিল এস. এফ. আহমেদ এন্ড কোং., হুদা ভাসী এন্ড কোং., হাওলাদার ইউনুস এন্ড কোং. ও অন্য কয়েকটি অডিট ফার্ম। উল্লেখ্য যে, এই বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোপূর্বে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলাম।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত
চীন বিদ্বেষের আগুনে খাঁটি হবে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক?

প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে অন্যের সঙ্গে আঁতাত করা কয়েক সহস্র বছরের পুরনো ও বহুল আশ্রিত একটি কৌশল। মেসোপটেমিয়া সভ্যতার মূল সৌর্যে পরিণত হওয়ার অভিলাষে এই কৌশলের সফল ব্যবহার করেছিলেন ব্যাবিলন সম্রাজ্যের সম্রাট হাম্মুরাবি।

মেসোপটেমিয়া সভ্যতার পত্তন হয় শ্রেণিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার উদ্ভবের পরপরই। সেই সভ্যতার অধীনে প্রায় প্রতিটি শহরই ছিল একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র। এসব নগররাষ্ট্রের রাজারা একে অন্যের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে মত্ত থাকত। যুদ্ধে জয়ী হলে বিজিত নগরী দখল অথবা ধ্বংস করে দেয়ার চর্চাও ছিল সে সময়।

সেই আমলে ব্যাবিলন বেশ জনপ্রিয় একটি জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আর এই জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল দজলা ও ফোরাত নদীর (টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস) সহাবস্থানে নগরীটির অবস্থান। ব্যাবিলন মূলত এর ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে ফায়দা লুটেছিল। ধীরে ধীরে ব্যাবিলন পরিণত হয়েছিল মেসোপটেমিয়ার বাণিজ্যিক নগরীতে। পরিণত হয়েছিল একটি শক্তিশালী নগররাষ্ট্রে।

মেসোপটেমিয়ার শাসনব্যবস্থায় যে নামটি নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে, তা হলো ব্যাবিলনের সম্রাট হাম্মুরাবি। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১৭৯২-১৭৫০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। ব্যাবিলনের ধন-সম্পদের প্রাচুর্য কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন বিশাল এক সৈন্যবাহিনী। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের রাজাদের মধ্যে বিদ্যমান কলহ তিনি সুকৌশলে নিজ স্বার্থে কাজে লাগিয়েছিলেন। কূটবুদ্ধিতে হাম্মুরাবির জুড়ি মেলা ছিল ভার। কলহপূর্ণ বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্য থেকে শক্তিশালী রাষ্ট্র বেছে নিয়ে তার সঙ্গে জোট বেঁধে অন্যান্য নগররাষ্ট্র দখল করতেন তিনি। তারপর সুযোগ বুঝে নিজের মিত্রপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বস্ব লুটে নিতেন। এরপর বিরোধিতা করার মতো আর কেউ থাকত না। এভাবে সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও নিপাট কৌশলের আশ্রয়ে পুরো মেসোপটেমিয়াকে পদানত করেন সম্রাট হাম্মুরাবি। বিস্তৃত করেন নিজের সম্রাজ্য ও অনুশাসন।

ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রী গড়ে তুলে নিজ স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ দেশকে পদদলিত করে রাখার এ কৌশল আজও গ্রহণ করতে দেখা যায় কিছু দেশকে। পরাক্রমশালী দেশগুলোর এ শীতল যুদ্ধের ছায়া আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বজুড়ে। এক্ষেত্রে সবার আগে যে দেশের নাম উঠে আসে, সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আর হালের রাশিয়া থেকে শুরু করে চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান, ভেনিজুয়েলা, কিউবার মতো দেশগুলোর সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক রীতিমতো সাপে-নেউলে। অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক কূটকৌশলের কারণে ইসরায়েল, জাপান, সৌদি আরব, ব্রিটেনসহ আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে মার্কিন প্রশাসন।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র খেলা অনেকদিন ধরেই চলছে। এ অঞ্চলে তাদের কূটনৈতিক তত্পরতা এতই প্রভাব বিস্তারকারী যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, সুদান ও মরোক্কোর মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে অভাবনীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উষ্ণতাও কিছুটা বেড়েছে। মূলত নিজেদের শীর্ষ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে ভারতের শিথিল সম্পর্ককে কাজে লাগাতেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে ওয়াশিংটন।

চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেকটা একই। তাইওয়ান ও হংকং ইস্যু, উইঘুরের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন, দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দখলদারিত্ব, নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারণ করার দায়, চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ, বাণিজ্যযুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় ঘিরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিবাদ এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে গত বছরের মাঝামাঝিতে সীমান্ত বিরোধের জেরে ভারত ও চীন একে অপরের ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তের সেই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে কেন্দ্রেও এবং তা এতটাই প্রকট যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাণিজ্যিকভাবেও চীনকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কোন্নয়নে আরেকটি বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও গত কয়েক বছরে এ বন্ধন কিছুটা শিথিল হয়েছে। মূলত ইসলামাবাদের বেইজিং-ঘেঁষা অবস্থানই এর কারণ। ওয়ান বেল্ট উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাকিস্তানকে ব্যবহার করছে চীন, যার প্রতিদান হিসেবে ইসলামাবাদকে অর্থনৈতিক ও সামরিক বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে তারা। চিরশত্রু প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে চীনের এই দহরম-মহরম একেবারেই ভালোভাবে দেখছে না ভারত। আবার চীনকে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেয়ায় পাকিস্তানের ওপরও কিছুটা নাখোশ যুক্তরাষ্ট্র। তাই তাদের শিক্ষা দিতে ভারতের সঙ্গে হাত মেলাতেই পারে মার্কিন প্রশাসন।

মোট কথা, চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অবস্থান এখন একই সরলরেখায় অবস্থান করছে। ফলে এই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একে অন্যকে পাশে পেতে চাইবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কৌশলগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার সম্পর্ক আরো উষ্ণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনও সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রেখেছেন। এশিয়াকে ঘিরে নতুন মার্কিন প্রশাসনের কৌশলগত নীতি কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, চীনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে বেইজিং ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান কঠোরই থাকবে। একই সময় ব্লিংকেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরো উষ্ণ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি বলেন, নয়াদিল্লির সঙ্গে মিত্রতা ওয়াশিংটনের জন্য সবসময়ই লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক অরুণ সিং ২০১৫-১৬ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতে, চীনের তরফ থেকে ভারতকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে, এবং অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক উত্থানের কারণে চীনকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে, তাতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে দুই দেশের জোটবদ্ধভাবে কাজ করার সম্ভাবনাই বেশি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও থিংক ট্যাংক গেটওয়ে হাউজের সম্মানীয় ফেলো রাজীব ভাটিয়ার মতে, প্রকৃত অর্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা দৃশ্যমান হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ চীন ও এশিয়ার বাকি দেশগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্য মার্কিন নীতি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে এখনও। তবে এ কথা বলে দেয়া যায় যে, ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি কৌশলগত সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রভাব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বিস্তৃত হবে। আর গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে চীনের সামরিক প্রভাব দৃশ্যমানভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

রাজীব ভাটিয়া যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ার পেছনে একটি ভালো যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ভারত এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, এ মুহুর্তে চীনই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিকে দমিয়ে রাখতে দিল্লিকে অবশ্যই পাশে চাইবে শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে এশিয়ায় বর্তমানে যে ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে, তাতে প্রভাব বিস্তারের জন্য ভারতেরও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দরকার।

বারাক ওবামার প্রশাসন ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সে সময়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের উদ্যোগও দেখা গিয়েছিল। পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ভারতকে ‘স্ট্র্যাটেজিক ট্রেড অথরাইজেশন’ ক্যাটাগরিতে রাখার মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ক্যাটাগরিতে কোনো দেশের ঠাঁই হওয়ার অর্থ হলো সেটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ট সহযোগী। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দেশ দুটির মধ্যে এই ঘনিষ্ঠতা আরো বাড়বে বলে আশা করাই যায়।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও বলেছেন, যতদূর বোঝা যাচ্ছে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতা কয়েক দশক এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনি সবসময়ই ভারতের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। যখন তিনি সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন থেকেই তিনি ভারতের পাশে ছিলেন।

ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ও ডেপুটি ডিরেক্টর মাইকেল কুগেলম্যানও একই কথা বলেছেন। তিনিও মনে করেন, বাইডেন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধু হিসেবেই আবির্ভূত হবেন। তিনি বলেন, বাইডেন ভারতকে বেশ ভালোভাবেই জানেন। তাকে দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কের সমর্থক হিসেবেই দেখা হয়।

লেখক: শরিফুল আলম শিমুল

সংবাদকর্মী

নতুন বিষয় জানা ও শেখার প্রতি আগ্রহ

ছোটবেলা হতেই নতুন বিষয় জানা ও শেখার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিল। একসময় ছিলাম বইয়ের পোকা, নিত্য নতুন বিষয়ের উপর বই জোগাড় করে পড়ার চেষ্টা করতাম। বুয়েট থেকে ম্যাকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নিয়ে দূর্ভাগ্যবশত সরাসরি সওদাগরি (বিজনেস) শুরু করি কোন প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই। অনেকটা ট্রায়াল এন্ড এরর মেথডে ধীরে ধীরে নিজের প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করিয়েছি। নিজের একটা এমবিএ কোর্সে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনীয়তা সবসময়ই অনুভব করি। কিন্তু কর্মব্যস্ততায় তা করে উঠার সুযোগ এখনো মিলে নাই। তাই কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন থিওরিটিক্যাল বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করেছি, দেশি বিদেশি অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ছোট ছোট সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তি হয়ে নিজের ব্যবসায়িক এবং মানবিক বিদ্যাকে শানিত করার চেষ্টা করছি। অর্জিত এইসব বিদ্যার যথাযথ প্রয়োগের কারনেই হয়তো আল্লাহর অশেষ রহমতে আজকে আমরা সম্মানের সাথে ব্যবসা করতে পারছি।
প্যানডেমিক চলাকালীন সময়ে সুযোগ হয়েছিল বেশ কিছু অনলাইন কোর্স করার। মালয়শিয়াতে বন্ধু জুয়েল অনেক আগে থেকেই জগদ্বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনলাইন কোর্সে ভর্তি হতে আমাকে সাজেস্ট করেছিল, যার নাম Disruptive Strategy। এই কোর্স করে তার জীবন এবং ব্যবসায়িক চিন্তাধারণা আমূল পরিবর্তন এসেছিল। আর দুবাইতে আরেক বন্ধু সামস এটা কম্পলিট করে আমাকে এটাতে এনরোল করার জন্য আরো বেশি উৎসাহিত করে। কিন্তু টানা ছয়সপ্তাহ এই কোর্স করা আমার মতো অধৈর্য্য মানুষের পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু করনোর কারনে যখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তখন মাথা ঠান্ডা রেখে সাহস করে এই কোর্স এ এনরোল করে ফেললাম। এই বয়সে একা পড়ালেখা করা অনেক কঠিন হবে, তাই সাথী হিসেবে জুটিয়ে নেই ভাই কে। অনেক ধন্যবাদ ভাই এই চমৎকার শিক্ষা আর অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পরিক্রমায় সাথী হওয়ার জন্য।
তারপর শুরু হয় দেড় মাসের এক রোমাঞ্চকর যাত্রা। প্রতিদিন নিত্য নতুন ব্যবসায়িক সূত্র, দুনিয়া জুড়ে ঘটে যাওয়া দুর্দান্ত সব ব্যবসা’র সফলতা, প্রতিযোগিতা বা বিফলতার কেইস স্টাডিজ। কিভাবে নতুন বাজার সৃষ্টি হয়, কিভাবে একটি দাপুটে ব্যবসা সময় এবং স্ট্র‍্যাটেজিক কারনে পিছিয়ে পড়ে , আবার সম্পূর্ণ নতুন বানিজ্যিক আইডিয়া’র জন্ম হয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চলে ছয় সপ্তাহের এক অনন্য অভিযাত্রা। কোর্স প্রণেতা Clayton Christensen আমার চোখ খুলে দেয়। যদিও উনি গত জানুয়ারী মাসে মারা গিয়েছেন কিন্তু তার রেকর্ড করা ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে আমাদের সবসময়ই মনে হয়েছে উনি ক্লাসরুমে আমাদের সাথেই আছেন। ব্যবসার কঠিন ব্যাপারগুলো কত সহজে উনি সাধারনভাবে বুঝিয়েছেন। ইন্টারেকক্টিভ এই কোর্সের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, সেই সূত্র অনুসারে নিজের ব্যবসা আরও বেশী সেবা উপযোগী ও সাস্টেইনেবল করার উদ্যোগও নিয়েছি।
কদিন আগে হার্ভার্ড এর এই কোর্সের অনলাইন সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে আমি অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত। এইজন্য আমি বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ দিব আমার প্রানের বন্ধু জুয়েল এবং সামসকে, আমাকে এতে অংশগ্রহণ করায় উৎসাহিত করার জন্য। আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা বাদল ভাইয়ের প্রতি, অনেক ব্যস্ততার পরও আমাকে সঙ্গ দেবার জন্য। আর সিপিডিএল পরিবারের জিয়া ভাই, জামাল সহ সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, এই ছয় সপ্তাহে আমাকে বিভিন্ন ডিসিশন মেকিং প্রসেস থেকে বিরত রাখার জন্য। যখন কোর্স চলছিল তখন মনোযোগ যাতে বিচ্ছিন্ন যাতে না হয় তাই মাঝেমাঝে দরজা আর মোবাইল দুটোই বন্ধ করে রেখেছিলাম। তখন হয়তবা সিপিডিএল এর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল কিন্তু পরিপূর্ণ ভাবে মনোযোগ দেবার কারনে নতুন কিছু ইনোভেটিভ ব্যবসায়িক আইডিয়া এবং প্রসেস সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আশা করছি, এই কোর্স থেকে যা শিখেছি তা যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজের ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সামাজিক উন্নয়নে অনেক বেশি অবদান রাখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
কোর্সের লিংক https://online.hbs.edu/courses/disruptive-strategy/…

No photo description available.

সমালোচনায় বিরক্ত হয়ে যা বললেন সেই ‘টম ইমাম’

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এক দম্পতির কিছু ছবি। তারা হলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক টম ইমাম ও তার স্ত্রী মিষ্টি ইমাম। তাদের ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, এই দম্পতি বিবাহবার্ষিকীতে কেক কেটেছেন। আবার কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে ফটোসেশন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায়া পাতায় ঘুরেছে।

যা নিয়ে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আলোচনা করলেও, অনেকেই সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন সেই ‘টম ইমাম’। তিনি শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বড়াবাড়ি না করতে নিষেধ করেছেন তিনি।

ফেসবুকে টম ইমাম লিখেছেন, কয়েকদিন যাবৎ আমি লক্ষ্য করছি, অনেক লোকজন আমাকে এবং আমার স্ত্রীর ফেসবুক আইডি থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে অনেক ছবি ভাইরাল করছেন। সাথে অনেক খারাপ মন্তব্যও করেছেন। এগুলো কি ঠিক হলো?

তিনি আরও লিখেছেন, অনেকেই জানতে চাচ্ছেন-কে টম ইমাম? তাহলে বলি-আমি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। আমার আগের স্ত্রী আমেরিকান নাগরিক ছিলেন এবং সে ১০ বছর ধরে অসুস্থ থাকার পর ২০১১ সালের মারা যায়। এরপর আমি আমার সন্তানদের মানুষ করার জন্য আর বিয়ে করিনি। সব মিলিয়ে ২০ বছর আমি ত্যাগ করেছি। তারপর আমি বাংলাদেশি একজনকে বিয়ে করি।

তিনি লিখেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি এবং সেও আমাকে ভালোবাসে। ভালোবাসার কোন বয়স নেই। ভালোবাসা অন্ধ হয় যদি আপনি কাউকে হৃদয় থেকে ভালোবাসেন। দয়া করে আমি যেমন আপনার পরিবারকে শ্রদ্ধা করি তেমন আমার পরিবারকে শ্রদ্ধা করুন।

বিডি-প্রতিদিন

সমালোচনায় বিরক্ত হয়ে যা বললেন সেই ‘টম ইমাম’

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এক দম্পতির কিছু ছবি। তারা হলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক টম ইমাম ও তার স্ত্রী মিষ্টি ইমাম। তাদের ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, এই দম্পতি বিবাহবার্ষিকীতে কেক কেটেছেন। আবার কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে ফটোসেশন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায়া পাতায় ঘুরেছে।

যা নিয়ে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আলোচনা করলেও, অনেকেই সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন সেই ‘টম ইমাম’। তিনি শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বড়াবাড়ি না করতে নিষেধ করেছেন তিনি।

ফেসবুকে টম ইমাম লিখেছেন, কয়েকদিন যাবৎ আমি লক্ষ্য করছি, অনেক লোকজন আমাকে এবং আমার স্ত্রীর ফেসবুক আইডি থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে অনেক ছবি ভাইরাল করছেন। সাথে অনেক খারাপ মন্তব্যও করেছেন। এগুলো কি ঠিক হলো?

তিনি আরও লিখেছেন, অনেকেই জানতে চাচ্ছেন-কে টম ইমাম? তাহলে বলি-আমি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। আমার আগের স্ত্রী আমেরিকান নাগরিক ছিলেন এবং সে ১০ বছর ধরে অসুস্থ থাকার পর ২০১১ সালের মারা যায়। এরপর আমি আমার সন্তানদের মানুষ করার জন্য আর বিয়ে করিনি। সব মিলিয়ে ২০ বছর আমি ত্যাগ করেছি। তারপর আমি বাংলাদেশি একজনকে বিয়ে করি।

তিনি লিখেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি এবং সেও আমাকে ভালোবাসে। ভালোবাসার কোন বয়স নেই। ভালোবাসা অন্ধ হয় যদি আপনি কাউকে হৃদয় থেকে ভালোবাসেন। দয়া করে আমি যেমন আপনার পরিবারকে শ্রদ্ধা করি তেমন আমার পরিবারকে শ্রদ্ধা করুন।

বিডি-প্রতিদিন

বেয়াদবি হলে ক্ষমা করবেন…

এই ৪২ জনের নাম নিতে চাই না। কখন আবার বেয়াদব খেতাব পেয়ে বসি। উনারা বিদ্যা বুদ্ধিতে অনেক উপরের মানুষ। উনাদের নিয়ে কিছু বলার ইচ্ছাও ছিল না, তবুও বিবেকের তাড়নায় লিখলাম। কালে কালে জনগণই তাদের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করেন। ১/১১ এর মত কোন ঘটনা ঘটলেই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে আসে।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উনাদের নাকি বিস্তর অভিযোগ। উনাদের ক্ষোভের মাত্রাটা এতটাই অগোছালো ছিল যে, গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য যেখানে ২ কোটি টাকা বরাদ্দই ছিল না সেখানে পুরা ২ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগও তারা এনেছেন। মনে হচ্ছে, কেউ একটা ফরমায়েশি কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে আর উনারা তাতে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন।

ধরে নিলাম, আপনারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছেন, অসদাচরণের অভিযোগ পেয়েছেন। আর সেটা দেখেই আপনারা একেবারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেলেন। খুবই ভালো কথা। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে অনিয়ম হলে সোচ্চার হওয়াটা আপনার আমার নাগরিক দায়িত্ব। আপনারা হয়েছেন। কারণ, আমার বিশ্বাস আপনারা চাঁদ তারা নয়, লাল সবুজের বাংলাদেশটাকেই ভালোবাসেন।

ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে ব্যক্তিগতভাবেও আমি খুশি। উনারা মনে করেছেন যে, দেশের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের খবর শুনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। এইভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে রাষ্ট্রের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটবে না।

শ্রদ্ধেয় ৪২ জনের কাছে আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। যেই তাড়না থেকে এই লেখা। কিছুদিন আগেও মৌলবাদী গোষ্ঠী দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য মুছে ফেলতে চেয়েছে, ভাস্কর্য ভেঙে দিতে চেয়েছে, জাতির পিতার ভাস্কর্য ভেঙে দিয়েছে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে- তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? এই দেশের ৩০ লাখ মানুষ জীবন বিলিয়ে দিয়ে ফয়সালা করে গিয়েছে যে, এই দেশ হবে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, সব ধর্মের মানুষ এই দেশে সমান অধিকার নিয়ে বাস করবে। দেশের এই অসাম্প্রদায়িক চরিত্র মুছে দেয়ার হুঙ্কার যখন আসে তখন কেন আপনাদের বিবেকের কলম কথা বলে না?

যদি ভয় পান সেটাও বলেন। যদি চাঁদ তারার বাংলাদেশ চান সেটাও পরিষ্কার করে বলেন। দেশের জনগণ আপানেদের আসল রূপ’টা জানুক। স্বাধীন দেশের অস্তিত্বের চেয়ে নির্বাচন কমিশন যখন বড় হয়ে যায় তখনই আপনাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এই প্রশ্ন আমার মনেও উঠেছে- তাই এই লেখা। বেয়াদবি হলে ক্ষমা করবেন।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)