স্বামীর প্ররোচনায় স্ত্রীর আত্মহত্যা!

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী মো. মানিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হুগলাকান্দি গ্রামে শ্যামলী নামে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমিরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য মো. রিয়াজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে নিহতের মা রাবেয়া বাদী হয়ে নিহতের স্বামীসহ পাঁচজনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এর পাশাপাশি নিহতের স্বামী মো. মানিককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।’

মোহাম্মদপুরে ১৮তলা থেকে লাফিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

রাজধানীর মোহাম্মদপুর খিলজি রোডের একটি ভবনের ১৮তলা থেকে লাফিয়ে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে খিলজি রোডের একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই যুবকের নাম আসিফুল হক বিজয় (২৬)।

পুলিশের বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে ওই যুবক আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিহত আসিফুল হক বিজয় তার মায়ের সঙ্গে মোহাম্মদীয়া হাউসিং সোসাইটি এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম মৃত আব্দুর রহমান। আসিফুল ‘এ’ লেভেল পাস করার পর আর পড়াশোনা করছেন না বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

 

এসআই মইনুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে শ্যামলী খিলজি রোড এলাকার একটি ১৯তলা ভবনের ১৮ তলা থেকে ওই যুবক পড়ে মারা যান। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশে এলে বায়ু দূষণে মারা যাবেন, তাই ফ্রান্সে থাকার অনুমতি

বাংলাদেশের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি বিপজ্জনক বিবেচনায় নিয়ে এক বাংলাদেশিকে বসবাসের অনুমতি দিয়েছে ফ্রান্স। নিজ দেশে ফিরলে দূষণে তার মৃত্যু হতে পারে, এমন বিবেচনায় সম্প্রতি তাকে দেশটিতে থাকার অনুমতি দিয়েছেন একটি ফরাসি আদালত। এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির ইতিহাসে এ ধরনের অনুমতি দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

জানা গেছে, ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ২০১১ সালে বাংলাদেশে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন-এমন অভিযোগ তুলে ফ্রান্সে পাড়ি জমান। সেখানে তুলু এলাকায় তিনি রাঁধুনী ও ওয়েটারের কাজ করেন।

 

২০১৭ সালে তার বসবাসের মেয়াদ শেষ হলে স্বদেশে ফিরে যাওয়ার আদেশ দেয় ফরাসি কর্তৃপক্ষ। সেসময় তার জন্য বাংলাদেশে ফিরে আসা নিরাপদ বলে জানিয়েছিলেন ফ্রান্সের একটি আদালত। এরপরপরই বাংলাদেশের বায়ুদূষণ পরিস্থিতি এবং নিজের শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দেখান নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি।

তার আইনজীবী দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি গুরুতর অ্যাজমা সমস্যায় ভুগছেন। বাংলাদেশে ফিরলে দূষিত বায়ুর কারণে তার তাৎক্ষণিক মৃত্যু হতে পারে।

তারা আরও দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি যেসব ওষুধ খান, সেগুলো বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। এমনকি, তার শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা এতটাই তীব্র যে, ঘুমানোর জন্য তার ভেন্টিলেশনের দরকার হয়।

এসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে সম্প্রতি বোর্দোর আপিল আদালত ওই ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আদেশ প্রত্যাহার করেছেন। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে ওই লোকের বাবা অ্যাজমার কারণে মারা গিয়েছিলেন, এটিও বিবেচনায় নিয়েছেন তারা।

ওই ব্যক্তির আইনজীবী লুদোভিচ রিভেরি বলেন, ‘আমার জানামতে, এ দেশে এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। আমি খুশি যে ফ্রান্স তাকে নিজ দেশে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পাঠায়নি।‘

অবশ্য বাংলাদেশের বায়ু যে দূষিত, এটা মিথ্যা নয়। টেলিগ্রাফের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে ধূলিকণা দূষণে বাংলাদেশের অবস্থা ছিল বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। আর রাজধানী ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের ২১তম দূষিত শহর।

এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সের হিসাবে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে বায়ু দূষণের কারণে ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

বাইডেন প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জাইন সিদ্দিক। গত বুধবার হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফের সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে বাইডেনের ট্রানজিশন টিম।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বেড়ে উঠেছেন জাইন সিদ্দিক। তিনি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি এবং ইয়েল ল স্কুলের স্নাতক। বর্তমানে বাইডেন-হ্যারিস ট্রানজিশন টিমের অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক দলের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করছেন জাইন। এর আগে তিনি নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ভাইস প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কের প্রস্তুতি দলের সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে বেটো ও’রোরকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচার দলের ডেপুটি পলিসি ডিরেক্টর ও তার সিনেট নির্বাচনের প্রচার দলের সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন জাইন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এলেনা কাগান, ডিসি সার্কিটের ইউএস কোর্ট অব আপিলসের বিচারক ডেভিড টাটেল ও ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক ডিন প্রিগারসনের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।

জো বাইডেন আগেই বলেছিলেন, তার প্রশাসন হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি যেন সেভাবেই এগোচ্ছেন। এখন পর্যন্ত মন্ত্রিসভাসহ প্রশাসনের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের মাধ্যমে বহু প্রথমের জন্ম দিয়েছেন বাইডেন। বাংলাদেশি জাইন সিদ্দিকও এ তালিকায় যুক্ত হলেন।

ইলিশের বিনিময়ে ফেন্সিডিল!

advertisement

জয়পুরহাটের সীমান্তে ৭৫ কেজি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। মাছগুলো ‘ফেন্সিডিলের বিনিময়ে ভারতে পাচার’ হচ্ছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি কয়া ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আলমগীর হোসেন জানান, আজ শুক্রবার পাঁচবিবি উপজেলার কয়া ভুঁইডোবা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাছগুলো জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে সুবেদার আলমগীর দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘কয়া ক্যাম্প এলাকার ভূঁইডোবা সীমান্ত পথে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যগুলো নিয়ে আসা হচ্ছিল এবং ভারতে ইলিশ মাছগুলো পাচার করা হচ্ছিল।’

ধর্ষণের শাস্তির মাত্রা কমানো উচিত : শাহদীন মালিক

দেশের আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, ‘সমাজে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। ধর্ষণের শাস্তির পরিমাণ কমানো হলে বেশি অপরাধী শাস্তি পাবে বলেও মনে করেন তিনি।’ জার্মানির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনটাই দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গত ১০০ বছরে যত গবেষণা হয়েছে তাতে দেখা গেছে শাস্তি বাড়ালে যে অপরাধ কমে এই ধারণার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় অপরাধের শাস্তি অনেক বাড়ানো হয়েছে। ৫-১০ বছর পরে দেখা গেছে শাস্তি বাড়ানোর কারণে অপরাধ কমেছে এমন কোনো নজির নেই। বাংলাদেশে গণধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ২০ বছর আগেই করা হয়েছিল। কিন্তু আজকাল তো দেখছি গণধর্ষণ বাড়ছে। মৃত্যুদণ্ড দিয়ে, শাস্তি বাড়িয়ে হয়তো অস্থায়ীভাবে দুই-চার-পাঁচ মাসের জন্য অপরাধ কমানো যায়। কিন্তু এটা যে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান না তা দুনিয়াতে ১০০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত।

তার মতে, ‘শাস্তির ভয়ে যদি লোকে অপরাধ থেকে বিরত থাকত, তাহলে তো দুনিয়ার সব দেশেই শাস্তি বাড়িয়ে দিলে সব অপরাধ চলে যেত। যায়না। এর অন্য সামাজিক কারণ বুঝতে হবে। আমার দৃষ্টিতে ইদানিং দেশে যারা শক্তিশালী এবং যারা দুর্বল তাদের মধ্যে পার্থক্য অনেক বেড়ে গেছে। যারা শক্তিশালী তারা আরো অনেক শক্তিশালী হয়েছে, যারা দুর্বল তারা আরো অনেক দুর্বল হয়েছে। অন্তত শতকরা ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে একটা শক্তিশালী পুরুষ একটা দুর্বল নারীকে ধর্ষণ করে। আমরা এখন আরো দেখছি যে শিশু ধর্ষণের হার বেড়ে গেছে। এই যে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এটা আমার দৃষ্টিতে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা কমাতে হবে।ক্ষমতাসীন দলের সাথে থাকলে সাত খুন মাফ। মাঝে মাঝে কিছু হুলুস্থুল হচ্ছে। বছরে হাজার বা লাখো অপরাধ হচ্ছে। তারমধ্যে দুই-চার-দশ বা বিশটা ক্ষমতাসীন অপরাধীর শাস্তির ব্যবস্থা করে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা কমছে না।’

সূত্র : ডয়চে ভেলে।

৪২ কেজি ওজনের ‘ময়ূরপঙ্খি’

ময়ূরের মতো পেখম মাছটির উপরাংশে। নাম তাই ‘ময়ূরপঙ্খি’। সামুদ্রিক এই মাছটি দেখতে ভিড় জমেছিল সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ জালালবাজারে আয়োজিত মাছের মেলায়। মেলায় তিনটি ময়ূরপঙ্খি মাছ এনেছিলেন এক ব্যবসায়ী। এর মধ্যে একটির ওজন ছিল ৪২ কেজি। জানা গেছে, বন্দরবাজারে ‘জালালবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী মাছের মেলা শুরু হয় গত সোমবার। গতকাল শেষ হয়েছে এ মেলা। আব্বাস উদ্দিন নামের এক মাছ ব্যবসায়ী মেলায় তিনটি ময়ূরপঙ্খি নিয়ে আসেন। এর মধ্যে ৪২ কেজি ওজনের মাছটি কেটে প্রতি কেজি এক হাজার টাকা দরে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। গতকাল বিকালে আব্বাস উদ্দিন জানান, সামুদ্রিক মাছ ময়ূরপঙ্খি তিনি চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে নিয়ে আসেন। অন্য দুটি মাছের মধ্যে একটির ওজন ছিল ১৮ কেজি। সেটি এক ব্যক্তি ১৫ হাজার টাকায় কিনে নেন। আরেকটি ময়ূরপঙ্খির ওজন ২৫ কেজি। গতকাল বিকাল অবধি মাছটি বিক্রি হয়নি। এদিকে, মাছের মেলায় রুই, কাতলা, বোয়াল, রূপচাঁদাসহ সামুদ্রিক, নদীর ও হাওরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। এসব মাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল বেশ।

নুসরাত হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির কারামুক্তি চেয়ে আওয়ামী লীগের দোয়া!

ফেনীর সোনাগাজীতে আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনের কারামুক্তি, সুস্থতা কামনা করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ব্যানারে গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে রুহুল আমিনের একটি ছবিও টাঙানো হয়।

সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মফিজুল জানান, এই কর্মসূচির সম্পর্কে তিনি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক এই কর্মসূচি সম্পর্কে অবগত না। বিকেল সাড়ে ৪টায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াতুল হক বিটু, মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউজ্জামান বাবু, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম ভূট্টো, মঙ্গলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বাদল, জেলা পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন আরিফ ভূঁইয়া, চরচান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম মানিক, বগাদানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন বাবুল, আমিরাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরু মেম্বার,  ইউপি সদস্য গেদু মিয়া ভূঁইয়া, দীন মোহাম্মদ, মতিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন টিপু ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অংশ নেন।

২০১৯ সালে ২৪ অক্টোবর নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা ও আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনসহ ১৬ জনের ফাঁসির আদেশ দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। এ হত্যা মামলাটি হাইকোর্টের আপিল বিভাগে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

মা-মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় জুসের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে মা ও মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে মো. আওলাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে মানিকগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইন আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৭ জুন রাতে শিবালয় উপজেলার উত্তর খানপুর গ্রামে দিনমজুর স্বামীর অনুপস্থিতে তার স্ত্রী ও ১৩ বছরের মেয়েকে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে ধর্ষণ করে একই এলাকার আকালীর ছেলে আওলাদ হোসেন। পরে স্থানীয় লোকজন নির্যাতনের শিকার মা-মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে ওই গৃহবধূর স্বামী ওই বছরের ২ জুলাই আদালতে মামলা করেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর শিবালয় থানা পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

আদালত ১০ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ মঙ্গলবার আওলাদ হোসেনকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। আসামি আওলাদ হোসেন পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি একেএম নুরুল হুদা রুবেল। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন ফারুক হোসেন।

মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলের ফাঁসির আদেশ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ছেলের দ্বিতীয় বিয়েতে মায়ের সম্মতি না থাকায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ছেলেকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মান্নান এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মন্তাজুল আলম (৩৬)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট উপজেলার উমরপান্থাবাড়ি গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে মন্তাজুল আলমের স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান। এতে তিনি কিছুটা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

গত বছরের ২০ মার্চ দুপুরে মন্তাজুল দ্বিতীয় বিয়ের দাবিতে তার মা মেহেরজান বেগম মিনুকে (৫৮) চাপ দিলে তিনি অসম্মতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কুড়াল দিয়ে তার মাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে মন্তাজুল আলম। পরে স্থানীয়রা মন্তাজুলকে আটক করে পুলিশে দেয়।

 

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও অভিযুক্তের বাবা সোলায়মান আলী বাদী হয়ে ছেলে মন্তাজুলকে আসামি করে রাজারহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আজ আদালত মন্তাজুলকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আব্রাহাম লিংকন। আর আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন লিগ্যাল এইড নিযুক্ত অ্যাডভোকেট এরশাদুল হক শাহিন।