গরমে ঘর ঠান্ডা রাখবে যেসব ইনডোর প্ল্যান্ট

প্রচণ্ড গরমে ঘর ঠান্ডা করার জন্য সবাই এসির কথা চিন্তা করেন। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না উষ্ণ আবহাওয়ায় ঘরের ভেতর কিছু গাছ লাগালেও ঘরের উষ্ণতা কমতে পারে। এসব গাছপালা যে শুধু প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ঘরকে ঠান্ডা রাখে তা নয়, এই ধরনের গাছপালা ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা যোগ করতেও সহায়তা করে।

ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য অনেক প্রকৃতিপ্রেমী ঘরে বেশ সুন্দর করে বাহারি গাছ সাজিয়ে রাখেন। তবে কেবল সৌন্দর্য বর্ধনে নয়, এমন অনেক গাছ রয়েছে যা ঘরের ভেতরের আবহাওয়াকে শীতল রাখতে সাহায্য করে।

তবে গাছগুলো সম্পর্কে জানার আগে গাছ ঠিক কীভাবে ঘরের পরিবেশকে শীতল রাখতে সাহায্য করে তা জেনে নেওয়া যাক-

 

অ্যালোভেরা 

ত্বকের যেকোনো সমস্যায় অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। তবে এর পাতায় প্রচুর পরিমাণে জলীয় পদার্থ থাকার কারণে তা বাষ্পাকারে বের করে দেয় ফলে পরিবেশ ঠান্ডা থাকে। এ ছাড়া অ্যালোভেরা বাতাসে উপস্থিত ফরমালডিহাইড এবং বেনজিন শোষণ করে নেয়।

ব্যাম্বু প্লাম 

এই গাছের লম্বা পাতা এয়ার হিউমিডিফায়ার এবং পিউরিফায়ার হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া পরিবেশ থেকে বেনজিন ও ট্রাইক্লোরো ইথাইলিন দূর করতে সাহায্য করে।

ব্যাম্বু প্লাম 

 

উইপিং ফিগ

ঘরের ভেতরে খুব সুন্দরভাবে এই গাছগুলো বেড়ে উঠে এবং গাছে প্রচুর পাতা থাকে ফলে স্বেদনও বেশি হয়। বাতাসে কোনো ভারী ধাতুর উপস্থিতি থাকলে তা দূর করে।

স্নেক প্ল্যান্ট 

এই গাছের আরেকটি নাম রয়েছে, ‘মাদার ইন লস টাঙ’। এই গাছ অনেক রসালো এবং রাতে অক্সিজেন নিঃসরণ করে ফলে ঘরের বাতাস শীতল থাকে। অ্যালোভেরার মতো এই গাছগুলোও বাতাসে উপস্থিত ফরমালডিহাইড এবং বেনজিন শোষণ করে নেয়।

পিস লিলি

যে গাছে যত পাতা, সেই গাছ পরিবেশকে তত বেশি শীতল রাখে। আর এই গাছের পাতাগুলোও বেশ বড় বড়। পরিবেশ থেকে বিভিন্ন রকম বিষাক্ত পদার্থের পরিমাণ কমিয়ে আনে।

বোস্টন ফার্ন 

ব্যাম্বু প্লামের মতো বোস্টন ফার্মও এয়ার হিউমিডিফায়ার এবং পিউরিফায়ার হিসেবে কাজ করে। বায়ুতে উপস্থিত নানা রকম উদ্বায়ী জৈব যৌগসমূহকে দূর করে।

মানি প্লান্ট

এটি একটি চমৎকার এয়ার হিউমিডিফায়ার হিসেবে কাজ করে। শুধু কি তাই, ঘরে ভেতরে থাকা নানা রকম দূষিত পদার্থ, যেমন-ফরমালডিহাইড, বেনজিন, জাইলিন এবং কার্বন মনোক্সাইড দূর করে।

মানি প্লান্ট

 

স্পাইডার প্লান্ট 

গাছ প্রেমীদের খুব পছন্দের একটি গাছ হচ্ছে-এই স্পাইডার প্লান্ট। খুব অল্প পরিশ্রমে আর সহজেই ঘরের ভেতরে এই গাছের চাষ হয়। ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি বাতাসে উপস্থিত ক্ষতিকর দূষিত পদার্থ শোষণ করে নেয়।

চাইনিজ এভারগ্রিন 

এর অনেকগুলো জাত রয়েছে। তবে ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য লাস ফলিয়েজ জাতের গাছগুলোর তুলনা হয় না। এই গাছগুলোও বাতাসে উপস্থিত পদার্থগুলোকে দূর করে।

রাবার প্ল্যান্ট 

এই গাছের পাতাগুলো বড় বড় তাই ঘর ঠান্ডা রাখার ক্ষমতাও এদের বেশি। বাতাসে উপস্থিত ফরমালডিহাইডকে শোষণ করে পরিবেশকে বিশুদ্ধ রাখতেও সাহায্য করে।

মাটির ৬৩০ ফুট নিচে বনাঞ্চলের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানীরা

মাটির ৬৩০ ফুট গভীরে সিঙ্কহোলের খোঁজ পেয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। শুধু তাই নয়, এ সিঙ্কহোলের ভেতর বিশাল এক প্রাচীন বনাঞ্চল খুঁজে পেয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে এ সিঙ্কহোলে থাকা বনাঞ্চলের ছবি ভাইরাল হয়েছে। তবে এবারই কিন্তু প্রথম নয়, এর আগে মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে এমন সিঙ্কহোলের সন্ধান পাওয়া গেছে।

চীনা বিজ্ঞানীদের দ্বারা সম্প্রতি আবিষ্কৃত সিঙ্কহোলটির গভীরতা ৬৩০ ফুট, দৈর্ঘ্য ১০০০ ফুট ফুট ও প্রস্থ ৪৯০ ফুট। আবিষ্কার হওয়া বিশাল সিঙ্কহোলের ভেতর যে বনাঞ্চল পাওয়া গেছে সেখানে বিশাল উচ্চতার গাছও রয়েছে। সেখানে ১৩১ ফুট বা ১৩ তলা ভবনের সমান গাছের অস্তিত্ব মিলেছে বলেই জানিয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, সিঙ্কহোলটির ভেতরের প্রবেশের তিনটি পথেরও সন্ধান পেয়েছেন তারা। ভেতরে গাছগুলো সূর্যের দিকে মুখ করে বেড়ে উঠেছে।

চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের খবরে বলা হয়, প্রকৃতিতে হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশালাকার গর্ত সিঙ্কহোল নামে পরিচিত। সম্প্রতি চীনা বিজ্ঞানীরা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াঞ্জি ঝুয়াং স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলে ৬৩০ ফুট গভীর এক সিঙ্কহোল খুঁজে পেয়েছেন। আর এর ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে বিশাল এক প্রাচীন বনাঞ্চল। এই বনাঞ্চলে এর আগে কখনো মানুষ প্রবেশ করেনি বলেই দাবি করেছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। গবেষক দলের প্রধান চেন লিক্সিন বলেন, সিঙ্কহোলের ভেতর যেমন ছোট গাছ রয়েছে তেমনই রয়েছে ১৩১ ফুটের বিশালাকার গাছও। এখানে এমন কিছু আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে যা আগে কখনোই দেখা যায়নি।

 

সূত্র- এনডিটিভি।

শারীরিক বৈশিষ্ট্যই বলে দেবে আপনি কেমন মানুষ?

‘আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী’-বহুল প্রচলিত এ প্রবাদটি যতটা জনপ্রিয় ততটা যৌক্তিকও বিবেচনা করা হয়। এখানে যে দর্শন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তা বাহ্যিক সৌন্দর্যের দিকে ইঙ্গিত করে। একজন মানুষের জন্মের মাস দেখে যেমন একটি মানুষের জীবন, আচরণ এবং তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে অনেক ধারণা পাওয়া যায়, তেমনি তার অবয়ব দেখেও অনেক কিছুই বলা যায়। কারণ এটা বিশ্বাস করা হয়ে থাকে, মুখই হলো মানুষের মনের দর্পণ।

জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, মানুষের মুখের কিছু বৈশিষ্ট্য দেখেই বোঝা যায় তার চরিত্র। ছেলে বা মেয়ে সবার মুখের মধ্যেই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। শুধু মুখই নয়, পাশাপাশি শারীরিক আরও অনেক বৈশিষ্ট্য দেখে বলে দেওয়া যায় আসলে সেই মানুষটি কেমন।

# মুখের আকৃতি

 

যাদের মুখ লম্বার তুলনায় চওড়া কম তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী সচেতন থাকেন এবং সিদ্ধান্ত নেন। আবার যাদের মুখ লম্বার তুলনায় চওড়া বেশি তারা জন্মগতভাবেই খুব আত্মবিশ্বাসী হন, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

# ঠোঁট ও নাকের দূরত্ব

সেন্স অফ হিউমার বা রসবোধের ক্ষমতা একটি বিশেষ গুণ, যা সব মানুষের মধ্যে থাকে না। এ ক্ষেত্রে উপরের ঠোঁট এবং নাকের মধ্যে দূরত্ব কতটা তা দেখলেই বোঝা যায় কার রসবোধ কেমন? যার দূরত্ব যত বেশি হবে, তার রসবোধও তত বেশি হবে।

# নাকের ছিদ্র

নাকের ছিদ্র দেখেও অনেক কিছু বলা যায়। নাকের ছিদ্র বড় হলে, সেই মানুষটি খুবই কর্মনিপুণ এবং তার কল্পনাশক্তি প্রবল হয়। আর নাকের ছিদ্র ছোট হলে তাদের খুব একটা বড় মনের পরিচয় পাওয়া যায় না এবং তারা অনেকের কাছেই অপ্রিয় হয়।

# দাঁতের উপর দাঁত

যাদের দাঁতের উপর দাঁত থাকে, তারা খুবই বুদ্ধিমান, ভাগ্যবান ও সৃজনশীল প্রকৃতির হয়। সেইসঙ্গে তাদের ভোগ-বিলাসিতার উপর আসক্তি খুব বেশি থাকে।

# ঠোঁট

যার উপরের ঠোঁট যত বেশি মোটা হয়, তার কথায় ও আচরণে তত বেশি ভদ্রতা এবং মহত্ব থাকে।

# ভ্রূ

যেসব মেয়েদের ভ্রূ চোখ থেকে যত বেশি উপরে থাকে তার আত্মকেন্দ্রিকতা তত বেশি হয়। সে নিজস্ব পছন্দ অপছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেয়। আর দুটি ভ্রূয়ের মধ্যে দূরত্ব যত বেশি থাকে, সহ্য ক্ষমতাও তত বেশি হয়।

# বুকে লোম

যাদের বুকে অত্যধিক লোম থাকে, তাদের দাম্পত্য জীবন খুবই সুখকর হয়। পাশাপাশি এদের শক্তি ও বুদ্ধির জোরও খুব বেশি হয়। আর যাদের বুকে বেশি লোম থাকে না, তারা অনেকেই বুদ্ধিমান হয়। আবার অনেকে একটু স্বার্থ নিয়ে চলতে পছন্দ করে।

# চোখের মণি

চোখের মণির রং দেখেও অনেক কিছু বোঝা যায়। যার মণির রং যতটা গাঢ় তার মনের গভীরতা ও আকর্ষণ ক্ষমতাও ততই বেশি।

# চোখের পাতা

যাদের চোখের পাতা যত বেশি মোটা হয়, তারা স্পষ্ট মনোভাবের হন। আর যাদের চোখের পাতায় কোনো ভাঁজ নেই, তারা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন।

বই পড়লে টাকা আয়, মিলে কারামুক্তি!

বলিভিয়ায় বেশকিছু কারাগারে খোলা হয়েছে লাইব্রেরি। কারাবন্দিরা বই পড়ছেন এবং বিনিময়ে পাচ্ছেন তিন ধরনের পুরস্কার।

ব্রাজিলে প্রথম

দক্ষিণ অ্যামেরিকার দেশ ব্রাজিলে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার জন্য বিচার শুরুর আগে কারাগারে কয়েক যুগও পার হয়ে যায় অনেক কারাবন্দির। তাদের কারাজীবনকে ‘অর্থবহ’ করতে বই পড়া এবং সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থা করেছে সে দেশের একটি কারাগার।

 

 বলিভিয়ায় ‘বুকস বিহাইন্ড বার’

 

সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার আরেক দেশ বলিভিয়াতেও শুরু হয়েছে এমন উদ্যোগ। একটি-দুটি নয় মোট ৪৭টি কারাগারে চালু হয়েছে ‘বুকস বিহাইন্ড বার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে প্রত্যেকটি কারাগারে খোলা হয়েছে লাইব্রেরি। অনেক কারাবন্দির মধ্যে শুরু হয়েছে বই পড়ার হিরিক!

বাড়ছে বইয়ের পাঠক

বলিভিয়াতে মৃত্যুদণ্ড নেই। তবে ব্রাজিলের মতো সেখানেও বিচারপ্রক্রিয়া অতি মন্থর এবং দীর্ঘ। তাই বিচার সহজে শুরু হয় না, শুরু হলে শেষ হতে হতে জীবন পেরিয়ে যায় অনেকের। শাস্তির মেয়াদ শেষ করে মুক্ত জীবনে ফেরা যেন সৌভাগ্যের বিষয়। এই অনিশ্চিত, একঘেঁয়ে জীবনে পরিবর্তন এনেছে বই। ৪৭টি কারাগারের অন্তত ৮৬৫ জনের ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হয়ে গেছে বই।

এক কাজে তিন পুরস্কার

শুধু সময় কাটানোর কথা বললে ‘বুকস বিহাইন্ড বার’ প্রকল্প হয়ত এত সফল হতো না। কারাগারে একঘেঁয়েমি দূর করার বিষয়টি তো আছেই, তার সঙ্গে বিশেষ দুটি প্রণোদনাও যোগ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

নতুন জীবন

অনেক কারাবন্দি এর আগে কোনোদিন বই স্পর্শ করেছেন কি না সন্দেহ। কয়েদি জ্যাকুলিন জানালেন, এমন ‘নিরক্ষরদের’ জন্য ‘বুকস বিহাইন্ড বার’ প্রকল্প নিয়ে এসেছে ‘নতুন জীবন’ শুরুর সুযোগ। বর্ণমালার সঙ্গে পরিচিত হয়ে, বই পড়তে শিখে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকেই। কারাবন্দিদের বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে প্রতিদিন ৮ বলিভিয়ানো, অর্থাৎ ১.১৮ ডলার করে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। এখন যোগ হয়েছে বই পড়লে শাস্তি মওকুফের বোনাস।

গর্বিত জ্যাকুলিন

৮৬৫ জন পাঠকের মধ্যে বই পড়ায় সবচেয়ে এগিয়ে জ্যাকুলিন। এক বছরে আটটি বই শেষ করেছেন তিনি। বই পড়লেই তো হবে না, পড়ে কতটা শেখা হলো তা দেখার জন্য নেওয়া হয় পরীক্ষা। এ পর্যন্ত চারটি পরীক্ষা দিয়েছেন জ্যাকুলিন। সবগুলোতেই পাস!

সূত্র : ডয়চে ভেলে

এক কেজি চায়ের দাম ১৩ কোটি টাকা

পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় চা। চা- প্রেমিরা দামে বেশি হলেও ভালো চায়ে চুমুক দিতে আগ্রহী। সেই কারণেই দার্জিলিং চায়ের খ্যাতি গোটা দুনিয়ায়। এমনকী  চায়ের দাম প্রতি কিলো ১৩ কোটি টাকা তাও নাকি লোকে খাচ্ছে (পান করছে)! আর খাচ্ছে বলেই লন্ডনের সেই কোটি টাকার চা বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘লন্ডন টি এক্সচেঞ্জ’ এবার  তাদের শাখা খুলতে চলেছে ভারতেও।

কিছুদিন আগেই ১৩ কোটির চায়ের কথা প্রকাশ্যে এসেছিল। তখনই জানা যায়, এই চায়ের শিকড় রয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বের সবচেয়ে দামী চায়ের নাম আসলে ‘গোল্ডেন বেঙ্গল টি’ অর্থাৎ ‘সোনার বাংলা চা’। যা উৎপাদন হয় মূলত বাংলাদেশের সিলেটে। বাগানের সেরা চা তো বটেই, কিন্তু কেন এত দামী?  ওই চায়ের পাতায় থাকে সোনার প্রলেপ। সেই কারণেই চায়ের নাম হয়েছে ‘সোনার বাংলা’। সেই সোনার বাংলাই এবার গোটা ভারতে ছড়াবে।

‘লন্ডন টি এক্সচেঞ্জ’ জানিয়েছে, গোটা ভারতেই তারা শাখা খুলতে চলেছে, তবে শুরু করবে রাজধানী দিল্লি অথবা বেঙ্গালুরু থেকে। এরপর একে একে মুম্বাই, কলকাতা, হায়দ্রাবাদেও সোনার চা নিয়ে হাজির হবে এলটিই। প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তার কথায়, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় চায়ের বাজার। আমরা ভারতের চা-প্রেমিদের নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ দিতে চাই।

 

একটি বিবৃতিতে এলটিই-র তরফ থেকে  জানানো হয়েছে, প্রথম তিন বছরে ভারতে ২০০টি শাখা খোলার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম বছরে ৫০টি শাখা খোলা হবে। যেখানে গ্রাহক চা ও কফি দুই পাবেন।

উল্লেখ্য, এলটিই-র বর্তমান সিইও শেখ আলিউর রহমানের জন্ম কলকাতায়। ফলে ভারতের বাজার সম্পর্কে তিনি সচেতন। সেই মতোই কোটি টাকার চায়ের ব্যবসার সম্প্রসারণ চাইছেন এদেশে।

প্রসঙ্গত, ‘গোল্ডেন টি’ এই চা প্রস্তুত করতে প্রথম দফায় সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার বছর। ৯০০ কেজি উৎপাদিত চা থেকে মাত্র এক কেজি চা পাতা বাছাই করা হয়ে। যার প্রতি পাতায় থাকে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রলেপ।

এলটিই-র সিইও আলিউর রহমান বলেন, দাম ১৩ কোটি হলেও নোবেল জয়ীরা বিনামূল্যে এই চায়ের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন। অন্যদের অবশ্য পকেট খসাতে হবে।

দিন দিন গরম বাড়ছে, ক্ষতি বাড়ছে শ্রমিকের

বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার কারণে বছরে বিশ্বে ২৩ হাজার কোটি শ্রমঘণ্টা নষ্ট। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ।

নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দিন দিন বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে আর্দ্রতাও। পরিবেশে একই সঙ্গে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা বেশি থাকা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এমন গরম আবহাওয়ায় শরীরে ঘাম হয়। ঘাম শুকিয়ে শরীর দ্রুত শীতল হওয়ার সুযোগ কমে যায়। অতি উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে কাজ করা কৃষক ও শ্রমিকদের শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। তাঁদের উৎপাদনক্ষমতা কমে যায়। তাঁরা বারবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতা মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করে।

ভূগর্ভস্থ কেব্‌ল স্থাপন প্রকল্পে কাজ করছেন শ্রমিকেরা

ভূগর্ভস্থ কেব্‌ল স্থাপন প্রকল্পে কাজ করছেন শ্রমিকেরা
ছবি: প্রথম আলো

নিবন্ধে অতি উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে কর্মঘণ্টার ক্ষতির হিসাবও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, বেশি গরমের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে ২২ হাজার ৮০০ কোটি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এর আর্থিক মূল্য ২৮ থেকে ৩১ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে বছরে ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার ৪০০ কোটি শ্রমঘণ্টা। মাথাপিছু হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫৪ শ্রমঘণ্টা। ২০২০ সাল পর্যন্ত আগের দুই দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে যে শ্রমঘণ্টার ক্ষতি হয়, তার আর্থিক মূল্য কত, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, বৈশ্বিক আর্থিক ক্ষতির বড় অংশই হয় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে শারীরিক পরিশ্রম বেশি করতে হয়। বিশেষ করে কৃষি ও নির্মাণ খাতে ক্ষতি বেশি।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিতে পারলে আগামী দিনগুলোতে শ্রমঘণ্টার ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকেরা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতি যেসব দেশে

মাথাপিছু শ্রমঘণ্টা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ—৫ নম্বরে। মাথাপিছু শ্রমঘণ্টা নষ্টের দিক দিয়ে শীর্ষ ১০ দেশ হলো কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কম্বোডিয়া, বাংলাদেশ, গাম্বিয়া, থাইল্যান্ড, সেনেগাল, ঘানা ও ব্রুনেই। কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ব্রুনেইয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক কাজ করেন। ফলে ওই সব দেশে শ্রমঘণ্টার যে ক্ষতি হয়, তার একটি অংশ আসলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের লোকসান।

মোট নষ্ট হওয়া শ্রমঘণ্টার বিবেচনায় শীর্ষ দেশ ভারত। এরপর রয়েছে চীন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সুদান, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন। বাংলাদেশে বছরে নষ্ট হয় ১ হাজার ৪০০ কোটি শ্রমঘণ্টা।

রিকশাচালক আবুল কালাম

রিকশাচালক আবুল কালাম
ছবি: প্রথম আলো

নেচার–এর নিবন্ধ বলছে, কর্মঘণ্টার ক্ষতির কারণ কয়েকটি। এর মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের হাঁপিয়ে যাওয়া, বারবার বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেওয়া, অসুস্থ হয়ে পড়া ইত্যাদি।

সাভারের নয়ারহাটের যে জমিতে আবদুল মালেক কাজ করছিলেন, সেটির মালিক মনসুর আলী। নিজেও খেতে কাজ করেন। তিনি বলেন, সকালে শ্রমিকেরা ভালোই কাজ করেন। কিন্তু দুপুর ১২টার পর যখন সূর্য ঠিক মাথার ওপরে থাকে তখন তাঁরা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এক ঘণ্টা কাজ করার পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট করে বিশ্রাম নিতে হয়।

মনসুর আলী বলেন, বারবার বিশ্রাম নিতে হয় বলে শ্রমিকেরা দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। অথচ একজন শ্রমিকের ৮ ঘণ্টা কাজ করার কথা। কেউ কেউ চড়া রোদে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। এভাবে কাজের ক্ষতি হয়।

মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করছেন শ্রমিকেরা

মেট্রোরেল প্রকল্পে কাজ করছেন শ্রমিকেরা
ছবি: প্রথম আলো

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, গত ১০০ বছরে দেশের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। গত বছর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য গবেষক আতিক আহসান একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের ৯টি জেলার ১৯৮০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখান, দেশে সবচেয়ে বেশি দিন প্রচণ্ড গরম থাকে যশোরে। এ জেলায় বছরে গড়ে ৭৫ দিন আবহাওয়া বেশি উষ্ণ ছিল, যা রাজশাহী (৬৭ দিন) ও ঈশ্বরদীর (৫৮ দিন) চেয়ে বেশি। তাঁর গবেষণায় আরও উঠে আসে যে ঢাকায় বছরে ৩৬ দিন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি গরম ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস-এ গত বছর ৫০টি শহরের ওপর করা একটি সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরে বলা হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে ঢাকাবাসীর কর্মক্ষমতা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কমেছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ঢাকায় প্রায় ৫ কোটি ৭৫ লাখ মানুষ (বিভিন্ন কাজে ঢাকার বাইরে থেকে আসাসহ) তাঁদের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার চেয়ে কম কাজ করতে পারছেন।

পৃথিবীর বেশির ভাগ শহরে জলাভূমি ও গাছপালা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বেশি বেশি গাছ লাগানো হচ্ছে, যাতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাংলাদেশে কিছুই হচ্ছে না। উল্টো মহানগরের অপরিকল্পিত নগরায়ণ জেলা ও উপজেলা শহর এবং গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে।

আশরাফ দেওয়ান, অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

অভিযোজন

নেচার–এ প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির লাগাম দ্রুত টেনে ধরা জরুরি। সেই সঙ্গে বাড়তি তাপমাত্রার সঙ্গে অভিযোজিত হতে কৃষক ও শ্রমিকদের উৎসাহী ও দক্ষ করে তুলতে হবে। দিনের মধ্যভাগের উষ্ণ সময়ে কাজ না করে অপেক্ষাকৃত শীতল সময়ে কাজ সারতে হবে। দিনের শুরুর দিকে কাজ করা একটি বিকল্প হতে পারে।

দেশের শ্রমিকেরাও একই কথা বলছেন। তাঁদের দাবি, দুপুরে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। যেমন রাজধানীতে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ভূগর্ভস্থ তার বসানোর কাজে নিয়োজিত একজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাদের প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে হয়। দুপুরের দিকে প্রচণ্ড গরম পড়ে। তখন দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন শ্রমিকেরা। তাই সকালে, বিকেলে কিংবা সন্ধ্যার দিকে কাজের গতি বেশি থাকে।

নেচার–এ প্রকাশিত নিবন্ধে ইন্দোনেশিয়ার কৃষকদের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, দেশটির কৃষকেরা সকালের দিকে তুলনামূলক শীতল সময়ে কাজ করতে শুরু করেছেন। এর সুফলও পাওয়া গেছে। শ্রমঘণ্টা কম নষ্ট হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, কাজের প্রচলিত সময়ে পরিবর্তন আনার মধ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে শ্রমঘণ্টা নষ্ট হওয়ার হার ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। তবে তাপমাত্রা আরও বাড়লে এটার সুফল না–ও মিলতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ ডিগ্রি বাড়লে শ্রমিকদের অভিযোজনের সক্ষমতা প্রায় ২ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই পরিস্থিতিতে দিনের শুরুর দিকেও শ্রমিকদের বাড়তি তাপমাত্রায় কাজ করতে হতে পারে।

অতি উষ্ণ আবহাওয়ায় কাজ করার সময় কৃষক ও শ্রমিকদের বাড়তি কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। নেচার–এর নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাড়তি তাপমাত্রায় কাজ করার সময় শ্রমিকের শরীরে যাতে পানি ধরে রাখা যায়, তাঁরা যাতে পানিশূন্যতায় না ভোগেন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। কাজের ফাঁকে কৃষক ও শ্রমিকদের ছায়ায় বসে পর্যাপ্ত সময় বিরতি দেওয়া ও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

ঢাকায় প্রচণ্ড গরমে রিকশাচালকদের ঘামে ভেজা শরীরে শ্রম দিতে দেখা যায়। তবে তাঁরা একটি অভিযোজনব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। সেটি হলো, শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণ। দেখা যায়, দোকান থেকে স্যালাইন কিনে পানিতে গুলিয়ে পান করেন রিকশাচালকেরা।

রাজধানীতে এক যুগ ধরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালানো আবুল কালাম বলেন, দুপুরের কড়া রোদে যখন ক্লান্ত লাগে, তখন পথের
ধারে কোনো গাছের ছায়ায় বসে খানিকক্ষণ জিরিয়ে নিই। পানি আর স্যালাইন খাই।

বিপদ আরও বাড়তে পারে

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্যকর উপায় খুঁজতে এখনো পিছিয়ে রয়েছে বিশ্ব। ফলে দেশ-বিদেশে শ্রমঘণ্টা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি শিগগিরই কমছে না।

গবেষকদের বিশ্লেষণ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ২০৩৭ সাল নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণতা এখনকার তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। আর ২০৫১ সাল নাগাদ তা আরও ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা এখনকার তুলনায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে প্রতিবছর বাংলাদেশে ২ হাজার ১০০ কোটি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হতে পারে। যদি গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ে তাহলে নষ্ট হতে পারে ৩ হাজার ১০০ কোটি শ্রমঘণ্টা। তাপমাত্রা যত বাড়বে, শ্রমঘণ্টার ক্ষতি ততই বাড়বে।

তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পেছনে দেশীয় নানান কারণ রয়েছে। যেমন যশোরে বেশি দিন গরম থাকার কারণ তুলে ধরে গবেষক আতিক আহসান গত বছর প্রথম আলোকে বলেছিলেন, যশোরের একটি অংশজুড়ে একসময় সুন্দরবন বিস্তৃত ছিল। নদী বেশি ছিল, পানিপ্রবাহ বেশি ছিল। এখন বন নেই, নদীতে পানিপ্রবাহ কমে গেছে। সে কারণেই উষ্ণতা বাড়ছে।

অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফ দেওয়ান গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, পৃথিবীর বেশির ভাগ শহরে জলাভূমি ও গাছপালা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বেশি বেশি গাছ লাগানো হচ্ছে, যাতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাংলাদেশে কিছুই হচ্ছে না। উল্টো মহানগরের অপরিকল্পিত নগরায়ণ জেলা ও উপজেলা শহর এবং গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে ভূমির ব্যবহার করতে হবে, যেখানে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য জলাভূমি, বনাঞ্চল টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

উল্লেখ্য, যশোরে বেশি দিন প্রচণ্ড গরম থাকার কারণ হিসেবে ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নদীর মৃতপ্রায় দশা ও সুন্দরবনের বিস্তৃতি কমে যাওয়াকে দায়ী করা হয়। সুন্দরবন একসময় যশোরের একটি অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, পটুয়াখালীতে বোরো ধান কাটা শুরু

আজ সকালে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বহালগাছিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্র দিয়ে খেতের বোরো ধান কাটা হচ্ছে। আবার অনেক কৃষক হাতে ধান কেটে তা সড়কের পাশেই মাড়াই করে বস্তায় ভরে ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন।

বহালগাছিয়া গ্রামের কৃষক রহিম খাঁ বলেন, তিনি এ বছর ১৬ একর জমিতে বোরোর আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। আরও কয়েক দিন পর ধান ভালো করে পাকবে। তবে বন্যার আভাস পেয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পটুয়াখালী কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলায় এই মৌসুমে ১৬ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন। আর মুগডাল আবাদ হয়েছে ৮৬ হাজার ৪৩১ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮ মেট্রিক টন।

অধিদপ্তরের পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিচালক কে এম মহিউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, আজ পর্যন্ত ২০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। দ্রুত ধান কাটার জন্য ভর্তুকি হিসেবে জেলায় ৫৭টি কম্বাইন হারভেস্টার আছে। এ ছাড়া মুগডাল ঘরে তোলা হয়েছে ৫০ ভাগ। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে কৃষকেরা তাঁদের ফসল গোলায় তুলতে পারবেন।

সূত্র : প্রথম আলো

তেঁতুলতলা মাঠে থানা হবে না, খেলার মাঠই থাকছে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে আর কোনো নির্মাণ কাজ হবে না। এ জায়গাটি যেভাবে ব্যবহার করা হতো সেভাবেই ব্যবহার হবে। তেঁতুলতলা মাঠে আর থানা হবে না। খেলার মাঠই থাকবে। আজ প্রধানমমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশ দিয়েছেন।

এর ফলে এ মাঠে কলাবাগার থানার জন্য ভবন হচ্ছে না। খেলার মাঠ হিসেবেই থাকছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, জায়গাটির পুলিশকে অধিগ্রহন করে দেওয়া হয়েছে। তাই জায়গাটি পুলিশেরই থাকবে।

তবে এর আগে গতকাল বুধবার রাতে তেঁতুলতলা মাঠে দেয়াল তৈরির কাজ শেষ করেছে পুলিশ। মাঠটি রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী, পরিবেশবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আন্দোলনের মধ্যেই পুলিশ দেয়াল তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে।

এলাকাবাসী বলছেন, গতকাল বুধবার প্রতিবাদ-সমাবেশ চলাকালে দেয়াল তৈরির কাজ বন্ধ ছিল। সবাই চলে যাওয়ার পর আবার কাজ শুরু হয়। রাতের মধ্যেই দেয়াল তৈরির কাজ শেষ করে পুলিশ।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তেঁতুলতলা মাঠের উত্তর পাশের পুরোটা এলাকাজুড়ে দেয়াল তৈরি করা হয়েছে। শুধু এক পাশে সামান্য জায়গা খালি রাখা হয়েছে। সেখান দিয়ে মাঠে প্রবেশ করা যায়।

মাঠের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্য সেখানে বসে আছেন। মাঠের ভেতর ও দেয়াল ঘেঁষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নির্মাণসামগ্রী।

গতকাল মাঠটির সীমানা ঘেঁষে ১৪টি দেশি প্রজাতির গাছ রোপণ করেন আন্দোলনকারীরা। গাছগুলো সেভাবেই রয়েছে।

তেঁতুলতলা মাঠটি স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের একটি গলিতে। এটি মূলত একটি খালি জায়গা, যা পুলিশ জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে কলাবাগান থানার ভবন নির্মাণ করছে।

মাঠটি রক্ষার দাবিতে অনেক দিন ধরে আন্দোলন চলছিল। এর মধ্যে গত রোববার মাঠটি রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকারী সৈয়দা রত্না ও তাঁর কিশোর ছেলেকে কলাবাগান থানা-পুলিশ ধরে নিয়ে ১৩ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখে। পরে প্রতিবাদের মুখে মধ্যরাতে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র : প্রথম আলো

আজ পবিত্র শবে কদর

আজ ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। এই রাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। প্রতিবছর পবিত্র রমজানের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে শবে কদর পালন করা হয়। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ রাত কাটাবেন।

ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এ রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত। ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাত কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত। শবে কদরের এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল করা হয়।

‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।

ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, অন্যান্য সময়ে এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, শবে কদরের রাতের ইবাদতে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ এবং অধিক সওয়াব হাসিলের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করবেন।

শবে কদর উদ্‌যাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য আলোচনা ও দোয়া মাহফিল হবে। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা এহসানুল হক।

শবে কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে পবিত্র শবে কদরের রাতে দেশের অব্যাহত অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

সূত্র : প্রথম আলো

ঈদের ছুটির আগে হঠাৎ ব্লকে বড় লেনদেন

শেয়ারবাজার

সাধারণত ব্লক মার্কেটে লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রেতা–বিক্রেতা আগে থেকেই ঠিক থাকে। এমনকি শেয়ারের দামও আগে থেকে ঠিক করে রাখা হয়। শুধু ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে শেয়ারের হাতবদল করে এক বিও (বেনিফিশারি ওনার্স) থেকে অন্য বিওতে স্থানান্তর করা হয়। ব্লক মার্কেটে লেনদেনের সুবিধা হলো এ বাজারে নির্ধারিত দামে বড় অঙ্কের শেয়ারের হাতবদল করা যায় সহজে। কিন্তু সাধারণ বাজারে বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি করতে গেলে তাতে দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাশূন্য হয়ে যায় ওই শেয়ার। এ কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের শেয়ার লেনদেনে ব্লক মার্কেটকে বেছে নেন।

ডিএসইতে গতকাল ব্লকের ১৪০ কোটি টাকার লেনদেনের মধ্যে চার কোম্পানিরই লেনদেন ছিল ১১৯ কোটি টাকার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫২ কোটি টাকায় হাতবদল হয়েছে জিপিএইচ ইস্পাতের প্রায় ৯৭ লাখ শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ব্লকের ১৪০ কোটি টাকার লেনদেনের মধ্যে চার কোম্পানিরই লেনদেন ছিল ১১৯ কোটি টাকার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৫২ কোটি টাকায় হাতবদল হয়েছে জিপিএইচ ইস্পাতের প্রায় ৯৭ লাখ শেয়ার। এরপরই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে সোনালী পেপারের। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকায় প্রায় ৩ লাখ শেয়ারের হাতবদল হয়। ব্লকে তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন ছিল ইসলামী ব্যাংকের। এদিন ব্লকে ২৭ কোটি টাকায় কোম্পানিটির প্রায় ৯৩ লাখ ২৪ হাজার শেয়ারের হাতবদল হয়। আর ১২ কোটি টাকার আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসির ২১ লাখের বেশি শেয়ারের হাতবদল হয়েছে।

জিপিএইচ ইস্পাত ও সোনালী পেপারের শেয়ার বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে হাতবদল হয় ব্লকে। আর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের হাতবদল হয়েছে বাজারমূল্যের চেয়ে ৩ টাকা কম দামে।

এ চার কোম্পানির মধ্যে জিপিএইচ ইস্পাত ও সোনালী পেপারের শেয়ার বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে হাতবদল হয় ব্লকে। আর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের হাতবদল হয়েছে বাজারমূল্যের চেয়ে ৩ টাকা কম দামে। আর আইপিডিসির শেয়ারের হাতবদল হয়েছে বাজারমূল্যে। সব মিলিয়ে ব্লকে গতকাল ৪০টি কোম্পানির প্রায় আড়াই কোটি শেয়ারের হাতবদল হয়েছে।

অনেক সময় বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারে লেনদেন বাড়াতে নিজেদের মধ্যেই শেয়ারের হাতবদল করে। এক বিও থেকে অন্য বিওতে শেয়ার স্থানান্তর করে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক সময় বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারে লেনদেন বাড়াতে নিজেদের মধ্যেই শেয়ারের হাতবদল করে। এক বিও থেকে অন্য বিওতে শেয়ার স্থানান্তর করে। আবার অনেক সময় কোম্পানির উদ্যোক্তারাও নিজেদের মধ্যে বড় অঙ্কের শেয়ারের হাতবদল করতে ব্লক মার্কেটকে বেছে নেন।

সূত্র : প্রথম আলো