আপনি কি জানেন-পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির পরিবর্তন হচ্ছে কেন

সেই অনুপাতে ১০০ বছরে দিনের দৈর্ঘ্য খুব সামান্য হারে বাড়ছে। ৬০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ২১ ঘণ্টা। অর্থাৎ তখন ২৪ ঘণ্টায় নয়, ২১ ঘণ্টায় ১ দিন ছিল। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে দিনের দৈর্ঘ্য ২৪ ঘণ্টা হয়েছে। এখন থেকে কোটিখানেক বছর পর আরও কয়েক ঘণ্টা হয়তো বাড়বে। এ পর্যন্ত সবাই এটাই জানতাম এবং এখনো সেটাই জানি। তবে ২০২০ সালে বিজ্ঞানীরা জানালেন, পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি সামান্য হারে বাড়ছে, কমছে না। কেন, সে বিষয়ে পরে আসছি।

ঘূর্ণন গতি কেন কমে

ঘূর্ণন গতি কমার প্রধান কারণ হলো চাঁদের আকর্ষণে জোয়ার-ভাটা। সেই সঙ্গে সূর্যের আকর্ষণ। পৃথিবীর চারদিকে চাঁদ ঘুরছে। আবার সূর্যের চারদিকে পৃথিবী ঘুরছে। আর সূর্য, পৃথিবী, চাঁদ—প্রত্যেকেই নিজ অক্ষরেখার চারপাশে নির্দিষ্ট গতিতে ঘুরছে। এর সমন্বিত প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব পড়ছে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির ওপর। তবে আরও কিছু উপাদান কাজ করছে এ ক্ষেত্রে। যেমন পৃথিবীর ভেতরের বিভিন্ন খনিজ পদার্থের অবস্থান। পৃথিবীর অভ্যন্তরে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়া। গ্লেসিয়ারের অবস্থান। জলবায়ু, মহাসাগর ও পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাব ইত্যাদি। এসব উপাদানের সামগ্রিক প্রভাবে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি সামন্য হারে কমছে।

হঠাৎ কেন বাড়ল

বিজ্ঞানীরা ২০২০ সালে হঠাৎ লক্ষ করলেন, ঘূর্ণন গতি সামান্য হারে বাড়ছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে কখনো ঘূর্ণন গতির বৃদ্ধি তাঁরা লক্ষ করেননি। কেন বাড়ছে, সে বিষয়ে গবেষণা চলছে। বিজ্ঞানীরা এখনো এর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে কোনো কোনো বিজ্ঞানী বলছেন, এর একটি কারণ হতে পারে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধি। বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা এখনো বাড়ছে। জলবায়ুবিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা না যায়, তাহলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিপর্যয় অপরিবর্তনীয় হয়ে উঠবে। অর্থাৎ বিপর্যয়ের ধারা রোধ করে অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা কঠিনতর হবে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়তে থাকবে। তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির এই হিসাব করা হয় শিল্পবিপ্লবের পূর্বের গড় তাপমাত্রার তুলনায়। কিন্তু এখনই গড় তাপমাত্রা এ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাই এখন আমাদের উষ্ণায়ন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার কমিয়ে আনতে হবে।

গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে বরফ গলে যাচ্ছে। ফলে বিশেষভাবে উত্তর মেরু অঞ্চলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের অনেকে মনে করেন, এসব কারণেই হয়তো সামান্য বেড়ে গেছে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি। তবে তাঁদের ধারণা, এটা সাময়িক। ভারসাম্য ফিরে আসার পর হয়তো পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি আবার আগের ধারায় কমতে থাকবে।

এ অবস্থায় কী সমস্যা হতে পারে

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আমাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি সামান্য কম বা বেশি হলে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। তবে জিপিএস, উপগ্রহের কার্যক্রমে সময় নির্ধারণ, স্মার্টফোন, ইন্টারনেট যোগাযোগ প্রভৃতি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে যেহেতু নিখুঁত সময় নিশ্চিত করতে হয়, তাই ওসব ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা হতে পারে। কিন্তু সেটাও সমাধানযোগ্য। কারণ, আমরা হিসাব করে বের করতে পারি, কত সময় পরপর কত মিলি সেকেন্ড যোগ বা বিয়োগ করতে হবে। তাই আমাদের তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

আব্দুল কাইয়ুম, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক
quayum.abdul@prothomalo.com

সূত্র : প্রথম আলো

ইউরোপার পৃষ্ঠের কাছাকাছি রয়েছে পানি

গবেষকেরা বলেন, ইউরোপায় বিশাল সমুদ্র রয়েছে। এ কারণে সেখানে কোনো ধরনের জীবনের রূপ খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে জীবনের জন্য মূল উপাদান পানির অস্তিত্বই একে জীবনধারণের উপযোগী করে তুলতে পারে। তবে এত দিন ধারণা করা হতো, এই চাঁদের পানির অস্তিত্ব রয়েছে ইউরোপের পৃষ্ঠের অনেক গভীরে। তা ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর হতে পারে। এই পানির ওপরে রয়েছে কঠিন বরফের স্তর। কিন্তু এখন গবেষকেরা বলছেন, ইউরোপায় পানির খোঁজ মিলতে পারে আরও কাছাকাছি।

গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তাতে গবেষকেরা বলেছেন, আকস্মিকভাবেই তাঁরা বিষয়টি ধরতে পারেন। গ্রিনল্যান্ডের বরফের স্তর নিয়ে গবেষণার সময় তাঁরা ইউরোপা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। তখন তাঁরা পরিচিত একটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করেন।

গবেষকেরা গ্রিনল্যান্ডের এম-আকৃতির বরফের চূড়াগুলোর সঙ্গে ইউরোপার মিল খুঁজে পান। ১৯৯০ সালে নাসার গ্যালিলিও মহাকাশযান ইউরোপার ছবি তুলেছিল। কিন্তু সেখানকার এসব শৈলশিলা কীভাবে গঠিত হয়েছিল, সে সম্পর্কে খুব কমই জানা ছিল।
বিজ্ঞানীরা বরফভেদকারী রাডার ব্যবহার করে দেখেন, গ্রিনল্যান্ডের শিলাগুলোর ৩০ মিটার নিচে পানি জমা হয় এবং তা ভেঙে যায়। এ থেকেই বরফের খাঁজ তৈরি হয়। একই বৈশিষ্ট্য ইউরোপাতেও থাকতে পারে।

নাসার পক্ষ থেকে ২০২৪ ও ২০৩০ সালে ইউরোপা ক্লিপার মিশন নামে দুটি মিশন পরিচালনা করা হবে, যাতে বিশেষ রাডারের সাহায্যে এই চাঁদের পানি ও সমুদ্রের অনুসন্ধান করা হবে।

সূত্র : প্রথম আলো

আপনি কি জানেন
করোনাকালে অনেক কিছু কেন হঠাৎ ভুলে যাই

কেন এ রকম হচ্ছে

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটা করোনা অতিমারির কারণে হয়ে থাকতে পারে। বলা যায় সাময়িক একটা ব্যাপার। স্থায়ী কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রের টিভি সিএনএনের বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদক ম্যাডেলিন হলকম্ব তাঁদের অনলাইনে গত ৩ ফেব্রুয়ারি লেখেন, এটা মনে রাখার চেষ্টার ব্যর্থতা নয় বা এমন নয় যে আগে যত চৌকস ছিলেন, এখন তেমন আর নেই। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টের কগনিটিভ সাইকোলজি অ্যান্ড কগনিটিভ নিউরোলজির জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আমির হোমান জাভেদি বলেন, দুই বছর ধরে বিশ্বব্যাপী অতিমারির কারণে মস্তিষ্কের পক্ষে স্মৃতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে।

করোনাকালে অনেক কিছু কেন হঠাৎ ভুলে যাই

ফাইল ছবি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে কারও কারও পক্ষে স্মৃতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠেছে। কগনিটিভ ড্যামেজ বা মনে রাখার ব্যাপারটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, দিনের পর দিন কোনো কাজ নেই, ঘটনা নেই, কোন কাজের পর কোন কাজটি করেছি, সেটা মনে রাখার মতো কোনো উল্লেখযোগ্য তৎপরতা নেই। কাজকর্মের মধ্যে থাকলে অনেক সময় বিশেষ ঘটনাগুলো মনে রাখা সহজ হয়। কিন্তু অতিমারির সময় অনেকের ক্ষেত্রে প্রায় নিশ্চল জীবন মস্তিষ্কের স্মৃতিবিভ্রম ঘটাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের রুডি তানজি মনে করেন, অতিমারির মনোদৈহিক ও সামাজিক বিভিন্ন উপাদান স্মৃতি ধারণের ব্যবস্থার ওপর চাপ ফেলতে পারে।

কী করতে হবে

প্রথমে মনে রাখতে হবে এটা সাময়িক। জোর করে মনে রাখার চেষ্টা বৃথা। এতে বরং হতাশা বাড়বে। কারণ, যেটা স্মৃতিতে সংরক্ষণ করা হয়নি, সেটা ফিরিয়ে আনা যাবে কীভাবে? দ্বিতীয়ত, একসঙ্গে একাধিক কাজে মনোনিবেশ না করাই ভালো। বরং একটা বই পড়ি। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলি। হাসিখুশি থাকি। স্মৃতিবিভ্রাট কোনো স্থায়ী ব্যাপার নয়। এ সময়ে হালকা ব্যায়াম খুব উপকারে আসে। একটু হাঁটি। শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করি। এতে মস্তিষ্কে রক্তসরবরাহ বাড়ে। তা ছাড়া মনোযোগ দিয়ে কোনো আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এর ফলে আলোচিত বিষয়গুলো সহজে মনে রাখা যাবে।

কারও কোভিডের সংক্রমণ তীব্রতর হয়ে থাকলে হয়তো মনে হতে পারে মস্তিষ্ক ধোঁয়াচ্ছন্ন (ব্রেইন ফগ) হয়ে পড়েছে। কিন্তু এটা সাধারণত সাময়িক সমস্যা। মস্তিষ্ক নিজেই এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। অবশ্য বেশি সমস্যা হলে চিকিৎসাসেবা নিতে হতে পারে।

আমাদের দেশে

এ ধরনের সমস্যা বাংলাদেশে খুব বেশি নেই। অন্তত তেমন আলোচিত ঘটনা নয়। এর কারণ একটা হতে পারে, অমিক্রন ধরনের পর থেকে করোনায় তীব্রতা কমে গেছে।এখন তো সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। ১ শতাংশেরও কম। বেশির ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। পরিস্থিতির আর অবনতি না ঘটলে তো চিন্তাই নেই।

আব্দুল কাইয়ুম, বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক ও প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক, quayum.abdul@prothomalo.com

প্রথম আলো

ছয় মাস পর পৃথিবীতে ফিরে এলেন তিন চীনা নভোচারী

ছয় মাস পর পৃথিবীতে নিরাপদে অবতরণ করেছেন তিন চীনা নভোচারী। কক্ষপথে চীনের মহাকাশ স্টেশন নির্মাণে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তারা ছয়মাস অবস্থান করার পর শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় পৃথিবীতে ফিরে আসেন। চীনের সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া এ খবর প্রকাশ করেছে।

মহাকাশযান শেনঝু-১৩ এ করে ফিরে আসা তিন চীনা নভোচারী হলেন ঝাই ঝিগ্যাং, ওয়াং ইয়াপিং ও ইয়ে গুয়াংপু। চীনের উত্তরাঞ্চলে তারা অবতরণ করেন। তারা সুস্থ আছেন বলে জানানো হয়েছে চীনের সংবাদমাধ্যমে।

গত অক্টোবরে চীনের গোবি মরুভূমি থেকে ওই তিন নভোচারী মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। চীন প্রথমবারের মতো স্থায়ী মহাকাশ স্টেশন নির্মাণ করছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে তিয়ানগং, বাংলায় যার অর্থ স্বর্গীয় প্রাসাদ। সেই স্টেশন নির্মাণ করতেই নভোচারী পাঠাচ্ছে চীন। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

 

বুধ গ্রহ সূর্যের বেশি কাছে, তবুও শুক্র গ্রহ কেন বেশি উজ্জ্বল?

প্রথমত, শুক্র গ্রহ বুধের চেয়ে অনেক বড়। বুধ গ্রহের ব্যাস তিন হাজার ১০০ মাইল, আর শুক্র গ্রহের সাত হাজার ৭০০ মাইল। দ্বিতীয়ত, বুধ গ্রহের কোনো আবহমণ্ডল নেই, কিন্তু শুক্র গ্রহের চারপাশে প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘন মেঘের আস্তরণ রয়েছে।

শুক্র গ্রহের আবহমণ্ডলে ঘন মেঘের আস্তরণ

শুক্র গ্রহের আবহমণ্ডলে ঘন মেঘের আস্তরণ

আবহমণ্ডল সূর্যের আলো বিচ্ছুরণে সাহায্য করে। এই মেঘের কারণে শুক্র গ্রহ আকাশে বেশি আলো ছড়ায়। তৃতীয়ত, সূর্যকে প্রদক্ষিণকালে যদিও বুধ ও শুক্র গ্রহ উভয়েই পর্যায়ক্রমে পৃথিবীর কাছাকাছি আসে, কিন্তু বুধ গ্রহের চেয়ে শুক্র গ্রহ পৃথিবীর বেশি কাছে আসে।

বস্তুত, চাঁদ ছাড়া একমাত্র শুক্র গ্রহই একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর পৃথিবীর সবচেয়ে কাছ দিয়ে ঘুরে যায়। এই দূরত্বও অবশ্য আমাদের সাধারণ হিসাবে কম নয়, প্রায় আড়াই কোটি মাইল।

বুধ গ্রহ সূর্যের বেশি কাছে, তবুও শুক্র গ্রহ কেন বেশি উজ্জ্বল?

জিআইএফ: সংগৃহীত

মহাজাগতিক হিসাবে এটা সামান্য দূরত্বই বটে। এসব কারণে শুক্র গ্রহ শুধু বুধ গ্রহ থেকে নয়, অন্য যেকোনো গ্রহের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে আকাশে জ্বলজ্বল করে।

সূত্র :প্রথম আলো

সিরিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে ইউএই

সিরিয়ার দামেস্ক শহরতলিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা করেছে সিরিয়ার সরকার। এ প্রকল্প প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সঙ্গে আরব বিশ্বের পুনরায় যুক্ত হওয়ার একটি ইঙ্গিত। খবর এপি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান দামেস্কে আসাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এক দশক আগে সিরিয়ায় সংঘাত শুরুর পর এটি প্রথম সাক্ষাৎ। বাশার আল আসাদের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির উপায় নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে।

সংঘাতপূর্ণ সিরিয়ার অধিকাংশ এলাকা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এর জন্য মিত্রদেশ রাশিয়া ও ইরান অনেকটাই সহযোগিতা করেছে। ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে সিরিয়ায় লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অর্ধেকের বেশি জনগণ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সিরিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল ধ্বংস হয়ে গেছে।

সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে আমিরাতের এ উদ্যোগ দামেস্ককে তেহরানের প্রভাব থেকে দূরে রাখার প্রয়াস বলেও জল্পনাকল্পনা চলছে। তবে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানায়, আমিরাতের প্রতিনিধির সঙ্গে ফোনালাপে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসাইন আমিরাবদুল্লাহিয়ান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপন দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

টেসলার ৫০০ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রি করলেন ইলোন মাস্ক

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার ৫০০ কোটি ডলার সমপরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেছেন কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ইলোন মাস্ক। এর আগে নিজের অংশে থাকা টেসলার ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এ ধনকুবের। এর পরই শেয়ারের মূল্য ১২ শতাংশ কমে যায়। এ পরিস্থিতি কোম্পানিটিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে থাকা অনিশ্চয়তায় ফেলে দেয়। যদিও বুধবার সংস্থাটির শেয়ারদর ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পুনরুদ্ধার হয়। রয়টার্স

থার্ড পার্টি পেমেন্টের অনুমোদন দেবে গুগল

দক্ষিণ কোরিয়ায় থার্ড পার্টি পেমেন্ট সিস্টেম অনুমোদনের পরিকল্পনা করছে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল। নতুন এক আইন প্রয়োগের ফলে এ অনুমোদন দেয়া হবে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য নিজেদের পেমেন্ট নীতিমালা সংশোধন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্টটি। খবর রয়টার্স।

কোরিয়া কমিউনিকেশনস কমিশনের (কেসিসি) এক আবেদনের পর এ ঘোষণা দেয় গুগল। এর আগে গুগল ও অ্যাপলের কাছে দেশটিতে পাসকৃত নতুন আইন অনুযায়ী নিজেদের নীতিমালা সংশোধনের অনুরোধ করে কেসিসি। নতুন পাসকৃত আইন অনুসারে সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য জোরপূর্বক গুগল ও অ্যাপলের নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা নিষিদ্ধ করে দক্ষিণ কোরিয়া। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এ আইন কার্যকর করা হয়।

বিশ্বের বৃহত্তম কোনো অর্থনীতি দ্বারা কার্যকর করা গুগল ও অ্যাপলের ওপর এটিই প্রথম এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ। এর আগে নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতাসহ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন কেটে নেয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী সমালোচনার শিকার হয়েছে গুগল ও অ্যাপল।

আগস্টের শেষ দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদে সাউথ কোরিয়া’স টেলিকমিউনিকেশনস বিজনেস অ্যাক্ট পাস করা হয়। এটিকে অনেকে ‘অ্যান্টি-গুগল ল’ নামেও আখ্যায়িত করে থাকে। ফলে অ্যাপল ও গুগলের মতো উল্লেখযোগ্য অ্যাপ স্টোরগুলোকে ব্যবহারকারীদের প্রতি নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসার নির্দেশ দেয়া হয়। বিশেষ করে ইন-অ্যাপ পারচেজের ক্ষেত্রে কমিশন কেটে রাখা ঠেকাতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। এক বিবৃতিতে গুগল জানায়, আমরা জাতীয় সংসদের এ সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

যে কারণে আট দিন বিঘ্ন ঘটতে পারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সম্প্রচারে

চলতি মাসের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত- এই আট দিন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সম্প্রচার কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

সৌর ব্যতিচার বা সান আউটেজের কারণে এই গোলযোগ হতে পারে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএসসিএল।

এতে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সৌর ব্যতিচারের (এমন অবস্থায় সম্প্রচারে গোলযোগ ঘটে) কারণে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন সকালে (সকাল ৯টা ২৮ মিনিট থেকে ৯টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে) এ ঘটনা ঘটতে পারে।

২৯ সেপ্টেম্বর ৫ মিনিট, ৩০ সেপ্টেম্বর ১০ মিনিট, ১ অক্টোবর ১৪ মিনিট, ২ অক্টোবর ১৫ মিনিট, ৩ অক্টোবর ১৫ মিনিট, ৪ অক্টোবর ১৪ মিনিট, ৫ অক্টোবর ১২ মিনিট ও ৬ অক্টোবর ১০ মিনিটের জন্য এই সমস্যা হতে পারে।

প্রাকৃতিক এ ঘটনার জন্য বিএসসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শফিকুল ইসলাম আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বিডি প্রতিদিন

চাঁদে পা রাখতে চলেছেন প্রথম মুসলিম নারী মহাকাশচারী

চাঁদের বুকে পা রাখতে চলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। আমিরাতের দুই মহাকাশচারী এবার চাঁদের পিঠে হাঁটবেন।তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন— ২৮ বছরের তরুণী মেকানিক্যাল ইঞ্জি. নুরে আল মাত্রুশি। অন্যজন ৩২ বছর বয়সি মোহাম্মদ আলমুল্লাহ।চাঁদে অবতরণের পর পরই অনন্য এক রেকর্ডে নাম লেখাবেন নুরে আল মাত্রুশি। আরব বিশ্বের কোনো দেশের প্রথম নারী হিসেবে চাঁদের বুকে হাঁটবেন তিনি। অবশ্য চাঁদের উদ্দেশ্যে মহাকাশযানে উঠলেই ইতিহাস লিখবেন নোরা। কারণ এটি হবে কোনো আরব মুসলিম নারীর প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ। আরব আমিরাতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় সবরকম প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দুই মহাকাশচারী নোরা ও আলমুল্লাহকে দুই বছরের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে পাঠানো হবে শিগগিরই।

নিজের মহাকাশ যাত্রার বিষয়টি নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত নুরে আল মাত্রুশি। তিনি বলেন, ছোটবেলা কাগজ আর কার্ডবোর্ডের বাক্স দিয়ে মহাকাশযান বানাতাম। আর স্বপ্ন দেখতাম সেই মহাকাশযানে চেপে মহাকাশে যাওয়ার। চাঁদে যাচ্ছি-এমন অনেক খেলা খেলতাম। মাকেও বলতাম। এখন সত্যি সত্যি যাচ্ছি। সেপ্টেম্বরে যাব নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে। সেখানেই শুরু হবে টানা দুবছরের প্রশিক্ষণ। চাঁদ অথবা আন্তর্জাতিক মহাকাশে স্টেশনে শেষ পর্যন্ত যেতে পারলে আমার অন্তরে লুকিয়ে থাকা শিশুটিই বোধহয় সবচেয়ে বেশি খুশি হবে।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ফিল্ম দেখার পরেই ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন নুরে আল মাত্রুশি। পাশ করেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। তার পর চাকরি করেছেন একটি পেট্রোলিয়াম শিল্প সংস্থায়। আমিরাতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা মহাকাশচারী খুঁজছে জানতে পেরে আবেদন করেন নুরে। পরীক্ষার ভিত্তিতে তাকে বেছে নেওয়া হয়।