#বৌদ্ধ_চিন্তা_ধর্ম_না_দর্শন

#বৌদ্ধ_চিন্তা_ধর্ম_না_দর্শন ❓

* গৌতম বুদ্ধের বাণী ও উপদেশের উপর ভিত্তি করে জগৎ ও জীবন সম্পর্কে যে মতবাদ গড়ে উঠেছে সেই মতবাদই ‘বৌদ্ধ দর্শন’ যা ক্রমে ধর্ম (Religion)-এ প‌রিণত হয়েছে। * বৌদ্ধ দর্শন বা বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে যতো গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে, তা আর কোনো ধর্মের উপর লেখা হয় নি। বৌদ্ধ দর্শন বা বৌদ্ধ ধর্মের ‘ত্রিপিটক’ মানে তিন ঝুড়ি বই। * সত্যিকার অর্থে গৌতম বুদ্ধ কোন ধর্ম প্রচারক ছিলেন না। তিনি ছিলেন নীতিতত্বের সংস্কারক ও প্রচারক। * তিনি ধর্ম ব্যবসায়ীর মতো ঈশ্বর, আত্মা, পরকাল, নরক ইত্যাদি নিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো দূরে থাক, আলোচনা পর্যন্ত করেন নি। * মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবের উপায় খুঁজে বের করাই তাঁর উদ্দেশ্য। তিনি মনে করতেন ১) দুঃখ আছে, ২) দুঃখের কারণ আছে, ৩) দুঃখের সমাপ্তি আছে এবং ৪) দুঃখ দূর করার উপায়ও আ‌ছে। * গৌতম বুদ্ধ গতানুগতিক ধর্ম বিশ্বাস করতেন না, তাই বেদপন্থীরা তাঁকে ‘চরমপন্থী নাস্তিক’ আখ্যা দিয়েছিলেন। * ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের সমস্যাই তাঁর সমস্যা, অতীন্দ্রিয় জগতের সমস্যাকে তিনি আদৌ কোনো গুরুত্ব দেননি। * বুদ্ধের মতে অজ্ঞানতাই মানুষের দুঃখের মূল কারণ, জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। * তিনি অতিরিক্ত ভোগবিলাস ও অতিরিক্ত কামনা বাসনা এবং অতিরিক্ত আত্ম নিগ্রহ ও নিরানন্দ পরিহার করতে বলেছেন। * বুদ্ধের মতে ‘কার্যকারণ’ নিয়ম জগতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে চলছে। ঈশ্বর বা কোনো অতীন্দ্রিয় চেতনা সত্তার দ্বারা এই নিয়ম পরিচালিত হয় না। * তাঁর মতে আত্মা বলে কোনো চিরন্তন সত্তা নেই, আত্মা হলো চেতনার অবিচ্ছিন্ন ধারা। * নৈতিক অগ্রগতির জন্য ঈশ্বরের সাহায্যের কোনো প্রয়োজন নেই। অধিকন্তু ঈশ্বরে বিশ্বাস নৈতিকতার পরিপন্থী। * তিনি কর্ম-নিয়মকে সবকিছুর উর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। * তিনি মনে করেন যে, খেয়াল বশত ঈশ্বর এই জগৎ সৃষ্টি করতে পারেন না। কারণ এই জগতে নিয়মশৃঙ্খলা বিদ্যমান। * বর্তমান বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে আজ আর বুদ্ধ নেই, বুদ্ধের শিক্ষা নেই, বুদ্ধের আদর্শ নেই। তারাও অন্যদের মতো প্রতারণা ফাঁদ পেতে বুদ্ধকে নির্বাসিত করে ‘বৌদ্ধ দর্শন’কে ‘বৌদ্ধ ধর্ম’ বানিয়ে ব্যবসার লগ্নি করে তুলেছে। * আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধ মানুষের সমস্যা নিয়ে যে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন, কোনো ধর্ম সম্প্রদায়ের পক্ষে তার ছিটেফোঁটাও কল্পনা করা সম্ভব হয়নি। কারণ গৌতম বুদ্ধ ছিলেন সত্যবাদী ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানের ধারক বাহক সাধক এবং প্রচারক।

সূত্রঃ ১) ভারতীয় দর্শন — অধ্যাপক অর্জুন বিকাশ চৌধুরী। ২) ভারত ইতিহাস পরিক্রমা — অধ্যাপক প্রভাতাংশু মাইতি।

এত গ্র্যাজুয়েট দিয়ে আমরা কি করবো ?!

একজন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞেস করলাম – দেশে এত এত শিক্ষিত জনবল থাকতে কেন আপনারা বিদেশী ম্যানেজার নিয়ে আসছেন ? তা-ও আবার প্রতিবেশি দেশ থেকে ? তাদের দক্ষতা কি আমাদের দেশের জনবলের চেয়ে বেশি ? না-কি অনেকে যা বলেন- ফ্যাশন ? তিনি বল্লেন – দেখুন, আমি আমার কোম্পানীতে একজন বিদেশী ম্যানেজার রেখেছি। বেতন ও সুযোগ সুবিধা মিলিয়ে তার জন্যে আমার মাসিক খরচ কমপক্ষে বারো লক্ষ টাকা। আপনি যদি আমাকে একই দক্ষতার দেশি একজন ম্যানেজার দিতে পারেন আমি তার জন্যে মাসে পনের লক্ষ টাকা খরচ করতে রাজী আছি। আমরা ব্যবসা করি উন্নতি আর লাভের জন্যে। কর্মচারীদের চেহারা দেখার জন্যে না। প্রতিষ্ঠানের প্রোডাক্টিভিটি না বাড়লে কেবল দেশপ্রেমের জন্যে কি কেউ লোকসান গুনতে রাজী হবে ! ব্যবসায় বানিজ্যের উন্নতি মানে তো দেশেরও উন্নতি। বিদেশী ম্যানেজার নিয়োগ দেয়ার পর আমার বরং অযথা খরচ কমে টার্ণওভার বেড়েছে অনেক। অদক্ষ আর অপেশাদার কর্মচারীদের পেছনে এর আগে অযথা ব্যয় করে একসময় মনে হয়েছে এরা বরং প্রতিষ্ঠানের জন্যে কাউন্টার-প্রোডাক্টিভ ছিলো। দেশের জব-মার্কেট দক্ষ ও পেশাদার লোকের তীব্র সংকট চলছে। এদের কমিটমেন্টের যায়গাটা খুব দুর্বল।
কয়েকদিন ধরে নিজস্ব কিছু কারিগরি উদ্ভাবনী কাজের প্রয়োজনে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যে হাল্কা ও ক্ষুদ্র শিল্প এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। ধোলাইখাল এমন কি ঢাকার বর্ধিত জনপদে গড়ে উঠা এধরনের অসংখ্য ছোট ছোট সংযোজন ও ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প ও তাদের কার্যক্রম দেখে রীতিমতো হতবাক হয়েছি। এদেশেই বিপুল পণ্যসামগ্রী, যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, নির্মাণ ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের সহায়ক অসংখ্য উপকরন তৈরী হচ্ছে। অন্যদিকে বেশ কিছু জরুরী হোম এপ্ল্যায়ান্স বিদেশ থেকে আমদানি প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। অথচ এক দেড় দশক আগেও দেশ এসবে শতভাগ আমদানি-নির্ভরতা ছিলো। ফ্রিজ, টিভি, এয়ারকন্ডিশনারসহ বিপুল সংখ্যক ইলেকট্রনিক ও গৃহসামগ্রী দেশে তৈরী হচ্ছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস, জুতা ইত্যাদি রপ্তানী-প্রধান শিল্পের বিভিন্ন উপকরন তৈরীর অনেক পশ্চাদ-শিল্প গড়ে উঠছে। এসবে দক্ষ ও কারিগরিজ্ঞান সম্পন্ন লোকের ব্যাপক চাহিদা আছে কিন্তু উপযুক্ত কর্মীর অভাব প্রকট বলে উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন। গার্মেন্টস কারখানাগুলোর সামনে ও আশেপাশে পোষ্টার, ব্যানার টাঙ্গিয়ে অভিজ্ঞ কর্মীর চাহিদা বিজ্ঞাপিত করা হচ্ছে। অফিস ব্যবস্থাপনা, আইটি, বাস্তু নির্মাণ-শিল্পেও কর্মীর অভাব। গ্রামে কৃষি-কর্মীর অভাব।
অথচ এর উল্টা দিকে হু হু করে বাড়ছে কথিত শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা। ইতোমধ্যেই বেকারত্ব তীব্র আকার ধারন করেছে। এবং অদূর ভবিষ্যতে তা গভীর সংকটে রূপ নেবে এমন আশংকা করা যায়।
দেশে শিক্ষিতের হার বেড়েছে। উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেটধারীদের সংখ্যা বাড়ছে আশংকাজনকভাবে – যাদের শিক্ষা অত্যন্ত নিন্মমানের। এরা হন্যে হয়ে ‘চাকুরী’ নামক সোনার হরিণের পেছনে ছুটে ব্যর্থ হতোদ্যম হতাশ ও অকর্মণ্য হয়ে নিজ, পরিবার ও দেশের জন্যে বোঝা হয়ে উঠছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিন্মমানের ডিগ্রিধারী এসব তরুণ যুবকেরা শ্লাঘা-বোধ থেকে শ্রমঘন কর্ম-বিমুখ হয়ে থাকে। সবার চাই চাকুরী। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায়োগিক, কারিগরি, উদ্ভাবনমূলক বা উদ্যোক্তা তৈরীর শিক্ষা দেয়া হয়না। যেটুকুই বা হয় তার যথাযথ কর্মক্ষেত্র তৈরীর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়না।
নিজের কিছু অভিজ্ঞতার কথা বলি। আমার কাছে বিভিন্ন সময় অনেক শিক্ষিত, গ্র্যাজুয়েট চাকুরী-প্রার্থী আসতো কোন একটা চাকুরীর সুপারিশ করে দেয়ার জন্যে। এরকম বেশ কয়েকজন বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী পাবার পর উভয়পক্ষের অভিযোগ অনুযোগে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হলো। চাকুরের অভিযোগ – বেতন কম, খাটুনি বেশি, তার উপর বকাঝকা শুনতে হয়। যেন আরেকটা চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেই। অন্যদিকে নিয়োগকারীর অভিযোগ -কর্মচারী অকর্মণ্য, অদক্ষ, আদৌ কোন কাজের যোগ্য না।
এরপর চাকুরীপ্রার্থীদের নিজেই একটা ইন্টারভিউ নেয়ার কৌশল অবলম্বন করলাম। এখানেই আমার চরম বিষ্মিত হবার ঘটনা শুরু। একজন এমবিএ পাশ দাবীকারীকে জিজ্ঞেস করলাম “এমবিএ” র পূর্ণ রূপ কি? তিনি বিব্রতভাবে কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থাকার পর তোতলাতে শুরু করলেন। পারলেন না। একজন মাস্টার্স ডিগ্রিধারী ইংরেজিতে “এসএসসি” র পূর্ণরূপ লিখতে গিয়ে তিন শব্দের প্রতিটির বানান ভুল করলেন। একজন খুব চমৎকার সিভি বানিয়ে আনলেন। তাঁর সিভির কয়েকটি শব্দ লিখতে দিলাম। প্রত্যেকটা বানান ভুল। স্বীকার করলেন যে সিভি কম্পিউটারের দোকানী তৈরি করে দিয়েছে। এরকম বহু গ্র্যাজুয়েটকে পরীক্ষা করে চরম হতাশ হতে হয়েছে।
বিষ্ময়কর হলো এদেশে সরকারি এবং বেসরকারিভাবে টেকনিক্যাল শিক্ষার তেমন উপযুক্ত শিক্ষা পরিকল্পনা বা প্রতিষ্ঠান নেই বল্লেই চলে। নির্মাণ শিল্পের টেকনিশিয়ান যেমন; ফ্যাব্রিকেশন, ইলেকট্রিক, প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং এধরনের অসংখ্য কাজের জন্যে উপযুক্ত প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা। মোটরগাড়ির গ্যারেজ, কাঠের কাজ, স্টীল ওয়ার্কস, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন মেরামতি কাজে এখনো সনাতনী কায়দায় অশিক্ষিত বা অতি অল্পশিক্ষিত কর্মীরা গুরু-পরম্পরায় হাতে কলমে শেখা অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করে চলছে। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা প্রায় একইভাবে দক্ষ ও বিশ্বস্ত কর্মীর অভাবের অভিযোগ করেন।
সবার চাই একটা সরকারি চাকুরী। সেটা ক্লিনার, দারোয়ান, পিয়ন কেরানী যা-ই হোক না কেন ! ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা অসংখ্য প্রাইভেট ও পাবলিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিবছর কয়েক লক্ষ মানহীন গ্র্যাজুয়েট বের হয়ে বেকারের সংখ্যায় যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দেশ-বিদেশের শ্রম-বাজারে টেকনিক্যাল শ্রমশক্তির যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
পত্রিকান্তরে দেখেছিলাম, ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই বাজেটে টেকনিক্যাল শিক্ষাখাতে উপযুক্ত পরিকল্পনা ও বরাদ্ধের দাবী জানিয়েছে। শিক্ষাখাতে বরাদ্ধ বেড়েছে কিন্তু তাঁদের প্রয়োজনীয়তাবোধ থেকে সৃষ্ট এ দাবীর বিষয়ে সরকার নতুন কি পদক্ষেপ নিচ্ছে সেটা দেখার জন্যে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান, নার্সিং ও হসপিটালিটি সেবার জন্যে উপযুক্ত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না।
সমস্যাগুলো সমাধানে আশু ব্যবস্থাগ্রহন এমন জটিল কিছু নয়। বিশেষ করে ইউজিসি থেকে নতুন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল ও বিশেষায়িত ছাড়া নন-এপ্লাইড সাধারন শিক্ষার অনুমোদন না দেয়া। ইতোমধ্যে প্রদত্ত অনুমোদন মূল্যায়ন করে অপ্রয়োজনীয় বিষয বাতিল করা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় / কলেজে অপ্রায়োগিক সাবজেক্ট এর সিট সংখ্যা কমিয়ে দেয়া ও নতুন নতুন প্রায়োগিক বিষয অন্তর্ভুক্ত করা। ১০-১২তম গ্রেড পাশ করার পর টেকনিক্যাল /ভোকেশনাল শিক্ষার্থী তৈরিতে প্রণোদনা দেয়া। দেশে ব্যাপক সংখ্যক ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট তৈরী করা। সাধারন উচ্চশিক্ষার অবারিত সহজ সুযোগের রাশ টেনে ধরে মধ্যস্তরেই কর্ম-উপযোগি দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা। শিক্ষার প্রতিটি-স্তরে উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিচারে ডিপ্লোমা/ডিগ্রীর মূল্যায়ন করা।
নির্মাণ ও ফ্যাব্রিকেশন শিল্পের সাথে কাজ করতে গিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই টের পেয়েছি দক্ষ শ্রমিকের কি মারাত্মক অভাব ! উল্টা-দিকে অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে কাজ করতে গিয়ে নিন্মমানের কাজ, সময় ও অর্থের অপচয়, ভোগান্তি, কমিটমেন্টের অভাব এসব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকগণ যদি দয়া করে বিষয়গুলো বিবেচনা করে দেখতেন !

ধূমপান ও মাদক ছেড়ে দেওয়ার অপূর্ব সুযোগ রোজার মাস

ধূমপান ও তামাক শুধু ব্যবহারকারীর নয়, ব্যাপকভাবে অন্যদেরও ক্ষতি করে। এটি দেশ, জাতি, সমাজ ও সভ্যতার চরম শত্রু। ধূমপান ও তামাকের ক্ষতি সর্বগ্রাসী। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা সতর্ক থাকো এমন ফেতনা সম্পর্কে, যার ক্ষতিকর প্রভাব শুধু জালিম অপরাধী বিশেষের প্রতি আপতিত হবে না (বরং সামগ্রিকভাবে সবার ক্ষতি হবে)। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কঠোর প্রতিবিধানকারী (সুরা-৮ আনফাল, আয়াত: ২৫)।’

অন্যের ক্ষতি করার যেমন এখতিয়ার কারও নেই, তেমনি নিজে নিজের ক্ষতি করাও জায়েজ নয়। যারা ধূমপান করে বা তামাক সেবন করে, তাদের মুখে ও শরীরে একধরনের উৎকট বিশ্রী দুর্গন্ধ হয়; যা পার্শ্ববর্তী মানুষের কষ্টের কারণ, যা হারাম ও নাজায়েজ।

নবীজি (সা.) রবিআহ গোত্রের প্রতিনিধিদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ বারণ করলেন। নির্দেশ দিলেন: আল্লাহর ওপর ইমান আনা, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা এবং রমজান মাসে সিয়াম পালন করা। নিষেধ করলেন: শুকনা লাউয়ের খোল, সবুজ ও লাল রঙের কলসি, গাছের গুঁড়িতে গর্ত করে বানানো পাত্র এবং আলকাতরার পলিশ করা পাত্র ব্যবহার (যেসব বস্তু মদপাত্র হিসেবে ব্যবহৃত), (বুখারি, মুসলিম, মেশকাত শরিফ)।

ধূমপানে রোজা ভঙ্গ হয়। রোজাদারেরা প্রতিদিন দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা ধূমপান ও তামাক সেবন থেকে বিরত থাকেন। সুতরাং ধূমপায়ী ও তামাকসেবীদের জন্য তা বর্জনের মহা সুযোগ রমজান মাস। আসুন আমরা সুন্দর সমাজ গড়ার জন্য ধূমপান, তামাক সেবন, মদ্যপান ও মাদক সেবন বন্ধে উদ্যোগ নিই।

ধূমপান ও তামাক সেবন ক্ষতিকর ও অপচয়, ইসলামি বিধানে অপচয় করা হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং কিছুতেই অপব্যয় করো না; নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই আর শয়তান তার প্রতিপালকের প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ২৬-২৭)।’ কিয়ামতের দিনে হাশরের ময়দানে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কোনো আদমসন্তান এক কদমও নড়তে পারবে না। যথা: জীবন, যৌবন, আয়, ব্যয়, জ্ঞান। ব্যয় সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা পানাহার করো; কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদিগকে পছন্দ করেন না (সুরা-৭ আরাফ, আয়াত: ৩১)।’

এমন কোনো কাজকর্ম যা নিজের ক্ষতি করে, তা হারাম–নিষিদ্ধ ও নাজায়েজ। কারণ, মানুষ তার নিজের স্রষ্টাও নয়, মালিকও নয়; সবকিছুর মালিক হলেন আল্লাহ তাআলা; আর মানুষ হলো তার আমানতদার বা হেফাজতকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না। তোমরা সৎ ও সুন্দর কাজ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সৎকর্মপরায়ণ লোকদের ভালোবাসেন (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৯৫)।’

ধূমপানে রোজা ভঙ্গ হয়। রোজাদারেরা প্রতিদিন দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা ধূমপান ও তামাক সেবন থেকে বিরত থাকেন। সুতরাং ধূমপায়ী ও তামাকসেবীদের জন্য তা বর্জনের মহা সুযোগ রমজান মাস। আসুন আমরা সুন্দর সমাজ গড়ার জন্য ধূমপান, তামাক সেবন, মদ্যপান ও মাদক সেবন বন্ধে উদ্যোগ নিই। এসবের উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন, বিতরণ, বহন-পরিবহন, আমদানি-রপ্তানি ও মজুত সম্পূর্ণ বন্ধ করি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ দেশ গড়ি। মুক্তির মাস রমজানে মাদকমুক্ত জীবন ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

সূত্র : প্রথম আলো

বিচার ব্যবস্থা থেকে কেন মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছে

সর্বশেষ ঢাকা কলেজ ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এক সংঘর্ষ হলে গেল। সেখানে পিটিয়ে মারা হলো নাহিদ হাসান নামের এক পথচারীকে। নাহিদকে মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। গা শিউরে ওঠা ওই ভিত্তিতে দেখা গেল, আহত নাহিদকে লাঠি দিয়ে বারবার আঘাত করা হচ্ছে।

আমরা পারস্পরিক আস্থাহীন, সম্পর্কহীন নির্মম এক বিভাজিত খুনে সমাজ নির্মাণ করে ফেলেছি। ক্ষোভ, ক্রোধের বশবর্তী হয়ে নাহিদের মতো অচেনা, অজানা মানুষজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে। কারণ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় বিভাজন দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এই সমাজে সবাই পরস্পরকে শত্রু জ্ঞান করে। আমার পক্ষে না এলেই অন্যকে শত্রু পক্ষে ঠেলে দিচ্ছি। এই ঠেলাঠেলির সমাজে আমরা অন্যায়–অনিয়মের বিরুদ্ধে যূথবদ্ধ হতে পারছি না। দুটো উদাহরণ দিলে আমাদের সমাজের ভাঙনকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে। একটা হচ্ছে, সমাজে বিচার না চাওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে, আওয়ামী–সমর্থিত পরিবারের এক সন্তানের বিএনপি–সমর্থিত ছাত্রদলের রাজনীতি করে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। এই দুটি উদাহরণ রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের ভেতরে নাগরিকদের মধ্যকার আন্তসম্পর্ককে বুঝতে সাহায্য করবে।

বিচার না চাওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রথমে আলাপ করা যাক। প্রথমত, আমার খুবই অসহনশীল ও পারস্পরিক অবিশ্বাস নিয়ে নিষ্ঠুর এক সমাজে বসবাস করছি। এই সমাজে এখন দিনের আলোয় প্রকাশ্যে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়। দিনেদুপুরে জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করে উল্লাস করা হয়। হত্যাকারীদের পক্ষে শীর্ষ রাজনীতিবিদেরা সাফাই গান। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নাম বলে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা আর ফিরে আসে না। এ নিয়ে আমরা খুব বেশি কথা বলি না।

ভেঙে পড়া এই সমাজে বসবাস করে জনসাধারণ সংগত কারণেই চরমভাবে হতাশ। তাই দেশের মানুষ এখন আর বিচার চায় না। বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা একেবারেই উবে গেছে। থানা, পুলিশ, আদালত—সর্বোপরি সরকারকে কেউ আর বিশ্বাস করছে না।

যেকোনো ঘটনার পরই আহত বা নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা প্রকাশ্যেই বলছেন, আমরা বিচার চাই না। কার কাছে বিচার চাইব। বিচার চেয়ে কী হবে। তাঁরা সবাই বিচারের ভার আল্লাহ হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। ঘুণে ধরা প্রহেলিকাময় শাসনব্যবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শাসককুলের প্রতি জনসাধারণ গণ–অনাস্থা জানিয়ে দিচ্ছে। এখন ভোটের মাধ্যমে অনাস্থা জানানোর সুযোগ নেই। তাই শাসকগোষ্ঠীর বিভিন্ন ব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এই গণ–অনাস্থাই নিরীহ মানুষের গণপ্রতিবাদের অংশ।

জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা, বিচার না চাওয়ার সংস্কৃতি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি অকার্যকর হওয়ার কথাই বলে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে আমাদের রাষ্ট্র যখন আরও শক্তিশালী হওয়ার কথা, তখন সমস্বরে সবাই বলছে, এই রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো ভরসা নেই। আমরা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো আস্থা রাখতে পারছি না।

ঢাকা কলেজ ও নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষে নাহিদ হাসান ছাড়াও মুরসালিন নামের আরও একজন নিহত হয়েছেন। নিহত দুজনের স্বজনেরা বলেছেন, তাঁরা বিচার চান না। তাঁরা মনে করেন, দেশে এখন বিচার বলতে কিছু নেই। এর আগে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতি নিহত হন। প্রীতির বাবা জামাল উদ্দিন বিচার চান না বলে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘বিচার চাইতে গেলে নানা ধরনের হয়রানি শিকার হতে হয়। বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়। আমাদের সেই সামর্থ্য নেই। আমরা নিরীহ মানুষ। আল্লাহর কাছে বিচার চাই।’

বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থার প্রকাশ কিন্তু এখানেই শুরু না। আরও আগে ২০১৫ সালে খুন হয়েছিলেন প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন। দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ছেলে–হত্যার বিচার চাননি। আরও অতীতে গেলে এ রকম আরও উদাহরণ পাওয়া যাবে। সমসাময়িক কালে নিজস্ব অভিজ্ঞতার কারণেই জনসাধারণ বিচার চাইছে না।

এই নাগরিকেরা দেখেছেন, সাংবাদিক সাগর–রুনি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন ৮৫ বারের মতো পিছিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ত্বকী হত্যায় অভিযুক্তরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায় শহরজুড়ে। তনু হত্যার কোনো সুরাহা হয়নি। লেখক, ব্লগাররা নির্বিচারে হত্যার শিকার হয়েছেন। সাধারণ মানুষ বেডরুম থেকে রাজপথ—কোথাও শঙ্কামুক্ত নয়। জন্মের আগে মায়ের গর্ভেই গুলিবিদ্ধ হচ্ছে শিশু। বাবার কোলোই সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যাচ্ছে আরেক শিশু।

জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা, বিচার না চাওয়ার সংস্কৃতি আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি অকার্যকর হওয়ার কথাই বলে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে আমাদের রাষ্ট্র যখন আরও শক্তিশালী হওয়ার কথা, তখন সমস্বরে সবাই বলছে, এই রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো ভরসা নেই। আমরা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো আস্থা রাখতে পারছি না। বিগত সময়ে বিশেষ করে গত এক দশকে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। বিচারহীনতার এক ভয়ংকর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। তাই দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক ক্রমেই ফিকে হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রকে নাগরিকেরা আর নিজেদের কর্তৃত্বের মধ্যে রাখতে পারছেন না। বরং রাষ্ট্রই দিন দিন কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠছে।

রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের ছিন্নতা সাধারণ নাগরিকের মধ্যেও সংক্রমিত হচ্ছে। যে কারণে কাজী রওনাকুল ইসলাম আওয়ামী–সমর্থিত পরিবার থেকে বিএনপির ছাত্রসংগঠনের সভাপতি হয়েছেন বলে তার পরিবার রীতিমতো সম্পর্কই ছিন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে। রওনকের বাবা সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, ১৩ বছর ধরে রওনক বাড়ি যান না। কী ভয়াবহ একটা অবস্থা! ছেলে সঙ্গে সম্পর্কহীনতার কথা বাবা অবলীলায় সবাইকে বলে যাচ্ছেন। মতভিন্নতা ও মতান্তর থাকতেই পারে, তাই বলে ভিন্ন রাজনীতি করার কারণে বাবা-ছেলের সম্পর্কই থাকবে না, এমনটা কী করে সম্ভব!

এই যে রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকে অনাস্থা, বাবা-ছেলের সম্পর্কের ছিন্নতা, এসব খুব ভালো লক্ষণ না। এগুলো সমাজের ক্ষয়ে যাওয়ার সূচনাকে ইঙ্গিত করে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে, রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে, সমাজে ব্যক্তি ও সামষ্টিক জনসাধারণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে অনেকেই হয়তো রাজনৈতিক ফায়দা লুটে নিচ্ছেন, কিন্তু দিন শেষে তা রাষ্ট্রের খুঁটিগুলোকে আলগা করে দেয়। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক মিত্রতা, সহমর্মিতা, বোঝাপড়ার সম্পর্ক সৃষ্টি করা যেমন জরুরি, তেমনি নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক সৃষ্টি করাও আবশ্যক। এর কোনো বিকল্প নেই। যদি তা না হয়, তবে যেকোনো রাষ্ট্রের জন্য সফলভাবে টিকে থাকা কষ্টকর।

ড. মারুফ মল্লিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সূত্র : প্রথম আলো

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ
১৫ জন শিক্ষক বেতন পান না ২১ মাস ধরে

এতে পরিবার নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন শিক্ষকেরা। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই তাঁরা বেতন-ভাতা পেতে চান।

কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক নার্গিস আফরোজ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক লুত্ফুন নাহার বলেন, ‘২১ মাস ধরে বেতন–ভাতা পাচ্ছি না। আগের অধ্যক্ষ বেতন আটকে দিয়ে গেছেন।’

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ সোহেল কবীর বলেন, ‘জাতীয়করণকৃত কলেজশিক্ষক আত্তীকরণ বিধিমালা ২০০০ অনুযায়ী আমরা বেতন তুলেছি। ২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশের ১২টি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামের একটি কলেজও আমরা যে বিধিমালায় বেতন–ভাতা নিয়েছি, তাঁরাও নিয়েছে। অথচ ওদের কোনো বেতন আটকানো হয়নি।’

গণিত বিভাগের প্রভাষক কাজী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘আগের অধ্যক্ষ শিক্ষকবান্ধব ছিলেন না। ওনার কারণে আমরা ১৯ মাস বেতন পাচ্ছি না।’

কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম এমদাদুল হক বলেন, ‘নিয়মবহির্ভূতভাবে ১৫ শিক্ষক বেতন নেওয়ায় আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আশা করি একটি সমাধান শিগগিরই হবে। শিক্ষক পড়াবেন, পরীক্ষা নেবেন, দাপ্তরিক কাজ করবেন, কিন্তু বেতন পাবেন না, এটা হতে পারে না। আমি এ কলেজে যোগ দিয়েছি আট দিন হলো।’

জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার মো. আবুল বাসার বলেন, শিক্ষকদের বেতন–ভাতা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে চিঠি চালাচালি হচ্ছে। একই সঙ্গে উত্তোলন করা অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়।

সূত্র : প্রথম আলো

ঢাকার বড় স্কুলগুলো নিজস্ব বাসের ব্যবস্থা করে না কেন

২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক জরিপে ঢাকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা শহরের মধ্যে দ্বিতীয় বলে উল্লেখ করা হয়। আবার বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণে বিশ্বের নিকৃষ্ট শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা অন্যতম। সুস্থ মানুষ এই শহরের সড়কে নামলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন—শারীরিক ও মানসিকভাবে। রিকশার ক্রিং ক্রিং, মোটরসাইকেলের পিপ পিপ, প্রাইভেটকারের প্যাঁ পোঁ, ট্রাকের ভোঁ ভোঁ। শব্দের এই ‘ফিউশনে’ পথচারীদের কানের পর্দা ফাটার জোগাড়। এই শহরে ভালো নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ আছেন গুটিকয়েক। তাই চিকিৎসকের সিরিয়াল না পেয়ে কানের গুরুতর রোগ নিয়েই দিনাতিপাত করতে হচ্ছে অনেক নাগরিককে। কানে আঙুল দিয়ে পথ চলতে গিয়ে এরা আবার আছেন সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে।

ঢাকা এক ‘শিক্ষানগরী’। মহাসড়কের পাশে ও মহাসড়ককে ঘিরে যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, তেমনি অলিতে-গলিতে ছোটখাটো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। এখানে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন আছে, তেমনি ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়েও স্কুল চলছে। ধরে নেওয়া যাক, লোকের প্রয়োজনেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। পড়াশোনা যতটা হোক বা না হোক, কোনোভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব নয়। বরং তা বাড়বে, বাড়ছেও।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল, হলি ক্রস, রাজউক উত্তরা মডেল, আইডিয়াল স্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ—এগুলো ঢাকার বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই বাইরেও বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের অনেক নামী স্কুল রয়েছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকার গৌরব। কারণ, এখান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার ছেলেমেয়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার দরজায় কড়া নাড়ে।স্

শিশুর মনোজগতের উৎকর্ষ সাধন করুন

এখনকার শিশুরা খেলাধূলা ভুলে যাচ্ছে। ডিজিটাল আল্ট্রা রশি^র কাছাকাছি রাখা হচ্ছে শিশুদের। শিশু মনের বিকাশ ঘটাতে শিশুতোষ কর্মকা-ও কমে যাচ্ছে। বলা চলে শিশু বিকাশের উদ্যোগগুলো শূন্যের কোটায় গিয়ে ঠেকেছে। অথচ শিশুরা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে বেড়ে ওঠার কথা ছিল। এখন খেলাধূলা, সংস্কৃতি চর্চার সব বিষয় আটকে গেছে মুঠোফোনের স্বচ্ছ ঝকঝকে কাঁচে। শূন্য থেকে ১৮ বছর বয়সের সব শিশুর হাতে শোভা পাচ্ছে বর্ণিল এই জাদুবাক্স। এসব কারণে শিশুরা অনেকটা রোবটের মতো আচরণ করছে। আগামীর ভবিষ্যত শিশুদের রক্ষায় শিশুর মনোজগতের উৎকর্ষ সাধনের দিকে নজর দেওয়া একান্ত জরুরী। তা না হলে শিশুরা আমাদের সকল ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি ভুলে যন্ত্রমানব হিসেবে বেড়ে উঠবে। যা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না কিংবা হতে দেওয়া উচিত নয়।

গবেষণায় উঠে এসছে, মুঠোফোন শিশুদের দূরন্তপানা ও খেলাধূলার আগ্রহ কমিয়ে দেয়। দ্রুত শিশুদের আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। এক থেকে পাঁচ বছরের শিশুর চোখের সমস্যা তিন থেকে চারগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন মাত্রাতিরিক্ত স্পার্টফোন ব্যবহারের কারণেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। কেবল চোখের সমস্যাই নয় ঘটছে বিকাশজনিত সমস্যাও। অতিরিক্ত মুঠোফোন ব্যবহারের কারণে অনেক শিশু সঠিক সময় কথা বলতে পারছে না। দেখাদিচ্ছে নানা উপসর্গও। তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ় হতে পারে না। বাবা-মায়ের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে শিশুরা মনোবিকাশের বাধার সম্মুখিন হচ্ছে। চিকিৎসকরা মুফোফোনকে ডিজিটাল কোকেন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বাবা-মায়েরাও শিশুর হাতে এই যন্ত্র দিয়ে স্বস্তি ফেলছেন। কোন কোন বাবা-মা অহংকার করছেন তার শিশু মুঠোফোনে পারদর্শী। শিশুদের খাবার খাওয়ানো, গেইম দেখানোসহ সবধরণের ডিজিটাল ডিভাইজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু এর ভয়াবহ প্রভাব সম্পর্কে কোন খবরই রাখছেন না। একবারও তারা ভাবছেন না যে তার শিশুর মস্তিষ্ক আল্ট্রা রঞ্জেন রশ্মিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিকারগ্রস্ত হয়ে বড় হচ্ছে প্রিয় সন্তান।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রাণ গোপাল দত্ত একটি সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘একঘন্টা খাওয়ানোর জন্য শিশুর হাতে মুঠোফোন দেওয়ার ফলে শিশু একঘন্টা আল্টা রেডিয়েশনের মধ্যে থাকছে। এই সময় শিশু পুষ্টি যা গ্রহণ করছে অপুষ্টি নিচ্ছে তার বহুগুণ বেশি। একটা মুঠোফোন যত পরিমাণ রেডিয়েশন দিচ্ছে, একটা মাইক্রোওভেন তত পরিমান রেডিয়েশন দেয়। ১৫ মিনিট কথা বললে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইড তাপমাত্রা হয়ে যায়। তখন মস্তিস্কে প্রচ- কম্পন শুরু হয়। এই কম্পন শিশুদের মস্তিষ্কে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।’  তারা বলেছেন, শিশুদের কোনভাবেই মুফোফোন ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়।

শিশুদের মনোজগতের বিকাশের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত করানো দরকার। দরকার খেলাধুলা, বইপড়া, সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে যুক্ত করা। শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখতে উদ্বুদ্ধ করা। দেশ ও দেশের মানুষ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেওয়া। মুকিআতযুদ্ধসহ ইতিহাস ঐতিহ্যর সঙ্গে পরিচিত করা। তাহলে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে দৃঢ় হয়ে বেড়ে উঠবে। আমাদের শিশুদের সেই সুযোগ দিয়ে গড়ে তুলতে হবে।

সূত্র: ভোরের আলো

 

গ্যাস না পেয়ে দুই দিনে তিতাসে অভিযোগ করেছেন দুই হাজার গ্রাহক। আরও কয়েক দিন থাকতে পারে গ্যাস-সংকট
অতিরিক্ত গ্যাস তুলতে গিয়ে বিপর্যয়

গ্যাস-সংকটে বাসায় ইফতার বা সাহ্‌রির খাবার রান্নার সুযোগ পাচ্ছে না অনেক মানুষ। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে অনেক শিল্পকারখানায়। ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও। গ্যাসের এ সংকট আরও কয়েক দিন থাকতে পারে। বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে সক্ষমতার অতিরিক্ত উৎপাদন করতে গিয়ে এমন বিপর্যয় তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদনের দায়িত্বে আছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। বিবিয়ানা থেকে উৎপাদন শুরু হয় ২০০৭ সালে। সক্ষমতার অতিরিক্ত উৎপাদন নিয়ে বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে মাত্র ১১ বছরের মাথায় ২০১৩ সালে বন্ধ হয়ে যায় সমুদ্রের একমাত্র গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু। এর দায়িত্বে ছিল অস্ট্রেলীয় কোম্পানি সান্তোস। এ ঘটনার পরও বিবিয়ানার ক্ষেত্রে সতর্ক হয়নি পেট্রোবাংলা।

বিবিয়ানায় জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করা প্রতিটি কূপের উৎপাদনক্ষমতা দিনে ৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ছয়টির মধ্যে রোববার রাতে একটি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতের মধ্যে আরও দুটি কূপ উৎপাদনে আসতে পারে বলে আশা করছে পেট্রোবাংলা ও শেভরন। সংস্থা দুটি বলছে, আজ মঙ্গলবারের মধ্যে আরও দুটি কূপ উৎপাদনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর বালু উঠে আসা কূপটি আবার উৎপাদনে ফেরানোর বিষয়টি অনিশ্চিত।

তবে অতিরিক্ত উৎপাদনের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি শেভরন বাংলাদেশ। সংস্থাটির মুখপাত্র শেখ জাহিদুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ছয়টি কূপ বন্ধ করায় গ্যাসের উৎপাদন কিছুটা কমেছে বিবিয়ানায়। নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও সহনীয় গ্যাস সরবরাহ করতে বাংলাদেশ সরকার এবং পেট্রোবাংলার সঙ্গে কাজ করছে শেভরন। হঠাৎ করে জরুরি উৎপাদন বন্ধের কারণ অনুসন্ধান করবে সংস্থাটি।

অবশ্য, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ছয়টি কূপ বন্ধ করা হয়েছে বলে গত রোববার জানিয়েছিল শেভরন।

গ্রাহকদের ভোগান্তি

গ্যাস–সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার গ্রাহকেরা। এ এলাকায় গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানি তিতাস বলছে, দুই দিন ধরে ব্যস্ত সময় পার করছে তিতাসের অভিযোগকেন্দ্র। গ্যাস না পেয়ে গত দুই দিনে দুই হাজারের বেশি গ্রাহক ফোন করেছেন এখানে। কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না তারা। তিতাসের সঞ্চালন লাইনে দিনে প্রায় ৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। বিদ্যুৎ, শিল্প, সার কারখানায় সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাসার চুলায় গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা।

মোহাম্মদপুর, মিরপুর, কাঁঠালবাগান, কলাবাগান, ডেমরা, নারিন্দা, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, পুরান ঢাকার গ্রাহকেরা তিতাসে বেশি অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে তিতাস।

খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা নীলু মমতাজ প্রথম আলোকে জানান, দুই দিন ধরে বাসায় গ্যাস নেই। ইফতার ও সাহ্‌রির খাবারের জন্য দোকানে ছুটতে হচ্ছে। দোকানিরা ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

যথাযথভাবে উৎপাদন করা হলে কূপ থেকে বালু আসার কথা নয়। সক্ষমতার অতিরিক্ত উৎপাদন কারণে এটি হতে পারে। বিবিয়ানায় অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন নিয়ে বিভিন্ন সময় সতর্ক করা হয়েছিল।

বদরুল ইমাম, ভূতত্ত্ববিদ

বছরে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের চাহিদা থাকে এ সময়, গ্রীষ্ম মৌসুমে। একই সময়ে রোজা হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশনাও দিয়েছিল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এখন উল্টো কমে যাওয়ায় উৎপাদন করতে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি। ব্যয়বহুল তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

দেশে দিনে ৩৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও গত শনিবার সরবরাহ করা হয় প্রায় ২৯১ কোটি ঘনফুট। গতকাল সরবরাহ করা হয় ২৫২ কোটি ঘনফুট। গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা বলছে, ৭ এপ্রিল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো দেশে আসার পর সরবরাহ বাড়তে পারে। আর বন্ধ কূপ দ্রুত উৎপাদনে ফেরাতে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পরিকল্পনা) আলী ইকবাল মো. নুরুল্লার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল বিবিয়ানায় কাজ তদারকি করছে।

ভূতত্ত্ববিদ বদরুল ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, যথাযথভাবে উৎপাদন করা হলে কূপ থেকে বালু আসার কথা নয়। সক্ষমতার অতিরিক্ত উৎপাদন কারণে এটি হতে পারে। বিবিয়ানায় অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন নিয়ে বিভিন্ন সময় সতর্ক করা হয়েছিল। এর আগে অতিরিক্ত উৎপাদন করতে গিয়ে বালু ওঠার কারণে বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের একটু কূপ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বড় বড় প্রকল্পে জোর, পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নয়। রাজধানীতে যানবাহনের গড় গতি নেমেছে ঘণ্টায় ৪.৮ কিলোমিটারে।
ঢাকা যেন নিশ্চল মহানগর

গণপরিবহন–সংকটের এ শহরে সকাল–বিকেল বাসে উঠতে হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি নিত্যদিনের ঘটনা। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর ফার্মগেটেছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সড়কে যানবাহন কম ছিল, যানজট সহনীয় ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস শুরু হওয়া এবং রমজান মাসকে ঘিরে যানজট বেড়েছে। এ যানজটের মধ্যে চাকরিজীবী ফজলে রাব্বি বাধ্য হয়ে প্রতিদিন যে পাঁচ ঘণ্টা সড়কে কাটান, তার আর্থিক মূল্য রয়েছে। বুয়েটের এআরআইয়ের হিসাবে, এখন যানজটের কারণে ঢাকায় দৈনিক ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে বছর শেষে যানজটে ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৮ সালে যানজটে দিনে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা ক্ষতি হয়েছিল। তখন এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র গরম অথবা জলজট, গাড়ির ভেঁপুর কান ফাটানো শব্দ ও ধুলাবালুর মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে যাত্রীদের স্বাস্থ্যগত ক্ষতি ও মানসিক চাপ তৈরি হয়। সেখান থেকে শরীরে নানান রোগও বাসা বাঁধে।

যানজটের বিষয়ে বুয়েটের এআরআইয়ের পরিচালক অধ্যাপক হাদীউজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা এখন ক্যানসারের রোগীতে পরিণত হয়েছে। এর হৃৎস্পন্দন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। অবস্থার পরিবর্তন না হলে এ শহরকে সচল রাখা যাবে না। তিনি বলেন, ঢাকার রাস্তায় এখন ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ যানবাহন চলছে। এসব যানবাহনের বড় অংশই গণপরিবহন নয়।

বুয়েটের এআরআইয়ের হিসাবে, এখন যানজটের কারণে ঢাকায় দৈনিক ৮২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে বছর শেষে যানজটে ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৮ সালে যানজটে দিনে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা ক্ষতি হয়েছিল। তখন এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

কেন এ অবস্থা

সরকারি সংস্থার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে যানজটের বড় কয়েকটি কারণ জানা যায়। সেগুলো হলো: ১. ঢাকার মানুষের যাতায়াতের সবচেয়ে বড় ভরসা বাস-মিনিবাস। বাস চলাচলে শৃঙ্খলা আনার ওপর জোর না দেওয়া। ২. ইচ্ছেমতো যানবাহনের নিবন্ধন দেওয়া। ৩. ঢাকায় বিভিন্ন গতির ১৮ ধরনের বাহনের চলাচল, যা শৃঙ্খলা আনার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করে। ৪. বড় বড় প্রকল্প নিয়ে সময়মতো বাস্তবায়ন করতে না পারা। ৫. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক পদ্ধতির অভাব এবং ৬. সরকারি কার্যালয় ও সেবা, বেসরকারি খাতের মানসম্মত সেবা বিকেন্দ্রীকরণ করতে না পারা।

সরকারি হিসাবে, দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক ২ শতাংশই বাস করে ঢাকায়, যা এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। চীনের বৃহত্তম শহর সাংহাইয়ে ওই দেশের জনসংখ্যার মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ বাস করে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধান কোনো শহরেই জনসংখ্যার ২ শতাংশের বেশি বাস করে না।

বাড়ছে ছোট যান

ঢাকা যেন নিশ্চল মহানগর

ফাইল ছবি

২০০৫ সালে ঢাকার জন্য করা ২০ বছরের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) অনুমোদন করে সরকার। এর বাস্তবায়ন সময়সীমা ধরা হয় ২০২৫ সাল পর্যন্ত। জাপানের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার ২০১৪ সালের সমীক্ষা বলছে, ঢাকায় দরকারি যাতায়াত বা কাজে যাওয়ার জন্য ৬০ শতাংশ মানুষ গণপরিবহন ব্যবহার করে। আর গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের ৬৭ শতাংশ ব্যবহার করে বাস-মিনিবাস।

২০১১ থেকে ২০২১ সময়ে রাজধানীতে মোটরসাইকেল বেড়েছে প্রায় আট গুণ। সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখে। একই সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮০৯টি, যা ২০১০ সালে ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার।

২০০৫ সালের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন গবেষণা ও সমীক্ষায় ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব, যাত্রীদের যানবাহন ব্যবহারের প্রবণতা ও যানজট বিবেচনায় নিয়ে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি বা বিশেষ পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এটা করা গেলে এক বাসের সঙ্গে অন্য বাসের প্রতিযোগিতা থাকত না। কিন্তু ১৭ বছরেও বাসের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু হয়েছে শুধু একটি রুটে।

ঢাকায় গত এক দশকে বাস-মিনিবাসের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল বেড়েছে অনেক বেশি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে, ২০১১ থেকে ২০২১ সময়ে রাজধানীতে মোটরসাইকেল বেড়েছে প্রায় আট গুণ। সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখে। একই সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮০৯টি, যা ২০১০ সালে ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার।

একই সময়ে ডাবল ও সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ বেড়েছে প্রায় ছয় গুণ। এ যানবাহনগুলোকে যাত্রী পরিবহনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। কিন্তু ঢাকায় তা যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়।

দেখা যাক বাস কতটা বেড়েছে। বিআরটিএর হিসাবে, ২০১০ সালে ঢাকায় বাস-মিনিবাসের সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৩১৩। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৪৮৪টিতে। অর্থাৎ বাসও দ্বিগুণ হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত এক দশকে চীন ও ভারত থেকে বেশ কিছু নিম্নমানের বাস এসেছে। এর মধ্যে সিএনজিচালিত বাসগুলো কয়েক বছরের মধ্যেই অকেজো হয়ে গেছে, যা আসলে সড়কে নেই। আর ঢাকা থেকে নিবন্ধন নেওয়া অনেক বাস দূরপাল্লার পথে চলাচল করে। এখন ঢাকা ও এর আশপাশে চলাচল করে বড়জোর ১০ হাজারের মতো বাস।

ঢাকায় সাড়ে ২০ হাজারের মতো সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে। যদিও রাজধানী ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরের চাহিদার সঙ্গে তা অপ্রতুল বলে মনে করা হয়।

বড় প্রকল্পে জোর, সময়ক্ষেপণ

রাজধানীর কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের মধ্যে মেট্রোরেলের পাঁচটি লাইন, দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট রুট (বিআরটি), তিনটি রিং রোড, আটটি রেডিয়াল রোড, ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে, ২১টি পরিবহন হাব, ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথের আধুনিকায়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং পথচারী অগ্রাধিকার কৌশল ঠিক করার কথা বলা হয়েছে।

সরকার শুরুতে উড়ালসড়ক ও মেট্রোরেলে বেশি জোর দিয়েছে। কিন্তু কোনো প্রকল্পই সময়মতো বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে ব্যয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়ক পরিবহন, স্থানীয় সরকার ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত এক দশকে ঢাকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা খরচ করে উড়ালসড়ক নির্মাণ করেছে। দুই হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করে হাতিরঝিল উন্নয়ন করা হয়েছে। ট্রাফিকবাতি কেনা, ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে ২০০ কোটি টাকা খরচ করেও তা কাজে লাগছে না।

ঢাকায় উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে মেট্রোরেল, বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত উড়ালসড়ক, জয়দেবপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাসের বিশেষ লেন নির্মাণ, পূর্বাচলে সড়ক ও ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন—এসব প্রকল্প চলমান আছে। এগুলোর পেছনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। কাজ শুরুর অপেক্ষায় আছে আরও এক লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের বিভিন্ন সড়ক ও উড়ালসড়ক প্রকল্প। পাঁচটি মেট্রোরেল ও সাবওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের আছে।

কিন্তু ঢাকায় বাস বাড়ানো, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা, ঢাকা ঘিরে রিং রোড নির্মাণ, ঢাকার ভেতরে সড়ক সম্প্রসারণ—এসব বিষয় অগ্রাধিকার পায়নি।

বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, যানজট

ঢাকা আগে থেকেই বসবাসের যোগ্যতাহীনতা, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, অল্প জায়গায় বেশি মানুষের বাস ও নিরাপত্তার ঘাটতি—এসব নেতিবাচক দিক দিয়ে বিশ্বে বড় শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানেই রয়েছে। এ বিষয়ে গত ২৯ মার্চ রাজধানীর একটি হোটেলে পাতালরেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এ অবস্থা দেখতে তাঁর খারাপ লাগে, লজ্জা লাগে।

এর পাঁচ দিন পর জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হক সড়কে অব্যবস্থাপনার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, পরিবহন ব্যবস্থাপনায় ওবায়দুল কাদের ‘টোটালি ফেইল’ (সম্পূর্ণ ব্যর্থ)।

সূত্র :প্রথম আলো

দোকানের নাম ‘ফ্রি ইফতার ও সাহ্‌রি শপ’

ইফতার ও সাহ্‌রিতে বিনা মূল্যে খাবার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সদর থানার পুলিশ

ইফতার ও সাহ্‌রিতে বিনা মূল্যে খাবার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে সদর থানার পুলিশছবি: প্রথম আলো

গতকাল সোমবার বিকেলে মাসব্যাপী এই উদ্যোগের উদ্বোধন করেন জেলার পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম। এ সময় তিনি শতাধিক নারী-পুরুষের হাতে ইফতারির প্যাকেট তুলে দেন। তিনি বলেন, সদর থানার পুলিশ সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ নিয়েছে। এ ধরনের ভালো কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

এই দোকানের উদ্যোক্তা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, প্রথম দিন পুলিশের নিজস্ব উদ্যোগে ১৪০ জনের জন্য ইফতার ও ২৫ জনের জন্য সাহ্‌রির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই উদ্যোগের খবরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ও কয়েক ব্যক্তি সহযোগিতার কথা বলেছেন। অন্যরা এগিয়ে এলে ইফতার ও সাহ্‌রির পরিসর বাড়ানো হবে।

সূত্র :প্রথম আলো