গল্প; সাব্বির ইমন

সাব্বির ইমন,
মুদি দোকানে ডিম কিনতে গিয়েছি। পাশে এক লোক বাচ্চা নিয়ে দোকানে এসেছে। লোকটা সম্ভবত শ্রমিক বা রিকশাচালক। শুকনা। কন্ঠার হাড্ডি বের হয়ে গেছে। অভাব অনটন তাকে কেমন জীর্ণশীর্ণ করে দিয়েছে।
তার বাচ্চাটারও একই অবস্থা। লোকটা ২৫০ গ্রাম তেল আর লবন কিনতে এসেছে। বাচ্চাটা জুলজুল চোখে লজেন্সের বয়ামের দিকে তাকিয়ে আছে। বেচারা চাইতে সাহস পাচ্ছে না। ওর বাবা সেটা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু দারিদ্র্য মাঝেমাঝে চোখে নির্লজ্জ টিনের চশমা পড়িয়ে দেয়। সেই কথিত “চশমার” আড়ালে ছেলের মায়াভরা মুখটা দেখে ভালোবাসায় ভেজা গলায় বাবাটা বললো, “কিছু লইবি?”
ছেলেটা লাজুক ভাবে কথা না বলে আঙ্গুল তুলে দেখালো। বাবা হেসে লজেন্সের বয়ামের কৌটা খুলে দুইটা লজেন্স বের করে ছেলেকে খুব আদর করে বলো, “তিনের ঘরের নামতাটা কও তো বাপ”
বলেই লোকটা আড়চোখে সবার দিকে হালকা তাকালো। তার সেই দৃষ্টিতে কেমন একটা চাপা উত্তেজনা। যদি না পারে? সবাই তো তাকিয়ে আছে!
ডিমের পুটুলি হাতে নিয়ে আমিও তাকিয়ে আছি ছেলেটার দিকে।
দোকানদারও সরু চোখে তাকিয়ে আছে। এই পিচ্চি পোলা! নাক দিয়ে সিকনি ঝরছে, সে বলবে তিনের ঘরের নামতা! এই কঙ্কালসার ছেলে তিনে তিনে কত হয় সেটাই তো জানে না!
ছেলের হাতে লজেন্স। সে লজেন্স দুইটা এহাত-ওহাত করছে। বাবার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে স্পোর্টস কারের গতিতে সে বলতে শুরু করলো,
“তিন অক্কে তিন, তিন দুগুনি ছয়, তিন তিরিক্কা নয়, তিন চাইরে বারো….”
কেমন টেনেটেনে গানের তালে মাথা নেড়েনেড়ে সে বলে যাচ্ছে। বাবার চোখে যেন নামতার পাতাটা সেঁটে আছে, ও শুধু দেখে দেখে পড়ে যাচ্ছে।
নামতা শেষ হলো ত্রিশ কি চল্লিশ সেকেন্ডে। শেষ করে সে একটা লজেন্স মুখে পুড়লো। মুখ ঝলমল করে বাবাকে বললো, “আব্বা, চাইরের নামতাও পারি। কমু?”
সেই জীর্ণ লোকটা, হয়তো প্রতিদিন ঠিক মতো পয়সা পায় না। পাঁচটাকা বেশী রিকশা ভাড়া চাইলে দুইচারটা গালি খায়, মহাজনের গুঁতা খায়।
সেই গাল ভাঙ্গা কুঁজো হয়ে যাওয়া লোকটা প্রতিদিনই হেরে যায়। সমাজের কাছে, সংসারের কাছে, পিতৃত্বের কাছে।
আজ সে হারেনি। আজ তার অনেক বেশি আনন্দ। সবার সামনে ছেলে তার মুখ উজ্জ্বল করেছে। এবার সে আড়চোখে না, পূর্ণ দৃষ্টিতে আমাদের সবার দিকে তাকালো। তার চোখে গর্বের অশ্রু, আনন্দাশ্রু।
যে লোক শুধু পরাজিতই হয়, আমাদের চোখে, আসলে সে পরাজিত না। সে আসলে অনেক বড় যোদ্ধা। আমাদের চেয়ে অনেক সাহসী। আমরা তো যুদ্ধের আগে নানান পরিকল্পনা করি, কত ফন্দিফিকির, কাকে নিচে নামিয়ে কাকে মাড়িয়ে আমরা উপরে উঠবো।
কিন্তু এই লোকগুলো কাউকে মাড়িয়ে উপরে উঠতে চায় না, নিশ্চিত পরাজয় জেনেও প্রাণপণ যুদ্ধ করে যায়।
যে সিঁড়ি বেয়ে আমরা তড়তড়িয়ে উপরে উঠে যাই, আমরা কি জানি তাদের কাঁধের উপরই সেই সিঁড়ি চাপানো!
লোকটা আজ সাহস পেয়েছে। তিনের ঘরের নামতাটা শুধু নামতা নয়, একটা সাহস, একজন বাবার শক্ত একটা কাঁধ, একটা অবলম্বন। তিনের ঘরের নামতাটা এই দরিদ্র লোকটার স্বপ্ন পূরণের উপাখ্যান।
লোকটা তার ছেলেকে কোলে তুলে ফেললো। সে কেঁদেই ফেলেছে। এই সময় হুট করে দোকানী ডীপফ্রিজ খুলে একটা ললি আইসক্রিম পিচ্চির হাতে দিলো,
“সাবাস! জজ ব্যারিস্টার হইয়া দেখায়া দিস সবাইরে! ল, আইসক্রিম খা। বেশি খাইস না, গলা ফুইলা গেলে কথা কইবার পারবি না।”
ছেলেটা খুশি মনে আইসক্রিমটা নিলো। বাবা ছেলে চলে গেলো। আমি ওদের দিকে তাকিয়ে আছি।
দোকানদার আমাকে বললো, “আমি তো ভাববারও পারি নাই। বান্দরটা কেমনে চ্যালচ্যালাইয়া নামতা কইয়া দিলো! দেখলেন নি কারবার ডা!”
একি! দোকানির চোখেও পানি! আসলে যারা ক্ষুধার কষ্ট বোঝে, তাদের একজনের মনের সাথে অন্যজনের মন একই সুতোয় গাঁথা থাকে। একজনের কষ্ট আরেকজন বুঝতে পারে, আবার আনন্দগুলোও স্পর্শ করে প্রবলভাবে।
আর আমরা? কোটি টাকার স্বপ্নে বিভোর আর প্রতিযোগীতার উন্নাসিকতায় ভুলে যাই আমরা আসলে কি!!!
আমি ডিম হাতে একা একাই হাঁটছি আর বলছি, “তিন অক্কে তিন, তিন দুকুনে ছয় …”
আমাকেও সংক্রামিত করেছে তাদের জয়ের আনন্দ।

পূবালী ব্যাংকের আর্থিক রিপোর্ট সংশোধনে নির্দেশনা।

পূবালী ব্যাংকের আর্থিক রিপোর্ট সংশোধনে নির্দেশনা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ০৮/০২/২০২১ তারিখের এক পত্রে পূবালী ব্যাংকের ২০১৮ ও ২০১৯ সালের আর্থিক রিপোর্ট সংশোধনে আইসিবিকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, পূবালী ব্যাংক IAS ৩৭ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে মামলাধীন বিষয় গুলো যথাযথ ভাবে সঞ্চিতি রাখেনি। সে সময়ের অডিটর ছিল এস. এফ. আহমেদ এন্ড কোং., হুদা ভাসী এন্ড কোং., হাওলাদার ইউনুস এন্ড কোং. ও অন্য কয়েকটি অডিট ফার্ম। উল্লেখ্য যে, এই বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোপূর্বে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলাম।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত
চীন বিদ্বেষের আগুনে খাঁটি হবে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক?

প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে অন্যের সঙ্গে আঁতাত করা কয়েক সহস্র বছরের পুরনো ও বহুল আশ্রিত একটি কৌশল। মেসোপটেমিয়া সভ্যতার মূল সৌর্যে পরিণত হওয়ার অভিলাষে এই কৌশলের সফল ব্যবহার করেছিলেন ব্যাবিলন সম্রাজ্যের সম্রাট হাম্মুরাবি।

মেসোপটেমিয়া সভ্যতার পত্তন হয় শ্রেণিভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার উদ্ভবের পরপরই। সেই সভ্যতার অধীনে প্রায় প্রতিটি শহরই ছিল একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র। এসব নগররাষ্ট্রের রাজারা একে অন্যের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহে মত্ত থাকত। যুদ্ধে জয়ী হলে বিজিত নগরী দখল অথবা ধ্বংস করে দেয়ার চর্চাও ছিল সে সময়।

সেই আমলে ব্যাবিলন বেশ জনপ্রিয় একটি জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আর এই জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল দজলা ও ফোরাত নদীর (টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস) সহাবস্থানে নগরীটির অবস্থান। ব্যাবিলন মূলত এর ভৌগোলিক অবস্থান ব্যবহার করে ফায়দা লুটেছিল। ধীরে ধীরে ব্যাবিলন পরিণত হয়েছিল মেসোপটেমিয়ার বাণিজ্যিক নগরীতে। পরিণত হয়েছিল একটি শক্তিশালী নগররাষ্ট্রে।

মেসোপটেমিয়ার শাসনব্যবস্থায় যে নামটি নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে, তা হলো ব্যাবিলনের সম্রাট হাম্মুরাবি। তিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১৭৯২-১৭৫০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। ব্যাবিলনের ধন-সম্পদের প্রাচুর্য কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন বিশাল এক সৈন্যবাহিনী। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের রাজাদের মধ্যে বিদ্যমান কলহ তিনি সুকৌশলে নিজ স্বার্থে কাজে লাগিয়েছিলেন। কূটবুদ্ধিতে হাম্মুরাবির জুড়ি মেলা ছিল ভার। কলহপূর্ণ বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্য থেকে শক্তিশালী রাষ্ট্র বেছে নিয়ে তার সঙ্গে জোট বেঁধে অন্যান্য নগররাষ্ট্র দখল করতেন তিনি। তারপর সুযোগ বুঝে নিজের মিত্রপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বস্ব লুটে নিতেন। এরপর বিরোধিতা করার মতো আর কেউ থাকত না। এভাবে সূক্ষ্ম বুদ্ধি ও নিপাট কৌশলের আশ্রয়ে পুরো মেসোপটেমিয়াকে পদানত করেন সম্রাট হাম্মুরাবি। বিস্তৃত করেন নিজের সম্রাজ্য ও অনুশাসন।

ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে মৈত্রী গড়ে তুলে নিজ স্বার্থের জন্য হুমকিস্বরূপ দেশকে পদদলিত করে রাখার এ কৌশল আজও গ্রহণ করতে দেখা যায় কিছু দেশকে। পরাক্রমশালী দেশগুলোর এ শীতল যুদ্ধের ছায়া আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বজুড়ে। এক্ষেত্রে সবার আগে যে দেশের নাম উঠে আসে, সেটি হলো যুক্তরাষ্ট্র। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন আর হালের রাশিয়া থেকে শুরু করে চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান, ভেনিজুয়েলা, কিউবার মতো দেশগুলোর সঙ্গে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক রীতিমতো সাপে-নেউলে। অন্যদিকে ভূরাজনৈতিক কূটকৌশলের কারণে ইসরায়েল, জাপান, সৌদি আরব, ব্রিটেনসহ আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে মার্কিন প্রশাসন।

মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র খেলা অনেকদিন ধরেই চলছে। এ অঞ্চলে তাদের কূটনৈতিক তত্পরতা এতই প্রভাব বিস্তারকারী যে, সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন, সুদান ও মরোক্কোর মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে অভাবনীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উষ্ণতাও কিছুটা বেড়েছে। মূলত নিজেদের শীর্ষ অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে ভারতের শিথিল সম্পর্ককে কাজে লাগাতেই দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে ওয়াশিংটন।

চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেকটা একই। তাইওয়ান ও হংকং ইস্যু, উইঘুরের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন, দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের দখলদারিত্ব, নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারণ করার দায়, চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ, বাণিজ্যযুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয় ঘিরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিবাদ এখন তুঙ্গে। অন্যদিকে গত বছরের মাঝামাঝিতে সীমান্ত বিরোধের জেরে ভারত ও চীন একে অপরের ঘোর শত্রুতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তের সেই উত্তেজনার আঁচ লেগেছে কেন্দ্রেও এবং তা এতটাই প্রকট যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাণিজ্যিকভাবেও চীনকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কোন্নয়নে আরেকটি বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও গত কয়েক বছরে এ বন্ধন কিছুটা শিথিল হয়েছে। মূলত ইসলামাবাদের বেইজিং-ঘেঁষা অবস্থানই এর কারণ। ওয়ান বেল্ট উদ্যোগ বাস্তবায়নে পাকিস্তানকে ব্যবহার করছে চীন, যার প্রতিদান হিসেবে ইসলামাবাদকে অর্থনৈতিক ও সামরিক বিভিন্ন সহায়তা দিচ্ছে তারা। চিরশত্রু প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে চীনের এই দহরম-মহরম একেবারেই ভালোভাবে দেখছে না ভারত। আবার চীনকে কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেয়ায় পাকিস্তানের ওপরও কিছুটা নাখোশ যুক্তরাষ্ট্র। তাই তাদের শিক্ষা দিতে ভারতের সঙ্গে হাত মেলাতেই পারে মার্কিন প্রশাসন।

মোট কথা, চীনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের অবস্থান এখন একই সরলরেখায় অবস্থান করছে। ফলে এই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একে অন্যকে পাশে পেতে চাইবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কৌশলগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার সম্পর্ক আরো উষ্ণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনও সেই ইঙ্গিতই দিয়ে রেখেছেন। এশিয়াকে ঘিরে নতুন মার্কিন প্রশাসনের কৌশলগত নীতি কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, চীনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে বেইজিং ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান কঠোরই থাকবে। একই সময় ব্লিংকেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরো উষ্ণ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি বলেন, নয়াদিল্লির সঙ্গে মিত্রতা ওয়াশিংটনের জন্য সবসময়ই লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক অরুণ সিং ২০১৫-১৬ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মতে, চীনের তরফ থেকে ভারতকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে, এবং অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক উত্থানের কারণে চীনকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে, তাতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন একই কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে দুই দেশের জোটবদ্ধভাবে কাজ করার সম্ভাবনাই বেশি।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও থিংক ট্যাংক গেটওয়ে হাউজের সম্মানীয় ফেলো রাজীব ভাটিয়ার মতে, প্রকৃত অর্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতা দৃশ্যমান হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ চীন ও এশিয়ার বাকি দেশগুলোর বিষয়ে সম্ভাব্য মার্কিন নীতি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে এখনও। তবে এ কথা বলে দেয়া যায় যে, ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি কৌশলগত সহযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রভাব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও বিস্তৃত হবে। আর গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে চীনের সামরিক প্রভাব দৃশ্যমানভাবে বিস্তার লাভ করেছে।

রাজীব ভাটিয়া যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ার পেছনে একটি ভালো যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ভারত এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, এ মুহুর্তে চীনই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিকে দমিয়ে রাখতে দিল্লিকে অবশ্যই পাশে চাইবে শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে এশিয়ায় বর্তমানে যে ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে, তাতে প্রভাব বিস্তারের জন্য ভারতেরও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দরকার।

বারাক ওবামার প্রশাসন ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছিল। সে সময়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের উদ্যোগও দেখা গিয়েছিল। পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ভারতকে ‘স্ট্র্যাটেজিক ট্রেড অথরাইজেশন’ ক্যাটাগরিতে রাখার মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ক্যাটাগরিতে কোনো দেশের ঠাঁই হওয়ার অর্থ হলো সেটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ট সহযোগী। বাইডেন প্রশাসনের সময়ে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে দেশ দুটির মধ্যে এই ঘনিষ্ঠতা আরো বাড়বে বলে আশা করাই যায়।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও বলেছেন, যতদূর বোঝা যাচ্ছে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গভীরতা কয়েক দশক এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনি সবসময়ই ভারতের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। যখন তিনি সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন থেকেই তিনি ভারতের পাশে ছিলেন।

ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ও ডেপুটি ডিরেক্টর মাইকেল কুগেলম্যানও একই কথা বলেছেন। তিনিও মনে করেন, বাইডেন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধু হিসেবেই আবির্ভূত হবেন। তিনি বলেন, বাইডেন ভারতকে বেশ ভালোভাবেই জানেন। তাকে দুই দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্কের সমর্থক হিসেবেই দেখা হয়।

লেখক: শরিফুল আলম শিমুল

সংবাদকর্মী

নতুন বিষয় জানা ও শেখার প্রতি আগ্রহ

ছোটবেলা হতেই নতুন বিষয় জানা ও শেখার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিল। একসময় ছিলাম বইয়ের পোকা, নিত্য নতুন বিষয়ের উপর বই জোগাড় করে পড়ার চেষ্টা করতাম। বুয়েট থেকে ম্যাকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নিয়ে দূর্ভাগ্যবশত সরাসরি সওদাগরি (বিজনেস) শুরু করি কোন প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই। অনেকটা ট্রায়াল এন্ড এরর মেথডে ধীরে ধীরে নিজের প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করিয়েছি। নিজের একটা এমবিএ কোর্সে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজনীয়তা সবসময়ই অনুভব করি। কিন্তু কর্মব্যস্ততায় তা করে উঠার সুযোগ এখনো মিলে নাই। তাই কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে নিজ উদ্যোগে ব্যবসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন থিওরিটিক্যাল বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করেছি, দেশি বিদেশি অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের ছোট ছোট সার্টিফিকেট কোর্সে ভর্তি হয়ে নিজের ব্যবসায়িক এবং মানবিক বিদ্যাকে শানিত করার চেষ্টা করছি। অর্জিত এইসব বিদ্যার যথাযথ প্রয়োগের কারনেই হয়তো আল্লাহর অশেষ রহমতে আজকে আমরা সম্মানের সাথে ব্যবসা করতে পারছি।
প্যানডেমিক চলাকালীন সময়ে সুযোগ হয়েছিল বেশ কিছু অনলাইন কোর্স করার। মালয়শিয়াতে বন্ধু জুয়েল অনেক আগে থেকেই জগদ্বিখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনলাইন কোর্সে ভর্তি হতে আমাকে সাজেস্ট করেছিল, যার নাম Disruptive Strategy। এই কোর্স করে তার জীবন এবং ব্যবসায়িক চিন্তাধারণা আমূল পরিবর্তন এসেছিল। আর দুবাইতে আরেক বন্ধু সামস এটা কম্পলিট করে আমাকে এটাতে এনরোল করার জন্য আরো বেশি উৎসাহিত করে। কিন্তু টানা ছয়সপ্তাহ এই কোর্স করা আমার মতো অধৈর্য্য মানুষের পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু করনোর কারনে যখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তখন মাথা ঠান্ডা রেখে সাহস করে এই কোর্স এ এনরোল করে ফেললাম। এই বয়সে একা পড়ালেখা করা অনেক কঠিন হবে, তাই সাথী হিসেবে জুটিয়ে নেই ভাই কে। অনেক ধন্যবাদ ভাই এই চমৎকার শিক্ষা আর অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পরিক্রমায় সাথী হওয়ার জন্য।
তারপর শুরু হয় দেড় মাসের এক রোমাঞ্চকর যাত্রা। প্রতিদিন নিত্য নতুন ব্যবসায়িক সূত্র, দুনিয়া জুড়ে ঘটে যাওয়া দুর্দান্ত সব ব্যবসা’র সফলতা, প্রতিযোগিতা বা বিফলতার কেইস স্টাডিজ। কিভাবে নতুন বাজার সৃষ্টি হয়, কিভাবে একটি দাপুটে ব্যবসা সময় এবং স্ট্র‍্যাটেজিক কারনে পিছিয়ে পড়ে , আবার সম্পূর্ণ নতুন বানিজ্যিক আইডিয়া’র জন্ম হয় ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চলে ছয় সপ্তাহের এক অনন্য অভিযাত্রা। কোর্স প্রণেতা Clayton Christensen আমার চোখ খুলে দেয়। যদিও উনি গত জানুয়ারী মাসে মারা গিয়েছেন কিন্তু তার রেকর্ড করা ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে আমাদের সবসময়ই মনে হয়েছে উনি ক্লাসরুমে আমাদের সাথেই আছেন। ব্যবসার কঠিন ব্যাপারগুলো কত সহজে উনি সাধারনভাবে বুঝিয়েছেন। ইন্টারেকক্টিভ এই কোর্সের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, সেই সূত্র অনুসারে নিজের ব্যবসা আরও বেশী সেবা উপযোগী ও সাস্টেইনেবল করার উদ্যোগও নিয়েছি।
কদিন আগে হার্ভার্ড এর এই কোর্সের অনলাইন সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে আমি অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত। এইজন্য আমি বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ দিব আমার প্রানের বন্ধু জুয়েল এবং সামসকে, আমাকে এতে অংশগ্রহণ করায় উৎসাহিত করার জন্য। আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা বাদল ভাইয়ের প্রতি, অনেক ব্যস্ততার পরও আমাকে সঙ্গ দেবার জন্য। আর সিপিডিএল পরিবারের জিয়া ভাই, জামাল সহ সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, এই ছয় সপ্তাহে আমাকে বিভিন্ন ডিসিশন মেকিং প্রসেস থেকে বিরত রাখার জন্য। যখন কোর্স চলছিল তখন মনোযোগ যাতে বিচ্ছিন্ন যাতে না হয় তাই মাঝেমাঝে দরজা আর মোবাইল দুটোই বন্ধ করে রেখেছিলাম। তখন হয়তবা সিপিডিএল এর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল কিন্তু পরিপূর্ণ ভাবে মনোযোগ দেবার কারনে নতুন কিছু ইনোভেটিভ ব্যবসায়িক আইডিয়া এবং প্রসেস সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আশা করছি, এই কোর্স থেকে যা শিখেছি তা যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজের ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সামাজিক উন্নয়নে অনেক বেশি অবদান রাখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
কোর্সের লিংক https://online.hbs.edu/courses/disruptive-strategy/…

No photo description available.

সমালোচনায় বিরক্ত হয়ে যা বললেন সেই ‘টম ইমাম’

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এক দম্পতির কিছু ছবি। তারা হলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক টম ইমাম ও তার স্ত্রী মিষ্টি ইমাম। তাদের ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, এই দম্পতি বিবাহবার্ষিকীতে কেক কেটেছেন। আবার কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে ফটোসেশন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায়া পাতায় ঘুরেছে।

যা নিয়ে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আলোচনা করলেও, অনেকেই সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন সেই ‘টম ইমাম’। তিনি শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বড়াবাড়ি না করতে নিষেধ করেছেন তিনি।

ফেসবুকে টম ইমাম লিখেছেন, কয়েকদিন যাবৎ আমি লক্ষ্য করছি, অনেক লোকজন আমাকে এবং আমার স্ত্রীর ফেসবুক আইডি থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে অনেক ছবি ভাইরাল করছেন। সাথে অনেক খারাপ মন্তব্যও করেছেন। এগুলো কি ঠিক হলো?

তিনি আরও লিখেছেন, অনেকেই জানতে চাচ্ছেন-কে টম ইমাম? তাহলে বলি-আমি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। আমার আগের স্ত্রী আমেরিকান নাগরিক ছিলেন এবং সে ১০ বছর ধরে অসুস্থ থাকার পর ২০১১ সালের মারা যায়। এরপর আমি আমার সন্তানদের মানুষ করার জন্য আর বিয়ে করিনি। সব মিলিয়ে ২০ বছর আমি ত্যাগ করেছি। তারপর আমি বাংলাদেশি একজনকে বিয়ে করি।

তিনি লিখেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি এবং সেও আমাকে ভালোবাসে। ভালোবাসার কোন বয়স নেই। ভালোবাসা অন্ধ হয় যদি আপনি কাউকে হৃদয় থেকে ভালোবাসেন। দয়া করে আমি যেমন আপনার পরিবারকে শ্রদ্ধা করি তেমন আমার পরিবারকে শ্রদ্ধা করুন।

বিডি-প্রতিদিন

সমালোচনায় বিরক্ত হয়ে যা বললেন সেই ‘টম ইমাম’

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এক দম্পতির কিছু ছবি। তারা হলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক টম ইমাম ও তার স্ত্রী মিষ্টি ইমাম। তাদের ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে দেখা যায়, এই দম্পতি বিবাহবার্ষিকীতে কেক কেটেছেন। আবার কোথাও ঘুরতে বেরিয়ে ফটোসেশন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাতায়া পাতায় ঘুরেছে।

যা নিয়ে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আলোচনা করলেও, অনেকেই সমালোচনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করেছেন সেই ‘টম ইমাম’। তিনি শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বড়াবাড়ি না করতে নিষেধ করেছেন তিনি।

ফেসবুকে টম ইমাম লিখেছেন, কয়েকদিন যাবৎ আমি লক্ষ্য করছি, অনেক লোকজন আমাকে এবং আমার স্ত্রীর ফেসবুক আইডি থেকে স্ক্রিনশট দিয়ে অনেক ছবি ভাইরাল করছেন। সাথে অনেক খারাপ মন্তব্যও করেছেন। এগুলো কি ঠিক হলো?

তিনি আরও লিখেছেন, অনেকেই জানতে চাচ্ছেন-কে টম ইমাম? তাহলে বলি-আমি একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক। আমার আগের স্ত্রী আমেরিকান নাগরিক ছিলেন এবং সে ১০ বছর ধরে অসুস্থ থাকার পর ২০১১ সালের মারা যায়। এরপর আমি আমার সন্তানদের মানুষ করার জন্য আর বিয়ে করিনি। সব মিলিয়ে ২০ বছর আমি ত্যাগ করেছি। তারপর আমি বাংলাদেশি একজনকে বিয়ে করি।

তিনি লিখেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে ভালোবাসি এবং সেও আমাকে ভালোবাসে। ভালোবাসার কোন বয়স নেই। ভালোবাসা অন্ধ হয় যদি আপনি কাউকে হৃদয় থেকে ভালোবাসেন। দয়া করে আমি যেমন আপনার পরিবারকে শ্রদ্ধা করি তেমন আমার পরিবারকে শ্রদ্ধা করুন।

বিডি-প্রতিদিন

বেয়াদবি হলে ক্ষমা করবেন…

এই ৪২ জনের নাম নিতে চাই না। কখন আবার বেয়াদব খেতাব পেয়ে বসি। উনারা বিদ্যা বুদ্ধিতে অনেক উপরের মানুষ। উনাদের নিয়ে কিছু বলার ইচ্ছাও ছিল না, তবুও বিবেকের তাড়নায় লিখলাম। কালে কালে জনগণই তাদের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করেন। ১/১১ এর মত কোন ঘটনা ঘটলেই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে আসে।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উনাদের নাকি বিস্তর অভিযোগ। উনাদের ক্ষোভের মাত্রাটা এতটাই অগোছালো ছিল যে, গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য যেখানে ২ কোটি টাকা বরাদ্দই ছিল না সেখানে পুরা ২ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগও তারা এনেছেন। মনে হচ্ছে, কেউ একটা ফরমায়েশি কাগজ ধরিয়ে দিয়েছে আর উনারা তাতে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন।

ধরে নিলাম, আপনারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছেন, অসদাচরণের অভিযোগ পেয়েছেন। আর সেটা দেখেই আপনারা একেবারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেলেন। খুবই ভালো কথা। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেখানে অনিয়ম হলে সোচ্চার হওয়াটা আপনার আমার নাগরিক দায়িত্ব। আপনারা হয়েছেন। কারণ, আমার বিশ্বাস আপনারা চাঁদ তারা নয়, লাল সবুজের বাংলাদেশটাকেই ভালোবাসেন।

ঐক্যবদ্ধ হওয়াতে ব্যক্তিগতভাবেও আমি খুশি। উনারা মনে করেছেন যে, দেশের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের খবর শুনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। এইভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে রাষ্ট্রের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটবে না।

শ্রদ্ধেয় ৪২ জনের কাছে আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। যেই তাড়না থেকে এই লেখা। কিছুদিন আগেও মৌলবাদী গোষ্ঠী দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য মুছে ফেলতে চেয়েছে, ভাস্কর্য ভেঙে দিতে চেয়েছে, জাতির পিতার ভাস্কর্য ভেঙে দিয়েছে, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে- তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? এই দেশের ৩০ লাখ মানুষ জীবন বিলিয়ে দিয়ে ফয়সালা করে গিয়েছে যে, এই দেশ হবে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র, সব ধর্মের মানুষ এই দেশে সমান অধিকার নিয়ে বাস করবে। দেশের এই অসাম্প্রদায়িক চরিত্র মুছে দেয়ার হুঙ্কার যখন আসে তখন কেন আপনাদের বিবেকের কলম কথা বলে না?

যদি ভয় পান সেটাও বলেন। যদি চাঁদ তারার বাংলাদেশ চান সেটাও পরিষ্কার করে বলেন। দেশের জনগণ আপানেদের আসল রূপ’টা জানুক। স্বাধীন দেশের অস্তিত্বের চেয়ে নির্বাচন কমিশন যখন বড় হয়ে যায় তখনই আপনাদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এই প্রশ্ন আমার মনেও উঠেছে- তাই এই লেখা। বেয়াদবি হলে ক্ষমা করবেন।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

কেউ তাদের টেরিটরিতে আমাকে জায়গা দিতে চান না

পদ্য লেখকরা আমাকে বলেন, তুমি গদ্যটা ভালো লেখো। গদ্য লেখকরা বলেন, তুমি পদ্যটা ভালো লেখো। এর মানে কেউ তাদের টেরিটরিতে আমাকে জায়গা দিতে চান না। আমার পদ্য যে পাঠকেরা ভালোবাসেন, লক্ষ্য করেছি, প্রেমের পদ্য ভালোবাসেন। প্রেম না করলে ভালো প্রেমের কবিতা লেখা যায় না। চরম বিরহে চুরমার না হয়ে গেলে ভালো বিরহের কবিতাও লেখা যায় না। গদ্য সারা বছর লেখা যায়। দুনিয়ায় কী হচ্ছে না হচ্ছে চোখ কান খোলা রাখলেই চলে।

ভাবছি নতুন কিছু প্রেমের কবিতা লিখবো। কল্পনার কোনো প্রেমিকের সঙ্গে না হয় প্রেম করবো। কল্পনার প্রেমিক রক্তমাংসের প্রেমিকের চেয়ে ঢের ভালো। একবার কবিতা লেখা হয়ে গেলে কাকে ভেবে লিখেছি সে কবিতা, তা গৌণ হয়ে যায়। চিরকালই, প্রেমিকের চেয়ে প্রেম বড়, মানুষের চেয়ে মানুষের জন্য অনুভব বড়।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

ভাস্কর্য ইস্যু- রাজনীতির নতুন মেরুকরণ

ভাস্কর্য ইস্যুতে বিএনপি চুপ। অনেকে এই চুপ থাকাকে বিএনপির রাজনৈতিক প্রজ্ঞা হিসেবে দেখছেন। আসলে কি তাই? হেফাজতের অস্বাস্থ্যকর প্রেমে সাড়া দিয়ে বিএনপি শাপলা চত্বর ট্রাজেডিতে যে পরিমান ছ্যাঁকা খেয়েছে তাতে বিএনপির চুপ থাকা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। শাপলা চত্বর তান্ডবে হেফাজতের প্রতি বিএনপির নির্লজ্জ সমর্থন ছিল একটি রাজনৈতিক ভুল। বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার জন্য সেই ভুল অনেকাংশে দায়ী।
ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামীলীগও হেফাজতের প্রেমে সাড়া দিয়েছিল। বশে এনে আল্লামা শফিকে পাশে বসিয়েছিল। নানান লোভ, আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সমঝোতা করে শফি হুজুরের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খুব ভালভাবেই সম্পর্ক টেনে নিয়ে গিয়েছিল! শফি হুজুরের মৃত্যুর পর হেফাজতের সাথে আওয়ামিলীগের অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে থাকে। সর্বশেষ হেফাজতের আমির হিসেবে বাবু নগরীর আবির্ভাব ছিল আওয়ামী-হেফাজত প্রেমের কফিনে শেষ পেরেক।
বিএনপি ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে পড়ে থাকার পর আওয়ামীলীগ এখন হেফাজত তান্ডবে হতভম্ব। আওয়ামিলীগ কি কখনো ভেবেছিল এই হেফাজত জাতির জনকের ভাস্কর্য ভেংগে দিবে? মামুনুল-বাবুনগরীরা এইভাবে হুমকিধামকি দিয়ে সরকারকে অস্থির করবে?
হেফাজতের এই উত্থান আওয়ামিলীগ এবং বিএনপির নষ্ট রাজনীতির ফসল। বিএনপি আওয়ামিলীগকে আর আওয়ামিলীগ বিএনপিকে ঘায়েল করতে রাজনীতিতে হেফাজতীয় ধর্মীয় কার্ড ব্যবহারের জন্য তৎপর থাকে। রাজনীতিতে এরশাদ কার্ড শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই দুইটা দলের লোলুপ দৃষ্টি এখন হেফাজতের ওপরে। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুদলই হেফাজত থেকে মোটামুটি ভাল শিক্ষা পেয়েছে।
আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তা নির্ভর করছে মূলত এই দুইটা দলের রাজনৈতিক চরিত্রের ওপর। রাজনীতির স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে গেলে রাজনীতিতে হেফাজতী বা ধর্মীয় কার্ড জরুরি হয়ে পড়ে! উগ্রবাদী শক্তির উত্থান ঘটে। হেফাজতের সাম্প্রতিক উত্থান, হুমকিধামকি, তান্ডব তারই বহিঃপ্রকাশ! ভাস্কর্য একটি বাহানা মাত্র।

লেখক: শেখ মোহম্মদ নুরনবী 

ভাস্কর্য থাকবে নাকি থাকবে না?

বাংলাদেশে হঠাৎ ভাস্কর্য পতনের আন্দোলন হচ্ছে কেন? আসলেই কি এ আন্দোলন ভাস্কর্য পতনের আন্দোলন নাকি সরকার পতনের আন্দোলন? দুধকলা দিয়ে কালসাপ পুষলে একদিন সেই কালসাপ তোমাকে ছোবল দেবে- সেটির চমৎকার প্রমাণ আমরা দেখতে পাচ্ছি।

সব মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য আছে। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার ভাস্কর্য নিয়ে কোনো মুসলিমের সমস্যা হচ্ছে না। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ ভারতের মুসলিমদেরও কোনো ভাস্কর্য নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ইত্যাদি কট্টর মুসলিম দেশেও ভাস্কর্য নিয়ে সমস্যা হচ্ছে না। মিসরে প্রাক-ইসলাম যুগের মূর্তিপূজকদের স্ফিংস আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, এ নিয়েও মিসরের কোনো মুসলিমের সমস্যা হচ্ছে না। শুধু বাংলাদেশের মুসলিমদের সমস্যা হচ্ছে। ভাস্কর্য নিয়ে কিন্তু জিহাদি জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিসদের সমস্যা হতো, তাহলে কি বাংলাদেশে যারা ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার দাবি করছে, তারা আইসিস-মানসিকতার? তালিবানি মানসিকতার? তালিবানরা আফগানিস্তানের বিখ্যাত বামিয়ান বুদ্ধকে উপড়ে ফেলেছে। মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন ভাস্কর্যগুলো হাজার বছর ধরে ছিল, আইসিসরা গুঁড়ো করে দেওয়ার আগ পর্যন্ত। বাংলাদেশের মোল্লারা হুমকি দিয়েছে, রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়বে, রক্তে ভেসে যাবে রাজপথ যদি কোনো ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। তারা যে ব্যানারেই আজ বাংলাদেশে হুমকি দিক না কেন, তাদের হুমকি পক্ষান্তরে জঙ্গি-আইসিসের হুমকি ছাড়া অন্য কিছু নয়। গুলশানে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর শেখ হাসিনা-সরকার যেভাবে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি নির্মূলের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেভাবে ফের জঙ্গি নির্মূলের, সেই কালসাপ নিধনের সময় এসেছে। এদের আস্ফালন না কমাতে পারলে দেশকে আসলেই এরা রক্তে ভাসিয়ে দেবে, লাশের পর লাশ ফেলবে, গুলশান হোলি আর্টিজানের চিত্র হয়ে উঠবে গোটা বাংলাদেশের চিত্র।

একের পর এক এদের অন্যায় দাবি মেনে নিয়ে এদের মাথায় চড়িয়েছে সরকার, আর সেই ফল আজ ভোগ করছে গোটা বাংলাদেশ। আমি নিশ্চিত, সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে থেমেসের ভাস্কর্যটি যদি সেদিন মোল্লাদের দাবির কারণে না সরাতো, তাহলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে আজ কোনো সমস্যা হতো না। দুষ্ট লোকের দাবি, বিশেষ করে গণতন্ত্রবিরোধীদের দাবি কখনও মেনে নিতে হয় না। এই মোল্লাগুলো এমন ভাব করছে যেন ইসলাম ধর্মটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, যেন তাদের ইসলামের দূত বানিয়ে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। দিনরাত এই লোকগুলো শের্ক করছে। এক ওয়াজ ব্যবসায়ী তো বলে বসল, ‘অমুক মার্কায় ভোট দেওয়া মানে আল্লাহ আর আল্লাহর নবীকে ভোট দেওয়া’! আরেকজন বলল, ‘মামুনুল হককে অপমান করা মানে আল্লাহকে অপমান করা, আল্লাহর নবীকে অপমান করা’! এদের ওয়াজে এদের ভাষণে এদের কীর্তিকলাপে এরাই কিন্তু আসলে নিরবধি ইসলামের অবমাননা করে চলেছে। এই কালসাপদের ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই, এই অপশক্তিকে নির্মূল করাই দেশ বাঁচানোর, এমনকি ইসলাম বাঁচানোর একমাত্র উপায়। এদের হাতে দেশ বা ইসলাম কোনোটি গেলে দুটোরই সর্বনাশ এরা করে ছাড়বে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। হিন্দু হলেও সব হিন্দুর বিশ্বাস এক রকম নয়। একই রকম মুসলমান হলেও সব মুসলমানের চিন্তা এক রকম নয়। কেউ উদার, কেউ কট্টর, কেউ আরবের পোশাক পরে, কেউ দেশি পোশাক পরে, কেউ বোরখা পরে, কেউ হিজাব পরে, কেউ আবার বোরখা হিজাব কিছুই পরে না, কেউ পাঁচ বেলা নামাজ পড়ে, কেউ আবার নিয়মিত নামাজ পড়ে না, – কিন্তু তারা সবাই মুসলমান। কট্টর বা উগ্রবাদীদের ইসলামই সত্যিকারের ইসলাম, সেটিই সবাইকে পালন করতে হবে, এই ধারণা ভুল। কট্টরপন্থিরাই বেহেস্তে যাবে, অন্যরা সবাই দোযখে যাবে, এই ধারণাও ভুল। শেষ বিচারের দিনে, যদি সেরকম কোনো অলৌকিক বিচার ব্যবস্থা থেকে থাকে, তবে শেষ বিচারের মালিকই বিচার করবেন। বিচারে তিনি নামাজ রোজা আর জিহাদকে মূল্য দেবেন বেশি, নাকি সততা এবং উদারতাকে মূল্য দেবেন, তা তিনিই জানেন। বাংলাদেশের মুসলমানরা অন্যের ক্ষতি না ক’রে, অন্যের অধিকার লংঘন না করে, যে যার বিশ্বাস নিয়ে থাকলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

এক সময় কত মানুষের কত বিশ্বাস নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে, গোপনে গোপনে সেই বিশ্বাসকে তাদের জিইয়ে রাখতে হয়েছে! পরিস্থিতির ভিত্তিতে পৃথিবীর সব ধর্ম-পালনে পরিবর্তন এসেছে। বহুঈশ্বরবাদী ধর্মের রমরমা অবস্থার মধ্যে একদা একেশ্বরবাদী ধর্মের প্রবর্তন হয়েছিল। ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বাইবেলেও বহুঈশ্বরবাদী মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধে লেখা হয়েছে। ধর্ম প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রতিকূল পরিবেশে ধর্ম প্রচারকরা মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার প্রস্তাব করেছিলেন। পরবর্তীকালে অনুকূল অবস্থায় সেই ধর্মের অনুসারীরা ধর্ম প্রচারকদের সেই আদি প্রস্তাব মানেনি। এতে ধর্মের কোনো অপমান হয়নি, বরং অপমান থেকে ধর্ম রক্ষা পেয়েছে। আজ তো কোনো ইহুদি বা খ্রিস্টান মূর্তি ভেঙে দিতে হাতুড়ি শাবল হাতে নেবে না। তবে মুসলিমদের মধ্যে কেন এই প্রবণতা? সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে নয়, কট্টরদের মধ্যেই সাধারণত এই প্রবণতা দেখা যায়, কিন্তু কট্টররাই বা কেন হাতুড়ি শাবল নেয় বা নিতে চায়? এর উত্তর খুব সহজ। তারা ধর্মকে আর ধর্ম হিসেবে দেখতে চায় না, তারা একে রাজনীতি হিসেবে দেখে। তারা দেশ নয় শুধু, তারা ধর্ম দিয়ে বিশ্ব শাসন করতে চায়। তাদের এই লেলিহান বাসনা অনেক সময় তাদেরই পুড়িয়ে ছাই করে।

মক্কার মূর্তিপূজকদের মূর্তি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসলামের নবী। ইসলামের প্রতিষ্ঠার জন্য তা তখন তিনি জরুরি মনে করেছিলেন। কিন্তু ইসলাম আজ প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম আজ ইসলাম। যে অবস্থায় মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, সেই অবস্থাটি বর্তমান বিশ্বে নেই। তাই কোনো মুসলিম দেশেই মূর্তিপূজা নিয়ে কোনো সমস্যা হয় না। এ ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রয়োজনে ইসলামের এই উপদেশটিই মেনে চলতে হয় ‘যার যার ধর্ম তার তার কাছে, ইসলামে কোনো জবরদস্তি নেই’।

বাংলাদেশের মাদ্রাসা-পাস মোল্লারা ঘোষণা দিয়েছে তাদের দৌড় আর মসজিদ পর্যন্ত নয়, তাদের দৌড় পার্লামেন্ট পর্যন্ত। এ বিরাট হুমকি বটে। তারা আজ দেশ শাসনের স্বপ্ন দেখছে। কী যোগ্যতা তাদের আছে দেশ শাসন করার? গণতন্ত্র সম্পর্কে যাদের কোনো ধারণাই নেই, তারা কী করে দেশ শাসন করবে। মোল্লাতন্ত্র বা জিহাদি আদর্শ দিয়ে দেশ শাসন এই একবিংশ শতাব্দীতে চলবে না। সে কারণেই আইসিসকে সারা বিশ্ব মিলে নির্মূল করেছে। পৃথিবীটা বাংলাদেশ নয়। পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্র অংশ বাংলাদেশ। এই পৃথিবীকে চলমান রাখার পেছনে, সভ্য এবং শিক্ষিত করার পেছনে সব দেশের সব ধর্মের সব সংস্কৃতির সব রকম বিশ্বাসের মানুষের অবদান আছে। সবাইকে অস্বীকার করে শুধু নিজের ধর্ম এবং সংস্কৃতিকে শ্রেষ্ঠ মনে করে, আমিই বেহেস্তে যাব, বাকিরা নরকে যাবে, এই মানসিকতা নিয়ে বেশি দূর এগোনো যায় না। সবার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, সবার অধিকারকে, এমনকি বিধর্মী ও নাস্তিকের অধিকারকে মর্যাদা দেওয়া গণতন্ত্রের আদর্শ। এই আদর্শকে অস্বীকার করলে বিশ্বে কোনো স্থান নেই।

কাবার কালো পাথরকে মুসলমানরা চুমু খেয়ে বা একটু স্পর্শ করে ধন্য হয়, বিশ্বাস করে এতে তাদের মঙ্গল হয়, পাথরই শুষে নেয় তাদের পাপ, তারা পাপমুক্ত হয়। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনে আল-খাত্তাব সেই কালো পাথরকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আমি জানি তুমি একটা পাথর, তুমি মানুষের অপকারও করতে পার না, উপকারও করতে পার না, যদি আমি নবীকে না দেখতাম তোমাকে চুম্বন করতে, তাহলে আমিও তোমাকে চুম্বন করতাম না।’ তাহলে জিনিসটা ভাস্কর্য, বা মূর্তি বা পাথর সেটা বিষয় নয়, বিষয় হলো মুসলমানের মনন। তাহলে যাদের কাছে এখন ভাস্কর্য, মূর্তি বা পাথর বিষয় হয়ে উঠছে, তাদের কাছে নিশ্চিতই মননের মূল্য নষ্ট হচ্ছে।

ইসলাম ধর্মটিকে ধর্ম হিসেবে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকে। রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম মেলালে, বা ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি মেলালে তার পরিণাম কখনও শুভ হয় না। কারণ এর ফলে মন্ত্রী হয়ে যায় মোল্লা, আর মোল্লা হয়ে যায় মন্ত্রী।

বাংলাদেশে আদিকাল থেকে ভাস্কর্য আর মূর্তি দুই-ই ছিল। আইসিস-মানসিকতার ঠাঁই বাংলাদেশে হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা উপমহাদেশেরই অকল্যাণ। আমি প্রচলিত ধর্মে নয়, মানববাদে বিশ্বাস করা মানুষ। আমি পুজো করি না, কারও পায়ে মাথাও ঠেকাই না। কিন্তু আমি বাংলাদেশের লালনের পাদদেশে ফুল দেবে, কারণ লালনের জাতপাতের বিরুদ্ধে লেখা মানবতার পক্ষে লেখা গানগুলোকে আমি মহান বলে মনে করি। এর মানে এই নয় তাঁকে আমি পুজো করছি, এর মানে এই – তাঁকে আমি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি। আমি শহিদ বেদিতে, স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দেব। যুগে যুগে আমরা ফুল অর্পণ করেই শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আসছি। উপমহাদেশের সুফি-সাধকদের মাজারে মোমবাতি দিয়েও মানুষ যুগে যুগে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আসছে। যুগে যুগে নমস্যদের পায়ের ধুলো মাথায় নিয়ে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে আসছে। ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামন্ডপালন আর আরব দেশের ইসলামন্ডপালনে ভিন্নতা তো থাকবেই। এই ভিন্নতা যারা বোঝে না, তারা ইতিহাস বোঝে না।

শেষ কথা, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য শেখ হাসিনাকে স্থাপন করতেই হবে, এতেই যদি এতদিন কালসাপ পোষার দায়মুক্তি ঘটে তাঁর।

লেখক : নির্বাসিত লেখিকা।