শ্রীলংকা
রাজাপাকসে ভাইদের আনুকূল্যে চীনের আধিপত্য বেড়েই চলেছে

চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেংহি গত এপ্রিলের শেষ নাগাদ শ্রীলংকা সফরে যান। সে সময় শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও তার ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বলেছিলেন, নিজ স্বার্থের সুরক্ষা দিতে গিয়ে বরাবরই শ্রীলংকাকে পাশে পাবে চীন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে (ইউএনএইচআরসি) শ্রীলংকার পাশে দাঁড়ানোর জন্য চীনকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

ইউএনএইচআরসির আলোচ্য বিষয় ছিল রাজাপাকসে ভাইদের অধীনে শ্রীলংকার মানবাধিকার পরিস্থিতি। এ ইস্যুতে বরাবরই চীনকে পাশে পেয়েছেন রাজাপাকসে ভাইরা। তারাও একের পর এক মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে শ্রীলংকার বিনিয়োগ ও অবকাঠামো খাতে চীনকে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উচ্চাভিলাষী বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অংশ হিসেবে ভারত মহাসাগরে মেরিটাইম সিল্ক রোড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে চীনের। বেইজিংয়ের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় মিত্র হয়ে এগিয়ে এসেছেন রাজাপাকসে ভাইরা। তাদের আনুকূল্যেই দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপদেশটিতে নিজের অবস্থান ক্রমেই জোরালো করে তুলেছে বেইজিং। চীন এরই মধ্যে শ্রীলংকার হাম্বানটোটা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিজ হাতে তুলে নিয়েছে। সুযোগ পেয়েছে পোর্ট সিটি কলম্বোসহ বেশ কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসারও।

কলম্বোয় এখন রাজাপাকসে ভাইদেরই সবচেয়ে বড় মিত্র হিসেবে দেখছে চীন। এ কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কলম্বোকে প্রয়োজনীয় সমর্থন ও সহায়তাও দিয়ে যাচ্ছে বেইজিং। অন্যদিকে রাজাপাকসে ভাইরাও নিজ দেশে নানা আলোচনা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করেই পোর্ট সিটি কলম্বোসহ চীনা প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

শ্রীলংকা সরকারের দাবি, ১৪০ কোটি ডলারের পোর্ট সিটি কলম্বোই এখন পর্যন্ত দ্বীপদেশটিতে ব্যক্তি খাতের উন্নয়নে নেয়া সবচেয়ে বড় প্রকল্প। সম্প্রতি প্রকল্পটিতে দেশটির পার্লামেন্টও অনুমোদন দিয়েছে। ক্ষমতাসীন পদুজানা পেরামুন্না সংশ্লিষ্টরা বাদে দেশটির রাজনৈতিক মহলের প্রায় সবাই প্রকল্পটির বিরোধিতা করছেন। এমনকি দেশটির প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষুরাও এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তা শ্রীলংকার সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করবে।

তাদের ভাষ্যমতে, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শ্রীলংকার ভূমিতেই একটি অংশে চীনের অবাধ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় কলম্বো সরকারেরও নিয়ন্ত্রণ সীমিত হয়ে পড়বে। বিশেষ করে এ প্রকল্প এলাকায় নিয়ন্ত্রিত জনচলাচল ও মুদ্রা হিসেবে ইউয়ান ব্যবহারের গুজব দেশটিতে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব গুজব, অভিযোগ ও বিরোধিতাকে উপেক্ষা করেই প্রকল্পটিতে অনুমোদন দিয়েছে পদুজানা পেরামুন্না নিয়ন্ত্রিত লংকান পার্লামেন্ট।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শ্রীলংকার বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের মোট বিনিয়োগ ৮০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এ বিনিয়োগ ঋণের বোঝা ভারী করে তোলার পাশাপাশি কলম্বোর জন্য আরো অনেক অস্বস্তিরও কারণ হয়েছে। ২০১৭ সালে কলম্বোর তত্কালীন সরকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও ৯৯ বছরের ইজারায় হাম্বানটোটা বন্দর চীনের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়। এর আগে ২০০৫ সালে শ্রীলংকার তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের উদ্যোগেই হাম্বানটোটা বন্দর নির্মাণে কলম্বোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল বেইজিং।

সমালোচকরা দাবি তুলেছেন, হাম্বানটোটা বন্দরের অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়ে পোর্ট সিটি কলম্বো প্রকল্পটি থেকে সরে আসা হোক। যদিও এ দাবিতে কর্ণপাত না করে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর রাজাপাকসে ভাইরা।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শ্রীলংকায় বর্তমানে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দেশটির বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সাইনবোর্ড দেখলেই বোঝা যায়। দেশটির ভাষা নীতি অনুযায়ী, সরকারি সাইনবোর্ডগুলোয় একসঙ্গে তিন ভাষা ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে—সিংহল, তামিল ও ইংরেজি। বর্তমানে দেশটির অনেকগুলো প্রকল্পেই সরকারি সাইনবোর্ডে সিংহল ও ইংরেজি ভাষা ব্যবহার হলেও তামিল ভাষার জায়গায় স্থান করে নিয়েছে মান্দারিন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অতীতে মাহিন্দা রাজাপাকসে ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় শ্রীলংকা থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে বেইজিং। বর্তমানেও তারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। বর্তমান শাসনামলে রাজাপাকসে ভাইরা শুরুতে কূটনৈতিকভাবে ভারতের প্রতি কিছুটা আনুকূল্য দেখালেও শেষ পর্যন্ত তারা চীনের দিকেই পুরোপুরি ঝুঁকে পড়েছেন। এমনকি কূটনৈতিক অবস্থানের দিক থেকেও তাদের মধ্যে বেইজিং ও নয়াদিল্লির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চিন্তা অনুপস্থিত। বিষয়টি উদ্বিগ্ন করে তুলছে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে চীনের বৈরী দেশ ভারতকে।

চলতি বছরের শুরুতে ভারত ও জাপানের সঙ্গে ইস্ট কনটেইনার টার্মিনাল (ইসিটি) প্রকল্পের চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয় শ্রীলংকা। সে সময় এ উদ্যোগের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়, স্থানীয়দের বিরোধিতায় প্রকল্পটি বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে লংকান সরকার। নিজ উপকূলের নিকটবর্তী দ্বীপদেশে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় চীনের তুলনায় এভাবে পিছিয়ে পড়ার বিষয়টি নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলের জন্যও অনেক বড় অস্বস্তিকর।

অন্যদিকে রাজাপাকসে ভাইদের সমালোচকদের অভিযোগ, চীনকে আনুকূল্য দিতে গিয়ে একের পর এক বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে কলম্বো। এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত শ্রীলংকার জন্য হয়ে উঠছে শ্বেতহস্তী পোষার মতো। প্রকল্পগুলো কলম্বোকে ঋণগ্রস্ত করলেও লাভবান করেছে রাজাপাকসে ভাইদের।

(নিউজ ১৮ অবলম্বনে)

পুরো দেশে ইন্টারনেটের এক রেট হচ্ছে, ৫০০ টাকায় চলবে মাস

করোনার (কোভিড-১৯) সময়ে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে পড়াশোনা, ঘরে বসে অফিসের কাজ করার জন্য ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়ছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘এক দেশ, এক রেট’ এই নামে ইন্টারনেট সেবা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এই সেবা চালু হলে রাজধানী ঢাকাসহ পুরোদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের একই দাম হবে। এতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য তিনটি প্যাকেজ থাকবে। আজ রবিবার এক অনুষ্ঠানে এসব প্যাকেজের দামের বিষয়ে জানাবে বিটিআরসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তিন প্যাকেজের দামের বিষয়ে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে প্রথম প্যাকেজে। এর গতি হতে পারে ৫ এমবিপিএস। আর দ্বিতীয় প্যাকেজে মাসিক ৮০০ টাকা, গতি ১০ এমবিপিএস থাকতে পারে। তৃতীয় প্যাকেজের দাম মাসে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে থাকতে পারে। গতি ২০ এমবিপিএস হতে পারে।

ভিয়েতনামের রফতানি আয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ১৩ হাজার ৯৪ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে ভিয়েতনাম। এটা আগের বছরের তুলনায় বার্ষিক ৩০ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এক্ষেত্রে দেশীয় খাত ৩ হাজার ৩০৬ কোটি ডলার এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলসহ এফডিআই খাত ৯ হাজার ৭৮৮ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। দেশটির জেনারেল পরিসংখ্যান অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ভিয়েতনাম টাইমস।

পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় দেশীয় ও এফডিআই খাতের রফতানি যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়কালে ২২টি পণ্যের রফতানি মূল্যই শতকোটি ডলারের বেশি ছিল। তাছাড়া এ পণ্যগুলো ছিল দেশটির মোট রফতানির ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

ভারী শিল্পজাত পণ্য ও খনিজের রফতানি প্রায় ৭ হাজার ৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এটা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। এরপর হালকা শিল্প ও হস্তশিল্পের রফতানি ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭৩২ কোটি ডলার এবং কৃষি ও বনজ পণ্যের রফতানি ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৬৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সামুদ্রিক পণ্যের রফতানি ১২ শতাংশ বেড়ে ৩২৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

জানুয়ারি-মে সময়কালে ভিয়েতনামের বৃহত্তম রফতানি বাজার ছিল যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৩ হাজার ৭৬০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এটা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ভিয়েতনাম থেকে পণ্য আমদানিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ছিল চীন। এ সময়কালে দেশটি ২ হাজার ১০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।

এরপর রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো। ভিয়েতনাম থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্য আমদানি ২০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোয় ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। কেবল মে মাসেই ভিয়েতনাম ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এটা আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম।

দেশে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম নিষিদ্ধ হচ্ছে

শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে দেশে ফ্রি ফায়ার ও পাবজির মতো জনপ্রিয় দুই গেম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে বিষয়টি আলোচনা করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

আলোচনায় ওই দুই গেমের আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম দুটি বন্ধে দুই মন্ত্রণালয় থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি সত্য যে ওই দুটি গেম কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করেছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই দুটি গেম কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে বন্ধ করতে গেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। তাই ধীরে সুস্থে বিকল্প পদ্ধতিতে গেম দুটি বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সম্প্রতি গেম দুটিতে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি বেড়েছে শিক্ষার্থীদের। এমন মন্তব্য জানিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেম দুটির ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

গত বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা মহামারিতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে অনলাইন-ভিত্তিক ক্লাসের জন্য অভিভাবকরা সন্তানদের হাতে ল্যাপটপ, মোবাইল ডিভাইস তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ সুযোগে তরুণ প্রজন্ম এ গেম দুটির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে।

প্রসঙ্গত, চীনা প্রতিষ্ঠানের ২০১৯ সালে তৈরি করা যুদ্ধ গেম ফ্রি ফায়ার ২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার গেম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ব্লু হোয়েলের অনলাইন ভিডিও গেমটির মতোই। ২০১৯ সালে এটি বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক ডাউনলোড করা মোবাইল গেম ।

বিডি প্রতিদিন

২৮ মে ইন্টারনেট সেবা বিঘ্ন হতে পারে

বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) জানিয়েছে, কক্সবাজারে ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উন্নয়ন কাজের কারণে আগামী ২৮ মে ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। আজ রবিবার বিএসসিসিএল থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, কক্সবাজার সড়ক বিভাগ এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সড়ক উন্নয়ন কাজের পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে বিচ ম্যানহােল পর্যন্ত বর্তমান ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবলের বিকল্প রুট হিসেবে নতুন একটি ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল রুট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিএসসিসিএল বলছে, নতুন রুটে স্থাপিত অপটিক্যাল ফাইবার ও পাওয়ার ক্যাবলের সঙ্গে এসএমডব্লিউ-৪ সাবমেরিন ক্যাবলের সংযােগ দেওয়ার কার্যক্রমসহ টার্মিনেটেড সার্কিটসমূহের সব ট্রাফিক নতুন ভূ-গর্ভস্থ ক্যাবল (বিচ ম্যানহােল থেকে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন)-এ স্থানান্তরে আগামী ২৮ মে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অর্থাৎ ৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখিত সময়কালে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশনে টার্মিনেটেড সব সার্কিটসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে ওই সময়ে কুয়াকাটার সাবমেরিন ক্যাবল ও আইটিসি অপারেটরসমূহের সার্কিটগুলো চালু থাকবে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলাকালীন ইন্টারনেট গ্রাহকরা সাময়িকভাবে ইন্টারনেটের ধীরগতির সম্মুখীন হতে পারেন বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

বিডি-প্রতিদিন

ক্রিপ্টো লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চীনের

আর্থিক ও লেনদেন প্রতিষ্ঠানকে ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত লেনদেন সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন। বিনিয়োগকারীদেরও ধারণার ওপর নির্ভর করে ক্রিপ্টো বাণিজ্য করার ব্যাপারে সতর্ক করেছে দেশটি। নিষেধাজ্ঞার অধীনে ব্যাংক ও অনলাইন লেনদেন সেবাদাতাসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহকদের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত সব ধরনের সেবা দিতে মানা করেছে। যেমন নিবন্ধন, বাণিজ্য, ক্লিয়ারিং ও সেটলমেন্ট। গত মঙ্গলবার তিন শিল্প কর্তৃপক্ষ এক যৌথ বিবৃতিতে এ ব্যাপারে জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।

যৌথ বিবৃতি প্রদানকারী তিন শিল্প কর্তৃপক্ষ হচ্ছে ‘ন্যাশনাল ইন্টারনেট ফাইন্যান্স অ্যাসোসিয়েশন অব চায়না’, ‘চায়না ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘পেমেন্ট অ্যান্ড ক্লিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব চায়না। তারা জানায়, সম্প্রতি ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্যে অনেক ওপরে উঠেছে ও কমেছে এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ধারণা নির্ভর বাণিজ্য ফিরে এসেছে, গুরুতরভাবে মানুষের সম্পদ সুরক্ষা লঙ্ঘন করছে এবং স্বাভাবিক অর্থনীতি ও আর্থিক শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করছে।

চীন আগেই ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় এবং প্রাথমিক কয়েন অফারিং নিষিদ্ধ করেছে। তবে ব্যক্তি পর্যায়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগ্রহে রাখা নিষিদ্ধ করেনি। বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান ক্রিপ্টোকারেন্সি জমা রাখতে পারবে না, ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত কোনো সেবা দিতে পারবে না, এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট কোনো আর্থিক পণ্যও দিতে পারবে না।

বিবৃতিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাণিজ্যের ঝুঁকিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে, ভার্চুয়াল কারেন্সি ‘প্রকৃত মূল্যমান দ্বারা সমর্থিত নয়, এগুলোর দাম খুব সহজেই বিকৃত করা যায় এবং এর বাণিজ্য চুক্তি চীনা আইন দ্বারা সুরক্ষিত নয়।

নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্বেগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাচ্ছে এনআইডির দায়িত্ব!

এক যুগের বেশি সময় ধরে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ করার পর নির্বাচন কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রম এবং এসংক্রান্ত সেবার দায়িত্ব হারাতে বসেছে। প্রায় এক বছর আগে যে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, সেটিই সত্য হতে চলেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে যাচ্ছে এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রম। এ মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগকে এনআইডি কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৭ মে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠির অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) পাঠানো হয়েছে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন কমিশনারের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে তাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে এনআইডির দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছে রাখতেই পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে এনআইডির সেবার কাজ হস্তান্তর করা হলে ব্যাপক অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে ‘অ্যালোকেশন অব ডিফারেন্ট মিনিস্টারস অ্যান্ড ডিভিশনস’-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের দায়িত্বগুলোর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সংক্রান্ত সব কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত এবং জাতীয় পরিচয়পত্র আইন ২০১০ সংশোধন করে ‘নির্বাচন কমিশন’-এর পরিবর্তে ‘সরকার’ শব্দ অন্তর্ভুক্ত করাসহ আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর কথা বলা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-১০ এ কে এম ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে সুরক্ষা সেবা বিভাগের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল নির্বাচন কমিশন থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাহী বিভাগের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন দেশের উদাহরণের আলোকে সুরক্ষা সেবা বিভাগ ওই দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বিবেচিত বলে উল্লেখ করা হয়।

গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এনআইডির দায়িত্ব তাদের কাছে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গত ৬ আগস্ট এ বিষয়ে মতামত চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয়। সে সময় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা তাদের দায়িত্বে পেতে আগ্রহ প্রকাশ করে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে এবং ওই কমিটি নাগরিকদের পরিচয়পত্রের গুরুত্বপূর্ণ এই কাজের দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকসকে (সিআরভিএস) দেওয়ার সুপারিশ করে। তাতে বলা হয়—মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে থেকে সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। নাগরিকের ঠিকানা, জন্ম, মৃত্যুসহ অন্য তথ্যাদির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিআরভিএস কার্যক্রম পরিচালনা করে। জাতীয় পরিচয়পত্রও এক ধরনের সিভিল রেজিস্ট্রেশন। সুতরাং জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য সিভিল রেজিস্ট্রেশনের সব কার্যক্রম নির্বাহী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিদ্যমান আইন, নীতি ও বিধি সংশোধনক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অধীনে একটি কর্তৃপক্ষের আওতায় ন্যস্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া বলা হয়, ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন তথ্যভাণ্ডার নাগরিকদের পরিচয়পত্র প্রস্তুতসহ ১২৭টি চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা প্রদান করছে। এখন পর্যন্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ২২ ধরনের সেবা দেওয়া হয়, যার বেশির ভাগই নির্বাহী ধরনের। ভবিষ্যতে এর কর্মপরিধি আরো বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এনআইডি নিবন্ধন কার্যক্রম আরো নিরাপদ ও জনবান্ধব করার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।’ কিন্তু ওই মতামত গ্রহণ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই এনআইডি কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দিয়েছে।

বিদ্যমান জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার ক্ষমতা ও এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা তথ্য-উপাত্ত সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজনের কাজও ইসির অধীন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে সেই কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাবে। অথচ ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুসারে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত বা মৃতদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার ইসির হাতেই থাকবে। বর্তমানে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও জাতীয় পরিচয় সংক্রান্ত সেবা একই সার্ভার থেকে দিয়ে আসছে ইসি।

নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন স্মারকলিপিতে বলেছে, নির্বাচন কমিশন বিগত ১৪ বছর যাবৎ দেশব্যাপী নিজস্ব অফিসগুলোর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছে। ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও বিতরণসংক্রান্ত কাজে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। নতুনভাবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার হস্তান্তরিত হলে ওই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো গড়ে তোলা, নতুনভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত, লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাসহ নানা কাজে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজের ধারা বর্তমানে যেভাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলমান, সেভাবে রাখা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা স্মারকলিপিতে কয়েকটি প্রশ্নও উত্থাপন করেছেন। প্রশ্নগুলো হলো : ১. জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নতুনভাবে ডাটা কিভাবে সংগ্রহ করবে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার সার্ভার অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর আইনসংগত হবে কি না; ২. নির্বাচন কমিশনের ভোটারদের ডাটা সংগ্রহ ও অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করে নতুনভাবে সার্ভার স্থাপন, নাগরিকদের তথ্য ও পরিচিতি সংক্রান্ত একই কাজের জন্য নির্বাচন কমিশন ও অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একাধিক সার্ভার প্রস্তুত, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়ানো কতটা যুক্তিসংগত; ৩. যদি একই কাজের দ্বৈততা পরিহারের জন্য নাগরিকদের তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সংগ্রহ করে থাকে এবং এর ভিত্তিতে ভোটার তালিকা তৈরির জন্য ওই প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে ডাটা সরবরাহ করতে সম্মত হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ডাটা নিয়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা কতটা আইনসংগত এবং ওই ভোটার তালিকা দিয়ে নির্বাচন করলে জনগণের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না; ৪. যেসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় পরিচয়পত্রের সেবাসংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, তাদের সেবা প্রদান বিঘ্নিত হবে কি না।

নির্বাচন কর্মকর্তারা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আরো দ্রুত কিভাবে এই সেবা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনারদের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সুত্র: কালের কন্ঠ

রোজিনার জামিন শুনানি আজ

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নথিপত্রের তথ্য চুরির অভিযোগে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় আজ বৃহস্পতিবার (২০ মে) তাঁর জামিন আবেদনের ওপর শুনানির কথা রয়েছে। সকাল ১০টায় ভার্চ্যুয়াল আদালতে এই জামিন শুনানি হতে পারে।

গত মঙ্গলবার (১৮ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ জসিম শুনানির এই দিন ধার্য করেন।

ওইদিন সকাল ৮টায় সাংবাদিক রোজিনাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদার। পরে শুনানি শেষে ওই আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। একই সঙ্গে রোজিনার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২০ মে) নির্ধারণ করেন আদালত।

গত সোমবার (১৭ মে) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর নথিপত্র চুরি ও ছবি তুলে নেওয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় মামলা দিয়ে রোজিনাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরের দিন মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তা খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করে রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এদিকে, রোজিনাকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। বিষয়টির দিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠন, দল ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে রোজিনার গ্রেপ্তারের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তি দাবি অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া রোজিনাকে থানায় সোপর্দ, মামলা দায়ের, সারা রাত থানায় রাখা, আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন এবং জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ প্রকাশ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। সুত্র: কালের কন্ঠ

জি-মেইল অ্যাপে যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে

আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসছে জি-মেইল অ্যাপ। এ পরিবর্তন এলে জি-মেইল অ্যাপে গুগল চ্যাট অ্যাপ ইন্টিগ্রেশন চালু করা যাবে, ব্যবহার করা যাবে মেইল, মিট ও রুমস। এ চ্যাট মেসেজিং অ্যাপ গুগল ওয়ার্ক স্পেসে ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু এখন থেকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে এসব ব্যবহার করা যাবে। আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েডে এখন থেকে জি-মেইল অ্যাপে চারটি ট্যাব থাকবে। তা হলো জি-মেইল, চ্যাট, মিট ও রুমস। খবর টেকক্রাঞ্চ।

জি-মেইল অ্যাপের এ চ্যাট ফাংশনটি আপনার আইফোন অথবা অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রেও চালু করার জন্য প্রথমে দেখে নিতে হবে জি-মেইল অ্যাপের আপডেটেড ভার্সনটা রয়েছে কিনা। না থাকলে অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর অথবা গুগল প্লেস্টোর থেকে আপডেটেড ভার্সন ডাউনলোড করতে হবে। এবার জি-মেইল অ্যাপ খুলতে হবে এবং স্ক্রিনের ওপরের বাম দিকে স্যান্ডউইচ মেনুতে আলতো ট্যাপ করতে হবে। এবার কিছু অপশন আসবে। সেটিংসের নিচে স্ক্রল করতে হবে। এখান থেকে ব্যক্তিগত গুগল অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করতে হবে। এবার নতুন ভার্সনের জি-মেইল অ্যাপে চারটি ট্যাব দেখতে পাওয়া যাবে, সঙ্গে থাকবে নতুন ধারার একটি চ্যাট বক্স।

ওয়ার্ক স্পেস অ্যাকাউন্টগুলোর চ্যাট ও মিট অপশন মাইক্রোসফটের টিমস, জুম এবং স্ল্যাকের মতো ভিডিও মিটিং ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্লাটফর্মগুলোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্ব্বী হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন গ্যাজেট বিশেষজ্ঞরা। ব্যক্তিগত জি-মেইল অ্যাকাউন্টগুলোও এবার হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের মতো মেসেজিং ও চ্যাটিং অ্যাপের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার পর হুয়াওয়ের ফোন বিক্রিতে মন্দা

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের স্মার্টফোন ব্যবসা দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সঙ্কুচিত হয়েছে। হুয়াওয়ে জানিয়েছে, এবছরের প্রথম তিন মাসেই তাদের ফোন বিক্রি ব্যাপকহারে কমে গেছে।

হুয়াওয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ত্রৈমাসিকে ১৭ শতাংশ বিক্রি কমেছে। যার পরিমাণ প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৫২.২ বিলিয়ন ইয়ান।

গত বুধবার রোটেটিং চেয়ারম্যান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হুয়াওয়ের জন্য ২০২১ সাল একটি চ্যালেঞ্জের বছর। তবে এটি কম্পানির ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশলের সূচনাও চিহ্নিত করছে।

তিনি আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা অবস্থায় সরবরাহের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগের দিকে মনোনিবেশ করে যাবে হুয়াওয়ে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাস থেকে হুয়াওয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। এতে মার্কিন প্রযুক্তির সাহায্যে যেসব প্রতিষ্ঠান চিপ তৈরি করে থাকে, তাদের হুয়াওয়ের কাছে চিপ বিক্রি বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়।

হুয়াওয়ে যেন স্মার্টফোন ও এর সঙ্গে যুক্ত কোনো যন্ত্রাংশ তৈরি করতে না পারে, এ জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনা বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্বে বরাবরই হুয়াওয়েকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে আসছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নির্দেশেই হুয়াওয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে। নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসার পরেও সেই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।
সূত্র : ব্লুমবার্গ