মালয়েশিয়ায় হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র “কোরআনিক ভিলেজ”

এশিয়ার ইউরোপ খ্যাত পর্যটন নগরী মালয়েশিয়া এবার তৈরি করতে যাচ্ছে বিশ্বের একমাত্র “কোরআনিক ভিলেজ”। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ১৫০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত এবং প্রায় ২০ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত হবে এই মেগা প্রকল্পটি।

মেগা প্রকল্পটির নকশা প্রকাশ করে মালয়েশিয়ার ফেডারেল টেরিটরিমন্ত্রী আনোয়ার মুসা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক ও টুইটারে বলেন, কোরআনিক ভিলেজ এর নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে প্রকল্পটিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে এবং এর অর্থায়ন সরকার অনুমোদন করেছে। ২০২১ সালে এর কাজ শুরু করতে পারব ইনশাল্লাহ।


এটি বিশ্বের একমাত্র কোরআনিক ভিলেজ হতে যাচ্ছে বলে দাবি মালয়েশিয়ার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সেখানে থাকবে ৫ হাজার মুসল্লীর ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নতুন মসজিদ, একটি কুরআন বিজ্ঞান ও ভবিষ্যদ্বাণীমূলক জীবনী কেন্দ্র, একটি ছাত্রাবাস এবং অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান, একটি বাজার এবং একটি শিল্পকলা কেন্দ্র।

কোরআনিক ভিলেজটি যথাক্রমে মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইরাক, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ব্রুনাইয়ের জন্য উৎসর্গীকৃত বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী আনোয়ার মুসা। BD PROTIDIN

ভারতবর্ষ শাসন করা সেই ইস্ট ইন্ডিয়ার মালিক এখন একজন ভারতীয়

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত চেনা একটি নাম। বাণিজ্যের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করে কয়েক শতাব্দী শাসন ও শোষণের দ্বারা পুরো উপমহাদেশ কবজা করে রাখার ইতিহাসই এই নামটিকে এনে দিয়েছে চিরস্থায়ী পরিচিতি।

এটিকে বলা হয় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং প্রথম করপোরেশন কোম্পানি। শুরুতে এর নাম ছিল ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (১৬০০-১৭০৮)। পরবর্তীতে এর নাম বদলে করা হয় অনারেবল কোম্পানি অব মার্চেন্টস অব লন্ডন ট্রেডিং ইনটু দ্য ইস্ট ইন্ডিজ অথবা ইউনাইটেড কোম্পানি অব মার্চেন্টস অব ইংল্যান্ড ট্রেডিং টু দ্য ইস্ট ইন্ডিজ (১৭০৮-১৮৭৩)। তবে উপমহাদেশে সেটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামেই অধিক পরিচিত ছিল।

আগে ইউরোপের মানুষের কাছে ভারতীয় উপমহাদেশ ‘ইস্ট ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত ছিল। সেই সময় ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল মশলা, কাপড় এবং দামি রত্নের জন্য বিখ্যাত এক স্থান। এসব উপকরণ ইউরোপে বেশ চড়া দামে বিক্রি হতো। কিন্তু সমুদ্রে শক্তিশালী নৌবাহিনী না থাকার দরুণ ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে আসতে ব্যর্থ হয়।
সেই সময়ে স্পেন এবং পর্তুগাল ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে মশলা ও কাপড় নিয়ে পূর্বের দূরবর্তী দেশ সমূহে বিক্রি করত। কিন্তু ব্রিটিশ বণিকরা উপমহাদেশে আসার জন্য মরিয়া হয়ে ছিলেন। অবশেষে ১৫৮৮ সালে ব্রিটিশরা পথের দিশা পায়। স্প্যানিশদের হারিয়ে তাদের নৌবহরের দখল নিয়ে নেয় তারা। এই নৌবহর ব্রিটিশদের ভারতের আসার পথ তৈরি করে দেয় এবং সেই সাথে তাদের নৌশক্তি বহুগুণে বেড়ে যায়।

১৬০০ সালের স্যার থমাস স্মাইথের নেতৃত্বে লন্ডনের একদল বণিক রাণী প্রথম এলিজাবেথের কাছে এক আর্জি নিয়ে হাজির হন। তারা রাণীর কাছে পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবসা করার জন্য রাণীর সম্মতি ও রাজসনদ প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন। রাণী প্রথম এলিজাবেথ তাদের সম্মতি দেন। পরবর্তীতে ৭০ হাজার পাউন্ড পুঁজি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়।

কোম্পানি থেকে শাসক
শুরুতে মুঘল সাম্রাজ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া ছিল শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশরা ভারতের রাজনীতিতে প্রভাব খাটানো শুরু করে।

রাণী এলিজাবেথ শুরুতেই কোম্পানিকে তাদের যেকোনও প্রয়োজনে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া মুঘল সাম্রাজ্যের শক্তি কমে যাওয়ায় দিল্লি থেকে দূরবর্তী রাজ্যগুলোতে কেন্দ্রের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এর সুবিধা নিয়ে ব্রিটিশরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসা জোরদার করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।

এদিকে ইউরোপের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো ভারতে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে ব্রিটেনের জাতীয় শত্রু ফ্রান্সের ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ভাবিয়ে তোলে। ফলে তখন তারা ভারতের রাজনীতি দখলের পরিকল্পনা আঁকতে শুরু করে।

শুরুতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এক দক্ষ সেনাবাহিনী গড়ে তোলে। পাশাপাশি ভারতের উপকূলে তাদের অবস্থান ছিল শক্তিশালী। এছাড়া যেকোনও প্রয়োজনে তাদের ডাকে ব্রিটিশ নৌবাহিনী সাড়া দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। সামরিক দিক দিয়ে এগিয়ে থাকার কারণে ভারতের বিভিন্ন যুদ্ধে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়।

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ এবং ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর কোম্পানি বাংলার কর সংগ্রহের ক্ষমতালাভ করে। ভারতের রাজনীতির দখল নেওয়ার জন্য বাংলা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পুরো ভারতে প্রভাব তৈরির জন্য বাংলাই কেবল যথেষ্ট ছিল না।

এ কারণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে। এরপর পশ্চিম ভারতের মারাঠা এবং মহীশূরের রাজা টিপু সুলতানকে হারানোর পর পুরো ভারতই কার্যত তাদের অধীনে চলে যায়৷ মুঘল সম্রাটরা তখন পুতুল শাসকে পরিণত হয়। ১৮১৮ সালের হিসেব অনুসারে ভারতের দুই-তৃতীয়াংশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দখলে ছিল।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বর্তমান অবস্থা
মূলত ১৮১৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাঠামোর ভেঙে পড়ে। কিন্তু পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায় ১৮৭৪ সালে। এর প্রায় ১৩৫ বছর পর ২০১০ সালের আগস্টে আবারো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সচল হয়েছে। তবে এক ভারতীয় ব্যবসায়ীর হাত ধরে। তার নাম সঞ্জীব মেহতা। মূলত পূর্বের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে এই কোম্পানির নাম ছাড়া আর কোনও কিছুতেই মিল নেই।

৪৮ বছর বয়সী ভারতীয় ব্যবসায়ী সঞ্জীব মেহতা ২০০৫ সালে স্বল্প মূল্যে ইস্ট কোম্পানির পেটেন্ট ক্রয় করেন। এর পাঁচ বছর তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ভোগ্য পণ্যের ব্র্যান্ডে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি লন্ডনে বিলাসবহুল এক খাবারের দোকান চালু করেছেন। মাত্র ৩৫ জন কর্মীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানে মেহতার বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১২ মিলিয়ন পাউন্ড। সূত্র: আরব নিউজ, ডব্লিউআইওনিউজ, রোর মিডিয়া

ভারতের বিভিন্ন শহরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মুসলিমদের বিক্ষোভ সমাবেশ

ভারতের বিভিন্ন শহরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের বিরুদ্ধে মুসলিমরা প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ফ্রান্সে সম্প্রতি কাল্পনিক কার্টুন প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে প্রিয় নবী মুহাম্মাদ(সা.)-এঁর অবমাননা করায় এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট তাঁকে সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা মুসলিম সমাজ।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, ফ্রান্সে এ ধরনের কার্টুন ছাপানো কখনও বন্ধ হবে না। এর পাশাপাশি তিনি গোটা বিশ্বে ইসলাম ধর্ম সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে ভারতে গতকাল (বৃহস্পতিবার) মধ্য প্রদেশের রাজধানী ভোপালের ইকবাল ময়দানে হাজার হাজার মুসলিম সমবেত হয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদের উদ্যোগে ওই প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময়ে কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে ফ্রান্সে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে সেখানকার শাসকের ‘মুসলিম বিরোধী’ অবস্থানের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ নিবন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি এ সময়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের বিরুদ্ধে প্রিয় নবী (সা)–এঁর ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুনকে সমর্থন করা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ করেন।

কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ভারতে বাসরত মুসলিমদের আহত করেছেন, সেজন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত আমাদের এখন ফ্রান্স থেকে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেওয়া। ভোপালে প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হওয়া মুসলিমরা এদিন ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দেন। প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে কালো পতাকাও প্রদর্শন করা হয়। পরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ছবিও পোড়ানো হয়। অন্যদিকে, ভোপালের ইকবাল ময়দানে করোনা বিধি ভেঙে জমায়েতের অভিযোগে কংগ্রেস বিধায়ক আরিফ মাসুদ এবং অন্য প্রায় ২ হাজার লোকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় ভারতের মধ্য প্রদেশের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘মধ্য প্রদেশ শান্তির দ্বীপ। যারা এর শান্তিকে ব্যাহত করেছে তাদেরকে আমরা কঠোরভাবে মোকাবিলা করব। এক্ষেত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারার অধীনে মামলা দায়ের করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনও অপরাধীকে রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি যেই হোক না কেন।

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের মুম্বাইতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের ছবি সড়কের মধ্যে লাগিয়ে দেওয়ায় মানুষজন তা পদদলিত করছে। ওই ছবির ওপর দিয়েই যানবাহন চলাচল করেছে। ম্যাকরনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রসঙ্গে রাজা একাডেমির মাওলানা আব্বাস রিজভী বলেন, ‘মুম্বাইয়ের মুসলিমরা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ছবি পদদলিত করছে। মানুষজন, যানবাহন, কুকুর-বিড়াল সবই ওই পোস্টারের উপর দিয়ে যাচ্ছে। মহানবী (সা)-এঁর শানে ধৃষ্টতার জন্য এ ধরণের শাস্তি পাওয়া উচিত।’

অন্যদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ওই ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানকার শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতারা এ সময়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে ফ্রান্সের তৈরি পণ্য বয়কট করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের পোস্টারও পুড়িয়ে দেয়।

ছাত্র নেতা ফারহান জুবায়েরি বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইসলাম সম্পর্কে যে ধরণের মন্তব্য করেছে তা বরদাশত করা যায় না। ফ্রান্সের তৈরি পণ্যগুলো বিশ্বজুড়ে বয়কট করা হচ্ছে। এরফলে তিন দিনেই কয়েক বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এর মাধ্যমে ফ্রান্স বুঝতে পারছে যে সম্মিলিত শক্তি কী।#পার্সটুডে

মো. রায়হান কবির -যুগান্তরে প্রকাশিত
সম্মতি ছাড়াই যা কিছু আরও…

ঢাকা শহরের লোকাল বাসগুলো পকেটমার থেকে শুরু করে নানা ছলচাতুরির জন্য বেশ সমালোচিত। রাজধানীর লোকাল বাসের নিয়মিত যাত্রি, অথচ পকেট থেকে অন্তত একবার মোবাইল কিংবা মানিব্যাগ গায়েব হয়নি এটা অবিশ্বাস্যই বটে! বারেক মিয়া রাজধানীর খুবই সচেতন একজন লোকাল নাগরিক। লোকাল বা স্থানীয় হওয়ার সুবিধা হলো তার স্ব-স্থানের সকল ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি অবগত।

বারেক মিয়ার বাসা ফার্মগেট। যাচ্ছেন গুলিস্তান। উদ্দেশ্য নবাবপুর মার্কেট থেকে বাসার জন্য কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী পাইকারি দরে কিনবেন, যাতে টাকা বাঁচানো যায়। উনি ভালো করেই জানেন, এই টাকা বাঁচানোর জন্য গুলিস্তানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার অর্থ হলো টাকা হারানোর ঝুঁকির মধ্যে পড়া! তবু তিনি প্রায়ই যান।

বারেক মিয়া পেছনের পকেটে কোনো মানিব্যাগ রাখেন না, রাখেন সামনের পকেটে। আর মোবাইল সব সময় হাতেই রাখেন। এভাবে নিরাপদেই কাটছিল বারেক মিয়ার দিনগুলো।
আজ সেই নিরাপদ জীবনে ছন্দপতন ঘটল। বারেক মিয়া গুলিস্তান ধরে নবাবপুরের দিকে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ তার মনে হলো হাঁটুর দিকে শীত শীত অনুভ‚তি! ব্যাপার কী? এই গরমে হাঁটুর দিকে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাবের কারণ কী? অনুসন্ধানে নেমে তো চক্ষু চড়কগাছ! প্যান্টের কাপড় হাঁটু পর্যন্ত হা করে আছে! পকেটমার কখন যে, পকেট কেটে হাঁটু অব্দি ঝুলিয়ে দিয়ে মানিব্যাগটি হাতিয়ে নিয়েছে টেরই পাননি!

নিজেকে নিয়ে গর্ব করা বারেক মিয়ার নিজের উপর ঘেন্না হতে লাগল। অন্য দিনের তুলনায় মানিব্যাগে আজ টাকার পরিমাণ বেশিই ছিল। তাই আর সাতপাঁচ না ভেবে পল্টন থানার পরিচিত পুলিশের এক এসআইকে কল দিতে গিয়ে দেখেন মোবাইলে টাকা নেই!

কথায় আছে, বিপদ যখন আসে একা আসে না। ভাই-বোন, আত্নীয়-স্বজন, শ্বশুর বাড়ির লোকজন সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আসে! কিন্তু বারেক মিয়ার স্পস্ট মনে আছে, গতকালই মোবাইলে ত্রিশ টাকা রিচার্জ করেছেন। আর রিচার্জের পর মাত্র কয়েক মিনিট কথা বলেছেন। তাহলে বাকি টাকা গেল কোথায়? আজকাল মোবাইল চালানো গাড়ি চালানোর চেয়ে কম ঝামেলার না। সকল দিকে খেয়াল রাখতে হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ রিচার্জ করলে মিনিট, এসএমএস কিংবা এমবি (ইন্টারনেট) প্যাকেজ চালু হয়ে যায়।
বিভিন্নভাবে ধরা খেয়ে বারেক মিয়া এখন সঠিক রিচার্জ করতে শিখেছেন। ফলে মোবাইলে টাকা থাকার কথা। আবার বেশ কিছু কল এসে গান-কবিতা কিংবা জোকস শুনিয়ে অমুক-তমুক নম্বর চাপতে বলে। সেখানেও বিপদ। তাই এসব কল আসলে বারেক মিয়া হাত থেকে মোবাইল দূরে রাখেন, যাতে কোথাও কোনো চাপ না লাগে! এতো কিছু খেয়াল রাখার পরও মোবাইলে কেন টাকা থাকবে না!
বারেক মিয়া মানিব্যাগের কথা বেলামুল ভুলে গেলেন। তিনি টাকার খোঁজে মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে হাজির হলেন। সেখানে ঘন্টা খানেক অপেক্ষার পর যখন ডাক এলো, কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি জানাল ‘লাভ গুরু’ নামক এক ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বা ভ্যাস চালু করার কারণে দৈনিক তার এ্যাকাউন্ট থেকে এগার টাকা পঞ্চাশ পয়সা কেটে নেওয়া হয়!

বারেক মিয়া ক্ষেপে গেলেন, ‘আমার কি প্রেমের বয়স আছে যে আমাকে আবার প্রেম করার জন্য গুরু ধরতে হবে?’ শুনে কাস্টমার কেয়ারের রূপবতী তরুণী প্রতিনিধি বিগলিত হাসিতে সামনের দাঁতগুলো বিকশিত করে বললেন, ‘স্যার, প্রেমের কোনো বয়স আছে বলুন? আপনিই হয়তো মনের অজান্তেই নম্বর চেপে দিয়েছেন, পরে ভুলে গেছেন।’

মানিব্যাগ হারিয়ে বারেক মিয়ার মেজাজ এমনিতেই খারাপ, তার উপর দাঁত ক্যালানো রঙ-ঢং মার্কা কথা শুনে মাথায় আগুন ধরে গেল! বারেক মিয়া মিউ মিউ না করে রীতিমতো হুংকার ছাড়লেন, ‘আমার সম্মতি ছাড়া পয়সা কাটবেন, আবার মশকরা করবেন! এক্ষন আমার টাকা ফেরত দিন!’ কাস্টমার কেয়ারে অপেক্ষারত জনৈক যুবক বারেক মিয়ার কাটা পকেট দেখেই বুঝে যায় বেচারা শাঁখের করাতে আছেন। তাই তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, ‘চাচা, আজকাল সম্মতি নিয়ে কোন জিনিসটা হয়? মোবাইলের টাকাই হোক কিংবা ব্যাংকের টাকা-সবই লুট হয় সম্মতি ছাড়া! আর মোবাইল অপারেটররা তো এর জন্য দায়ী নয়, ধরতে হলে ধরুন গিয়ে ওই বিটিআরসি’কে। যারা নিয়ম কানুন বেধে না দিয়ে টাকার বিনিময়ে ওই সব ভ্যাস-ভুসের সঙ্গে চুক্তি করে।’

বারেক মিয়া হতাশ দৃষ্টিতে ফ্যাল ফ্যাল করে যুবকের দিকে তাকালেন। সত্যিই তো! পকেট প্রায় সবাই মারছে! কেউ ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে মারছে, আর কেউ মারছে মিষ্টি হেসে প্রকাশ্যে!

অক্টোবরেই আক্রান্ত ১৩৮ জন
ঢাকায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ঢাকায় বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরের রোগী। অক্টোবরেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাতজন। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর মূল মৌসুম শেষ হওয়ার পর বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু রোগী। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিনের থেমে থেমে বৃষ্টিতে এডিস মশার লার্ভা বংশবিস্তার ও বৃদ্ধির সুযোগ পেয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার হওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমেছে। দ্রুত মশার বংশবিস্তারের উৎস নির্মূল করলে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৬০২ জনের। গতকাল ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২৯ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চলতি বছর ডেঙ্গু সন্দেহে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। আইইডিসিআর এখন পর্যন্ত দুটি মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে একজনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৯৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫ জন, মার্চে ২৭ জন, এপ্রিলে ২৫ জন, মে মাসে ১০ জন, জুনে ২০ জন, জুলাইতে ২৩ জন, আগস্টে ৬৮ জন, সেপ্টেম্বরে ৪৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা এর আগের সব বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, ২০১৯ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু জ্বরে মারা গিয়েছেন ১৭৯ জন। এ বছর ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব যাচাইয়ে জরিপ পরিচালতি হয়েছে। জরিপে দেখা যায়, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ২৫টি ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে। ‘ডিসেমিনেশন অন মুনসুন এডিস সার্ভে-২০২০’ নামের জরিপের ফলাফলে এ তথ্য উঠে আসে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ১০০টি এলাকায় (ডিএনসিসি ৪১টি এবং ডিএসসিসি ৫৯টি) দুই হাজার ৯৯৯টি বাড়িতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের ভেক্টরের ওপর এই জরিপ কাজ পরিচালিত হয়। জরিপে বলা হয়েছে, উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৬টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার সূচক ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। তবে উত্তরে ১৭ নম্বর এবং দক্ষিণে ৫১ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি হলে তাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়। সুত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নাটক-সিনেমায় বিয়ের দৃশ্যে ‘কবুল’ উচ্চারণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ

দেশের নাটক-সিনেমায় বিয়ের দৃশ্য ধারণ করার সময় ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয় সচিব এবং বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডকে (বিএফসিবি) বিবাদী করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান নোটিশটি পাঠান। নোটিশ পাওয়ার তিনদিনের মধ্যে সিনেমা, নাটকের বিয়ের দৃশ্যায়নে ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আরজি জানানো হয়েছে। অন্যথায় এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে বিভিন্ন সিনেমা, নাটক এবং ভিডিওর বিভিন্ন দৃশ্যে বিয়ের দৃশ্যায়নে মুসলিম অভিনেতা ও অভিনেত্রীরা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পূরণসহ “কবুল” শব্দ উচ্চারণ করে থাকেন। এর মাধ্যমে তারা মুসলিম আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী হিসেবে গণ্য হবেন। তাই মুসলিম আইন অনুসারে বিয়ের ক্ষেত্রে সরাসরি মুসলিম আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ হবে। অভিনয়ের যুক্তিতে এই বিয়েকে অস্বীকার করা যাবে না।’

নোটিশ পাওয়ার তিন দিনের মধ্যে সিনেমা-নাটকের বিয়ের দৃশ্যায়নে ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তা না হলে প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিস্তারিত আসছে…

‘এক ঘণ্টার ডিসি’ হলেন কলেজছাত্রী

বগুড়ায় এক ঘণ্টার জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্ব পেলেন ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্ক ফোর্স (এনসিটিএফ) বগুড়ার সভাপতি কলেজছাত্রী পুষ্পা খাতুন। আজ বুধবার জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ‘গার্লস টেকওভার’ কর্মসূচির আওতায় ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) আয়োজনে তাকে জেলা প্রশাসকের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বগুড়ার সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের চতুর্থ বর্ষে ছাত্রী ও এনসিটিএফের জেলা সভাপতি পুষ্পা খাতুন এক ঘণ্টার জন্য বগুড়া জেলার জেলা প্রশাসকের ‘প্রতীকী দায়িত্ব’ পালন করেন। জেলা প্রশাসক জিয়াউল হকের কাছ থেকে এ সময় প্রতীকীভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন পুষ্পা খাতুন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

প্রতীকী ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুষ্পা খাতুন বগুড়াকে শিশুবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলা, বাল্যবিবাহের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, শিশুর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করে তাদের নেতৃত্ব বিকাশে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সুপারিশমালা প্রদান করেন।

 

এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি শিশুদের প্রতিনিধি পুষ্পার মাধ্যমেই সব শিশুকে মুক্তমনা হিসেবে বেড়ে উঠে দেশের সর্বোচ্চ পদগুলো অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান।  তিনি বলেন, ‘গার্লস টেকওভার কর্মসূচির মাধ্যমে কন্যাশিশুরা উৎসাহিত হবে এবং নিজেদের স্বপ্নপূরণেও অঙ্গিকারবদ্ধ হবে। শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বগুড়াকে শিশুবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও তিনি সর্বদা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দেন।’

এনসিটিএফ বগুড়ার জেলা ভলেন্টিয়ার গণমাধ্যমকর্মী সঞ্জু রায় এবং পারমিতা ভট্টাচার্য স্বর্ণার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গার্লস টেকওভার কার্যক্রমে এ সময় উপস্থিত ছিলেন-অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুম আলী বেগ, সহকারী কমিশনার (গোপনীয়) আশরাফুর রহমান এবং এনসিটিএফ বগুড়ার উপদেষ্টা দৈনিক করতোয়ার বার্তা সম্পাদক প্রদীপ ভট্টাচার্য শংকরসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। সূত্র: আমাদের সময়

বণিক বার্তায় প্রকাশিত
কৃষিপণ্য পরিবহনে ট্রাক্টর যখন সংযোগের বাহন

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশ আজ অনেকটাই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিপরীতে কমছে কৃষিজমি। কৃষি শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান হারে শিল্প, পরিবহন, নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে স্থানান্তরের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে শ্রমিক সংকট। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে আসবে। আধুনিক ও বাণিজ্যিক কৃষির প্রয়োজনে দেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য। চাষাবাদ ও সেচকার্যে যন্ত্রের ব্যবহার প্রায় ৯৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। চাষাবাদে যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রেখে চলেছে ট্রাক্টর। তবে সাম্প্রতিক কালে এ যন্ত্রটি শুধু চাষাবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এর বহুমুখী ব্যবহার দেশের গ্রামীণ জনপদে নানামুখী প্রভাব রাখছে। গ্রামীণ কৃষিপণ্য ও ভোগ্যপণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম এখন ট্রাক্টর। প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষিতের হার বৃদ্ধি পেলেও সনাতন পদ্ধতির কৃষিকাজে এ প্রজন্মের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এরূপ প্রেক্ষাপটে আগামী দিনের শিক্ষিত যুবকদের কৃষিকাজে সম্পৃক্তকরণে দেশে যান্ত্রিক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। সেখানে তরুণদের আয় উপার্জনের একটি বড় মাধ্যম হচ্ছে এ ট্রাক্টর। আবার কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি মানেই ট্রাক্টরের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। কেননা গত কয়েক দশকের ব্যবধানে দেশের কৃষিপণ্য উৎপাদন ছাড়িয়েছে সাত কোটি টন। এসব কৃষিপণ্য কৃষকের ক্ষেত থেকে বাজারে আনতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে ট্রাক্টর। কেননা এ বাহনটিই একমাত্র পরিবহন ও সহজলভ্য হিসেবে পণ্য পরিবহনে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশে ট্রাক্টরের আগমন ঘটে স্বাধীনতা-পূর্বকালে, প্রথমত চা বাগান ও চিনিকলের মাধ্যমে। ষাটের দশকে কুমিল্লায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক স্বনামধন্য কীর্তিমান আখতার হামিদ খান কয়েকটি ট্রাক্টর আনেন এবং তা দিয়ে কুমিল্লার কোন কোন এলাকায় ট্রাক্টরের সাহায্যে কীভাবে চাষাবাদ করা যায় তা প্রদর্শন শুরু করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ও বাংলাদেশে ট্রাক্টরের প্রবেশাধিকার চা বাগান ও চিনিকলে সীমিত থাকে। স্বাধীনতা-পূর্বকালে সত্তরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময়ে তদানীন্তন সরকার ও তখনকার কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মাধ্যমে একপর্যায়ে কিছু ট্রাক্টর আমদানি করে কিন্তু নানা কারণে তা কৃষিকাজে তেমন ব্যবহূত হয়নি, অব্যবহূত থেকে তা একসময় নষ্টও হয়ে যায়।

স্বাধীন দেশে আধুনিক যান্ত্রিক চাষাবাদের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সময় ও শ্রমের সাশ্রয়ের জন্য মানুষের আগ্রহ একসময় বাড়তে থাকে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে পাওয়ার টিলারের যাত্রা শুরু হয় এবং তা জনপ্রিয় হতে থাকে। মানুষের কৃষিযন্ত্রের সঙ্গে এভাবেই পরিচিতি ঘটে। কিন্তু পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের মধ্যে চাষাবাদে গুণগত কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। প্রাথমিকভাবে ট্রাক্টরের সাহায্য চাষাবাদে খরচ কমানো যায়, তাছাড়া ট্রাক্টরের লাঙল মাটির প্রায় ছয় ইঞ্চি গভীরে পৌঁছতে পারে, যা পাওয়ার টিলারের পক্ষে দুই বা তিন ইঞ্চির বেশি পৌঁছা সম্ভব হয় না। তেত্রিশ ডেসিমলের একটি জমি চাষে ট্রাক্টরের প্রয়োজন পঁচিশ বা ত্রিশ মিনিট, যা পাওয়ার টিলারের জন্য প্রয়োজন দুই ঘণ্টার ও অধিক সময়। বারবার চাষাবাদের ফলে জমির উর্বরতা কমে যাওয়ার কারণে মাটির অধিক গভীরে চাষ দিতে পারলে নিচের মাটি ওপরে আসে, ফলে মাটির উর্বরতাশক্তি বৃদ্ধি পায়। এ কারণে বাংলাদেশে যান্ত্রিক চাষাবাদের সুফল লাভের জন্য জমিতে ট্রাক্টরের মাধ্যমে চাষ করা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদে আজকের যে ব্যপ্তি আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেখানে সরকারের সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টর একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। ১৯৯৩ সালে আমরা কৃষি যান্ত্রিকীকরণের কথা চিন্তা করি। তখন দেশে পাওয়ার টিলারে চাষাবাদ শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশ চিনি শিল্প করপোরেশন তাদের নিজস্ব খামারে কিছুসংখ্যক বেলারুশ ট্রাক্টর ব্যবহার শুরু করেছে এবং টি গার্ডেনে অল্পকিছু ট্রাক্টর ব্যবহার জনপ্রিয় হতে শুরু হলে নব্বইয়ের দশকের প্রথমার্ধে দ্য মেটাল প্রাইভেট লিমিটেড কৃষিতে ট্রাক্টর ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ভারত থেকে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ট্রাক্টর আমদানি শুরু করে। প্রথমে আমরা কুমিল্লা জেলায় কাজ শুরু করি। ট্রাক্টরে চাষাবাদ করা যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ও দোলাচলের মুখোমুখি হই। কৃষকদের চিন্তা ছিল ছোট জমিতে কীভাবে ট্রাক্টর ঘুরবে। ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করলে ফসল ফলবে তো? অন্যের জমি বা পাশের জমি মাড়িয়ে ট্রাক্টর কীভাবে উদ্দিষ্ট জমিতে আসবে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হাল ছেড়ে না দিয়ে কৃষকদের সঙ্গে আমরা কাজে লেগে থাকলাম। জমি কৃষকের মনমতোই তৈরি হতে লাগল। এভাবে কৃষকদের মধ্যে একটু একটু করে ট্রাক্টরের প্রতি আস্থার সঞ্চার হওয়া শুরু হলো।

ট্রাক্টর যখন কোনো জমিতে চাষ করত তা দেখে পাশের জমির মালিকরাও অনুরোধ করা শুরু করল যেন তাদের জমিও ট্রাক্টরে চাষ করে দেয়া হয়। এতে কৃষি শ্রমিকও কম লাগল আর সময়ও বেঁচে গেল। ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদে বহু রকম সুবিধা দেখে কৃষক অত্যন্ত খুশি। এভাবে কৃষকের সাকল্য খরচ কমে গেল, পাশাপাশি ফলনও বেশি হলো। ক্রমান্বয়ে ট্রাক্টরের চাহিদা বাড়তে শুরু করল। ক্রমান্বয়ে কৃষক ট্রাক্টরে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে আরো অন্যান্য কোম্পানি ও ট্রাক্টর আমদানিতে আগ্রহী হয় এবং বাংলাদেশে ট্রাক্টর ব্যবসা একসময় একটি শিল্পে পরিণত হয়ে ওঠে, যা বাংলাদেশের কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোতে খুব প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করছে। এরই মধ্যে সরকার ট্রাক্টরের মাধ্যমে চাষাবাদকে জনপ্রিয় করার জন্য আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনা প্রদান করে। সরকারের সহায়ক ভূমিকায় বাংলাদেশে ট্রাক্টরের চাষাবাদ ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। এখন বাংলাদেশে প্রায় সত্তর হাজার ট্রাক্টর বিদ্যমান, যার মধ্যে পঞ্চাশ হাজার ট্রাক্টর শুধু চাষাবাদে নিয়োজিত। ফলে বাংলাদেশের চাষাবাদে ব্যাপক গুণগত পরিবর্তন এসেছে। চাষাবাদে যন্ত্রের ব্যবহার প্রায় শতভাগের কাছাকাছিতে পৌঁছে যাওয়ায় সরকার চাষাবাদের যন্ত্রে জমি কর্ষণে আর্থিক ভর্তুকি প্রদান এখন বন্ধ করে দিয়েছে, যদিও ধান কাটা, মাড়াই ও চারা রোপণ যন্ত্রে এখনো ব্যাপকভাবে সরকার আর্থিক প্রণোদনা বা ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাক্টর চাষাবাদ ছাড়াও গ্রামীণ অর্থনৈতিক জীবনে এক ব্যাপক বিপ্লব সাধন করেছে। সে বিপ্লবটি এনেছে গ্রামীণ যানবাহন কাঠামোতে পণ্য পরিবহনে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করে। বাংলাদেশে গ্রামীণ যানবাহনের মধ্যে পণ্য পরিবহনে গরুর গাড়ি একটি অপরিহার্য বাহন ছিল। কারণ স্বল্প দূরত্বে স্বল্প পণ্য পরিবহনের জন্য আর্থিকভাবে ট্রাক বা মিনি ট্রাক ব্যয়বহুল, তাছাড়া এসব পরিবহন ভাড়া করার জন্যও দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হয়। ট্রাক্টর কৃষিকাজের পরে একটি ট্রলির সাহায্যে সহজে পণ্য পরিবহন করতে পারে। বাংলাদেশে এককভাবে কৃষিপণ্য পরিবহনও একটি বড় বিষয়। ২০১৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশে শুধু চাল, গম, ভুট্টার উৎপাদন হয়েছে ৩৮১.৪১ লাখ টন। নানা পর্যায়ে এসব শস্যের সঙ্গে পরিবহনের প্রশ্ন সম্পৃক্ত। প্রাথমিকভাবে জমি থেকে ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদিকে বাড়িতে বা চাতালে নিয়ে যেতে হয়। এ শস্যকে আবার রাইসমিল কিংবা বাজারেও নিয়ে যেতে হয়। নানাভাবে এসব পরিবহনে পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় যেমন বড় একটি ইস্যু, তেমনি দ্রুততর পরিবহন ও ব্যবসায়িক কারণে খুব প্রয়োজন।

তাই এসব শস্যপণ্য পরিহনে ট্রাক্টর যেমন একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হতে পারে, তেমনি তা পণ্য পরিবহন ও ট্রাক্টরের ব্যবহারের বহুমুখিতারও একটি বিষয় হতে পরে। বাংলাদেশে বার্ষিক শস্য উৎপাদনের বিষয়টি বিবেচনায় আনলে শুধু শস্য পরিবহনে ট্রাক্টরের ব্যবহার খুব তাত্পর্যপূর্ণ মনে হবে। শস্য বোঝাতে চাল, গম, ভুট্টার বাইরেও ডাল, তেলজাতীয় সব শস্যদানা, আলু, তরমুজ ও শাকসবজি ইতাদিও বোঝায়। বাংলাদেশে বার্ষিক শস্য উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় সাত কোটি টন।

বর্তমানে বাংলাদেশ আলু উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম স্থানে অবস্থান করছে। বছরে বাংলাদেশে আলু উৎপাদন ছাড়িয়েছে প্রায় এক কোটি টন। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে দশম স্থানে অবস্থান করছে। এর বইরেও মৌসুমি ফল যেমন আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদনের যে প্রবাহ শুরু হয়েছে তাতে যুক্ত হয়েছে নানা নতুন নতুন জাতের ফলও যেমন ড্রাগন ফল, মাল্টা, এভোকাডো, কোকো, আঙুর, পিচফল, রাম্বুটান ইত্যাদি। শুধু সবজি উৎপাদন হয় বর্তমানে ষাট ধরনের দুইশ জাতের। আমাদের নিজেদের আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, কলা, লেবু ইত্যাদি নানা জাতের ফল তো আছেই। এসবের বাণিজ্যিক উৎপাদনও বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথমসারির ফল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করেছে।

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য উৎপাদনের এ সমীক্ষায় কৃষিপণ্য পরিবহনও যুক্তিযুক্তভাবে জড়িত। প্রথমত এসবের প্রক্রিয়াকরণ স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং তারপর বাজারজাত করা। এ ব্যাপারে পরিবহন ব্যয় কমানো, দ্রুত পরিবহন এবং গ্রামীণ সড়কে স্বচ্ছন্দে চলাচল, কৃষকের খামার বা বাড়ি, বাগান ইত্যাদিতে যাওয়ার মতো পরিবহন এসব প্রশ্নও এসেই যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুফলের কথা আলোচনা করলে মোটা দাগে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উঠে আসে। প্রথমেই আলোচনায় আসে গ্রামীণ বা পল্লী সড়কের প্রসঙ্গ। বর্তমানে ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে পল্লী সড়ক বা গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন হয়েছে ১১৩২১০ কিলোমিটার। এটি বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি বড় মাইলফলক, যা কেবল আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের ফলে সম্ভব হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশির ভাগ জনগণ নিজগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ দুই কিলোমিটারের মধ্যে পাকা সড়ক ব্যববহারের সুবিধা পায়, যে সড়ক আবার মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে গ্রামীণ হাটবাজার কিংবা উপজেলা সদরে বা অন্য কোনো বড় মোকাম বা গ্যারেজে কৃষক সহজেই তার উৎপাদিত শস্য নিতে পারছেন। এতে কৃষক যেমন তার ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন, সঙ্গে তার এ বাড়তি আয় নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি করছে এবং নতুন কর্মসংস্থানেরও। গ্রামীণ বা পল্লী সড়ক যোগাযোগের এ সুযোগ-সুবিধা তৈরি করেছে ট্রাক্টরের জন্য। ট্রাক্টর কৃষকের চাষের কাজের পর গ্রামীণ সড়কে কৃষিপণ্য পরিবহন করে বাড়তি রোজগারের সংস্থান করতে পারছে, যা কৃষকের মাসিক লোন বা লিজের কিস্তি পরিশোধে সহায়তা করছে।

আগেই বর্ণনা করেছি বর্তমানে যে ট্রাক্টর কৃষকের হাতে পৌঁছেছে তা কৃৃষককে মাসিক কিস্তি সুবিধায় লোন বা লিজে নিতে হয়েছে। তাছাড়া এ লিজ-লোন বা মাসিক কিস্তি প্রদানে ট্রাক্টরের মালিক হওয়ার সুবিধায় গ্রামে উদ্যোক্তা শ্রেণীও সৃষ্টি হয়েছে, যারা নিজেদের ট্রাক্টর দিয়ে অন্যের জমি চাষ করে এবং বাকি সময় কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যাপৃত হয়। বাংলাদেশে বোরো, আমন ও আউশ এই তিনটি ধান বুননের সময়কে বিবেচনায় নিলে ট্রাক্টরকে চাষাবাদের কাজে নিয়োগের সময় সর্বোচ্চ তিন মাস কিংবা এর কমও হতে পারে। বছরের বাকি নয় মাস যদি ট্রাক্টর কর্মহীন থাকে তাহলে ট্রাক্টরের রোজগার আর প্রায় থাকেই না বলা চলে। ফলে কৃষক বা গ্রামীণ উদ্যোক্তার পক্ষে লোন বা লিজের মাসিক কিস্তি প্রদানও সম্ভব হয়ে উঠবে না।

যেহেতু জমি চাষের জন্য ট্রাক্টর একটি অপরিহার্য কৃষিযন্ত্র, যা চাষের খরচ কমানো, শ্রমনির্ভরতা হ্রাস করা এবং সময় সাশ্রয়ের জন্য কৃষিকাজে এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যথেষ্ট আলোচনার এখন আর দরকার আছে বলে মনে হয় না। এটি বোধগম্য যে ট্রাক্টরের ব্যবহারে কৃষককে উৎসাহিত করা খুব প্রয়োজন। যেহেতু শুধু কৃষিকাজ করে প্রয়োজনীয় রোজগার বা ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ সম্ভব নয়, তাই ট্রাক্টরের বহুমুখী ব্যবহারও খুব প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে গ্রামীণ সড়কে কৃষিপণ্য পরিবহন যেমন করা যায়, তেমনি ভোগ্যপণ্য পরিবহনও করা যায়। গ্রামীণ হাটবাজার, মোকাম, গঞ্জ ইত্যাদিতে কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন বর্তমান সময়ে ব্যবসার গতিশীলতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। ট্রাক্টর এক লিটার ডিজেলে দশ থেকে বারো মাইল যাতায়াত করতে পারে, যা একটি ট্রাক বা এ রকম পরিবহন করতে পারে পাঁচ বা ছয় মাইল। তাছাড়া ট্রাক্টরের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও খুবই কম। ট্রাক্টরে ব্যবস্থাপনার জন্য একজন ড্রাইভার যথেষ্ট। ফলে মাইলপিছু যাতায়াত খরচ ট্রাক্টরে ট্রাকের বা এমন পরিবহনের এক-চতুর্থাংশ। ট্রাক্টরে স্বল্পদূরত্বে স্বল্পসংখ্যক মালামালও পরিবহন করা যায়। ফলে ট্রাক্টর কৃষিকাজের বাইরেও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য একটি প্রয়োজনীয় মাধ্যম।

যে বিষয়টির দিকে আমাদের নজর দিতে হবে তা হচ্ছে ট্রাক্টরের ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণ। সে বিষয়টি অর্জন করা খুব কঠিন হবে না। যেসব কোম্পানি ট্রাক্টরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তারা ড্রাইভার ট্রেনিং ও ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহণের জন্য ড্রাইভারদের সহায়তা করতে পারে। কৃষিপণ্য পরিবহনের প্রয়োজনীয়তা এবং চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে নাসিমন, করিমনের মতন কন্ট্রোলিং গিয়ার কিংবা ব্র্যাক, স্পিডমিটার ইত্যাদিবিহীন ডিজেল ইঞ্জিনের ব্যবহার বিভিন্ন স্থানে বেড়ে যাচ্ছে, যা সড়ক পরিবহনকে বিপদগ্রস্ত করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রিকশাভ্যান কিংবা ব্যাটারিচালিত যান। এসব যানও পরিবহন ব্যবস্থাকে হুমকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। কম ওজনের বা স্বল্প মালামাল স্বল্প দূরত্বে পরিবহনের জন্য ভোক্তা এসব পরিবহন ব্যবহার করছে। এ ক্ষেত্রে ভোক্তার চাহিদা মেটানোর জন্য ট্রাক্টর যথেষ্ট সহায়ক একটি যান। বর্তমানে সড়কে ট্রাক্টর চলাচলে কোনো নীতিমালা না থাকার ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ট্রাক্টরের মালিকদেরও রোজগার বন্ধ হচ্ছে। এতে গ্রামীণ উদ্যোক্তারাও কৃষিযন্ত্রে বিনিয়োগে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।

ট্রাক্টরের মাধ্যমে যান্ত্রিকীকরণ ও পণ্য পরিবহনকে এগিয়ে নিতে হলে কোনো সার্ভিস প্রভাইডারকে ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাংকঋণ সহজলভ্য করতে হবে। কৃষি পর্যায়ে বাকিতে বিক্রির মাধ্যমে আমাদের ঋণের বোঝা ভারী হয়ে গেলে, সারা দেশ থেকে কিস্তি আদায়ের মতো ক্ষমতা বা সুবিধা না থাকলে আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানও কখনো বড় সমস্যায় পড়ে যেতে পারে। তখন যান্ত্রিকীকরণের মূল কাজই ব্যাহত হবে। কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে হলে আমাদের কৃষকদের সরাসরি ব্যাংকঋণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ব্যাংক ব্যবস্থায় সাধারণত ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, রিপারের মতো যন্ত্রপাতির জন্য কৃষক এখনো সরাসরি ব্যাংকঋণ পেতে নানান অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। সরকার কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কৃষকের জন্য ভর্তুকি নিশ্চিত করতে পেরেছে। কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কহারও সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণীত কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালা প্রগতিশীল, কৃষিবান্ধব ও সময়োপযোগী। তবে ট্রাক্টর কেনায় সরকারের যে ঋণ নীতিমালা রয়েছে সেখানে দুটি বিষয় বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। ঋণের সুদ কম থাকাই বাঞ্ছনীয় এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়কে ফসল তোলার মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা উচিত। তাহলে কোনো ঋণ নষ্ট হবে না, কৃষক সময়মতো ঋণ পরিশোধে সক্ষম হবেন। আমি মনে করি কৃষি উন্নয়নের জন্য আমাদের সবার কমিটমেন্ট আমাদের কৃষিকে আধুনিকতার পথে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণের প্রথম সোপান ট্রাক্টরের ব্যবহার জমি কর্ষণ। একটি ট্রাক্টরের জন্য কৃষক বা উদ্যোক্তাকে ১০-১২ লাখ টাকা খরচ করতে হয়, নিতে হয় লোন ব লিজ। একটি ট্রাক্টরের নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল আছে। বাংলাদেশে রক্ষণাবেক্ষণকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয় না বিবেচনায় দশ-বারো বছরের মধ্যে ট্রাক্টরের কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে নতুন ট্রাক্টর কিনতে হয়। যদি ট্রাক্টর ব্যবহার করে কৃষক বা উদ্যোক্তা তাদের ক্যাপিটালের রিটার্ন এবং লাভজনকতার নিরিখে প্রত্যাশিত উপার্জন না করতে পারেন তাহলে আমাদের কৃষিও ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এ কারণে ট্রাক্টরের বহুমুখী ব্যবহার প্রয়োজন, যা প্রথমত কৃষিপণ্য পরিবহনের সুযোগ। তাছাড়া সম্প্রতি সারা বাংলাদেশে মিউনিসিপ্যালিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়ও ট্রাক্টরের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে কাজ চলছে। ওয়াসার জরুরি পানি পরিবহনও এমন একটি কাজ। এসবই কোনো না কোনোভাবে পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই পরিবহন ব্যবস্থায় ট্রাক্টর ব্যবহারের সরকারি নীতিমালা সহায়তা কৃষিকাজে ট্রাক্টরের ব্যবহার বৃদ্ধিকে সংকটমুক্ত করবে।

প্রকৌশলী সাদিদ জামিল: ব্যবস্থাপনা পরিচালক

দ্য মেটাল প্রাইভেট লিমিটেড

সপ্তাহের শেষে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা

সপ্তাহের শেষে সারা দেশে ফের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবারের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকা বিভাগ থেকে বিদায় নিয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় অবশিষ্টাংশ বিদায় নিতে পারে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ অস্থায়ীভাবে মেঘলাসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুই এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

প্রেমিককে বাদ দিয়ে অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা, ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ফারিয়া তাবাসসুম রুম্পা পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় ভাইয়ের ভাড়া বাসায় আত্মহত্যা করেছেন। প্রেমিককে বাদ দিয়ে অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার কন্দর্পপুর গ্রামে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আটঘরিয়া থানা পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় রুম্পার বাবা ফরিদ উদ্দিন মণ্ডল একটি ইউডি মামলা করেছেন।

জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচরা গ্রামের ফারিয়া তাবাসসুম রূম্পা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি থাকতেন শামসুন্নাহার হলে। রুম্পার বাবা ফরিদ উদ্দিন মণ্ডল পেশায় সরকারি চাকরিজীবী। রুম্পার বড় ভাই আটঘরিয়ায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। আটঘরিয়ার কন্দর্পপুরে ভাইয়ের ভাড়া বাসায় ছিলেন রুম্পা। সেখানেই সোমবার তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুম্পার সঙ্গে একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তার পরিবার থেকে সেই ছেলেকে বাদ দিয়ে অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। সে কারণেই রুম্পা আত্মহত্যা করতে পারেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে রুম্পার সহপাঠী হাসনাত আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ক্লাস সেভেন থেকে রুম্পার সাথে একটি ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রুম্পার সাথে যে ছেলের সম্পর্ক ছিল সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হওয়ায় রুম্পার পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি। এটা নিয়েই পরিবারে দ্বন্দ্ব চলছিল। হয়তো জোর করেই অন্যত্র বিয়ে দিতে চেয়েছিল পরিবার। আর সে কারণেই রুম্পা আত্মহত্যা করতে পারে।’

তবে পছন্দের ছেলেকে বাদ দিয়ে অন্যত্র বিয়ে ঠিক করায় রুম্পা আত্মহত্যা করেছেন কি না, এ বিষয়ে কথা বলতে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে স্বজনরা এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘রুম্পা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি।’

ওসি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহত রুম্পার বাবা থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। প্রেমঘটিত একটি বিষয় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে আসল ঘটনা কী ছিল তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ সূত্র: আমাদের সময়