ইরানের হাতে ভয়ঙ্কর ‘বভার-৩৭৩’, বাড়ছে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বাড়িয়ে নিজেদের সামরিক বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করছে ইরান। দেশটিতে চলমান মহড়ায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘বভার-৩৭৩’ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে।

মহড়া পরিচালনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘বভার-৩৭৩’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুবই নিচু দিয়ে উড়ে চলা লক্ষ্যবস্তুর উপস্থিতির বিষয়ে সংকেত প্রদান করেছে। আর এর পরপরই লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান নিখুঁতভাবে সনাক্ত করে অনেক দূর থেকে তা ধ্বংস করেছে।

ইরান প্রায় অর্ধেক এলাকাজুড়ে ‘গার্ডিয়ান্স অফ বেলায়াত স্কাই-৯৯’ নামের বিশাল আকাশ প্রতিরক্ষা মহড়া শুরু হয়েছে।
এই মহড়ার মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্বাস ফারাজপুর বলেছেন, “ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত ভালো অবস্থানে পৌঁছেছি। এগুলো সবই আন্তর্জাতিক মানের। এরপরও আমরা বসে নেই। এসব সরঞ্জামকে আরও উন্নত করতে সব সময় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা নিজেদের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে আকাশকে শত্রুমুক্ত রেখেছি।” বিডি প্রতিদিন

ছয়টি আপগ্রেডেড ফিচারসহ ‘স্পার্ক ৬’ নিয়ে এলো টেকনো

ছয়টি আপগ্রেডেড ফিচারসহ বাংলাদেশের বাজারে স্পার্ক সিরিজের ‘স্পার্ক ৬’ নিয়ে এলো টেকনো মোবাইল। ওশান ব্লু ও কমেট ব্লাক রঙে আসা স্মার্টফোনটি পাওয়া যাবে ১৩ হাজার ৯৯০ টাকায়।

স্পার্ক ৬ ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে হেলিও জি৭০ অক্টা-কোর চিপসেট, ৫০০০ এমএএইচ বিশাল ব্যাটারি, ৬ দশমিক ৮ ইঞ্চির একটি এইচডি+ডট-ইন ডিসপ্লে, এআই প্রযুক্তির ১৬ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরার সাথে আরো তিনটি ক্যামেরা, অডিও এবং সফটওয়্যার ফিচার রয়েছে।

ট্রানশান বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘গ্রাহকদের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে বাজারে থাকা অন্য প্রতিযোগীদের ছাড়িয়ে গিয়ে সেরা স্মার্টফোন নিয়ে আসতে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবসময় যুক্ত থাকা, উন্নত মানের ছবি তোলা, বিনোদন বা মোবাইল গেমিংয়ে আগ্রহীদের জন্য শক্তিশালী প্রসেসর, বড় ডিসপ্লে ও বিশাল ক্ষমতার ব্যাটারি রয়েছে এমন স্মার্টফোন চান সবাই। বাংলাদেশের বাজারে আসা নতুন স্পার্ক ৬ মোবাইলে রয়েছে হেলিও জি৭০ গেমিং প্রসেসর যা গেম প্রেমীদের সব চাহিদা পূরণ করবে।’

স্পার্ক ৬ স্মার্টফোনটিতে ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজ এবং ৪জিবি র‌্যাম ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ১০+ হাই-ওএস ৭.০ অপারেটিং সিস্টেমের এ ডিভাইসটিতে শক্তিশালী ৫০০০ এমএএইচ ক্ষমতার ব্যাটারি রয়েছে যা ২৯ দশমিক ৩৭ দিনের স্ট্যান্ডবাই সুবিধা দিবে।

টেকনোর আগের ফোনগুলো থেকে এক্সটারনাল ও ইন্টারনাল ফিচারের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা স্পার্ক ৬ ফোনটির ৬ দশমিক ৮ ইঞ্চির এইচডি+ডট-ইন আকর্ষণীয় বড় ডিসপ্লে ব্যবহারকারীদের ভিউইংয়ের ক্ষেত্রে অকল্পনীয় অভিজ্ঞতা দিবে। স্মার্টফোনটিতে থাকা ব্লুটুথ অডিও শেয়ার ফিচারের মাধ্যমে একসাথে তিনটি ব্লুটুথ ডিভাইসকে যুক্ত করতে পারবে।

স্পার্ক ৬ স্মার্টফানটিতে রয়েছে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তি সমৃদ্ধ কোয়াড রিয়ার ক্যামেরা এবং তাতে ১৬ এমপি মেইন ক্যামেরা + ২ এমপি ম্যাক্রো + ২ এমপি ডেপথ + কোয়াড-এলইডি ফ্ল্যাশসহ এআই লেন্স রয়েছে। সেলফি তোলার জন্য সামনে ডুয়েল-এলইডি ফ্ল্যাশসহ ৮এমপি ওয়াইড সেন্সর রয়েছে।

ডিভাইসটিতে থাকা শক্তিশালী আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ১৮টি ভিন্ন ধরনের দৃশ্য ধারণ করতে পারে এবং ৯৫ শতাংশ রিকগনিশন রেটসহ এআই ভিডিও ধারণ করতে পারে। এর ভিডিও বিউটিফাই, এআই বিউটি, এআই বডি শেপিং ও এআর ইন্টারেকশনের মতো ফিচারগুলোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সম্পূর্ণ কাস্টমাইজেশন করে তাদের পছন্দের ছবি ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

২০ কোটি মাইল দূরের গ্রহাণুতে নাসা’র মহাকাশযান

সৌরজগতে মোটামুটি ১০ লাখ গ্রহাণু রয়েছে। ‘বেনু’ তার মধ্যে অন্যতম। বাদামের মতো দেখতে এই গ্রহাণু। বয়স ৪৫০ কোটি বছর। নাসার প্ল্যানেটারি সায়েন্সের বিজ্ঞানী লোরি গ্লেজ জানিয়েছেন, এই গ্রহাণু সম্পর্কে জানতে পারলে পৃথিবীর উৎপত্তি নিয়ে অনেক কথায় জানা যাবে। কী করে এই সৌরজগত তৈরি হল, সেটাও স্পষ্ট করে জানা যেতে পারে।

এবার সেই গ্রহাণুতে পা রাখল নাসার মহাকাশযান। মহাকাশযানটির আকার লম্বা বাসের মতো। সেটি পৃথিবী থেকে বহু দূরে অবস্থিত ‘বেনু’ গ্রহাণুকে নতুন করে চিনতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১৬ সালে অ্যাটলাস ভি রকেটের মাধ্যমে এটি মহাকাশে পাড়ি দেয়। তারপর গ্রহাণুর মাটি ছোঁয়ার আগে এটি সন্ধান চালাতে থাকে মাটিতে নামার মতো সঠিক জায়গার। সেই সন্ধান চালানোর পর এটি গ্রহাণুতে নেমে আসে।

যদি এই মহাকাশযান পৃথিবীতে ফেরে, তা হলে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই হবে নাসার সব চেয়ে বড় সাফল্য। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ওই গ্রহাণুর তথ্য সংগ্রহ করতে পারলে অনেক রহস্যেরই সমাধান করা যাবে, বোঝা যাবে কোথা থেকে এল এই সৌরজগত, কী ভাবে সৃষ্টি হল প্রাণ।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহাকাশযানটি ইতিমধ্যে ওই গ্রহাণুতে পা রেখেছে। সেখান থেকে নানারকম উপাদান সংগ্রহ করতেও শুরু করেছে যানটি। সর্বোচ্চ ২ কিলোগ্রাম পর্যন্ত উপাদান সংগ্রহ করতে পারবে এটি।
২০২৩ সালে পৃথিবীতে ফেরত এলে সেই উপাদান পর্যবেক্ষণ করে অনেক অজানা তথ্য স্পষ্ট হতে পারে বিজ্ঞানীদের কাছে। সাধারণত এমন অসংখ্য গ্রহাণু সৌরজগতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলির উপাদান সম্পর্কে মানুষ কেবল এতদিন ধারণা করতে পেরেছে মাত্র। মনে করা হচ্ছে, এই গ্রহাণুর মধ্যে থাকতে পারে অনেক মহামূল্যবান উপাদান। থাকতে পারে কাদা মাটি, পানিও।

বিডি-প্রতিদিন

আইওটি বাজার দখলের যুদ্ধে অপো

‘ওয়ান মোর স্টেপ’ প্রতিপাদ্যে নতুন সব চমকপ্রদ পণ্য নিয়ে আইওটি বাজার দখলের যুদ্ধে নাম লিখিয়েছে চীনভিত্তিক ব্র্যান্ড অপো। গতকাল বেশ কয়েকটি নতুন ডিভাইস উন্মোচনের মাধ্যমে আইওটি পণ্য বাজারে যাত্রা করে প্রতিষ্ঠানটি। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে—অপো এনকো এক্স ট্রু ওয়্যারলেস নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারফোন, অপো ওয়াচ আরএক্স, অপো টিভি এস১ এবং অপো টিভি আর১ সিরিজ।

ডিভাইসগুলোর উন্মোচন আইওটি বাজারে অপোর পোর্টফোলিও সমৃদ্ধকরণের কৌশলগত বিষয়ের ইঙ্গিত বহন করে। নানা ক্ষেত্রে একাধিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে স্মার্ট অভিজ্ঞতা প্রদানে কাজ করছে অপো। ব্র্যান্ডটি স্মার্টফোন, টিভি, ইয়ারফোন ও ঘড়ির মতো কোর এন্ট্রি লেভেল ডিভাইসগুলোর ধারাবাহিক উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে এ দক্ষতা অর্জন করেছে। অপোর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও নান্দনিক ডিজাইনের সমন্বয়ে তৈরি পণ্যগুলো গ্রাহকদের ইন্টেলিজেন্ট ও উপভোগ্য জীবনযাপনে সহায়তা করে।

এ বিষয়ে অপোর প্রেসিডেন্ট ববি লিউ বলেন, অপো এনকো এক্স ট্রু ওয়্যারলেস নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারফোন অডিও অভিজ্ঞতায় ভিন্নমাত্রা যোগ করবে। বৈশ্বিক হাই-ফাই ব্র্যান্ড ডায়না অডিওর সঙ্গে অংশীদারিত্বে অপো তাদের এনকো এক্স ট্রু ওয়্যারলেস নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারফোন নিয়ে এসেছে। অপোর নতুন এ ইয়ারফোন ট্রিপল মাইক্রোফোন কল নয়েজ ক্যানসেলেশন এবং ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে।

ট্রু ওয়্যারলেস ইয়ারফোনের পাশাপাশি কোর এন্ট্রি-লেভেল দুটি সিরিজের টিভি উন্মোচন করেছে অপো। এর মধ্যে রয়েছে অপো টিভি এস১ এবং অপো টিভি আর১। টিভিগুলো তিনটি ভিন্ন মডেলে পাওয়া যাবে। শুধু তা-ই নয়; ব্যবহারকারীদের উন্নত অভিজ্ঞতাদানে অপো প্রথমবারের মতো ফার্স্ট রাউন্ড ডায়াল স্মার্টওয়াচ উন্মোচন করেছে।

খবর ব্লুমবার্গ
মেমোরি ব্যবসা বিভাগ বেচে দিচ্ছে ইন্টেল

দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক মেমোরি চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ইনকরপোরেশনের কাছে মেমোরি ব্যবসা বিভাগ বেচে দিতে সম্মত হয়েছে ইন্টেল। মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের কোর প্রসেসর চিপসেট ব্যবসায় গুরুত্ব দিতে মেমোরি বিভাগ বেচে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইন্টেলের মেমোরি ব্যবসা বিভাগ কিনতে এসকে হাইনিক্সকে গুনতে হবে ৯০০ কোটি ডলার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসকে হাইনিক্স কম্পিউটার এবং অন্যান্য ডিভাইসের জন্য ফ্ল্যাশ মেমোরি কম্পোনেন্ট সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক চুক্তির আওতায় ইন্টেলের এসএসডি (সলিড স্টেট ড্রাইভ), এনএএনডি ফ্ল্যাশ এবং ওয়েফার ব্যবসা বিভাগের নিয়ন্ত্রণ পাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ চীনের ডালিয়ান শহরে ইন্টেলের স্টোরেজ চিপ তৈরির একটি কারখানার মালিকানা পাবে।

ইন্টেলের মেমোরি ব্যবসা বিভাগ অধিগ্রহণ মেমোরি চিপ বাজারে এসকে হাইনিক্সের অবস্থান দৃঢ় করবে। কভিড-১৯ মহামারীর ভয়াবহ বাস্তবতায় এখন অ্যাপলের আইফোনের পাশাপাশি বিভিন্ন ডাটা সেন্টারে মেমোরি চিপের চাহিদা উল্লেখযোগ্য বেড়েছে। বৈশ্বিক মেমোরি চিপ বাজারে স্বদেশী প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং ইলেকট্রনিকস এবং মাইক্রোন টেকনোলজি ইনকরপোরেশনের কারণে এখন চাপে রয়েছে এসকে হাইনিক্স।

অন্যদিকে মেমোরি চিপ বাজারে এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারণে চাপে রয়েছে ইন্টেল। প্রতিষ্ঠানটি টানা কয়েক মাস ধরেই বলে আসছে তারা মেমোরি ব্যবসা বিভাগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবছে।

ইন্টেল কোর ব্যবসা হলো প্রসেসর চিপসেট নির্মাণ বিভাগ। প্রসেসর চিপসেট বাজারেও খারাপ সময় পার করছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী বছর থেকে সব ম্যাক কম্পিউটারে ইন্টেল প্রসেসরের পরিবর্তে কাস্টম প্রসেসর ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে অ্যাপল। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না দিলেও এমনটাই দাবি করেছেন টিএফ ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মিং-চি কুয়ো। অ্যাপল পণ্যের আগাম তথ্য প্রকাশের বিশ্বস্ত সূত্র মনে করা হয় এ বিশ্লেষককে।

টানা দেড় দশক ধরে ম্যাক কম্পিউটারে ইন্টেলের প্রসেসর ব্যবহার করে আসছে অ্যাপল। অন্যদিকে আইফোন ও আইপ্যাডে নিজস্ব এ সিরিজের এআরএমভিত্তিক প্রসেসর ব্যবহার করে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। বলা হচ্ছে, ম্যাক ডিভাইসেও একই ধরনের প্রসেসর ব্যবহার করলে কম্পিউটার ডিজাইনের জন্য ইন্টেলের নতুন প্রসেসরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না প্রতিষ্ঠানটিকে।

অন্যদিকে নিজস্ব প্রসেসর ব্যবহারের মাধ্যমে বাজারের অন্যান্য প্রতিযোগীর চেয়ে নিজেদের আলাদা করতে পারবে অ্যাপল। পাশাপাশি ইন্টেলের প্রসেসর সংবলিত ম্যাক কম্পিউটারের চেয়ে অ্যাপলের নিজস্ব প্রসেসর সংবলিত ম্যাক ডিভাইসের কার্যকারিতা অনেক বেশি হবে।

অ্যাপল স্মার্টফোনের মডেম তৈরির আগ্রহ থেকে এরই মধ্যে শতকোটি ডলারে চিপ নির্মাতা ইন্টেল করপোরেশনের স্মার্টফোন মডেম ব্যবসা বিভাগ অধিগ্রহণ করেছে। স্মার্টফোনে ব্যবহূত মডেম চিপ ব্যবসা থেকে ইন্টেল সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে বেশ আগেই। এরপর থেকেই বিভাগটি কিনতে আগ্রহী ছিল অ্যাপল। গত এপ্রিলে কোয়ালকম ইনকরপোরেশনের সঙ্গে অ্যাপলের পেটেন্ট নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের মীমাংসা হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ফাইভজি মডেম চিপ ব্যবসা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় ইন্টেল। তখনই বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয় প্রতিষ্ঠানটির স্মার্টফোন মডেম চিপ ব্যবসা বিভাগ অ্যাপল কিনতে পারে।

অ্যাপল গত জুলাইয়ে ইন্টেলের স্মার্টফোন মডেম চিপ বিভাগ অধিগ্রহণ চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এ চুক্তির ফলে একটি বিষয় পরিষ্কার যে ভবিষ্যতে আইফোনের জন্য প্রয়োজনীয় মডেম চিপ নিজেরাই ডিজাইন ও উৎপাদন করবে অ্যাপল, যা পঞ্চম প্রজন্মের আল্ট্রাফাস্ট মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি সমর্থন করবে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনারের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের আয় কমেছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধের জেরে গত বছরজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর বিক্রিতে শ্লথগতি বিরাজমান ছিল। যে কারণে গত বছর সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি থেকে আয় ৪১ হাজার ৯১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১২ শতাংশ কম।

গার্টনার জানায়, গত বছরজুড়ে মেমোরি চিপের বাজার নিম্নমুখী থাকায় সেমিকন্ডাক্টর খাতে স্যামসাংয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় ভেন্ডরের আয় কমেছে, এমনকি তা আগের দুই বছরের চেয়েও কম। তবে গত বছর সেমিকন্ডাক্টর বাজারে স্যামসাং খারাপ সময় পার করলেও ইন্টেলের জন্য দারুণ কেটেছে। মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি গত বছর বাজারে শীর্ষ অবস্থান পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছে। ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের শীর্ষ অবস্থান দখলে রেখেছিল স্যামসাং ইলেকট্রনিকস।

বিবৃতিতে গার্টনারের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু নরউড বলেন, গত বছর ডিআরএএম (ডাইন্যামিক র্যানডম অ্যাকসেস মেমোরি) চিপের অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে সামগ্রিকভাবে মেমোরি চিপ বাজার ৩২ দশমিক ৭ শতাংশ পড়ে যায়। গত বছর মোট যে পরিমাণ সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি হয়, তার ২৬ দশমিক ১ শতাংশ ছিল মেমোরি চিপ।

সামগ্রিকভাবে গত বছর সেমিকন্ডাক্টর বাজারের ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ এনএএনডি মেমোরি চিপের দখলে ছিল। তবে মেমোরি বিক্রি থেকে গত বছর আয় কমেছে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ। গত বছর ডিআরএএম মেমোরি চিপ বিক্রি থেকে আয় কমেছে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শেষদিকে হঠাৎ চাহিদা কমে যাওয়ায় ডিআরএএম মেমোরি চিপ বাজারে সরবরাহ চাপ তৈরি হয়, যা গত বছরজুড়ে অব্যাহত ছিল। চাহিদার এ পতনের কারণে ডিআরএএম মেমোরির দামও কমে যায়। গত বছর ডিআরএএম মেমোরির গড় মূল্য ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাতে ইন্টেল এবং স্যামসাংয়ের পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে এসকে হাইনিক্স, মাইক্রোন টেকনোলজি, ব্রডকম, কোয়ালকম, টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস, এসটি মাইক্রোইলেকট্রনিকস ও এনএক্সপি সেমিকন্ডাক্টারসের মতো প্রতিষ্ঠান। এ তালিকায় দশম অবস্থানে রয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল।

কভিড-১৯ মহামারীর বাস্তবতায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ডিভাইসগুলোর জন্য চিপের চাহিদা। এর ফলে সম্প্রসারণ হচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বা চিপের বাজার। ক্রমবর্ধমান এ খাতের রাজস্বে ২০১৮ সালের আগে টানা তিন বছর উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে গত বছরের প্রথমার্ধে খাতটির রাজস্ব হ্রাসসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা সৃষ্টি করে।

ডিজিটাল ট্রেড উইকে আলোচকরা
ব্যবসা প্রসারে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

পরবর্তী দশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ব্যবসা প্রসারের ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে চলেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। গতকাল ডিজিটাল ট্রেড উইকের তৃতীয় দিনে মার্চেন্ট বের সহযোগিতায় জেসিআই বাংলাদেশের আয়োজনে লিডারশিপ কনক্লেভ সেশনে অংশগ্রহণকারী আলোচকরা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।

সেশনে উপস্থিত ছিলেন টেক ইন এশিয়ার এমডি আন্ডরু বেইসলি, ডেল ইএমসির (এশিয়া এমার্জিং মার্কেট) ভাইস প্রেসিডেন্ট অনোথাই অয়েট্টায়াকর্ণ, সেবা প্লাটফর্ম লিমিটেডের সিইও আদনান ইমতিয়াজ হালিম এবং সহজের প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি মালিহা এম কাদির। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এড সার্চের সিইও এবং জেসিআই সেন্ট্রাল পার্ক হেলনিস্কির প্রেসিডেন্ট হেলেনা রেবেন। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন মার্চেন্ট বের এমডি আবরার হোসনে সায়েম।

সেশনে টেক ইন এশিয়ার এমডি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ। আর গড় বয়স ২৮ বছর। অন্যদিকে চায়না ও ইউএসএর জনসংখ্যার গড় বয়স ৩৮ বছর। এর মানে হলো, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবে এবং ব্যবসার প্রসার ও উন্নতির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের উদ্ভাবনও বড় ভূমিকা রাখবে।

উদ্ভাবন ও স্টার্টআপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো উল্লেখ তিনি আরো বলেন, জিডিপির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বার্ষিক জিডিপির প্রবৃদ্ধি খুবই সন্তোষজনক। এমন প্রবৃদ্ধি থাকলে সেখানে ব্যবসার অগ্রগতি অনুমিত।

ডেল ইএমসির ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতে ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে দুটি জিনিস জরুরি। একটি হলো ব্যবসাকে নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত করা এবং অন্যটি হলো ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে টার্গেট মার্কেটের কাছে পৌঁছানো যায় তা নিয়ে কাজ করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া।

সেবার সিইও বলেন, বাংলাদেশে লাখ লাখ সিএমএসএমই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে কেবল দশমিক ৫ শতাংশ ডিজিটাল। বাকি ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ সনাতন পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সুতরাং এটি একটি বড় সুযোগ। করোনাকালের মধ্যে আমরা প্রচলিত ব্যবসাগুলোয় সংকোচন লক্ষ করেছি। তবে এমএসএমই খাতে উদ্ভাবন প্রসার লাভ করেছে। বর্তমানে সবাই নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করছে এবং ডিজিটাল মাধ্যমকে আপন করে নিচ্ছে। কারণ সবাই এখন বিশ্বাস করছে, প্রচলিতভাবে ব্যবসা করে সামনে টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে।

মালিহা এম কাদির বলেন, ডিজিটাল মার্কেটে একটি পণ্য বা সেবা তৈরি করার সময় বেশকিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সামগ্রিক ব্যবসার পরিধি সম্পর্কে জানা, ক্রেতারদের সামগ্রিক মনোভাব ও চাহিদার কথা জানা, নিজে যদি ক্রেতা হই তবে কী কী বিষয় আমি চাইব সেগুলোকে বের করা।

ডিজিটাল ট্রেডকে প্রমোট করতে এবং তৈরি পোশাক খাতে ট্রেডের ডিজিটাইজেশনের সূচনা করতে এমন আয়োজন বাংলাদেশে এই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের রফতানি খাতকে প্রসারিত করতে এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট বে। আয়োজনটি চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। সুত্র: বণিক বার্তা

মোদির ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে লাখ লাখ তথ্য ফাঁস!

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট narendramodi.in থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষের তথ্য চুরি হয়েছে। ‘সাইবেল’ নামে এক মার্কিন সাইবার সুরক্ষা সংস্থার পক্ষ থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।

চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নানা তহবিলে অনুদান দেওয়া দু’লাখের বেশি মানুষের ফোন নম্বর, ইমেল আইডির মতো নানা ব্যক্তিগত তথ্য। যার মধ্যে করোনা ত্রাণে অনুদান জমা দেওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও। এই সব তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে ওই সংস্থার দাবি।

শুক্রবার এক ব্লগ পোস্টে ওই সংস্থার পক্ষে দাবি করা হয়, চুরি যাওয়া ৫ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিগত তথ্য কোনও অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, নাম, ফোন নম্বর, ইমেল আইডি প্রভৃতি।
গত ৩ সেপ্টেম্বর হ্যাক করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্টটিও। এরপর ১০ অক্টোবর সাইবেল গোপনে জানতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর ওয়েবসাইটের তথ্য ডার্ক ওয়েবে চলে গিয়েছে। খবর পেয়ে ফাঁস হওয়া তথ্য ও তার বিশ্লেষণ করতে শুরু করে।

ওই মার্কিন সংস্থা আরও জানিয়েছে, সাইবার অপরাধীরা সম্প্রতি ওই ওয়েবসাইটের তথ্য চুরি করে। তার সাহায্যেই তারা ওই ওয়েবসাইটের টুইটার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করেছিল। তবে এখনও তথ্য ফাঁসের ব্যাপারে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

মার্কিন সংস্থার দাবি, দেশের সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণে রাখার বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা CERT-India-কে এবিষয়ে জানানো হলে তারা তাৎক্ষণিক কোনও সাড়া দেয়নি।

প্রসঙ্গত, ডার্ক ওয়েব হল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের এমন একটি উপাদান যা এক ধরনের গোপন নেটওয়ার্ক। ডার্ক ওয়েব মূলত ডিপ ওয়েবের একটি অংশ। সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন এখানে প্রবেশ করতে পারে না।

হুয়াওয়ের অল-সিনারিও ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটি সলিউশন উন্মোচন

অল-সিনারিও ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটি সলিউশন উন্মোচন করেছে হুয়াওয়ে। সম্প্রতি বেইজিংয়ে ইউএন ব্রডব্যান্ড কমিশন ও হুয়াওয়ে যৌথভাবে আয়োজন করেছে ষষ্ঠ আল্ট্রা ব্রডব্যান্ড ফোরাম (ইউবিবিএফ)। অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ ফোরামে বুদ্ধিমত্তার যুগে কানেক্টিভিটি খাত যেসব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে ‘ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটি, নিউ ভ্যালু টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে চলতি বছর ইউবিবিএফে বিস্তর আলোচনা করা হয়। খবর বিজনেস লাইভমি।

ইউবিবিএফে মূল বক্তব্য প্রদান করেন হুয়াওয়ের নির্বাহী পরিচালক এবং ইনভেস্টমেন্ট রিভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়্যাং। তিনি হুয়াওয়ের বাসা ও এন্টারপ্রাইজ ক্ষেত্রের জন্য অল-সিনারিও ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটি সমাধান উন্মোচন করেন। এ সমাধানের মাধ্যমে নতুন যুগে প্রবেশ করবে হোম ব্রডব্যান্ড এবং বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল রূপান্তর আরো ত্বরান্বিত হবে বলে দাবি করা হয়।

হুয়াওয়ের দাবি, অল-সিনারিও ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটি সলিউশন কানেক্টিভিটি খাতে পাঁচ পরিবর্তন আনবে। বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি, বাসা ও এন্টারপ্রাইজগুলোর আগের চেয়েও বেশি কানেক্টিভিটি প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ক্লাউড ও এআইয়ের মতো নতুন প্রযুক্তির কানেক্টিভিটির সঙ্গে সমন্বয় ঘটছে। ফলে কানেক্টিভিটি খাতে নিম্নোক্ত পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে।

প্রথমত, ইন্টেলিজেন্ট টুইনকে কানেক্ট করবে আইওটি ও ইন্টেলিজেন্ট আইওটি। অতীতে আমরা সবাইকে কানেক্ট করতে চেয়েছি। এটা ছিল ইন্টারনেট অব এভরিথিং। নির্বিঘ্ন এআই লাইফ উপভোগে এবং এন্টারপ্রাইজের ইন্টেলিজেন্ট আপগ্রেড করতে আমাদের আরো বেশি বিষয়কে ইন্টেলিজেন্সের সঙ্গে কানেক্ট করতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সংযোগ সংখ্যা এক ট্রিলিয়নে পৌঁছবে, যা সর্বত্রই কানেক্টিভিটি এবং ইন্টেলিজেন্সের ধারণাকে বাস্তবে পরিণত করবে।

দ্বিতীয়ত, কভিড-১৯ মানুষের হোম ব্রডব্যান্ডের প্রয়োজনীয়তার রূপান্তর ঘটিয়েছে। এন্টারপ্রাইজ ক্ষেত্রে কানেক্টিভিটি শুধু অফিসেই নয়, অফিস ও উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই সেবাদান করছে।

তৃতীয়ত, স্বতন্ত্র প্রচেষ্টা থেকে পৃথকীকৃত ডিটারমিনিস্টিক সেবা। সেবার ক্ষেত্র ও কানেক্টিভিটির প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী শিল্প খাত আলাদা হয়। পৃথকীকৃত সেবা যদি ডিফল্ট হয়, সেক্ষেত্রে ডিটারমিনিস্টিক অভিজ্ঞতা অবশ্যম্ভাবী। এজন্য শুধু পৃথকীকৃত ও ডিটারমিনিস্টিক সেবা প্রদানের মাধ্যমেই অপারেটররা সম্ভাব্য বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।

চতুর্থত, যেকোনো মাধ্যমে এমবিপিএস থেকে জিবিপিএস। অর্থাৎ সেলুলার, ওয়াই-ফাই এবং অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তির মতো মাল্টিপল অ্যাকসেস প্রযুক্তি রয়েছে এবং সেবার ক্ষেত্রের বৈচিত্র্য প্রমাণ করে যে মাল্টিপল অ্যাকসেস প্রযুক্তি ভবিষ্যতে এক সঙ্গে থাকবে। খাতজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ফোরজি, ফাইভজি, ওয়াই-ফাই এবং ফাইবার প্রযুক্তি এখন সর্বত্র বিদ্যমান গিগাবিট কানেক্টিভিটি সেবা দিতে পারে।

পঞ্চমত, ম্যানুয়াল ওঅ্যান্ডএম থেকে হাইপার-অটোমেশন। ফোরজির চেয়ে ফাইভজি নেটওয়ার্ক ওঅ্যান্ডএমকে জটিল করে তুলবে। ম্যানুয়াল ওঅ্যান্ডএম নতুন এ জটিল অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। কিন্তু বিগ ডাটা এবং এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে হাইপার অটোমেশন ওঅ্যান্ডএমকে সহজ করে তুলবে।

বিবৃতিতে হুয়াওয়ে জানায়, এআইয়ের মাধ্যমে ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে পাঁচটি পরিবর্তন নতুন প্রয়োজনীয়তার সৃষ্টি করবে। এ প্রয়োজন মেটাতে এবং উৎপাদনশীলতার নতুন সম্ভাবনা বাস্তবায়নে কানেক্টিভিটি পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম আবশ্যিক শর্ত হলো সব জায়গায় গিগাবিটের বিষয়টি নিশ্চিত করা। কেননা ব্যান্ডউইডথ কানেক্টিভিটির মূলভিত্তি। আল্ট্রা-এইচডি ভিডিও, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিআর/এআর অ্যাপ্লিকেশন, এআই ক্যামেরা এবং ড্রোনের ব্যবহারের জন্য সর্বত্র গিগাবিট কানেক্টিভিটির প্রয়োজন। দ্বিতীয় প্রয়োজনীয় শর্ত হলো ডিটারমিনিস্টিক এক্সপেরিয়েন্স, যা টেলিকমিউটিং ও অনলাইন লার্নিংয়ের মতো হোম সিনারিও এবং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উৎপাদনের মতো এন্টারপ্রাইজ সিনারিওর জন্য প্রয়োজনীয়। তৃতীয় আবশ্যিক শর্ত হলো হাইপার-অটোমেশন। কমপ্লেক্সিটি ও স্কেলের শর্তে নেটওয়ার্কের অগ্রগতি ঘটে। ফলে হাইপার অটোমেশন অর্জনে অবশ্যই বিগ ডাটা ও এআই ব্যবহার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ডেভিড ওয়াং বলেন, ফাইভজি, অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক, আইভি৬ এনহ্যান্সড উদ্ভাবনের প্রতিনিয়ত বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা আমাদের অল-সিনারিও ইন্টেলিজেন্ট কানেক্টিভিটি সমাধান চালু করেছি, যা আল্ট্রা ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ককে গ্রিনার ও দক্ষ করে তুলবে এবং ইন্টেলিজেন্ট বিশ্ব তৈরি করবে।

৩ পাবজি বন্ধুর বিরুদ্ধে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

অনলাইন গেম পাবজি খেলার সময় বন্ধুত্ব হয়েছিল। সেই ‘বন্ধু’দের হাতে ধর্ষণের শিকার ভারতের এক ১২ বছরের কিশোরী। সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার কথা জানিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, পাবজি খেলার মাধ্যমে নির্যাতিতার সঙ্গে আলাপ হয় তিন অভিযুক্তের। গত মাসে ওই কিশোরীকে রম্ভা নগর এলাকায় আসতে প্রলুব্ধ করে অভিযুক্তরা। সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়। সেই ঘটনার ছবি-ভিডিও অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীর উপর একাধিকবার নির্যাতন চালিয়েছে অভিযুক্তরা।

স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, মেয়েটির পরিবার ঘটনার কথা জানায় পুলিশকে। এরপরই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বয়স ১৮-১৯ বছর। তারা সকলেই রম্ভা নগরের বাসিন্দা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

স্যোশাল মিডিয়ায় ‘অপপ্রচার’ নিয়ে হুঁশিয়ারি

দেশ কিংবা বিদেশ থেকে স্যোশাল মিডিয়ায় সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ‘অপপ্রচার’ চালানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তা না হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  এসব  তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, জনপ্রতিনিধি, সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে অসত্য, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য অসত্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে দেশের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা, জনমনে উদ্বেগ, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘সরকার ধৈর্যের সঙ্গে এসব অপপ্রচারকারী ও তাদের সহযোগীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ও জনস্বার্থে এসব অপকর্ম সৃষ্টিকারী অপরাধীর বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।’

এমতাবস্থায়, সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশ ও বিদেশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সব ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।