স্থপতি মাসুম কবির আর নেই

স্থপতি মাসুম কবির আর আমাদের মাঝে নেই, ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন
আজ ৮ই এপ্রিল ২০২১ দুপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তার কর্মজীবনের পুরো সময়টাই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন স্থাপত্য চর্চায় । তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অসংখ্যা স্থাপনা নির্মান হয়েছে।সদাহাস্যজ্জ্বল এই মানুষটাকে হারিয়ে তার সহকর্মীগন এবং পরিচিত জনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

তাসিনকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুনী স্থপতির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, তিনি সকলের কাছে তার রুহের জন্য মাগফেরাত কামনা করেছেন।

ভার্চুয়ালি উদযাপন করতে হবে নববর্ষ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে জনসমাগম এড়িয়ে এবার ভার্চুয়ালি নববর্ষ উদযাপন করতে হবে। আজ বুধবার এমন নির্দেশনার চিঠি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

আগামী ১৪ এপ্রিল বাংলা ১৪২৮ সনের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। গত কয়েক বছর ধরে বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে গত বছরও নববর্ষ উদযাপন করা যায়নি।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মনিরুল আলম বলেন, ‘এই রকম অবস্থায় তো ফিজিক্যালি নববর্ষ আমরা পালন করতে পারব না। বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। করোনার এখন যে অবস্থা সেই অনুযায়ী নববর্ষ পালনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জনসমাগম করা যাবে না, ভার্চুয়ালি যতটা করা যায়। সবার আগে আমাদের জনস্বার্থ দেখতে হবে।’

 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (সাংস্কৃতিক চুক্তি শাখা) আ স ম হাসান আল আমিন বলেন, ‘একটা নির্দেশনা গিয়েছে যে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে নববর্ষ উদযাপনে কোনোভাবেই জনসমাগম করা যাবে না। স্বল্প পরিসরে ভার্চুয়ালি বা অনলাইনে নববর্ষের অনুষ্ঠান করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্দেশনাটি আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে এই নির্দেশনার চিঠিটি পাঠিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এই চিঠি দেয়া হয়েছে।’

ছেলের বিয়ের দিন মা জানতে পারেন হবু পুত্রবধূ তারই মেয়ে, অতঃপর..!

ছেলের হবু বউকে দেখে বিয়ের দিন সন্দেহ হয় মায়ের। পরে জানা যায়, ছেলের বউ মানে হবু পুত্রবধূ মূলত তারই মেয়ে, যে হারিয়ে গিয়েছিল বহু বছর আগে। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে চীনের সুঝোকু প্রদেশে।

জানা গেছে, বিয়ের দিন ছেলের বউয়ের হাতে একটি দাগ দেখে সন্দেহ হয় মায়ের। এতে মেয়েটির বাবা-মায়ের কাছে প্রশ্ন করা হয় কন্যাসন্তানটি কি তাদের দত্তক নেওয়া কিনা। পরে জানা যায়- প্রায় ২০ বছর আগে ওই মেয়েকে দত্তক নিয়েছিলেন তারা।

হাতের ওই একটি দাগ থেকেই মেয়েটির আসল পরিচয় বেরিয়ে আসে। এরপর ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়। মেয়েটি বিয়েতে আপত্তি জানায়। কিন্তু সমস্যার সমাধান করে দেন সেই মা-ই।

তিনি জানান, ছেলেটিও নাকি তার দত্তক নেওয়া, তাই বিয়ে করতে কোনও সমস্যা নেই। মেয়েকে খুঁজে পাওয়ার সমস্ত আশা হারানোর পর এই ছেলেকেই দত্তক নিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

সূত্র : আজকাল।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মা-বাবা-নানিকে গুলি করে হত্যার পর দু’ভাইয়ের আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস স্টেটের ডালাস সংলগ্ন এলেন সিটির এক বাংলাদেশি পরিবারের ৬ সদস্যই খুন হয়েছেন। সোমবার ভোর রাতে এলেন সিটির পুলিশ টেলিফোন পেয়ে ঐ বাসায় গেলে নৃশংসভাবে হত্যার শিকারদের লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক বর্ণনায় পুলিশ জানায়, দু’ভাই মিলে তাদের মা-বাবা, নানি এবং একমাত্র বোনকে হত্যার পর নিজেরাও আত্মহত্যা করেছে।

এলেন সিটি পুলিশের সার্জেন্ট জন ফেলী গণমাধ্যমকে জানান, সম্ভবত, গত শনিবার এমন নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। ১৯ বছর বয়সী একজনের ফেসবুকের স্ট্যাটাসে এই পরিস্থিতির বর্ণনা করা হয়েছে। পুলিশের মতে ‘আত্মহত্যার প্রসঙ্গ’-তে রয়েছে, হতাশার ধারাবিবরণী।

ক্যারেন ফেল্লা নামের ওই পরিবারের এক প্রতিবেশী বলেন, যথারীতি আমরা রবিবার কাজে গেছি। কিছুই বুঝিনি যে, ওরা কেউ আর বেঁচে নেই। এই পরিবারের ব্যাপারে তাদের বেশি ধারণা নেই।

ফেল্লা নিহত পরিবারের একমাত্র তরুণীর ব্যাপারে বলেন, সে খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল। আমার মেয়ের স্কুলেই পড়তো।

কেভিন পাটেল (২৮) নামক আরেক প্রতিবেশী জানান, তাদের বিষয়ে খুব বেশি জানতাম না। তবে তারা সুখী পরিবার ছিল বলেই মনে হতো। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় কাজ থেকে ফিরেই দেখি পুলিশের উপস্থিতি। অবাক হয়েছি ঘটনা জেনে।

বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের সেক্রেটারি নাহিদা আলী হতাশার সাথে জানান, এমন সংবাদে সকলেই হতভম্ব। শোকাচ্ছন্ন গোটা কমিউনিটি। তৌহিদুল ইসলাম (৫৬)  খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তার স্ত্রী আইরিন ইসলাম নীলাও (৫৫) আসতেন কমিউনিটির অনুষ্ঠানে। সব সময় তারা দুই পুত্র তানভির তৌহিদ (২১) এবং ফারহান তৌহিদ (১৯) কে নিয়ে উচ্ছ্বাস করতেন। একইভাবে মেধাবী কন্যা পারভিন তৌহিদকে (১৯) নিয়েও তার অহংকারের শেষ ছিল না। পারভিন পড়তেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। সপ্তাহখানেক আগে তাকে নিউইয়র্ক থেকে বাসায় নেয়া হয়। ফারহান গত বছর ভর্তি হয়েছিলেন অস্টিনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে। তানভিরও  পড়তেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের অস্টিনে। তার এবারই গ্র্যাজুয়েশনের কথা। তবে ফারহান আর পারভিন ছিলো যমজ। এমন একটি পরিবারের সকলেই একইসাথে নিঃশেষ হয়ে যাবে-এটি কল্পনারও অতীত ছিল। সাথে তৌফিকের শাশুড়ি আলতাফুন্নেসাকেও (৭৭) মৃত্যুবরণ করতে হলো।

গত সপ্তাহেই আলতাফুন্নেসার বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। করোনা জটিলতায় তিনি সফর স্থগিত করেছিলেন। নাহিদা জানান, পুলিশী তদন্ত শেষে লাশগুলো পেলে যদি ঐ হতভাগা পরিবারের কোন স্বজন দায়িত্ব না নেন তাহলে আমরা এসোসিয়েশনের উদ্যোগে দাফনের পদক্ষেপ নেব। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

জানা গেছে, তৌহিদুল ৮ বছর আগে টেক্সাসের এই সিটিতে বসতি গড়ার আগে নিউইয়র্কে বাস করতেন। তার দেশের বাড়ি ছিল পুরনো ঢাকায়। সর্বশেষ তিনি টেক্সাসে সিটি ব্যাংকে চাকরি করতেন।

পরিবারের প্রধান তৌহিদের পরিচিত ট্র্যাভেল ব্যবসায়ী শাহীন হাসান জানান, কোনো কারণে তৌহিদের দুই পুত্রই বিষন্নতায় আক্রান্ত ছিল। আত্মহত্যার সেই নোটে সে (ফারহান) উল্লেখ করেছে, ২০১৬ সালে  নবম গ্রেডে পড়াবস্থায় আমি বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়েছি বলে চিকিৎসক জানায়। এজন্যে আমি পরীক্ষায় ফেল করেছি। আজ আমি নিজের শরীর দু’বার কেটেছি। খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমার মনে আছে ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট, কাঁচির মত ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে কেটেছিলাম। অনুভব করেছি কতটা অসহনীয় যন্ত্রণা। এরপর প্রায় দিনই শরীরে রান্নাঘরের চাকু দিয়ে কেটেছি। বিষন্নতার দুঃখবোধ লাঘবের পথ খুঁজেছি। এ অবস্থায় আমার ঘনিষ্ঠ তিন বন্ধু আমাকে ত্যাগ করেছে। এমনি হতাশার মধ্যেই আমাকে ভর্তি করা হয় ইউনিভার্সিটি অব অস্টিনে কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে। এরপর আমি ভেবেছি যে, এবার জীবনটা সঠিক ট্র্যাকে উঠেছে। বাস্তবে তা ঘটেনি। বিষন্নতায় জর্জরিত হয়ে পুনরায় আমি নিজের শরীর রক্তাক্ত করি এবং কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় ঘুমাতে যাই। সান্ত্বনা খুঁজি যে, আমি সুস্থ হয়েছি। অন্যদের মতই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটি সত্য বলে কখনোই মনে হয়নি।

এক পর্যায়ে সে লিখেছে, আমি যদি আত্মহত্যা করি তাহলে গোটা পরিবার সারাটি জীবন কষ্ট পাবে। সেটি চাই না। সেজন্যে পরিবারের সকলকে নিয়ে মারা যাবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড়ভাইকে সামিল করলাম। দু’ভাই গেলাম বন্দুক ক্রয় করতে।  আমি হত্যা করবো ছোটবোন আর নানীকে। আমার ভাই করবে মা-বাবাকে। এরপর উভয়ে আত্মহত্যা করবো। কেউ থাকবে না কষ্ট পাবার।

আত্মহত্যার প্রাক্কােলে লেখা ওই নোটে সে আরও উল্লেখ করেছে, বন্দুক ক্রয়ের ব্যাপারটি খুবই মামুলি। বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের নামে তামাশা চলছে সর্বত্র। বড়ভাই গেলেন দোকানে। বললেন যে, বাড়ির নিরাপত্তার জন্যে বন্দুক দরকার। দোকানি কয়েকটি ফরম ধরিয়ে দিলে সেখানে স্বাক্ষর করলেন ভাই। এরপর হাতে পেলাম কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি, যা দিয়ে নিজের কষ্ট এবং পরিবারের কষ্ট সহজে লাঘব করা যাবে।

এদিকে, ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান  ও ক্যানসাসের ডেমোক্র্যাটিক ককাসের প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারপার্সন রেহান রেজা এ সংবাদদাতাকে বলেন, এমন নিষ্ঠুর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার। সময় মতো যথাযথ চিকিৎসার পদক্ষেপ নিলে হয়তো এমন দুঃখজনক পরিস্থিতির অবতারণা হতো না। তিনি অবিলম্বে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবিও জানিয়েছেন।

বিডি প্রতিদিন

চীনে তৈরি ট্রাম্পের মূর্তির চাহিদা বাড়ছে!

চীনের ফার্নিচার প্রস্তুতকারক হং জিনশি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গৌতম বুদ্ধের কম্বিনেশনে মূর্তি বানিয়েছেন। ওই মূর্তি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে চীন ও চীনের বাইরে থেকে এমন প্রায় আড়াইশ মূর্তি বানানোর অর্ডার পেয়েছেন জিনশি।

জিনশি যে মূর্তি বানিয়েছেন, তাতে দেখা যায়- বুদ্ধের মতো মেডিটেশন করছেন ট্রাম্প। বুদ্ধ ও ট্রাম্পের আচরণের মধ্যে যে বিশাল বৈপরীত্য আছে, এটি তাকে এমন মূর্তি বানানোর অনুপ্রেরণা দিয়েছে বলে জানান জিনশি।

জানা গেছে, ১৬ সেন্টিমিটারের মূর্তির দাম ১৫০ ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা। আর ৪৬ সেন্টিমিটারের দাম ৬১০ ডলার। যা বাংলাদেশি প্রায় ৫২ হাজার টাকা।

হং এখনো জানেন না, ট্রাম্প তার মূর্তি সম্পর্কে শুনেছেন কি না। তবে ট্রাম্পকে ‘একটু চাঙা করতে’ একটি মূর্তি দিতে চান হং। তিনি মনে করেন, বর্তমানে ট্রাম্পের যে অবস্থা তাতে তার মূর্তির মতো করে মেডিটেশনে বসা উচিত।

সূত্র: গার্ডিয়ান

যে সবজির প্রতি কেজির দাম লাখ টাকারও বেশি!

হিউমুলাস লুপুলাস। একটি গাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম। যদিও খুব কম মানুষই এই নামটির সঙ্গে পরিচিত।

সারাবিশ্বের কাছে এই গাছটির অবশ্য আলাদা একটি পরিচয় রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি সবজির গাছ এটি। এর প্রতি কেজির দাম ১ লাখ টাকারও বেশি!

বাজারে চাহিদা না থাকায় ভারত-বাংলাদেশে এই সবজির চাষ হয় না। মূলত ইউরোপ এবং আমেরিকায় এর বহুল উৎপাদন হয়ে থাকে।

হিউমুলাস লুপুলাস একটি বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। সম্প্রতি ভারতের বিহারের এক ব্যক্তি তার জমিতে এই গাছের চাষ করেন। এক আইএএস  অফিসার সবজির ছবি-সহ দামের উল্লেখ করে ইন্টারনেটে পোস্ট করা মাত্রই হইচই পড়ে গেছে।

বিহারের ওই ব্যক্তির নাম অমরেশ সিংহ। ভারতে তিনিই প্রথম এই সবজির চাষ করছেন। এর নাম হপ শুটস।

বিহারের আওরঙ্গবাদে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৫ কাঠা জমিতে তিনি এই সবজির চাষ করেছেন।

সবজিটি দেখতে অনেকটা অ্যাসপারাগাসের মতো। খেতেও অনেকটা সে রকমই। অ্যাসপারাগাস যেভাবে রান্না করে খেতে হয় এই সবজিও সেভাবেই খেতে পারেন। এ ছাড়া আরও অনেক ব্যবহার রয়েছে এর।

এই গাছের ফুল হপ নামে পরিচিত। এই ফুল দিয়ে বিয়ার তৈরি করা হয়। কোনও পানীয়তে সুগন্ধী দেওয়ার কাজেও লাগে এই ফুল। হপ ফুল দিয়ে তৈরি বিয়ার সহজে নষ্ট হয় না।

মূলত পানীয় তৈরিতেই প্রথম এই গাছের ব্যবহার সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তারপর ধীরে ধীরে এর ঔষধি গুণ সামনে আসতে শুরু করে।

ওই সবজি প্রথম চাষ হয় ৭৩৬ সালে জার্মানিতে। তবে প্রথম হপ শুটস পানীয়তে ব্যবহার করা হয় ১০৭৯ সালে। পরবর্তী কালে হপ শুটস-এর আরও অনেক ঔষধি গুণের কথা সামনে আসে।

এর বিশেষ অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল গুণ রয়েছে। টিবি রোগীদের ওষুধ তৈরিতে, ক্যানসারের চিকিৎসায় কাজে লাগে হপ শুটস। এই সমস্ত কারণেই হপ শুটস-এর এমন আকাশছোঁয়া দাম।

হপ শুটস-এর মধ্যে থাকা অ্যাসিড ক্যানসার আক্রান্ত কোষগুলোকে নষ্ট করে দেয়। ক্যানসারের ওষুধ তৈরিতে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই হপ শুটস নিয়ে বহু গবেষণাও চলছে।

এই গাছটি মূলত ঝোপ প্রকৃতির। ফুলগলো সবুজ রঙের আর খুব নরম। তাই খুব সাবধানে গাছ থেকে তুলতে হয় সেগুলো। তোলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর বিক্রির যোগ্য থাকে না। সূত্র: আনন্দবাজার

বিডি প্রতিদিন

যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞায় বিপদে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো যুক্তরাজ্য। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান, কেনিয়া এবং ফিলিপাইনের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

এছাড়াও গত ১০ দিনে যেসব যাত্রী এই দেশগুলো থেকে যাত্রা শুরু করেছে কিংবা ট্রানজিট করেছে তাদের যুক্তরাজ্যে ঢুকতে দেয়া হবে না বলে ব্রিটিশ সরকারের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।

আর যেসব ব্রিটিশ নাগরিক মানে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরবেন তাদেরকে বাধ্যতামূলক ১০ দিন যুক্তরাজ্যে হোটেল কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। এই নতুন নিয়মে যারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, মানে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেননি এবং স্টুডেন্ট, ভিজিটর ইত্যাদি ক্যাটাগরির বাংলাদেশিরা পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ঢুকতে পারবেন না।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী পড়াশোনার উদ্দেশে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে। তাই ব্রিটিশ সরকারের নতুন নিয়মে বিপদে পড়তে চলেছে এইসব শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশে গত এক সপ্তাহ ধরে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ ভাবে বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়ছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে কমতে শুরু করেছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। তাই নতুন করে যাতে যুক্তরাজ্যে আবার করোনা হানা না দেয় তার জন্যই এমন উদ্যোগ নিয়েছে ব্রিটিশ পরিবহন মন্ত্রণালয়।

করোনা শুরুর পর থেকে এই প্রথম বাংলাদেশি নাগরিকদের উপর থেকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল যুক্তরাজ্য। অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমানে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের ধরন ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের ধরন বেশি দ্রতু ছড়ায় বলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বালে আশঙ্কা করছেন করোনা বিশেষজ্ঞরা।

গত ডিসেম্বর থেকে নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়েছিল সারা যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যে যখন করোনায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে তখনও বাংলাদেশ তাদের বর্ডার নিয়ন্ত্রণ করেনি বা যুক্তরাজ্যের মানুষদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। আর এ কারণেই করোনা বাংলাদেশে নতুন ভাবে প্রবেশ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, ডিসেম্বর থেকে যদি বাংলাদেশের বর্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হতো তা হলে বর্তমানে বাংলাদেশ যে করোনার ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা দেখতে হতো না।

বিডি-প্রতিদিন

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের দুই সঙ্গী করোনায় আক্রান্ত

সম্প্রতি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে তার সঙ্গে আসা দুজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) ভুটানের জাতীয় দৈনিক কুয়েনসেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের জন্য আরএপিএর ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা এসেছিল। তারা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাংস্কৃতিক দল হিসেবে আসে। তাদের মধ্য থেকে দুজন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। তারা এখন করোনা থেকে সেরে ওঠার পথে রয়েছেন। এই দুজনের একজন সঙ্গীতশিল্পী আরেকজন নৃত্যশিল্পী।

সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ মার্চ ঢাকায় দলীয় পারফরম্যান্সের সময় অনুষ্ঠানস্থলেই ভুটানের সাংস্কৃতিক দলের একজন জ্বর ও মাথা ব্যথায় ভুগছিলেন বলে জানান। এক সপ্তাহ ঢাকায় থাকার পর ভুটানে ফিরে যাওয়ার আগে করোনা পরীক্ষা করেছিলেন শিল্পীরা।

এরপর ওই সঙ্গীতশিল্পীর আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে। এই ঘটনার পর আক্রান্ত ওই শিল্পীসহ আরএপিএর বাকি সদস্যদের নির্ধারিত সময়ে দেশে ফেরা স্থগিত করা হয়।

তবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং বাকি প্রতিনিধিদের নিয়ে ২৫ মার্চ দেশে ফেরেন। বৃহস্পতিবার ভুটানে তাদের সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়।

সূত্র জানায়, বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ওই দুজন ঢাকার শেখ রাসেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারি অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের খোঁজ-খবর রাখছে। ভুটান দূতাবাসও নিয়মিতভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

বিডি প্রতিদিন

ফাহমিদা হাশেম - প্রথম আলোতে প্রকাশিত
দুধ খেতে না পারলে

দুধ একটি আদর্শ খাবার। এতে আয়রন ও ভিটামিন সি ছাড়া প্রায় সব খাদ্য উপাদানই রয়েছে। শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদেরা দুধ খেতে বলেন। কারণ, আমাদের দৈনন্দিন খাবারে ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। ১০০ গ্রাম দুধে ক্যালসিয়াম থাকে ৯৫০ মিলিগ্রাম। দুধের ল্যাকটোজ থেকে উৎপন্ন ল্যাকটিক অ্যাসিড ক্যালসিয়াম পরিশোষণ বৃদ্ধি করে। তাই দুধের ক্যালসিয়াম সবচেয়ে বেশি শোষিত হয়।

তবে ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্স, আইবিএস ও অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যার জন্য অনেকেই দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার খেতে পারেন না। তাই আমাদের জানতে হবে, দুধের বিকল্প কোন কোন খাবার থেকে সমপরিমাণ ক্যালসিয়াম পাওয়া যেতে পারে। দুধ খেতে না পারলে বিকল্প এসব খাবার থেকেই দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে হবে।

সামুদ্রিক মাছ: চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছে ক্যালসিয়াম থাকে। প্রধানত স্যামন ও সার্ডিন–জাতীয় মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। এ ছাড়া কাঁটাসহ যেকোনো মাছেই, যেমন মলা, কাঁচকি ইত্যাদি মাছ থেকেও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

আমন্ড ও কাজুবাদাম: প্রোটিন, পটাশিয়াম, ভিটামিন ই এবং আয়রনের পাশাপাশি আমন্ড প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করতে সক্ষম।

কমলালেবু: ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে ভালো কাজ করে কমলালেবু। একটি কমলালেবু মানেই শরীরে ৬০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।

সবুজ শাকসবজি: পালংশাক, বাঁধাকপি, ব্রকলি, শালগম, লেটুসপাতা, মাশরুম, ঢ্যাঁড়সসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম রয়েছে। ঢ্যাঁড়স, ব্রকলিও উদ্ভিজ্জ ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস। এ ছাড়া কাঁচকলা, বিট, কচু, কচুর মুখী, মিষ্টি আলু, ওল, ধনেপাতা, মিষ্টিকুমড়া, বরবটি ইত্যাদিতেও ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

আমলকী: আমাদের ধারণা, আমলকী মানেই ভিটামিন সি। কিন্তু এতে ভালো পরিমাণে ক্যালসিয়ামও রয়েছে। ১০০ গ্রাম আমলকী থেকে ২৫ মিলিগ্রামের মতো ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

চিয়া সিড ও বেসিল সিড (তোকমা): আমরা অনেকেই চিয়া সিড ও তোকমাকে এক মনে করি। তোকমা হচ্ছে বেসিল সিড। ১০০ গ্রাম বেসিল সীডে ১৭৭ মিলিগ্রাম এবং ১০০ গ্রাম চিয়া সিডে ৬৩১ মিলিগ্রামেরও বেশি ক্যালসিয়াম থাকে।

সয়াবিনের তৈরি খাবার: সয়াবিন বা সয়াবিনের তৈরি খাবার ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস।

এ ছাড়া ১০০ গ্রাম পাবদা মাছে ৩১০ মিলিগ্রাম, শজনেপাতায় ৪৪০ মিলিগ্রাম, ট্যাংরা মাছে ২৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। তিলেও প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। আখরোট, শজনেপাতা, পুদিনাপাতা, শর্ষেশাক, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, চিংড়ি শুঁটকি ইত্যাদি হলো উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার।

রান্নায় ব্যবহৃত আনুষঙ্গিক উপকরণও হতে পারে ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। যেমন ১০০ গ্রাম জিরায় ১ হাজার ৮০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম যোয়ানে ১ হাজার ৫২৫ মিলিগ্রাম, শুকনা নারকেলে ৪০০ মিলিগ্রাম, শর্ষেতে ৪৯০ মিলিগ্রাম, রাজমা ডালে ২৬০ মিলিগ্রাম, চানা ডালে ২০২ মিলিগ্রামের মতো ক্যালসিয়াম থাকে।

লেখক: জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ, ল্যাব এইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল, ঢাকা

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়, হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ- প্রথম আলোতে প্রকাশিত
শিরায় রক্ত জমাট বাঁধলে

নানা কারণে অকস্মাৎ শিরায় রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। একে বলে থ্রম্বোএম্বোলিজম। তবে পায়ের বড় শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা ‘ডিভিটি’ নামে পরিচিত। ডিভিটির পূর্ণরূপ হলো ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা। আমাদের সারা শরীরে শিরা ও ধমনি (রক্তনালি) জালের মতো বিস্তৃত। শিরাগুলো হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত বয়ে আনে, আর ধমনিগুলো হৃদ্‌যন্ত্র থেকে পুরো শরীরে রক্ত সরবরাহ করে। কিছু শিরা চামড়ার নিচে থাকে, আবার কিছু শিরা মাংসপেশির ভেতর দিয়ে গভীরে প্রবাহিত হয়।

ঝুঁকি বেশি যাঁদের
যেকোনো বয়সে ডিভিটি হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ে। ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। উচ্চতা অনুযায়ী যাঁদের ওজন বেশি, আগে কখনো ডিভিটি হয়েছিল অথবা রক্তের সম্পর্কের কারও ডিভিটির ইতিহাস আছে, তাঁদের ঝুঁকি বেশি। যেসব নারী দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেন কিংবা মেনোপজের পর হরমোন নিচ্ছেন, তাঁরা ডিভিটির ঝুঁকিতে থাকেন। গর্ভকালীন এবং প্রসব–পরবর্তী ছয় সপ্তাহ সময়ও ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ ভ্রমণ, যদি একনাগাড়ে অনেকক্ষণ (চার ঘণ্টার বেশি) বসে থাকতে হয়, এমন অবস্থাও পারে ডিভিটির ঝুঁকি বাড়াতে। যেসব অস্ত্রোপচারে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে, বিশেষ করে পায়ে এবং পেটের কোনো অস্ত্রোপচারে, যদি দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকতে হয়, যেমন হাড় ভাঙা, ক্যানসার, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিউর কিংবা নিউমোনিয়া রোগীর ডিভিটি হতে পারে।

বুঝবেন কী করে
কোমর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সম্পূর্ণ পায়ে ব্যথা, পা ফোলা, পায়ের ত্বক বিবর্ণ হওয়া এবং অন্য পায়ের তুলনায় আক্রান্ত পা উষ্ণ হওয়া ডিভিটির প্রাথমিক উপসর্গ। ঝুঁকিপূর্ণ কোনো ব্যক্তির এমন উপসর্গ দেখা দিলে ডিভিটি বা শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার সন্দেহ করতে হবে এবং দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জটিলতা
শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার একটি বড় জটিলতা হলো, জমাটবদ্ধ রক্ত ফুসফুসের শিরায় প্রবাহিত হয়ে ফুসফুসের শিরাকে ব্লক করে দিতে পারে। একে পালমোনারি এম্বোলিজম বলে। এটি একটি গুরুতর অবস্থা। ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে ব্যথা এই জটিলতার লক্ষণ। এই জটিলতা হলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।

প্রতিরোধে করণীয়
উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক ওজন বজায় রাখতে হবে।

প্রতিদিন নিয়মিত কমপক্ষে আধা ঘণ্টা হাঁটতে হবে।

যাঁরা একনাগাড়ে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, তাঁরা কাজের ফাঁকে একটু হাঁটাহাঁটি করবেন অথবা দু-এক ঘণ্টা পরপর পায়ের পেশি সচল থাকে এমন কোনো ব্যায়াম করবেন।

দীর্ঘ ভ্রমণে পায়ের আঙুল, পায়ের পাতা এবং পা সচল রাখার চেষ্টা করতে হবে। মাঝেমধ্যে আসনে পা তুলে বসা যেতে পারে। বসে বসেই পায়ের ব্যায়াম করবেন।

দীর্ঘদিন যাঁরা শয্যাশায়ী হয়ে আছেন, তাঁরাও রোজ পায়ের পাতা ও পায়ের ব্যায়াম করবেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। অনেক ওষুধের ব্যবহার শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি করে।

করোনায় শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা
মাঝারি থেকে তীব্র উপসর্গের করোনা রোগীদের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের ৪০ শতাংশ শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। আরেকটি গবেষণার তথ্যমতে, গুরুতর অসুস্থ করোনা রোগীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা তৈরি হয় ১৮ থেকে ২৮ শতাংশে। করোনা হলে তীব্রতা বুঝে ও পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে রক্ত জমাট না বাঁধার জন্য ইনজেকশন বা ওষুধ দিতে পারেন চিকিৎসক।

করোনার টিকায় কি রক্ত জমাট বাঁধে
করোনার টিকা দিলে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে—এমন একটি অভিযোগ ওঠায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ করোনার টিকা স্থগিত রেখেছিল। কিন্তু তদন্তের পর ইউরোপীয় মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) ঘোষণা করেছে, করোনার টিকার সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি, আর এটি নিরাপদ ও কার্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জানিয়েছে, ১ কোটি ৭৯ লাখের বেশি মানুষ ইউরোপে এই টিকা নিয়েছেন, আর রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা শতাধিকও নয়, উপরন্তু তা সরাসরি টিকার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ফলে ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ অন্যান্য দেশ আবার টিকা কার্যক্রম শুরু করছে।