পৃথিবীর গতি বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টার আগেই শেষ হচ্ছে দিন!

গত ৫০ বছরে তুলনায় পৃথিবী যত দ্রুত গতিতে ঘুরছে, ততই কমছে এক দিনের সময়সীমা। অর্থাৎ, শেষ ৫ দশক ধরে পৃথিবীর আবর্তনের গতি বাড়ার কারণেই গ্রহটির প্রতিটা দিনের মেয়াদ এখন ২৪ ঘণ্টার থেকেও কম!

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীদের মন্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই চমকপ্রদ ঘটনাটির যথাযথ প্রমাণও পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর আবর্তন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুতগতির কারণেই বর্তমানে একটি দিনের দৈর্ঘ্য স্বাভাবিক ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ‌‘অতিসামান্য’ কম হচ্ছে।

২০২০ সাল থেকে ছোট হবে ২০২১?

২০২০ সালে সব থেকে ছোট দিনের সংখ্যা ছিল ২৮টি। ১৯৬০ সালের পর থেকে যা সব থেকে বেশি। এমনকি ২০২১ সাল আরও ছোট হতে পারে বলে পূর্বাভাস মিলেছে।

সময় ও তারিখ অনুযায়ী, সূর্যের প্রতি গড় হিসাবে পৃথিবী প্রতি ৮৬,৪০০ সেকেন্ডে একবারে ঘোরে, যা ২৪ ঘণ্টা বা একটি অর্থ সৌর দিনের সমান।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, ২০২১ সালের গড় দিনটি ৮৬,৪০০ সেকেন্ডের চেয়ে ০.০৫ মিলি সেকেন্ড কম হবে। ১৯৬০ সাল থেকে দিনের দৈর্ঘ্যের অতি-সুনির্দিষ্ট রেকর্ড রেখে চলা পারমাণবিক ঘড়িগুলো পুরো বছর ধরে প্রায় ১৯ মিলিসেকেন্ডের ব্যবধান তৈরি করবে।

কীভাবে সময় কমছে?

লাইভ সায়েন্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “রেকর্ডে সবচেয়ে দ্রুততম ২৮টা দিন (১৯৬০ সাল থেকে) দেখা যায় ২০২০ সালে। কারণ, ওই দিনগুলোতে পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণনগুলো গড়ের থেকে প্রায় মিলিসেকেন্ড সময় দ্রুত সম্পন্ন করে।”

পারমাণবিক ঘড়ির হিসাব অনুযায়ী, গত ৫০ বছর ধরে পৃথিবী একটি ঘূর্ণন সম্পন্ন করতে ২৪ ঘণ্টার (৮৬,৪০০ সেকেন্ড) চেয়ে কিছুটা কম সময় নিয়েছে।

ডেইল মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯২০ সালের ২০ জুলাই পৃথিবীতে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দিনটি রেকর্ড করা হয়েছিল (যেহেতু ওই দিনেই রেকর্ড শুরু হয়েছিল)। ওই দিনটি ছিল ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ১.৪৬০২ মিলি সেকেন্ড কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের আগে সব থেকে ছোট দিন রেকর্ড হয়েছিল ২০০৫ সালে। তবে গত বছরের ১২টি মাসে সেই রেকর্ড ২৮ বার ভেঙে গেছে।

বিডি প্রতিদিন

মঙ্গল গ্রহে শহর বানাবেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক

আয়-উপার্জনের টানে পিএচইডি অধরা থেকে যায় ইলন মাস্কের। এখন তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী, তবে কোম্পানির সিইও হিসেবে বছরে বেতন নেন মাত্র ১ ডলার।  তিনি ২০৫০ সালের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে একটি পরিপূর্ণ শহর স্থাপনের পরিকল্পনা করেছেন। খবর জিনিউজের।

অনলাইনে পণ্য বিক্রির বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজোসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী এখন ইলন মাস্ক। সম্প্রতি তার নেট আর্থিক সম্পদ ১৮ হাজার পাঁচশ’ কোটি ডলারের ঘর পার করেছে। বিশ্বের শীর্ষ ধনীর খেতাবটি ২০১৭ সাল থেকে ধরে রেখেছিলেন জেফ বেজোস।

বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স প্রকাশিত এ বছরের শীর্ষ ৫০০ সম্পদশালীর তালিকার প্রথমে এসেছে প্রথাবিরোধী এই ধনকুবের নাম। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা, জেফ বেজোসের মোট সম্পদের তুলনায় তিন বিলিয়ন ডলার বেশি।

বিডি-প্রতিদিন

লিফটের ব্রেকিং রেজিস্টর

এলিভেটর জগতে ব্রেকিং রেজিস্টর খুবই পরিচিত একটি যন্ত্রাংশ। এটি মূলত VFD/VVVF ড্রাইভের সাথে কানেকশন দিতে হয়। এই ব্রেকিং রেজিস্টর নিয়ে কিছু জানার চেষ্টা করব।
ব্রেকিং রেজিস্টর কি?
রেজিস্টর এর অভিধানিক অর্থ হল রোধ, আরো সহজে বলতে গেলে বাধা। এটি হচ্ছে ভোল্টেজের জন্য বাধা। কোন সার্কিটে অতিরিক্ত ভোল্টেজ ড্রপ করানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। ব্রেকিং রেজিস্টরও একই কাজ করে।
কেন?
সাধারণত মন্দনের (Deceleration) সময় অর্থাৎ যখন রোটর RPM স্ট্যাটর RPM এর চেয়ে বেশী হয় তখন মটর, জেনারেটরের মত কাজ করে। অর্থাৎ এটি ভোল্টেজ উৎপন্ন করে এবং এই ভোল্টেজ মুল ড্রাইভে ফিরে আসে (লেঞ্জ এর মতে)। আর এই অতিরিক্ত ভোল্টেজকে(Back EMF) ব্রেকিং রেজিস্টর তাপ রুপে বের করে দেয়। তা না হলে ড্রাইভ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সুতরাং এই ব্রেকিং রেজিস্টরকে আমরা ড্রাইভের রক্ষাকবচও বলতে পারি।
কিভাবে কাজ করে?
প্রত্যেক VFD/VVVF ড্রাইভের সাধারণত তিনটি অংশ থাকে।
১। ডায়োড রেক্টিফায়ার
২। ব্রেকিং সার্কিট (চপার এন্ড রেজিস্টর)
৩। PWM ইনভার্টার
ব্রেকিং সার্কিট (চপার এন্ড রেজিস্টর), একটি সুইচিং ডিভাইস (IGBT), একটি রেজিস্টর ও একটি ডাযোডের সমন্বয় গঠিত। চপার মূলত একটি DC টু DC কনভার্টার। AC সার্কিটে ট্রান্সফরমারের মত DC সার্কিটে চপার DC ভোল্টেজকে স্টেপ আপ এবং স্টেপ ডাউন করে। যখন DC bus ভোল্টেজ ব্রেকিং সার্কিট এক্টিভেশন ভোল্টেজ এর সমান (DC bus ভোল্টেজের ১২৫%) হয় তখন IGBT ট্রিগার করে এবং অতিরিক্ত ভোল্টেজ ব্রেকিং রেজিস্টরের মাধ্যমে বাইপাস হয়ে যায়।
ক্যালকুলেশন?
ব্রেকিং রেজিস্টর নির্বাচন এর পূর্বে এর দুইটি বিষয়ে নিশ্চিত হতে হয়।
১। রেজিস্ট্যান্স
২। পাওয়ার
তার আগে কিছু ক্যালকুলেশন করা যাক
DC bus ভোল্টেজ, Vdc = (2)1/2* Vac(rms)
= 1.41* Vac(rms) (আদর্শ হিসাবে)……………………(১)
কিন্তু যেহেতু ড্রাইভে ব্রীজ রেক্টিফায়ার ডায়োড ব্যবহার করে হয় এবং সেখানে কিছু ডায়োড রেক্টিফায়ার লস হয়, যার ফলে সমীকরণটি দারায়,
Vdc = 1.35* Vac(rms)………………………………(২)
এখন ব্রেকিং সার্কিট এক্টিভেশন ভোল্টেজ (IGBT ট্রিগার ভোল্টেজ) হল DC bus ভোল্টেজ এর ১২৫%।
অর্থাৎ,
Vtr = 1.25* Vdc
Vtr = 1.25*1.35*Vac(rms)………………………………(৩)
আবার,
Ppeak = Pm*t*n
যেখানে,
Pm = মটরের ক্ষমতা
t = সর্বচ্চো টর্ক (সাধারণত ১০০-২০০%, কিছু না থাকলে 1.5 নিয়ে হিসাব করা হয়)
n = মটরের কর্মদক্ষতা
এখন,
ব্রেকিং রেজিস্টরের রেজিস্ট্যান্স এর মান,
R = (Vtr)2/Ppeak
R = (1.25*1.35*Vac(rms))2 / Pm*t*n…………………………(৪)
আর ব্রেকিং রেজিস্টরের পাওয়ার,
P = Ppeak*(%Duty cycle)1/2*0.5
= Pm*t*n*(%Duty cycle)1/2*0.5…………………………(৫)
এখানে,
Duty cycle = এক্সেলারেশন টাইম + রান টাইম + ডিসেলারেশন টাইম
%Duty cycle = ডিসেলারেশন টাইম/ Duty cycle
তবে ব্রেকিং রেজিস্টরের পাওয়ার মূলত মটরের ধরন, লোডের ধরন, স্ট্যাটিং,স্টপিং এর সময় সহ আরো কিছু প্যারামিটারের উপর নির্ভর করে।
উদাহরণঃ
একটি মটরের ইনফো প্লেটের তথ্য যদি এমন হয়,
মটরের ক্ষমতা, Pm = 4.5 KW = 4500 W
ইনপুট ভোল্টেজ, Vac(rms) =380 Volt
সর্বচ্চো টর্ক, t = প্রতি উনিটে শতকরা টর্ক 150% =1.5
কর্মদক্ষতা, n = 95% = 0.95
%Duty cycle = 0.5
সুতরাং ব্রেকিং রেজিস্ট্যান্স, (৪) হতে
R = (1.25*1.35*380)2/(4500*1.5*0.95)
= 64.125 ohm
আর পাওয়ার, (৫) হতে
P = 4500*1.5*0.95*(0.5)1/2*0.5
= 2276.16 Watt
বি.দ্রঃ কোথাও কোন সংশোধনের প্রয়োজন মনে করলে অথবা কারও কাছে নতুন কোন তথ্য থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী এলন মাস্ক

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর স্থান দখল করেছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী এলন মাস্ক। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমান ১৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। টেসলার শেয়ারের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি জেফকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থানে উঠে আসেন।

এই করোনা মহামারির মধ্যেও টেসলার বাণিজ্য বেড়েছে। গত বুধবার টেসলা কোম্পানির বাজার মূলধন ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এই গাড়ি কোম্পানিটির সম্পদ এখন টয়োটা, ভক্সওয়াগন, হুন্দাই, জিএম এবং ফোর্ডের সম্মিলিত সম্পদেরও বেশি। এর পরই শীর্ষ ধনীর তালিকার প্রথমস্থানে উঠে আসেন মাস্ক।

করোনায় অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজসের সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। তবে, তিনি তার কোম্পানির ৪ শতাংশ সম্পদ তার সাবেক স্ত্রী ম্যাকেইঞ্জ স্কটকে লিখে দেওয়ায় এলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ বেজসের সম্পদের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যায়।

সূত্র: বিবিসি।

লাদাখ সীমান্তে ‘অভিনব’ অস্ত্র ব্যবহার করেছে চীন!

লাদাখ সীমান্তে চলমান অচলাবস্থায় ভারতের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘অপ্রচলিত ও অভিনব’ অস্ত্র ব্যবহার করে চীন। সেই সঙ্গে বিশাল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করে দেশটির সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি।

এগুলোর মাধ্যমে তারা মূলত হিমালয় পাদদেশের অঞ্চলটির স্থিতাবস্থা উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

লাদাখের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ১ জানুয়ারি বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে রিপোর্টে ‘অপ্রচলিত ও অভিনব’ অস্ত্র বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

কয়েক মাসের রেষারেষির এক পর্যায়ে গত বছরের জুন মাসের মাঝামাঝি লাদাখের প্যানগং সো ও গালওয়ান উপত্যকায় চীনা ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ বেধে যায়। হাতাহাতি এই যুদ্ধে ধারালো পাথর, লোহার রড, ও পেরেক বসানো মুগুর ব্যবহার করে চীনা বাহিনী।

সম্প্রতি এক চীনা বিশেষজ্ঞ দাবি করেন, লাদাখে ‘লেজার অস্ত্র’ও ব্যবহার করেছিল চীনা বাহিনী। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এই দাবি নাকচ করে দেয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের রিপোর্টের দাবি, এর ফলেই সীমান্ত সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। ভারত বাধ্য হয় সীমান্তে ট্যাঙ্ক, বন্দুকধারী সেনা মোতায়েন করতে।

২০২০ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে এমনই পর্যবেক্ষণ ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের। আর ও বলা হয়েছে, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে পূর্ব লাদাখ সীমান্তে স্থিতাবস্থা বদলানোর চেষ্টা করে চীন। তাদের উস্কানিমূলক আচরণ পরিস্থিতিকে আরও সমস্যার দিকে ঠেলে দেয়।

ভারতীয় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিরাপদ

ভারতের বিমান বাহিনীর একটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে রাজস্থানের সুরাটগড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিনহুয়া নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে এক টুইটে জানানো হয়, পশ্চিমাঞ্চলে প্রশিক্ষণ চলা অবস্থায় মিগ-২১ বাইসন যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়েছে।

বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ভারতের বিমানবাহিনী। দুর্ঘটনায় অবশ্য কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শিনহুয়া নিউজের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের জন্যই যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়ন করা হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা নির্দিষ্টভাবে জানতে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সূত্র: শিনহুয়া

কোথায় জ্যাক মা, আত্মগোপন নাকি অপহরণ?

গোটা বিশ্ব চেনে তাঁকে। অথচ বিগত দুই মাসেও কোনো খোঁজ মিলছে না চীনের বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা আলিবাবা ও অ্যান্ট গ্রুপের মালিক জ্যাক মার। কোথায় গেলেন জ্যাক?

সম্প্রতি নিজের ট্যালেন্ট শো ‘আফ্রিকান বিজনেস শো’-এর শেষ এপিসোডে যাননি আলিবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। ব্রিটেনের টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর শোতে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি বিচারকের আসনেও বসার কথা ছিল। তাঁর পরিবর্তে আলিবাবা গ্রুপের এক এক্সিকিউটিভ সেই শোতে বিচারকের আসনে বসেছিলেন। ওয়েবসাইট থেকে তাঁর ছবিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আলিবাবা গ্রুপের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ফিন্যানশিয়াল টাইমস জানিয়েছিল, সূচির কারণে সেই অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি।

আলিবাবার একজন মুখপাত্রের বরাতে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, ওই সময় ব্যস্ত থাকার কারণে জ্যাক মা বিচারক প্যানেলে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে এই বিবৃতিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না অনেকেই।

অনেকেরই আশঙ্কা, চীনের জিনপিং সরকারের সমালোচনা করাতেই রাষ্ট্রের কোপে পড়েছেন তিনি। তার পর থেকেই প্রকাশ্যে তাঁর দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে জ্যাকের খোঁজ না মিললেও তাঁর সংস্থাগুলো সচল রয়েছে।

শিল্পপতি হলেও বিশ্বজুড়েই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে ডাক পড়ে জ্যাক মার। তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতার জনপ্রিয়তা রয়েছে সর্বস্তরে। আর সেই বক্তৃতা দিতে গিয়েই গত বছর সাংহাইতে একটি অনুষ্ঠানে সুদখোর আর্থিক নিয়ন্ত্রক পাবলিক সেক্টরের ব্যাংকগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন নিয়মকে বয়স্কদের ক্লাব বলে কটাক্ষও করেছিলেন তিনি। তবে শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি তিনি। বরং সরকারের কাছে আবেদনও করেন, যাতে এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়।

চীনের সবচেয়ে সফল এই উদ্যোক্তা একসময় রাজনীতিবিদদের প্রিয়পাত্র ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি জ্যাক মা সেই সুনজর হারিয়েছেন। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা নিয়ে সমালোচনা করার পর থেকেই একের পর এক আক্রমণের মুখে পড়েছে আলিবাবা এবং তাঁর আরেক প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপ (আলি পে)।

এরই মধ্যে, অ্যান্ট গ্রুপের ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আইপিও স্থগিত করেছে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। তার পর থেকেই জ্যাক মাকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল।

কিন্তু তাঁর এই সমালোচনাকে ভালোভাবে নেয়নি চীনের সরকার। এই বক্তৃতার পরেই রাষ্ট্রের রোষ এসে পড়ে তাঁর ওপর। অভিযোগ, জ্যাক মার সমালোচনাকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায় বলে মনে করতে থাকে। এর পরই জ্যাকের বিভিন্ন ব্যবসায় শুরু হয় রাষ্ট্রের তদন্ত।
গত বছরের নভেম্বরে জ্যাকের অ্যান্ট গ্রুপের ৩৭ বিলিয়ন ডলারের আইপিও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে চীন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জ্যাক মার অ্যান্ট গ্রুপের আইপিও নিষিদ্ধ করার আদেশ আসে সরাসরি চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের তরফ থেকে। ক্রিসমাসের আগেই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলিবাবার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাইরে পা রাখতে পারবেন না জ্যাক মা। তার পর থেকেই ‘নিখোঁজ’ তিনি।

জ্যাক মা একজন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব। ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন সুপরিচিত। তিনি চীনের বৃহত্তম প্রযুক্তি সংস্থা আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা। আলিবাবা এখন ‘পুবের আমাজন’ নামে পরিচিত। চীনের বন্দরনগরী হ্যাংঝুর ছোট্ট একটা অ্যাপার্টমেন্ট ঘর থেকে তিনি এই কম্পানি গড়ে তোলেন। ১৯৯৯ সালে চীনের কারখানা অধ্যুষিত এলাকার কেন্দ্রে ছিল এই হ্যাংঝু শহর।

এরপর ধীরে ধীরে আলিবাবা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অন্যতম প্রভাবশালী একটি সংস্থায় পরিণত হয়। চীনের অনলাইন, ব্যাংকিং এবং বিনোদন জগতে তাদের অবদান হয়ে ওঠে বিশাল।। চার হাজার কোটি ডলারের ব্যবসার মালিক হয়ে ওঠেন জ্যাক মা।

২০১৮ সালে আলিবাবার চেয়ারম্যানের পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়ান। তিনি বলেন, তিনি দানধ্যান নিয়ে থাকতে চান। কিন্তু আলিবাবার পরিচালনা বোর্ডে তাঁর স্থায়ী পদ থেকে যায়। শুধু সম্পদ আর খ্যাতি নয়, মা চীনের অন্যতম প্রভাবশালী একজন ব্যক্তি।

গুগল সার্চে বছরের সেরা টপিক

প্রতিবছরের মতো এবারেও সর্বোচ্চ সার্চ করা বিষয়গুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান গুগল। ২০২০ সালের সবচেয়ে বেশি সার্চ করা নির্বাচিত শীর্ষ বিষয়গুলো ১২ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ক্যাটাগরিভিত্তিক শীর্ষ বিষয় তুলে ধরা হলো:

১। অনুসন্ধান: বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া শব্দ করোনাভাইরাস উঠে এসেছে অনুসন্ধান বিভাগের তালিকার সর্বপ্রথমে। এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে নির্বাচনী ফলাফল, কোবি ব্রায়ান্ট, জুম ও আইপিএল।

২। খবর: খবর ক্যাটাগরিতেও শীর্ষ সার্চ শব্দের তালিকায় শুরুতেই রয়েছে করোনাভাইরাস টপিকটি। এখানে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নির্বাচনী ফলাফল এরপর ধারাবাহিকভাবে রয়েছে ইরান, বৈরুত ও হান্টাভাইরাস।

৩। অভিনয় শিল্পী: অভিনয় শিল্পী ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে টম হ্যাংকস এর নাম। এরপরে যথাক্রমে রয়েছে জোয়াকিন ফিনিক্স, অমিতাভ বচ্চন, রিকি জার্ভিস ও জেডা পিঙ্কেট স্মিথের নাম।

৪। ক্রীড়াবিদ: এবারের ক্যাটাগরিতে শীর্ষে রয়েছে রায়ান নিউম্যানের নাম। মাইকেল জর্ডান দ্বিতীয়, টাইসন ফিউরি তৃতীয়, টম ব্র্যাডি চতুর্থ ও মাইক টাইসন রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে।

৫। কনসার্ট: টুগেদার অ্যাট হোম কনসার্টি রয়েছে এই ক্যাটাগরির শীর্ষে। পর্যায়ক্রমে রয়েছে ফায়ারফাইট অস্ট্রেলিয়া কনসার্ট, গার্থ ব্রুকস ড্রাইভ ইন কনসার্ট, ট্রাভিস স্কট ফোর্টনাইট কনসার্ট ও বিটিএস অনলাইন কনসার্ট।

৬। গেইম: গেইম ক্যাটাগরিতে অ্যামাং আস আছে সার্সের শীর্ষে। ফল গাইস: আলটিমেট নকআউট, ভেলোরান্ট, জেনশিন ইমপ্যাক্ট ও দ্যা লাস্ট অফ আস রয়েছে পরবর্তী ধাপে।

৭। হারানো ব্যক্তিত্ব: হারানো ব্যক্তিত্ব বিষয়ে টপ সার্চে রয়েছে কোবি ব্রায়ান্ট এর নাম। ধারাবাহিকভাবে রয়েছে নায়া রিভেরা, চ্যাডউইক বোজম্যান, সুশান্ত সিং রাজপুত ও জর্জ ফ্লয়েডের নাম।

৮। গানের কথা: সেরা গানের কথা হিসেবে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে ডাব্লিউএপি। স্যাভেজ লাভ, গুবা, স্কেচার্স ও ডায়নামাইটও রয়েছে সেরা ৫ সার্চ এ।

৯। সিনেমা: গুগল সার্চে সেরা সিনেমা প্যারাসাইট। সেরা ৫ সার্চে রয়েছে ১৯১৭, ব্ল্যাক প্যান্থার, ৩৬৫ ডেইজ ও কন্টজিওনের নাম।

১০। ব্যক্তি: গুগল সার্চে সবচেয়ে খোঁজা ব্যক্তির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জো বাইডেন। কিম জং উন রয়েছে দ্বিতীয় তালিকায়। এর পরপরই রয়েছে বরিস জনসন, কমলা হ্যারিস ও টম হ্যাংকস এর নাম।

১১। রেসিপি: রেসিপি ক্যাটাগরিতে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা হয়েছে ডালগোনা কফি। ইমেক, সাওয়ারডো ব্রেড, পিৎজা ও লামাকুন রয়েছে সার্চ করা শীর্ষ ৫ রেসিপির তালিকায়।

১২। টিভি শো: টিভি শো ক্যাটাগরিতে গুগল সার্চের ১ নম্বরে রয়েছে টাইগার কিং। আর শীর্ষ ৫ এ রয়েছে বিগ ব্রাদার ব্রাজিল, মানি হাইস্ট, কোবরা কাই ও দ্য আমব্রেলা অ্যাকাডেমি টিভি শো।

কী কাজে লাগে রাজধানীতে উদ্ধার হওয়া ইউরেনিয়াম?

রাজধানীর রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আজ আনুমানিক ৫৫ কোটি টাকার ইউরেনিয়াম জব্দ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এসময় তিনজনকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা র‍্যাবকে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে ইউরেনিয়াম ক্রয় করে। দীর্ঘদিন ধরেই তারা ইউরেনিয়াম ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছিলেন।

এর আগেও ২০১৪ সালের আগস্টে ঢাকায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ ইউরেনিয়াম বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে দুই পাউন্ড ওজনের ইউরেনিয়ামও জব্দ করা হয়।

বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে দামি পদার্থ হিসেবে ধরা হয় ইউরেনিয়ামকে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান জ্বালানি হচ্ছে ইউরেনিয়াম। দেখা গেছে যে, ৪ হাজার ৫০০ টন উচ্চ গ্রেডের কয়লা থেকে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া যায় সেই একই পরিমাণ শক্তি মাত্র এক কেজি ইউরেনিয়াম থেকে পাওয়া যায়।

ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় ধাতু ও উচ্চ ঘনত্বের মৌল, যা ১৭৮৯ সালে বিজ্ঞানী মার্টিন হাইনরিখ ক্লাপরথ ইউরেনিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন। ধারণা করা হয় যে, তখনকার সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা ছিল ইউরেনাস গ্রহের আবিষ্কার এবং তিনি তখন এই ইউরেনাস গ্রহের নামানুসারেই তার আবিষ্কৃত মৌলের নাম রেখেছিলেন ইউরেনিয়াম। ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী হেনরি বেকেরেল সর্বপ্রথম ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।

কাজাখিস্তান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিজার, নামিবিয়া এবং রাশিয়ায় ইউরেনিয়াম বাণিজ্যিক ভিত্তিকে উত্তোলিত হয়।

অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোহাম্মদ আহসান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘সাধারণত নির্দিষ্ট মানের ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগে। তবে সে জন্য অনেক অবকাঠামোর দরকার হয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই কালোবাজারে ইউরেনিয়াম কেনাবেচার চেষ্টা করা হয়।’

তবে ইউরেনিয়ামের বিভিন্ন মান রয়েছে। সেই মান অনুযায়ী ইউরেনিয়াম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র অথবা পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কিছু শিল্পেও ব্যবহৃত হয়।

তিনি জানান, র‍্যাব যে উদ্ধারের কথা বলছে, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কী ইউরেনিয়াম, কোন মানের, কার্যকরী কিছু কিনা, সেটা বলা সম্ভব নয়।

বিডি প্রতিদিন

দুই মাসে ১১শ কোটি ডলার হারিয়েছেন জ্যাক মা

হঠাৎ করেই ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার ওপর খড়গহস্ত হয়েছে চীন সরকার। স্বয়ং প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের হস্তক্ষেপে ঠেকিয়ে দেয়া হয়েছে আলিবাবা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ট গ্রুপের আইপিও। এরপরেই শুরু হয়েছে আলিবাবার বিরুদ্ধে সরকারি নিরীক্ষা। এর জেরে মাত্র দুই মাসে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের সম্পদ হারিয়েছেন আলিবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা।

৫৬ বছর বয়সী সাবেক ইংরেজী ভাষার শিক্ষক জ্যাক মা চীনের প্রযুক্তি খাতের বিস্ময়কর উত্থানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এ বছর তার সম্পদ ৬১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে এবং এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির খেতাব ফিরে পাওয়ার পথে ছিলেন।

কিন্তু অক্টোবরের শেষ নাগাদ চীন সরকার তার কোম্পানির বিষয়ে কঠোর নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করায় তার সম্পদ দুই মাসে ১১ বিলিয়ন ডলার কমে বছর শেষে ৫০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ফলে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্সে বিশ্বের ৫০০ ধনী ব্যক্তির তালিকায় ২৫তম স্থানে নেমে যায় তার নাম।

সূত্র: এনডিটিভি