বাংলাদেশি ৩৮ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্যফাঁস

বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্বেই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। কিন্তু মাঝে মাঝেই এটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসসহ নানা কারণে সমালোচনায় জড়িয়ে পড়ে ফেসবুক। আবারও তেমনই এক কেলেঙ্কারির মুখে পড়েছে এই স্যোসাল মিডিয়া জায়ান্ট। সম্প্রতি ফেসবুক ব্যবহারকারী ১০৬ দেশের অন্তত ৫৩ কোটি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ও ফোন নম্বর অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে। যার মধ্যে অন্তত ৩৮ লাখ বাংলাদেশিও আছেন। মারাত্মক এই কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশ করে বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছে একটি লো-লেভেল হ্যাকিং প্ল্যাটফরম।

গত শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, যেসব দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বেশি তথ্য ফাঁস হয়েছে তার মধ্যে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ফাঁস হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ এবং ভারতের ৬০ লাখ ব্যবহারকারীর গোপনীয় তথ্য। একই সঙ্গে ৩৮ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৯ জন বাংলাদেশির তথ্যও ফাঁস হয়ে গিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেকটা বিনামূল্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের এসব তথ্য অনলাইনে একজন বিক্রি করছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে- ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, আইডি, পুরো নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, প্রোফাইল এবং কিছু ক্ষেত্রে ই-মেইল ঠিকানা। ইসরাইলের সাইবার অপরাধ বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান হাডসন রকের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালন গল সবার আগে এসব তথ্য ফাঁস হওয়ার কথা জানান। এক টুইটে তিনি লেখেন, সাইবার অপরাধীদের কাছে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

 

এর আগেও বেশ কয়েকবার ফেসবুকের ব্যাপারে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারের কৌশল হিসেবে পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহার করেছিল ফেসবুক। বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। এ বিষয়ে ২০১৮ সালে নিজেদের ভুল স্বীকারও করে নেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জাকারবার্গ।

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ২ শতাধিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা

বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের দুইশতাধিক প্রতিষ্ঠান সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এরমধ্যে সরকারি, বেসরকারি আর্থিক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাইবার হামলা তদন্তে গঠিত সরকারি সংস্থা বিডি সার্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘হাফনাম’ নামের আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ মাইক্রোসফট সার্ভারের মাধ্যমে এ হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ হামলার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। এ হামলায় অনেক প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। হামলার বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দপ্তরগুলোকে চিঠি দিয়েছে কম্পিউটার কেন্দ্রিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা বিডি সার্ট।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) পরিচালক (সিএ অপারেশন ও নিরাপত্তা) ও (ডাটা সেন্টার) তারেক এম বরকতউল্লাহ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাইবার হামলায় হ্যকাররা প্রতিষ্ঠানগুলির কি পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে তা অনুসন্ধান চলছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশকিছু দেশ এদের আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী হাজারো প্রতিষ্ঠান হাফনামের হামলার শিকার হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন

আবারও বিধ্বস্ত হলো ইলোন মাস্কের রকেট

আবারও ব্যর্থতার মুখে পড়ল ইলোন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্স। এই মাসের গোড়ায় মাস্ক বলেছিলেন, ২০৩০ সালের অনেক আগেই তার স্টারশিপ মঙ্গলে পৌঁছে যাবে। কিন্তু তার সেই এস১১ প্রটোটাইপ পরীক্ষামূলক ওড়ানের সময় এই নিয়ে চারবার ভেঙে পড়ল।

প্রথমে ঠিক ছিল, পরীক্ষামূলক ওড়ানো হবে গত শুক্রবার। কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্য তা হয়নি। পরে ঠিক হয়, তা সোমবার হবে। কিন্তু ফেডারেল এভিয়েশন ইন্সপেক্টর না থাকায় সে দিনও পরীক্ষামূলক উড়ান সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণ টেক্সাস থেকে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সকালে এস১১ প্রটোটাইপের পরীক্ষামূলক উড়ান শুরু হয়। মিনিট কয়েক পরে রকেটের ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর ভিডিওতে দেখা যায় স্পেসশিপের অংশ মাটিতে পড়ছে। বিস্ফোরণের শব্দও শুনতে পাওয়া যায়।

ইলোন মাস্ক বলেছেন, ‘রকেটটি ওঠার সময় দুই নম্বর ইঞ্জিনে গণ্ডগোল দেখা দেয়। নামার সময় অপারেটিং চেম্বারের প্রেসার যতটা থাকার কথা তা ছিল না। তত্ত্বগতভাবে এটা হওয়া উচিত ছিল না। ভেঙে পড়া টুকরোগুলো পরীক্ষা করে কারণ বোঝা যাবে’।

মাস্ক আগে জানিয়েছিলেন, ২০৩০ সালের অনেক আগেই তার স্টারশিপ মঙ্গলে পৌঁছাবে। তার পরিকল্পনা হলো, স্টারশিপককে সুপার হেভি রকেটে করে পাঠানো। সেই রকেট পুনর্ব্যবহারযোগ্য হবে। তা হবে ৩৯৪ ফিট লম্বা।
সূত্র : ডয়েচেভেলে

করোনার টিকা রপ্তানি সাময়িক বন্ধ করল ভারত

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা রপ্তানি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করেছে ভারত। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

বিবিসি জানায়, নিজেদের চাহিদার যোগান দিতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্য দিয়ে কোভ্যাক্সের ১৯০টি দেশের ওপর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক, সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এসআইআই) সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের চালান পাঠাতে বিলম্ব করেছে। ভারত এখন পর্যন্ত ৭৬টি দেশে ছয় কোটি ডোজেরও বেশি ভ্যাকসিন রপ্তানি করেছে যা বেশিরভাগই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার।

২০২০ সালে সর্বোচ্চ ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকার ভারত

গত বছরে সর্বোচ্চ ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে ভারতের সাইবার জগৎ। সম্প্রতি সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক কোম্পানি সনিকওয়ালের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয় সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরে দেশটির ডাটা ভলিউম ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছিল পায় তিন গুণ। খবর ইটি টেলিকম।

‘সনিকওয়াল সাইবার থ্রেট রিপোর্ট ২০২১’-এ উল্লেখ করা হয় যে ২০২০-এর ডিসেম্বরে ভারতের সাইবার খাত ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি ম্যালওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়।

এক বিবৃতিতে সনিকওয়ালের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বিল কনার বলেন, ২০২০ সাল সাইবার অপরাধীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি সাইবার আর্মস প্রতিযোগিতার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল।

বিল কনার আরো বলেন, কভিড-১৯ মহামারী রিমোট ওয়ার্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তন, ক্রিপ্টোকারেন্সির উত্থান এবং ক্লাউড স্টোরেজ ও টুলের প্রতিও নানা হুমকি নিয়ে এসেছে। এসব কিছু সাইবার আক্রমণের পরিমাণ ও তাত্পর্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

কনার বলেন, যখন সাইবার অপরাধীদের কাছ থেকে কোনো কিছু আসবে, সেখানে নির্দিষ্ট কোনো আচরণবিধি থাকবে না। তারা তাদের টার্গেটের জন্য উপযুক্ত অস্ত্র নিয়েই আক্রমণ করতে আসবে।

প্রতিবেদনে দেখানো হয় যে বিশ্বব্যাপী র্যানসমওয়্যারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে অন্তত ৬২ শতাংশ। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকায় এর পরিমাণ বেড়েছে ১৫৮ শতাংশ।

সনিক ওয়ালের প্রতিবেদন মতে, গত বছর মোট ৮ কোটি ১৯ লাখের মতো ক্রিপ্টোজ্যাকিং হিট হয়েছে, যা এর আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে মোট ক্রিপ্টোজ্যাকিং হিটের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৪১ লাখ।

চীনে টেক জায়ান্টদের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ
নতুন সম্ভাবনা দেখছে ক্ষুদ্র কোম্পনিগুলো

চীনের প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের চলমান একচেটিয়া ব্যবসাবিরোধী অভিযানে নতুন সুযোগ দেখছেন দেশটির ছোট কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা। সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে এমনটা জানায় রয়টার্স।

সরকারের এমন নীতির আলোকে ফিনটেক জায়ান্ট অ্যান্ট গ্রুপের উত্থান ঠেকাতে করা নতুন নিয়মের পর মার্কিন পুঁজিবাজার নাসডাকের তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র কোম্পানি ‘মাইক্রোলেন্ডার ৩৬০ ডিজিটেক’ তাদের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি ডিজিটেক তাদের নতুন নতুন ব্যবসার দিকেও নজর দিচ্ছে বলে জানা যায়।

ডিজিটেকের মুখ্য অর্থনৈতিক কর্মকর্তা অ্যালেক্স জু বলেন, ডিসেম্বর থেকে দেখা যাচ্ছে প্রভাবশালী জায়ান্টগুলো যেসব গ্রাহকের ক্রেডিট লাইন কমিয়ে বা সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে, তারা আমাদের সার্ভিস গ্রহণে আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর ফেলে যাওয়া বাজার অধিগ্রহণ করার চমত্কার সুযোগ রয়েছে।

গত নভেম্বরে টেক জায়ান্ট আলিবাবার সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপের ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের আইপিও জব্দ করে চীনা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর ফলে চীনে একচেটিয়া বাজার ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে চেয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে চীনা ভোক্তাদের জীবনে আলিবাবা, অ্যান্ট গ্রুপ, টেনসেন্ট হোল্ডিংসের মতো কোম্পানিগুলোর প্রভাব কমিয়ে আনতে চেষ্টাও করছে প্রশাসন।

নভেম্বরে প্রকাশিত এক খসড়ায় অনলাইন প্লাটফর্মগুলোর নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যৌথ বিনিয়োগের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন রাখার নিয়ম বাধ্যতামূলক করে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। গত মাসে নতুন করে সাজানো নিয়মে অনলাইন বিনিয়োগকারীরা কেবল একটি ব্যাংকের সঙ্গেই চুক্তি করতে পারবে বলে জানানো হয়।

সরকারের এমন নীতির কারণে এরই মধ্যে ছোট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিজিটেকের শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় তিন গুণ। বর্তমানে ডিজিটেকের বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারে। অন্যদিকে লেক্সিন ফিনটেক হোল্ডিংসের দাম দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি ডলারের মতো।

চলমান অভিযানের আওতায় গত সপ্তাহে বাইদু, টেনসেন্ট, ডিডি চুজিংয়ের মতো ১২টি কোম্পানিকে একচেটিয়া বিরোধী নীতিমালা ভঙ্গ করে ১০টির মতো চুক্তি করার জন্য জরিমানা করা হয়েছে। একই সময় লাইভ স্ট্রিমিং ই-কমার্স ও ডিপফেক টেকনোলজিকে তদন্তের আওতায় নিয়ে আসছে চীন সরকার।

সরকারের এ কঠোর অবস্থানের ফলে আলিবাবাতে তহবিল কমিয়ে ৩.৩ শতাংশ করেছেন বলে জানান নিউ ইয়র্কভিত্তিক বিনিয়োগকারী টম মাসি। এর আগে কোম্পানিটিতে তার তহবিল ছিল ৯.৯ শতাংশ।

এর ফলে তিনি ইয়েকা লিমিটেড ও অনলাইন স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান মেনিয়ান ওয়ানহেলথ হেলথকেয়ার হোল্ডিংসের মতো ছোট কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করার সুযোগ পেয়েছেন।

টম মাসি বলেন, সরকারের এক কঠোর অবস্থান অন্য কোম্পানিগুলোর উন্নতির পথে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। তিনি জানান, ইয়েকার শেয়ার মূল্য অন্তত দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে মেনিয়ান ওয়ানহেলথের শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে অন্তত ৩০ শতাংশ।

মঙ্গলগ্রহের পানি কোথায় গেল!

কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলগ্রহে যে হ্রদ ও সমুদ্র ছিল, সেই পানি এখন আর নেই। বরং মঙ্গলগ্রহ এখন শুষ্ক আর পাথুরে বলে জানা গেছে। তবে পানির বিষয়টি এখনও রহস্যই থেকে গেছে।

অনেকেই মনে করেন, মঙ্গলগ্রহের পানি মহাশূন্যে হারিয়ে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার অর্থায়নে করা এক গবেষণা অনুযায়ী, মঙ্গলগ্রহের পানি কোথাও হারিয়ে যায়নি; বরং তা এর ভূপৃষ্ঠের গভীরে খনিজের মধ্যে আটকে রয়েছে।

সায়েন্স সাময়িকীতে এ গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা প্রবন্ধের প্রধান লেখক ইভা স্কেলার বলেছেন, ‘আমরা বলছি যে, মঙ্গলগ্রহের ভূপৃষ্ঠ পানিযুক্ত খনিজ দিয়ে গঠিত। যেসব খনিজ সেখানে আছে, তার ক্রিস্টাল গঠনে পানি রয়েছে।’

স্কেলারের মডেল অনুযায়ী, মঙ্গলগ্রহে ৩০ থেকে ৯৯ শতাংশ পানি এসব খনিজের মধ্যে আটকে রয়েছে।

আদিম মঙ্গলগ্রহের পুরোটাই পানিতে ডুবে ছিল বলে ধারণা করা হয়। সেখানে ১০০ থেকে ১৫০০ মিটার গভীরতার সমুদ্র ছিল। গ্রহটি তার বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র হারিয়ে ফেলে। ফলে এর পরিবেশ ক্রমেই দূরে সরে যায় এবং ক্রমে মঙ্গলগ্রহ থেকে পানি হারিয়ে যায়।

তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, চৌম্বকক্ষেত্র হারালেও তাতে পানি হারিয়েছে কম। অধিকাংশ পানি ভূত্বকেই রয়ে গেছে।

মঙ্গলগ্রহে পাঠানো নাসার রোভার ও গ্রহটিতে পড়া নানা উল্কা পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা পানির উপাদান হাইড্রোজেনের খোঁজ করেন।

গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলগ্রহ ৩৭০ কোটি থেকে ৪০০ কোটি বছর আগে পানিশূন্য হয়েছিল। অর্থাৎ স্কেলারের মতে, ৩০০ কোটি বছর ধরে মঙ্গলগ্রহে এ রকম অবস্থায় রয়েছে।

স্কেলার আশা করছেন, সম্প্রতি মঙ্গলগ্রহ অভিযানে থাকা পারসেভারেন্স রোভারটি এ গবেষণার ক্ষেত্রে আরও অবদান রাখতে পারবে। রোবটটি মূলত এ ধরনের প্রক্রিয়া, সেখানে ঘটেছে কিনা তা তদন্ত করতেই গেছে।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফি

জঙ্গলমহলের দখল নিতে মরিয়া মমতা-অমিত, চার সমাবেশ আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে জঙ্গলমহলকে ঘিরে প্রচারের ঘনঘটা। আজ সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দ্বৈরথের সাক্ষী হতে চলেছে জঙ্গলমহল। তাদের দু’জনের চার জায়গায় জনসভা আছে আজ।

ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার রানিবাঁধে জনসভা করবেন অমিত শাহ। গতকাল রবিবারই তিনি পশ্চিমবঙ্গে গেছেন। খড়্গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী হিরণ চ্যাটার্জির সমর্থনে সন্ধ্যায় সেখানে একটি রোড শো করেছেন তিনি।

এরপর দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। বিজেপি সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ১১টায় ঝাড়গ্রামে প্রথম সভা করবেন অমিত শাহ। তার পর সেখান থেকে সোজা চলে যাবেন বাঁকুড়ায়।

এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া কেন্দ্রে জিতেছে বিজেপি। সেই ফল আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাড়তি অক্সিজেনের কাজ করবে বলে মনে করছে বিজেপি। সে কারণে বিজেপি’র নির্বাচনী প্রচারের সূচনা হচ্ছে জঙ্গলমহল থেকে।

পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম পুনর্দখলে জঙ্গলমহলে নিজেদের সর্বশক্তি উজাড় করে দিতে মরিয়া মমতা ব্যানার্জির দল। তৃণমূলনেত্রী মমতা যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারে।

পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডি বিধানসভার ঝালদার হাটতলায় একটি সভা রয়েছে তার। সেখানে আজ দুপুর দেড়টা নাগাদ সভা হওয়ার কথা মমতা ব্যানার্জির। এরপর তিনি যাবেন বলরামপুরে।

সেখানে বিকেল ৩ টায় সভা করবেন তিনি। এখনো পায়ের চোট সারেনি তার। চোট পাওয়ার পর মমতা জানিয়েছিলেন, কোনো কর্মসূচি বাতিল করতে চান না। প্রয়োজনে হুইল চেয়ারে বসেই জনসভায় যাবেন। গতকাল রবিবার তার শুরুটা করেছেন নন্দীগ্রাম দিবস উপলক্ষে মেয়ো রোড থেকে হাজরা পর্যন্ত রোড শো-এ। হুইল চেয়ারে বসেই তিনি রোড শোতে হাজির হয়েছিলেন।

রোড শো শেষে কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, আমার ওপর ভরসা রাখুন। হুইল চেয়ারে বসেই ভাঙা পায়ে ঘুরব।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ব্র্যার্ন্ড এবং ক্লোন লিফট এর অর্থ কি?

আমরা যারা লিফট মার্কেটিং এর সাথে জড়িত তারা ব্র্যান্ড ও ক্লোন শব্ধটির সাথে ব্যাপকভাবে পরিচিত । সাধারনত প্রায় সবাই ব্র্যান্ড লিফট মানেই ভাল মানের লিফট হিসাবে মনে করে এবং ক্লোন লিফটকে খারাপ মানের মনে করে । এবার আমরা জানার চেষ্টা করব শব্দ দুটির প্রকৃত অর্থই বা কি এবং আদতে আমরা কি বুঝি?

ইংরেজি শব্দ Brand যার বাংলা অর্থ হচ্ছে যথাক্রমে দাগ, চিহ্ন, নিশানা, ছেকাদেওয়া দাগ, নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ছাপ, মার্কা দেত্তয়া ইত্যাদি ইত্যাদি…. সহজ ভাষায় Brand হচ্ছে একটা কোম্পানীর নাম বা লোগো সেটা ভাল বা খারাপ উভয় পন্যর জন্য প্রযোজ্য সুতারাং একটি কোম্পানী যদি তার প্রডাক্ট ও সার্ভিস দিয়ে সুনাম অর্জন করতে পারে তবে অামরা তাকে ভাল ব্র্যান্ড কোম্পানী হিসাবে বলতে পারি এবং যদি কোন কোম্পানী খারাপ পন্য ও বাজে সার্ভিস প্রদান করে তবে আমরা তাকে খারাপ ব্র্যান্ড কোম্পানি বলতে পারি।

ইংরেজি শব্দ Clone ক্লোন হল কোন জীব বা কোষ বা বৃহৎ জৈব অণুর হুবুহু নকল। কোন জীবের একটি দেহকোষ হতে হুবুহু ঔ জীবটিকে পুনরায় তৈরি করার পদ্ধতি ক্লোনিং নামে বিখ্যাত। সহজ ভাষায় বললে ক্লোনিং হলো অতি অত্যাধুনিক একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে একটা প্রাণীর ক্রোমোজোম বা ডিএনএ (কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত এক বিশেষ ধরনের জৈব অ্যাসিড যা একটি জীবের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে –জন্ম, মৃত্যু, চেহারা, আকার-আকৃতি, আচার ব্যবহার, বেড়ে উঠা ইত্যাদি) ব্যবহার করে হুবহু সেই প্রাণীর অনুরূপ আরেকটি প্রাণী করা হয় – যা জেনেটিক এবং ফিনোটাইপিক উভয় দিক থেকেই অনুরূপ হবে। সোজা কথায় ক্লোনিং হল কোন জিনগত ভাবে কোন কিছুর হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করা। প্রডাক্টের ক্ষেত্রে কোন একটা ভালমানের পন্যকে অনুকরন করে হুবুহু পন্য তৈরী করলে সেটাকে ক্লোন পন্য বলে।

একটা ভাল মানের কোম্পানী তাদের পন্য বিভিন্ন কারখানাতে তৈরী করলেও তারা সবসময় তাদের লোগো বা নাম ব্যবহার করে থাকে যারফলে সাধারন ক্রেতা মনেপ্রানে বিশ্বাস করে যে, সবকিছু সেই কোম্পানীই তৈরী করেছে। অনেকেই লিফটের ভিতরে মিৎসুবিসি, সিন্ডলার, টোসিবা, হিটাসি, ওটিস, হুন্দাই সহ নানান বিক্ষাত ব্র্যার্ন্ডের লোগে দেখে ভাবে যে তারা সকল পন্যই নিজেরা তৈরি করে থাকে। কিন্তু প্রকৃত সত্য ভিন্ন!

সম্প্রতি চায়না, গ্রীস, ইতালি ও তার্কিতে অবস্থিত বেশ কিছু নামি দামি এলিভেটর ফ্যাক্টরী সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখতে পেলাম যে কোন কোম্পানীই 2০% থেকে 3০% যন্ত্রাংশ তৈরী করে না, তারা সবাই তাদের ডিজাইন অনুযায়ী এবং আন্তর্জাতিক মানদন্ড ঠিক রেখে বিভিন্ন কারখানার মাধ্যমে তাদের পন্য তৈরী করে থাকে তবে কোয়ালিটি কন্টোলের বিষয়ে তারা সবাই খুবই সচেতন থাকে। পৃথিবীর অনেক নামী দামি এলিভেটর কোম্পানীগুলো তাদের মার্কেট ধরে রাখার জন্য এবং পন্যর দাম সহনীয় মাত্রায় রাখার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে অবস্থিত বিভিন্ন কারখানার সাথে ১০ বৎসর বা তার অধিক সময়ের জন্য চুক্তি করে তাদের পন্য উৎপাদন করে থাকে। সব জায়গায় তারা নিজেরাই ফ্যক্টরী করে না তারা ওইএম ফ্যক্টরীর মাধ্যমে তাদের কোয়ালিটি অনুযায়ী প্রডাক্ট তৈরী করে। আমাদের দেশে পোশাক প্রস্তুতকারক শত শত ফ্যাক্টরী আছে যারা বিভিন্ন ক্রেতার অর্ডার অনুযায়ী পোশাক তৈরী করে রপ্তানী করে। দুই একজন বাদে কেউই নিজের ব্র্যার্ন্ডের নামে পোশাক বিক্রয় করেনা । ওয়ালমার্ট বিশ্ববিখ্যাৎ ক্লথ ব্র্যার্ন্ড যাদের কোন ফ্যক্টরী নাই তারা শুধু তাদের ডিজাইন অনুযায়ী ওইএম ফ্যক্টরী থেকে তৈরী করে।

যদি কোন কোম্পানী একই ফ্যাক্টরী থেকে আন্তর্জাতিক মানদন্ড ঠিক রেখে পন্য নিয়ে আসে তবে তা গুনগত মানের দিক থেকে অন্য ব্র্যার্ন্ডের থেকে খুব বেশি খারাপ হওয়ার সুযোগ নাই কারন ওইএম ফ্যাক্টরীগুলো কোয়ালিটির বিষয়ে খুবই সচেতন। পরিশেষে আমি সবসময়ের মত আবারো বলব যে লিফট এর পুরো কোয়ালিটি নির্ভর করে পন্যর মান, প্রপার ইন্সটলেশন এবং প্রপার মেইনটেইনেন্স এর উপর- ধন্যবাদ
#লিফট #এলিভেটর #lift #Elevator

মঙ্গল অভিযানের অন্যতম ‘কারিগর’ ভারতীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন বিজ্ঞানী!

প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজতে লালগ্রহ মঙ্গলে পা রেখেছে নাসার পার্সিভিয়ারেন্স রোভার। আর এই ‘মিশন মঙ্গল’র অন্যতম পুরোধা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী স্বাতী মোহন। নাসার রোভার যে সফলভাবে মঙ্গলের মাটি ছুঁয়েছে এ খবর প্রথম ঘোষণা করেছিলেন স্বাতীই।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, নাসার এই স্বপ্নের মিশনের দায়িত্ব থাকা স্বাতীর জন্ম বেঙ্গালুরুতে। তাঁর ১ বছর বয়সে পরিবার চলে যায় যুক্তরাষ্ট্রে। এই ভারতীয় কন্যা জানিয়েছেন, ৯ বছর বয়সে ‘স্টার ট্রেক’ শো দেখা পর থেকেই মহাকাশ সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ জন্মায়। কিন্তু এরপরেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন চোখে নিয়েই তাঁর বড় হওয়া। পরে অবশ্য স্বপ্নের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করে দিয়েছিল পদার্থবিদ্যার একটি ক্লাস। ১৬ বছর বয়সে স্বাতী সিদ্ধান্ত নেন ডাক্তার নয়, ইঞ্জিনিয়র হতে চান তিনি। এরপরেই কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়রিং-এ স্নাতক হন তিনি। পরে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেড ডিগ্রি লাভ করেন।

পার্সিভিয়ারেন্সের আগে ‘ক্যাসিনি’, ‘গ্রেল’ – এ দুটি মিশনে কাজ করেছেন স্বাতী। ২০১৩ সাল থেকে এই মঙ্গল অভিযানের অংশ হন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী। পার্সিভিয়ারেন্স-এর ফ্লাইট কন্ট্রোলের দায়িত্বের পুরোভাগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পাসাডেনার জেট প্রপালসন ল্যাবরেটরিতে মিশন অপারেশনস সেন্টারে টানা তিরিশ ঘণ্টা নিজের সিটে বসেছিলেন স্বাতী।

লাল গ্রহের রুক্ষ মাটিতে পারসিভিয়ারেন্স রোভার নামার পর নিজের উচ্ছ্বাস চেপে রাখেননি স্বাতী। তাৎক্ষণিক এক টুইটবার্তায় তিনি জানান, পারসিভিয়ারেন্স সফলভাবে মঙ্গলের মাটিতে নেমেছে। এখন এটি প্রাণের সন্ধান করতে প্রস্তুত। স্বাতী বলেন,‘স্কুলের থেকে বেশি সময় আমি পার্সিভিয়ারেন্সে কাটিয়েছি। আমার ছোট মেয়ের বয়সের থেকেও বেশি সময় এই মিশনকে আমি দিয়েছি। জীবনের একটা বড় অধ্যায়জুড়ে রয়েছে এই মিশন।’

২০৩ দিন আগে ৪৭ কোটি কিলোমিটারের দূরে লাল গ্রহের পথে রওনা দিয়েছিল নাসার পার্সিভিয়ারেন্স রোভার। এ যাবৎ তাদের তৈরি সর্বাধুনিক রোভার বলে যাকে দাবি করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। ১৮,০০০ কিলোমিটার/ঘণ্টা বেগে ছুটছিল পার্সিভিয়ারেন্স, যে গতি ক্যালিবার ৫.৫৬ অ্যাসল্ট রাইফেল থেকে ছোড়া বুলেটের গতির ছ’গুণের সমান। মঙ্গলের মাটিতে কন্ট্রোলড কলিশনের আগে সেই গতিকে সাত মিনিটে প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা (পরিভাষায় ‘সেভেন মিনিটস অব টেরর’ বা আতঙ্কের ৭ মিনিট) ছিল প্রথম চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: গল্ফ টুডে, এই সময়।